#আফরিন_আখ্যান
#পর্ব_২০(খ)
#সমৃদ্ধি_রিধী
(গত পর্বগুলোতে একটা ভুল করেছিলাম। আহিয়ানের তিন বছরের জন্মদিনের পরদিন ফারিন টেস্ট করে জামতে পারবে ও প্রেগন্যান্ট। সেই হিসেবে আনহা অহনার জন্ম আহিয়ানের তিনবছর আটমাস বয়সে হবে।)
আজ শুক্রবার। সিদ্দিক নিবাসের খোলা বারান্দায় বাড়ির গিন্নিরা মোড়া পেতে বসে আছে। আনহা, অহনার বয়স এখন সাড়ে তিনমাস। জেসমিন আর শিরিনার কোলে আনহা, অহনা। উরুতে রেখে বড় কর্ত্রীরা ওদের গায়ে তেল মেখে দিচ্ছে। পাশেই ফারিন, ইশা, ইনায়াও বসা। পাঁচমাসের গর্ভবতী ইশার হাতে আপেল। ইশা অর্ধেল আপেল খেয়ে ইনায়াকে সেধে বলে,
“খেয়ে ফেল না?”
শিরিনা চাপাস্বরে ধমক দিয়ে ওঠে, “একদম চুপচাপ খাও। আধাঘন্টা আগে একটা আপেল দিয়েছি, এখনও শেষ করতে পারছো না। ভাত তো খাওই না, ফলমূল তো খেতে হবে। নাহলে বাচ্চা পুষ্টি পাবে কি করে?”
“খেতে ইচ্ছে করে না।”
“জোর করে হলেও খেতে হবে।”
ইশা তাও ইনায়াকে ইশারা দেয়। শিরিনা ইনায়াকে আঙুল দিয়ে ইশারা দিয়ে বলে,
“তুমি ওদিকে যাও তো।”
ইনায়া হেসে জেসমিনের বামপাশে গিয়ে বসে। ইশা দাঁত কিড়মিড় করে তাকায়। জেসমিন হেসে বলে,
“ভাবি তিন্নিকে বাগে পায়নি তাতে কি? ইশাকে দিয়ে সব উশুল করবে।”
“শুধু চাকরি করে দেখে, নাহলে ওকে আমি পুরোটা সময় ধানমন্ডি এনে রাখতাম। ওর মা চাইলেও তো দিতাম না। আমার ছেলের বউ আমি দেবো না। শেষের এক, দুইমাস বউ চাইলে থাকুক গিয়ে। কিন্তু শুরুর বেশিরভাগ সময় আমার কাছে থাকতে হতো। কিন্তু কি আর করার! চাকরি করে, সাথে রাখতে পারি না। খাওয়াতে পারি না মনমতো।”
“আপনি গিয়ে না সাড়ে তিনমাসের মতো থাকলেন?” জেসমিন হেসে বলে।
ইশা মুখ কুচকে বলে, “চাচিম্মু আমাকে সাড়ে তিনমাস আম্মা ইচ্ছে মতো খাইয়েছে। তারপরও বলছেন খাওয়াতে পারেননি। এটা কোনো কথা?”
“পুরো সময় নয় মাসই খাওয়ানোর, নিজের হাতে যত্ন করার পরিকল্পনা ছিল। এমনিতেই সারা সকাল এই শরীরে বাইরে থাকো। খাওয়া দাওয়ার তো ঠিকঠিকানা নেই কোনো। তোমার শ্বশুর অসুস্থ বলে চলে এলাম। নাহলে নাতি বা নাতনি কোলে না নেওয়ার আগে আসতাম না। এরমধ্যে আদি একটা লম্ফঝম্প, তোমার খেয়াল তো রাখতে পারবেই না, উল্টো তোমাকে অসুস্থ বানিয়ে দিবে।”
“আপনার ছেলে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।”
“মিথ্যে প্রশংসা করে লাভ নেই। আমার ছেলে কেমন তা আমি জানি। তোমাদের আব্বার শরীর ঠিক থাকলে তুমি না চাইলেও আমি তোমার সাথে থাকতাম। আদির কাছে বিচার দিয়েও আমাকে বের করতে পারতে না।”
“আমি আপনার ছোট ছেলেকে যদি বলতাম আমাদের সাথে আম্মার থাকা আমি পছন্দ করি না তাহলে আপনার ছোট ছেলে আমাকে গুম করতে একবারও ভাবতো না। আমার লাশও আপনারা পেতেন না। আমি গর্ভবতী নাকি স্বাভাবিক এইসব কিছু ভাবতো না। সোজা গুম করতো। গুম করে উনিই লোকসম্মুখে আবার অভিনয় করতো।”
জেসমিন তাল মিলিয়ে বলে, “কথা ঠিক।”
শিরিনা হেসে ফেলে। ফারিন ইশাকে জিজ্ঞাসা করে,
“মুভমেন্ট আছে?”
