তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ২৫

0
28

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২৫
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
অনেকদিন পর আদর যত্ন পাওয়া বাচ্চাগুলো কিছুতেই ছাড়তে চাইলো না ঈশানিকে।ঈশানিকে জড়িয়ে ধরে তাদের কত আবদার যেনো চলে না যায়। ঈশানি ও একপর্যায়ে কেঁদে ফেললো। ইশ,বাচ্চাগুলো ভালোবাসার কাঙাল। কেউ নেই তাদের ভালোবাসার।ঈশানি ও জড়িয়ে ধরলো।কেঁদে উঠলো তারই সহচর্যদের জন্য।অবস্থা বেগতিক দেখে আরহান এগিয়ে আসলো।ঈশানিকে আগলে নিতে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসলো।একহাতে ঈশানিকে জড়িয়ে অন্যহাতে কয়েকটা বাচ্চাকে আগলে নিলো।তারপর বললো –
“আজ আপুকে যেতে হবে তো।তোমরা কান্না করছো তোমাদের আপু কষ্ট পাচ্ছে।তোমরা কি সেটা চাও?”

সব বাচ্চা একসাথে মাথা নাড়লো।অর্থাৎ তারা চায় না। আরহান মৃদু হাসলো।তারপর আবার বললো –
“তাহলে কেঁদো না।আমি তোমাদের আপুকে আবার নিয়ে আসবো।প্রমিজ।”

বাচ্চারা এবার খুশী হলো।ঈশানি ও আরহানকে জড়িয়ে ধরলো।কিছুক্ষণ পর তারা বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠলো। আরহান ঈশানির মুখ চোখ টিস্যু দিয়ে মুছিয়ে দিলো।তারপর পানি নিয়ে খেতে দিলো।ঈশানি তখনো মন খারাপ করে আছে। আরহান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো-
“খুব শীঘ্রই আবার নিয়ে আসবো তোমায় কেমন।মন খারাপ করে না।”

ঈশানি হাসলো একটু।তারপর আরহান গাড়ি চালানো শুরু করলো।অলিভিয়া ব্যাক সিটেই ছিল।তাকে যেনো কেউ ছুরিঘাত করলো।তার মনে হলো –নিজের ভালোবাসাকে এভাবে অন্যের বাহুতে দেখার আগে তার মরণ হলো না কেনো? সে যে ঘায়ের উপর ঘা সইতে পারছি না।
.
চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িংরুমে চায়ের আসর বসেছে।চায়ের আসরে উপস্থিত রয়েছে জাহিদ চৌধুরী, মিনারা বেগম ও আরহান।চা বানিয়ে নিয়ে আসে ঈশানি।সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা যায় অলিভিয়াকে। সে নিচে নেমে সোফার একসাইডে বসে পড়ে।ঈশানি তাকেও এক কাপ চা দেয়।জাহিদ চৌধুরী চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন আর ছেলের সাথে টুকিটাকি ব্যাপারে কথা বলছেন। অলিভিয়া সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হাল্কা কাশি দেয়।তারপর বলে –
“আমি আবার লন্ডন ব্যাক করবো।ওখানকার কয়েকটা হসপিটালে অ্যাপ্লাই করেছি।ভিসার জন্য ও চেষ্টা করছি।”

মিনারা বেগম মায়াভরা মুখে বললেন –
“বিদেশ বাড়ি একা গিয়ে করবে।দেশেই থাকো।”

অলিভিয়া মলিন হেসে বলে –
“দেশেও আমি একা,আন্টি।”

মিনারা বেগমের বড্ড মায়া হলো।সে অলিভিয়ার হাত ধরে বললেন –
“কেনো?আমরা কি কেউ না?”

