চোরাবালির_পিছুটানে (১৪) #জেরিন_আক্তার

0
2

#চোরাবালির_পিছুটানে (১৪)
#জেরিন_আক্তার

রাদিফ দুপুরে লাঞ্চ টাইমে ফ্রি হয়ে বসে ছিলো। ফোন স্ক্রল করছিলো। পাশেই আবার সাইমন বসে ছিলো। রুবেল চৌধুরী তখন কল দিলেন রাদিফের ফোনে। অনেক দিন পরে বাবার নাম্বার থেকে কল আসায় রাদিফ অবাক হলো বৈকি। সাইমন আড়চোখে রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,

“তোর ফোন বাজছে, ধরছিস না কেনো?”

“বাবা ফোন করছে!”

“ধর, দেখ কি বলে! নিশ্চই মিষ্টির বিয়ে নিয়ে কথা বলবে।”

রাদিফ সাইমনের কথাটা শুনেও না শোনার ভান করে কল রিসিভ করলো।

“হ্যালো বাবা, ভালো আছো?”

“হুম, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”

“ভালো। মা কেমন আছে?”

“ভালো আছে। কি করছো?”

“কিছু না। অফিসে লাঞ্চ টাইম চলছে তাই বসে আছি!”

“খেয়েছো কিছু?”

“না!”

“কেনো?”

“খেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি খেয়েছো?”

“হুম। শোনো যার জন্য কল দিয়েছি!”

“বলো!”

“তোমাকে একবার দেশে আসতে হবে!”

রাদিফ কপালে ভাজ এনে বলে,

“কেনো?”

রুবেল চৌধুরী গম্ভীর গলায় বলেন,

“মিষ্টির বিয়ে তাই!”

এই কথা শুনতেই রাদিফ রেগে যায়। সবার সাথে সাথে তার বাবাও এখন বিয়ের দাওয়াত খেতে যেতে বলছে। সে কি জানে না তার ছেলে মিষ্টিকে ভালোবাসে।

রাদিফ বলে,

“বাবা তুমি কি আমাকে বিয়ের দাওয়াত খেতে দেশে যেতে বলছো?”

“হুম বলছি! বাড়ির মেয়ের বিয়ে তোমাকে আসতে হবে।”

“বাবা, তুমি সব জেনেও ওর বিয়েতে আমাকে কি করে যেতে বলছো!”

রুবেল চৌধুরী বাঁকা হেসে বলেন,

“বোকা ছেলে সবসময় রাগ করে। তোমাকে বিয়ে খেতে আসতে বলেছে কে? অন্য কিছু করতে আসবে!”

রাদিফ বাবার কথা শুনে চুপ রইলো। এরপরে কথা বলতে বলতে সাইমনের পাশে থেকে উঠে অন্য পাশে চলে যায়।

____________

রাহা শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসতেই চোখে পড়লো বিছানায় পড়ে থাকা কিছু শপিংয়ের দিকে। রাজ বেলকনিতে থেকে রুমে ঢুকলো। রাহা বিছানায় বসে শপিং ব্যাগগুলো একে একে খুললো। ছোট ছোট বাচ্চাদের ড্রেস দেখে রাহা হেসে উঠে বলে,

“কি কিউট কিউট জামাকাপড়!”

রাজ রাহার মুখোমুখি বসে বলে,

“পছন্দ হয়েছে?”

“খুব। তবে বাবুদের জন্য জামাকাপড় কিনে এনেছো আমার জন্য কিছু কিনে আনোনি কেনো?”

রাজ হেসে বলে,

“তুমি তো সব গুলো ব্যাগ খুলেই দেখোনি!”

রাহা অন্য একটা ব্যাগ খুলে দেখলো শাড়ি। যা দেখে রাহা হেসে বলে উঠে,

“এখন তো শাড়ি পড়তে পারবো না।”

দুজনের কথার মাঝে মেইড এসে নক করে,

“রাহা ভিতরে আছো?”

“হ্যা!”

রাজ উঠে চলে যায় ওয়াশরুমে। রাহা ড্রেসগুলো রেখে দরজার কাছে গিয়ে বলে,

“কিছু বলবেন?”

