#চোরাবালির_পিছুটানে (১১)
#জেরিন_আক্তার
ভাইয়ের এক্সিডেন্টের কথা শুনে রাহা তৎক্ষণাৎ সাইমনের সামনে এসে দাড়ালো। সাথে রাজও। সাইমন এপাশে থেকে বলে,
“আপনি কে বলছেন? আর আমার বন্ধু রাদিফ, ও কোথায়?”
ওপাশে থেকে একটা মেয়ে বলে,
“হসপিটালে আছে আপনার বন্ধু।”
“কোন হসপিটালে তাড়াতাড়ি বলুন! আমি আসছি!”
সাইমন কথা বলতে বলতে উপরে চলে গেলো। গাড়ির চাবি আর মানিব্যাগ নিয়ে বের হলো। রাজ সাইমনকে বলে,
“চলো, আমিও যাবো তোমার সাথে!”
সাইমন বলে,
“হুম। আসুন!”
রাজ সাইমনের সাথে চলে গেলো। রাহা ধপ করে বসে পড়লো সোফায়। কাঁদতে থাকে ভাইয়ের এক্সিডেন্টের কথা শুনে। মেইড রাহাকে ধরে বলে,
“কেঁদো না, স্যারের কিচ্ছু হবে না।”
রাহা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“হঠাৎ কি করে এক্সিডেন্ট হলো! আল্লাহ তুমি আমার ভাইকে ভালো রেখো। কোনো ক্ষতি করো না।”
“হুম, আল্লাহকে ডাকো।”
সাইমন আর রাজ হসপিটালে চলে এলো। রাদিফের কেবিনের সামনে আসতেই একটা মেয়েকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরনে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। সাদা শার্টে রক্ত লেগে আছে। সাইমন মেয়েটিকে কিছু বলার আগেই মেয়েটি বলে,
“আমিই কল দিয়েছিলাম। রাদিফ সে কি আপনাদেরই লোক?”
সাইমন বলে,
“হ্যা, রাদিফ আমাদেরই লোক। আমি ওর বন্ধু আর ও রাদিফের ভাই। আর রাদিফের এক্সিডেন্ট হলো কি করে?”
মেয়েটি মাথা একটু নিচু করে বলে,
“আসলে, উনি এক্সিডেন্ট হতেন না। আমারই এক্সিডেন্টটা হওয়ার কথা ছিলো। উনি আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে এক্সিডেন্ট হয়েছে।”
রাজ মেয়েটিকে বলে,
“এখন রাদিফ কেমন আছে? মানে ডক্টর কিছু বলেছে?”
সাইমন কথা না বাড়িয়ে কেবিনের ভিতরে ঢুকলো। রাদিফের স্যালাইন চলছে। একজন নার্স দাড়িয়ে আছে সাথে একজন ডক্টর। সাইমন ডক্টরের থেকে রাদিফের শরীরের কন্ডিশন জেনে নিলো।
সাইমন কেবিনে থেকে বেরিয়ে রাজ ও মেয়েটার সামনে এসে দাড়ালো। রাজ জিজ্ঞাসা করে,
“রাদিফকে কেমন দেখলে? খুব জোর ব্যাথা পেয়েছে কি?”
“মাথায় একটু পেয়েছে আর হাতে পেয়েছে। এখন স্যালাইন চলছে। মনে হচ্ছে আজ ওকে এখানে রাখবে!”
“ওহ, তা রাখুক। সুস্থ হলেই হয়!”
সাইমন মেয়েটিকে বলে,
“আপনাকে ধন্যবাদ। আর আপনি বাসায় যাবেন না? দেখুন এখন তো আমরা এখানে এসেই গিয়েছি। রাতও অনেক হচ্ছে আপনি চলে যেতে পারেন।”
মেয়েটি তার হাতে থাকা রাদিফের ফোন আর মানিব্যাগ সাইমনের হাতে দিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার আগে বারবার পেছনে ফিরে তাকালো।
এদিকে রাহা মেইডের ফোন দিয়ে সাইমনকে কল দেয়। সাইমন মাত্রই ঠিক করেছিলো মেইডকে কল করে রাহাকে জানাবে আর বলতে বলতে রাহাই হয়তো মেইডের ফোন নিয়ে কল করেছে।
“হ্যালো, সাইমন ভাইয়া, আপনারা কোথায়? ভাইয়া কেমন আছে?”
