#আফরিন_আখ্যান
#পর্ব_১৭(ক)
#সমৃদ্ধি_রিধী
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। ১৬ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অফিস বন্ধ থাকবে। শুক্রবার, শনিবার মিলিয়ে মোট তিনদিনের বন্ধ পাওয়ায় আহসান প্ল্যান করে মা, ছেলেকে নিয়ে আশপাশেই কোথাও ঘুরতে যাবে। অনেক চিন্তাভাবনা করে বের করে ফারিনের যেহেতু গাজীপুরের সেই রিসোর্টটা বেশ পছন্দ হয়েছিল তাই মা, ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরেই যাওয়া যাক। আহসান মঙ্গলবার রাতে ফারিনকে গাজীপুর যাওয়ার বিষয়ে বলে।
ফারিন ওর লক্ষ্মীমন্ত বউ এখন। যা বলে হাসিমুখে তাই করে। একসাথে থাকে, একসাথে খায়, একসাথে ছেলেকে সময় দেয়। খুব মিলমিশ ওদের। তবে আহসান জানে ফারিন কেবল হাসিখুশি থাকার ভান করছে। ও খুবই নির্লিপ্তভাবে সংসার করে যাচ্ছে। আহসান না পারে কিছু বলতে, না পারে সহ্য করতে। ফারিন এখন খুবই সামাজিক হয়েছে। এইযে গাজীপুর আসার কথা শুনে খুবই আনন্দিত মনে ছেলেকে নিয়ে গোছগাছ করেছে। নিজেকে খুবই ভালো ভাবী প্রমাণ করতে অনি আর ইনায়াকেও ওদের সাথে যাওয়ার অফার দিয়েছে।
ঘটনাটা ঘটেছে এভাবে– ফারিন মঙ্গলবারেই আহসানের বলার পর পরই সব গোছগাছ করে ফেলে। আহসানও মনে মনে বেশ খুশি ছিল– একটা ভালো মুহুর্ত কাটাতে পারবে সেই আশায়। পায়ের উপর পা তুলে, পা নাচাতে নাচাতে ফারিনের গোছগাছ দেখছিল। ওমাহ! তারপর কি হলো? মেয়েটা ওর সব প্ল্যানে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিছানায় আরাম করে বসে ইনায়াকে ভিডিও কল করে। আহসান তো প্রথমে বিষয়টা ধরতে পারেনি। ফারিন এক কথা, দুই কথা বলতে বলতে ওদেরকে গাজীপুর যাওয়ার অফার দিয়ে বসে। ইনায়া শুরুতে রাজি হয়নি। ফারিন জোর করে ইনায়া, অনি দুইজনকেই রাজি করায়। শুধু ওদেরকে রাজি করিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, ইশা আদৃতকেও রাজি করায়। আহসান শুধু দাঁতে দাঁত চেপে ফারিনের কাণ্ড দেখেছে। ফারিন সবাইকে ম্যানেজ করে ফোন রেখে আহিয়ানকে আহসানের কোল থেকে নিয়ে বলে,
“ভালো করেছি না সবাইকে বলে? ফ্যামিলি ট্যুর হয়ে যাবে একটা।”
আহসান দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে ছিল কেবল। ফারিন হেসে বলে, “এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? একা একা গেলে কেমন লাগতো না? সবাইকে নিয়ে গেলেই তো আসল মজা হবে।”
আহসান রাগে আর একটা কথাও বলেনি। উল্টোদিকে ফিরে যে শুয়েছিল আর উঠেওনি। রাতের খাবারও খায়নি। ফারিন দুইবার ডেকেছে তাও না উঠলে নিজে একাই খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়ে। আহসান গাজীপুর যাবে না বলে মনে মনে সিদ্ধান্তও নেয়। রাগ নিয়েই রাতে ঘুমিয়ে যায়। সকাল পর্যন্ত ভেবেছে যাবে না। কিন্তু পরে অফিসে গিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করেছে। তারপর কি বুঝে যেন নিজের রাগকে মাটিচাপা দিয়ে হাফ ডে অফিস করে সবাই নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্য রওনা হয়। পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত হলে সবাই খাবার খেয়ে যে যার মতো রুমে চলে যায়। কটেজের দোতলায় আদৃত ইশা একটা রুমে, আহসান ফারিন আহিয়ান ওদের পাশের রুমে। অনি আর ইনায়া নিচ তলায়।
আহসান রেগে ফারিনের সাথে তেমন একটা কথা বলেনি ফারিনও তাই। ওর ভাবখানা এমন আহসান কথা না বললে ওর কিছুই আসে যায় না। গোটা বৃহস্পতিবার ফারিন সবার সাথে খুব সুন্দর সময় কাটালো। সবাই হাসিখুশি ছিল, শুধু জনাব সাফওয়ান সিদ্দিক পুরোটা সময় ভ্রু কুঁচকে নাহয় কপাল কুচকে নাহয় তিরিক্ষি মেজাজে ছিল। কত কিছু প্ল্যান করেছিল ও আর এই মেয়ে! আহসান আর কিছু প্ল্যান করবে না। ভাবে একটা হয় আরেকটা। সবসময় একই জিনিস হয়।
রাত সাড়ে দশটা বাজে। ইশা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বলে, “লাইট নিভিয়ে দেই?”