ইশা ঠোঁট উল্টে বলে, “ফিল করতে পারি না এখনও। মনে হয় আছে, আবার মনে হয় নেই। এমন।”
জেসমিন আনহার পায়ে তেল মাখতে মাখতে বলে,
“সবে পাঁচমাসে পড়লো। সাড়ে পাঁচমাস, ছয়মাস থেকে ভালোমতো বুঝতে পারবে।”
ফারিন বলে, “আল্ট্রা করিয়েছো?”
“জ্বি। সুস্থ আছে।”
ইনায়া পিঠ সোজা করে বলে, “আনিস্কা পুরো বিদেশিদের মতো হয়েছে।”
ফারিন হেসে বলে, “কানাডিয়ান পুরো।”
ইশাও তাল মিলিয়ে বলে, “আসলেই ওর চুলগুলো কিন্তু পুরোপুরি কালো না। অথচ ভাইয়া, আহনাফ, তিন্নি ভাবির চুল কালো।”
“যার মতোই হোক সুস্থ থাকুক।”
ইনায়া বলে, “ওদেরকে এখন গোসল করাবে?”
ফারিন মাথা নাড়ে। শিরিনা ইশাকে জিজ্ঞাসা করে,
“কলেজে কি আদি দিয়ে আসে?”
“জি।”
“আসো একা?”
“আপনার ছেলেই নিয়ে আসে।”
“সাবধানে গাড়ি চালাতে বলো।”
“আল্লাহ আম্মা আপনি জানেন আপনার ছেলে এখন কিভাবে গাড়ি চালায়?”
“কিভাবে?”
“আগে রাস্তা ফাঁকা পেলে মনে করুন এমন স্প্রিডে গাড়ি চালাতো মনে হতো যে হেলিকপ্টার চালাচ্ছে। রীতিমতো বুক কাঁপতো। এখন কচ্ছপের মতো গাড়ি চালায়। যতটুকু না স্প্রিড প্রয়োজন তারচেয়ে কম স্প্রিডে চালায়।”
“বুঝ জ্ঞান হয়েছে তাহলে একটু।”
“নরমাল স্প্রিডে চালালেই হয়। কম স্প্রিডে চালালে কেমন লাগে?”
জেসমিন হেসে বলে, “যেভাবে সুখে থাকতে চায় ওইটাকে ওইভাবে সুখে থাকতে দাও। নিজের মন মতো কিছু না হলেই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। তিন বছরের সংসারে তো এতটুকু ধারণা হয়ে যাওয়ার কথা?”
ইশা চাপা শ্বাস ফেলে। অনি তখন আহিয়ানকে নিয়ে আসে। ইশা ওড়না ঠিকঠাক করে। অনি আহিয়ানকে কোল থেকে নামাতেই ও ফারিনের কাছে ফারিনের গলা জড়িয়ে ধরে। ফারিনের কোলের উপর দাঁড়িয়ে ফারিনের গালে গাল লাগিয়ে রেখে আনহা, অহনার দিকে তাকায়। ফারিন মনে মনে হাসে। এই ছেলে বোনদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই থাকে। চেহারা হুবহু মিল দেখে বোধহয় দিশা করতে পারে না।
অনি জেসমিনের পিছনে দাঁড়িয়ে জেসমিনের দুই গালে হাত রেখে বলে, “আম্মু আমি তোমাকে কত ভালোবাসি জানো?”
জেসমিন মাথা তুলে চোখ রাঙিয়ে অনির দিকে তাকায়। অনি জেসমিনকে ছেড়ে দেয়। এবার একইভাবে শিরিনাকে গিয়ে ধরে। “জেঠিম্মু তোমাকে আমি কত ভালোবাসি জানো?”
শিরিনা হেসে অনির হাতের উপর হাত রেখে বলে, “হ্যাঁ জানি। এখন কি চাই?”
“কিছু চাই না এমনিতেই আসলাম।”
ফারিন আহিয়ানকে কোলে বসিয়ে জেসমিনকে বলে,
“আম্মা আপনার ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন তো কালরাতে কোথায় গিয়েছিল?”