“তোমার ভাইয়া এখন একটু ভালোই আছে। স্যালাইন চলছে।”
“ভাইয়ার সাথে কথা বলেছেন?”
“না!”
“ওহ। ভাইয়া কি খুব ব্যাথা পেয়েছে?”
“মাথায় পেয়েছে, আর হাতে খানিকটা পেয়েছে।”
রাহা কান্নাজরিত গলায় বলে,
“ভাইয়া, আমি যেতে চাই হসপিটালে।”
“রাহা তুমি এতো চিন্তা করো না। তোমার ভাইয়ার এখানে ট্রিটমেন্ট চলছে। আর আজকের রাতটুকুই। সকালেই ডিসচার্জ করে দেবে। আমি ডক্টরের সাথে কথা বলেছি।”
সাইমন রাহার সাথে কথা বলে ফোনটা রাজের দিকে এগিয়ে দিলো। এরপরে নিজে চলে গেলো নার্সের সাথে কথা বলতে। রাজ রাহাকে বলে,
“রাহা, তুমি খেয়ে শুয়ে পড়ো। আমি আর সাইমন এখানে আছি।”
রাহা বলে,
“তুমি ভাইয়ার কাছে থাকো। আর কিছু হলে জানাবে আমাকে।”
“হুম, জানাবো।”
________________
রাত বারোটা,, রাহা রুমে পায়চারি করছে। কপালে চিন্তার ভাজ। আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে। কি করে তার ভাই এক্সিডেন্ট হলো মাথায় ঢুকছে না। ভাইকে যে দেখতে যাবে তাও হচ্ছে না। বাংলাদেশ হলে নিজেই চলে যেতো। কারো অপেক্ষা করতে হতো না। এখন ভাইয়ের জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর চোখের সামনে ভাইকে দেখতে পাবে।
রাহা বিছানায় গিয়ে বসলো। এর একটু পরেই দরজা খুলে ভিতরে এলো রাজ। রাহা শোয়া থেকে উঠে বসে রাজকে বলে,
“তুমি চলে এলে, আর ভাইয়া?”
রাজ এগিয়ে এসে পানির গ্লাস হাতে নিতে নিতে বলে,
“হসপিটালে রয়েছে। সাইমন আমাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে মেইডকে নিয়ে গিয়েছে।”
“ভাইয়া কেমন আছে এখন?”
“ভালো।”
“কি করে এক্সিডেন্ট হলো, জেনে এসেছো?”
“হুম। একটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিলো। তোমার ভাই সেই মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই ব্যাথা পেয়ে এখন হসপিটালে এডমিট হয়ে আছে। আর ওই মেয়েটাই ওকে হসপিটালে এডমিট করিয়েছে।”
“ওহ। মেয়েটা কিছু বলেনি?”
“কি বলবে, রাদিফকে হসপিটালে এনে ভর্তি করে গিয়েছে। এরপরে আমাদের জানিয়েছে। আমরা যাওয়ার পরে মাফ-টাফ চাইলো। পরে সাইমন ওকে বাড়িতে চলে যেতে বলেছে।”
রাহা তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
“মেয়েটা অন্যমনস্ক হয়ে না হাঁটলে ভাইয়ার আজ কিছুই হতো না।”
রাজ রাহার পাশে বসে বলে,
“হুম। তবে ভাগ্যে এমনটাই হবার ছিলো তাই হয়েছে। চিন্তা করো না। সকালেই রাদিফকে ডিসচার্জ করে দেবে।”
রাহা শুয়ে পড়ে। রাজ উঠে দরজা বন্ধ করে, লাইট নিভিয়ে বিছানায় আসে।
______________
সকাল হতেই রাহা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে। মেইড নেই। তাই নিজেই কিচেনে ঢুকে পড়ে। এর মাঝে সাইমনের রুমেও গিয়েছিলো কিন্তু আসেনি এখনও। রাজও ঘুম থেকে উঠে নিচে নেমে আসে। রাহা রাজের জন্য কফি বানাচ্ছিলো। আর কিছু রান্না করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। রাজও এসে দাঁড়ায় রাহার পাশে। রাহা কফির মগ এগিয়ে দেয় রাজের দিকে। রাজ কফির মগ হাতে নিয়ে বলে,
“তুমি বাহিরে যাও! আমি কিছু রান্না করে দিচ্ছি!”
