#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩৮|
#শার্লিন_হাসান
নতুন বাড়ির সামনের গেটের উপর খোদাই করে লেখা, “শেখ নিবাস”।
শেখ পরিবারের সবাই সেখানে শিফট হয়েছে পাঁচ দিন হলো
বেশ কয়েকদিন গিয়েছে, সব গোছানোর কাজে।
ফারিশের সাথে ইলমার বিয়েশাদি নিয়ে কথাবার্তা চলছে আড়ালে। এনগেজড হলেও, বিয়ে হতে দেরি আছে। ফারিশ ইনান শেখকে আশ্বাস দিচ্ছে, ” আজ হোক বা কাল, ইলমাকেই সে বিয়ে করতে রাজী। অন্য কোথাও যাতে না দেখে।”
এসব কথাবার্তার মাঝে হুট করে একদিন দু’জন মহিলা এবং একজন যুবক আসে শেখ নিবাসে। তারা এসেছে শেষ বিকেলে। সেই মানুষগুলো আর কেউ না। জয় আবরণ, শায়েলা পুষ্প এবং সোহেলী রহমান। তিনজন এসেছে শেখ পরিবারে মেয়ে দেখতে।
হুটহাট আসায়, অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঈশিতা এবং ফরিদা পারভীন। যেহেতু এর আগে একবার ফারিশের জন্য মেয়ে দেখার উদ্দেশ্য জয়দের বাড়িতে ফরিদা পারভীন এবং তৃপ্তির যাওয়া হয়েছিলো, তারা পূর্বপরিচিত ধরা যায়। জয় এসেই বিশাল লিভিং রুম পরখ করে। বাড়িটার প্রতিটা কোণা সুসজ্জিত।
ইলমা,তৃপ্তি তারা রুমে। আদনান বাসায় নেই। দরকারে বাইরে গেছে। ইনান শেখ এবং তারেক মাহমুদ বাসায় ফিরেছেন জয়দের আসার কিছুক্ষণ আগে। এখন জয়ের মা,চাচির সাথে কথা বলছেন। ঈশিতা হরেক রকমের নাশতা এনে সাজিয়েছেন।
মাগরিবের আজান পড়েছে কিছুক্ষণ আগে। বেশ খানিক সময় পেরিয়ে গেছে। জয় তার আম্মুকে চোখ দিয়ে ইশারা করছে, ইলমার কথা তোলার জন্য। শায়েলা পুষ্প ছেলের ইশারা বুঝেন। এককথা-সেকথার মাঝে বলেন, “আপনাদের বাড়ির মেয়েদেরকে দেখলাম না। কোথায় তারা?”
ইনান শেখ জবাব দেন, “রুমে আছে।”
“আসতে বলুন?”
“নামাজ পড়া শেষ হলে, ডাকব। আপনারা প্লিজ নাশতা খান।”
বেশ মার্জিত ভাবেই বলা হয়েছে। জয় মেঝেতে নক খুঁটছে। তার তর সইছে না কখন ইলমাকে দেখবে। বিয়েশাদির কথা পাকাপোক্ত করবে। সে খুব ভালো করে জানে, ফারিশের সাথে ইলমার বিয়ের কথাবার্তা হয়েছে। এমনকি এটাও জানে, আদনান ইলমাকে ভালোবাসে। সব জেনেই সে বিয়ের প্রস্তাব এনেছে। কখনো ভাবেনি, আদনানদের বাড়িতে তার আসা হবে। কিন্তু নিজের জেদ,প্রতিশোধের তাড়নায় তাকে আসতেই হলো। জেদের বশেই সে ইলমাকে বিয়ে করতে চাইছে, যেকোন মূল্যে। বিয়ে করবে, কয়েকদিন ইউজ করবে এরপর কাবিনের টাকা ছুঁড়ে, ডিভোর্স লেটার ধরিয়ে দিবে। শুধুমাত্র আদনানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ফারিশকে নিয়ে সে চিন্তা করছেনা। একদম কুল! নিজের প্ল্যানিং সাকসেস না হওয়া পর্যন্ত জয়ের শান্তি নেই।
বেশ খানিক সময় পেরিয়ে যাবার পর ইনান শেখ ইলমার রুমে আসেন। ইলমা নামাজ শেষ করে বসেছিল। ইনান শেখকে দেখে একগাল হেঁসে বলে, “কিছু বলবে?”