“রাদিফ, স্যার এসেছেন। উনি আপনাকে ডাকছেন।”

“ওহ। আপনি যান, আমি আসছি।”

____________________

মিষ্টির বাড়িতে বসে মন টিকছিলো না। তাই বিকেলবেলা একটা বান্ধবীর সাথে শপিংয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রেডি হচ্ছিলো আর বান্ধবীকে মেসেজ দিচ্ছিলো। ঠিক তখন রুবেল চৌধুরী এসে মিষ্টির রুমে নক করলেন।

“মিষ্টি!”

মিষ্টি ফোন রেখে বলে,

“হ্যা ছোট আব্বু, রুমে এসো!”

রুবেল চৌধুরী রুমে ঢুকলেন। মিষ্টিকে রেডি হতে দেখে বলেন,

“কোথাও যাচ্ছো?”

“হ্যা! একটু বান্ধবীর সাথে শপিংয়ে যাবো!”

“ওহ। বেশি সময় লাগবে কি?”

“না ছোট আব্বু, বেশি সময় লাগবে না।”

রুবেল চৌধুরী শ্বাস ছেড়ে বলেন,

“হুম দেরি করো না। এখন তো বিয়ে ঠিক হয়েছে। এখন আর বাহিরে থাকা ভালো দেখাবে না।”

মিষ্টির মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিলো। রুবেল চৌধুরী বলেন,

“কালকে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হবে। উনারা কিছু লোক নিয়ে আসতে পারেন এখানে। তুমি কোথাও যেও না কালকে।”

মিষ্টি নিচু স্বরে বলে,

“ঠিক আছে।”

মিষ্টি বিছানায় থেকে ব্যাগ হাতে নিয়ে তাতে ফোন ভরে নিলো। রুবেল চৌধুরী মিষ্টির দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলেন,

“বাহিরে গিয়ে দাড়াও, আমি গাড়ির চাবি নিয়ে আসছি!”

মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে বলে,

“ঠিক আছে।”

রুবেল চৌধুরী চলে গেলেন। মিষ্টিও রুম থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিলো। হঠাৎ তার ছোট আব্বুর আচরণ বুঝে উঠতে পারছে না। কিছু তো ব্যাপার আছেই, না হলে তার ছোট আব্বু সাথে যাওয়ার লোক নয়। তবে কি বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে সাথে সাথে যাবে? নাকি কিছু বলতে চায়?

মিষ্টি এই ভাবতে ভাবতে বাড়ির বাহিরে এসে পড়ে। তার ছোট আব্বুও গাড়ির চাবি নিয়ে আসে। ড্রাইভার এগিয়ে আসতে নিলে রুবেল চৌধুরী না করেন। বলেন তিনি নিজেই ড্রাইভ করবেন।

রুবেল চৌধুরী ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলেন। পাশের সিটে মিষ্টি উঠে বসলো। রুবেল চৌধুরী নিজেই ড্রাইভ করে বাড়ির গেট ছাড়িয়ে গেলেন। মিষ্টি অনেকক্ষণ চুপচাপ থাকার পরে বলে উঠে,

“ছোট আব্বু তুমি তো ড্রাইভার নিয়েও আসতে পারতে!”

“মিষ্টি, ড্রাইভার নিয়ে আসিনি তোমার সাথে কিছু কথা বলার আছে।”

“কি কথা ছোট আব্বু?”

রুবেল চৌধুরী গম্ভীর গলায় বলেন,

“তুমি কি আমাদের খুশির জন্য বিয়েতে রাজি হয়েছো?”

“ছোট আব্বু, আমি কি করে না করবো। তোমরা সবাই এতে খুশি আর না করার কোনো কারণই তো নেই এখানে।”

এই রুবেল চৌধুরী চুপ রইলেন। অনেক ক্ষণ পরে থমথমে গলায় বলেন,

“তোমার বাবার বড্ড অহংকার!”

মিষ্টি তড়িৎ চোখে তাকালো রুবেল চৌধুরীর দিকে। তিনি মুখ গম্ভীর রেখেই বলেন,

“শুধু ভাই বলে সব জেনেও চুপচাপ আছি। কেনো জানো?”

“কেনো ছোট আব্বু?”

