ফুলসজ্জার খাটে ভয়ে গুটিশুটি হয়ে বসে আছে জুঁই।কারোর আসার শব্দ শুনে জুঁই আরো ও ভয় পেয়ে গেল।ভয়ে জুঁই বিরবির করে বলতে শুরু করলো ,,,,,
— পাগল বেডায় মনে হয় আইয়া পড়ছে।আমার ভীষণ ডর লাগতাছে।পাগল বেডায় যদি আমারে ধরি কামড়াই দেয়।
ঠাস করে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে পনেরো বছরের জুঁই কেঁপে উঠলো।
— আইসা ই পাগলডায় শুরু কইরা দিছে।আমি খাডের তলায় লুকাইলে কেমন অয়। না অয় পাগলডা আমারে কামড়াইবো। (জুঁই বিরবির করে বললো)
— এই মেয়ে কাঁপা-কাঁপি করছো কেন?
— এ মা পাগলডা দেহি ভালা কইরা কথা কয়।তাইলে আম্মা যে কইলো পাগল নাকি সবসময় পাগলামি করে আর কামড়াকামড়ি করে। (জুঁই)
— এই মেয়ে নিজে নিজে বিরবির করে কি বলছো?
জুঁই ধীরে ধীরে ঘোমটা ওপরে তুলে সামনে থাকা ব্যক্তিটির দিকে তাকালো। ব্যক্তিটিকে দেখে জুঁইয়ের চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
জুঁইয়ের মুখ থেকে আপনাআপনি বের হয়ে গেল ,,,,,,,
— আন্নে কেডা আর পাগল বেডায় কই?
— হোয়াট? (চেঁচিয়ে বললো)
জুঁই ভয় পেয়ে গেল।তারপর ও জুঁই আবার সাহস করে বললো ,,,,
— আন্নে এমনে চিল্লান কেন আমার ডর লাগতাছে।
— বুঝলাম না মা কোন দুঃখে এমন একটা আনকালচারড মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিল।তা ও বাচ্চা একটা মেয়ে।গ্রাম থেকে দেখে দেখে একটা পেত্নী নিয়ে এসেছে আমার জন্য। এই মেয়ে খাট থেকে ওঠো এটা আমার খাট।
— তাইলে আন্নে আমার সোয়ামি। আম্মা যে কইলো আমার সোয়ামি নাকি পাগল। (জুঁই)
— যে মেয়ে তুমি তোমার সাথে থাকলে আমি এমনি পাগল হয়ে যাব।
— আন্নে দেখতে কতো সুন্দর। এক্কেরে ফুলবাবুর মতো লাগে। আর আন্নের ভাষা এমন কেন?
— নিজের ভাষার দিকে খেয়াল করো।একদম গাইয়া।গাইয়ার থেকে ও আরো খারাপ।
চিল্লাচিল্লির শব্দে তাহিরা দৌঁড়ে নিজের রুম থেকে বের হয়ে ছেলের রুমের দরজা ধাক্কাতে লাগলো।
— ধ্রুব দরজা খুল বাবা মেয়েটার সাথে চিল্লাচিল্লি করিস না।বাচ্চা মেয়েটা ভয় পেয়ে যাবে। (তাহিরা)
ধ্রুব দরজা খুলে দিয়ে মা তাহিরাকে রেগে বলতে শুরু করলো ,,,,,
— এমন আনকালচারড মেয়ে তুমি আমার বউ করে নিয়ে আসলে। এই মেয়েকে এক্ষুনি আমার সামনে থেকে নিয়ে যাও।একে আমার সহ্য হচ্ছে না।যদি আমার কথা না শুনো তাহলে খুব খারাপ হবে বলে দিচ্ছি।
— রাগিস না বাবা নিয়ে যাচ্ছি। জুঁই মা মায়ের কাছে আয়। (তাহিরা)
জুঁই ভয়ে ভয়ে তাহিরার কাছে আসলো। তাহিরা জুঁইকে নিয়ে নিজের রুমে চলে আসলো।
_____
— মা ভয় পেয়ো না সব ঠিক হয়ে যাবে। (তাহিরা জুঁইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো)
জুঁই ভয়ে ভয়ে বললো ,,,,,
— ফুলবাবু এমন রাগী কেন আম্মা?