“হ্যাঁ। তোমাকে আর তৃপ্তিকে দেখার জন্য দু’জন এসেছে। লিভিং রুমে আসো।”
ইলমা মেঝেতে দৃষ্টি স্থির করে। জবাব দেয়না। ইনান শেখ মেয়ের দিকে তাকায়। ভালো মতন মেয়েকে পরখ করে বলেন, “তোমার মন খারাপ?”
“না।”
“আরেহ্ আসো। চিন্তা করোনা তোমাদের বিয়ে দিচ্ছিনা।”
ইলমা চুপ। ইনান শেখ মেয়েকে তাড়া দেন। ইলমা বাবার পেছন দিয়ে হেঁটে আসে। জয় ইলমাকে দেখে বসার জন্য জায়গা করে দেয়। কিন্তু ইলমা সেদিকে না তাকিয়ে তার বাবার পাশে বোসে। শায়েলা পুষ্প এবং সোহেলী রহমান এক সোফায় বসায়। ইলমাকে মাঝে বসার জন্য জায়গা করে দেন। ইনান শেখ চোখ দিয়ে ইশারা করে বসার জন্য। ইলমাও বাধ্য মেয়ের মতো বসে পড়ে। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে তৃপ্তিকে খোঁজে। সে ফাইজার পাশে দাঁড়ানো।
জয় নড়েচড়ে পুনরায় স্থির হয়ে বসে। কিছুক্ষণ পরপর ইলমার দিকে তাকাচ্ছে। শায়েলা পুষ্প ইলমাকে বলেন, “তুমি ভীষণ মায়াবী।”
ইলমা মাথা নাড়ায়। তখন শায়েলা পুষ্প কথা তোলেন, “আপনার মেয়েকে আমার বাড়ির পুত্র বঁধু করতে চাই।”
ঠিক সেসময় মেইন ডোর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আদনান। হাতের চাবির গোছা আঙুলের মাথায় নিয়ে ঘোরাচ্ছিল। শায়েলা পুষ্পর কথা কর্ণকুহর হতে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। জয়কে দেখে দপ করে মাথায় আগুন ধরে যায়। তারউপর শায়েলা পুষ্পর কথা তার মেজাজ খারাপ করার জন্য যথেষ্ট ছিলো।
জয় আদনানকে দেখে বাঁকা হাসে। সবার নজর আদনানের দিকে যায়। সে এগিয়ে আসে। ইনান শেখের চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কী হচ্ছে এখানে?”
সবাই বিরক্ত হয়। তারেক মাহমুদ বলেন, “অতিথি এসেছে দেখছ না?”
আদনান বাঁকা হেঁসে জয়ের দিকে তাকায়। ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে, “আরেহ নারী দরদি সমাজসেবক, সদরঘাটের প্রেমিকনারীর জন্য বিয়ের প্রস্তাব এনেছে। মেশিনের পাওয়ার কী লো হয়ে গেছে? সেজন্য বিয়েশাদি করতে চাইছে।”
কথাটা বলে জয়কে উপরনিচ পরখ করে আদনান। ইনান শেখ বিরক্ত হোন। আদনানকে ধমকে বলেন, “কোথায় কী বলতে হয় জানো না? বেয়াদবি সব জায়গায় সবসময় খাটে না।”
ইনান শেখের কথা শেষ হতে জয় বলে, “আমার ব্যপারে আজীবন বদনামই করে যেতে পারবি আর কিছু…
আদনান চোখমুখ কঠোর করে নেয়। গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলে, ” আর কিছু কী?”
এগিয়ে যায় জয়ের দিকে। জয় দাঁড়িয়ে যায়। আদনান রক্তচক্ষু করে জয়কে বলে, “এক্ষুনি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি।”
“গেস্ট দের সাথে কীরকম বিহেভিয়ার করতে হয় শিখিসনি? তোর পারিবারিক শিক্ষা এতো নিচু জানা ছিলো না। ছিঃ!”