“যাতে তোমরা ভালো থাকো। চাইলে ঝামেলা করতে পারতাম কিন্তু দেখো আগেই আমার ছেলে-মেয়ে দুটো আলাদা হয়ে গিয়েছে। ওরাই কাছে নেই তাহলে আমি আর কি বলবো তোমার বাবাকে!”

মিষ্টি ভাবুক গলায় বলে,

“ছোট আব্বু তুমি সব জানো?”

“হুম।”

“তবুও তুমি কিছুই বলোনি বাবাকে?”

“বলবো, একটু ধৈর্য ধরো!”

রুবেল চৌধুরী হঠাৎ মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামালেন। পাশেই একটা দোকান আছে। তিনি গাড়িতে থেকে নামতে নামতে বলেন,

“মিষ্টি, তুমি বসো। আমার এই দোকানে একটু কাজ আছে। পনেরো মিনিটের মতো লাগবে। আমি আসছি!”

“হুম যাও!”

রুবেল চৌধুরী চলে গেলেন। মিষ্টি নিজের ফোন বের করে বান্ধবীকে মেসেজ দিতে থাকলো। এমন সময় রুবেল চৌধুরীর ফোন বেজে উঠে। তিনি ফোনটা ডেস্কে রেখে গিয়েছেন। প্রথম বার কল বাজলো মিষ্টি ইচ্ছে করেই ধরলো না। মনে করেছে আর কল আসবে না। কিন্তু এরপরে আবারও কল বেজে উঠলো। মিষ্টি নিজের ফোন রেখে হাত বাড়িয়ে তার ছোট আব্বুর ফোনটা নিলো। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে রাদিফের নামটা দেখতেই বুকের ভিতরে ছ্যাৎ করে উঠলো। মিষ্টি ফোনটা রেখে দিলো।

রাদিফের সাথে কথা হয়না অনেকদিন। এখন হুট্ করে ফোন রিসিভ করেই বা কি কথা বলবে! তাই না ধরাই ভালো।

ফোন অনবরত বেজেই যাচ্ছে। মিষ্টি গাড়িতে থেকে নামার সিদ্ধান্ত নিলো। এমন সময় রুবেল চৌধুরী মিষ্টির দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। মিষ্টি যেই বলতে যাবে ছোট আব্বু ফোন এসেছে, কিন্তু তার আগেই রুবেল চৌধুরী বলেন,

“মিষ্টি, তুমি আরেকটু বসো, কাজটা হতে আরও কিছুক্ষন সময় লাগবে।”

মিষ্টিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি চলে গেলেন। আর ফোনটা বেজে চলেছে তো চলেছেই। মিষ্টি বিড়বিড় করে বলে,,, কল যখন কেউ ধরছে না তাহলে তো পরে করলেই হয়। এতো বার কল করার কোনো মানে আছে? মানুষ তো নিজে থেকে বুঝে তুমি আর বুঝলে না। শুধু ওইযে একটাই কাজ রাগ করা।

মিনিট পাঁচেক এভাবেই গেলো। ফোন আসছেই। মিষ্টি একবার মনে মনে ভাবলো,, রাদিফ এতবার যখন কল দিচ্ছে কোনো আর্জেন্ট কিছু হয়েছে কি? রাদিফ যেই লোক সে তো দরকার ছাড়া একবারও কল করবে না আর এখন এতবার কল দিচ্ছে নিশ্চই আর্জেন্ট কিছুই।

মিষ্টি কাপা হাতে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করে। আগেই কোনো কথা বলে না। রাদিফের কথার অপেক্ষায় থাকে। ওপাশে থেকে তো রাদিফের মেজাজ তিরিক্ষে উঠে আছে। রাদিফ চোয়ালে শক্ত করে বলে,

“ফোন ধরছিলি না কেনো?”

মিষ্টি সাথে সাথে নাক-মুখ কুঁচকে উঠে মনে মনে বলে,,, ছিহ, নিজের বাবাকে তু্ই করে বলে।

রাদিফ ওপাশে থেকে ধমকে উঠে বলে,

“একটা থাপ্পড় দিয়ে চুপ থাকা বের করবো। এতো এগো হয়ে গিয়েছে এখনই। কখন থেকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি? কানে যায়নি ফোনের শব্দ?”