অলিভিয়া হাসলো।কান্না কেমন দলা পাকিয়ে আসছে। সে কান্না গিলে কোনরকম বললেন –
“আপনারা আমার সবচেয়ে আপনজন।কিন্তু দেশে থাকলে আমার আরো বেশি কষ্ট হবে ,আন্টি।বিদেশের মাটিই ঠিক আছে আমার জন্য।”
একটু দম নিয়ে আবার বললো –
“অনেকদিন হয় এ বাড়িতে থাকছি। ভিসা হয়ে যাবে খুব শীঘ্রই।তাই বাকি কয়েকটা দিন আমি বাবার বাসায় থাকতে চাই। কাল সকালে আমি চলে যাবো।”

মিনারা বেগম নাকচ করলেন। কড়া করে বললেন –
“একদম না যেকোয়েকটা দিন দেশে আছো এবাড়িতেই থাকবে।একা একা থেকে ওখানে আরো গুমরে মরবে। তাই এখান থেকে যাওয়া নেই।”
“কিন্তু আন্টি….
অলিভিয়া কথা শেষ করতে পারে না।তার আগেই জাহিদ চৌধুরী বলেন –
“আর কোনো কিন্তু না।তুমি আমার আয়রা ঈশানির মতো।থাকতে কিসের বাধা তোমার।চলেই তো যাবে। যে কয়েকদিন আছো এখানেই থাকো।”

অলিভিয়ার চোখে পানি।একবার আরহানের দিকে তাকায়। আরহান ও ওকে থাকতে বলে। না চাইতেও আগুনের তাপে তাকে থাকতে হবে। যে আগুন থেকে দূরে যাওয়ার এতো আয়োজন,সে আগুনেই আরো কিছুদিন দহন হতে হবে ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে।
.
ঈশানির সময় যাচ্ছে ব্যাস্তভাবে।সামনেই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা। সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছে।তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে চান্স পেতেই হবে।

মাগরিবের নামাজ আদায় করে ঈশানি পড়তে বসেছে।কতক্ষন সময় পেরোলো ঈশানি জানে না। তবে ধরণীতে আধার নেমেছে। খটখট শব্দ করে আরহান প্রবেশ করলো রুমে। তাকে দেখে ঈশানি বই রেখে এগিয়ে আসলো।লোকটা আসলে ঈশানিকে সামনে সামনে থাকতে হয়।এমন না আরহান বলেছে করতে।ঈশানি নিজে থেকেই করে।সারাদিন পর লোকটার দেখা পায় সে।তার মন চায় সব ছেড়ে ছুট্টে শুধু লোকটার সাথে মিশে থাকতে তখন। আরহান কয়েকবার শক্তভাবে না করেছে যে,পড়াশোনা বাদ দিয়ে এসব করতে হবে না।পড়াশোনা আগে।কিন্তু ঈশানি শুনলে তো। এই যেমন এখন বই রেখে উঠে এসেছে। টাওযার ও টি – শার্ট এগিয়ে দিয়ে ছুট্টে নিচে গেছে ঠাণ্ডা পানি অথবা শরবত আনতে। আরহান সেটা খেয়ে শাওয়ারে যায়।ঈশানি সেই ফাঁকে কফি আনতে যায়।বেরিয়ে আসলে সেটা দেয়। আরহান কফি না নিয়ে আগে ঈশানির কপালে চুমু দেয়।ঈশানির হৃদয়ে শীতল পরশ বয়ে যায়।তারপর আরহানের ধমক খেয়ে আবার পড়তে বসে।এভাবেই যাচ্ছে ঈশানির মিষ্টি মধুর ছোট্ট সংসার।

