চোরাবালির_পিছুটানে (২৩) #জেরিন_আক্তার

0
1

#চোরাবালির_পিছুটানে (২৩)
#জেরিন_আক্তার

রাদিফ তার মায়ের কথা শুনে রাশেদ চৌধুরীর সামনে দাঁড়ায়। তার অবস্থা দেখার মতো। একবারে ভেঙে পড়েছে। রাদিফ তার সামনে দাড়িয়ে বলে,

“তোমার সাথে কিছু কথা আছে উপরে চলো!”

রাশেদ চৌধুরী কপাল কুচকালেন। এই সময়ে রাদিফ আবার কি কথা বলতে চায়। তিনি রাদিফের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলেন,

“তুমি আমার ঘরে গিয়ে বসো। আমি আসছি!”

রাদিফ সবার সামনে থেকে চলে যায় সিঁড়ির দিকে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে রাশেদ চৌধুরীর ঘরে চলে যায়। রাশেদ চৌধুরীর ঘরে ঢুকে আনমনে ভাবতে থাকে,, এই ঘরে সেদিন তাকে কতটা অপমান করা হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো লোভে পড়ে মিষ্টিকে বিয়ে করতে চায় সে। আজ সময় এসেছে সেই অপমানটাকে ফিরিয়ে দেওয়ার।

মিনিট পাঁচেক পরে রাশেদ চৌধুরী ঘরে ঢুকলেন। তিনি এসে দেখেন রাদিফ উল্টো দিক হয়ে দাড়িয়ে আছে। রাদিফ পেছনে ফিরতে ফিরতে রাশেদ চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে,

“কেমন লাগছে নিজের সব কিছু নিলামে উঠবে শুনে!”

রাশেদ চৌধুরী কথা ঠিক বুঝে উঠলেন না। স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে উঠেন,

“মানে? কেমন লাগবে! কেউ কি এইসব শুনে ঠিক থাকতে পারে!”

রাদিফ মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলে,

“না একদম না। কেউই ঠিক থাকতে পারে না। তুমিও তো ঠিক নেই। তবে সামনে যা হবে তার জন্য কি আদৌ ঠিক থাকতে পারবে?”

“তুমি কি বলতে চাইছো আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না!”

“বুঝতে পারবে একটু সময় অপেক্ষা করো! আজ অফিসে যাবে তোমরা তখনই দেখতে পারবে।”

রাশেদ চৌধুরী লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলে ওঠেন,

“আমি আজ অফিসে যাবো না!”

“কেনো যাবে না?”

“আমি অফিসে গিয়ে ওইসব নিজের চোখে দেখতে পারবো না। কষ্ট হবে। যে জিনিসটা তিলে তিলে আমি আর রুবেল গড়ে তুলেছি সেটা নিলামে উঠবে। কি করে হচ্ছে আমি কিচ্ছু ধরতে পারছি না।”

রাদিফ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,

“আচ্ছা তোমার মনে আছে, সেদিন আমি মিষ্টিকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। তুমি সেদিন বলেছিলে আমার আর বাবার লোভ তাই মিষ্টিকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। আর এখন তোমার এতো কষ্টের গড়ে তোলা কোম্পানি আজ নিলামে উঠছে।”

রাশেদ চৌধুরী মাথা নিচু করে রইলেন। ঠিকই তো, সেদিন নিজের সম্পত্তির বড়াই দেখিয়ে রাদিফকে অপমান করেছিলো আর আজ তার ক্ষমতা সব নিলামে উঠতে যাচ্ছে। এখন তিনি বুঝতে পারছেন তার বড় অহংকার ছিলো। আর সে অহংকারের জন্যই হয়তো আজ এমনটা হলো। তিনি আজ এই মুহূর্তে নিজের ভুলটাই উপলব্ধি করতে পারছেন।

রাশেদ চৌধুরী নিচু গলায় বলেন,

“হুম, রাদিফ আজ আমি স্বীকার করছি সেদিন আমার অহংকার ছিলো। আর আজ হয়তো তার জন্যই আমার এই অবস্থা হলো।”

রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,

“তাহলে নিজেই স্বীকার করছো?”