— ফুলবাবু কে জুঁই মা?(তাহিরা)
— ওনারে দেখতে একদম ফুলের মতো লাগে। তাই আমি ভালোবাসি একখান নাম দিলাম ফুলবাবু। (জুঁই মন খারাপ করে বললো)
— ধ্রুবকে তোমার ভালো লেগেছে? (তাহির)
— অনেক ভালা লাগছে আম্মা। তবে আমার অনেক ডর লাগে ফুলবাবুরে।(জুঁই)
জুঁইয়ের কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো তাহিরা।তাহিরা জুঁইকে নিজের পাশে শুইয়ে দিলো।জুঁই ও ভালো মেয়ের মতো চোখ বন্ধ করে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি দিল।
— ওনি চলে যাওয়ার পর থেকে ছেলেটা একরোখা আর জিদি হয়ে গেছে।জুঁই মাকে আমার বাড়ির বউ করে এনে আমি কোনো ভুল করলাম না তো।মেয়েটার মিষ্টি মুখখানা দেখেই আমার মনে ধরে গেছে মেয়েটিকে।সরল-সহজ একটা মেয়ে।না আছে কোনোকিছুর ওপর লোভ-লালসা।(তাহিরা)
পাশের রুম থেকে ভাঙচুরের শব্দ কানে আসতেই তাহিরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
_____
লতা বানু কাপড়ের আঁচল মুখে চেপে নিঃশব্দে কান্না করে যাচ্ছে।
— মা ও মা আর কাইনদো না। জুঁই আপার তো মেলা বড় ঘরে বিয়া অইছে।খুশি না অইয়া কানতাছো ক্যা?
— ঝুমারে আর মাইয়াডা এহন ও ছোড। ও কি সংসারের কিছু বুঝে।ওই মেম্বারের লুইচ্চা পোলার লাইগা আর ছোড মাইয়াডারে বিয়া দিতা অইছে।মেম্বারের পোলারে কুঁচি কুঁচি কইরা যদি নুন-মরিচ দিতা হারতাম আর শরীলে শান্তি অইতো। (লতা বানু)
তখনই বাহির থেকে ভাঙচুরের শব্দ আসলো লতা বানু আর ঝুমার কানে।
— মা মনে অয় মেম্বারের পোলা খায়ের আইয়া পড়ছে।অহন কিতা অইবো মা? (ঝুমা ভয় পেয়ে বললো)
— তুই থাক ঘরে আই দেহি হেতে কিতা করে বাইরে।(লতা বানু রেগে বললো)
বাহিরে যাওয়ার আগে লতা বানু বড় বটি দা সাথে করে নিয়া বাহিরে আসলো।
— কিলা লতা তোরে না কইছি তোর সুন্দরী মাইয়ারে আই বিয়া করুম আর তুই বড়লোক হোলা হাই আর লোভ সামলাইতে হারলি না।আইজ্জা তোর ঘরদোর সব ভাইঙ্গা দিয়াম।
বলে খায়ের মোটা বাঁশ একটা হাতে নিয়া ঘরের সামনে আসা মাএই লতা বানু খায়েরের সামনে বটি দা ধরে বলে ,,,,,,,
— আর এককান পা সামনে আইলে তোরে বটি দা দিয়া কাইট্টা হালামু খায়ের।
খায়ের বটি দা দেখি ভয় পেয়ে গেল। ভয় পেয়ে খায়ের পাচঁ-ছয় হাত দূরে চলে গেল।
— তোর এত বড় সাহস লা লতা আরে বটি দা তুলুছ।ওন না হয় তুই বাঁইচা গেলি।হরে কে বাঁচাইবো তোরে। (খায়ের)
বলে খায়ের সেখান থেকে দ্রুত প্রস্থান করলো।
খায়ের যেতেই ঝুমা দৌঁড়ে মায়ের কাছে আসলো।
— মা মা আর না খুব ডর লাগতাছে। খায়ের যদি আমাগো কিছু কইরা দেয়।(ঝুমা ভীতু কন্ঠে বললো)
— কিছু অইবো না মা।মায় তো আছি তোর লগে।মার নিয়াশ থাহন হর্যন্ত তোরে কেউ কিছু কইত্তো হাইরতো না।(লতা বানু)
— চল মা ঘরে আয়।(ঝুমা)
— আয় চল।(লতা বানু)
লতা বানু ঝুমারে খাওয়াই শুয়াই দিছে। বড় বটি দা রাখছে সাথে। যখন তখন খায়ের আক্রমণ করবে এই ভয়ে।
_____
রাত বারোটায় গোল হয়ে ছাঁদে বসে আড্ডা দিচ্ছে চারটি মেয়ে।
— এই ফিহা তোর ভাই ধ্রুবর কি অবস্থা?
