#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৮]
আরশাদ তার ফ্লুজির জন্য রান্নায় মশগুল।পাশে বসে ফ্লুজি অনিমার সাথে বিশেষ আলাপে মত্ত আছে।তাদের আলাপটা আজ নির্ধারিত কোন বিষয় নিয়ে নয়।হুটহাট এটা ওটা মাথায় আসছে মা মেয়ে সেই কথা নিয়েই গল্প জুড়েছে।কড়াইতে চিংড়ি মাছগুলো ভেজে একটি প্লেটে নিল আরশাদ।চিংড়ি ভাজার ঘ্রাণে খুশবুর নাকে যেন সুড়সুড়ি দিল।একবার আরশাদের দিকে আরেকবার তাকালো চিংড়ি মাছের দিকে।
আরশাদ বুঝলো তার ফ্লুজির চাওয়া।প্লেট বাড়িয়ে দিয়ে সে বলে,
” যতগুলো খেতে পারো খাও কোন নির্দিষ্টতা নেই।”
একগাল হাসে ফ্লুজি।অনিমা তখন বলে বসলেন আরেক সাংঘাতিক কথা,
” এই খুশবু রোহানের বিয়ে গতকাল আবার ভেঙেছে জানিস?ছেলেটার নাকি কাল কাবিন ছিল।”
” এবারের বিয়ে তো ভাঙার কথা না।”
কথাটি বলে আড়চোখে আরশাদের দিকে তাকালো খুশবু।আগের বার রোহানের গার্লফ্রেন্ড বাড়ি অবধি এসে ঝামেলা করার সাহস পাওয়ার মূল মন্ত্র ছিল আরশাদ।
সেই মেয়েটাকে আরশাদ ইন্ধন দিয়েছে বলেই তো মেয়েটা নিজের সাহসিকতা দ্বিগুণ অনুভব করে মাঠে নেমে পড়ে।তাহলে এবার কে ঝামেলা পাকালো?
আরশাদ তার ফ্লুজির চাহনিতে ঠোঁট বাঁকায়।খুশবু তখন অনিমার কথায় মগ্ন।
” এবারের কাবিন মেয়েদের বাড়ি গিয়ে ভাঙা হয়েছে।তবে আগেরবার যে প্রেমিকাটা এসেছিল ও নাকি সে নয় এই মেয়েটা আরেকজন।”
খুশবু ভিষম খেল।কি সাংঘাতিক কথা এই ছেলে কয়টা নিয়ে চলে?
আরশাদের ভিলায় তখন উপস্থিত হয় এলিনা মেয়েটার হাতে এক বাটি চিকেন ফ্রাই।এলিনাকে দেখেই খুশবু একগাল হাসলো,
” ভাবিমনি ফুপ্পি পাঠিয়েছে তোমার জন্য।”
আরশাদ টমেটো কিউব করছিল এলিনার কথা শুনে ফোঁড়ন কেটে বলে,
” কেন আমার জন্য দেয়নি?”
” ফুপ্পি তো তোমার কথা উল্লেখ করেনি।তোমার বউকে দিয়েছে তাতে হ্যাপি থাকো।”
” রেগে আছো কেন কিউটি?”
আরশাদের প্রশ্নে এলিনার রাগ যেন আরো তীব্র হলো।খুশবুর কাঁধে মাথা দিয়ে অভিমানে তাকিয়ে রইলো অন্যদিক।এই স্বাভাবিক ব্যপারটা আরশাদের ভালো লাগলো না।তার ফ্লুজির কাঁধে এই মেয়ের স্থান কেন?আরশাদ হাতের ছুরিটি নিয়ে এগিয়ে এলো এলিনার কাছে এবং কৌশলে মেয়েটিকে ভয় দেখাতে ছুরি বুক বরাবর তাক করতে এলিনা চিৎকার দিয়ে ছিটকে সরে যায়।এলিনার চিৎকারে খুশবুর কানের পর্দা যেন ফেটে গেল।এত জোরে কেউ চিৎকার করে!
“ভাইয়া মে রে ফেলবে তো।”
এলিনা ভয় নিয়ে বললো আরশাদকে।আরশার ছুরিটা দিয়ে ইশারা করে বলে,
” না মা রবো না। আগে বলো রেগে আছো কেন?”
