#চোরাবালির_পিছুটানে (১২)
#জেরিন_আক্তার
মিষ্টি তার মায়ের মুখে রাদিফের কথা শুনতেই তার মনটা কেমন বিষিয়ে উঠলো। এই মুহূর্তে মায়ের প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। কি বা উত্তর দিবে সে?
সায়মা চৌধুরী বলেন,
“মিষ্টি, রাদিফ আর আসবে না। ও তোকে বিয়েও করবে না। শুধু শুধু রাদিফের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকার কোনো মানে হয়না। তু্ই বুঝে দেখ! ও ফিরলে ফিরতো এতদিনে।”
মিষ্টি চুপচাপ মায়ের কথা শুনে যাচ্ছে। মনে মনে বলতে ইচ্ছে করছে,, বাবার জন্যই রাদিফ আমাকে ছেড়ে গিয়েছে। ও বাবার জন্য বাড়িতে ফিরছে না। বাবা যদি একবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে ওর সাথে কথা বলতো তাহলে ও ফিরতো। কিন্তু বাবাকে কে বোঝাবে! সে তো আছে তার শক্তপোক্ত ব্যাক্তিত্ব নিয়ে। সে যদি মেয়ের ভালো বুঝতে পারতো, বুঝতে পারতো তার মেয়ে কি করলে, কোথায় ভালো থাকবে তাহলে রাদিফকে ফিরে আসতে বলতো।
সায়মা চৌধুরী মিষ্টির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,
“তোর পড়াশোনাও তো প্রায় শেষ। এখন তো বিয়েতে রাজি হবি। তোর বাবা তোকে নিয়ে খুব চিন্তায় রয়েছেন। এমনকি আমরাও। তোকে এখন একজন ভালো ছেলের কাছে তুলে দিতে পারলেই আমরা কিছুটা চিন্তামুক্ত হতাম।”
মিষ্টি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
“আমাকে ভাবতে দাও!”
সায়মা চৌধুরী বলেন,
“আর কত ভাববি! এখন আমাদের কথা ভেবে দেখ, আমাদেরও তো আশা রয়েছে তোকে নিয়ে।”
মিষ্টি উঠে দাড়ালো। এরপরে স্টাডি টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“বেশি ভাববো না, জানিয়ে দিবো আমার উত্তর। এখন আমাকে আমার মতো থাকতে দাও!”
সায়মা চৌধুরী আর কথা বাড়ালেন না। চলে গেলেন রুম থেকে। নিজের রুমে আসতেই রাশেদ চৌধুরী গম্ভীর গলায় বলেন,
“মিষ্টিকে বলেছো?”
“হুম বলেছি!”
“কি বলেছে? বিয়ের জন্য কোনো মত দিয়েছে?”
“বললো তো তাড়াতাড়ি জানিয়ে দিবে।”
রাশেদ চৌধুরী লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলেন,
“দেখো এখন তাড়াতাড়ি জানালেই হয়।”
মিষ্টি স্টাডি টেবিলে থেকে উঠে গিয়ে ধপ করে দরজা লাগিয়ে দিলো। বিছানায় এসে বসলো। একটু আগে মায়ের বলা কথাগুলো মনে করে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। সত্যিই তাকে কথাগুলো এখন ভাবাচ্ছে। রাদিফ ফিরে এলে তো এতদিনে আসতোই। আর আসবেই বা কেনো? তার বাবার কথার জন্যই তো আসেনা।
মিষ্টি বড় বড় শ্বাস ফেলে কান্না থামালো। তার মা সত্যিই বলেছে, মেয়েদের একদিন না একদিন বাবার বাড়ি ছেড়ে পরের ঘরে চলে যেতেই হবে। তারও সময় হয়ে এসেছে। তবে যাকে মন দিয়ে ভালোবেসে গেলো তাকে না পেয়ে কোথায় সুখ খুঁজতে যাবে। রাদিফকে জানাবে? কিন্তু সেও ফিরে আসার পাত্র নয়, তবে তার বাবাও তো রাদিফের হাতে তাকে তুলে দিবে না।
মিষ্টি আর ভাবতে পারছে না, অসহ্য লাগছে, দম বন্ধ লাগছে। এর সমাধান কোথায় তা তার জানা নেই। গত দুইদিন ধরে তার ভাইও ফোন দিচ্ছে না। ঠিক ভাবে পৌঁছালো কিনা তাওতো জানতে পারেনি এখনও।
________________
আরও একটি নতুন ভোরের সূচনা। সকাল হতেই রাজের ঘুম ভাঙে আগে। রাহা তার বুকে বিড়ালের বাচ্চার মতো গুটিশুটি মেরে লুকিয়ে আছে। রাজ নিজের হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে রাহাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে। পরম যত্নে রাহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
রাহারও ঘুম ভেঙে যায়। রাজের দিকে পিটপিট করে তাকিয়ে আবারও রাজের বুকে মুখ লুকায়। রাজ দুষ্টু হেসে বলে,
“তুমি না আমার উপরে রাগ করে ছিলে, এর মধ্যে আবার আমার বুকে শুয়ে আছো এখন রাগ হচ্ছে না তোমার?”