— আর অবস্থা। সারাক্ষণ রাগী মুড নিয়া ঘুরে বেড়ায়। আমি তো ভয়ে ও ভাইয়ার সামনে যাই না।(ফিহা)
— সত্যি তোর ভাইয়া আগে এমন ছিল না।আগে অনেক হাসি-খুশি ছিল। তোর বাবার মৃত্যুর পর থেকে তোর ভাই কেমন যেন হয়ে গেছে।
— ঠিক বলেছিস নিহা। ভাইয়ার জন্য অনেক কষ্ট হয় আমার।আমার ভাইয়া যদি আগের মতো হয়ে যেত।কতো ঘুরতাম ভাইয়াকে নিয়ে।কতো জ্বালাতাম এটা ওটা নিয়ে।আর এখন ভয়ে সামনেই যাই না।যদি তুলে আছাড় মারে এই ভয়ে। (ফিহা মন খারাপ করে বললো)
— এমন কেউ যদি ধ্রুব ভাইয়ার লাইফে আসতো।যে ভাইয়াকে আগের মতো করে দিত।কতো ভালো হত তাই না। (পিকু)
— তাই যেন হয় পিকু। (ফিহা)
— আর কতক্ষণ ছাঁদে বসে থাকবি অনেক রাত হয়ে গেছে চল ঘুমাতে যাব। (নুশা)
— গল্প করতে করতে সময় কোন ফাঁকে চলে গেল সেদিকে খেয়াল ই নেই।চল সবাই ঘুমাব। (ফিহা)
সবাই নিচে চলে গেল ঘুমাতে।
(পরিচয় পর্ব আগামী পর্বে দেওয়া হবে)
®ফিহা আহমেদ
_____
#২.
সকালে নুপুরের শব্দে ধ্রুবর ঘুম ভেঙ্গে গেল। ধ্রুব বিরক্তি নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে বসলো।
— এতো সকালে নুপুরের শব্দ আসছে কোথা থেকে? (ধ্রুব)
বলে ধ্রুব বেলকনিতে এসে দাঁড়ালো। নিচে তাকিয়ে দেখে জুঁই দড়িলাফ খেলছে।লাফানোর সাথে পায়ের নুপুরগুলো শব্দ হচ্ছে।
ধ্রুব কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে রুমে এসে আবার শুয়ে পড়লো।ধ্রুব শুতেই তাহিরা এসে ধ্রুবকে ধরে আবার উঠিয়ে দিল।
— কি হয়েছে মা? (ধ্রুব)
— তোর কলেজর টিচার ফোন করে বললো জরুরি মিটিং আছে।তোকে তাড়াতাড়ি যেতে বললো। (তাহিরা)
— ওহ্ শিট। আমি তো ভূলেই গেছিলাম। (ধ্রুব)
বলে ধ্রুব তাওয়াল গলায় পেঁচিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
(মিসেস তাহিরা দেওয়ানের ছেলে ধ্রুব দেওয়ান আর মেয়ে ফিহা দেওয়ান।দু’বছর হলো তাহিরার স্বামী সিরাজ দেওয়ান মারা গেছে। বাবাকে অনেক ভালোবাসে ধ্রুব হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে ধ্রুব অন্যরকম হয়ে যায়। আগে সবার সাথে দুষ্টুমিতে মেতে থাকতো।বাবা চলে যাওয়ার পর ধ্রুব একরোখা আর জিদি হয়ে গেছে। সিরাজ দেওয়ান কলেজের একজন প্রফেসর ছিলেন।তার মৃত্যুর পর এখন ধ্রুব সেই কলেজের প্রফেসর। আজ জরুরি মিটিং ছিল কলেজে তার জন্যই ধ্রুব রেডি হতে চলে গেল।)
