ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৫৩)

0
1215

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৫৩)
রোজীকে বাসায় ড্রপ করে দেবার জন্য এসেছে তামিম।তামিমের সাথে এসেছেন সোহানা ইসলাম। বসার ঘরে বসতেই সাবিনা নাস্তা নিয়ে আসে। রোজী তামিমের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সাবিনা রোজীকে বলে,
” তুমিও বসো মা। ব্রেকফাস্ট করে নাও।”

” লাবিবা আসুক।”

” তুমি বসো। ওকে নিয়ে আসছি আমি। ”

সাবিনার সাথে সোহানা চলে গেলো। রোজী সোফার এক কোনায় বসে। তামিম বলে ,
” আমি ব্রেকফাস্ট করেই বের হয়েছি। তুমি এখনো করোনি! মাত্র ঘুম ভাঙলো?”

রোজী বললোনা। আসলে তারা তো ঘুমায়ইনি। সারারাত বসে কাটিয়েছে গল্প করে। এড়িয়ে গেলো। মিনমিনিয়ে বললো, ” আমি চলে যেতাম। আপনি কষ্ট করে আসতে গেলেন কেন?”

” তুমি মনে হয় এখনও আমার সাথে ইজি হতে পারোনি। এটা ঠিক নয় রোজী।”

রোজী মুচকি হাসি দিলো। ইজি হওয়া! এতো সহজ?চেষ্টার তো অন্ত নেই। লাবিবা এসে বসলো। তামিমের দিকে তাকিয়ে শুকনো হাসলো। তামিম আহত দৃষ্টি ফেললো। আফসোসের সুরে বললো,
” লাব্বু মন খারাপ কেন?তানভীর নেটওয়ার্কের একটু বাইরে আছে। কালই রওনা হবে। ”

” সেজন্য মন খারাপ না ভাইয়া। একটা কথায় একটু কেমন যেনো লাগছে। ঐ যে থাকে না? আনএক্সপেক্টেড! যে বিষয়ের বিপরীতে চলেছে সব।”

” কি কথা? খুলে বলো।”

” আমি শুরু থেকেই দেখে আসছি আমার জন্য অনেক ছেলে পাগল। সব ছেলেকেই যে পাগল হতে হবে এমনটা বলছিনা। আসলে অভ্যস্ত তো! আমাকে অনেকেই ইগনোর করতে পারে। কিন্তু কেউ একজন ইগনোর করে আবার আমাকেই চায় ব্যপারটা কেমন না? ”

তামিম ব্যপারটা বুঝতে পারে। কোন মেয়েই ইগনোর ব্যপারটা মেনে নিতে পারেনা। সে যেমনই হোক না কেনো।
” হয়তো সে প্রথমে তোমাকে দেখেনি। চেনেও না।পরে চিনতে পেরেছে। ”

” তেমনটাও না। উনি আমাকে প্রথম থেকেই চেনেন। আশ্চর্য বিষয় আমিই তাকে চিনতাম না। খেয়ালই করিনি উনাকে।”

” এরজন্য মন খারাপ করতে হয়না। হতে পারে কিছু একটা। আমি তুমি তো আর জানিনা।”

” তুমি জানতেও পারো ভাইয়া। জিজ্ঞেসই তো করতে পারছি না। বোকামো করা হয়ে যাবে না? উনি তো এমনিতেই আমার প্রতি নারাজ। এতো ধাঁধায় কেন রাখে আমাকে? আমি একবার এই ধাঁধা থেকে বের হই আর কখনো কোনো বিষয় মাথায় তুলবোনা।”

মনে মনে বলে ব্রেডে কামড় বসায় লাবিবা। সাবিনার সাথে সোহানা আসে কিচেন থেকে। লাবিবাকে দেখে ভীষণ আহত হয়। অস্থির কন্ঠে বলে,
” এসব কি লাবিবা? এই অবস্থা কেনো? শরীরের কি হাল করেছো মা? ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছো না। সামনে বিয়ে আছে বাড়িতে তাড়াতাড়ি সুস্থ না হলে চলবে?”

