গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা (বোনাস পর্ব)

0
53

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা (বোনাস পর্ব)

পূর্ব আকাশে এক টুকরো আলোর ছটা দেখে দিয়েছে। শ্যামল সতেজ গাছগুলোর পাতা নড়ে ঠান্ডা বাতাস বইছে চারদিকে। এই সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে আদনানের চোখমুখ হাত বোলাচ্ছে আইজা। আদনান তখনও গভীর ঘুমে তলানো। তার হাতের উপর ইলমার মাথা। আইজা মাঝে থাকলেও এখন আদনানের বুকের উপর উঠে তার চোখমুখ খামচাচ্ছে। বাবা-মা কারোর কোন সারাশব্দ না পেয়ে এবার আইজা শব্দ করে কেঁদে উঠলো। মেয়ের কান্নার শব্দ কানে পৌঁছাতে আদনান ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। আইজা বুকের উপর থাকায় তাকে কোলে নিতে বেশি সময় লাগেনি। ঠেলে ইলমাকে জাগায় আদনান। ইলমা চোখেমুখে ঘুমের রেশ নিয়ে জেগে উঠে। আইজা ইলমার দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। ইলমা নাক মুখ কোঁচকায়। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “এ্যাই আমার মেয়ে কখন ঘুম থেকে উঠেছে? ও কান্না করছে আর তুই ঘুমাচ্ছিস?”

“তুমিও তো ঘুমাচ্ছ।”

“মেয়ে সারা রাত আমি সামলাই তো ঘুমাব না?”

ইলমা বিরক্ত হয়। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, “দেখো, তোমার বাবা খোঁটা দিচ্ছে।”

আইজা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রাখে। আদনান মেয়েকে কোলে নিয়ে উঠে ব্যালকনিতে যায়। বাইরের ঠান্ডা বাতাস বাবা-মেয়ের চোখে মুখে এসে উপচে পড়ে। আদনান মেয়েকে এটা ওটা বলছে। পুরো নাম ‘শেখ আইজা মেহরুজ’ আদনান এবং ইলমার নামের সাথে মিলিয়ে নামটা আদনান নিজেই রেখেছে। (ইবইয়ের অংশ)

আইজার বয়স এখন চৌদ্দমাস। বসতে পারে, আবার আধো আধো বুলিতে কথাও বলে। তার বিশেষ গুণ কেউ তার সামনে কথা একটা বললেই সে হেঁসে উঠে। দেখতে,আদনানের কার্বন কপি। ইলমার সাথে তার চেহারার কোন মিল নেই। আদনানের মেয়ে আদনানের মতন হয়েছে এই নিয়ে আদনানের খুশির শেষ নেই। সাথে অহংকার তো আছেই বটে। আইজার আগমন আদনানের কাছে সুস্বপ্নের মতন। কখনো এসব বাচ্চা নিয়ে সে ভাবেনি। কোলেও নেয়নি, সেজন্য বাচ্চা সম্পর্কে তার আইডিয়া শূন্য ছিলো। আইজা আসার পর সব পাল্টেছে। তার ধ্যাণ, ধারণা,মায়া,ভালোবাসা। আদনান তার মেয়ে বলতেই অজ্ঞান। মেয়েকে নিয়ে সারাদিন সময় কাটাতে রাজী আদনান। তার বিরক্ত লাগেনা। বরং ভালো লাগে। আর এক আইজাকে কোলে নেওয়া নিয়েও ইলমার সাথে ঝগড়ার শেষ নেই তার।

আদনান রুমে আসে। ইলমা রুম গুছিয়ে সবে দাঁড়িয়েছে। আইজাকে নিঃশব্দে আদনানের কোল থেকে নিতে মেয়ে কেঁদে উঠে। যা দেখে আদনান শব্দ করে হাসে। মেয়েকে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। ইলমাকে আদেশ করে বলে, “তুই যা,আমার মেয়েকে আমি রাখছি।”

“আরেহ ওকে রেডি করিয়ে বেরুব।”

“আমি করতে পারব।”

“তাহলে ওকে খাইয়েও বের করো।”

“কী খাওয়াব?”