আদনান এগিয়ে আসে। জয়ের কলার চেপে ধরে বলে, “তোরটা এতো ভালো সেজন্য যেই মেয়ের বিয়ে ঠিক তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিস।”
আদনানের কথায় জয় হো হো করে হেঁসে উঠে। ফিসফিস করে জবাব দেয়, “সুযোগ সবসময় আসেনা। যখন আসে, সেটা কাজে লাগাতে হয়।”
ইনান শেখ এগিয়ে আসেন। তারেক মাহমুদ আদনানকে জয়ের থেকে ছাড়িয়ে নেন। বাকীরা সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। শায়েলা পুষ্প আদনানকে দেখে বলেন, “আপনাদের সুশীল পরিবারের ছেলে এতো বিগড়ানো জানা ছিলোনা।”
আদনান জবাব দেয়, “বলার জন্য ধন্যবাদ। এখন আপনার সুশীল ছেলেকে নিয়ে আসতে পারেন।”
“দেখলাম ছেলের ব্যবহার?”
ইনান শেখ আদনানকে চোখ রাঙিয়ে বলে, “থামবে তুমি?”
“নাটক করবেন না।”
আদনানের পাল্টা জবাবে তারেক মাহমুদ তাকে ঠেলে বিদায় করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। আদনান বাবার দিকে তাকায়। তারেক মাহমুদ ছেলেকে বলেন, “ঝামেলা করে লাভ নেই। ইনানের চোখে তুমি কোনদিন ভালো হতে পারবে না। আর ইলমাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দাও।”
“ওই শালী একটা নিমকহারাম। ওর বাপ একটা মাথামোটা।”
“চুপ। একটা কথা না।”
আদনানকে নিয়ে সরে আসতে ইনান শেখ শায়েলা পুষ্পর উদ্দেশ্য বলেন, “স্যরি, ও একটু ঘাড়ত্যাড়া। কিছুই মুখে আটকায় না।”
“বুঝেছি। এখন আসল কথায় আসি।”
শায়েলা পুষ্পর কথায় ইনান শেখ বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছিনা। আপনারা এসেছেন, আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন খুশি হয়েছি।”
ইনান শেখের কথায় জয় জবাব দেয়, “বিয়ে কেন দিবেন না?”
“আপনারা না জেনে এসেছেন। আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক।”
মূহুর্তে জয় রেগে যায়। ইনান শেখের দিকে তাকিয়ে বলে, “জয় আবারণ নিজের ইচ্ছেপূরণের জন্য যেখানে পদধূলি দেয়, সেখান থেকে খালি হাতে ফিরে না। ভালোয়,ভালোয় রাজী হয়ে যান।”
জয়ের ব্যবহারে শায়েলা পুষ্প ধমকে উঠেন। জয় তার মাকে হাত বাড়িয়ে, থামিয়ে দিয়ে ইনান শেখের দিকে তাকায়। ইনান শেখ জয়ের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হোন। চোয়াল শক্ত করে বলেন, “অনেক বলেছ। এবার আসতে পারো।
থেমে,
আপনাকে বলছি, ছেলেকে ভালোভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিবেন। ছোটবেলায় শিক্ষাদীক্ষা কম পড়েছে সেজন্য এমন বেয়াদব।”
জয় তেজ দেখিয়ে বলে, “আপনার মেয়েকে আমার পছন্দ হয়েছে। বিয়ে করব আমি।”
“আজব! বলছি তো মেয়ে বিয়ে দিব না। এভাবে কথা বলার অধিকার তোমাকে দেওয়া হয়নি।”
“আপনার ধারণা নেই আমি ঠিক কী করতে পারি। ”
“এখন আমার বাড়ির চারদেওয়ালের বাইরে গিয়ে মুক্তি দাও।”
জয় ইলমার দিকে তাকায়। ইনান শেখকে বলে, “রাজী হয়ে যাবেন। নাহলে রাজী করানোর সকল উপায় আমার জানা আছে।”