তামিম হেসে বলে, ” আমাদের বাসায় নিয়ে চলো। নয়তো শরীর ঠিক হবেনা। ”

” তাড়াতাড়িই নিয়ে যাবো। এবার তোমার পাপার কোনো কথাই আমি শুনবোনা দেখো। তামিমের বিয়ে টা হয়ে যাক।”

” দুই পুত্রবধূ একসাথেই ঘরে তুলো মম। আর অপেক্ষা করাটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। তোমরাও না বেশ বোকা।”

সোহানা রাগে ফুসফুস করে বলে, ” আমার কথা তো শুনতেই চাইনা। পাছে লোকে কিছু বলবে বলে আমাকে দমিয়ে রেখেছে। ”

” এখন তো আরো বেশী বেশী বলছে। কলেজে যে ব্যাপারটা হলো! সবাইকে এবার জানানো উচিত যে লাবিবা আমাদের বাড়ির বউ।”

সোহানা ইসলাম সাবিনার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো। সাবিনা সায় দিলেন। বললেন,”
আমারো সেই মত। বেয়াই সাহেবকে বলুন। উনিই পারবেন আপনার বেয়াইকে রাজি করাতে।”

সন্ধ্যে বেলা ইসমাইলকে ডেকে নেওয়া হলো। ইসমাইল ফিরলো রাত এগারোটার দিকে। ফিরেই জানালো, “আগামী শুক্রবার দুটো বিয়ে একসাথে।মেয়েকে এবার পরের ঘরে দিয়ে দিতেই হবে। আমি আমার মেয়েটাকে না দেখে থাকবো কি করে?” বলতে বলতেই হো হো করে কেঁদে উঠে। সাবিনার চোখ ভরে আসে। আঁচলে চোখ মুছে স্বামীকে শান্ততা দেয়, “মেয়ে হয়ে জম্মেছে পরের ঘরে তো যেতেই হবে। বুকে পাথর চাপা দিয়ে রেখে মেয়েটাকে তুলে দেবার আয়োজন করো। একটাই মেয়ে আমার। স্বামী সোহাগী হোক। সুখে থাকুক। দোয়া ছাড়া আর কি করতে পারি?”

” আমার ঘরটা ফাঁকা হয়ে যাবে সাবিনা। আমি ঘরে ফেরার সময় কার জন্য মালাই নিয়ে আসবো? কে আমাকে ফোন করে বলবে আব্বু আসার সময় আইসক্রিম নিয়ে এসো। কে দৌড়ে এসে টাকা চাইবে? আমাকে ছাড়া কলেজ যাবেনা হুট হাট বায়না ধরবে। আমি কি নিয়ে থাকবো সাবিনা? আমার কলিজাটাকে তো ছিঁড়ে নিয়ে যাবে।”

কান্নার শব্দে লাবিবা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। কে কাঁদছে বুঝতে পারে না। পুরুষ মানুষের কান্না স্বর। বাড়িতে একজন ই পুরুষ মাত্র। আব্বু তো কোনদিন কাঁদে না। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে লাবিবা দৌড়ে আসে। ইসমাইল দুহাতে মুখ চেপে বসে কাঁদছে। লাবিবা গিয়ে আতঙ্কে জিজ্ঞেস করে,” আব্বু কাঁদছো কেন? আব্বু কি হয়েছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে? আবার বুকে কষ্ট হচ্ছে? হসপিটালে নিয়ে যাবো? আব্বু?”