” তোমাদের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবো?ভেনিস যাবে না?আমাকেও তো ফিরতে হবে বোঝার চেষ্টা করো।”
” ভেনিস তো বললেই যাওয়া যায় না।যাব যখন বলেছি অবশ্যই যাব আগে হাতের কাজটা গুছিয়ে আনতে দাও।”
এলিনা যেন অসন্তুষ্ট হলো।পিটপিট চোখ করে তাকিয়ে রইলো আরশাদের পানে।
.
ইতিহাস ঘেরা রোম শহরটাত পর্যটনের অভাব নেই।পুরোনো ইতিহাসকে জানার আগ্রহে দর্শনে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এই শহরে।আরশাদের আজকের যাত্রা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের বস্তু কলোসিয়ামে।
ঘুরতে যাওয়ার নাম উঠতে এই স্থানটি খুশবু নিজেই পছন্দ করে।সে জানে কলোসিয়ামের ইতিহাস।সবচেয়ে বড় ব্যপার পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি বিষয় তার সচক্ষে দেখার সুযোগ এসেছে।এই সুযোগ মিস করা মানে অনেক বড় বোকামি।
আরশাদের যাত্রা শুরু হয়েছে সকাল থেকে।অনেকটা রাস্তা যাওয়ার পর খুশবু দেখতে পেল বিশাল একটা প্রাচীর।মেয়েটার পুথিগত বিদ্যা জানান দিল হ্যাঁ এটাই কলোসিয়াম।খুশবু পুলকিত হলো তার চাহনি আরশাদকে আরো বেশি রোমাঞ্চিত করে।এই মেয়েটাকে নিয়ে দেশ বিদেশ ঘুরলে কেমন হয়?
আরশাদ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো তার ফ্লুজিকে নিয়ে সে দেশ বিদেশ ঘুরবে।
গাড়ি পার্কিং করে কলোসিয়ামের দিকে অগ্রসর হলো আরশাদ।ফ্লুজির হাত জড়িয়ে প্রশ্ন করে,
” গ্লাডিয়েটর মুভিটা দেখেছিলে?”
“হ্যাঁ দেখেছিলাম?”
” তাহলে নিশ্চয়ই কলোসিয়াম সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে?”
” তা তো আছেই।”
আরশাদ এবং ফ্লুজি একসাথে প্রবেশ করলো কলোসিয়ামে।আরশাদের তেমন ভাব আবেগ না দেখা গেলেও ফ্লুজির চোখ জুড়ে আনন্দরা ঠিকরে পড়ছে।আরশাদ মেয়েটার চোখে তাকিয়ে যে তৃপ্তি পাচ্ছে সেই তৃপ্তি জনম ভর ফুরাবে না।
কলোসিয়ামের সিমানায় যত প্রবেশ করছিল ততটাই অবাক করেছে খুশবুকে,
আজ ২০০০ বছর পরেও রোদ বৃষ্টি ঝড় জাহান কাঁপানো ভূমিকম্প আর পাথরচোরদের দৌরাত্ন উপেক্ষা করে কালের ভয়ংকর গ্রাসের নানান সাক্ষী আপন শরীরে নিয়ে আমাদের সামনে তা গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অতীত ও আধুনিক যুগের মিলনকেন্দ্র হয়ে।
অবশেষে কলোসিয়ামের ভিতরে ঢুকার সৌভাগ্য হলো খুশবুর।সেএক গায়ে কাটা দেওয়া অনুভূতি!
সারি সারি গ্যালারী, কুলীন আর সাধারণ জনগণের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা আর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সিজার আর সিনেটরদের জন্য আলাদা আলাদা বিলাসবহুল কক্ষ।
কলোসিয়ামের কেন্দ্রস্থলে প্রায় গোলাকৃতির এক মাঠ থাকার কথা যেমনটা পুথিপত্রে পড়া হয়েছিল বা মুভিতে এবং শিল্পির চিত্রকর্মে দেখানো হয়েছিল তা কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোসিয়ামটির পাটাতন ভেঙ্গে পড়েছে অনেক অনেক আগেই।
আরশাদ খুশবুর সঙ্গে কিছু ছবি তুলল।চারদিকে কাপল ওয়েস্টার্ন পড়া বিদেশীদের ভিড়ে কয়েকজন বাঙালিও দেখা গেল।এই বিদেশের বুকে বাঙালিদের মায়াবী মুখখানী দেখলে খুশবু শান্তি পায় স্বস্তি পায়।তার পাশে দাঁড়ানো আমৃত্যুর সাথি আরশাদ যে কি না নিজেও ভিনদেশী।
খুশবু আরশাদের পাশাপাশি হাটছিল।মেয়েটা আরশাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কলোসিয়াম যদি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের বিষয় হয় তবে আমার কাছে অষ্টম আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন?আজ সকাল থেকে আপনি আমার পাশাপাশি ছিলেন কিন্তু একবারেও চুমু খান’নি, খেতে বাধ্য করেন’নি, আশ্চর্য!এতো মহা আশ্চর্য!”