রাহা মাথা তুলে চোখ পাকিয়ে তাকায়। রাজ হেসে বলে,
“না মানে এমনেই আর কি বলছিলাম!”
রাহা ধপ করে বসে তির্যক গলায় বলে,
“আমি তোমার উপরে রাগ করবো, তোমাকে মারবো, তোমাকে কাটবো, তোমার থেকে দূরে যাবো আবার কাছে আসবো তাতে তোমার কি?”
“বেশ, তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। আমার না নেই।”
“হুম।”
রাহা রাজের সাথে কথা বলতে বলতে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে নিজেকে পরিপাটি করে বের হয় রুম থেকে। এরপরে রাদিফের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। রাদিফ রুমে নেই। রুম ফাঁকা। এই দেখে রাহা নিচে নেমে আসে। এসে দেখে রাদিফ বসে কফি খাচ্ছে। রাদিফের নজর যায় রাহার দিকে।
“কিরে উঠে গিয়েছিস?”
“হুম।”
“বস, এখানে!”
রাহা ভাইয়ের পাশে বসে। রাদিফ কফিতে চুমুক দিয়ে বলে,
“তো কি ভাবলি? ফিরে যাবি না?”
“না, যাবো না!”
“কেনো যাবি না? এখন তো রাজ তোকে ফিরিয়ে নিতে চায়। আর সবাইও তোকে চায়।”
“সবাই চাইলে আমি তো চাইনা! আমি কাউকে চাইনা। বিশেষ করে বড় আব্বুর সামনেও যেতে চাইনা।”
রাদিফ মশকরা করে বলে,
“এভাবে বলতে হয়না, তোর শশুর হয়!”
রাহা কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“ভাইয়া.. আমি কিন্তু এখানে থেকেও চলে যাবো। কোথায় যাবো কাউকে বলে যাবো না।”
রাদিফ হেসে বলে,
“যা, তোকে আবার ধরে আনবো!”
রাহা গম্ভীর গলায় বলে,
“আমি মজা করছি না ভাইয়া। আমি কোনোদিন ওই বাড়িতে ফিরবো না। আর তুমি যদি আমায় ফিরে যেতে বলো তাহলে আমি এখানে থেকে চলে যাবো। কোথায় যাবো, কি করবো তা আমি নিজেও জানি না। আর তুমি ভালো করে জানো আমি যা জেদ ধরবো তাই করবো।”
রাদিফ রাহার মাথায় হাত দিয়ে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে,
“তোর কি মনে হয়, তু্ই আমার কাছে বেশি হয়ে গিয়েছিস বলে তোকে চলে যেতে বলছি! না, আমি তোকে যেতে বলছি এই কারণে যে বাড়ির সবাই তোকে দেখে এখন একটু হলেও ভালো থাকবে। আর তোকেও সবাই ভালোই রাখবে।”
রাহা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এই ভালো আমার চাই না। তুমি তো সবার থেকে দূরে আছো নিজেকে ভালো রাখতে, কিন্তু আমি তো জানি তুমি ভালো নেই। তোমার মন বুঝতে পারি আমি। আর আমি তোমাকে রেখে ওইখানে গিয়ে ভালো থাকতে পারবো না।”
রাদিফ মনে মনে বলে,, বড্ড জেদ তোর। তোকে এভাবে কিছু বললে তু্ই শুনবি না। তোকে অন্যভাবে দেশে পাঠাতে হবে। আর এই নিয়ে রাজের সাথেও কথা বলতে হবে।
রাদিফ কথার প্রসঙ্গ পাল্টে বলে উঠে,
“তোর যা ইচ্ছে তু্ই তাই কর! আমি কিছুই বলবো না। আর রাজ কোথায়? উঠেনি?”
“উঠেছে। রুমে আছে!”
“ওহ, শোন আমি আজ অফিসে যাবো! তু্ই রাজকে নিয়ে বাড়িতেই থাকিস!”
“ভাইয়া এই শরীর নিয়ে তুমি অফিসে যাবে?”
“ঠিক হয়ে গিয়েছে। এখন আর কিছু হবে না।”
“তবুও আর দুটো দিন রেস্ট নিতে!”