রাত ১১ টা হবে বোধ হয়।ঈশানি গিয়েছিলো ছোটমার ঘরে। ছোটোমার কোমরে ব্যথা হয়েছে। সে গিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করে দিয়ে আসতে আসতে ১১:৩০ বেজে গেছে।নিজের রুমে ঢুকে ঈশানি হতবিহ্বল হয়ে পড়ে।দেখতে পায় অলিভিয়া তাদের রুমে। আরহানের আজকে মাথা ব্যথা হওয়ায় ওষুধ খেয়ে আগে আগে শুয়ে পড়েছে। আর অলিভিয়া ঠিক আরহানের মুখের উপর ঝুঁকে আছে। কারো আওয়াজ পেয়ে অলিভিয়া সোজা হয়ে দাঁড়ায়।ঈশানিকে দেখে অপ্রস্তুত হয়।তারপর অপ্রতিভ হয়ে বলে –
“আসলে আরহানের কাছে একটা দরকার এসেছিলাম। ও ঘুমাচ্ছে দেখে ডাকতে গিয়েছিলাম আর কি।”

ঈশানি শান্ত চোখে চেয়ে দেখলো।তারপর কন্ঠ গম্ভীর করে বলে –
” ওনার মাথা ব্যথা।কালকে বলো আপু।”

অলিভিয়া হাসার চেষ্টা করে বলে –
“ওহ্ আচ্ছা।ঠিক আছে।”
বলে একপ্রকার পালিয়ে চলে যায়।ঈশানির নারিহৃদয় মানলো না এটাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে। তার রাগ হলো,ভয় হলো।রুমের দরজা আটকে লাইট অফ করে সে আরহানের পাশে শুয়ে পড়লো।অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করেও ঘুম আসছে না।তার মন অস্থির হয়ে আছে।সে কি অহেতুক ভয় পাচ্ছে? আরহানকে হারানোর ভয়টা কি অহেতুক?এসব প্রশ্ন মস্তিষ্ক জরাজীর্ণ।তখনো একজোড়া হাত তার কোমড় পেঁচিয়ে ধরলো।কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদু ঘুমঘুম কন্ঠে বলে –
“কি ব্যাপার,বউ?ঘুম না এসে কিসের এতো অস্থিরতা?”

ঈশানির এবার কেনো যেন কান্না পেলো।সে আরহানের বুকের ভেতর ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করলো।সেথায় একটা চুমু দিয়ে বলে –
“আপনি ইদানিং আমার থেকে দূরে দূরে থাকছেন। এই দুরত্ব আমার সহ্য হচ্ছে না।”

আরহান অবাক হলো। এই মেয়ে কি বলে। এই মেয়ের থেকে দুরুত্বের মানে জানে সে? আরহান আরো ঘনিষ্ঠভাবে ধরলো ঈশানিকে।গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে বলে –
” তোমার থেকে দুরত্বে যাওয়া অসম্ভব বউ। তোমার পরীক্ষা সামনে সংসার স্বামীর থেকে তোমার মনোযোগ পড়াশোনায় দেয়া উচিৎ।”

ঈশানির নিশ্বাস ভারী হলো। আরহানের মাথার পেছনের চুল আঁকড়ে ধরলো। আরহান যেনো কোনো অঘোষিত সংকেত পেলো।নিজের ভালোবাসায় সিক্ত করলো ঈশানিকে।যেনো সকল অভিযোগ মুছে দিতে চাচ্ছে প্রতি স্পর্শে।ঈশানি যেনো নিজের ভয়কে ,অস্থিরতাকে মেলে ধরলো।মধ্যরাতে বদ্ধ ঘরে ভেসে গেলো দুজনে প্রেমাসাগরে।
.
আজকে কোচিংয়ে মিথিলা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি চুপচাপ।ক্লাস চলছিলো বলে ঈশানি বেশি গুরুত্ব দেয়নি।ক্লাস শেষ হলে ঈশানি সবার আগে মিথিলাকে চেপে ধরে।মিথিলা ঝরঝর করে কেঁদে দেয় ঈশানিকে জড়িয়ে।সে অনেক অবাক হয়। এই মেয়ে কাদঁছে কেনো।মিথিলা একটু সময় নিয়ে কান্না কমিয়ে বলে –
“আব্বুর বন্ধুকে আব্বু কথা দিয়েছে তার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিবে।ছেলে নাকি বাহিরে যাবে তাই কয়েকদিনের মধ্যে ঘরোয়াভাবে বিয়ে দিতে চাচ্ছে ,ঈশানি।”

