আমার_বোবাফুল(৫৪.১) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
57

#আমার_বোবাফুল(৫৪.১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

৫৪–প্রথমার্ধ·
বেডে গুটিসুটি মেরে বসে আছে জেসি। আতঙ্কে মুখশ্রীটা ফ্যাকাশে। দাঁতে নখ খুঁটে ড্যাবড্যাব করে উঁকি দেয়ার মতো তাকায়। পায়চারি করছে মেহরাব,রুমের এদিক থেকে ওদিক।মুখটা অত্যন্ত গম্ভীর, ক্ষিপ্র। আচমকা তেড়ে এলো তার দিকে। নিজেকে আরো গুটিয়ে নেয় জেসি। দুহাতে মুখ ঢেকে হড়বড় করে বলে অসহায় মুখে, ভয়ার্ত গলায়—

‘ প্লীজ মারবেন না! আমাকে আগলে নিতে এখানে ভাইয়া নেই!কোন আপনজনও নেই!’–রয়েসয়ে বলল এরপর,-‘ আ_আপনি ছাড়া!’

চোখ রাঙিয়ে তাকায় মেহরাব।চোখ বুজে নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করে।কপাল চেপে ধরে অল্পক্ষণ কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়। দাঁতে দাঁত চেপে জানতে চায়–

‘ চেনা-জানা নেই এমন কাউকে বীনা বাক্যে বিয়ে করতে বিবেকে বাঁধল না?’

‘ ভাইয়া আমার জন্য যা সিলেক্ট করে আমার কাছে ওটাই বেস্ট!আর তাছাড়া আপনার সম্পর্কে জেনে শুনেই বিয়ে করেছি!’

চমকানোর মতো তাকায় মেহরাব,-‘ জেনে শুনে বিয়ে করেছো মানে?’

‘ বিয়ের আরো অনেকদিন আগে আপনার সাথে আমার জোড়া গাঁথার কথা চলেছে। আপনার ছবি দেখানো হয়েছে। হ্যান্ডসাম ডক্টর , মিষ্টি মুখের ভাষা চারদিকেই একশোতে একশো।কে না অপছন্দ করবে বলুন?আমি তো এক দেখাতেই প্রেমে পড়ে…’

‘ শাট আপ!’

চমকে উঠে জেসি। মুখের হাসি উবে গেল মূহুর্তেই। মেহরাব চোখ রাঙিয়ে পরবর্তী বাক্য আওড়াতে নেয়,তার আগেই জেসি উঠে দাঁড়ায় বেডের উপরেই।কাল বিলম্ব না করে মেহরাবের কলার টেনে গলা জড়িয়ে মুখোমুখি হয়ে বলল—

‘ মিস্টার হাসবেন্ড.. এই এত্তো ছোটো থেকে ভাইয়ার চরম আদরে বাঁদর বনে বড় হয়েছি।ফুলের টোকাটাও গায়ে লাগতে দেয়নি কখনো। কেউ ইট মারলে আমি যখন পাথর ছুঁড়েছি; তখনো কোন শাসন করেনি।ভাবুন কতোটা আহ্লাদী,কিউট, মিষ্টি একটা মেয়ে আমি। খবরদার ধমক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তো।আমি কিন্তু অনেক জোরে জোরে কাঁদতে জানি। এতোটাই জোরে যে একবার কান্না ধরলে –ভোরে যারা নতুন বউকে দেখে প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়ে ফিরেছে।তারা ভাববে আমার উপর বিয়ের একদিন যেতে না যেতেই নির্যাতন শুরু করেছেন। কাঁদব? কাঁদছি কিন্তু? একবার কান্না ধরলে হাত পা ধরেও থামাতে পারবেন না বলে দিলাম!তাহলে শুরু করি?’

চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে রইল মেহরাব।ঝাড়া মেরে জেসির হাত সরিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।কোণাচোখে তার যাওয়া দেখে বুকে হাত চেপে আটকে রাখা শ্বাসটা সজোরে ছাড়ল জেসি।যাক বাঁচা গেল! পরক্ষণে বেডে হেলান দিয়ে ভাবনায় পড়ে। মানুষটা এমন ব্যাবহার করছে কেনো? বিয়ের আগে কী তার ছবি দেখেননি?এই বিয়েতে উনি রাজি ছিলেন না ?

মেহরাবকে হনহনিয়ে বেরুতে দেখে মায়রা তড়িৎ পিঠ করে দাঁড়িয়ে,উল্টো ঘুরে গেল । ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে,মুখ চেপে ধরে হাতে।তবু তার চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে –সে হাসছে। এসেছিল ভাইকে থামাতে।কাল রাত থেকে বার কয়েক বুঝিয়ে এসেছে,বিয়ে তো হয়েই গেছে। এখন আর কিছু করার নেই।মেয়েটাকে ধমক না দিতে, খারাপ আচরণ না করতে। কিন্তু এখানে এসে জেসির শেষ বাক্যগুলো আর ভাইয়ের নিশ্চুপতা দেখে অবচেতনেই ঠোঁটে হাসি এসে ভিড় করেছে।

সামনে কারো অস্তিত্বের আভাস পেয়ে হকচকিয়ে মুখ তুলল সে। মেহরাব চেয়ে আছে ,চোখে মুখে ক্ষোভ।গলা খাঁকারি দিয়ে অন্যত্র চেয়ে বলল—

‘ কিছু বলবি?’
‘ তুই হাসছিস?’

মায়রা ঘনঘন দুদিকে মাথা ঝাঁকায়,-‘ নাতো?’

‘ এঁকে তো চিট করেছে।তার উপর বেয়াদবি করছিল মেয়েটা।আর তুই এখানে হাসছিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ?ওর বেয়াদবিতে মজা পেয়েছিস?’

প্রত্যুত্তর না শুনেই মেহরাব রাগে ফের হাঁটা ধরল গটগট।মায়রা পেছন থেকেই হাত বাড়িয়ে বলতে ধরে,-‘ ভাই ভুল বুঝছিস তুই!আমি হাসছিলাম না!’

বলতে বলতে জেসির কথাগুলো পুণরায় মনে পড়তেই ফের মুখ চেপে হেসে ফেলল। অনেকদিন পর এমন প্রাণ খুলে হাসছে সে।

জায়গাটি জনশূন্য। কোথাও কেউ নেই।সুখ বিলবিল করে চতুর্দিকে নজর হাঁটায়; কাউকেই চোখে পড়ে না।অবশ্য পড়ার কথাও নয়!

সরু পথ।তার উভয় পাশে ফুল আর ফুল। যতদূর চোখ যায় গোলাপ,জারবেরা এবং টিউপিলের সমারোহ। জোনাকির মতো কিছু কিছু ফুলের গায়ে আবার সোনালী আলো জ্বলে।সম্মুখে, খানিক পথ পেরুলেই সম্মুখীন হতে হবে সূর্যের কোমল আলোয় চিকচিক করা স্বচ্ছ পানি।
পানির উপরেই ডানা মেলে উড়াউড়ি করছে সাদা সাদা কতক পাখি।ওগুলো বক পাখি নয়। পাখিগুলোর নাম জানে না সুখ।তবে,দূর থেকে তাদের উড়াউড়ি, হাঁটাচলা দেখে প্রফুল্ল দুলে উঠে মন। নিজের অবস্থান ভুলে দুহাত উঁচিয়ে নেড়েচেড়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের বৃথা চেষ্টা চালায়। ঠোঁটে উপচে পড়ে খুশির দ্বারা।