ধ্রুব না খেয়েই কলেজ চলে গেল।তাহিরা খেয়ে যেত বললো ধ্রুব বললো পরে খেয়ে নিবে এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
— আম্মা আম্মা। (জুঁই)
— কি হয়েছে জুঁই মা? (তাহিরা)
— ফুলবাবুরে দেখলাম দৌঁড়াইতে দৌঁড়াইতে যাইতাছে। কিতা অইছে আম্মা? (জুঁই চিন্তিত হয়ে বললো)
— ধ্রুব কলেজের শিক্ষক জুঁই মা। আজ দেরি হয়ে গেছে তাই দৌঁড়ে দৌঁড়ে গেছে। (তাহিরা হেসে বললো)
তাহিরা জুঁইকে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজে ও জুঁইয়ের পাশে বসলো। জুঁইকে নিজের দিকে ফিরিয়ে জুঁইয়ের গালে হাত রেখে বলে ,,,,,
— জুঁই মা তুমি পড়াশোনা করতে চাও?
— চাই। (জুঁই মাথা নাড়িয়ে বললো)
— ধ্রুব আসলে ধ্রুবকে বলবো তোমায় ভর্তি করিয়ে দিতে। (তাহিরা)
— ফুলবাবু যদি রাগে? (জুঁই চিন্তিত হয়ে বললো)
জুঁইকে চিন্তিত হতে দেখে তাহিরা হাসলো।
— আমি আছি না কিছু হবে না। (তাহিরা)
— আম্মার কথা মনে পড়তাছে। (জুঁই মন খারাপ করে বললো)
জুঁইয়ের মন খারাপ দেখে তাহিরা জুঁইয়ের মায়ের কাছে ফোন দিল।
_____
‘আমারো পরানো যাহা চায়
তুমি তাই, তুমি তাই গো।’
‘আমারো পরানো যাহা চায়
তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো।’
‘আমারো পরানো যাহা চায়,
তুমি তাই, তুমি তাই গো
আমারো পরানো যাহা চায়।’
বাটন মোবাইলে একনাগাড়ে রবীন্দ্রসংগীতটি বেজে চলেছে।
— ঝুমা ঝুমা ফোন আইতাছে। (লতা বানু রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে কথাখানি কইলো)
— মা খাঁড়াও আইতাছি।(ঝুমা)
কয়েক মিনিট পর ঝুমা মোবাইল নিয়া লতা বানুর কাছে আসলো।
— মা ওইখান থাইক্কা ফোন দিয়াছে। (ঝুমা)
— দে মা। (লতা বানু)
বলে ঝুমার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে কানে ধরলো।ওইপাশ থেকে ,,,,
— আম্মা ও আম্মা!
