আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১৬

0
35

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৬
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ ]

“উঠে এসো”
চিরচেনা কন্ঠস্বরে শিয়া পাশ ফিরে তাকায়।অয়ন গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
“আমি চলে যেতে পারবো।”

অয়ন রাগান্বিত মুখে তাকায়।মেয়েটা বড্ড একরোখা।এক কথায় বোঝার চেষ্টা করেনা কিছু।নিজে যেটা বলবে সেটাই।আজীবন একই রকম থেকে গেলো,আগে যাও একটু কম ছিলো এখন হয়েছে তিন ডাবল।

অয়ন আবার কড়া গলায় ডাকলো।
“আই সেইড গাড়িতে এসে বসো।”

শিয়াও আগের সেই একই দৃঢ় গলায় জবাব দেয়,
“বললাম তো চলে যান।আমি যেতে পারবো।”

অয়ন চুপ করে তাকিয়ে থাকে শিয়ার দিকে।কোনো আওয়াজ না পেয়ে শিয়া তাকায়।বুকের ভিতর ধ্বক করে ওঠে।মানুষ টার চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে।যেনো ভয়ংকর রাগে তাকিয়ে আছে তার দিকে।সে চোখ ফিরিয়ে নিলো।হাঁটা ধরলো সামনের দিকে।অয়ন এবার শব্দ করে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলো।পিছন থেকে ঝট করে হাতটা টেনে ধরলো শিয়ার।অয়নের হঠাৎ টানে ঘুরে এসে কাছাকাছি চলে এলো দুজন।অয়ন এবার হাত টা আরও শক্ত করে চেপে ধরলো।
দাত কিড়মিড় করে ধমকে বললো,
“নিজেকে কি মনে করো তুমি?হ্যা?নিজে যেটা বুঝবে সেটাই সঠিক।একা একটা মেয়ে। রাত কটা বাজে খেয়াল করেছো?”

হাত টা এতো শক্ত করে ধরায় শিয়ার চোখে পানি চলে এলো।অয়নের চোখে চোখ পরতেই চোখ নামিয়ে নিলো শিয়া।ব্যাথায় হাত ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। টুপ করে এক ফোঁটা চোখের পানি এসে পরলো অয়নের হাতে।অয়নের এবার খেয়াল হলো।হাত টা ছেড়ে দিলো।হাতটাতে রক্ত জমে গেছে পুরো।নরম হয়ে এলো তার মন।নরম গলায় বললো
“মেয়ে তুমি।রাত অনেক হয়েছে।আমার একটা দায়িত্ব আছে।তোমাকে এভাবে একা রেখে আমি যেতে পারি না।ব্যাক্তিগত কিছু থেকে না হোক,অফিসের বস হিসেবে তো লিফট দিতেই পারি।তাছাড়া যাচ্ছিও তো একই বাড়িতে নাকি!”

শিয়া মুখ তুলে তাকায় না।এক হাতে অয়নের চেপে রাখা হাতটা ধরে আছে।জ্বালা করছে হাতটায়।হাত ঘুরিয়ে সময় দেখলো। রাত পোনে দশটা বাজে।সত্যিই কোনো গাড়ি নেই রাস্তায়।অনেক্ক্ষণ হলো দাঁড়িয়ে আছে।ভয় করছিলো না তা নয়…
অয়ন আবার আলতো গলায় বললো।
“এসো।”
শিয়া এবার আর না করলোনা।হেঁটে এসে গাড়িতে বসলো।অয়ন তাকিয়ে রইলো শিয়ার গাড়িতে ওঠার সময়টা।মুচকি হেসে সেও এসে বসলো ড্রাইভিং সিটটায়…

গাড়ি নিজের গতিতে চলছে।প্রকৃতির বুকে ঘন আধার।গাড়ির মধ্যে দুটো মানুষ নিশ্চুপ হয়ে আছে।কারোর মুখে কোনো শব্দ নেই।দুজনেরই দারুণ অকওয়ার্ড ফিল হচ্ছে।

অয়ন তাকালো আড়চোখে একবার। শিয়ার সামনের দিকে একমনে তাকিয়েই আছে।অয়ন এবার মুখ খুললো।
সামনের দিকে ড্রাইভিং এ মন দিয়েই আনমনে বলে উঠলো
“জীবন কতো অনিশ্চিত তাইনা!কত সহজেই সবটা এলোমেলো হয়ে যায়।”

হুট করেই এ জাতীয় কথাটা এক্সপেক্ট করেনি শিয়া।একপ্রকার না চাইতেই চমকে তাকালো অয়নের দিকে।মানুষ টার নজর সামনের দিকেই।তাকাচ্ছে না তার দিকে।

“সময় থাকতে আমরা কিচ্ছু বুঝিনা,কাউকে বুঝিনা।আফসোস টা পরে করতে হয়।এটা বোধহয় অন্যায়।আমার মতে ঘোর অন্যায়।মানুষ মৃত্যুর পর কাঁদে, কেনো কাঁদে। আমার কাছে বড্ড অযৌক্তিক লাগে।যে মানুষ টা বেচে থাকতে তাকে গুরত্ব দেওয়া হয়নি,একদন্ড তার কথা শোনা হয়নি।চলে যাওয়ার পর কেনো এতো হাহাকার থাকবে।এটা মানুষ টার প্রতি অবিচার নয়?
কিছুক্ষণ চুপ করলোমঅয়ন।তারপর অদ্ভুত এক কঠিন গলায় বললো