রাদিফ রসিকতা করে বলে,
“অফিস তো আমার মামারবাড়ি যে আমাকে রেস্ট নিতে দিবে! যেতে হবে আজই।”
এই বলে রাদিফ উঠে দাঁড়ায়। হাফ ছেড়ে বলে,
“সাইমন মনে হয় রেডি হয়ে গিয়েছে। আমারও রেডি হতে হবে।”
রাহার তৎক্ষণাৎ সাইমনের কথা মাথায় এলো। রাতে কি যেনো বলার জন্য ডেকেছিলো। কিন্তু আর কিছু বললো না। কল আসার বাহানা দিয়ে চলে গেলো। রাহার মনে মনে কেমন একটা কৌতূহল জাগছে। সাইমন কি বলতে চায় কিন্তু বলে উঠে না। রাহা মনে মনে ঠিক করলো,, আজ সাইমন অফিসে থেকে ফিরলে কথা বলবে। জানবে আজকে কি বলতে চায়।
_______________
মিষ্টি দুপুরের দিকে বাড়িতে ফিরলো। আজ ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলো। বাড়িতে ফিরে এসে চোখে পড়লো বাড়িতে কিছু একটার তোড়জোড় চলছে। তার মা আর ছোট আম্মু কাজে ব্যাস্ত। মিষ্টি বিষয়টা তেমন আমলে নিলো না। সোজা সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমে আসলো। ফ্রেশ হতে আর ড্রেস চেঞ্জ করতে ওয়াশরুমে ঢুকলো। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখলো রুমানা চৌধুরী রুমে বসে আছেন।
মিষ্টি হাত-মুখ মুছতে মুছতে বলে,
“কিছু বলবে ছোট আম্মু?”
রুমানা চৌধুরী হাত কচলাতে কচলাতে বলেন,
“তোকে একটা কথা বলতে এসেছি রে মা, আসলে তোর মা, বাবা কেউই তোকে কথাটা বলার সাহস পাচ্ছে না।”
“কি কথা?”
“তোকে আজকে দেখতে আসছে!”
মিষ্টি আকস্মিক এই কথা শুনে বলে,
“কিহ! দেখতে আসছে?”
“হুম।”
“কবে? আজই?”
“হুম। বিকেলেই আসছেন উনারা।”
“ছোট আম্মু, আমি আম্মুকে বলেছিলাম বিয়ে নিয়ে ভেবে জানাবো। তাই বলে আমার উত্তরের জন্যও অপেক্ষা করলো না। আগেই পাত্রপক্ষ আসতে বলেছে!তুমিও কিছু বলোনি?”
রুমানা চৌধুরী মিষ্টিকে ধরে বলেন,
“রাগ করিস না মা। এখন উনারা আসতে চাইছে না তো করা যাচ্ছে না। আর দেখলেই তো হয়ে গেলো না।”
মিষ্টি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
“ছোট আম্মু, আমি আর কি বলবো! আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।”
এমন সময় সায়মা চৌধুরী রুমে ঢুকলেন। হাতে নতুন শাড়ি, গহনা। তিনি সেগুলো বিছানায় রেখে মিষ্টিকে বলেন,
“মিষ্টি, আজ এগুলো পড়ে রেডি হবি।”
মিষ্টি বুকে হাত গুজে মুখ ঘুরিয়ে দাড়িয়ে রইলো। রুমানা চৌধুরী সায়মা চৌধুরীর দিকে এগিয়ে এসে আস্তে করে বলেন,
“মিষ্টি রেগে আছে, এখন কিছু বলিস না। আমি ওকে বোঝাচ্ছি। তু্ই যা!”
সায়মা চৌধুরী চলে গেলেন। রুমানা চৌধুরী মিষ্টিকে বলেন,
“মিষ্টি, আমি একটু আসছি, তু্ই রুমেই থাক!”
রুমানা চৌধুরীও চলে গেলেন। মিষ্টি বিছানায় এসে বসলো। তার মায়ের রেখে যাওয়া শাড়ি, গহনার দিকে একবার তাকালো। বুক ফেটে কান্না আসছে। সে তো এগুলো পড়ে অন্য কারো সামনে যেতে চায় না। আর যার সামনে যেতে চায় তার কথা মুখ ফুটে বলতেও পারছে না।
মিষ্টি শাড়ি, গহনার দিকে তাকিয়ে ঝর ঝর করে কেঁদে উঠলো। পরক্ষনে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাড়ালো। স্টাডি টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো। ফোন হাতে নিয়ে আরও হতাশ হয়ে উঠলো। এখনও তার ভাইয়ের আইডি বা নাম্বার থেকে কোনো ফোন, মেসেজ আসেনি। মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে,, একবার যেনো তার ভাই কল দেয়। কল দিলেই পাত্র পক্ষ আসার কথাটা জানিয়ে দিবে।
সন্ধ্যার দিকে রাদিফ আর সাইমন অফিসে থেকে বাড়িতে ফিরে এলো। সাইমন নিজের মতো রুমে চলে যায়। আর রাদিফ নিজের রুমে যাওয়ার আগে রাহার রুমে এসে নক করে।
“রাহা….!”