বর্ণ’র বাহু ধরে পাখিদের দেখিয়ে হেসে উঠে সে নিঃশব্দে। পরক্ষণে ধফ করে হাসি নিভে গেল পাশে ফিরে। তখনো বর্ণ’র বাহু জড়িয়ে ছিল ডান হাতটা। সতর্কতার সাথে হাত ছাড়িয়ে আনে সুখ।কানের পিঠে চুল গুঁজে এদিক ওদিক নজর লুকোয়।বর্ণ হাসল কী না বোঝা গেল না। সন্তর্পণে হাত বাড়িয়ে দেয় সুখের দিকে। স্তম্ভিত সুখ নাকচ করতে নিলে বর্ণ দুদিক মাথা নেড়ে দৃঢ় কন্ঠে শব্দ উচ্চারণ করে মুখের অভ্যন্তরে ,-‘ উঁহু!’

যার অর্থ –’কোন কথা নয় ফুল!’ সুখ যেনো সম্মোহিত হলো বর্ণ’র সেই চাহনিতে।ধীরে হাত রাখে পুরুষটির হাতে। মূহুর্তেই আঙুলের ভাঁজে ডুবে গেল আঙুল। পরক্ষণে তার হাতটা বন্দী হলো শক্তপোক্ত বাঁধনে।

দুজন এগিয়ে চলে সামনে।সুখ নির্বাক, চোখে ঘোর বিষ্ময়। আশপাশ থেকে মৃদু গানের আওয়াজ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে।

Foolon ki, Malika hai..
Pariyon ki Rani hai..
Meri mehbooba.. mehboba!!
Meri Zindegaani hai ..!!

গানের কন্ঠটি তার মুখস্থ।চোখ বুজে এক তুড়িতেই বলতে পারবে এটা রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’র স্বর।

পানির সামনে চলে এসেছে দুজন। বিষ্ময়ে মুখে হাত উঠে যায় সুখের। পানিতে ভাসমান লাল আস্তরণের ভেলা।যার চারকোনায় ফুলদানিতে টকটকে খয়েরী গোলাপের তোড়া, ঝিকিমিকি করছে ঝিনুক বাতিতে।পা বাড়িয়ে বর্ণ আগে উঠে গেল তাতে। এরপর সুখের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় নিঃশব্দে। বিহ্বল সুখ হাত ধরে পানিতে ভাসমান ভেলায় উঠল।ভেলার শেষপ্রান্তে আরো একটি লাভ শেপের ভেলা ভাসছে।তাতে মুখোমুখি দু’টো চেয়ার। মাঝখানে ছোট আকৃতির টেবিল।টেবিলের মধ্যেখানে রাজকীয় প্রদীপদানিতে অল্প দূরত্ব রেখে চারটি প্রদীপ জ্বলছে। অবার চার কোণা থেকে উপরে দিকে বাঁধা আছে ছয় ছয়টা লাভ শেপের টকটকে লাল বেলুন।গলা শুকিয়ে আসে সুখের।

লাভ শেপের ভেলায় উঠতেই পানি থেকে চারপাশ থেকে একত্রে লাল, নীল, রূপালী রুঙের ঝিলমিলে আতশবাজি ফোটে উঠে।যেন একের পর এক বিষ্ময়।সুখ হতবাক চোখে সেদিকে তাকানোর ফাঁকে ভেলা পানিতে নড়েচড়ে উঠল আচানক।ভয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে অন্তঃপুর। তড়িঘড়ি হাতে বর্ণ’র বাহু খামচে ধরল। ভ্রু কুটি করে তার ধরে রাখা হাতের দিকে তাকায় বর্ণ। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল—

‘ ভরসাযোগ্য আছি তাহলে?’

সুখ জবাব দেয়না।ধরে রয় ওভাবেই।মাথার উপর গুটি কয়েক সাদা পাখি উড়ছে। বাকিগুলো পানির উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।খেলছে ,পানিতে মুখ ডুবিয়ে গোসলও করছে।কী সুন্দর আকর্ষণীয় দৃশ্যখানা।তবে,সুখ উপভোগ করতে পারছে না।ভেলা উল্টে যদি পানিতে ডুবে যায়?