মিথিলা আবার কেঁদে উঠলো।ঈশানি বুঝলো ব্যাপারটা।মিথিলাকে সামলিয়ে বলে –
“অভ্র ভাইয়াকে বলেছিস এব্যাপারে।”

মিথিলা এবার করুনচোখে চাইলো।তারপর বলে –
“ওর এমবিবিএস এখনো শেষ হয়নি ,ঈশানি। আমি কিভাবে ওকে কি বলবো?”
“কিন্তু না বলে এভাবে কষ্ট পেয়ে লাভ কি?ভাইয়াকে বল।আমার বিশ্বাস ভাইয়া একটা ব্যবস্থা করবে।”
“ও কিছু করবে আমি জানি।কিন্তু ওর ক্যারিয়ার আমি কি করে রিস্কে ফেলি বল।”
“তাহলে কি বিয়ে করে নিবি?”

মিথিলা আঁতকে উঠে।তারপর বলে –
“কিছুতেই না।বিয়ে করলে একমাত্র ওকেই করবো।কিন্তু আমার ভয় হয় বাবা কি মানবে?”

ঈশানি জিজ্ঞেস করে –
“না মানলে তবে?”

মিথিলা উত্তর দেয়না।চেয়ে থাকে শূন্যে। তখনি তার ফোন বেজে উঠে।তার পাগল প্রেমিক কল করেছে।মিথিলার চোখ থেকে আরো দুফোঁটা তপ্ত পানি গড়িয়ে পড়ে।ঈশানি চেয়ে দেখে প্রেমের বেদনা।
.
আজ দিনটা শুক্রবার।ঈশানির কোচিংয়ে আজ সাপ্তাহিক টেস্ট আছে।যেটা বিকেলে হয়।মিথিলা দুদিন থেকে কোচিংয়ে আসে না।সেদিন অভ্রের সাথে সম্পর্কের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাসায় সে।কিন্তু তার বাবা এ সম্পর্কে মানবে না।প্রথমটি সে কথা দিয়েছে তার বন্ধুর কাছে।কথার খেলাপ কোর সম্ভব না।দ্বিতীয়ত অভ্রদের পরিবার তথাকথিত বড়লোক পরিবার নয়।তারা মধ্যবিত্ত।বাবার ছোট্ট একটা ব্যবসা আছে সেটা দিয়েই ছেলেকে মানুষ করছে।স্বপ্ন তাদের ছেলে মস্ত বড় ডাক্তার হবে।কিন্তু এতে পোষাবে না মিথিলার বাবার।তাই ভদ্রলোক মিথিলার বাড়ি থেকে বেরোনোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।ঈশানির সাথে কথা হয়নি।সেদিন কেঁদে কেটে এতটুকু বলার পর থেকেই ফোন বন্ধ মেয়েটার।ঈশানির এটা নিয়ে ভীষন মন খারাপ ও কষ্ট পাচ্ছে।

