প্রেমের ঘাটের মাঝি #পর্ব ১৩ #লেখনিতে খুশবু আকতার

0
140

#প্রেমের ঘাটের মাঝি
#পর্ব ১৩
#লেখনিতে খুশবু আকতার

“কেমন আছেন জুঁই?”

হঠাৎ কারো কণ্ঠস্বর পেতেই চমকে উঠলো জুঁই।
পিছন ফিরে তাকাতেই নাদিমের হাসি হাসি মুখটা দেখতে পেল।নাদিম এর মুখের সেই হাসির মাঝে কোন ছলনা নেই সেটা জুঁই বেশ পরিস্কারই বুঝতে পারলো। তবে কেন যেন জুঁইয়ের ভীষণ বিরক্ত লাগলো।এই ছেলেটার আগবাড়িয়ে ভাব জমানোর স্বভাবটা জুঁইয়ের একদম অপছন্দ।তবে কি আর করার?যেহেতু ওদের বাড়িতেই নিমন্ত্রনে এসেছে খারাপ ব্যবহার তো করা যায় না।সৌজন্যতামূলক মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“ভালো আছি।আপনি ভালো আছেন তো?”

“হ্যাঁ ভালো আছি।যাক আপনি যে সুস্থভাবে এসেছেন তাতেই আমি ভীষণ খুশি।”

জুঁই প্রতি উত্তরে কিছু বলল না শুধু হালকা হাসল। আসল কথা হলো জুঁই আর কথাই বাড়াতে চায় না। কিন্তু নাদিম তো কথা না বাড়িয়ে যাওয়ার পাত্র না।কি বলবে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে মনে হলো জুঁইয়ের প্রশংসাই তো করা হয়নি।দারুন লাগছে মেয়েটাকে দেখতে।যেকোনো পুরুষকে জুঁইয়ের এই সাধারণ বেশভূষা আকর্ষণ করবেই।সেখানে নাদিম তো আরো জুঁই কে পছন্দ করে।আকর্ষণ না করে কি পারে?

“আপনাকে কিন্তু অসম্ভব সুন্দর লাগছে।”

“আমাকে বলছেন?”

জুঁইয়ের পাল্টা প্রশ্নে নাদিম কিছুটা অস্বস্তি বোধ করল।ওর সাথেই তো কথা বলছে,আশেপাশে তো আর কেউ নেই তাহলে আর কার কথাই বা বলবে?হালকা হেসে বলল,

“হ্যাঁ আপনাকে বলছি।”

“ধন্যবাদ।”

“শুধু ধন্যবাদ?”

“সবাইকে যা বলেছি আপনাকেও তাই বললাম।”

“ও আচ্ছা।”

জুঁই খুব ভালোভাবে নাদিমকে বোঝাতে চাইলো যে ওর জীবনে নাদিমের আলাদা করে জায়গা নেই।বাকিরা যেমন নাদিমও ঠিক তেমনি।সেটা নাদিমও হয়তো বুঝতে পারল।সাথে এটাও বুঝলো যে জুঁই হয়তো একটু বিরক্ত বোধ করছে ওর সাথে কথা বলতে।আর বিরক্ত করল না,চলে গেল সেখান থেকে।নাদিম চলে যেতেই জুঁই হাপ ছেড়ে বাঁচল।ইচ্ছপ তো করছে এখনই ছুটে বাড়ি চলে যেতে।এত হইহুল্লোর চেঁচামেচির মাঝে বড্ড একা একা লাগছে কেন যেন।আশেপাশে এত মানুষ কিন্তু তাও কাউকে আপন মনে হচ্ছে না।আসার সময় গাড়ির মধ্যেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।মনের মাঝে এত দুঃখ কষ্ট রেখে কি আর বিয়ের আনন্দ হৃদয়কে ছুঁতে পারে নাকি?