“আমি কী জানি?”

ইলমা মুখ বাঁকিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আদনান চিন্তিত, তবে মেয়েকে বসিয়ে তার জামাকাপড় হাত নেয়। ভেজা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে দেয়। গায়ের জামা পাল্টে নতুন আরেকটা পরায়। কপালে কালো টিপ দিয়ে, ছোট্ট ছোট্ট চুলে দু’টো জুটি বেঁধে দেয়। আইজা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে। আদনান আইজার দিকে তাকিয়ে বলে, “আইজা মা, চলো দাদীর কাছে যাব।”

কথাটা বলে আইজাকে কোলে নিয়ে বাইরে যায় আদনান। ঈশিতা টেবিল সাজাচ্ছে নাশতা এনে। আইজাকে দেখে কাজ থেমে যায় তার। এগিয়ে আসে। আদনানের কোল থেকে আইজাকে নেওয়ার জন্য হাত পাতে। কিন্তু মেয়ে আগ্রহ দেখায় না সেদিকে। আদনান বুঝে, মেয়ে তার কোলে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করে। ঈশিতাকে রিজেক্ট করে দেওয়ায় সে খানিক মুখ ফুলিয়ে বলে, “শেখ আইজা মেহরুজ, পুচকি মেয়ে ঈশিতা সুলতানাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। তার দাদা,নানার কাছে বিচার বসাব আমি।”

তার কথা শেষ হতে ইনান শেখ আসেন সেখানে। নানাকে দেখে আইজা সেদিকে তাকায়। মূহুর্তে হেঁসে দেয় সে। মানে, সে খুশি হয়েছে। আইজার আরেকটা অভ্যাস, সে মেয়ে মানুষের থেকে ছেলে মানুষের কোল বেশি পছন্দ করে। এই দাদা,নানা,বাবা আর মামা ইজাজ। তাঁদের পেলেই সারে। কিন্তু এখন তো বাবা-নানার মাঝে কমপিটিশন। কার কোলে আইজা যাবে। ঈশিতার কোলে যেতে রাজী না থাকলেও ইনান শেখের কোলে যেতে তার আপত্তি নেই। এই নিয়ে সেখানে এক দফা হাসির রোল পড়ে যায়। তৃপ্তি তার শ্বশুর বাড়িতে আছে
নির্মাণের সাথে তার বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েকমাস। (ইবইয়ের অংশ)

আদনান, আইজাকে দিয়ে রুমে চলে যায়। তাকে রেডি হতে হবে অফিসে যাওয়ার জন্য। ইলমা ফ্রেশ হয়ে চুলে চিরুনি চালাচ্ছিল। আদনান ফ্রেশ হয়ে, চেঞ্জ করে আসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পারফিউম দিচ্ছিল, নজর যায় ইলমার চুলে। মাঝ দিয়ে চুল কেটে ছোট করেছিল। এখন আবার সেগুলো আগের মতন বড় হয়ে গেছে। যা খেয়াল করে আদনানের মন নেচে উঠে। ইলমার চুল তার ভীষণ পছন্দের। চুল কাটার পর আদনান রাগ করে দুইদিন কথাই বলেনি। ইলমাও শপথ নিয়েছে, আর কখন চুল কাটবে না। ক্লো ক্লিপ দিয়ে চুল আটকে ইলমা উঠে দাঁড়ায়। আদনান ইলমার উপরনিচ পরখ করে বলে, “যা আইজাকে নিয়ে আয়। ওর খিদে পেয়েছে।”

“তখন না বললা তুমি খাওয়াবে।”

“এই সর। নাটক করবি না। আমার মেয়ে আরেকটু বড় হলে তোর আশেপাশেও দেব না তাকে।”

“মেয়ে কিন্তু আমারও।”

“কোন প্রমাণ আছে?”

“প্রমাণ মানে? বেয়াদব, আমার মুখ ছুটাবি না।”

“সর তো! সাত সকালে মেয়ে নিয়ে ক্যাচাল শুরু করে দিয়েছে।”

“আর আসিস কথা বলতে।”

“একশ বার আসব। তোর কী?”