জয় বেরিয়ে যায় তার মা-চাচিকে নিয়ে। সোহেলী রহমান ভয়ে কিছু বলেননি। শায়েলা পুষ্প স্থান ত্যাগ করে জয়কে বকা শুরু করেন। জয় সেসব শুনেছে,কিন্তু কোন জবাব দেয়নি।
জয়েরা চলে যেতে আরেক ঝামেলা শুরু হয় ফাইজা এবং ইনান শেখের মাঝে। সেটাও ইলমাকে নিয়ে। এই নিয়ে ফরিদা পারভীন সহ ফাইজার সাথে তর্কবিতর্ক করে।
ইলমা এসব কান্ড দেখে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সবাই যে যার মতো ঝগড়া করে নিজ,নিজ রুমে চলে যায়। ইলমা লিভিং রুমের সোফায় বসে সবার যাওয়া দেখছে। এই বিয়ে নিয়ে এতো ঝামেলা তার ঠিক সহ্য হচ্ছেনা। একদিকে তার বাবা! ফারিশের সাথে তার বিয়ে-শাদির ব্যবস্থা করছে। অন্যদিকে জয় করছে ঝামেলা। আরেকদিকে আদনান! সব মিলিয়ে নিজেকে ঠিক পাগল, পাগল লাগছে।
আদনান হুট করে তার সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনো স্পষ্ট বলছে না, সে ইলমাকে চায় কী চায় না। যেখানে ভরসার হাত নেই, সেখানে ইলমা তার বাবাকে জোর দিয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা।
অন্যদিকে, সারাজীবন বাবার সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে এই অব্দি এসেছে। সেখানে বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধন নিয়ে, বাবার মতের বিরোধিতা করতে পারত, যদি তার বাবার চোখে আদনান নূন্যতম ভালো ছেলে হতো। আজীবন ঝুটঝামেলা, ঝগড়াঝাঁটি।
মুখটা ভার করে সোফায় বসে আছে ইলমা। কিছুই ভালো লাগছেনা। সামনের দিকে তাকিয়ে নিজের হাত দু’টো মেলে ধরে। নিজের মুখে হাত বুলায়। সে তো দেখতে আহামরি সুন্দর না, তবুও কেন এতো ঝামেলা তাকে নিয়ে? তৃপ্তি তার থেকে হাজার গুণ বেশি সুন্দর, কই তাকে নিয়ে তো এতো ঝামেলা হচ্ছেনা।
ইলমা রুমে আসে। পড়ার টেবিলের সামনে চেয়ার টেনে বসে। কিছুই ভালো লাগছেনা। ফোন হাতে ফেসবুক স্ক্রোল করছে। আদনানের ফেমাস আইডিটা ভিজিট করে। এই মূহুর্তে আর কমেন্ট সেকশনে যায়নি ইলমা। এমনিতে মন খারাপ! তারউপর এসব রঙবেরঙে কমেন্ট দেখার ইচ্ছে নেই তার।
ইলমা ফোনে মগ্ন। তখন ইনান শেখ তার রুমে আসে। ইলমা উপস্থিতি টের পেলেও তাকায়না। ইনান শেখ এসে ইলমাকে বলে, “এসব ব্যপার নিয়ে একদম ভেবো না।”
“বাবা প্লিজ! অনেক নাটক হয়েছে। আমি বিরক্ত হচ্ছি। একে তো আমার জন্য তোমাদের মাঝে দূরত্ব, তারউপর আমার জীবনে একটা না,একটা ঝামেলা এমন ভাবে লাগছে যেখানে ইজাজের আম্মু আমার ব্যপার নিয়ে তোমাকে কথা শোনাতে দুবার ভাবতে হচ্ছেনা।”
“ওর কথায় কান দিওনা।”
“আজকে? ওই জয় যে থ্রেট দিয়ে গেলো, তুমি ভাবছনা? ও আমার, তোমার ক্ষতি করতে দু’বারও ভাববে না।”
“রিলেক্স! আমি আছি তো তোমার পাশে। ”
“হ্যাঁ, দুইদিন পর কারোর হাতে আমাকে তুলে দিবে। তার ভরসায় আমাকে বাইরে বেরুতে দিবে। বাবা আমি কারোর ভয়ে গুটিশুটি মেরে নিজের সাথে বডিগার্ডের মতো কাউকে নিয়ে বেরুতে চাইনা।”
“আমি জয়ের নামে মামলা দেব।”
“ওর বাবা এমপি! আর তুমি এডভোকেট। ওদের সাথে ঝামেলায় জড়ানোর মানেই হয়না। আমি তোমার ক্ষতি হোক সেটা চাইনা।”
“আচ্ছা বুঝলাম।”
“কী আচ্ছা বুঝলাম?”