“হুম। নিজেই স্বীকার করছি।”

এই শুনে রাদিফ নিঃশব্দে হেসে উঠলো। এরপরে বলে উঠে,

“শোনো যা বলতে চেয়েছি! আজ ১১ টার দিকে অফিসে যেও। সাথে বাবাকেও নিয়ে যেও! ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে।”

এই বলে রাদিফ চলে গেলো। রাশেদ চৌধুরী রাদিফের কথা শুনে কিছুক্ষণ ওর কথাগুলো ভাবলেন।

রাদিফ নিজের রুমে এসে দেখে মিষ্টি বেলকনিতে কাপড় মেলে দিচ্ছে। রোদের ঝলকানি এসে পড়ছে ওর উপরে। রাদিফ চোখ ফেরাতে পারছে না। মিষ্টিকে দেখতে ভালো লাগছে।

মিষ্টি বেলকনিতে থেকে রুমে আসে। রাদিফ নিজের চোখ সরিয়ে বলে,

“বেলকনি থেকে আসার কি দরকার ছিলো!”

মিষ্টি কপালে ভাজ সদৃঢ় করে বলে,

“কেনো?”

রাদিফ সোজা গলায় বলে উঠে,

“কেনো আবার, দেখার তৃষ্ণা মিটেনি তাই।”

মিষ্টি রাদিফের সামনে এসে দাড়িয়ে বলে,

“মানে?”

“মানে কি? বুঝিসনি?”

“না!”

“তাহলে আবার বেলকনিতে যা। বুঝিয়ে দিচ্ছি!”

মিষ্টি সোজা চলে যায় বেলকনিতে। রাদিফও সাথে সাথে যায়। এরপরে মিষ্টিকে বলে,

“যেভাবে আগে দাঁড়িয়ে ছিলি ঠিক সেভাবেই দাড়া!”

মিষ্টি যেভাবে দাড়িয়ে কাপড় মেলছিলো ঠিক সেভাবেই দাঁড়ায়। রাদিফ মিষ্টিকে পেছনে থেকে কোমর জড়িয়ে ধরে বলে,

“তু্ই যখন এভাবে দাড়িয়ে ছিলি ঠিক তখন ওইখানে দাড়িয়ে একজন পুরুষ তোকে দেখছিলো।”

মিষ্টি সাথে সাথে বলে,

“কে দেখছিলো? আর তুমি তাকে দেখেও কিছু বললে না কেনো? সেই পুরুষটা কে?”

রাদিফ মিষ্টিকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। মিষ্টির ঘাড়ে নিজের থুতনি রেখে এরপরে মিষ্টির কানে ফিসফিস করে বলে উঠে,

“আমি ছাড়া কার এতো কলিজা যে এই ঘরে ঢুকে তোকে দেখবে!”

মিষ্টি হেসে বলে,

“তাহলে তুমি দেখছিলে!”

রাদিফ মাথা হালকা নাড়িয়ে বলে উঠে,

“তাহলে মিষ্টি রানী এতোক্ষনে বুঝেছে!”

মিষ্টি রাদিফের হাতের উপরে হাত রেখে বলে,

“হুম, বুঝেছি! এখন চলো খাবে! সকালে থেকে কিছু খাওনি তো!”

রাদিফ মিষ্টিকে ছেড়ে দিয়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে,

“এখন খাবো না! সময় নেই। এসে খাবো!”

মিষ্টিও রাদিফের পেছন পেছন রুমে ঢুকে বলে,

“এখন আবার কোথায় যাবে?”

“কাজ আছে!”

“সকালে বললে কাজ আছে। সেখানে থেকে ফিরলেই এখন। আবার এখন বলছো কাজ আছে!”

“হুম, কাজ আছে। খুব বড় কাজ।”

“কি কাজ আমাকে বলা যেতো না!”

রাদিফ মুখে হাসি এনে বলে,

“মহারানী একটু অপেক্ষা করেন। একাই জানতে পারবেন।”

মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে বলে,

“ঠিক আছে!”

রাদিফ রেডি হচ্ছে। মিষ্টি বিছানায় বসে বসে রাদিফকে দেখছে। রাদিফ আয়নার সামনে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলে,

“কি দেখছিস অমন করে? মনে হচ্ছে এই জন্মে দেখিসনি!”