জেসমিন কপাল কুঁচকায়। অনি ইনায়ার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইনায়া ছাড়া কেউই জানতো না ওরা তিন ভাই রাতে বেরিয়েছে। নিশ্চয়ই গল্প করতে করতে ইনায়াই ফারিনকে বলে দিয়েছে? ইনায়া তড়িৎবেগে মাথা নাড়ে। বোঝাতে চায় ও কাউকে কিছু বলেনি। অনি ইনায়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আমতাআমতা করে বলে, “যাইনি কোথাও। এইসব কি বলেন ভাবি?”
“যাওনি? আমার কিন্তু আনহা, অহনার জন্য রাতে বারবার উঠতে হয়। আমি কিন্তু বারান্দা থেকে তোমাদের তিন ভাইকে একটার দিকে বাইরে যেতে দেখেছি। কোথায় গিয়েছিলে?”
ইশাও অবাক হলো। “উনিও গিয়েছিলেন?”
ফারিন পাশ থেকে বলে, “তো? তোমার ভাসুর কোথাও গেলে আদৃত ভাই মাস্ট যাবেই, অনি যাক বা না যাক।”
ইশা হিসেব কষতে থাকে। ও আচ্ছা সেইজন্য কালকে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে বলছিলো? নিজেও তাড়াতাড়ি মটকা মেরে শুয়ে ছিল। আস্তারা ধান্ধাবাজ লোক তো! অনি আমতাআমতা করে বলে,
“জানি না। মেজো ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করুন গিয়ে। ও জোর করে নিয়ে গিয়েছিল।”
জেসমিন বলে, “এত রাতে কোথায় গিয়েছিলি?”
অনি বলে, “তোমার বড় ছেলে জোর করে নিয়ে গিয়েছিল।”
“আহসান জোর করেছে বুঝলাম। জোর করে কোথায় নিয়েছে?” শিরিনা বলে।
“জানি না। ভাইয়াদেরকে জিজ্ঞাসা করো।”
অনি দ্রুত কেটে পড়লো। তবে বারান্দা থেকে যাওয়ার আগে সবার অলক্ষ্যে ইনায়ার মাথায় জোরে একটা থাপ্পড় মেরে গেল। ইনায়া মাথার পিছনে হাত ঘষতে ঘষতে ফুঁসতে থাকে। এভাবে সবার সামনে তো যেতে পারবে না, পরে সুযোগ পেলে নিশ্চিত ওকে দু ঘা দিবে। আনহা অহনাকে তেল মাখানো শেষ। ইনায়ার কোলে আনহাকে দিয়ে জেসমিন আহিয়ানের দিকে হাত বাড়ায়।
“তেল দিবে দাদুভাই?”
আহিয়ান ফারিনের দিকে তাকায়। ফারিন বলে,
“দিবে?”
আহিয়ান উপর নিচে মাথা নাড়ায়। জেসমিন মোড়া সরিয়ে ফ্লোরে বসে। আহিয়ানকে টেনে পায়ের উপর শুইয়ে সারা শরীরে তেল দিয়ে দেয়। আর আহিয়ান খিটখিট করে হাসে। আবার ফারিনকে একটু পর পর বলে,
“তেল দেই। দেখো তেল দেই।”
ফারিন অহনাকে কোলে নিয়ে দুলতে দুলতে ছেলের দিকে তাকিয়ে হাসে।
______________________
ফারিন সিরিয়াল ধরে প্রথমে আনহা, অহনাকে গোসল করালো। ওদের গা মুছে, গায়ে বেবি লোশন মেখে গরম কাপড় পড়িয়ে চারদিকে বালিশ দিয়ে ঘিরে দেয়। দুজনে হাত পা ছুঁড়ে ছুঁড়ে নিজের মতো খেলছে।
ফারিন এবার আহিয়ানকে খাটে উঠিয়ে ওর কোমরে গামছা বেঁধে দিলো। প্যান্ট খুলতে গেলে আহিয়ান জিহ্বায় কামড় দেয়। ফারিন কপাল কুঁচকালো।
“কি হয়েছে?”
“ওরা আমার ন্যাংটু পুটু দেখে ফেলবে তো।”
ফারিন উচ্চশব্দে হেসে উঠলো। “গামছা বেঁধে দিয়েছি না? আর দেখবে না।”
আহিয়ান নিজ থেকে প্যান্ট খুলে ফেললো। ফারিন আহিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“আমার আব্বা বড় হয়ে গিয়েছে?”
আহিয়ান উপর নিচে মাথা নাড়ে। ফারিন আহিয়ানকে কাতুকুতু দিয়ে বলে,
“আমার পাগলুটার চার বছর হয়ে যাচ্ছে?”