আদনানের কথায় ইলমা মৃদু ঝাঁঝাল স্বরে বলে, “আমার সাথে কথা বলবিনা।”

“এই যে এখন বলছি। সারাজীবন বলব।”

ইলমা মুখ ঝামটি মেরে চলে আসতে গেলে আদনান তার হাত ধরে নেয়। বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে শক্তপোক্ত বাঁধনে আবদ্ধ করে। ইলমা আদনানের চোখের দিকে তাকায়। যে চোখ দু’টো তার দিকেই স্থির। আদনাম স্থির হয়ে, ইলমার কানের কাছে মুখ নেয়। ফিসফিস করে বলে, “আজকে শাড়ি পরবি—প্লিজ।”

ইলমা হতভম্ব হয়ে যায়। আদনান এরকম একটা কথা বলার জন্য এভাবে তাকে জাপ্টে ধরল। ইলমা ভেবেছে, রাগ করেছে রাগ ভাঙাবে। কিন্তু ব্যাটা সেসব তো করলোই না,উল্টো আবদার করে বসে আছে। ইলমা ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বলে, “কিছু শুনতে পাইনি আমি।”

“আজকে শাড়ি পরবি। ঘুরতে যাব।”

“তোমার অফিস।”

“তাড়াতাড়ি চলে আসব।”

“যে দশটার কথার নয়টাতে ঝগড়া করে তার আবদার কেন রাখব?”

“আমার আবদার না রাখলে কার আবদার রাখবি?”

“আইজার কাছে যাওয়া প্রয়োজন।”

“হ্যাঁ যাবি। যখন আমি অনুমতি দেব।”

“এহহহ সরো। ”

আদনান সরে না। ইলমা মোচড়ামুচড়ি শুরু করলে আদনান তাকে থামানোর জন্য নিজের নরম কোমল ওষ্ঠ নিয়ে ইলমার গালে ঠেকায়। তারপর কপালে,চোখের পাতায়। আদনানের আকস্মিক ছোঁয়ায় ইলমা থেমে যায়। বুকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘তুমি ভীষণ অসভ্য।”

“অসভ্য না হলে, এতোদিন বাচ্চার বাপ হতে পারতাম নাকী? তোর মতন লাজুক মেয়ে নিয়ে ইহজনমেও আমার আইজার মুখ দেখা হতো না।”

“আচ্ছা যাও মেনে নিলাম, তোমার আবদার।”

“এখন সুন্দর করে দু’টো চুমু দিয়ে রুম থেকে বেরুবি।”

“খুঁজে নিচ্ছ যে?”

“দিবি না?”

ইলমা মাথা নাড়ায়। পা উঁচিয়ে আদনানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। আদনান ইলমাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে কপালের সাইডে চুমু দিয়ে বলে, “আমার প্রেমিকনারী মেলিচা।”

ইলমা হেঁসে দেয়। এই ডাকটা আদনানের মুখে একটু বেশিই সুন্দর শোনা যায়। দু’জন একসাথে বেরিয়ে আসে। ইলমাকে দেখে আইজা কেঁদে দেয়। তার খিদে পেয়েছে। ঈশিতা, আইজার জন্য গরম দূধে ব্রেড ভিজিয়েছে। সাথে ফলের জুশ আছে। আদনান সেগুলো নিয়ে বসে যায়। আইজাকে খাওয়ানোর জন্য। বাপের হাতে ভালোই খাবার খায় আইজা। সুন্দর ভাবে ব্রেকফাস্ট করে নেয়। আদনানের কোলে চড়ে বসে। আদনান আইজাকে কোলে নিয়েই সকালের ব্রেকফাস্ট শেষ করে। যাওয়ার সময় আইজার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। ইলমার কাছে মেয়েকে দিয়ে আদনান বেরিয়ে যায়।