রাহা সাথে সাথে দরজার সামনে এসে দাড়িয়ে বলে,
“হ্যা, ভাইয়া! বলো!”
“রাজ কোথায়? রুমে আছে?”
“হ্যা, ভাইয়া রুমে আছে। আসো!”
রাহা সরে দাঁড়ায়। রাদিফ রুমে ঢুকে। রাজ বিছানায় বসে ছিলো। রাদিফ রাজের দিকে কিছু একটা এগিয়ে দিয়ে বলে,
“এই নে তোর নতুন সিম কার্ড! ফোনে লাগা! আমার মাথাতেই ছিলো না এইটার কথা।”
রাজ বলে,
“থ্যাংক ইউ ভাই!”
রাদিফ চলে যায় নিজের রুমে। রাজ নিজের ফোনে সিম লাগিয়ে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরেই মিষ্টিকে হোয়াটস্যাপে কল দেয়। কয়েকবার কল দেওয়ার পরেও মিষ্টি কল ধরে না। মিষ্টি কোনো কাজ করছে ভেবে আর কল দেয়না রাজ। টেক্সট করে—আমি ভালোভাবেই এখানে এসেছি। আর রাহাকেও এখানে পেয়েছি। ও ভালোই আছে। আর এখানকার কোনো সিম ছিলো না বলে তোর সাথে কথা বলতে পারিনি। তু্ই আর চিন্তা করিস না।
মিষ্টিকে এই মেসেজ দিলো রাজ। এরপরে ফোনটা রেখে রাহার সাথে কথা বলতে লাগলো।
এদিকে পাত্র পক্ষ মিষ্টিকে দেখতে এসে আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। মিষ্টি তার মা-বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে কোনো টু শব্দও করতে পারেনি। বিশেষ করে রুবেল চৌধুরী মিষ্টিকে আলাদা করে মাথায় হাত রেখে বুঝিয়েছেন। মিষ্টি চাইলেই না করতে পারতো কিন্তু সময়, পরিস্থিতি সব অন্যদিকে চলে গিয়েছে। সবার মুখের হাসি নষ্ট করার মতো দুঃসাহস হয়ে উঠেনি তার।
পাত্র পক্ষ চলে যাওয়ার পরে সন্ধ্যায়, মিষ্টি মনমরা হয়ে নিজের রুমে দরজা লাগিয়ে বসে ছিলো। পরনের শাড়ি এখনও খুলেনি। হাতের আংটির দিকে তাকিয়ে বারবার কেঁদে উঠছে। নিজেকে শান্তনা দেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাচ্ছে না। আর কে তাকে শান্তনা দিবে, কেউই তো কাছে নেই। না তার ভাই, না রাহা।
রাজ মিষ্টির থেকে কোনো কল, মেসেজ না পেয়ে আবারও কল দেয়। মিষ্টি ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে তার ভাই কল দিয়েছে। মিষ্টি বড় বড় শ্বাস ছেড়ে চোখের পানি মুছে কল রিসিভ করে,
“হ্যালো, ভাইয়া কেমন আছো?”
“ভালো আছি। তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো। রাহা কেমন আছে ভাইয়া?”
“ভালো আছে।”
“রাহা কোথায়?”
“পাশেই বসে আছে। তু্ই কি করছিস? আর কখন থেকে কল দিয়ে গেলাম, কোথায় ছিলি?”
মিষ্টি নিজের কান্না আটকাতে পারলো না। কেঁদে উঠলো। রাজ মিষ্টির এমন কান্না শুনে কিছু বুঝতে পারছে না। সাথে সাথে অস্থির গলায় বলে উঠে,
“এই তু্ই কাঁদছিস কেনো? কি হয়েছে?”
মিষ্টি কোনো কথা বলতে পারছে না। একহাতে নিজের মুখ আটকে ধরে কেঁদে যাচ্ছে। এদিকে থেকে রাজ বলে,
“এই মিষ্টি, কি হয়েছে বল! তু্ই কাঁদছিস কেনো? কেউ বকেছে? বাবা.. বাবা কিছু বলেছে?”
চলবে….
গল্প সন্ধ্যা ছাড়া অন্য কোনো সময় আসবে না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