আদৃত মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখেই বলে, “না। পরে আমি করবো। তুমি এদিকে আসো।”
ইশা আদৃতের পাশে এসে বসলো। আদৃত মোবাইল রেখে শোয়া অবস্থাতেই ডান পাশে সরে গিয়ে এককাত হয়ে শোয়। বেডের বা দিকে হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বলে, “শোও।”
ইশা সুইচবোর্ডের দিকে একপলক তাকিয়ে আদৃতকে বলে, “লাইটটা নিভিয়ে আসি না?”
“লাগবেনা, আমি উঠলে অফ করবো।”
ইশা কম্বলের ভিতর ঢুকলো। আদৃত ইশার হাত টেনে ওকে নিজের কাছে আনে। কানের পিছনে চুল গুঁজে দিয়ে বলে, “বিয়ের পর আমরা প্রথম ঘুরতে আসলাম না?”
ইশা মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, “হ্যাঁ।”
আদৃত ঠোঁট চোকা করে কি যেন হিসেব করলো। তারপর মুখ স্বাভাবিক করে ইশাকে প্রশ্ন করে,
“যদিও প্রথম ঘোরাঘুরি তাও এটাকে তো হানিমুন বলা যায় না। হানিমুন এমন চৌদ্দগোষ্ঠীকে নিয়ে এলে হয়?”
ইশা ঠোঁট চেপে হেসে মাথা নাড়ে। আদৃত ইশার কপালে টোকা মেরে বলে, “মশকরা করো না একদম। সিরিয়াস আমি।”
বলে আদৃত এককাত হয়েই কনুইয়ে ভর দিয়ে হাতে মাথা ঠেকিয়ে ইশার দিকে তাকিয়ে বলে,
“কক্সবাজার গিয়েছো?”
“না।”
“ইদের বন্ধে যাবো নে।”
“ইদ কত পরে!”
“আরো আগে যেতে চাচ্ছো?”
“অবশ্যই।”
“আচ্ছা একদিন রেনডাম প্ল্যান করে যাবো নে। সাজেক গিয়েছো?”
“না।”
“সিলেট?”
“উহু।”
আদৃত হতাশ হয়ে বলে, “কোথাও যাওনি? যেখানেই জিজ্ঞাসা করি সেখানেই যাওনি।”
“আসলেই কোথাও যাইনি। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির পিকনিকেও যেতে দেয়নি।”
আদৃত চুলে হাত গলিয়ে ভাব নিয়ে বলে, “আমি রাঙামাটি ছাড়া সব জায়গায় গিয়েছি। আমাকে কেউ নিষেধও করেনি। আমি জন্ম থেকেই স্বাধীনচেতা মানুষ।”
“আপনাকে নিষেধ করা হলেও আপনি শুনতেন না। তাই আপনাকে নিষেধ করে আম্মা নিজের এনার্জি নষ্ট করেনি।”
আদৃত প্রসঙ্গ এড়াতে বলে, “হোয়াটএভার। নেক্সট টার্গেট বন্ধ পেলেই আমরা একা ঘুরতে যাবো।”
“আপনি তো সব জায়গায় ঘুরেছেনই। মজা পাবেন আবার গিয়ে?”
“বউ নিয়ে যাবো। মজার জিনিস নিলে মজা না পেয়ে উপায় আছে?”
ইশা “ইস্সিরে!” বলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। আদৃত ইশার গাল ধরে ওর মুখ ফের নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে,
“তোমার মাইন্ড খারাপ। কিছু একটা বলা যায় না, তার আগেই বুঝে ফেলে। একটু নাদান হতে পারলে না?”
“আপনার কথার ধরনই বাজে। আমার মাইন্ড ঠিকই আছে।”
“তোমার মাথা আছে।”
ইশা এককাত হয়ে আদৃতের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আপনার শাশুড়ী একটা মার্কামারা।”
“কেনো? কি করেছে?”