আহিয়ান আবারও হেসে মাথা নাড়ে। ফারিন আহিয়ানের পেটে নাক ঘষে। আহিয়ান পেটে চেপে হেসে ওঠে। ফারিন আহিয়ানের গাল ধরে ঠেসে একটা চুমু খায়। আহিয়ানও ফারিনের গালে চুমু দেয়। তারপর আনহা, অহনার দিকে আঙুল তাক করে বলে,
“ওদেরকেও দেই?”
“দাও।”
আহিয়ান বালিশ টপকে গিয়ে আনহা, অহনার গায়ে চুমু দিয়ে এলো। আনহা হেসে ওঠে। আহিয়ান চোখ বড় বড় ফারিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“মা ও হাসে।”
ফারিন বিছানায় বসে বলে, “তুমি ওকে আরেকটু আদর করে দাও। দেখবে ও আরো হাসবে।”
আহিয়ান আনহার গালে আরো দুটো চুমু দিল। আনহা হাত নাড়তে নাড়তে আহিয়ানকে ধরতে চায় কিন্তু পারে না। ফারিন বলে, “দেখেছো আহিও তোমাকে চুমু দিতে চাচ্ছে।”
“দিতে বলো?”
“বড় হলে দিবে।”
“আচ্ছা।”
আহিয়ান অহনাকে চুমু দিয়ে উঠে গেল। ফারিন তাড়া দিয়ে বলে,
“আসো আসো গোসল করতে হবে।”
আহসান তখন রুমে ঢোকে। ফারিন বাঁকা চোখে ওর দিকে তাকায়। আহসান আহিয়ানের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।
“বাবা?”
আহিয়ান খাট থেকে নেমে আহসানের কাছে ছুটে যায়। আহসান আহিয়ানকে কোলে নিয়ে বলে,
“গোসল করবেন নাকি?”
আহিয়ান উপর নিচে মাথা নাড়ে।
“কি করিয়ে দিবো?”
মাথা নেড়ে বলে, “দাও।”
ফারিন বুঝে ফেলে ছেলের মতলব। আহসান ধানমন্ডি এলে এখন আহিয়ানকে খাইয়ে দেয়, গোসল করিয়ে দেয়, ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আহিয়ানও তখন বাবার সাথে চরম দুষ্টুমি করে। ফারিনের সাথে দুষ্টুমি করার মাত্রা ছাড়িয়ে ফেললে ফারিন শুধু একবার ফাইয়াজ বলে ডাক দেয়। ছেলে আর দুষ্টুমি করার সাহস পায় না। কিন্তু আহসানের সাথে তো এমন কিছু নেই। ইচ্ছে মতো বাবাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে মজা নেয়। ছেলের হাসি দেখে ফারিন মনে মনে আওড়ায়, “এত কষ্ট করে জন্ম দিলাম আমি আর হলো বংশের মতো।”
আহসান আহিয়ানকে খাটে বসিয়ে জ্যাকেট, টিশার্ট খুলে ফেলে। দরজা লাগিয়ে এসে বলে, “আমি আহুকে গোসল করাই তুমি আহি, অহিকে খাওয়াও এই ফাঁকে।”
আহিয়ান দুহাতে নিজের পেট ধরে ফারিনের দিকে তাকিয়ে গা দুলাতে দুলাতে বলে,
“বাবার সাথে গোসুল করি, বাবার সাথে গোসুল করি।”
আহসান স্রেফ টাউজার পড়ে আহিয়ানকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে। ফারিন আনহা অহনাকে খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাপ-বেটার হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফারিন না দেখেই বুঝতে পারছে পানি ছোঁড়াছুঁড়ি করছে। রামপাঠাটার আক্কেল দেখে ফারিন অবাক না হয়ে পারে না। ও হাঁক ডাকে,
“আহিয়ানের বাবা? জলদি আহিয়ানকে নিয়ে বের হয়। এতক্ষণ ধরে ভিজলে আহিয়ানের ঠান্ডা লাগবে তো নাকি?”