রাহা গোল গোল চোখে তাকিয়ে বলে,
“তুমি কি আগে রান্না ঘরে ঢুকেছো যে এগুলো করতে পারবে? তুমি ড্রইং রুমে গিয়ে বসো আমি পারবো।”
রাজ বলে,
“দুজনে মিলেই করি!”
“না, তুমি গিয়ে বসো। আমি রান্না করছি!”
রাজ যায় না বরং রাহার পাশেই দাড়িয়ে থাকে। রাহা নিজের মতো রান্না করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। রাজও টুকটাক রাহার কাজে হাত লাগিয়ে দিতে থাকে।
এরপরে মেইডও চলে আসে। রাহা আর রাজকে কিচেনে দেখে এগিয়ে আসে। বলে,
“একি আপনারা কি করছেন? আমি রান্না করছি, আপনারা বের হন!”
রাজ বেরিয়ে যায়। রাহা বলে,
“আমার রান্না প্রায় শেষ। আর আপনি একা আসলেন, ভাইয়া, সাইমন ভাইয়া আসেনি?”
“উনারা আসছেন। তুমি আর স্যার বাড়িতে একা বলে আমাকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
“ওহ।”
বেলা প্রায় এগারোটার বেশি। রাহা অস্থির হয়ে আছে ভাইয়ের অপেক্ষায়। সাইমন রাদিফকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকলো। রাহা এগিয়ে গিয়ে কান্না করে দিয়েছে প্রায়।ভাইকে ধরে বলে,
“তুমি ঠিক আছো?”
রাদিফ মুখে হাসি নিয়ে বলে,
“হুম, ঠিক আছি। আর তু্ই এমন কাঁদছিস কেনো? কিচ্ছু হয়নি আমার। এই একটু ব্যাথা পেয়েছি।”
রাহা চোখের পানি মুছে বলে,
“হুম, দেখতেই তো পাচ্ছি কতটা ব্যাথা পেয়েছো।”
রাদিফ রাহার সাথে কথা বলতে বলতে সোফায় এসে বসে। সাইমন কিছু কথা বলে উপরে চলে যায় ফ্রেশ হতে।
সন্ধ্যার দিকে রাদিফ ঘুম থেকে উঠে। দুপুরের দিকে একটু ঘুমিয়েছিলো। ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসে। রাহাও নিচে ছিলো। রাদিফকে দেখে বলে,
“ভাইয়া, এখন কেমন বোধ করছো?”
রাদিফ সোফায় এসে বসে বলে,
“ভালো।”
“কিছু খাবে? কফি এনে দেই?”
“না, এখন কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।”
এমন সময় বাড়ির মেইন গেইটের কলিং বেল বেজে উঠে। রাহা আর রাদিফ দুজনে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। মেইন দরজা খোলা তবুও কে এমন করে কলিং বেল চাপছে। রাদিফ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“দেখ তো কে এসেছে?”
“হুম, ভাইয়া দেখছি!”
রাহা উঠে মেইন দরজার কাছে যায়। দেখতে পায় একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। রাহাকে দেখে মেয়েটি বলে,
“এটা রাদিফের বাসা?”
“হুম। আপনি কে?”
“আমি আসলে উনার সাথে দেখা করতে এসেছি! উনি কি বাড়িতে আছেন?”
“হুম, আছে। ভিতরে আসুন!”
রাহা মেয়েটিকে ভিতরে আসতে বলে। রাদিফ মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে উঠে দাঁড়ায়। মুখে হাসি এনে বলে,
“ওহ, আপনি এসেছেন? ভিতরে আসুন!”
রাহা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
“ভাইয়া, উনি তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে।”
রাদিফ হালকা হেসে বলে,
“রাহা আমি কালকে যে এক্সিডেন্ট হয়েছিলাম, উনাকে বাঁচাতে গিয়েই হয়েছিলাম।”
এই শুনে রাহা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা মাথা খানিকটা নিচু করে ইতস্তত নিয়ে বলে,
“আসলে আই অ্যাম রিয়েলি সরি, আমার জন্য আপনার অনেকটাই ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আমি নিজেও বুঝতে পারিনি তখন যে এমন হবে।”
রাদিফ হেসে বলে,
“সমস্যা নেই, আমার কর্তব্য ছিলো আপনাকে বাঁচানো। আর এতো বার সরিও বলতে হবে না। আপনি প্লিজ বসুন!”