ইসমাইল মেয়েকে বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাদেঁ। সাবিনা পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে গুনগুন করে কাঁদছে। লাবিবা হাঁসফাঁস করে। বাবা মার কান্নায় সেও কাঁদতে থাকে। কিন্তু তিনজন মিলে কেনো কাঁদছে লাবিবা জানে না। লাবিবা ঠিক থাকতে পারেনা। ছটফটানি বাড়ে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,” আব্বু তোমার কি হয়েছে? আব্বু তোমার কোথায় কষ্ট হচ্ছে?”
ইসমাইল বুঝতে পারে তার মেয়ের বুকে ভয় জেঁকে বসেছে তাকে নিয়ে। ধীরে ধীরে ইসমাইল কান্না বন্ধ করে। লাবিবাকে বলে, “আব্বুর কাছে থাকো। আব্বুর সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। ”
লাবিবা আর নিজের ঘরে ফিরে যায়না। বাবা মেয়ে নিঃশব্দে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে বসে বসে কাঁদে। সাবিনা বিছানা পাতে। ওদের শোয়ার জন্য অপেক্ষা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়ে।

সকাল সকাল কবীরের ফোন।
” কিরে লাব্বু? তোর নাকি বিয়ে? ভাবলাম কাজ বাজ শেষ। অসুস্থতার দোহাই দিয়ে পার্টনারদের পাঠিয়ে কলকাতার শহরের একটু হাওয়া লাগাবো গায়ে। মজ মাস্তি করবো তোর ভাবী সাথে নেই বলে। আর তোর জন্য এখন আমাকে ফিরে যেতে হচ্ছে।”

” তাড়াতাড়ি আসো ভাইয়া। আমি অপেক্ষা করছি সেই কবে থেকে। ”

” কি কি লাগবে বল। নিয়ে যাই। তোর বিয়ের শপিং তো আমাকেই করে নিয়ে যেতে হবে। তানভীর হাতে একটা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছে। সুযোগ কুড়াচ্ছে বুঝলি। বোনটাকেও দিলাম। এবার বিয়ের শপিংও করে দিবো। তোর ভাইয়ের এতো টাকা নেই বুঝলি! নয়তো শপিং এর টাকাটাও আমি দিতাম। ”

” বোনটাকে কেনো দিলে ভাইয়া?”

” ওরেব্বাস! উপায় ছিলো! উগান্ডায় কিক মারতো না!”

“বাসায় ফিরো ভাইয়া। তোমার সাথে আমার ইমপর্টেন্ট কথা আছে। ভাবী কিছু বলেনি তোমাকে?”

কবিরের মুখটা ছোট হয়ে যায় ‌। থমথমে গলায় বলে,
“কালই ফিরছি। তোদের মাঝে এতো কিসের প্রবলেম সেটাই সলভ করবো এবার।”

দুই দুটো ট্রলি ব্যাগ নিয়ে কবির হাজির হয়েছে একদিন পরই। এদিকে ফিরোজ খান রওনা করেছে বন্দরের উদ্দ্যেশে। বড় সড় একটা ঝামেলা হয়েছে। সরকারি লোক ছাড়া পসিবল নয়। সবাই স্বাভাবিক। শুধুমাত্র সোহানা ইসলামকে দেখে বোঝা যায় উনি টেনশনে আছে। এরই মাঝে উনি লাবিবাকে বাড়ি বয়ে এসে দেখে যাচ্ছে। টেনশন কি জিনিস এবার লাবিবা বুঝতে পারে। সোহানা ইসলাম এবং তার দুজনের স্বামীই যে বাইরে! কবির লাবিবার বাসায় ট্রলি ব্যাগ দিতে আসে।লাবিবার রুমে গিয়ে বসে ভ্রু নাচায়।
” কি খবর তোর? বাহ! সুন্দর লাগছে। ফাটা মাথা নিয়ে এই প্রথম কোনো কনে বিয়ের পিঁড়িতে বসছে। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না? ”

লাবিবা কপট রাগ দেখিয়ে তাকালো। বাইরে দেখে হালকা পাতলা শোরগোল শোনা যাচ্ছে। ভ্যানের আওয়াজ কানে আসে। লাবিবা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “বাইরে কি হচ্ছে?”

“তোর বিয়ের গেট সাজানো হচ্ছে।”

” আজকে থেকেই ডেকোরেশন শুরু হয়েছে? ভাইয়া উনার সাথে তোমার কথা হয়েছে?”

” না। কেন?”