মিষ্টি হেসে হেসে বলে,

“হুম দেখিইনি তো। আচ্ছা তোমার এই বডি কি করে বানালে বলবে?”

রাদিফ পেছনে ফিরে মিষ্টির দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো। এরপরে বলে উঠে,

“ছিহ তোর নজর এতো খারাপ! শেষ পর্যন্ত আমার এই শরীরের দিকে নজর দিলি!”

মিষ্টি চোখছোট ছোট করে তাকিয়ে বলে উঠে,

“নজর দেইনি শুধু তাকিয়েছি! পছন্দ হয়েছে তাই বলেছি!”

রাদিফ অন্যদিকে ঘুরে মুচকি হেসে মনে মনে বলে,,, যাক মহারানী বলতে শিখেছে।

মিষ্টি মিনিট দুই কি যেনো ভেবে রাদিফকে বলে উঠে,

“আচ্ছা, তুমি তো কালকে রেগে ছিলে আজ রেগে যাচ্ছো না কেনো?”

রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,

“কেনো মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলছি ভালো লাগছে না বুঝি? আবার রাতের মতো রেগে যেতে বলছিস?”

মিষ্টি দোপাটি দাঁত বের করে হেসে বলে,

“না না, আমি তা বলিনি। রেগে যেও না। যেমন আছো তেমনই থাকো। তুমি রেগে গেলে আমার ভালো লাগে না।”

রাদিফের ফোনে কল আসে। সাইমন কল দিয়েছে। রাদিফ রিসিভ করে বলে,

“কিরে কেমন আছিস?”

“ভালো। তু্ই?”

“ভালো। কি করছিস?”

“অফিস আজ অফ ছিলো বলে সিফাতের সাথে শপে এসেছিলাম। সেখানে থেকে বাড়ি যাচ্ছি!”

“ওহ।”

“তু্ই কি করছিস?”

“কিছুনা। একটু বাহিরে যাবো তাই রেডি হচ্ছি!”

“ওহ।”

সিফাত সাইমনের থেকে ফোনটা নিয়ে রাদিফকে বলে,

“কিরে ভাই বিয়ের পরে তো একবার ফোনও দিলি না। ভাবির সাথে একটু কথা বলিয়ে পরিচয়ও করিয়ে দিলি না। এখনই যেই অবস্থা, মনে হচ্ছে বউয়ের পাল্লায় পড়ে আমাদের ভুলেই যাবি।”

রাদিফ হেয়ালি করে বলে,

“আরে ভাই ওসব কিছু না। আসলে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো বলে কল দেইনি। আর ফোনেও চার্জ ছিলো না।”

সিফাত বলে,

“শোন ওগুলো আমরা বুঝি। বল যে বউ পেয়ে সময় নষ্ট করতে চাইনি।”

রাদিফ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলে,

“চুপ করতো।”

“ওহ উচিত কথা বললাম আর বলছিস চুপ করতে। তু্ই শুধু আয় এখানে!”

সাইমন ফোনটা নিয়ে বলে,

“ভাই জানিস, ওরা তোর বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার ছবি স্টোরি দিয়েছে। আর ক্যাপশন দিয়েছে কি! তু্ই দেখেছিস! আর আমরা এখানে বসে সেগুলো শুধু দেখেই যাচ্ছি।”

রাদিফ বলে,

“তোরা এইটা নিয়ে পড়ে আছিস? চিন্তা করিস না ভাই তোরা, আমি ফিরে এসে তোদের ভরপুর খাওয়াবো।”

পাশে থেকে সিফাত বলে,

“শেষমেষ বাসি দাওয়াত খাওয়াবি?”

রাদিফ বলে,

“তাহলে কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেই!”

সিফাত বলে,

“তাওতো কালকের বাসি খাবারই দিবি!”

রাদিফ ফোন কেটে দেয়। ওদের সাথে মজা করার কোনো ইচ্ছেই নেই।

মিষ্টি রাদিফের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। রেগে যাবে যাবে ভাব। রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,

“আমি বাহিরে যাচ্ছি। ফিরতে লেট্ হবে। তোর কিছু লাগবে?”

