#প্রিয়_অর্ধাঙ্গীনি
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী
#পর্ব_৩৭
,
“ম্যাডাম এখান থেকে বাকি পথটুকু আপনাকে হেঁটেই যেতে হবে।
হেলিকপ্টার থেকে নেমে এসি গাড়িতে বেশ আরামেই এসেছিলো মালবিকা। হঠাৎ গাড়ি থেকে নামার পর এমন কথা শুনে বেশ বিরক্ত হলো। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে বাজার মতো কিছু একটা। দুপাশে সবজি থেকে শুরু করে মাছ, কাপড় সবকিছুর দোকান আছে। দুপাশে দোকান মাঝখান দিয়ে ছোট রাস্তা। তবে সেখানেও মানুষের ভিড়। বিকেল পরে গেছে এই জন্য সবাই বাড়ির জন্য আনাজ কিনতে ব্যাস্ত। মালবিকা কে দেখে সবাই কেমন আড় চোখে তাকাচ্ছে। কেননা ওখানে থাকা প্রায় সব মহিলাই বোরকা পড়া। আবার কেউ কেউ শুধু হেজাব করা। আর সেখানে মালবিকা পাতলা একটা শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে সবার তাকানো দেখে মালবিকার তেমন কিছুই যায় আসলো নাহ। বরং এতো মানুষের ভিড়ে সবার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে এটা ভাবতেই বিরক্ত আর রাগ দুটোই লাগছে।
” ভালো করে দেখো আর কোনো রাস্তা আছে কিনা। আমি এই পথ দিয়ে কখনোই যাবো নাহ। নোংরা পরিবেশ।
লোকটা বেশ নম্রভাবে মাথা নিচু করে বলল।
“ম্যাম আমি সব খোঁজ নিয়েই বলছি। এখান থেকে সামনে গেলে একটা মাজার পড়বে। ওটার পিছনেই আর কিছুদূর গেলেই আমাদের গন্তব্য। আর সেখানে যাওয়ার জন্য আমাদের এই রাস্তা দিয়েই যেতে হবে ম্যাডাম অন্য রাস্তা সেভ নাহ।
মালবিকার যেনো বিরক্তের সীমা রইল নাহ। ডান হাতে শাড়ির কুঁচি ধরে ধুপধাপ পা ফেলে সামনে যেতে লাগলো। পাশ থেকে একজন রাস্তাতে পানি ফেলতেই। পানিটা গড়িয়ে মালবিকার পায়ের নিচে দিয়ে গেলো। রাগী চোখে সেদিকে তাকাতেই বৃদ্ধা লোকটি অনুতপ্ত হয়ে মাথা নিচু করে বলল।
“মাফ করবেন আমি দেখতে পায়নি।
” হ্যাঁ হ্যাঁ হয়েছে এরপর থেকে দেখেশুনে কাজ করবে নয়ত বিপদে পড়ে যাবে। আপনি চলুন ম্যাম।
মালবিকা আর কিছু বলল নাহ। খানিকক্ষণ যাওয়ার পর সামনেই পড়লো সেই মাজারটা। মাজারের সামনের পুরোটা জুড়ে হরেক রকমের ছোট্ট ছোট্ট দোকান। এখানে মানুষের আনাগোনা বেশ বেশি। মালবিকা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেলো। মাজার পেড়িয়ে বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরেই সামনে জঙ্গলের মাঝ দিয়ে ছোট রাস্তা। মালবিকা হাঁটা থামিয়ে পাশে তাকাতেই বডিগার্ড কারো কাছে ফোন দিলো। বেশকিছু সময় কথা বলার পর মালবিকার উদ্দেশ্য বলল।
“ম্যাম এখান থেকেই রাস্তা শুরু। আমরা প্রায় চলে এসেছি।
মালবিকা কুঁচি ধরে রাখা হাতটা ছেড়ে দিয়ে বাঁকা হেসে অন্য হাতে থাকা সানগ্লাস টা চোখে পড়ে নিলো। অতঃপর সাথে থাকা বডিগার্ড কে সেখানে দাঁড়াতে বলে ও সামনের দিকে চলে গেলো।
,,,,,,,,,,,,,,,
” আমার মতে দুইটা জায়গায় কখনোই নিজের অধিকার ক্ষমতা ছেড়ে চলে আসা উচিত নয়।
জোসেফ এর কথাশুনে ছবি আঁকতে থাকা রোদ্রের হাতটা থেমে গেলো। ঘাড় বাঁকিয়ে জোফেস এর দিকে তাকিয়ে বলল।