আরশাদ থমকে যায় ভ্রু কুচকে তাকায় খুশবুর পানে।হ্যাঁ তাই তো মেয়েটাকে সারাদিন অস্থির করে রাখা আরশাদ আজ এতটা ভালো হয়ে গেল!মূলত সে সময় পায়নি, কলোসিয়ামে আসার আগে যে তাকে কতটা তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে একমাত্র সে নিজেই বুঝে।আরশাদ খুশবুকে সন্নিকটে আনলো মেয়েটার পিটপিট চাহনিতে মাদকতা মিশিয়ে আনলো বহুগুন।
” হানি এই কথা বলা কি খুব জরুরি ছিল? চলো গাড়িতে ইচ্ছে মতো হবে।”
” আরশাদ ঘুরতে এসেছি রোমান্স করতে নয়।”
” আমার এনার্জি জিরোতে নেমে গেছে ফুল করে দাও জান।”
” আরশাদ দূরে যান।”
” তুমি কাছে এসো।”
আরশাদ ভিড়কে পরোয়া করলো না চট করে অতিদ্রুত ঠোঁটে ঠোঁট মেশালো সে।যদিও কয়েক সেকেন্ডের ব্যপার কারো নজরে আসেনি।খুশবু তেঁতে উঠলো আরশাদের পিঠে ঘুষি দিয়ে বলে,
” আপনি আস্ত একটা নির্লজ্জ।”
” আমার আশেপাশে সব নির্লজ্জ তাই আমিও একই ধাঁচের।”
আরশাদ এবং খুশবু তারা ক্রমশ সামনের দিকে গেল।কত কি অজানা সব তাদের চোখে পড়ে সব তো তারা জানে না তাদের ধারণাতেও নেই।প্রাচীরের ভেতরে সারি সারি ছোট কামরাগুলো ব্যবহার হত পশুর খাঁচা, খাদ্যের গুদাম আর গ্ল্যাডিয়েটরদের বিশ্রামাগার ও শরীরচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে।
খুশবু যতটা দেখছিল ঠিক ততটাই অবাক হচ্ছিল।এত এত বছর পূর্বে এত নিখুঁত গড়নের মঞ্চ তাও কি না কালের পর কাল টিকে আছে।
বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি হলো ইতালির রোম শহরে অবস্থিত ‘কলোসিয়াম’। এটি মূলত একটি ছাদবিহীন মঞ্চ। চারতলা অনেকটা বৃত্তাকার মঞ্চটি তার নির্মাণশৈলীর কারণে এখনো মানুষের বিস্ময় জাগায়। এখানে বসেই মানুষ ও প্রাণীদের নানা ধরনের খেলা, প্রদর্শনী ইত্যাদি উপভোগ করতেন তৎকালীন রোম সম্রাটরা।কলোসিয়ামে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক একসঙ্গে বসতে পারত। বিস্ময়কর এই মঞ্চটি অনেক করুণ ও বীভৎস কাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। এই কলোসিয়ামেই অনুষ্ঠিত হতো যোদ্ধাদের লড়াই প্রতিযোগিতা। লড়াইরত এই যোদ্ধাদের বলা হতো গ্ল্যাডিয়েটর।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একজন গ্ল্যাডিয়েটর আরেকজন গ্ল্যাডিয়েটরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করত। লড়াই করতে করতে এই গ্ল্যাডিয়েটররা রক্তাক্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। গ্যালারিতে বসে এই দৃশ্য দেখে উল্লসিত হতেন সম্রাটসহ অন্য দর্শকরা। অমানবিকভাবে এমন অসংখ্য মানুষের প্রাণহরণের সাক্ষী এই কলোসিয়াম।
কলোসিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে। ফেরিয়াস বংশের সম্রাট ভেসপাসিয়ান এটি নির্মাণ করেন। তিনি এটির নাম রেখেছিলেন এমফি-থিয়েটারিয়াম ফেভিয়াম। সাত বছরে তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করে আকস্মিকভাবে মারা যান ভেসপাসিয়ান।