ঈশানি রেডি হয়েছে।প্রতি শুক্রবার তাকে কোচিংয়ে নিয়ে যায় আরহান নিজে।আবার নিজে দাড়িয়ে থেকে নিয়ে আসে।যেহুতু শুক্রবার শুধু ওদের পরীক্ষা হয় একঘণ্টার। আজ আরহান সকাল থেকে বাড়ি নেই।অলিভিয়ার সাথে গেছে।অলিভিয়া নিজের পিতৃ সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করতে চায় বিদেশ যাওয়ার আগে।সেটার জন্য আর হান গিয়েছে সাথে।
সে এখনো অলিভিয়াকে নিয়ে ভয়ে আছে।কিন্তু সেরকম কোনো কিছু কখনো ঘটেনি বা তার নজরে পড়েনি।তাই সে ধরে নিয়েছে তার অবচেতন মনের কারসাজি এগুলো।সেদিন থেকে সে যথা সম্ভব এই ব্যাপারগুলোকে স্বাভাবিক নেয়ার চেষ্টা করে।তবুও কিছু একটা কিন্তু থেকে যায়।ঈশানি জোর করে পাত্তা দিতে চায় না।
সে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে।
.
ঈশানির পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৩০ মিনিট হবে।কিন্তু আজ হঠাৎ আবার কোচিংয়ের চেয়ারম্যান এসেছে।তিনি তখন থেকে বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় মাগরিবের আগে আগে তাদের ছেড়ে দেয়।ধরণীতে তখনো পুরোপুরি আধার নামেনি।
ঈশানি বাহিরে বের হয়।চারদিকে নজর বুলিয়ে দেখে গাড়ি নেই।ঈশানি ভাবলো হয়তো এক্ষুনি চলে আসবে।তাই সে দাড়িয়ে অপেক্ষা করলো কিছুক্ষণ।কিন্তু সময় গড়িয়ে অনেকক্ষণ যাওয়ার পরও গাড়ির দেখা পায় না।ঈশানি এবার কপাল কুচকায়।একটু টেনশন ও ভয় কাজ করে ভিতরে।তারপর উপরে স্বাভাবিক রেখে এগিয়ে যায় রাস্তার দিকে।উদ্দেশ্য রিক্সা নিয়ে চলে যাবে।
রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে সে একটি রিক্সা থামায়। জায়গার নাম বলে সে উঠে পড়ে।শহরে তখন আধার নেমেছে।রাস্তার স্ট্রিট লাইটে উজ্জ্বল হচ্ছে চারপাশ।এরকম রাতের বেলা ঈশানি কখনো একা বের হয়নি।মনে তার একটু ভয় চাপলো। তবুও সে বেশি পাত্তা দিলো না।কাছেই তো । সে ঠিক চলে যেতে পারবে।
কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ রিক্সা থেমে গেলো।ঈশানি রিক্সাওয়ালার উদ্দেশ্যে বলে উঠে –
“কি ব্যাপার মামা?রাস্তার মাঝখানে থামিয়েছেন কেনো?”

রিক্সাওয়ালা মামা ভয়ে ভয়ে বলেন –
“সামনে কারা জানি দাড়ায় ,আপা।”

ঈশানি সামনে তাকায় কয়েকজন ছেলে মুখোশ পড়ে দাঁড়ানো।ঈশানির বুকের ভেতর ধক করে উঠল।আতঙ্কিত মুখে সামনে চাইলো। এ রাস্তায় তুলনামূলক নির্জন।মানুষ কম।মাঝে কয়েকটা প্রাইভেট কার যাচ্ছে।ঈশানি নামেনা।ছেলেগুলো সামনে এগিয়ে আসে।ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে তার।ছেলেগুলো এসে ঈশানির হাত ধরে নামায়।ঈশানি হাত ঝাড়া দিয়ে উঠে।তারপর কর্কশ কন্ঠে বলে –
“কে আপনারা?রাস্তা কেনো আটকেছেন? হাত ছাড়ুন।”

ছেলেগুলো সমস্বরে হেসে উঠলো।মাঝের একটা ছেলে নিজের মুখের গামছা নামালো।ঈশানির শরীর ভয়ে একটা ঝাঁকি দিলো।আত্মার পানি শুকিয়ে গেলো।তার ষষ্ঠইন্দ্রিয় তাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে পালানোর জন্য।কোনো একটা অনিষ্ট হতে চলছে।

~চলবে

{ভুল – ত্রুটি মার্জনা করবেন।একটু বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।পেজের রিচ কমে যাচ্ছে।😔}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here