রাহা গম্ভীর হয়ে কিচেনে চলে গেলো।
মেয়েটি বসতেই রাদিফ বলে,
“ওহ, আপনার নামটা কি তাই তো জানা হলো না!”
“আমার নাম জারা।”
রাদিফ জারার সাথে টুকটাক কথা বলে পরিচিত হতে থাকে।
এদিকে রাজ রাহাকে রুমে না পেয়ে নিচে নেমে আসে। ড্রইং রুমে পা রাখতেই রাতে হসপিটালে দেখা হওয়া সেই মেয়েটিকে দেখে কিছুটা অবাক হয়। রাদিফ রাজকে ডেকে নিজের কাছে যেতে বলে। রাজ রাদিফের কাছে গিয়ে বসে। রাহা কিচেন থেকে বের হয় নাস্তার ট্রে নিয়ে।
রাতের দিকে সাইমন বাড়িতে ফিরে শুনতে পায় রাদিফ যেই মেয়ের জন্য এক্সিডেন্ট হয়েছিলো সেই মেয়ে নাকি দেখা করতে এসেছিলো। সাইমনের প্রথম থেকেই মেয়েটার উপরে রাগ ছিলো, পরে যখন শুনতে পেয়েছে যে রাদিফের সাথে দেখা করতে এসেছিলো এরপর থেকে রাগ কিছুটা হলেও কমেছে।
সবাই শুয়ে পড়েছে। রাহাও শুতে যাবে এমন সময় সাইমন আসে রাহার রুমের সামনে। বাহিরে থেকে ডাক দেয়,
“রাহা ভিতরে আছো?”
“হ্যা, ভাইয়া! ভিতরে আসুন!”
সাইমন রুমের পর্দা সরিয়ে ভিতরে ঢুকলো। ভিতরে এসে রাহার বিছানায় রাজকে শুয়ে থাকতে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। রাহা বলে,
“ভাইয়া কিছু বলবেন?”
সাইমন কিছুক্ষণের জন্য থমকে রইলো। এরপরে নিজেকে সামলে বলে,
“ঘুমিয়ে পড়বে এখন?”
রাহা স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দেয়,
“হুম।”
সাইমন রাহার দিকে একবার তাকিয়ে রাজের দিকে তাকায়। এরপরে রাহাকে বলে,
“একটু বাহিরে এসো তো, তোমার সাথে কথা আছে!”
এই বলে সাইমন চলে যায়। রাহা রাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমি একটু আসছি!”
“হুম, যাও!”
________________
বাংলাদেশ সময় রাত নয়টা। মিষ্টি নিজের রুমে বসে স্টাডি করছিলো। এমন সময় তার রুমে আসে সায়মা চৌধুরী। মিষ্টি বই চাপিয়ে রেখে বিছানায় এসে বসে। সায়মা চৌধুরীও বসেন মেয়ের পাশে। মিষ্টি মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কিছু বলবে আম্মু?”
সায়মা চৌধুরী শ্বাস ছেড়ে বলেন,
“তোকে একটা কথা বলবো বলবো করে বলাই হয়ে উঠছে না!”
“কি কথা বলবে?”
সায়মা চৌধুরী মেয়ের মাথায় হাত রেখে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে উঠেন,
“দেখ, মেয়েরা কেউই সারাজীবন তার বাবা-মায়ের কাছে থাকে না। তাকে একদিন না একদিন অন্যের ঘরে চলে যেতেই হয়। এখন মা তোরও তো বিয়ের কথা আসছে। তোর বাবাও চাচ্ছে এখন তোকে বিয়ে দিতে।”
মিষ্টি চুপ করে রইলো। ভিতরে থেকে কথা আসতে চাইছে না। সায়মা চৌধুরী কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আবারও শ্বাস ছেড়ে বলেন,
“আমরা এবং তু্ই, সবাইতো রাদিফের জন্য অপেক্ষা করলাম, ও তো আর ফিরে এলো না। এমনকি কোনো যোগাযোগই করে না। এখনও কি তু্ই অপেক্ষায় বসে থাকবি?”
চলবে….
গল্প সন্ধ্যা ছাড়া অন্য কোনো সময় আসবে না। আর প্রতিদিন একটা করেই পার্ট আসবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