পরে তাঁর ছেলে সম্রাট টাইটাস এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। টাইটাস ফেভিয়ামের নাম পাল্টে নতুন নাম রাখেন কলোসিয়াম। পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সম্রাটদের একজন ছিলেন টাইটাস। তিনিই কলোসিয়ামে গ্ল্যাডিয়েটরদের মরণপণ লড়াইয়ের সূত্রপাত করেন। প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই কলোসিয়ামটি অতীতের নিষ্ঠুরতা আর বিস্ময়ের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
কলোসিয়ামের কারণে রোম নগরীকে রক্তের আর হত্যার শহর বলেও ডাকা হতো এক সময়। বিশ্বের অনেকেই হয়তো জানেন না, লাখো রাজবন্দি, যুদ্ধবন্দি, ক্রীতদাস আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অসহায়দের রক্তে সিক্ত হয়েছে কলোসিয়ামের মাটি এবং প্রতিটি ধূলিকণা। অদ্ভূত কাঠামোর ইমারতটির প্রতিটি ইট,কাঠ,পাথরে মিশে আছে নিহতদের অন্তিম নিঃশ্বাস।
রক্ত-পিপাসু রোম সম্রাটদের বিকৃত আনন্দের খোরাক যোগাতে গিয়ে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই বধ্যভূমিতে,
ইতিহাস তার সঠিক হিসাব রাখেনি।
শুধু মানুষই নয়, কলোসিয়ামের মাটিতে অজস্র্ বন্য জীবজন্তুর রক্তও মিশে আছে। সম্রাটদের নির্দেশে রাজকোষের অর্থে সেই সময় এক বিশেষ খেলার জন্য উত্তর আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমদানি করা হতো হাজারে হাজারে হাতি, গন্ডার এবং সিংহ। ভাল্লুকের সঙ্গে হাতি, হাতির সঙ্গে বুনো মহিষ বা গন্ডারের সঙ্গে হাতির লড়াই দেখত হাজারো বিশ্ব সম্ভ্রান্তরা।
পশুদের মৃত্যুবেদনার হুংকারের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ত পুরো গ্যালারি। কলোসিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৯ হাজারেরও বেশি পশুর প্রাণ গিয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন পশুর লড়াই আর এগুলোর করুণ মৃত্যু দেখতে দেখতে একঘেয়েমি বোধ করেন সম্রাট টাইটাস। পশুর স্থলে মানুষে-মানুষে লড়াইয়ের ধারণা এলো তার মনে। আর পশুর খেলা বন্ধ করে, শুরু করা হলো মানুষের রক্তের হলি খেলা।
শুরু হলো মানুষের মৃত্যুর করুণ ও বীভৎস কাহিনী। যুদ্ধ বন্দিদের মরণপণ লড়াই যতক্ষণ না দুইজনের একজনের মৃত্যু হতো, ততক্ষণ পর্যন্ত চলত সেই দ্বৈত লড়াই। কিন্তু মাত্র একশটি খেলা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল টাইটাসের।
এরপর হঠাৎ করেই একদিন বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যান তিনি। বন্ধ হয়ে যায় এই খেলা। লম্বা বিরতির পর ৬৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রুটাস ভ্রাতৃদ্বয় ফের চালু করেন ঐতিহ্যবাহী ওই খেলা। তারা “গ্ল্যাডিয়াস” বা খাটো তরবারির লড়াই চালু করেন। লড়াইকারীদের বলা হতো “গ্ল্যাডিয়েটর”। লড়াই চলাকালে কোনো এক “গ্ল্যাডিয়েটর” আহত হয়ে পড়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ত পুরো কলোসিয়াম।
মৃত্যু ভয়ে ভীত, ক্ষত-বিক্ষত “গ্ল্যাডিয়েটর” রেওয়াজ অনুযায়ী হাত তুলে সম্রাটের করুণা প্রার্থনা করত, প্রাণভিক্ষা চাইত।
মঞ্জুর করা বা না করা সম্পূর্ণ সম্রাটের মন-মেজাজের ওপর নির্ভর করত। সম্রাটের বাম হাতের বুড়ো আঙুল আকাশ নির্দেশ করলে অপর “গ্ল্যাডিয়েটর” বুঝে নিত যে “তাকে ছেড়ে দাও”। কিন্তু ভূমির দিকে নির্দেশ করার অর্থ, “তাকে শেষ করে দাও”।
