#চোরাবালির_পিছুটানে (১৩)
#জেরিন_আক্তার
মিষ্টি কান্না থামিয়ে বড় বড় শ্বাস নিয়ে বলে,
“কেউ কিছু বলেনি?”
“তাহলে কাঁদছিস কেনো? কিছু তো হয়েছেই! আমাকে বল!”
“ভাইয়া তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। তুমি, রাহা কেউ আমার পাশে নেই। কেমন একটা একা একা লাগছে।”
রাজ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে,
“কি লুকাচ্ছিস?”
মিষ্টি থেমে থেমে বলে,
“ভাইয়া, আজ পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছিলো।”
রাজ গম্ভীর গলায় বলে,
“এই নিয়ে কাঁদছিলি? আর পাত্র পক্ষ কি বলে গিয়েছে?”
মিষ্টি বলে,
“ভাইয়া, উনারা আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে।”
রাজ কপাল কুচকালো। রাহাও পাশে বসে শুনছিলো। মিষ্টি বলে,
“ভাইয়া বিকেলে দেখতে এসেছিলো। উনাদের পছন্দ উনারা সাথে সাথেই বলে দিয়েছে। আর বাড়ির সবারও ছেলেকে দেখে পছন্দ হয়েছে। উনারা আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। বাড়ির সবাই খুব খুশি হয়েছে।”
রাজ নিরেট কণ্ঠে প্রশ্ন করে বলে,
“তু্ই খুশি হয়েছিস?”
মিষ্টি উপরের দিকে তাকিয়ে লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে বলে উঠে,
“সবাই এতে খুব খুশি। আমিও খুশি।”
“এখন কি করছিস?”
“বসে আছি। ভাইয়া রাহার কাছে দিবে ফোনটা?”
রাজ ফোনটা রাহার হাতে দেয়।
“হ্যালো, কেমন আছো আপু?”
অনেক দিন পরে রাহার গলার কণ্ঠ শুনতে পেয়ে মিষ্টি হেসে বলে,
“ভালো আছি। তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো।”
মিষ্টি হেসে হেসে বলে,
“বলছি আমার ভাইটাকে নিয়ে ওখানেই কি থাকবি নাকি? আসবি না?”
রাহা নিচু গলায় বলে,
“হুম। আসবো।”
“কবে আসবি? আমাকে আজকে আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে ছেলের বাড়ি থেকে। বিয়ের দিন-তারিখও তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেলবে। তু্ই ভাইয়াকে নিয়ে চলে আয়! আর রাগ করে থাকিস না!”
রাহা হাসার চেষ্টা করে বলে,
“হুম। দেখছি! আচ্ছা আপু একটা কথা বলো!”
“কি কথা?”
“আপু তুমি এই বিয়েটা সত্যি করতে চাও?”
মিষ্টি হেয়ালি কণ্ঠে বলে,
“বিয়ে কি মিথ্যে মিথ্যে হয় পাগলী! আংটি যখন সত্যি সত্যি পড়েছি তাহলে বিয়েটাও সত্যি সত্যি করবো। আর শোন, আমি কিন্তু তোদের দুজনের থেকে কোনো এক্সকিউজ শুনবো না। আমার বিয়েতে যেনো তোদের দেশে পাই।”
“হুম পাবে।”
রাহা কথা বলে ফোনটা রাজের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
“আপু যে এই বিয়েতে রাজি না, তুমি বুঝতে পেরেছো?”
“হুম। বুঝতে পেরেছি।”
“তাহলে এখন কি করবে? ভাইয়াকে জানাবে?”
রাজ ভাবুক হয়ে বলে,
“আমি জানাতে পারবো না তুমি জানাবে।”
“ঠিক আছে। আমিই জানাবো।”
রাহা বিছানায় থেকে নেমে দাড়ালো। এখনই দেখতে যাবে রাদিফ ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি। অবশ্য এখনও ঘুমিয়ে পড়েনি। হয়তো কোনো না কোনো কাজ করছেই।
রাহা নিজের রুম থেকে বেরিয়ে ভাইয়ের রুমের দিকে যায়। রাদিফ নিজের রুমে নেই। হয়তো নিচে আছে। রাহা তৎক্ষণাৎ নিচে নেমে আসে। রাদিফ সোফায় পা মেলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। রাহা মনে অনেকটাই সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলো। রাদিফ ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই রাহাকে বলে,
“এখনও ঘুমাসনি?”
“না!”
“কেনো? আর রাজ কোথায়? ও তোকে এখনও জেগে থাকতে দেয় কি করে?”
রাহা সোফায় বসে বলে,
“ঘুম আসছিলো না। তুমি ঘুমাওনি কেনো?”