টেবিলে লাল গোলাপের তোড়া ছিল একটা।সেটা হাতে আকম্মাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে বর্ণ। সুখের দিকে বাড়িয়ে দিতেই ফের বাজি ফাটানোর আর্তনাদ।আনমনেই পূব আকাশের দিকে চায় সুখ। গোধূলির শেষ লগ্নে শূন্য আকাশে ভেসে উঠেছে– বিয়ের দিন, বর্ণ জোরপূর্বক তার কোমর চেপে ধরার মূহুর্তটা। হৃদস্পন্দন ছুটছে বোধহয়।গলা শুকিয়ে পানির তেষ্টা পায় হুটহাট।

‘ সুইটহার্ট..!’

সম্বিত ফেরার মতো তড়িৎ সামনে দৃষ্টিপাত করে সে।বর্ণ ফুলের তোড়া এগিয়ে দিয়ে বলে ঠোঁট নেড়ে,

‘ পুষ্পরাণীর জন্য একমুঠো ফুল! নিয়ে ধন্য করবেন কী আমায়,বউফুল?’

খেই হারাল সুখ। হতবুদ্ধির মতো চেয়ে রয় ফ্যালফ্যাল।এমন সারপ্রাইজ্ড ইতোপূর্বে হয়নি কখনো! বর্ণ’র কন্ঠ ভেসে এলো পুণরায়–

‘ ইনসাল্ট ফিলিং হচ্ছে আমার, সুইটহার্ট!হাত থেকে ফুলগুলো নিবি? নাকি আমার সাথে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে হাবুডুবু খাবি?এটা কিন্তু বেস্ট আইডিয়া… স্বচ্ছ পানিতে দুজন কপোত-কপোতী ভিজে একাকার…’

বাক্য শেষ করতে হয়নি তাকে। পূর্বেই ফুলগুলো ছিনিয়ে নিল সুখ। নির্লজ্জ পুরুষ মানুষ। চোখের চাহনি,বলার ধরনেই সে ঢের বুঝতে পারছে কথার টোন যেতে যেতে নির্লজ্জতার সীমা পার করে দিতে পারে!ফের ভেলা নড়তেই ফুলের তোড়া খামচে ধরে ফ্যাকাশে মুখে জড়োসড়ো হয়ে যায় সুখ।তবু, বর্ণ’র কাছে গেল না।আর যাবেও না!

চেয়ার টেনে সুখকে বসিয়ে দিয়ে, অপর চেয়ারে নিজে বসল বর্ণ। টেবিলে নজর যেতেই ফের আরেক দফা চমকায় সুখ।লাভ শেপের একটা কেক। কেকের উপর লাভ আকৃতির একটা ঝকঝকে ডায়মন্ডের মতো দেখতে পাথর।পাথরের গভীরে দু’টো নারী-পুরুষের চিত্র। পুরুষটি পরম যত্নে চুমু আঁকছে নারীটির কপালে।আর নারী চিত্র?আবেশে চোখ বুজে আছে। তাদের একজন আসফিয়ান বর্ণ এবং অপরজন ফারিস্তা সুবহান সুখ!

সুখের বিষ্ফোরিত নজর দেখে বর্ণ একপাশে হাসে।পাথরটা আলগোছে তুলে টেবিলে রেখে, এরপর সুখের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বলল—

‘ হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে, সুইটহার্ট!’