“আমাকে ধমকাচ্ছিলো আপনাকে কেনো নাম ধরে ডাকি। আম্মা বা চাচিম্মুর সামনেও ডাকি কিনা। ওনারা কি মনে করেন হেনতেন।”
আদৃত ইশার এক গোছা চুল নিয়ে চুলগুলো দেখতে দেখতে বলে, “তোমার চুল বড় গিয়েছে অনেক। কাটবে আবার?”
ইশা আদৃতের হাতে আলতো করে বাড়ি মেরে বলে, “আপনাকে আমি কি বলছি, আপনি আমাকে কি বলছেন?”
“তোমাকে আমি কিছু বলেছি আমার নাম ধরে ডাকা নিয়ে?”
“না।”
“তাহলে আর কি? আমি নিষেধ না করা অব্দি ডাকতে থাকো। আমি নিষেধ করলে আর ডেকো না। আমাদের মধ্যে যেভাবে যা চলছে চলুক। অন্যকারো কথায় কোনো চেঞ্জ আনার দরকার নেই। সেটা আমার আম্মুই হোক বা তোমার। বুঝেছো?”
“কেনো কেনো?”
“ভাই তোমার আমার এমনিতেই মাসে দশবার ঝগড়া হয়। নিজেদের বিষেই এতবার ঝগড়া লাগে, কানকথা শুনলে তো আমাদের পরিণতি ছাড়াছাড়ি পর্যায়ে চলে যাবে।”
বলে ইশার কপালে একটা টোকা মারলো। ইশা কপালে কুঁচকে কপালে হাত ঘষে। আদৃত ইশার হাতে এক টান দিয়ে ওকে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসে। ইশা থতমত খেয়ে যায়। আদৃত মাথা নিচু করে বলে, “চুলগুলো একটু টেনে দাও তো।”
ইশা আদৃতের চশমা খুলে মাথার চুল টেনে দিতে থাকে। আদৃত ইশাকে চারপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বলে, “তোমার ভাসুরকে বলো আমাকে ছুটি দিতে, আমরা থাকি আরো কিছুদিন। ওরা নাহয় চলে যাবে।”
“যদি আপনার ছুটি পেলেই হবে? আমার ছুটি লাগবে না?”
“তোমার ছুটি আমি দিবো। ওকে বলো আমাকে ছুটি দিতে।”
আদৃতের চুলের ভাজে হাত গলিয়ে বলে, “আর কয়দিন থাকার প্ল্যান আছে? সবার সাথে এসেছি, সবার সাথে চলে যাবো। এভাবে থেকে গেলে কেমন লাগে বিষয়টা?”
“ভালো লেগেছে জায়গাটা।”
“পরে আবার আসবো।”
“আচ্ছা আমাকে বলো এখানে এসে আমাদের লাভ কি হলো? এর থেকে তো বাসায় থাকলে বেশি লাভ হয়।”
“আপনি কি লাভ চাচ্ছিলেন?”
“এখানে তোমার সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করতে পারছি কোথায়? নিজেরা নিজেরা একা এলেই অনেক মজা হতো।”
“আপনি সবার সামনে ভাব দেখাচ্ছেন কেনো? মেজো ভাইয়া ভাবি, আহিয়ানকে নিয়ে নিজের মতো আছে। অনি আর ইনুর কথা না বলি। ওই দুটো চরম মাত্রার নির্লজ্জ। তাহলে আপনার সমস্যা কি? আপনি এরকম আলগা বাহাদুরি দেখাচ্ছেন কেন? বাইরে আমার থেকে তিনশত দূরে থাকতে পারে কেউ বলেছে আপনাকে? ভাবটা এমন যেন আমি আপনার লুকিয়ে বিয়ে করা বউ। আমার সাথে এখানে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করলে আপনাকে কেউ পিটাবে। আমরা হাঁটবো, সব ঘুরে ঘুরে দেখবো কেউ তো আমাদের কিছু বলবে না। তবে?”
“সবার সামনে কোয়ালিটি টাইম কিভাবে স্পেন্ড করবো?”
“আপনি কোয়ালিটি টাইম বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?”