দুপুরে আইজাকে গোসল করিয়ে,খাবার খাইয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়েছে ইলমা। নিজেও আইজার পাশে শুয়ে পড়ে। আদনান আজকে লান্সের পরপর বাসায় চলে এসেছে। বউ-মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে আদনান মুচকি হাসে। এগিয়ে গিয়ে তাঁদের পাশে বসে। ইলমার হাতের উপর আইজার মাথা। দু’জনের মুখের দিকে তাকাতে আদনান অনুভব করলো, তার হৃদপিণ্ড আর জান দু’টো এখানে স্থায়ী। এতো মায়া,আদর, এতো ভালোবাসা সবটাই জেহেরা ইলমা ম্যালিসা এবং শেখ আইজা মেহেরুজকে ঘিরে। বাকী সব ফিকে তার কাছে। মেয়ের গালে স্লাইড করে আদনান। ছোট,ছোট চুলের দু’টো জুটিতে নজর আসতে মৃদু হাসে। চুল বড় না তবুও মাথায় জুটি দু’টো থাকবেই। আইজাও বেশ গুলোমুলো। দেখলে যে কারোর আদর করতে ইচ্ছে করবে। এছাড়া সে তার পাঁজি, এক কালের প্লেবয় শাহরিয়ার আদনান শেখের কার্বন কপি। সে হিসাবে অতিরিক্ত সুন্দরী হওয়াটা স্বাভাবিক।

আদনান গোসল সেরে বেরোয়। লান্স করবে ভেবে কোনরকম তৈরি হয়ে লিভিং রুমে যায়। তখন ফাইজা খাবার এনে টেবিলে দেয়। আদনান চুপচাপ খাচ্ছিল। তখন ফাইজা জিজ্ঞেস করে, “আইজা কী ঘুমায় এখনো?”

“হুম। ঘুমাচ্ছে।”

“উঠবে না?”

“ঘুমাক,নাহলে আবার কান্না করবে।”

“উঠলে আমার কাছে দিবে। তোমাদের টানাটানিতে আমি আমার নাতনিকে কোলে নিতে ভাগে পাইনা।”

“ইনান শেখই তো সবার ভাগ মেরে দেয়।”

“আইজাও তার নানাকে পছন্দ করে বেশি।”

“মাঝ দিয়ে আমার বাপের কপাল পুড়লো।”

আদনানের কথায় ফাইজা হেঁসে দেয়। তখন ফরিদা পারভীন আসেন সেখানে। আদনানের কথার প্রতিত্ত্যুরে তিনি বলেন, “এরপরে নাতনি তারেকের জন্য।”

আদনান কিছু বলেনা। ফাইজা ফরিদা পারভীনকে বলেন, “ওনাদের তো আছে। আমার আর ভাবির তো কিছুই নেই। নাতি কিন্তু আমাদের।”

ততক্ষণে আদনান সরে গেছে। আগের থেকে লাজ-লজ্জা ভালোই হয়েছে। যার দরুন সরে গেছে। এসেই দেখে আইজা ঘুমালেও,ইলমা উঠে গেছে। বারোটায় সে ঘুমিয়েছে এখন বাজে আড়াইটা। আদনান দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে ইলমার মুখোমুখি বসে। ইলমা ব্রু কুঁচকে নেয়। জিজ্ঞেস করে, ‘কী হয়েছে?”

“ওই মা বলছে ওনাদের জামাই লাগবে।”

“ছিঃ! বাবারা…

” আরেহ বাল তোকে আর আমাকে পোলা পয়দা করতে বলছে। সামান্য ব্যপারও বুঝিস না।”

“ওইটা পোলা না ছেলে হবে।”

“একই।”

“সর তো! আর কোন কথা নাই। আমার মেয়ে এখনো ছোট। আমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হতে আরো আড়াই বছর। এক বাচ্চার জ্বালায় জীবন ত্যানাত্যানা, আবার আরেকটার কথা ভাবছিস কী করে?”

“এই শালী, সামান্য একটা কথায় তুই পুরো জিন্দেগীর হিসাবনিকাশ তুলে ধরবি?”

