#শুনলাম_বসন্ত_নাকি_আবার_এসেছে
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৩
স্নিগ্ধ সকাল ৷ আজকের আবহাওয়া টা কিছুটা শীতল ৷ শিরশিরে বাতাস বয়ে চলেছে ৷ হাসান ভিলার সব বাচ্চা কাচ্চা রা যে যার স্কুল আর ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিল ৷ শেহনাজ খুব ধীরে ধীরে মনোযোগের সহিত হাঁটছে যেন ভুলেও আজ পড়ে না যায় ৷ কিন্তু আফসোস তা আর হলো কোথায়?
সদর দরজা পেরোতেই ধড়াম করে পড়ে গেল ৷ সকলে এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ৷ তাই ওকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোনো কিছু করার নেই ওদের ৷ আয়েশা আর সাভাশ দৌঁড়ে গিয়ে বোনকে উঠাল ৷ শেহনাজ লজ্জিত ভঙ্গিতে সকলের দিকে তাকিয়ে হাসতেছে ৷ তুষার কাঁধে ব্যাক প্যাক টা ভালোভাবে নিয়ে শান্ত স্বরে বলতে লাগল,,,
বাড়িতে পড়িস ঠিক আছে কিন্তু বাইরে যেন পড়তে যাস না ৷ না হলে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবি না ৷
শেহনাজ উপরে কিছু না বললেও মনে মনে বলল,,,, অলরেডি সেই মহাকাজ টাও করে ফেলেছি ৷ তাও আবার পার্কে ৷ যা হোক কেউ দেখেনি এটাই স্বস্থির ছিল ৷
তুষার নিজের বাইকে গিয়ে উঠে পড়ল ৷ শেহনাজ দোনা-মোনা করে বলতে লাগল,,, আমার আজ বাইকে চড়তে ভীষণ ইচ্ছা করছে ৷ তুষার ভাই আপনার সাথে যাই?
তুষার ভ্রু নাচিয়ে বলল,,, তুই মনে হয় সেই দিনের কথাটা ভুলে গেছিস ৷ আমার বউ ছাড়া আমার বাইকের পিছনে চড়ার অধিকার কোনো মানুষ তো দূর মুরগিকেও দিব না ৷
শেহনাজ কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল ৷ তা দেখে সাভাশ বলে উঠল,,,, বোনু আমার বাইকে আয় ৷ আসলে তুষার রোমান্টিক উপন্যাস পড়ে পড়ে এমন ছ্যাবলা হয়ে গেছে!
শেহনাজ হেসে ফেলল ৷ তুষার শান্ত দৃষ্টিতে কিছুপল সাভাশের দিকে তাকিয়ে থেকে মাথায় হেলমেট পড়ে নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ শেহনাজ ভাইয়ের পিছনে গিয়ে বসে পড়ল ৷ তুষার না হোক কিন্তু ভাইয়ের বাইকে চড়তে পারাও তো কম আনন্দের না ৷ ভীষণ থ্রিলিং ব্যাপার টা ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
তুবার ভার্সিটিতে কোনো ক্লাস ছিল না আজকে ৷ তাছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন ছাড়িয়ে স্বাধীনের সাথে আজ ওর এপয়েনমেন্ট ছিল ৷ স্বাধীনের ক্যাবিনে প্রবেশ করার পর তুবা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল ৷
স্বাধীন আশ্চর্যজনকভাবে প্রফেশনাল মুডেই কাউন্সিলিং করল ৷ এমন ভাবে কথা বলল যেন তুবাকে ও এর আগে কখনো দেখেনি ৷ একজন ডাক্তার তার পেসেন্টের সাথে যেমন আচরণ করে ঠিক সেভাবে ৷ এসব দেখে তুবার ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ এক পর্যায়ে বলেই ফেলল,,,
কি ব্যাপার? এতো উইয়ার্ড আচরণ করছেন কেন? কালকের জন্যে রাগ টা তো আমার থাকা উচিত, আপনার নয় ৷
স্বাধীনও ভ্রু কুঁচকে বলল,,,, রাগ করার কি আছে? কালকের ব্যাপার কালকেই মিটে গেছে ৷ তুমিও মজা করেছিলে আর আমিও মজা করেছি ৷ এজ সিম্পল এজ দ্যাট ৷ এখানে রাগ করে থাকার তো প্রশ্নই আসে না ৷
তাহলে এমন আচরণ করছেন কেন?