মিষ্টি এটাই বুঝতে পারছে না রাদিফ কথা গুলো কাকে বলছে? মিষ্টিকে বলছে কিন্তু মিষ্টি যে এখানে সেটা রাদিফ কি করে জানবে?

মিষ্টি কথাগুলো মনে মনে আওড়ালো। ফোনের ওপাশে থাকা রাদিফ মিষ্টির কোনো উত্তর না পেয়ে রাগে রি রি করছে। দাঁত দাঁত চেপে বলে,

“ঠিক নিজের বাপের মতো হয়েছিস? বুঝেও না বোঝার ভান ধরে থাকবি। যদি এখন সামনে থাকতি না তাহলে মেরে তক্তা বানাতাম।”

এই শুনে মিষ্টি চোখ বড় বড় করে তাকালো। এখন বুঝতে পারছে কথাগুলো তাকে বলছে। মিষ্টি এখন কথা বলবে নাকি চুপই থাকবে এই নিয়ে দোটানায় পড়ে গেলো।

রাদিফ ওপাশে থেকে আগের ন্যায় বলে,

“এই বেয়াদব ভাত খাস না? কথা বের হয়না মুখ দিয়ে?”

মিষ্টি এবার চুপ থাকে না। আমতা আমতা করে বলে,

“মা মানে কি বলছো?”

রাদিফ চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,

“তোর বাপকে বিয়ে দিবো!”

মিষ্টি সাথে সাথে বলে,

“দেখো আজেবাজে কথা বলবে না!”

রাদিফ ধমকে উঠে,

“চুপ! আজেবাজে কথা ঠিকই শুনেছিস আর ফোনের শব্দ শুনতে পাসনি?”

“শুনেছি!”

“তাহলে ধরিসনি কেনো? বাবাতো ওইখানে থেকে চলেই গিয়েছে। তাহলে নেকামি করে বসে ছিলি কেনো?”

মিষ্টি কপাল কুঁচকে বলে,

“তার মানে তুমি জানতে আমি এখন ফোনের কাছে আছি?”

রাদিফ এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না। কথা ঘুরিয়ে বলে,

“তোর বিয়ে কবে?”

মিষ্টি নিচু গলায় বলে,

“ডেট ঠিক করেনি। কালকে করবে।”

রাদিফ মিষ্টির মন বুঝতে বলে,

“ছেলে তো তাহলে তোর পছন্দ হয়েছেই!”

মিষ্টি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। চোখ বেয়ে আপনাআপনিই জল পড়তে থাকে। রাদিফের সাথে কথা বলার সময়ও অনেক আশা নিয়ে ছিলো। হয়তো রাদিফ ওকে বিয়েটা করতে না করবে। নয়তো অন্য কিছু বলবে। কিন্তু এখন রাদিফই বলছে ছেলে তো তোর পছন্দ হয়েছেই।

মিষ্টি একহাতে চোখ মুছে ছোট্ট করে বলে,

“হুম।”

রাদিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,

“ছেলের সাথে কথা বলিস?”

“রাতে একবার কল দিয়েছিলো। এরপরে আর কথা হয়নি।”

রাদিফ ঠোঁট কামড়ে রাগ সামলে বলে,

“তোর ফোন কই?”

“আমার কাছেই। কেনো?”

“ফোনটা বাবার কাছে দিবি।”

“কিন্তু কেনো?”

“তোকে দিতে বলেছি তু্ই দিবি। এতো প্রশ্ন করিস কেনো?”

“কিন্তু ফোন ছোট আব্বুকে দিবো। ছোট আব্বু আমার ফোন নিয়ে কি করবে?”

“পুজো করবে!”

মিষ্টি প্রশ্ন করে,

“পুজো করে আবার কখন দিবে?”

রাদিফ রেগে গিয়ে বলে,

“তু্ই ফোন দিয়ে কি করবি? নতুন জামাইয়ের সাথে কথা বলবি? মনে ফুর্তি জাগছে! আমি যখন বলেছি ফোন বাবার কাছে দিবি তাহলে ফোন বাবার কাছেই দিবি।”

মিষ্টি গলার কণ্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলে,

“ঠিক আছে! ছোট আব্বু আসলেই দিয়ে দিবো।”

“আর শোন!”

“হুম, বলো!”