আহসান একটু পরেই বের হলো। আনহা শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে। অহনাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য ফারিন অহনাকে কোলে নিয়ে পিঠে আলতো করে চাপড় মারতে থাকে। আহিয়ান সারা শরীরে টাওয়াল পেঁচিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বের হয়। ফারিনের দিকে তাকিয়ে দাঁত দেখিয়ে হাসে।
ফারিন অহনাকে নিয়েই উঠে দাঁড়ায়। আহিয়ানের লোশন বিছানায় রেখে আরেকটা তোয়ালে নিয়ে আসে। আহিয়ানকে বলে,
“খাটের উপর উঠো।”
আহিয়ান সাদা টাওয়াল পেঁচিয়েই উপরে ওঠে। ফারিন একহাতে আহিয়ানের মাথা মুছে দেয়। আহসান তখন বের হয়। মাথা ঝাড়তে ঝাড়তে আহিয়ানের কাছে এসে ফারিনের হাত থেকে তোয়ালে নিয়ে নেয়। আহিয়ানের গা মুছে দেয়। আহিয়ানের হাতে, পায়ে, শরীরে বেবি লোশন মেখে দেয়। আহিয়ান ফারিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ঠান্ডা ঠান্ডা।”
ফারিন আড়চোখে তাকিয়ে বলে, “থাক আমার দিকে তাকিয়ে এত ভাব জমাতে হবে না।”
আহিয়ান হাসে। ফারিন “ফাজিল” বিড়বিড় করে অহনাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। আহসান আহিয়ানকে জামা প্যান্ট পড়িয়ে দেয়। ফারিন নিচ থেকে আহিয়ানের খাবার নিয়ে আসে। আহসান প্লেট নিয়ে বলে,
“খাবেন স্যার আমার হাতে?”
আহিয়ান মাথা নাড়ে। এক লোকমা খেয়ে বিছানায় কিছুক্ষণ ফিট খেয়ে পড়ে থাকে। মুখের ভাত মুখেই থাকে, নড়েও না চড়েও না। ফারিন আনহা, অহনাকে কোলে নিয়ে এদিক থেকে ওদিকে হাঁটতে থাকে। ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে খেতে যাবে নিচে। ফারিন হেঁটে হেঁটে ওদেরকে ঘুম পাড়ালো। দুজনেই বিছানায় শুইয়ে দিয়ে টানটান হয়ে দাঁড়ায়। আহিয়ান অর্ধেকও খায়নি।
আহসান অসহায় চোখে ফারিনের দিকে তাকায়। ফারিন সেই চাহনি দেখে আহিয়ানকে টেনে তুলে। আহিয়ান মুখের ভাত গিলে আবারও আহিয়ান মটকা মেরে শুয়ে থাকে। ফারিন আহিয়ানের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে,
“বাবাকে জ্বালাতে মজা?”
আহিয়ান খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠে বসে। ফারিন ওকে পানি খাওয়ায়। আহিয়ান আরেক লোকমা খেয়ে শুয়ে পড়ার আগেই ফারিন ওকে ধরে ফেলে।
“আর শোয়া যাবে না। চুপচাপ বসে খেয়ে হবে।”
ঘ্যানঘ্যান করে বলে, “না না।”
“ফাইয়াজ?”
আহিয়ান মুখ কালো করে ভাত গিলে পানি খায়। আবার ভাত মুখে নিয়ে বলে “একটু শুই?”
“না।”
আহিয়ান শরীর মোচড়ানো শুরু করে। ফারিন ওকে কোলে বসায়। “শুতে হবে না। আমার কথা শোনো।”
“কি?”
“কাকে বেশি ভালোবাসো তুমি?”
“তোমাকে।”
আহসান বলে, “আমাকে বাসো না?”
আহিয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, “মার পরে তোমাকে ভালোবাসি।”
ফারিন আনহা অহনাকে দেখিয়ে বলে, “ওদেরকে?”
আহিয়ান দুষ্টু হেসে মাথা নাড়ায়। “না বাসি না।”
ফারিন ছেলের দুষ্টুমি বোঝে। নিজেও দুষ্ট হেসে ডাক দেয়,
“ফাইয়াজ?”
আহিয়ান হাসতে হাসতে উল্টে পড়ে। “বাসি তো। ওকেও বাসি, ওকেও বাসি। সবাইকে ভালোবাসি।”
আহসান আরো দশমিনিট সময় ব্যয় করে খাইয়ে দিলো। খালি প্লেট হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। আড়মোড়া ভেঙে বলে,
“বাপ আমার কোমরের লিগামেন্ট তোর জন্যই ছিঁড়বে। দেড় ঘন্টা ধরে কে ভাত খায় ভাই?”
ফারিন দুহাতে ভর দিয়ে একটু পিছনে হেলে বসে বলে,
“তাহলে আমি খাওয়াই কি করে?”