কেমন আচরণ করেছি? আমি কি আজ মাথা নিচে রেখে পা উপরে তুলে কথা বলছি? আমি কি তোমার সাথে চাইনিজ ভাষায় কথা বলছি? আমি কি শিম্পান্জির মতো লম্ফো ঝম্ফো করছি? নাকি তোমার ঘাড়ে চড়ে কথা বলছি?
তুবা বিরক্তিতে চ কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,, আমার সাথে ফাইজলামী করেন? আমি বলতে চাচ্ছি পেসেন্টের সাথে যেমন আচরণ করেন সেভাবে আচরণ করছেন কেন?
তো তুমি কি আমার পেসেন্ট না?
হ্যাঁ পেসেন্ট কিন্তু আমি তো আপনার হবু বউও ৷
সেটা তো ব্যক্তিজীবনে ৷ এখানে আমরা প্রফেশনাল মিট করছি ৷ ওহ হ্যাঁ তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি ৷ আমি প্রফেশনাল জীবনে সবার সাথে একইভাবে আচরণ করি ৷ এমনকি আমি আমার মায়ের সাথেও অপরিচিতের মতো আচরণ করি ৷ একবার আম্মু এসেছিল আমার ক্যাবিনে ৷ আমি আম্মুকে ম্যাম বলে ডেকেছিলাম যদিও তার জন্য বাড়িতে গিয়ে আমাকে জুতোপে*টা করেছিল তবুও আমি শুধরাই নি ৷
তুবার চোয়াল ঝুলে গেল সাথে প্রচন্ড হাসিও পেল কিন্তু অবাক হওয়ার মাত্রা হাসির চেয়ে ভারি পড়ায় ও হতভম্ভ হয়েই স্বাধীনের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ স্বাধীন ক্ষণকাল চুপ থেকে আবারও বলে উঠল,,,
ভালোভাবে মনে করো দেখো আমি সবসময় তোমার সাথে এভাবেই কথা বলতাম কাউন্সিলিংয়ের সময় ৷ কিন্তু গত কয়েকদিনে ব্যক্তিজীবনে আমাদের সম্পর্কের চরম উন্নতি হওয়ায় তোমার আজ আমার আচরণ একটু অন্যরকম লাগছে ৷ কিন্তু এটা একদমই ঠিক আচরণ , তুমিই ভুল বুঝছো ৷ আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা , আমি শুধু চশমা পড়া পেসেন্টগুলোর সাথেই আপনজনের মতো আচরণ করি তা বাদে বাকিদের সাথে একদম প্রফেশনাল আচরণ ৷
তুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেল ৷ হতভম্ভ হয়ে কয়েক মিনিট চুপচাপ স্বাধীনকেই দেখে গেল ৷ অতঃপর বিরবির করে বলতে লাগল,,,
এটা তো সাধারণ মানুষ হতে পারে না! এ তো দেখছি চশমা গ্রহের রাজা বাদশা ৷ নয়তো নিজের নিজস্ব মাকে কেউ ম্যাম বলে ডাকে আর চশমা পড়া মানুষদের কেউ চাচা , নানী, খালা, খালু বলে ডাকে? তার মানে আমিও রিস্ক জোনে আছি ৷ আমার এখনও না হওয়া শ্বাশুড়িকে তো ম্যাম বলে ডেকেছে তাহলে আমাকে নির্ঘাত কোন একদিন ‘আপু’ বলে ডাকবে এই বেডা!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আয়েশা ক্লাস শেষে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে করিডোরে ঘুরঘুর করছে ৷ ওর গন্তব্য ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে গিয়ে কিছুক্ষণ প্রকৃতি বিলাস করা ৷ কিন্তু বিপত্তি ঘটল সাভাশের আগমনে ৷ ও কোথা থেকে হুট করে এসে আয়েশার পথ আগলে দাঁড়াল ৷ আয়েশার ভ্রু যুগল কুঁচকে গেল ৷ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,
তুই যে বাঁ*ন্দর সেটা আমি এমনিতেও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ৷ এভাবে লাফালাফি করে প্রমাণ করতে হবে না ৷
সাভাশ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে করিডোরের পিলারে হেলান দিয়ে বলল,,,, থ্যাংকস বাঁ*ন্দরের বোন ৷
আয়েশা কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, এইই তুই আমাকে বাঁ*ন্দর বললি?