“তুমি চিন্তা করোনা।”
“সরো। আমার ভালো লাগছেনা কিছু।”
“তাহলে বাইরে সুইমিংপুলের সামনে আসেন আম্মাজান। পানিতে পা ভিজিয়ে গল্প করব। আপনাকে আমার উকালতি জীবনের কিছু গল্প শোনাব।”
“ভালো লাগছেনা। অন্যসময়। তুমি যাও তো!”
ইলমা একপ্রকার তাড়িয়ে দেয় ইনান শেখকে। ইনান শেখও মেয়ের তাড়া খেয়ে বেরিয়ে যায়। ইলমার ইনান শেখকে তাড়ানোর মূল কারণ, আদনানের ম্যাসেজ এসেছে হোয়াটসঅ্যাপে। বহুমাস পরেই এসেছে ম্যাসেজ। কারণ, অনেকমাস তাঁদের যোগাযোগ সাথে সামনাসামনি কথাবার্তা বন্ধ ছিলো। বাড়ি শিফটের উছিলায়, টুকটাক ঝগড়া হয়েছে। ইলমা ম্যাসেজ সীন করে। আদনান এখানেও গালি দিয়ে লিখেছে, “কীরে শালী, শোনলাম টেপলার সাথে তোর বিয়েশাদি ঠিক। আজকে আবার তোর বিগফ্যান, জয় আবরণ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। কী লাক তোর বাবা! আমার লাক দেখ, একটাও বিয়ের প্রস্তাব আসছেনা।”
“আমাকে ম্যাসেজ দিবি না।”
“আচ্ছা ম্যাসেজ দিব না। তবে একটা আইডিয়া দেই।”
“লাগবেনা।”
“এই শালী চুপ।”
“ভাষা ঠিক করো।”
“সেটা নিয়ে তোর ভাবতে হবেনা। শোন, টেপলা কিন্তু কনসার্টে মেয়েদের জড়িয়ে ধরে। আরো অনেককিছু করে। তোর বাবাকে বল।”
“আরকিছু?”
“এই শালী, আমার কাছে প্রমাণ আছে।”
“হ্যাঁ, তো প্রমাণ গলায় ঝুলিয়ে বসে থাকো।”
“তুই বিয়েতে রাজী?”
“আমার কোন প্রেমিক পুরুষ নেই যে, তারজন্য বিয়ে ভাঙব।”
“বেশ তো! শাদী মুবারক মিসেস …”
#চলবে
(শাদী মুবারক জেহেরা ইলমা ম্যালিসা উঁহু…
মিসেস অমুক-তমুক।😉
সবাইকে ঈদ মুবারক।❤️ সবাই আদনান-ম্যালিসাকে নিয়ে লেখা বইটা নিচ্ছেন তো? রেড ফ্ল্যাগ আদনানকে একদম মিস করবেন না। বইয়ের গল্পটা সুন্দর। আশা করি সবার পছন্দ হবে। হুবহু আদনানকে বইয়েও পাবেন। তার চরিত্রটা এরকম উড়নচণ্ডী,রেড ফ্ল্যাগ রাখা হয়েছে। বইয়ের সাথে আমার লেখা চিরকুট পেতে প্রি-অর্ডার করে নিবেন আপনার পছন্দের যেকোন বুকশপে।❤️)
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