____
“মুক্তা তুই এখানে!”

কন্ঠটা মুক্তার ভীষণ পরিচিত লাগলো।মনে হলো বহু কাল পর এই কন্ঠটা শুনলো।অনেকদিন পরে শুনলো জন্য ঠিকঠাক মনেও করতে পারছে না কন্ঠটা আসলে কার।ঘাড় ঘুরে তাকাতেই পাঞ্জাবি পাজামা পড়া লম্বাটে এক পুরুষকে দেখল।গায়ের রং তার শ্যামলা বলা চলে, গাল-মুখ ভরতি দাড়ি,চুলগুলো বেশ বড় বড় হয়েছে। বোধহয় বহুকাল যাবত কাটেনা।চোখে পড়েছে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা।আজ কতগুলো বছর পর মুক্তা রেদওয়ানের মুখটা দেখল তার হিসেব সে নিজেই মেলাতে পারছে না।সংসারের চাপে,জীবনের ওঠা-নামার মাঝে এই মানুষটার কথা মনেও ছিল না। তবে মুক্তা স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে উত্তরটা দিতে পারলো না। আসে পাশে চোখ ঘুরিয়ে আগে দেখে নিল কোথাও জামশেদকে দেখা যাচ্ছে কিনা।কেননা জামশেদ যদি দেখতে পায় যে কোন পুরুষ মানুষের সাথে মুক্তা কথা বলছে তাহলে লোকজন না মেনেই হয়ত যাচ্ছে তাই বলে গালাগালি শুরু করতে পারে।আশেপাশে কোথাও জামশেদকে দেখতে পেল না যার ফলে নিশ্চিন্ত হলো।এদিকে এতটা সময় পরেও মুক্তার থেকে কোন উত্তর না পেয়ে রেদওয়ান কিঞ্চিত অবাক হলো।ভাবলো হয়তো মুক্তার স্মৃতির পাতা থেকে রেদওয়ান নামক এক তরফা ভালোবাসার অধ্যায়টা মুছে গেছে।মনে করে দেওয়ার জন্য বলল,

“কিরে এতটাই পর হয়ে গেলাম যে মনেও করতে পারছিস না আমি কে?”

“না না তা কখন কইলাম?চিনছি তো তোমারে।”

“তাহলে উত্তর দিচ্ছিস না যে?কাকে খুঁজছিস?”

“কাউরে না।আমি ভালো আছি।তুমি কেমন আছো?”

“আমিও বেশ ভালোই আছি।তা তোর সংসার কেমন চলছে?শুনেছিলাম তোর নাকি এক ছেলে এক মেয়ে?তোর স্বামীকে ডাক এখনো তো পরিচয় করা হয়নি একটু পরিচয় করি তার সাথে।”

মুক্তার মুখটা কেমন চুপসে গেল।মানুষটা এত স্বাভাবিকভাবে এই কথাগুলো কি করে বলে দিল?অবশ্য বলবে নাই বা কেন?তার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি দেওয়ার তো কম গুলো বছর হলো না।এতদিনে নিশ্চয় তারও একটা সংসার হয়েছে।সেই সংসারে ছেলে-মেয়ে আছে।নিশ্চয়ই সুখ উপচে পড়ছে।তার ভাগ্যটা নিশ্চয়ই মুক্তার মতন হবে না।

“আমার সংসার চলতাছে।খুব সুখে আছি আমি রেদওয়ান ভাই।”

রেদওয়ানের কেন যেন মুক্তার মুখটা দেখে মনে হলো ও মিথ্যে বলছে।ওর কথার কোন সত্যতা খুঁজে পেলে না। কেউ সুখী আছে সেই কথাটা কি এতটা নিস্প্রান ভাবে বলতে পারে নাকি?নিজের সুখের সংসারের গল্প করতে চোখে মুখে উচ্ছ্বলতা ফুটে উঠবে,কন্ঠে তার আনন্দ থাকবে।
সন্দেহী গলায় বলল,

“সত্যি তুই সুখে আছিস?তবে তোর চোখে মুখে সেই আনন্দটা কই?এত নির্জীব কেন?দেখে মনে হচ্ছে মরেও বেঁচে আছিস।”

মুক্তা হালকা হেসে বলল,

“আমার কথা বাদ দাও।তুমি কও তোমার সংসার কেমন চলতাছে?”

রেদওয়ান একটু শব্দ করেই হেসে উঠলো।তবে বিয়ে বাড়ির এতো হইচইয়ের মাঝে তার সেই হাসির শব্দ কারো কান অব্দি পৌঁছালো না মুক্তা ব্যতীত।যদিও বা কারো কান অব্দি পৌঁছে তবে সে হাসিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না।রেদওয়ান কে এভাবে হাসতে দেখে মুক্তা একটু ভরকালো।প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“হাসতাছো ক্যান?আমি কি ভুল কিছু জিজ্ঞাসা কইরা ফালাইলাম?”