বাহ তুই এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে বুঝে গেলি? আমি তো ভেবেছিলাম তোকে বোঝাতে আমাকে মিনিমাম এক মাস সাধনা করতে হবে ৷
বেশি নাটক করবি না সাভাশ ৷ কি জন্য এসেছিস সরাসরি বল ৷
সাভাশ দাঁত বের করে বলল,,, তোকে বাদাম খাওয়াতে এলাম ৷
বাদাম নামটা শুনতেই আয়েশার গা গুলিয়ে উঠল ৷ চোখমুখ কুঁচকে গেল ৷ তা দেখে সাভাশ অট্টহাসি হাসতে হাসতে বলল,,,
বাদামফোবিয়া এই প্রথমবার দেখছি!
আয়েশা কিছু না বলে ওকে পাশ কাটিয়ে যেতে ধরলে সাভাশ আবার ওর পথ আটকে বলল,,,
শুধু একটা ৷ শুধুমাত্র একটা বাদাম খা প্লিজ ৷ এতো আদর করে বলছি খেয়ে নে না ৷
আয়েশা চোখ গরম করে বলল,,, পথ ছাড় সাভাশ ৷
ছাড়ব না ৷ উড়ে উড়ে যেতে পারলে যা ৷
তুষার লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে এ পথ দিয়েই আসছিল ৷ হঠাৎ সামনে আগুন আর পানি কে একসাথে দেখে ও ওদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,,,
কালকে না ভালোবাসা উতলে পড়ছিল? আজ আবার নিজেদের আসল চরিত্রে ফিরে এসেছিস? বাহ! এতো দ্রুত কামব্যাক তো অস্ট্রেলিয়াও বিশ্বকাপে করে না!
আয়েশা আর সাভাশ একযোগে বলে উঠল,,, চুপ কর বইয়ের বউ ৷ নিজের সংসার সামলা গিয়ে ৷
তুষার হতভম্ভ হয়ে ওদের দুজনের রু*দ্রমূর্তি দেখল ৷ আয়েশা আর সাভাশ আবারও নিজেদের মতো ফ্যাচ ফ্যাচ করতে লাগল ৷ এমন সময় কারো গমগম কন্ঠস্বরে ওরা থেমে গেল ৷ বারিশ গম্ভীর মুখে পিছনে দু হাত গুজে সামনে সাভাশের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে যে হাত আয়েশার বা হাতটা শক্ত করে ধরে আছে ৷
এখানে হচ্ছে টা কি? অনেকদিন থেকেই তোমাদের চরম পর্যায়গুলো দেখে চলেছি আমি ৷ আজ তো লিমিট ই ক্রস করে ফেলেছো ৷
আয়েশা আর সাভাশ অবাক হয়ে বলল,,, কি করেছি?
তুষারও এই প্রথমবার বারিশের এমন আচরণের কারন বুঝতে সক্ষম হলো না ৷ বারিশ ক*র্কশ কন্ঠে বলে উঠল,,,
কিছুই বুঝতে পারছো না তাই না? একজন স্যারের সামনে নিজেদের বে*হায়াপনা তুলে ধরার পরও বলছো কি করেছি? আমাকে দেখার পরও যে তুমি আয়েশার হাত ধরে আছো এটা কি বে*য়াদবী লাগছে না তোমার কাছে সাভাশ? ছেলে মেয়েদের কিছু গন্ডির মধ্যে থাকতে হয় সেটা মনে হয় ভুলে গেছো ৷
আয়েশা নিজের হাত ঝাটকা দিয়ে সাভাশের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গ করে বলল,, ও ছেলে!
সাভাশও একই টোনে বলল,,, ও মেয়ে!
আয়েশা বারিশের দিকে তাকিয়ে বলল,,, এটাকে কোনদিক দিয়ে আপনার ছেলে মনে হয় স্যার? ও একটা গা’ধা!
বারিশের কপালে ভাঁজ পড়ল ৷ কাটকাট গলায় বলে উঠল,,, মশকরা করছো? ছেলেদের সাথে এমন অবাধ মেলামেশা করার পর এখন উল্টাপাল্টা কথা বলে টপিক ঘোরানোর চেষ্টা করছো?