রোমের দুর্ধর্ষ শাসক জুলিয়াস সিজার এখানে বসেই ৩০০ গ্ল্যাডিয়েটরের লড়াই উপভোগ করেন। আর সম্রাট ট্রাজান উপভোগ করেন পাঁচ হাজার দ্বৈত যুদ্ধ। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো এ কলোসিয়ামে।
সেখানে ভ্যাটিকানের সর্বোচ্চ খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা উপস্থিত থাকেন। অংশ নিতেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও।
সেখানে এক ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত প্রত্যেককে কলোসিয়ামের এক মুঠো করে মাটি উপহার দিতে চেয়েছিলেন পোপ গ্রেগরি। কিন্তু কেউই তা নিতে রাজি হননি। তাদের অভিযোগ, এই মাটি হাতে নিয়ে চাপ দিলে এখনো বের হবে তাজা রক্ত।এবং এই মাটিতে রয়েছে রক্তের গন্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যত রক্ত ঝরেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি রক্ত ঝরেছে রোমের কলোসিয়ামের এই মাটিতে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা সেই বিভৎস, জঘণ্যতম প্রাণ সংহারী দ্বৈত যুদ্ধের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে বিশেষ নির্মাণশৈলীর এ কলোসিয়াম।
.
সময় যত গড়িয়ে গেল সূর্যের তেজ তত প্রখর হলো।খোলা মঞ্চ কলোসিয়ামে সব রোদ যেন খুশবুর মাথায় ঢুকে পড়ছে।টগবগ করে উঠছে উত্তপ্ত মস্তিষ্ক।খুশবু আর দাঁড়াতে চাইলো না।চোখের পিপাসা মিটিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে তার।সামনে যত অগ্রসর হলো ততটাই পেছনে ফেলে এলো কালের ইতিহাসের কলোসিয়াম।রহস্যে ঘেরা রোম শহরের ইতিহাস যদি বলতে হয় তবে মাসের পর মাস ফুরিয়ে যাবে।রোমানরা ছিল উন্নত জাতি,বর্ণমালা সৃষ্টি, সাহিত্য স্থাপত্য, শিল্প, দর্শন ইতিহাস, ভাস্কর্য শিল্প এবং আইন কোন অংশে তারা পিছিয়ে ছিল না।
.
কলোসিয়াম ভ্রমণ শেষে বিকালে বাসায় ফিরে ঘুম দিল খুশবু।আরশাদ তাকে আর জ্বালায়নি।খুশবুকে ঘুমে রেখে আরশাদ তার ভিলার টুকটাক কাজ করেছে।ইতালির বুকে যখন আধার নামলো তখন ঘুম ভাঙলো খুশবুর।মেয়েটা আড়মোড়া কাটিয়ে উঠে বসতে দেখতে পেল আরশাদ তার জামা কাপড় গুছিয়ে বিছানায় রাখছে।হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগে খুশবুর,
” আরশাদ এসব নামালেন কেন?”
” ফ্লুজি আমার বন্ধুরা তোমাকে ডিনারে ইনভাইট করেছে।”
খুশবুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।মুহূর্তে পালটে গেল মুখের ভাব।খুশবুর আতঙ্কেগ্রস্ত চাহনি আরশাদের চোখ এড়ালো না।
” না না আমি যাব না।”
আরশাদ এগিয়ে এলো খুশবুর হাতের ভাজে নিজের হাত পুরে বলে,
” জান এত না না করছো কেন?আমি আছি তো।ওরা এত বার বলছে না করতে পারলাম না।তাছাড়া দেখা তো হবেই হোক সেটা আজ আর কাল।’
চলবে…..
গতকাল যে একটা ভিডিও পোস্ট করেছি দেখেছেন?ভিডিওটা কেমন হয়েছে?অবশ্যই ভিডিওর কমেন্টে জানিয়ে যাবেন🥺 না হলে দুঃখ পাব।
ভিডিও লিংক →https://www.facebook.com/61555108838853/posts/122125909238170294/?app=fbl