— জুঁই আর জুঁই আম্মা। আম্মা ভালা আছত? (লতা বানু কান্নারত কন্ঠে বললো)
— মেলা ভালা আছি আম্মা। আন্নে ভালা আছেন আম্মা? (জুঁই কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বললো)
— আম্মায় ও মেলা ভালা আছি জুঁই। (লতা বানু মুখ চেপে কান্না আটকিয়ে বললো)
— আম্মা আন্নেরে অনেক মনে পড়তাছে।তই ফুলবাবুর আম্মা কইলো আন্নের লগে কথা কইতে। তাইলে মন ভালা অই যাইবো। (জুঁই)
— ফুলবাবু কে গো জুঁই আম্মা? (লতা বানু)
জুঁই লাজুক কন্ঠে বললো ,,,,,
— আমার সোয়ামী আম্মা।
— আইচ্ছা আইচ্ছা বুঝলাম আম্মা।সোহাগ কইরা কন বুঝি আম্মা। (লতা বানু হেসে বললো)
জুঁই লজ্জা পেয়ে ফোন কেটে দিল। এইদিকে লতা বানু কান্না অবস্থায় হেসে দিলেন মেয়ের কান্ড দেখে।
— বুঝলি ঝুমা আর মাইয়াডা বড় সুখেই আছে। (লতা বানু)
বলে লতা বানু কান্না করে দিল।ঝুমা মায়ের কাছে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে ,,,,,,
— কাইন্দো না মা। আপা তো ভালা আছে।
_____
জুঁইকে লজ্জা পেতে দেখে তাহিরা হেসে দিলো।
— মেয়েটা অনেক সরল।ধ্রুবর সাথে কথা বলতে হবে।এভাবে চলতে থাকলে আরো সমস্যা বেড়ে যাবে।কতদিন লতার থেকে এসব গোপন রাখব।লতা জানার আগেই তাদের দু’জনের মিল করাতে হবে আমার।ফিহা আসুক তুলির বাড়ি থেকে তারপর দু’জন মিলে কিছু একটা করব। (তাহিরা মনে মনে বললো)
— জুঁই মা চলো খাবার খাবে।অনেক সময় হয়েছে না খেয়ে আছো। (তাহিরা)
তাহিরা জুঁইকে খাবার টেবিলে নিয়ে আসলো।জুঁই এত বড় খাবারের টেবিল দেখে হা করে তাকিয়ে আছে।
— আম্মা ইহা বড় মেজ(টেবিল)! (জুঁই)
— হুম। ভালো লেগেছে। (তাহিরা হেসে বললো)
— অনেক ভালা লাগছে আম্মা। (জুঁই মাথা নাড়িয়ে বললো)
জুঁই চেয়ারে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে অবাক হয়ে বলে ,,,,,
— কি সুন্দর কেদারা(চেয়ার) আম্মা! আমাগো গ্রামে এইসব নাই। আমরা মাটিতে পাটি বিছাই বইসা খাই।
তাহিরা হাসলো জুঁইয়ের কথায়।তাহিরা জুঁইয়ের হাত ধরে বসিয়ে দিল চেয়ারে।খাবারের প্লেট সামনে দিল।খাবারের প্লেটের দিকে তাকাতেই জুঁই অনেক খুশি হলো।
— আলু পরোটা। (জুঁই)
— হুম। খেয়ে বলো কেমন হয়েছে? (তাহিরা হেসে বললো)
জুঁই গপাগপ খেতে শুরু করলো। দু’মিনিটে একটা পরোটা শেষ করে ফেললো।তাহিরা জুঁইয়ের খাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
— অননননননেক ভালা অইছে আম্মা। (জুঁই)
খাওয়া শেষ করে তাহিরা জুঁইকে লাল রঙের একখান কাপড় পড়িয়ে দিল। জুঁইয়ের ফর্সা শরীরে লাল রঙটা দারুন মানিয়েছে।তাহিরা চোখের নিচ থেকে কাজল নিয়ে জুঁইয়ের কানের নিচে লাগিয়ে বললো ,,,,,
— কারোর যেন নজর না লাগে আমার জুঁই মায়ের ওপর।
জুঁই খিলখিলিয়ে হাসলো তাহিরার কথায়।
_____
— মা বার বার ফোন করছো কেন আমি ক্লাস করাচ্ছি। (ধ্রুব)
— প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে আয়।(তাহিরা)
— কেন মা? (ধ্রুব)
— দরকার আছে তাড়াতাড়ি চলে আয়।(তাহিরা)
— কিন্তু মা ,,,,,, (ধ্রুব)
— আমি আসতে বলেছি আসবি।(তাহিরা)
ধ্রুবকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাহিরা ফোন কেটে দিল।
#আমার_ফুলবাবু
#পর্বসংখ্যা:-০১+০২
#ফিহা_আহমেদ(লেখনীতে)
#চলবে….
(বানানে ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।)
[❌কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌]/[গল্পের কোনো অংশ ই কপি করা যাবে না]