আয়েশা অবাক হয়ে বলল,,, ভাইয়ের সাথে কথা বলা, মেলামেশা করা যাবে না এটাই কোথায় লেখা আছে?
বারিশ হতভম্ভ গলায় বলল,,, ভাই! কে ভাই?
আয়েশা সাভাশের দিকে আঙুল তাক করে বলল,,, কে আবার? এই ছা*গলটা ৷
বারিশ তৎক্ষণাৎ তুষারকে উদ্দেশ্য করে বলল,,, তোমার ভাই ও না? তুষার?
হ্যাঁ ও আমার চাচাতো ভাই আর এই ছা*গলটা আমার নিজের মায়ের পেটের জমজ ভাই ৷
বারিশ বি*স্ফোরিত চোখে একবার আয়েশার দিকে তাকাচ্ছে তো একবার সাভাশের দিকে তাকাচ্ছে ৷ যদিও বাইরে থেকে ও যে প্রচন্ড অবাক হয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না ৷ আয়েশা ওকে চুপ থাকতে দেখে বলতে লাগল,,,,
আসলে আমাদের দেখে মনে হয় না ৷ কিন্তু আমরা জমজ ৷ বিশ্বাস না হলে সাভাশের গাল থেকে দাঁড়িগুলো টেনে ছিঁড়ুন তাহলে বুঝবেন ৷
অথবা আয়েশার গালে কিছু দাঁড়ি লাগিয়ে দেখুন আমাদের মুখের মিল পাবেন ৷
সাভাশের ভাবলেশহীন কথায় আয়েশা ক্ষে*পে গিয়ে ওর হাতে চি*মটি কাটল ৷ সাভাশ ক”টমট দৃষ্টিতে আয়েশার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
আয়েশু!
সাভাশু!
আশা!
নিরাশা!
হতাশা!
বাতাসা!
দু ভাই-বোনের গলা শুকিয়ে গেল ৷ গলায় জোর আনার জন্য ওরা কাশতে লাগল ৷ বারিশ আহাম্মক হয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ ওরা দু ভাই-বোন পুনরায় ঝ*গড়া শুরু করতে ধরলে তুষার কানে ফোন নিয়ে বলতে লাগল,,,,
হ্যালো বড় মা ৷ শুনতে পারছো?
সাভাশ আর আয়েশা আ*তঙ্কিত চোখে তুষারের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,, ফোন কাট ব্যাটা ৷ মাম্মাকে কিছু বলিস না ৷ মাম্মা আমাদের জুতা দিয়ে মা*রবে!
তুষার তবুও ফোন কানে নিয়ে আছে ৷ এবার আয়েশা আর সাভাশ কন্ঠটা নরম করে বলল,,,,
তুষার তুই না আমাদের সোনা ভাই? তুই এমন আচরণ করলে কিন্তু আমরা তোকে আজীবন সিঙ্গেল রাখব বলে দিলাম!
তুষার মুচকি হেসে ফোন কান থেকে নামাল ৷ ও সিনুকে ফোনই দেয়নি , শুধুমাত্র ওদের দুজনকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল ৷ বিষয়টা বুঝতে পারতেই আয়েশা আর সাভাশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,,
তোকে তো!
তুষার অবস্থা বেগতিক দেখে দৌঁড় লাগাল ৷ আয়েশা আর সাভাশও ওকে ধরার জন্য পিছন পিছন ছুটতে লাগল ৷ পুরো ক্যাম্পাস জুরে তিন ভাই বোন ছোটাছুটি করতে লাগল ৷ ওদিকে বারিশ এখনও তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর ও হাঁটতে লাগল ৷ কিন্তু ও এতোটাই অন্যমনস্ক ছিল যে পিলারে গিয়ে সজোরে ধা*ক্কা খেল ৷ এতে করে লজ্জা পেয়ে বারিশ শুরুতেই আশেপাশে তাকাল কেউ দেখল কিনা সেটা দেখার জন্য ৷ যখন বুঝল কেউ দেখেনি তখন ও আবারও হাঁটতে লাগল ৷ কিন্তু এবার উস্টা খেয়ে পড়তে ধরল যদিও পুরোপুরি পড়া থেকে বেঁচে গেছে ৷ বারিশ গলা খাকারি দিয়ে নিজেকে সামনের দিকে আবারও হাঁটতে লাগল ৷
চলবে,,,,,