“এই কাজটা শেষ হলেই ঘুমিয়ে পড়বো।”
“ওহ।”
রাহা বসে হাত কচলাতে থাকে। ভাইয়ের সামনে মিষ্টির কথাটা বলার সাহস হয়ে উঠছে না। যদি ধমকে উঠে বা রেগে যায়। রেগে গেলে যাক। তবুও এখন রাহাকে বলতে হবে। সেও জানে মিষ্টি সবার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়েটা করবে। কিন্তু মিষ্টি মনে মনে তার ভাইকেই ভালোবাসে।
মিনিট পনেরো এভাবেই যায়। রাদিফ কাজের মাঝে রাহার দিকে তাকাচ্ছে। এরপরে ল্যাপটপ চাপিয়ে রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“কি বলতে চাস বল!”
রাহা উঠে এসে ভাইয়ের পাশে বসে। খানিকটা ভয়ার্ত গলায় বলে,
“ভাইয়া, তোমাকে গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলতে চাই। কথাটা তোমার আদৌ ভালো লাগবে না। তবুও তোমায় শুনতে হবে।”
“কি কথা বল!”
“ভাইয়া, একটু আগে দেশে থেকে মিষ্টি কল দিয়েছিলো রাজকে। আমিও কথা বলেছি।”
রাদিফ গম্ভীর গলায় বলে,
“এতে আবার ভালো লাগা না লাগা কি আছে। কথা বলতেই পারিস!”
রাহা মাথা খানিকটা নাড়িয়ে বলে,
“ভাইয়া কথা সেটা না, কথা হচ্ছে, মিষ্টি জানালো বাড়িতে থেকে ওর নাকি বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছে। ছেলের বাড়ি থেকে আজকে দেখতে এসে আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে।”
এই বলে রাহা তার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। রাদিফ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। শুধু শক্ত গলায় বলে উঠে,
“তোরা কি এখন বিয়ে খেতে যাবি?”
রাহা নাক-মুখ কুঁচকে বলে উঠে,
“তুমি এই কথা বলছো?”
“হুম, তো কি বলবো? বাড়িতে বিয়ে হবে আর তোরা চাইলে যেতেই পারিস!”
রাহা মিনিট দুই চুপ থেকে নরম গলায় বলে,
“ভাইয়া, আপু যখন বিয়ের কথা বললো তখন কান্না করছিলো। বললো যে বাড়ির সবাই খুশি তাই সেও এই বিয়ে করবে। ভাইয়া আপু তোমাকে এখনও ভালোবাসে। তুমি কি কিছু বলবে না!”
রাদিফ সোজা গলায় বলে,
“আমি কি বলবো এখানে, সব তো ঠিকই হয়ে গিয়েছে।”
রাহা হাবার মতো কিছুক্ষণ বসে রইলো। তার ভাই এতোটা শান্ত কি করে! মিষ্টিকে তো ভালোবাসে। এই ভালোবাসার জন্যই তো চলে এসেছে। তাহলে এই ভালোবাসা অন্যের হয়ে যাবে দেখেও কিছুই বলছে না কেনো? তবে কি তার ভাই মিষ্টির আশা ছেড়েই দিয়েছে। কিন্তু মিষ্টি যে এখনও তারই অপেক্ষায় রয়েছে।
কথাগুলো মনে মনে আওড়িয়ে রাহা রাদিফকে কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হলো। রাদিফ রাহাকে কিছু বলতে না দিয়ে কড়া গলায় বলে,
“অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। এখন যা শুয়ে পড়!”
রাহা অসহায়ের মতো ফেস বানিয়ে বলে,
“ভাইয়া.. মিষ্টি..!”
রাদিফ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“কি মিষ্টি, এখন রুমে যা!”
রাহা মিন মিন করে কিছু বলতে বলতে উঠে চলে যায়। রাহা সিঁড়ি দিয়ে উপরে চলে যেতেই রাদিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে টি-টেবিলে লাথি মেরে বলে উঠে,
“ধ্যাৎ!”
সাইমন নিচে নামার সময় রাহা এসে সামনে পড়ে। রাহা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে সাইমন বলে,
“কি হয়েছে, তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?”
“কই?”
“মনে হচ্ছে কোনো কিছু নিয়ে মন খারাপ?”
“হুম।”
“কি হয়েছে?”
“ভাইয়া আপনি জানতেন না ভাইয়া মিষ্টিকে ভালোবাসতো।”
“হুম, জানি তো। কি হয়েছে মিষ্টিকে নিয়ে?”
“মিষ্টিকে দেখতে এসে আংটি পড়িয়ে রেখে গিয়েছে। সেইটা ভাইয়াকে বললাম কিন্তু কিছুই বললো না।”
সাইমনও ভাবুক হয়ে গেলো। সাথে সাথে বলে,
“রাদিফ কিছুই বলেনি?”
