#শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২১
সেই দুপুর থেকে তুবা অস্থিরতায় সারা রুমময় পায়চারি করতেছে আর বারবার বেলকনিতে গিয়ে রাস্তার দিকে তাকাচ্ছে ৷ আজ যে ওর জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন ৷ এখন পর্যন্ত একশবার ফোন দেওয়া কমপ্লিট করেছে তুবা ৷ আবারও ‘সাইকো’ নামে সেফ করা নাম্বারে ডায়াল করল ৷ দু বার রিং পড়তেই স্বাধীন ফোন রিসিভ করল ৷
তুবা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,,, কোথায় আপনি? কতদূর এসেছেন?
আমি গোসল করছি ৷ আসতে দেরি হবে ৷
কিইই! আপনি না ১ ঘন্টা আগেও ফোন দিয়ে বললেন গোসল করছেন? এখনও হয়নি? সত্যি করে বলুন তো কয়মাস থেকে আপনি গোসল করেন না?
প্রতিদিন করি কিন্তু রোজ রোজ তো আর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই না তাই সময় নিয়ে গোসল করছি আজকে ৷ অপেক্ষা করো না , আমার আসতে দেরি হবে ৷
তুবা ফোন কেটে বি*রক্তিতে চ কারান্ত উচ্চারণ করল ৷ মেজাজ খারাপ হচ্ছে ওর ৷ এতোক্ষণে এসে বিয়ে ঠিকঠাক করে যাওয়ার কথা আর এই রুপবান নাকি এখনও গোসল করছে যত্তসব!
এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল ৷ তুবা ড্রয়িংরুমে থাকায় নিজে গিয়ে দরজা খুলে দিল ৷ দরজা খোলার সাথেই ওর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল সামনের মানুষগুলোকে দেখে ৷ স্বাধীন নিজের বাবা মাকে নিয়ে হাস্যজ্জ্বল মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তুবা নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিল ৷ সাজিনা আলম আর মুজাহিদ মুত্তাকি মুচকি হেসে সালামের জবাব দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন ৷
উনারা সামনের দিকে এগোতেই তুবা গলা নিচু করে স্বাধীনকে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,, আপনি নাকি গোসল করছেন? তা কবে থেকে গাড়িতে গোসল করা শুরু করেছেন?
যবে থেকে কেউ একজন মিনিটে মিনিটে ফোন দিয়ে একই প্রশ্ন করে করে আমার মগজ আউলা ঝাউলা করে দিয়েছে ঠিক তবে থেকে!
তুবা মুখ ভেংচি কাটল ৷ স্বাধীন সেটা পাত্তা না দিয়ে নিজের মা বাবার দিকে চলে গেল ৷ কারো আগমনের অস্তিত্ব টের পেতেই তানজিদ আর রাইশা ড্রয়িংরুমে চলে আসল ৷ অমায়িক হাসি দিয়ে স্বাধীনের বাবা মাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল ৷ তুবা একটু দূরে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল ৷ স্বাধীনের কথা ও কালকেই তানজিদ আর রাইশাকে বলে দিয়েছে ৷
রাইশা টুকটাক নাস্তা তৈরি করে রেখেছিল ৷ সেগুলো উনাদের সামনে দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তা এগোতে লাগল ৷ সাজিনা আলম বলে উঠলেন,,,,
আমাদের একটাই ছেলে ৷ তাই ছেলে নিজে থেকে কিছু চাইলে কখনোই সেটা উপেক্ষা করতে পারি না ৷ কাল এসে হঠাৎ বলছে ওর নাকি আপনার মেয়েকে পছন্দ , বিয়ে করতে চায় ৷ কোনো কিছু না ভেবেই হ্যাঁ করে দিয়েছি কারন আমার ছেলের পছন্দ সবসময় ইউনিক হয় ৷
স্ত্রীর কথা টেনে নিয়ে মুজাহিদ মুত্তাকি বললেন,,, আপনার মেয়েকে দেখে সেটা নিশ্চিত হয়ে গেলাম ৷ বড়ই মিষ্টি দেখতে আপনার মেয়ে ৷ আমি কথা ঘোরাতে পছন্দ করি না তাই সরাসরিই বলছি আপনি কি রাজি আছেন আমাদের প্রস্তাবে?