” তুমি যে বললে লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছে।”

” মেইল সেন্ড করেছে। ফোন দেই নি। তানভীর আসুক এবার। দুটোকে একসাথে বসাবো তারপর দেখি কার কোথায় প্রবলেম আছে। সব সলভ করবো। ”

“সেসব করতে হবেনা। তুমি শুধু আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দাও। তাহলেই সব প্রব্লেম সলভ হয়ে যাবে।”

” কি প্রশ্ন?”

” তানভীর খান তোমার ফ্রেন্ড হলো কিভাবে? না উনি তোমার সাথে পড়াশুনা করেছেন না পাশাপাশি এলাকা আর না তোমাদের আড্ডা চলতো।”

” ঐ তো হুটহাট কিভাবে যেন হয়ে গেলো।”

বলেই কবির হাসতে লাগলো। লাবিবার মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে এলো। কবির হাঁসি থামায় কষ্টে। নয়তো এখনই যমুনার বাঁধ ভাঙবে। লাবিবার গাল টিপে দিয়ে বলে, “এমপির ছেলে সারাবছর বিদেশে পড়াশুনা করেছে। সে কিভাবে আমার ফ্রেন্ড হবে? তার ফ্রেন্ডের কি অভাব পড়েছে? আমরা পুলিশের লোক তাঁদের কথায় উঠি বসি। সম্পর্কটা এখান থেকেই শুরু। আর কারণটা অবশ্যই তুই।”

” কিভাবে?”

” তানভীরের সাথে আমার ফ্রেন্ডশীপের সম্পর্ক নেই। আমাদের ‌শুরু থেকেই সমন্ধি বোন-জামাইয়ের সম্পর্ক। বলতে পারিস তোর প্রতি আসক্তি থেকেই আমার সাথে উঠা বসা। ”

লাবিবা কবিরের কথা শুনে এলোমেলো হয়ে যায়। অবাকতা ছাড়িয়ে প্রশ্ন রাখে,
” তাহলে সবটাই কি পূর্ব পরিকল্পনা?”

” অনেকটা তেমনই আবার না ও। পরিস্থিতির সৃষ্টি সবটা।”