“আমি ঠিক তোর কথাটা বুঝতে পারলাম নাহ।
” না বোঝার কি আছে মেরি দোস্ত। শোন যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিজের শত্রু পক্ষ কে আর ভালোবাসার মানুষ কে কখনোই ছাড়া উচিত নয়।
জোসেফ এর কথাশুনে রোদ্র মুচকি হেসে পুনরায় নিজের কাজে মন দিলো। জোসেফ এবার রোদ্রের কাছে গিয়ে একটা চেয়ার নিয়ে বসে বলল।
“আরে আমি কি কোনো হাসির কথা বললাম যে তুই এভাবে হাসতেছিস। মানলাম যে ভালোবাসায় ত্যাগ করা যায় কিন্তু সেই ত্যাগটা কেনো এক পক্ষ করবে অপরপক্ষ ও তো করতে পারে।
জোসেফ এর কথায় রোদ্র তেমন পাত্তা না দিলেও এবার রোদ্রের হাতটা থেমে গেলো। ঘাড় ঘুরিয়ে জোসেফ এর দিকে তাকিয়ে বলল।
” কি?
ঘা টা জায়গা মত দিতে পেরে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুঁটে উঠল জোসেফ এর। মালবিকার কাছ থেকে পুরো কাহিনি টা শুনে তারপর নিজের প্লানটা সাজিয়েছে। রোদ্রের কথায় পুনরায় বলা শুরু করলো।
“হ্যাঁ আমিতো ঠিকি বলেছি। ভাই আমি কখনো নিজের ভালোবাসা ছাড়বো নাহ।
” যাকে ভালোবাসবি সে যদি তোকে না ভালোবেসে অন্য কাউকে ভালোবাসে তখন কি করবি?
রোদ্রের কথা শুনে জোসেফ সঙ্গে সঙ্গে কিছু বলল নাহ। মনের মধ্যে পরপর কথাগুলো সাজিয়ে নিয়ে বলা শুরু করলো।
“ওতোকথা জানি নাহ। আমি যে তাকে ভালোবাসি এই কথাটা আগে তাকে জানাবো তারপর দেখবো সে কি বলে। কেননা আমি কিছু না জেনেশুনে নিজে নিজে এতো বুঝতে যাবো কেনো? ভালো বেসেছি কোনো পাপ তো করিনি। এই জন্য আগে নিজের ভালোবাসার কথা তাকে জানাবো এরপর বাকি কথা। আরে আমি যদি তাকে আমার মনের কথা নাই বলি তাহলে সে জানবে কীভাবে?
জোসেফ এর কথাশুনে রোদ্র ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেলো। নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করলো। সত্যিতো আমিতো কখনো শশীকে নিজের মনের কথা জানায়নি তাহলে ও জানবে কীভাবে? রোদ্রকে ভাবতে দেখে জোসেফ বাঁকা হেসে রোদ্রের কাঁধে হাত রেখে বলল।
” তবে তুই কিন্তু আমাকে তোর লাভ স্টোরিটা এখনো বলিসনি। যদি বলতি তাহলে হয়ত বলতে পারতাম আসলে ত্যাগ টা কার করা উচিত ছিলো।
জোসেফ এর কথাশুনে রোদ্র ওর থেকে একটু সরে এসে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস গাঁয়ে লাগতেই আরাম অনুভব করলো। লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে সবটা বলতে শুরু করলো। শশীকে প্রথম দেখা থেকে সমুদ্রের সাথে বিয়ে হয়ে যাওয়া সবটা। সবটা শুনতেই জোসেফ হা হয়ে গেলো। এতো কিছু হয়ে গেছে আর ওরা একটুও টের পায়নি। তবে যেটা ও করতে পারেনি সেটা রোদ্র কে দিয়ে ঠিক করিয়ে নেবে। কথাগুলো ভেবে নিজেই নিজেকে বাহবা দিলো। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রোদ্রের পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল।
“হুম বুঝলাম। তবে সবটা শুনে আমার এটাই মনে হচ্ছে যে তুই আসলেই একটা গাধা। নয়ত এমন বোকামী কেউ করে?