আদৃত চুল হাত গলিয়ে চাপা শ্বাস ফেলে। ইশাকে তো বলতে পারে না যৌবনে এতটাই পুরুষবাদী হওয়ার ভাব দেখিয়েছে যে এখন সেই ভাবের মূল্য চোকাতে হচ্ছে। প্রেস্টিজ ঠিক রাখতে গিয়ে বউয়ের সাথেও ঠিকঠাকভাবে এনজয় করছে না সবটা, ভাব দেখিয়ে ফেলছে।
“বাদ দাও। তোমার লজ্জা কমে গিয়েছে। ভুল বললাম তোমার লজ্জাই ছিল না। বেশি ম্যাচিউর হলে যা হয়।”
বলে আদৃত ইশাকে আরেকটু কাছে এনে জড়িয়ে ধরে।
“আপনার থেকে কম বেহায়া আমি।”
আদৃত উত্তর দিলো না। ওর ছোঁয়ায় পরিবর্তন এলো। ইশা খাপছাড়া গলায় বলে, “হিমা আপা মেসেজ দিয়েছিল।”
“কেনো?”
“আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলেছে।”
“কি?”
“আমার থ্রি পিসের কালেকশন নাকি ওনার খুব ভালো লাগে। সবসময়ই কোথা থেকে কিনি জিজ্ঞাসা করে। কিছু ড্রেসের বলতে পারি, আপনি যেগুলো দেন ওগুলো তো বলতে পারি না।”
“হ্যাঁ তো? সারমারিতে কাহিনি শেষ করো। অপরের এত কেচ্ছা শোনার ইচ্ছে নেই।”
“বলছি বলছি। আজকে আপনার আর আমার একটা ছবি স্টোরি দিলাম না?”
“শর্টকাটে শেষ করো।”
“তো ওটা দেখে ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে ড্রেসটা কোথা থেকে কিনেছি জিজ্ঞাসা করলো। আমি আড়ং থেকে বলার পর বলে প্রাইজ কত। বললাম এটা তো ও এনেছে। আমি লাস্ট দুই আড়াইমাস যাবত নিজের কোনো ড্রেসই কিনি না। তারপর বললো আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে কত করে জামাগুলো কিনেন।”
“তোমাকেই তো বলি না। ইনায়া, তোমার আউলা ঝাউলা কাজিনগুলো তোমার সাথে ঘ্যানঘ্যান করে তাও বলি না। ওকে বলবো বলে তোমার মনে হয়?”
“না। কিন্তু এটা মানুষ বিশ্বাস করবে না যে আমি জানি না। আপনি আমাকে দেওয়ার আগে ড্রেসের টিকেট ছিঁড়ে ফেলেন নাহলে আমি ঠিকই বুঝতে পারতাম।”
ইশার হাত ধরে বলে, “এখন যেহেতু বুঝতে পারো না সেহেতু চুপ থাকো।”
ইশা আদৃতের চুল টেনে বলে, “লাইটটা?”
আদৃত উঠে গেল। লাইট নিভিয়ে এলো। মিনিট পাঁচেক পরে দরজায় নক করা হয়। আদৃত বিরক্ত হলো। খুব খুব খুব বিরক্ত। উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে ইশাকে আদেশের সুরে বলে, “তুমি দরজা খোলো। আমি পারবো না৷”
ইশা লাইট জ্বালিয়ে নিজেকে ঠিকঠাক করে গায়ে চাদর জড়িয়ে দরজা খোলে। ফারিন আহিয়ানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইশাকে বলে,
“আহিয়ানকে একটু রাখতে পারবে? ইনায়ার কাছে দিবো ভেবেছিলাম। ওরা রুমে নেই।”
ইশা আহিয়ানকে কোলে নিলো। ফারিন একটু ইতস্তত হয়ে বলে, “ঘরে খেলনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে। ওকে নিয়ে ঘর গোছাতে পারছি না। ওর বাবাও নিচে গিয়েছে। নাহলে ওর বাবাই রাখবো। একটু কষ্ট করে দশ মিনিটের মতো রাখো। ঘর গুছিয়েই ওকে নিয়ে যাবো।”
ইশা হেসে বলে, “সমস্যা নেই।”
“ডিস্টার্ব করার জন্য সরি৷”
“আরেহ সরি বলতে হবে না। সমস্যা নেই। আপনি ঘর গুছিয়ে নিন ধীরেসুস্থে।”
ফারিন স্মিত হেসে ইশার হাতে দুটো খেলনা গাড়ি দিয়ে চলে গেল। ইশা আহিয়ানকে কোলে নিয়েই দরজা লাগায়। আদৃত ধপ করে উঠে বসে। ইশাকে ভেঙিয়ে বলে, “সরি বলতে হবে না। নাটক। তোমার এত ভালোমানুষি দেখলে আমার শরীর জ্বলে।”
ইশা হাসলো। আহিয়ানকে খাটে বসিয়ে দিলো। আহিয়ানের সামনে গাড়ি দুটো রাখে। আদৃত হুডি পড়ে বলে, “হুদা কথা বলে গিয়েছে তোমার বড় জা। তোমার ভাসুর ঘরেই আছে। নিজেদের কাবাবের হাড্ডিকে আমাদের কাবাবে ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছে।”
ইশা আহিয়ানের গাল টেনে বলে, “এভাবে কথা বলেন কেনো? আপনার না বড় ভাই?”