“ধরেছি তো? তোমার জ্ঞানের অভাব আছে।”

“আর তুই তো ইলমাচন্দ্র বিদ্যাসাগর।”

ইলমা আদনানের বুক বরাবর ধাক্কা দেয়। ক্ষেপা বাঘিনীর মতন আদনানের ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেয়। আদনান ইলমার আক্রমণে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে, “ঝগড়ায় না পারলে কামড়ায় আর বোতল ছুঁড়াছুঁড়িই করতে পারবি।”

“সরো তো। ঘুম থেকে উঠলে মানুষ কথাও বলেনা আর আমি তোমার সাথে ঝগড়া করেছি।”

“করবিই তো। তুই তো প্রফেশনাল ঝগড়ুটে।”

ইলমা জবাব দেয়না। আদনানকে সরিয়ে আইজাকে কোলে নিয়ে বলে, “আমি গেলাম বাপের বাড়ি। তুই থাক, তোর বাড়িতে।”

কথাটা বলে ইলমা আইজাকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। সেজা নিজের রুমে গিয়ে মেয়েকে শুইয়ে দেয়। আদনান ইলমার যাওয়া দেখে। পেছন দিয়ে ইলমার রুমে আসে। ইলমা ফ্রেশ হতে গিয়েছে, এই ফাঁকে আদনান মেয়েকে কোলে তুলে নিজের রুমে নিয়ে আসে। ইলমা থাকুক তার বাপের বাড়ি। ইলমার রুম তার বাপের বাড়ি আর আদনানের রুম শ্বশুর বাড়ি।

ইলমা রুমে আসতে মেয়েকে পায়না। বুঝেছে আদনান নিয়ে গেছে। সেজন্য কিছু বলেনা। মুখ মুছে চুল আঁচড়াতে বসে যায়। সে ওইদিকে আর যায়না।

আইজা ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করে দেয়। এবার আদনানও তাকে থামাতে পারছেনা। বাধ্য হয়ে ইলমাকে ডাকে আদনান। ইলমা প্রথমে ত্যাড়ামী করলেও মেয়ের দিকে তাকিয়ে চলে এসেছে সে। ইলমা খাটে বসে আইজাকে ফিডিং করাচ্ছে। আদনান সোফায় বসে কপাল স্লাইড করছে। আজকে ইলমার শাড়ি পরার কথা ছিলো। তাঁদের ঘুরতে বেরুনোর কথা ছিলো। কিছুই হলোনা। ঘড়ির কাটা চারটার ঘর ছুঁয়েছে। যদিও এখনো সময় আছে। আদনান নির্মাণকে কল দেয়। ঘুরতে বেরুবে, তৃপ্তিকে নিয়ে চলে আসতে। আইজা থামতে, আদনান ইলমাকে বলে, “রেডি হো। বাইরে যাব।”

ইলমা জবাব দেয়না। আইজাকে রেখে উঠে দাঁড়ায়। কাবাড থেকে একটা শাড়ি বের করে। আদনান মেয়েকে নিয়ে খুনসুটিতে মেতে উঠে। ততক্ষণে ইলমা শাড়ি পরে হিজাব করে নিয়েছে। আইজাকে জামা পরাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। সে ফাঁকে আদনান রেডি হয়ে আসে। তার পারফিউমের কড়া ঘ্রান ইলমার নাকে ঠেকতে, ইলমা বলে, “এতো কড়া পারফিউম মেখেছ কেন?”

“কেন তোর ভালো লাগছেনা?”

“না।”

“না লাগলে নাই।”

“যাব না আমি।”

“এই ত্যাড়ামী ছাড়।”

“তোর বউ আছে মেয়ে আছে, এখনো এতো ঢং করার কী আছে? মেয়েদের দেখাবি, তুই এখনো সুদর্শন, সিঙ্গেল?”

“আসতাগফিরুল্লাহ, আইজা আমার কোলে থাকবে। তুই ছাড়া অন্য বেডি আমার জন্য হারাম। আমি সেদিকে তাকাই নাকী?”

“তোমাকে আমি বিশ্বাস করিনা। এক কালে একশটা প্রেম করতা।”

“এই তুই পুরোনো কথা তুলছিস কেন? বললাম না, আমি কারোর দিকে তাকাই না।”

“পুরুষ মানুষ বিশ্বাস করিনা।”

“সর শালী। আমার মেয়েকে দিয়ে তুই বাইরে গিয়ে প্যাচাল কর। বিশ্বাস করলে করবি না করলে নাই। আমি কী মেয়েদের সাথে কথা বলি? না তাকাই? তুই খামোখা এসব নিয়ে ঝগড়া করিস কেন?”