“না!”

“ঠিক আছে!”

রাদিফ রুম থেকে বের হয়ে যায়। মিষ্টিও ওর পেছন পেছনেই বেরিয়ে যায়। রাদিফ নিচে এসে বাড়ির মেইন দরজা পেরিয়ে চলে যায়। মিষ্টি সোফায় বসে। সেখানে রুমানা চৌধুরী বসে ছিলেন।

রুমানা চৌধুরী মিষ্টির দিকে তাকিয়ে থমথমে গলায় বলেন,

“কিরে ও কি রাগ করে চলে গিয়েছে নাকি?”

“না ছোট আম্মু রাগ করে চলে যায়নি। আর কালকের পরে আর রাগ করেনি।”

রুমানা চৌধুরী খানিকটা স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে বলেন,

“যাক ভালোই হয়েছে। ছেলেটার আগে তো এমন রাগ দেখিনি। হ্যা রাগ ছিলো কিন্তু এতো রাগ ছিলো না তো। এখন এই রাগ কমে আসলেই ভালো।”

দুজনের কথার মাঝে উপরে থেকে সায়মা চৌধুরী নিচে নামলেন রুমানা চৌধুরীকে ডাকতে ডাকতে। তিনি এসে রুমানা চৌধুরীর সামনে দাঁড়ালেন। রুমানা চৌধুরী বলেন,

“কি হয়েছে এমন ডাকছিস কেনো?”

সায়মা চৌধুরী কিছুটা খুশি নিয়ে বলেন,

“ডাকছি কি আর শুধু শুধু। রাজের দাদি ফোন করেছিলো। তিনি কালকে এখানে আসছেন।”

রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী মা আনোয়ারা বেগম। বাবা নেই। সবাই একসাথে শহরে থাকলেও তিনি এখানে থাকেন না। তিনি গ্রামেই নাকি ভালো থাকেন এখানে নাকি তার ভালো লাগে না। তাই নিজ গ্রামেই থাকেন। একা একাই থাকতে চান। কিন্তু ছেলেরা তাকে একা থাকতে দেন না। রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী নিজেদের মায়ের সাথে সাথে থাকার জন্য দুজন কাজের মহিলা রেখে দিয়েছেন। কাজের লোকগুলো আবার তাদের চেনাজানা। আনোয়ারা বেগম তিনি একটু কড়া। তবুও কিছু মানুষ বলতে নাতিদের সাথে খুবই মিশুক। বিশেষ করে রাদিফকে বেশি পছন্দ করেন। রাদিফও।

সায়মা চৌধুরীর কথা শুনে রুমানা চৌধুরীও খুশি হয়ে বলেন,

“কি বলছিস, সত্যি আসবে?”

“হুম। মাত্র ফোন করেছিলো। বলেছি রাদিফ এসেছে। এই শুনে প্রথমে বললেন তিনি এসে তার প্ৰিয় নাতিকে দেখবেন। এরপরে রাদিফ আর মিষ্টির বিয়ের কথা শুনতেই উনি বললেন যে কালকেই আসবেন তিনি। খুব খুশি হয়েছেন।”

রুমানা চৌধুরী হেসে বলেন,

“যাক, যদি এতে একটু আমাদের সাথে থাকে।”

সায়মা চৌধুরী মিষ্টির পাশে বসে বলেন,

“মা আসছে নিজে থেকে তোকে আর রাদিফকে দেখতে। এইবারই সুযোগ আছে উনাকে এখানে রাখার। তু্ই আর রাদিফ কিছু একটা করে এইবার আর মাকে যেতে দিবি না।”

মিষ্টি ভাবুক গলায় বলে,

“কিন্তু মা দাদু কি আমাদের কথায় থাকবে?”