“ইডিয়েট বড় ভাই। বুদ্ধু একটা।”
“মানে?”
“কিছু না।”
“বাচ্চারা কত আদুরে হয়।”
“আমি আমাদের বিয়ের দুই বছর হওয়ার আগে বাচ্চা নিবো না। এখন তো নিবোই না।” বলে আহিয়ানকে পেটের উপর বসিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে।
“আমি কখন বলেছি এখন বাচ্চা নিতে?”
আহিয়ানকে আদর করতে করতে বলে, “এখন না বললেও একটু পরেই বলতে। আমার বাচ্চা ভালো লাগে, আপনার কি ভালো লাগে? আমি বলতাম হ্যাঁ আমারও ভালো লাগে। এরপর তুমি বলতে আচ্ছা তাহলে আমরা একটা বাচ্চা নেই? আমি বলতাম না। এরপর ঘরে যুদ্ধ চলতো। তাই কথা ওঠার আগেই স্টপ করে দিলাম।”
ইশা মুখ ঘুরিয়ে নিলো। “বাড়াবাড়ি।”
আদৃত আহিয়ানকে নিয়ে উঠে বসে। বিছানার উপর দাঁড়া করিয়ে বলে, “হাঁটতে পারে না কেনো ও?”
“সবে এগারোমাস। ছেলেরা একটু দেরীতেই হাঁটে।”
আহিয়ানকে ঠেসে চুমু দিয়ে আদৃত বলে, “চাচা বলো তো সোনা।”
“চা।” এরবেশি একবারে বলতে পারলো না।
আদৃত আহিয়ানকে জড়িয়ে ধরে আরো চুমু গেল। ইশা আহিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আহিয়ান ইশার দিকে তাকায়। ইশা হাত বাড়ালেই আহিয়ান ইশার কাছে আসার জন্য শরীর মোচড়াতে থাকে। আদৃত ছেড়ে দিলো। আহিয়ান তুরতুর করে হামাগুড়ি দিয়ে ইশার কাছে আসে। ইশা আহিয়ানকে কোলে নিয়ে আদর করে বলে,
“আহিয়ান কোল বাছে না। সবার কাছে যায়।”
আদৃত ভাব নিয়ে বলে, “আমাদের বংশের ছেলে। বুঝতে হবে। আমরা অনেক মিশুক।”
ইশা বিদ্রুপের হাসি হাসে। “এক একটা ইগোর জ্বালায় বাঁচেনা! তারা নাকি আবার মিশুক! আইছে!”
আদৃত চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইশা হেসে সরি বলতেই আদৃত আহিয়ানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ওকে ধরে ধরে নিয়ে হাঁটাতে থাকে। আদৃত আহিয়ানের সাথে আরো কিছুক্ষণ শয়তানি করলো। ইশা তাকিয়ে শুধু চাচা ভাতিজার রং ঢং দেখে। এই শান্ত বাচ্চাটাকে দুই চাচা মিলে কিভাবে দুষ্টু বানিয়ে ফেলছে সেটা দেখেই আফসোস করে শুধু। তাদের তামাশা দেখতে দেখতে ইশার যখন চোখ লেগে এলো ফারিন তখন এসে আহিয়ানকে নিয়ে যায়। আদৃত দরজা লাগিয়ে ইশার পিছনে এসে শোয়। ওকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“ঘুমিয়ে গিয়েছো?”
ইশা জবাব দিলো না। আদৃত ইশার চোখ মুখ দেখে বলে, “আসলেই ঘুমিয়ে গিয়েছো?”
ইশা ইচ্ছে করেই জবাব দিলো না। আদৃত ইশার গা কম্বল দিয়ে ঢেকে গিয়ে লাইট নিভিয়ে পাশে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে। ইশা আদৃতের দিকে ফিরে। মুখে হাসি নিয়ে “সাচ এ্যা জেন্টলম্যান।” বলে বিড়বিড় করে আদৃতের পিঠে মাথা রাখে। দুষ্টুমির স্বরে হেসে বলে,
“কি স্যার? ঘুম?”
আদৃত ইশার হাত খপ করে ধরে বলে, “তবে রে নাটক না? করাচ্ছি নাটক।”
চলমান….
(দ্বিতীয় অংশ বারোটা দশে দিবো।)