তানজিদ বড় করে শ্বাস নিয়ে বলতে লাগল,,, নিঃসন্দেহে স্বাধীন অত্যন্ত ভালো একটা ছেলে ৷ যে কেউ ওর সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে চাইবে ৷ আমিও তার ব্যতিক্রম নই ৷ কিন্তু একটা কথা আপনাদের শুরুতেই বলে দেওয়া উচিত ৷ আমি চাই না এর জন্য আমার মেয়ে ভবিষ্যতে কোনো খোঁ*টার সম্মুখীন হোক ৷
তানজিদকে থামিয়ে দিয়ে সাজিনা আলম বললেন,,, তুবার পার্সোনাল ডিসঅর্ডার আছে এই তো সমস্যা তাই না? তাহলে বলছি শুনুন আমরা সবকিছু জেনেই প্রস্তাব নিয়ে এসেছি ৷ আমাদের কোনো সমস্যা নেই বরং এটাই তো হওয়া উচিত ৷ স্বাধীনই তুবার জন্য পার্ফেক্ট ৷ ওকে সামলানোর জন্য একজন সাইক্রিয়াটিস্টের ই দরকার কি বলেন?
তানজিদ আর রাইশার বুক থেকে মনে হয় পাথর নেমে গেল ৷ অমায়িক হাসি দিয়ে বলল,,, জ্বি জ্বি ৷
তাহলে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা যাক?
রাইশা বলে উঠল,,, আমরা আপনাদের ফোন করে তারিখ বলে দিব ৷ আসলে আমাদের নিকট মানুষগুলোর সাথে কথা বলে দিন তারিখ ঠিক করতে চাচ্ছি ৷ ওরা কিছু সংগত কারনে আজকে আসতে পারেনি ৷ কিছু মনে করবেন না প্লিজ!
আরে কোনো সমস্যা নেই ৷
আরো কিছু বিয়ে সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা করতে লাগল বড়রা ৷ তুলি বেগমও এসে যোগ দিয়েছেন নিজের নাতনির বিয়ের আলাপে ৷ অন্যদিকে স্বাধীন সকলের অগোচরে তুবাকে চোখ মেরে মুচকি হাসল ৷ তুবা লজ্জায় লাল হয়ে আর ভুলেও স্বাধীনের দিকে তাকাল না ৷ বেডা সেদিনের কনফেশনের পর থেকেই তুমি তুমি বলা শুরু করে দিয়েছে ৷ বিয়ের পর না জানি কি শুরু করে!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সেদিন মনের বিরুদ্ধে গিয়ে বারিশের ভয়ে টপাটপ বাদাম খাওয়ার কারনে আয়েশার মা*রাত্মক পেটের অসুখ হয়েছে ৷ অন্যরা তো বারবার যায় আর আসে ৷ কিন্তু আয়েশা বাথরুমেই থাকে বলতে গেলে! দুই দিনে ওর চেহারার অবস্থা চুপসে যাওয়া বাদামের মতোই হয়েছে ৷
এখন মোটামুটি সুস্থ হয়েছে ও ৷ কেননা সাজিদ নিজের মেয়ের জন্য বেস্ট ডাক্তারের পরামর্শে কার্যকরী ওষুধ এনেছিল ৷ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল মেয়ের হঠাৎ অসুস্থতায় ৷ আয়েশা নিজের রুমে শুয়ে আছে ৷ দুই দিন থেকে না ভার্সিটিতে যায় আর না বীরকে পড়াতে যায় ৷ সবচেয়ে খারাপ তো ওর এটা ভেবে লাগছে যে তুবার এই গুরুত্বপূর্ণ একটা দিনে ও পাশে থাকতে পারল না!
সাভাশ দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ ও ওর অভ্যাশমত বাদাম খাচ্ছে ৷ আয়েশার ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বলল,,,
কি রে আয়েশু বাদাম খাবি? আয় আমি নিজ হাতে তোকে খাইয়ে দিচ্ছি ৷
আয়েশা চোখমুখ কুঁচকে বলল,,, আমার সামনে বাদামের নাম উল্লেখ করলে আমি তোর গায়ে বমি করে দিব সাভাশু! সাবধান থাক আমার থেকে ৷
সাভাশ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,,, আমার ভালোই হলো ৷ বারিশ স্যারকে একটা থ্যাংকস দিতেই হয় ৷ যে তুই আমার বাদামের দিকে সবসময় কু নজর দিতি সেই তুই ভুলেও জীবনে আর বাদাম খাবি কি না সন্দেহ!