আহসান প্লেট রেখে হাত ধুয়ে আসে। ফারিনের সামনে হাত জোর করে বলে, “আল্লাহ আপনাকে অসীম ধৈর্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই আপনি সফলভাবে আমার প্রিয়তমা এবং তিন তিনটা বাঁদরের জননী হতে পেরেছেন।”
ফারিন আহসানের কথা হেসে উড়িয়ে দিল। দুই পুচকুকে দোলনায় শুইয়ে দিয়ে আহিয়ানসহ নিয়ে নিচে নামলো। সবার সাথে খেয়েদেয়ে আহসান, ফারিন উপরে উঠে এলো। তবে আহিয়ান এলো না। ও জেসমিনের সামনে বসে কাঁথা সেলাই করা দেখবে বলে গো ধরেছে।
ফারিন আগে ঘরে ঢুকে। আহসান রুমের দরজা লাগিয়ে ফারিনকে পিছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। ফারিন আহসানের হাতের উপর হাত রেখে বলে,
“কি চাই?”
“কালকে একটা জায়গায় গিয়েছিলাম।”
“জানি।”
আহসান অবাক হলো। ফারিনকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে, “মানে?”
“কালকে আনুমানিক একটার দিকে বাইরে বেরিয়েছিলে। আমি বেলকনি থেকে দেখেছি।”
“তখম বেলকনিতে গিয়েছিলে কেনো?”
“আনহা উঠে পড়েছিল, তোমাকেও পাশে পাইনি। ভেবেছিলাম আদৃত ভাই, অনির সাথে ছাদে গিয়েছো হয়তো। আনহাকে খাওয়ানোর পরও ও ঘুমাতে চাচ্ছিলো না, কান্নাকাটি করছিল। ওর কান্নার শব্দে অহনা, আহিয়ানেরও ডিস্টার্ব হচ্ছিলো। তাই ওকে নিয়ে বেলকনিতে এসেছিলাম। তখনই দেখলাম তোমরা তিন ভাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছো।”
আহসান ফারিনের হাত টেনে নিয়ে বেডে বসলো।
“জিজ্ঞেসা করলে না কোথায় গিয়েছি?”
“আমি জানি তুমি আজ হলেও আমাকে বলবে, কাল হলেও বলবে।”
“শাওনকে পুলিশ এরেস্ট করেছে।”
ফারিন অবাক হলো। “কেনো?”
“ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কাল মধ্যরাতে পুলিশ হাতে না হাতে ধরেছে। নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত শাওন আলম।”
ফারিন আহসানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফারিনের চাহনি বুঝে আহসান তড়িঘড়ি করে বলে,
“আল্লাহ ফারিন আমি কিছু করিনি। আমি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি।”
“তুমি কিছু করেছো নাকি করোনি সেই দিকে আমি যেতে চাচ্ছি না। শুধু এইটুকুই বলবো প্রতিশোধ স্পৃহায় মত্ত হইও না। তুমি তোমার প্রিয় রশিদ আঙ্কেলকে কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করার নাম করে ছয়মাস জেল জাটিয়েছো। তুমি অন্যসময় কেস করতে না। শুধুমাত্র আমার অতীত জেনে করেছো। তাই বলবো আমি কিছু মনে রাখিনি। থেমে যাও। যা করেছো যথেষ্ট হয়েছে আর না।”
আহসান একগুঁয়ে গলায় বলে, “রূপাকে এক্সপোজ করেই থেমে যাবো।”
ফারিন আহসানের দিকে কপাল কুঁচকে তাকায়। আহসান বলে, “লাস্ট আটমাস যাবৎ রূপা ঘরে একটা, মনে আরেকটা, বাইরে আরেকটার সাথে সম্পর্কে আছে। আমি কায়দা করে ওটা ভাইরাল করেই থেমে যাবো।”
“কবে থেকে করছো এইসব?”
“আহি, অহিকে পেটে নিয়ে ধানমন্ডিতে আসার পর থেকে।”
“আমি জানতাম আমার পুরো প্রেগন্যান্সি টাইমটায় তুমি একটা ধান্ধায় ছিলে। তোমাকে খুব ভালো করেই চিনে গিয়েছি আমি।”
“এইটুকু করতে হয়। এটলিস্ট ওদের মতো মিথ্যা বলছি না। ওদের কাজ দিয়েই ওদের ফাঁসাচ্ছি।”
“থেমে যাও।”
“নেভার।”
“আহিয়ানের বাবা?”
“নেভার।”
ফারিন ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। “ওদের মাকেও ফাঁসাও। ওনাকে বাঁচিয়ে রাখছো কেনো?”
“উনি তো একটা দুই নাম্বার বেডি। একটা অবৈধ বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। ওনার বিচার আল্লাহই করবে।”
ফারিন উল্টো হয়ে শুয়ে পড়লো। আহসান ফারিনকে জড়িয়ে ধরে পিছন থেকে। কোমল গলায় ডাক দেয়,
“ফারিন?”
“ঝামেলায় জড়ানোর দরকার আছে?”