সায়মা চৌধুরী বলেন,

“থাকবে, থাকবে। রাদিফকে বলিস। ও ঠিকই কিছু একটা বুদ্ধি বের করে নিজের দাদুকে যেতে দিবে না। আমাদের কথা তো শুনবেন না। রাদিফের কথা ঠিকই শুনবে।”

“ ঠিক আছে। রাদিফ আসলে ওকে বলবো।”

___________________

জাপানে,,,

আজ রাহাকে নিয়ে রাজ আর সাইমন যাবে হসপিটালে। রাহার চেকাপের জন্য। সাইমন নিজে ড্রাইভ করছে। তার পাশে বসে আছে রাজ। রাহা ব্যাক সিটে। রাজ সাইমনকে বলে,

“ভাইয়া, রাদিফ তো মিষ্টিকে বিয়ে করার জন্য দেশে চলে গিয়েছে। আমাদের তো সাথেও নিতে পারতো তাহলে আমাদের নিলো না কেনো বলতে পারেন?”

সাইমন স্টিয়ারিং ধরে ভাবুক গলায় বলে,

“রাজ তুমি যা বলেছো সত্যি কথাই বলেছো। তবে আমি বলতে পারলাম না ও তোমাদের সাথে নিলো না কেনো! আর রাদিফ তো বিয়ে করেই নিয়েছে। এবার তো আর কোনো ঝামেলাও নেই। তাহলে তোমাদের এখন যেতে বলছে না কেনো?”

রাজ গভীর গলায় বলে,

“রাদিফ কি করতে চাইছে তা আমরা ধরতে পারছি না। তবে ও কিছু একটা করবেই। যার জন্য ও আমাকে বা রাহাকে ঠিক দেশে যেতে বলছে না।”

সাইমন মাথা নাড়িয়ে বলেন,

“হুম, তুমি একদম ঠিক বলেছো! কিছু তো একটা আছেই।”

রাহা পট করে বলে উঠে,

“তাহলে আমরা দুজনে ভাইয়াকে না বলেই চলে যাই!”

রাহার কথা শুনে রাজ আর সাইমন পেছনে ফিরে তাকালো। সাইমন বলে,

“রাহা ভুল কিছু বলেনি!”

রাজ সাইমনের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ভাইয়া রাদিফকে না জানিয়ে আমাদের টিকিট কেটে দেন। আমরা চলে যাই।”

________________

রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী দুজনে অফিসে যাচ্ছে। রাদিফ ১১ টায় যেতে বলেছে। রাশেদ চৌধুরী রুবেল চৌধুরীকে নিয়ে সাড়ে দশটায়ই বের হয়ে যায়।

আর দশ মিনিটের মতো রাস্তা আছে। তাহলেই অফিসে পৌঁছে যাবে। এর মাঝে রাশেদ চৌধুরীর ফোনে কল আসে। ম্যানেজার কল দিয়েছে। তিনি কল রিসিভ করে বলেন,

“হ্যা, ম্যানেজার বলো!”

“স্যার, আমাদের কোম্পানি নিলামে উঠছে না। একজন ছেলে এসেছে। আমার মনে হচ্ছে এই ছেলে সব ষড়যন্ত্র করে সব করেছে।”

“মানে কি? কি বলছো?”

“জি স্যার, আমি ঠিকই বলছি। আপনি চলে আসুন। সে বলছে আপনার সাথে মিটিং করতে চায়। মিটিং রুমে বসে আছে।”

“কে এসেছে!”

“আপনি আগে আসুন। এরপরে নিজ চোখে দেখুন।”

রাশেদ চৌধুরী ফোন কেটে দিয়ে রুবেল চৌধুরীকে সবটা বললেন। বলতে বলতে গাড়িও অফিসের সামনে এসে থামে। রাশেদ চৌধুরী ও রুবেল চৌধুরী গাড়িতে থেকে নেমে চলে যায় লিফটের দিকে। লিফটে থেকে থার্ড ফ্লোরে এসে সোজা মিটিং রুমের দিকে যায় দুজনে। রাশেদ চৌধুরী আগে ঢুকলেন মিটিং রুমে।রুবেল চৌধুরী পরে ঢুকলেন। রাশেদ চৌধুরী ঢুকতেই তার চোখ চড়কগাছ। দেখতে পান রাদিফ আয়েসি ভঙ্গিতে বসে আছে। মুখে প্রশস্ত বাকা হাসি।

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যার পরে আসবে। এর আগে আসবে না। পরের পর্ব স্পেশাল হবে। আর গল্পের মেইন নায়ক-নায়িকা কিন্তু রাদিফ আর মিষ্টিই।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here