শুধু থ্যাংকস কেন কোলে নিয়ে চুমু খা তোর বারিশ স্যারকে ৷ খা*টাশ একটা লোক! মাঝে মাঝে মনে হয় নদীতে নিয়ে গিয়ে চুবানি দিই!
সর বা*ল আই এম নট ইন্টারেস্টেড ইন ইউর ভাচা!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
টানা তিনদিন পর আয়েশা ভার্সিটিতে আসল ৷ চোখ মুখ শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গেছে ওর ৷ তুবা ওর অবস্থা দেখে বলতে লাগল,,,
ইশশ রে! বারিশ স্যার তোকে বাদামফোবিয়া দান করে দিল ছ্যাহ!
আয়েশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,, ওটার নাম মুখে আনবি না ৷
তুবা হেসে ফেলল ৷ এমন সময় ওর ফোন বেজে উঠল ৷ ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করতে থাকা নামটা দেখতেই তুবার গাল লাল হয়ে গেল ৷ তা দেখে আয়েশা টিটকারি মে*রে বলে উঠল,,,
বাঁন্দরের পা*ছার মতো লাল হতে হবে না ৷ যা গিয়ে ফুসুরফুসুর করে প্রেমআলাপ কর ৷
তুবা চোখ পাকিয়ে একপলক আয়েশার দিকে তাকিয়ে ফাঁকা জায়গায় চলে গেল ৷ আয়েশাও নিজের ক্লাসের দিকে চলে গেল ৷ তুবা ফোন রিসিভ করে সালাম দিল ৷ স্বাধীন সালামের জবাব দিয়ে বলল,,,
ভার্সিটিতে কারো পিঠে লা*ত্থি টা*ত্থি মা*রছো নাকি হিসাব নিচ্ছ? ডিস্টার্ব করলাম মনে হচ্ছে ৷
কেন বলুন তো?
এগুলোই তো তোমার কাজ তাই বললাম ৷
তো আপনি আবার কোনো চশমাওয়ালীর সাথে বোন পাতাননি তো? দেখুন এসব কিন্তু মানব না ৷ ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন সমস্যা নেই ৷ দরকার পড়লে ওদের কোলে নিয়ে বসে থাকুন তবুও সমস্যা নেই ৷ কিন্তু কোনো মেয়ে না ৷ আমি এতোগুলো ননদ সামলাতে পারব না বলে দিলাম!
আচ্ছা বানাব না ৷ কিন্তু আই হ্যাভ আ কন্ডিশন ৷
কি?
আমাকে নিয়ে তোমার অনুভূতি বলো ৷
স্বাধীন কি শুনতে চাচ্ছে তুবা বুঝতে পেরেছে কিন্তু ঠোঁট টিপে হেসে ও বলে উঠল,,, আমাদের একসাথে দারুন মানায় ৷ এর চেয়ে বড় অনুভূতি আর নেই ৷
এইই না না এটা না ৷ অন্যটা বলো ৷
তুবা না জানার ভান করে বলল,,, কোনটা?
আরে ঔটা ৷
আরে কোনটা?
আরে ঐ যে ওটা ৷
আরে ঐ যে কোনটা?