মনের কোণে দুদিনের বেশি অভিমান পুষে রাখতে পারলেন না আইজা। বরাবরের মতো এবারও মোমের মতো গলে গেলেন।গলে যাওয়ারই কথা।সেই ছৌট বাচ্চাটির মতো মন্ত্রমুগ্ধকর হাসি ছুঁড়ে ছেলে যদি কান ধরে সামনে এসে দাঁড়ায়। কোন মা পারবে, পাষাণী হয়ে বসে থাকতে?এই নিয়ে বর্ণ’র উপর ভীষণ বেজার তিনি।যখনই দেখো মা রেগে আছে অথবা অভিমান করেছে তখনই ছেলেটা হুটহাট এসে কান ধরে দাঁড়িয়ে –এমন এমন কথা শুনায় যে, না হেসে উপায়ই থাকে না!

বাহ্যিক জগতের কারো সামনে গম্ভীর ,কারো কাছে হিংস্র আসফিয়ান বর্ণ’র এই বেপরোয়া পনা চরিত্রের সাথে এতো দিন আইজা-ই পরিচিত ছিলেন।এখন আরো একটি নারী যুক্ত হয়েছে।সেজন হলো স্বয়ং তার বোবাফুল। এই দু’টো নারীর সামনেই কান ধরে দাঁড়াতে তার ইগো কাজ করে না।

রুম থেকে বের হবে না সুখ।এই পন করে ঘাপটি মেরে আছে দরজা আটকে।বাহিরে বেরুলেই সবাই কেমন আড়চোখে দেখছে, মিটিমিটি হাসছে।নূরা বাচ্চাটা তো এককাঠি উপরে।তার পাশে খানিক আগে বসে মন ভার করে বলল—

‘ তোমার সাথে বর্ণ’র কেনো বিয়ে হলো সুখ?বাড্ডি ভীষণ হার্ট হয়েছে!’

এমতাবস্থায় তার কী জবাব দেওয়ার থাকতে পারে? ভাগ্যিস তুহফা এসে নিয়ে গেছে তাকে। এরপর কোন রকম ড্রয়িং স্পেসে ছেড়ে রুমে এসেছে।এটা তারই রুম। বর্ণ’র রুমের দিকে যায়ই নি।

আম্মু কড়া নাড়ছে।উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল সুখ। রুবাইয়্যাত ভেতরে ঢুকলেন হাসিমুখে।হাতে দু’টো বাক্স।

‘ কাছে এসো তো আম্মা!’

ঠোঁট উল্টে তাকালো সুখ।মাথাটা খুব ধরেছে।পা টেনে টেনে আম্মুর পাশে বসে কাঁধে মাথা রাখে সাবধানে।

‘ নিচে নামছো না কেনো? লজ্জা পাচ্ছে আমার মা’টা?’

উপর নিচ মাথা ঝাঁকালো সুখ।আম্মুর কাছে বেশি কিছু লুকিয়ে শান্তি পায়না সে।

‘ এতো লজ্জা পেতে হয়না আম্মা!বড় আম্মু কিছু বলেছে? দুঃখ দিয়ে কথা বলেনি তো আবার?’

মাথা তুলল সুখ। ইশারায় পড়নের শাড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বুঝাল—

‘ দুঃখ দেয়নি!এই শাড়িটা পড়িয়ে , জুয়েলারিগুলোও দিয়ে গেল!’

জুয়েলারি গলায় পড়েনি সুখ। বক্স সহ ড্রেসিং টেবিল থেকে এনে দেখাল। রুবাইয়্যাত তাকিয়ে রইলো অনেক্ষণ।এই জুয়েলারি তো আইজার, নিজের।

‘ এই বক্সে কী আছে? নিশ্চয়ই বড় আম্মুর মতোই স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাজির হয়েছো?’ —বক্স দুটোর দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে জানতে চায় সুখ। রুবাইয়্যাত হ্যাঁ দাবি করে কিছু বলার আগে সুখ মুখ গুঁজ করে ইশারায় নিজস্ব ভাষায় বলল,

‘ আমার এসব চাইনা!’
‘ চাইনা বললে হবে? আমার একমাত্র মেয়েকে না দিয়ে আর কাকে দেবো এসব?কাছে এসো, একবার পড়িয়ে তো দেখি! আমার মেয়েকে পুতুল রাণীর মতো লাগে কী না!’