“না!”
“ওহ। তবে মিষ্টিকে তো ভালোবাসে। তাহলে চিন্তা করো না!”
রাহা চোখ ছোট ছোট করে সাইমনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আপনিও তাই বলছেন!”
এই বলে রাহা মনে মনে বলে উঠে,,, দুই বন্ধু একই না, একই কথাই তো বলবে। কই বন্ধুকে বিয়ের দিকে ঠেলে দিবে তা না করে বলছে চিন্তা করো না। আল্লাহ এদের বুঝ দাও।
রাহা সাইমনের সাথে কথা বলে রুমে চলে যাবে এমন সময় সাইমন রাহাকে ডেকে বলে,
“রাহা! শোনো!”
“হুম বলুন!”
“বলছিলাম রাজ কোথায়?”
“রুমে আছে। কেনো ডেকে দিবো?”
“না। মানে এমনেই ওকে আজকে দেখলাম না তাই জানতে ইচ্ছে হলো।”
“ওহ। আপনি চাইলে ডেকে দেই?”
“না না ডেকো না!”
“ওহ। তাহলে আমি রুমে গেলাম।”
“হুম, যাও।”
রাহা চলে গেলো। সাইমন রাহার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে অবাক না হয়ে পারলো না। দুজনে এক রুমে থাকছে, ঘুরছে, ফিরছে অথচ রাদিফ কিছুই বলছে না। সাইমন দুজনকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে নিচে চলে আসে। মেইড সব কাজ শেষ করে রাদিফের জন্য কফি বানিয়ে দিয়ে গেলো। ঠিক তখন সাইমনকে দেখে বলে,
“স্যার, কফি আনবো?”
সাইমন রাদিফের পাশাপাশি বসে বলে,
“হুম। আনুন!”
সাইমন রাদিফের দিকে তাকায়। রাদিফ চোখ-মুখ শক্ত করে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। মিনিট দুই পরে মেইড সাইমনকে কফি দিয়ে চলে যায় ভিতরে।
রাদিফ নিজে থেকে কোনো কথা বলছে না। চোখ-মুখে রাগ স্পষ্ট। সাইমন রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কিরে কথা বলছিস না কেনো?”
রাদিফের কোনো উত্তর নেই। সাইমন কফিতে চুমুক দিয়ে বলে,
“রাহা কি বলে গেলো রে? মিষ্টির নাকি বিয়ে হয়ে যাবে। তু্ই কি মিষ্টিকে বিয়ে করবি না? কিরে ভাই কথা বলছিস না কেনো? আমি হলে তো মিষ্টিকে এখনই তুলে নিয়ে আসতাম।”
রাদিফ চোখ গরম করে তাকালো সাইমনের দিকে এরপরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“তোর এতো পুড়ছে তু্ই যা নিয়ে আয় মিষ্টিকে। আমি না করেছি?”
সাইমন ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
“আমি অতটাও খারাপ না যে, এক বন্ধুর সুখ কেড়ে নিবো বুঝলি? তবে বেচারির জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমি হলে সত্যি ওকে ওই বাড়িতে রাখতাম না। ওর বাপের থেকে ওকে ফুস করে তুলে নিয়ে আসতাম।”
রাদিফ রাগে হিরহির করে বলে,
“শালা, এতো দরদ কই থেকে আসছে তোর?”
“এই দিলের ভিতরে থেকে। তবে কি বলবো আমার দিলেও যে শান্তি নেই!”
“এই সর চোখের সামনে থেকে! মেজাজ এমনেই খারাপ আর খারাপ করিস না!”
“হুম, মেজাজ খারাপ তো হবেই। প্রিয় মানুষের বিয়ে হবে অন্য ছেলের সাথে। মেজাজ খারাপ না হয়ে যাবে কোথায়?”
রাদিফ দাঁত চেপে বলে,
“তু্ই কি যাবি চোখের সামনে থেকে?”
সাইমন কফির মগ হাতে নিয়ে উঠে দাড়ালো। এরপরে সিঁড়ির দিকে গিয়ে আবারও রাদিফের সাথে ফিরে এসে বলে,
“ভাই একটা কথা বলবি! সত্যি মিষ্টিকে নিয়ে না!”
“কি কথা? আর আজেবাজে কথা হলে একটা লাত্থি খাবি!”
“ভাই, রাহা আর রাজ ওরা দুজন কি সামনে বিয়ে করবে নাকি?”
রাদিফ সাইমনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ওদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে।”
সাইমন কপাল কুঁচকে উঠে বলে,
“কিহ! বিয়ে হয়ে গিয়েছে! কবে?”