“আছে। আমার কিছু হবে না। টেনশন নিও না। আমি সামনে যাই না।”
“তাও?”
আহসান মোবাইল নিয়ে শাওনকে পুলিশের গাড়িতে তোলার ভিডিও ফারিনকে দেখালো। ফারিন আহসানের দিকে ফিরে ওকে জড়িয়ে ধরে।
“বেশি প্রতিশোধ স্পৃহায় মত্ত হইও না।”
“ওকে। রূপাকে চড় থাপ্পড়, পাবলিকের গালি খাওয়ানোর পরই থেমে যাবো। প্রমিস। এখন প্লিজ মুড অফ করে থেকো না।”
“তোমার ছেলে সাংঘাতিক দুষ্টু হয়েছে।”
“আমি খুব ভালো ছিলাম বিশ্বাস করো। আমি এইসব কিছু করিনি।”
“মুখ খুলিয়ো না।”
আহসান ফারিনের ঠোঁটে চুমু খেলো। “আচ্ছা এভাবে বন্ধ রাখবো?”
ফারিন বিরক্ত হয়ে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঠোঁট মুছে।
“তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না।”
“বাদ দাও, বাদ দাও– কথাটা মিস হয়ে গেল।”
ফারিন আহসানের বুকে কামড় বসায়। আহসান কুঁকড়ে উঠে বলে, “বহুদিন পরে সুন্দরীর কামড় খেলাম। জীবন ধন্য হয়ে গেল।”
“তোমাকে দিয়ে আসলেই কিছু হবে না।”
______________
আদৃত ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে ইশা তীক্ষ্ণ চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আদৃত আমতাআমতা আমতাআমতা করে বলে,
“কি? এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?”
“আপনি কালকে কয়টায় ঘুমিয়েছেন?”
“এগারোটায়। তোমার সাথেই তো।”
“মাঝখানে আর উঠেননি?”
“ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।”
“ওয়াশরুমটা কি বাড়ির বাইরে?”
আদৃত ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে। বিছানায় শুয়ে পড়ে, “বাইরে গিয়েছি যে কে বলেছে?”
“আপনার মতো অভিনয় যদি আমি আজকে করতে পারতাম, তাহলে আমার জীবন ধন্য হয়ে যেতো।”
“মাফ করো আমাকে। ভাইয়া নিষেধ করেছে।”
“কোথায় গিয়েছিলেন?”
“ভাবির ভাই গাঞ্জার ব্যবসা করে। ওটাকে ধরিয়ে দিতে গিয়েছিলাম।”
ইশা শীতল চোখে তাকিয়ে রইলো। আদৃত উঠে বসে। ইশার কাছে বসে বলে, “সত্যি কথা। ভিডিও দেখবে?”
ইশা মুখ ঘুরিয়ে বলে, “না।”
আদৃত ভিডিও দেখালো। শাওনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেই ভিডিও। ইশা চোখ বড় বড় করে বলে,
“সিরিয়াসলি?”
“জ্বি।”
“কে ধরিয়ে দিয়েছে?”
“ভাইয়া।”
“কেনো?”
“সে অনেক কাহিনি। আমি জানি না সবটা। সাথে যেতে বলেছে, গিয়েছি।”
“ভিডিও কোথা থেকে করেছেন?”
“সামনে যাইনি। লুকিয়ে করেছি। গাড়ি থেকে বসে ভিডিও করেছি।”
ইশা মোবাইল রেখে দিলো। আদৃত ইশার উরুতে মাথা রেখে বলে,
“এই শোনো?”
“হুম?”
“ভদ্রমিঞা তো বড় হচ্ছে।”
“ভদ্রমিঞা আবার কি?”
“ভদ্রলোক নাকি মহিলা তা তো জানি না।”
“আপনি পারেনও বটে।”
ইশার পেটে হাত রেখে বলে, “বেটার হাফ আমার একটা মেয়ে লাগবে। আনহা, অহনার মতো কিউটি লাগবে একটা প্লিজ।”
“আপনার ভদ্রমিঞা ছেলে নাকি মেয়ে তা তো জানি না।”
“ছেলে লাগবে না আমার। ওদের মতো মেয়ে লাগবে।”
“ছেলে হলে কি করবেন?”
আদৃত ইশার উরুতে মাথা রেখে হাত পা ছাড়িয়ে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, “যে বউ মেয়ে জন্ম দিতে পারে না সেই বউ আমার লাগবে না।”
“কত বড় খারাপ।”
“দেখেছো আমি কত ইউনিক? আমি ছেলে জন্ম দিলে একশান নিবো। পাবলিক তো মেয়ে জন্ম দিলে নেয়।”
“মাথার সমস্যাটা কোনদিকে? সামনে নাকি পিছনে?”