স্বাধীন বুঝে গেল তুবা ইচ্ছা করে মজা করছে ৷ তাই দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, আমার পাশে শুধু একটা না দুইটা বউ মানায় সেইটা ৷
বলে স্বাধীন ফোন কেটে দিল ৷ তুবা আহাম্মক হয়ে কানে ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল ৷ পরমুহূর্তে মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল ওর ৷ কাটকাট গলায় বলল,,,
বেডা খুব শখ তাই না? এর হিসাব পরকালে গিয়ে নিব!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
বারিশ ক্লাসে ঢুকেই একপলক আয়েশার দিকে তাকাল ৷ অতঃপর স্বাভাবিক ভাবে ক্লাস নিতে শুরু করল ৷ ক্লাস চলাকালীন সাভাশ আয়েশার মাথায় হুট করে গা*ট্টা মা*রল কারন ও অন্যমনস্ক হয়ে বসে ছিল ৷ আজ দুজনে পাশাপাশি বসেছে ৷
হঠাৎ মাথায় আ*ঘাত পেয়ে আয়েশার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ৷ রে*গে গিয়ে সাভাশের গাল টেনে ধরল ও ৷ বারিশ অত্যন্ত বিচক্ষণ তাই ওর নজর এড়াল না বিষয়টা ৷ ওর মুখটা কাঠিন্যতায় ছেঁয়ে গেল ৷ অত্যন্ত গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠল,,,
আয়েশা স্টান্ড আপ ৷
বারিশের কন্ঠটা এতোই ভ*য়ঙ্কর শোনাল যে আয়েশা কেঁপে উঠল ৷ কম্পিত কন্ঠে বলে উঠল,,,
জ-জ্ব-জ্বি স্যার ৷
তোমাকে ঠিক কি বললে তুমি ল*জ্জিত হবে? আই থিংক মেয়েদের অনেক হায়া ৷ কিন্তু তুমি এতোটা বে*হায়া হতে পারো আমি ভাবতেই পারিনি! এই কাল তোমার বাবা মাকে ডেকে আনবে ৷ তোমার এসব আচরণ আমি আর মেনে নিব না ৷ তোমার কোনো কোয়ালিটিই ভালো দেখিনি আমি ৷ পড়াশোনায় ডাব্বা , কোনো ম্যানারস নেই , সবসময় ক্লাসে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ওস্তাদ! স্টু*পিড মেয়ে!
আয়েশার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল ৷ ভীষণ লজ্জা লাগছে ওর পুরো ক্লাসের সামনে এভাবে অ*পমানিত হয়ে ৷ সাভাশ বোনের কান্না স*হ্য করতে না পেরে বসা থেকে উঠে বলল,,,
স্যার ওর কোনো দোষ নেই ৷ আমিই ওকে ডিস্টার্ব করেছিলাম তাই ও এমন করেছিল নয়তো ওর মনোযোগ পড়ার দিকেই ছিল ৷
বারিশের মুখটা আরো কাঠিন্যতায় ছেঁয়ে গেল ৷ ক্ষণকাল একদৃষ্টিতে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,,
ওকে ফাইন তাহলে আমার সাথে ক্লাসের পর দেখা করো ৷ তোমার জন্য আমার স্পেশাল শা*স্তি তৈরি আছে ৷
আয়েশা চকিতে বারিশের দিকে তাকিয়ে বলল,,, নো স্যার ওকে শা*স্তি দিবেন না ৷ আমাকে শা*স্তি দিন ৷ আমি আসলেই খুব খারাপ স্টুডেন্ট ৷ আমার নিজেকে শোধরানো উচিত তাই শা*স্তিটা আমার প্রাপ্য , ওর না ৷ ও অনেক ভালো স্টুডেন্ট ৷
সাভাশ কাটকাট গলায় বলল,,, চুপ ৷ স্যার আমাকে শা*স্তি দিতে চেয়েছে ওকে?
আয়েশা ক্রন্দনরত চোখে ভাইয়ের দিকে তাকাল ৷ সাভাশ চোখের ইশারায় ওকে শান্ত থাকতে বলল ৷ বারিশ ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে ক*র্কশ কন্ঠে বলে উঠল,,,
আমার সাথে আসো সাভাশ ৷
সাভাশ বাধ্য ছেলের মতো বারিশের পিছন পিছন চলে গেল ৷ আয়েশা বেঞ্চে বসে নিশ্চুপ কাঁদতে লাগল ৷ হঠাৎ পাশের একটা মেয়ের কথা শুনে ওর কান্না থেমে গেল,,
আমার এক জামাই আরেক জামাইকে শা*স্তি দিতে নিয়ে গেল রে! আমি আধা বিধবা হতে চাই না ৷ আমার দুটোকেই লাগবে ৷
আয়েশা আহাম্মক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলতে লাগল,,,,
বে*দ্দব মেয়ে ওই অ্যানাকন্ডা সা*পের প্রতি নজর দিবি দে কিন্তু আমার ‘বা*ল’ বলা ভাইয়ের দিকে কোন সাহসে নজর দিস? তাও আবার সতীন রুপে!
চলবে,,,,,