” মানে?
“মানে হলো তুই কখনো তোর মনের কথা তাকে বলেছিস?
” নাহ। কীভাবে বলবো ওতো আমাকে সেই নজরে দেখতোই নাহ।
“আরে দেখবে কীভাবে তুই জানালেই নাহ তোকে ভালোবাসার নজরে দেখবে।
” কিন্তু ওতো ভাইয়াকে ভালোবাসে।
“বাসবেই তো এখানে তার কী দোষ। তুই যদি তখনি বিয়েটা করে নিতি তাহলে তো এতো কিছু হতোই নাহ। বিয়েটা করে বিদেশে আসলে এতো সম্যসাই হতো নাহ। আর তুই বলছিস তোর ভাই ওই মেয়েটাকে পছন্দ করতো নাহ। মেয়েটাও তোর ভাইকে পছন্দ করতো নাহ। মেয়েটা কিন্তু আগে তোকে পছন্দ করেছে। তারপর তুই ওদের দুজনকে একা ছেড়ে এখানে চলে আসলি। আরে দুজন কাছাকাছি পাশাপাশি থাকলে তো তাদের মধ্যে কিছু একটা তৈরি হবেই। তবে এটা দেখতে হবে যে সেটা আদেও ভালোবাসা নাকি মোহ।
” কিসব কথা বলছিস তুই আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে নাহ।
“আচ্ছা ঠিক আছে। একবার তুই নিজেই ভাব তুই যদি শশী মানে মেয়েটার কাছে থাকতি এখানে না এসে আর তোর ভাই যদি না থাকতো। মানে তোর ভাই জবে চলে যেতো তাহলে কি তাদের মাঝে কিছু হতো?
জোসেফ এর কথাশুনে রোদ্র এবার ভাবতে শুরু করলো। সত্যিই যদি ভাইয়ার জায়গায় আমি থাকতাম তাহলে শশীর সাথে কী ভাইয়ার সম্পর্ক হতো? নিশ্চয়ই হতো না কারণ ভাইয়া তো ওকে পছন্দই করে নাহ। কিন্তু পরক্ষণেই আবার ভাবলো না না এসব আমি কী ভাবছি এখন তো দুজন দুজনকে ভালোবাসে বিয়েও হয়ে গেছে এখন এসব ভেবে কী লাভ। কথাগুলো ভেবে রোদ্র বলল।
” কিন্তু এখন আর এসব ভেবে কী লাভ যা হবার তাতো হয়েই গেছে। ওদের বিয়ে হয়ে গেছে আর ওরা সুখেও আছে।
“আদেও সুখে আছে তো?
” মানে?
“মানে হলো ক্ষনিকের দেখায় যেটা হয় সেটা ভালোবাসা নয় মোহ,আবেগ।
“তাহলে তুই আমাকে কি করতে বলছিস এখন?
” আমি শুধু এটাই বলতে চাইছি যে তুই তোর মনের কথা ওকে বলে দে।
“পাগল হলেছিস তুই? ওর বিয়ে হয়ে গেছে। আমার ভাই এর সাথে মানে ও এখন সম্পর্কে আমার ভাবি হয়।
“তো? আমিতো আর তোকে বলছি না যে ওকে তুলে নিয়ে আয়। আমি শুধু এটাই বলছি তোর মনের কথা ওকে জানা। ওর ও তো জানার প্রয়োজন কেউ ওকে কতবেশি ভালোবাসে।
“এটা অসম্ভব।
” ভালোবাসায় সবি সম্ভব বন্ধু অসম্ভব বলে কিছুই হয় নাহ। আচ্ছা তাহলে থাক তুই আমি এখন যাই আবার পরে কথা হবে।
কথাগুলো বলে জোসেফ চলে গেলে। তবে যাওয়ার আগে রোদ্রকে ধাঁধার মধ্যে রেখে গেলো। এখন যা করার ওই করবে।
,,,,,,,,,,
“আচ্ছা আমার মধ্যে কি কমতি ছিলো। তুমি আমাকে বিয়ে না করে ভাইয়া কে বিয়ে করলে কেনো?
#চলবে?