“এরপরে বাবার ফোনটা যদি তোকে দেয় তাহলে মনে করবি আমি কল দিয়েছি। আজকের মতো এমন নেকামি নিয়ে বসে থাকলে চাঁপার দাঁত একটাও থাকবে না।”

মিষ্টি শুকনো ঢোক গিলে বলে,

“হুম। ধরবো।”

“মাথায় রাখিস! রাখছি এখন!”

“ঠিক আছে।”

রাদিফ কল কেটে দিয়ে বিছানায় ফোনটা ছুড়ে মারলো। কি যে রাগ উঠছে বলার বাহিরে। রাহা ভয়ে ভয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ভাইয়া এইভাবে না বকলেও পারতে!”

রাদিফ দুইহাত নিজের কোমরে রেখে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,

“সাপোর্ট করবি না একদম। ওর শাস্তিই এটা। আমি যে ওর জন্য কষ্ট করে দূরে রইলাম সেটা দেখলো না। পরের খুশির জন্য বিয়ে করতে গিয়েছে। আমাকে তাহলে একবার বল, তুমি কিছু করো, আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাই না। না, তা বলবেন না মিষ্টি রানী। উনি সবার খুশিতে নিজেও বিয়ে করতে চাইছে। নিজে কষ্টে মরবে তবুও স্বীকার করবে না। শুধু একবার এই বাপ-মেয়েকে হাতের কাছে পাই। দুটোরই খবর আছে।”

রাহা উঠে দাড়িয়ে বলে,

“এখন শান্ত হয়ে বসো। আমি তোমার জন্য কফি নিয়ে আসছি!”

____________

মিষ্টি ফোনটা হাতে নিয়ে মন খারাপ করে বসে আছে। এর একটু পরে রুবেল চৌধুরী এসে গাড়িতে বসলেন। তিনি সিট্ বেল্ট লাগাতে লাগাতে মিষ্টিকে বলেন,

“কি হয়েছে? মনটা খারাপ মনে হচ্ছে?”

মিষ্টি সাথে সাথে বলে দেয়,

“তোমার ফোনে রাদিফ কল দিয়েছিলো। আমি ধরেছিলাম। আমার সাথে ভালো করে কথা বলেনি।আমাকে বকেছে।”

রুবেল চৌধুরী চমকালেন না। বরং তিনি আগেই জানতেন। পরিকল্পনাটা পুরোটা রাদিফেরই ছিলো। তিনি না জানার ভান করে বলেন,

“কি বলছো? রাদিফ বকেছে, থাক ছাড়ো ওর কথা! কত শত কাজ করে হয়তো মাথা ঠিক ছিলো না।”

মিষ্টি রুবেল চৌধুরীর দিকে দুটো ফোন এগিয়ে দিয়ে বলে,

“এই নাও ফোন!”

“দুটো কেনো? শুধু আমার ফোন দাও!”

“না, ছোট আব্বু, আমার ফোনও নাও!”

“তোমার ফোন নিয়ে আমি কি করবো?”

“জানি না ছোট আব্বু। তুমি রাখো!”

রুবেল চৌধুরী দুটো ফোনই নিয়ে ডেস্কে রাখলেন। মিষ্টি কেনো তার ফোন দিয়ে দিচ্ছে এটাও বুঝতে পারছে না। মিষ্টি বলে,

“ছোট আব্বু, বাড়িতে চলো!”

রুবেল চৌধুরী বলেন,

“বাড়িতে যাবে? কিন্তু তুমি না বললে, বান্ধবীর সাথে শপিংয়ে যাবে!”

“ওকে না করে দিয়েছি! তুমি বাড়ির দিকে চলো।”

রুবেল চৌধুরী এবার বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন। রাদিফ মনে হয় মিষ্টিকে একটু বেশিই বকেছে না হয় মেয়েটা এমন শপিং রেখে বাড়িই যাবে কেনো!

সন্ধ্যার আগেই রুবেল চৌধুরী মিষ্টিকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন। মিষ্টি রুমে চলে গেলো। রুবেল চৌধুরী সোফায় বসলেন। তাকে দেখে কিচেনে থেকে রুমানা চৌধুরী এগিয়ে এসে বলেন,

“রাজের বাবা অফিসে থেকে আসার পর থেকে তোমাকে খুঁজছে।”

চলবে….

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here