“খালি ছেলে জন্ম দিয়ে দেখো তুমি। তোমার সাথে কি করি তখন দেখবে তুমি।”
“বায়োলজি পড়াতে হবে আবার? ছেলে মেয়ে হওয়ার জন্য কে দায়ী ভুলে গিয়েছেন?”
“হ্যাঁ প্লিজ। তুমি ধরে ধরে বায়োলজি পড়াবে? তাহলে পড়বো। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসও নিতে হবে মাস্ট।”
ইশা আদৃতের মুখ চেপে বন্ধ করে দেয়। আদৃত ইশার হাতে চুমু খেয়ে ইশার হাত বুকের বা দিকে চেপে ধরে। হাত পা ছড়িয়ে আবারও সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
“জীবনটা দুঃখে ভরা। মেয়ে লাগবে একটা।”
ইশা হেসে বলে, “আহিয়ানও ভাত দেখলে আপনার মতো এমন করে। ভাবী ওর এই হাবভাবের নাম দিয়েছে ফিট খেয়ে পড়ে থাকা। আপনিও ফিট খেয়েছেন নাকি?”
আদৃত ইশার কোমর জড়িয়ে ধরে বলে, “আম্মু একটু আগে বলছিলো তোর ছেলেমেয়ে তোর মতো হলে বুঝবি। আমি খুবই চিন্তিত এটা নিয়ে। মেয়ে হলে তো তোমার মতো হতে পারে। বা ধরো আমার মতো হলেও বড় হতে হতে শান্ত হয়ে যাবে। মেয়েরা খুব লক্ষ্মি হয়। কিন্তু যদি ছেলে হয়, সাথে যদি আবার আমার মতো হয় তাহলে কি হবে বুঝতে পারছো? বড় হতে হতে শান্ত হওয়া তো দূরে থাক। ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, ভূমিকম্পের মতো হবে।”
“যাহ।”
“তুমি কথাটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছো না। আমি ছোটবেলায় কি ছিলাম তা যদি জানতে তাহলে তো হয়েই যেতো।”
“আমি মানুষ করে ফেলবো।”
আদৃত ইশার গাল টেনে দিলো। “কুলেস্ট মাদার ইন ওয়ার্ল্ড?
“হতে পারি।”
“পোলাপাইন আমার মতো হলে কুলেস্ট হওয়া লাগবে না।”
“দেখা যাক।”
“দেখে নিও।”
“বারান্দায় যাই। ইনুকে নিয়ে একটু হাঁটাহাটি করি।”
“আমাকে নিয়ে যাও।”
“না দুই বোন হাঁটবো।”
“ওকে যাও।”
ইশা রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
________________
ইনায়া রুমে ঢুকে দেখে অনিরুদ্ধ পাশ ফিরে মোবাইল টিপছে। ইনায়া বিছানায় বসে অনিরুদ্ধর পিঠে ঘুষি দিয়ে বলে,
“তখন ওভাবে মারলি কেনো?”
অনিরুদ্ধ ইনায়ার হাত পিছনে ঘুরিয়ে চেপে ধরে বলে,
“ভাবি জানলো কি করে?”
“আমি বলিনি।”
“তোকে বিশ্বাস করি না।”
ইনায়া অনিরুদ্ধকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। “না বিশ্বাস করলে নেই। তুই একটা ছাগল।”
অনিরুদ্ধ ইনায়ার হাত চেপে ধরে ইনায়ার দুই গাল টেনে ধরে বলে, “তোর জামাই ছাগল।”
“আমিও তাই বলেছিলাম।”
অনিরুদ্ধ ইনায়ার চুল এলেমেলো করে দিলো। ইনায়া ধুমধুম অনিরুদ্ধর বাহুতে ঘুষি দিয়ে বসে। রুদ্ধ ইনায়ার চুল টেনে ধরতেই ইনুও রুদ্ধর চুল টেনে ধরে। দুজনে দুজনের চুল ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে দরজার দিকে তাকাতেই দেখে ইশা মুখ কুঁচকে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্ধ তড়িৎ বেগে সরে গেল। ইনায়াও চোখ বড় বড় উঠে পড়ে। রুদ্ধ চাপা স্বরে বলে,
“গাধার বাচ্চা দরজা লাগাওনি কেনো?”
ইনায়া খাট থেকে নেমে দাঁড়ায়। “কিছু লাগবে আপু?”
ইশা মুখ বিকৃত করে “বস্তি দুটো” বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
চলমান……
(হ্যাপি রিডিং…..)