আইজা তাকিয়ে রয় আদনান ইলমার দিকে। ইলমা আইজাকে রেখে উঠে দাঁড়ায়। রাগে শরীর জ্বলছে তার। আদনান বিয়ে করেছে,বাচ্চা আছে তাও এতো সেজেগুজে বাইরে যাওয়ার কী আছে? এখনকার যুগ যে খারাপ। ইলমা সেসব ভেবেই ভয় পায়। তারউপর আদনান ছিলো, এককালের প্লে বয়। সে হিসেবে সন্দেহ,শাসন,ভয় থাকাটা স্বাভাবিক। আদনান বউয়ের মনোভাব সহজেই ধরে ফেলছে।এ ই মূহুর্তে এই মেয়েকে ধরে বেঁধে, আদর করে, ‘ভালোবাসি’ বললেই সে ক্ষ্যান্ত হবে। আদনান মনে করার চেষ্টা করছে,লাস্ট কবে ভালোবাসি বলেছিল। কিন্তু ইলমা তো জীবনেও তাকে ভালোবাসি বলেনি। যতবার তার মুখ দিয়েই ভালোবাসি বের করেছে। সব ভেবে আদনান ইলমাকে শুনিয়ে,শুনিয়ে বলে, “যে মেয়ে জীবনেও মুখ ফুটে বরকে ভালোবাসি বলেনি, সে আবার বরকে সন্দেহ করে। অযথাই। মাথার তার ছিঁড়ে গেছে মনে হয়। মেয়ে ছোট নাহলে পাবনা দিয়ে আসতাম।”

ইলমা জবাব দেয়না। এগিয়ে এসে আইজাকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। গ্যারেজে এসে দাঁড়াতে, আদনানও পেছন দিয়ে আসে। কেউ কারোর সাথে কথা বলছেনা। আদনান গাড়ি বের করতে ইলমা আইজাকে নিয়ে বসে। মুখটা গম্ভীর করে বাইরে তাকিয়ে আছে ইলমা। আদনান গাড়ি ড্রাইভ করার পাশাপাশি আইজার সাথেও কথা বলছে।

নির্মাণ, তৃপ্তি আগে থেকেই উপস্থিত। আদনান-ইলমা যেতে তাঁদের দেখা হয়ে যায়। নির্মাণ আইজাকে কোলে নিশে শূন্যে উঠায়। আদুরে স্বরে বলে, “আইজা মা, কী খবর?’

আইজা বুঝেনি তবুও হেঁসে উঠেছে। ইলমা তৃপ্তির সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। আদনান নির্মাণকে বলে, ” প্রেমিকনারী রাগ করে আছে। কথা বলেনা আমার সাথে।”

“কেন?”

“আমাকে সন্দেহ করে। এতে সেজেগুজে বাইরে বেরুনোর কী দরকার। তুই বল, আমি কই সেজেছি?”

“আরে ওরা এমনই। তোর বোনও আমায় কথায়,কথায় সন্দেহ করে। এক কথাই বলে, ” এক কালে তো হাজারটা প্রেম করেছি।” প্লে বয় হওয়ার ঝাঁঝ মিটছে ভাই। যদি জানতাম বউ উঠতে বসতে খোঁচাবে জীবনেও এতোগুলো প্রেম করতাম না।”

“প্রেম করেছি বেশ করেছি। এখন আমি আমার প্রেমিকনারীকে ভীষণ ভালেবাসি। ওইসব অতীতের প্রেমরে মায়রে বাপ। আমার মেয়ে আমার সব। আমি অন্যদিকে তাকাতে যাব কোন কষ্টে? আমার বউ সুন্দরী, তার সৌন্দর্যের ধারে কাছেও কেউ নেই।”

#চলবে

(আর দুই-তিনটা পার্ট দেব। এগুলো কিন্তু বোনাস পার্ট। সবাইকে হাম্বা মোবারক। চাঁদরাতের শুভেচ্ছা রইলো। 🌸🤍)

©শার্লিন হাসান

আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here