আজ রাতে নিজের রুমেই শুয়েছে সুখ। দরজা বন্ধ।বেডে কোল বালিশ জড়িয়ে চোখ বুজে; কমফোর্টার টেনে দিল বুক অব্দি। আকম্মাৎ দরজায় টোকা পড়ে। চোখে ঘুম ধরা দিয়েছিল মাত্রই। দরজায় কড়া পড়ছে লাগাতার।অথচ, কোন কন্ঠস্বর ভেসে আসছে না।

সুখ উঠে বসে। অল্পক্ষণ থম মেরে বসে রয়। এরপর হেঁটে গিয়ে দরজা খুলে দিল।সে ভেবেছিল তুহফা,অথবা কাজিনদের মাঝে কেউ হবে। কিন্তু সামনের মানুষটিকে দেখেই গলা শুকিয়ে এলো।

‘ আপনি এখানে?’
‘ একাকীত্ব ভীষণ যন্ত্রণা দিচ্ছিল। সঙ্গী খুঁজে পেলাম হঠাৎ একদিন।অতঃপর কারো সাথে নিরব যুদ্ধ শেষে নিজের জিনিস নিজের করে ছিনিয়ে নিলাম।বিয়ে করে বউ বানালাম একটা বোবাফুলকে! কিন্তু বউটা দূরে দূরে পালিয়ে বেড়ানোর মনোভাবে থাকে সবসময়।দিস ইজ নট ফেয়ার জানেমান!’—নিজের বক্তব্য শেষে সুখের পাশ কাটিয়ে ভেতরে চলে এলো বর্ণ। দরজা বন্ধ করল পুণরায়। এরপর ধপাস করে বেডে শুয়ে পড়ল।

সুখ বিমূঢ়। মূহুর্তেই কী হয়ে গেলো বুঝে উঠতে খানিক সময় প্রয়োজন পড়ল। এরপর বেডের কিনারে এসে কোমরে হাত রেখে অসন্তোষ নিয়ে তাকিয়ে রইলো।

‘ আপনি আমার রুমে কেনো?’

যথাযথ জবাব পায়না সে।বর্ণ বেডে কুনুই রেখে হাতের মুঠোয় মাথা ঠেকিয়ে চেয়ে আছে একদৃষ্টে,তার কোমরের দিকে। ঠোঁটে ফিচেল হাসি।অপর হাতখানা বাড়িয়ে সুখের ফর্সা মেদহীন উদরে টোকা মেরে বেহায়ার মতো শুধাল–

‘ ওয়াও.. আ’ম টোটালি সিডিউস্ড বাই ইয়্যু, সুইটহার্ট!’

বর্ণ’র নজর লক্ষ্য করে ভ্রু কুঁচকে মাথা নামিয়ে তাকায় সুখ। মূহুর্তেই হতভম্বে চোখ পাকিয়ে আসে।পেট থেকে শাড়ি সরে গিয়েছে। দ্রুত শাড়ি টেনে অনাবৃত অঙ্গটা আবৃত করে। এরপর হাত তুলে, আঙুল দেখিয়ে কিছু বলতে নিলে বর্ণ হাতটা ধরে ফেলল পূর্বাভাস ছাড়াই।এক ঝটকায় তাকে পাশের বালিশে শুইয়ে কমফোর্টারে ঢেকে দিল।বলল পরপরই–

‘ সামান্য যদি নড়াচড়া করেছিস। আমার এই শরীর আর এখানে থাকবে না।তোর উপর উঠে যাবে। এখন ভার সামলাতে প্রস্তুত থাকলে, নড়তে পারিস, চড়তে পারিস।যা খুশি করতে পারিস।এ্যাজ ইয়্যুর উইশ!’

#চলবে🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here