“অনেক আগে!”
সাইমনের বিশ্বাস হয়েও হয়না। আবারও প্রশ্ন করে,
“ভাই সিরিয়াস বিয়ে হয়ে গিয়েছে?”
রাদিফ চোখ বন্ধ করে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
“হুম, বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দুজনেই লুকিয়ে বিয়েটা করেছিলো। আর এখন দুজনের বাচ্চাও আসতে চলেছে। বিশ্বাস না হলে তু্ই রাহাকে জিজ্ঞাসা করিস। আর এখন যদি একটা প্রশ্ন করিস তাহলে সত্যিই লাত্থি মেরে রুমে পাঠিয়ে দিবো।”
সাইমন বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে রাদিফের দিকে তাকিয়ে রইলো। ভেবেছিলো রাহা আর রাজ হয়তো একসাথে থাকছে সামনে বিয়ে করবে ভেবে। এখন শুনছে দুজনে বিয়ে করে নিয়েছে আবার বাচ্চাও আসতে চলেছে। সাইমন এখন কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা তার জানা নেই। রাহাকে ভালোবেসেছিলো। এরপরে রাজের সাথে দেখে নিজেই শকড হয়ে গিয়েছিলো। আর এখন যা শুনলো তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।
সাইমন চলে যাওয়ার আগে আবারও রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ভাই, তু্ইও যদি মিষ্টিকে লুকিয়ে বিয়ে করে রাখতি তাহলে আজকে তোর এতো মেজাজ খারাপ হতো না। তাইনা!”
রাদিফ চোখ পাকিয়ে তাকালো। সাইমন আর কিছু না বলে চলে গেলো। রাদিফ ল্যাপটপ চাপিয়ে মাথার চুল খামচে ধরলো। সে চাইলেই পারতো মিষ্টিকে নিয়ে আসতে কিন্তু পরিস্থিতি তখন তেমন ছিলো না। এখন মিষ্টি অন্যের হয়ে যাবে সেটাও সহ্য করার মতো নয়। তাকেই কিছু একটা করতে হবে। আর এখন রাগের মাথায় কিচ্ছু করবে না। তাকে এখন ভাবতে হবে।
রাদিফ তৎক্ষণাৎ উঠে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে গেলো।
______________
পরদিন,,রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী দুজনে ড্রইং রুমে বসে চা খাচ্ছেন। সায়মা চৌধুরী এগিয়ে এসে রাশেদ চৌধুরী বলেন,
“মিষ্টির বিয়ের ডেট তো তাড়াতাড়িই ঠিক করবে। এই ব্যাপারে রাজকে একবার জানালে হতো না।”
রাশেদ চৌধুরী ঠান্ডা গলায় বলেন,
“হুম জানাতে তো হবেই।”
“তাহলে জানাও। ওর তো জানার অধিকার আছে।”
“জানাবো কিন্তু তোমার ছেলে কই?”
“কই মানে?”
“তোমার ছেলে যে ফ্ল্যাটে উঠেছিলো, সেখানে এখন সে নেই। খোঁজ নিয়েছি।”
“নেই মানে? কবে থেকে নেই?”
“কয়েকদিন ধরেই। আমি জানতে পেরেছি কালকে। এরপরে অনেক জায়গায় খোঁজ লাগিয়েছি কিন্তু তোমার ছেলের কোনো খবর পাইনি।”
সায়মা চৌধুরীর কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো। থমথমে গলায় বলে উঠেন,
“তাহলে ছেলেটা গেলো কোথায়?”
রাশেদ চৌধুরী বলেন,
“কেয়ার্টেকার বললো নিজে থেকেই নাকি চলে গিয়েছে। আজ ফোন দিয়ে ওর সাথে কথা বলবো। এর একটা না একটা বিহিত আজ করবোই। এভাবে চলতে দিলে তো হবে না। একেক ছেলে-মেয়ে একেক জায়গায় নিজেদের ইচ্ছে মতো গিয়ে থাকবে। আমাদেরই কিছু করতে হবে।”
এই শুনে রুবেল চৌধুরী কেমন একটা দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকালেন। মনে মনে অনেক কথা আসছে তবে এখন চুপচাপ থাকতে চান। তিনি সময়ের অপেক্ষায় আছেন। ঠিক সময় মতো কথাগুলো বলবেন।
রুবেল চৌধুরী চায়ের কাপ রেখে উঠে চলে গেলেন উপরে। নিজের রুমে এসে বিছানায় থেকে ফোনটা নিয়ে রাদিফের নাম্বারে কল দিলেন।
চলবে….
আপনাদের কাছে গল্পটা কেমন লাগছে জানাবেন!!
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