“হয়তো।আমার সংসার কেমন চলছে জানতে চাইছিস? কিন্তু আমার যে কোন সংসারই নেই।”

মুক্তা চমকে উঠলো।উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল,

“সংসার নাই মানে?তুমি বিয়া করো নাই?”

“বিয়ে কি জীবনের সব নাকি?বিয়ে না করে কি বাঁচা যায় না আমাকে দেখ না,আমি তো দিব্যি বেঁচে আছি বিয়ে না করে,নিজের ভালোবাসাকে ছাড়া।”

অনেকগুলো দিন পর আজ মুক্তার বুকের ভেতরটা আবার কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো।এই মানুষটার এতগুলো বছর পরেও সরল স্বীকারোক্তিতে মুক্তার ভেতরটা কেমন যেন হাঁসফাস করছে।হঠাৎ করে দম বন্ধ অনুভূত হচ্ছে।অস্থির গলায় বলল,

“কি কইতাছো তুমি এসব পা/গল?তুমি বিয়া করো নাই ক্যান?”

“তোর প্রশ্নের মাঝেই উত্তর আছে।ওই যে বললি আমি পাগল।হ্যাঁ আমি পা/গল।কাউকে ভালোবেসে পা/গল হয়ে গিয়েছিলাম আর কখনো সুস্থ হতে পারলাম না।তার মাঝে যে আমার সুস্থ হওয়ার ওষুধ ছিল কিন্তু সে তো চাইল না আমায় সুস্থ করতে।”

“এসব কি কইতাছো তুমি?আমারে এমন কইরা অপরাধী বানাইওনা।আমার নিজের জীবনের দুঃখে আমি বাঁচিনা।এই অপরাধের বোঝা লইয়া কেমনে বাঁচুম?”

রেদওয়ানের কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ সৃষ্টি হলো।তবে যা সন্দেহ করেছিল তাই।মুক্তার সংসারে সুখ নেই।তবে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পেল না।তার আগেই জামশেদের গম্ভীর কন্ঠের হুংকার ভেসে এলো।

“এখানে দাঁড়িয়ে কি করছো?অচেনা পুরুষ মানুষের সাথে এত কিসের কথা?”

কন্ঠটা কানে যেতেই মুক্তা কেঁপে উঠল।তার চোখে মুখে যে ভয় আর আতঙ্কটা ফুটে উঠল সেই আতঙ্কই যেন রেদওয়ানের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল।মুখ ফুটে যে জামশেদকে বলবে রেদওয়ান অপরিচিত না বহু বছরের পরিচিত সেই কথাটা বলার সাহসও হলো না।

জামশেদ এগিয়ে এসে রেদওয়ানকে উদ্দেশ্য করে রাগী গলায় বলল,

“কে মিয়া আপনি?আগেতো এই গ্রামে দেখেছি বলে মনে হয় না।ওর সাথে এত কিসের আলাপ?”

“ও আমার পরিচিত।আমরা একই গ্রামে থেকেছি।”

“তো?”

জামশেদের এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে রেদওয়ানের কি উত্তর দেয়া উচিত বুঝতে পারল না।ওর কথার দ্বারা তো পরিষ্কার বোঝা গেল যে পূর্ব পরিচিত বলেই কথা বলছিল তারপরও এই প্রশ্নটা করার মানে ঠিক বুঝতে পারল না।

“আপনার প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর আমার ঠিক জানা নেই।আমরা পূর্ব পরিচিত,অনেক বছর পর দেখা হয়েছে জন্য কথা বলছি।”

“আমার স্ত্রী কোন পরপুরুষের সাথে কথা বলুক সেটা আমার পছন্দ না বুঝতে পেরেছেন?আজ এই কথাটা বলে দিলাম মনে রাখবেন।ভবিষ্যতে আপনি যতই পরিচিত হন না কেন,যত বছর পরেই দেখা হোক না কেন ওর সাথে কথা বলবেন না।”

জামশেদের অগ্নিদৃষ্টি এবার নিক্ষেপিত হলো মুক্তার উপর যে ইতোমধ্যে ভয়ে গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।জামশেদ দাঁত পিষে বলল,

“তুমি জানো না যে আমি কি পছন্দ করি আর কি পছন্দ করি না?ছোটলোকি কারবার গেলো না তাইনা? এই অনুষ্ঠানের মাঝে দাঁড়িয়ে জামশেদ তালুকদার এর স্ত্রী পরপুরুষের সাথে এভাবে হেসে হেসে কথা বলছে এতে আমার মান-সম্মান থাকবে?”