লাবিবা বালিশে মাথা রাখে। মাথা ব্যথা করছে তার। চিন চিন ব্যাথা।‌ এতোদিন তার সাথে যা হয়েছে সবটাই নাটকীয় মনে হচ্ছে। তার এতো অস্থিরতা এতো চেষ্টা সব কিছুই বৃথা। কবির লাবিবার মনের অবস্থা বুঝতে পারে। পাগলামো গুলো তো তার সামনেই হয়েছে। বোনকে আর আঁধারে রাখতে চায়না। দিনের বেলা লাইট জ্বালিয়ে রেখেছে রুমে। লাইট অফ করে দিয়ে জানালার পর্দা খুলে দেয়। ছিটা ছিটা রোদের আলোতে রুমটা ভরে যায়। লাবিবার শিয়রে বসে কবির লাবিবার মাথাটা কোলের উপর তুলে নেয়। চুলে হাত বুলায়। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে।
” সদরের থানায় প্রথম যখন ট্রান্সফার হয়ে আসি তখন একটা কেস নিয়ে তানভীর খানের সাথে আমার প্রথম কথা হয়। তোর হয়তো মনে নেই।‌ এস এস সি দিয়েছিস মাত্র। ডিউটি চলা কালে রাস্তায় আমাকে দেখে তুই কাকার পাশ থেকে দৌড়ে চলে এসেছিলি। বায়না ধরেছিলি তোর সাথে বাড়ি ফিরতে। এতো বড় মেয়ে হয়েও তোর বায়না আমার মেয়ের মতো। তখন তোকে আইসক্রিম কিনে হাতে দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে কাকার সাথে বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। তখন আমি সাধারণত পুলিশ।‌ রিটেন ভাইভা দেবার পরেও এস আই এর পদটা নিয়েছি টাকা দিয়ে। সে সময় মন্ত্রীর ধারস্থ হই। ফিরোজ খান তখন ভূমি মন্ত্রী। সে সময়ে আমাকে হেল্পটা করেছিলো তানভীর। আমার পদটা পাবার পর বলেছিলো আমি যদি সরাসরি তাকে জানাতাম তাহলে আমার এক টাকাও দিতে হতো না। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সময় আমার কৃতজ্ঞতা গ্ৰহণ করেন না। সরাসরি বলে বসেন আপন মানুষ হয়ে যাও। আমি এই আপন মানুষের হবার কোনো কারণ বা পথ খোঁজে পাই না। তখন তানভীর ই আমাকে জানায় ভবিষ্যতে আমি তার আপনজন হতে চলছি। এরপর থেকেই তার সাথে উঠা বসা। সেই থেকেই একদিন জানতে পারি আমার বোনের দিকে তার চোখ পড়েছে। বিষয়টা আমার কাছে এস আই এর পদটা থেকেও বড় অনুভব হলো। আমি এই সুযোগ মিস করতে চাইলাম না। একবার মন ঘুরে গেলে তারপর আর চাঁদে হাত বাড়ানো পসিবল হবেনা। বাবার মাধ্যমে কাকাকে কোনভাবে রাজী করালাম। প্রস্তাব দিয়ে বসলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হলেন না সেই বাড়ির লোকজন। ফিরোজ খান বিভিন্ন রিজন দেখিয়ে দিলো। মেয়ে অনেক ছোট । তানভীরের ও কোনো আগ্ৰহ দেখা গেলো না। প্রত্যাখ্যাত হয়ে আমি তানভীরের সাথে উঠা বসা কমিয়ে দিলাম। নিজেই আগ্ৰহ প্রকাশ করে নিজেই আমার বোনকে রিজেক্ট করে বিষয়টা আমাকে জানানোর আগে তার আরেকবার ভাবার উচিৎ ছিলো। ততোদিনে তানভীরের সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছে আমার। না চাইতেও কষ্ট অনুভব করলাম। কিন্তু কাকার মাঝে কোনো কষ্ট দেখা গেলোনা। কাকা এমনিতেও তোকে বিয়ে দিতে চায়না। অনেক কষ্ট করে রাজি করানো হয়েছিলো জন্য ই খান বাড়িতে প্রস্তাব রেখেছিলো। কয়েকমাস পর হটাৎ একদিন তানভীর নিজে থেকে আমাকে ফোন করে। আমাকে বলে,” তোর বোনের সাথে ছেলেটাকে আমার সহ্য হচ্ছে না। এটাকে দূর কর। তোর বোন আজ হোক কাল হোক শুধু আমারই বউ হবে। অন্য কারো না।”

তোর মোফাজ্জল মামার ছেলেটাকে যে তখন আত্বীয়ের দোহায় দিয়ে তোর সাথে বাঁধতে চাইছিলেন তোর মনে আছে? আমি তখন রেগে ফেটে পড়ি। তানভীরকে সরাসরি জিজ্ঞেস করি সে এখনো কেনো তোর পেছন ছাড়েনি? সে কি চায়? সে আমাকে জানালো তোকে চায়। তোর পড়াশোনা শেষ হওয়া অব্দি অপেক্ষা করতে চায়। আমি যেনো কাকাকে রাজি করিয়ে নিই। আমার পক্ষে এটা তখন অসম্ভব। কাকাকে রাজি করানোর চেষ্টা বাধ্য হয়ে করি। কিন্তু কাকা আর রাজি হয়না। বরং আমাকে বলে যখন রিজেক্ট করেছে তখন ঐ ফ্যামিলিতে মেয়ে বিয়ে দিবোনা। কাকার কথায় আমারো তাই মনে হয়। তোকেই যেহেতু লাগবে তখন রিজেক্ট করে দিলো কেনো? তানভীরের সাথে আমার দ্বন্দ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তখনো আমার অনেক কিছুই অজানা। ”

চলবে ___

সবাই লাইক কমেন্ট করবেন প্লিজ। পেইজের রিচ আবার কমে গেছে 🥲।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here