মুক্তাকে কোন উত্তর দেওয়ারও সুযোগ দিল না জামশেদ।হাত ধরে একপ্রকার টেনে সেখান থেকে নিয়ে গেল।মুক্তা অশ্রু সিক্ত নয়নে একবার পিছন ফিরে শুধু রেদওয়ানের দিকে তাকালো।এই প্রথম রেদওয়ান এর মনে হলো মুক্তা ওকে অনেক কিছু বলতে চায়,অনেক কথা যেন না বলা রয়ে গেছে ওদের দুজনের মাঝে, অনেক বোঝাপড়া বাকি রয়ে গেছে।তবে সেগুলোর আজও সমাধান হলো না।রেদওয়ান হাঁ করে কিছুক্ষণ ওদের যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল।পুরোপুরি বোধগম্য হচ্ছে না তার যে মুক্তা কোন নরকের মাঝে আছে কি না।অবশ্য থাকলেই বা কি করবে?তার তো কিছুই করার নেই।সে তো আর আপন কেউ না।সে হলো পর।রেদওয়ানের কেন যেন আর এখানে থাকতে ইচ্ছে করলো না।যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে পিছনে এক কিশোরীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল যে রেদওয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।অপরিচিত মুখ।আগে কখনো রেদওয়ান দেখেছে বলে মনে পড়ছে না।প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আপনি কি আমায় কিছু বলবেন?”

“ভাবির সাথে আপনার কি সম্পর্ক?”

“কে ভাবি?”

“একটু আগে যার সাথে কথা বলছিলেন,মুক্তা।উনি আমার ভাবি হন সম্পর্কে।”

“ও আচ্ছা।আসলে আমরা একই গ্রামে থাকতাম।প্রতিবেশী বলতে পারেন।অনেক বছর হলো কথা হয়না।”

“শুধুই কি প্রতিবেশী?মানে শুধু প্রতিবেশীর সঙ্গে এত বছর পর দেখা হলে চোখে জল আসে এটা কি স্বাভাবিক?”

রেদওয়ান আন্দাজ করতে পারলো যে জুঁই কিছু একটা সন্দেহ করছে।তবে চাইলো না জুঁইয়ের কাছে ধরা পড়তে।কেননা জামশেদের ব্যবহারে বুঝতে পারলো যে মুক্তার সংসার জীবন খুব একটা ভালো না।সেখানে এখন ওর ননদের কাছে যদি বলে যে রেদওয়ান একসময় মুক্তাকে পছন্দ করত তাহলে হয়তো ওরা এটা বিশ্বাসই করবে না যে মুক্তা কখনোই রেদওয়ানকে সেই নজরে দেখেনি।ভালোবাসাটা সারা জীবন একপাক্ষিক ছিল।না বোঝার ভান করে মুখে হালকা হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“ঠিক বুঝলাম না আপনার কথাটা?”

“আপনি প্রাপ্তবয়স্ক,আমার এই সাধারণ কথাটা বুঝবেন না এতটা বোকা আপনি হতেই পারেন না সেটা আপনার এই হাসিটাই প্রমাণ করে দিল।যদি আপনি আমার কথা না বুঝতেন তাহলে আপনার চোখে মুখে একটা কৌতুহল থাকতো কিংবা প্রশ্ন দেখা দিত কিন্তু আপনি আপনার এই হাসি দ্বারা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা হয়তো আমার থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন তাই না?”

রেদওয়ান বুঝলো এই মেয়ের সাংঘাতিক বুদ্ধি।এর থেকে কোন কথা গোপন করা বেশ মুশকিল হবে।তবে যতক্ষণ সম্ভব সে কোনোমতেই কিছু স্বীকার করবে না।রেদওয়ান কে চুপ করে থাকতে দেখে জুঁই পুনরায় বলে উঠলো,

“এখনো কি সত্যিটা লুকোবেন?”

রেদওয়ান স্বাভাবিক গলায় বলল,

“এখানে লুকোনোর মতন কোনো সত্যিই নেই।যেটা আমি আপনাকে বললাম সেটাই সত্যি।”

“বুঝতে পেরেছি কিছু বলবেন না।তা আপনার নামটা কি জানতে পারি?”

“রেদওয়ান মাহবুব।”

“ধন্যবাদ এতোটুকু বলার জন্য।আর আপনাকে বিব্রত করার জন্য দুঃখিত।আসছি।”

কথাটা বলে জুঁই নিজেই চলে গেল।জুঁই যেন ঝড়ের বেগে এসে ঠিক ঝড়ের বেগেই আবার চলে গেল। রিদওয়ান কে ঠিকঠাক ব্যাপারটা বুঝে ওঠার সুযোগও দিল না।রেদওয়ান আহাম্মক এর মতন কিছুক্ষণ জুঁইয়ের যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে নিজেও চলে গেল।

_____
“কালা!ঐ কালা দরজা খোল!”

জুঁইয়ের কণ্ঠ পেতেই জহির তাড়াহুড়ো করে ভেতর থেকে এসে দরজা খুলে দিল।এত রাতে জুঁই কে দেখে বেশ অবাক হলো সে সাথে একটু চিন্তিতও।এই অসময়ে কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হয়ে যেতে পারে। চিন্তিত গলায় বলল,

“এত রাতে আইসোস ক্যান?”

“চিন্তা করিস না এই রাতের বেলা তোর সাথে প্রেম করতে আসিনি।দরকার জন্য এসেছি।রাতের খাবার খাবে কে হ্যাঁ?”

“আমি তো বাতাসা আর পানি খাইছি,পেট ভইরা গেছে আর কিছু খামু না।”

“এখন শুধু আমার হাতে একটা থা/প্পড় খাওয়া তোর বাকি আছে তাহলে আর কখনো খিদেই লাগবে না।”

হারিকেনের হালকা আলোয় জুঁইয়ের অগ্নি দৃষ্টি জহিরের নজর এড়ালো না।বরাবরই জুঁইয়ের রাগের কাছে জহির ভয় পায়।মিইয়ে যাওয়া কন্ঠে বলল,

“এই ভাবে কইতাছোস ক্যান?তুই তাই বলে আমারে মা/রবি?”

“বেশি কথা বললে তাই করতে হবে আমায়।ধর খাবারটা খেয়ে নে।দুপুরের ঠান্ডা ভাত আর তরকারি আছে।রাতে তোকে দেব জন্য আলাদা করে তুলে রেখেছিলাম।”

জহির জানে এখন এই খাবারের থালাটা না নিয়ে কোন উপায় নেই।বরং যদি না নেয় তাহলে জুঁই এবারে প্রচন্ড চটে যাবে তাই হাতে নিল।

“আচ্ছা নিতাছি।তুই এখন যা।কেউ দেইখা ফেললে সমস্যা হইবো।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ যাচ্ছি।এত ভয় করিস কেন রে?একটু ছেলে মানুষের মতন বুকে সাহস নিয়ে বলতে পারিস না কেউ দেখলে দেখবে,তুই সামলে নিবি?তা না করে মেয়েদের মতন ভয় পাস।ধুর তোর সাথে প্রেম করে কোন মজাই নেই রে কালা।”

“এত মজা দিয়া কি করবি?আমি তোরে ভালোবাসি এইডাই কি যথেষ্ট না?এখন যদি জামশেদ ভাইজান দেইখা নেয় তাইলে তুইও মা/ইর খাইবি,আমিও মা/ইর খামু সেইডা কি ভালো হইবো?”

“তুই পাল্টা মারতে পারিস না কেন?এই যে আমায় মাঝেমধ্যে সিনেমা দেখতে নিয়ে যায় দেখিস না সিনেমার নায়করা কি সুন্দর মা/রামা/রি করে তুই পারিস না কেন?ওরা ছেলে তুইও ছেলে।”

“ছেলে হইলেই হয় না।ওই সিনেমার নায়করা জানে ওরা মা/রামা/রি করলেও ম/রবো না কিন্তু আমার তো কোন নিশ্চয়তা নাই যে আমি বাঁচুম।তোর লগে সংসার করন লাগবো না?তাইলে ম/রি কেমনে?”

জুঁইয়ের রাগটা কমে গেল।যাক অন্তত এই কথাটা তো বলেছো যে জুঁইয়ের সাথে সংসার করার জন্য বাঁচতে চায়।এটাই যথেষ্ট।জুঁইয়ের স্বভাবটাই এমন।এই জহিরের উপর রেগে যায় তো এই আবার ওর বোকা বোকা কথাগুলো শুনে রাগ গলে পানি হয়ে যায়।সবটাই হয়তো ভালোবাসার জাদু।ভালোবাসা না থাকলে হয়তো এমন কিছুই হতো না।

চলবে ইনশাআল্লাহ……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here