“মেনে নিলাম যাও।তোমার কথাই মেনে নিলাম।কিচ্ছু ছিলো না,কিচ্ছু নেই,আর কিচ্ছু সম্ভব ও না।নেই কিচ্ছু… ”

শিয়ার বুকের ভিতর চিনচিন ব্যাথা করছে অয়নের এ জাতীয় কথায়।কি মানে এসব বলার।কি বোঝাতে চাইছে মানুষ টা।শিয়ার চোখে পানি চলে আসছে কেনো। বুকের ভিতরেই বা এমন ব্যাথা হচ্ছে কেনো!

অয়ন শিয়ার কোনো শব্দ না পেয়ে আর কিচ্ছু বলেনা।আবার চুপ হয়ে যায় গাড়ির ভিতর টা।কিছুক্ষণ এর ভিতর গাড়ি এসে থামে কটেজের সামনে।

হঠাৎ ব্রেক করায় শিয়া চমকে ওঠে।
“থামালেন কেনো?”
“এসে পরেছি।নামো।”
শিয়া খেয়াল করেনি এতক্ষণ। তারা পৌছে গিয়েছে। ধীরেসুস্থে নেমে আসে গাড়ি থেকে।এগিয়ে যায় গেট খুলে।হঠাৎ আবার গাড়ির শব্দে পিছন ফিরে তাকায়। গাড়ি আবার উল্টো পথে চলে যাচ্ছে।শিয়া ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকে।ঘড়ি দেখে আবার।এতো রাতে কটেজে না ফিরে কোথায় চলে গেলো মানুষ টা।ওদিকটায় বা কেনো যাচ্ছে।শিয়া ঠায় দাড়িয়ো থাকে বেশ কিছুক্ষন।গাড়ি চোখের আড়াল হলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে আসে রুমের দিকে।
ঘরে ঢুকে ব্যাগটা বেডে রেখে প্রিয়ার রুমের দিকে এগোয়।ভিতরের দরজা টা খোলা।তার রুমটায় একবার চোখবুলায়।সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা।নিশ্চয়ই প্রিয়া রেখেছে।প্রিয়ার রুমে এসে দেখে প্রিয়া পড়ার টেবিলে মাথা গুঁজে আছে।কারোর হাঁটার আওয়াজে ছিটকে দাড়িয়ে যায়। হুট করে প্রিয়ার এমন চমকে উঠে দাড়িয়ে পরায় শিয়াও দু কদম পিছিয়ে গেছে।

প্রিয়া ঘুরে বোনকে সামনে দেখে বুকে হাত দিলো।
“ভয় পায়িয়ে দিয়েছিলি তো।ডাকবি না আমাকে!”

শিয়া কোমড়ে হাত দিয়ে বোনের দিকে তাকায়।
“চমকে তো আমি উঠেছি।এমন লাফিয়ে উঠলি কেনো!কি ভাবছিলি এমন করে।”

প্রিয়ার চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে সাথে সাথে। কি ভাবছিলো সে সেটা কিভাবে বলবে।আজ যেটা হয়েছে, আপুকে সেটা কিছুতেই বলতে পারবে না সে।কিন্তু ভেবেও তো কূল পাচ্ছে না কিছু।নিজের মধ্যে রাখতেও ইচ্ছে হচ্ছে না একদম।
“কিরে চুপ করে আছিস কেনো।কিছু হয়েছে?শরীর ঠিক আছে?”

প্রিয়ার চোখমুখ এর এহেন অবস্থা দেখে শিয়া এসে তসর গাল, গলায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো,জ্বর এসেছে কিনা দেখতে চাইলো।

প্রিয়া বোনের হাত হালকা হাতে সরিয়ে নিলো।বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসলো।
“কিচ্ছু হয়নি,ঠিক আছি।হুট করে ডেকেছিস,ভয় পেয়ে গেছিলাম আরকি।”

শিয়া পাশে বসে।প্রিয়া এবার বোনের মুখের দিকে তাকায়।মুখটা কেমন কালো হয়ে গেছে।সারাদিন খুব ধকল যায় কিনা!উঠে দাড়ালো। শিয়ার দিকে না ফিরেই ওড়না গায়ে জড়াতে জড়াতে বললো
“তোর মাথা ধরেছে জানি আমি,চা খাবি?নাকি একেবারে খাবার নিয়ে আসবো।”
শিয়া নিজেও উঠে দাড়ায়।বোনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,
“খাবারই আন।ক্ষিদে পেয়েছে।আর চা খেলে রাতের ঘুমটা ঘেটে যাবে।অথচ আমার রাতে ঘুম দরকার।”

“আনছি।তুই ফ্রেশ হয়ে নে।”
প্রিয়া আর দাড়ায় না।বোনের জন্য খাবার আনতে নিচে চলে যায়।শিয়া নিজেও রুমে আসে।জামাকাপড় হাতে নিয়ে বাথরুম এ ঢোকে।

****
“মা বলছি তো আমরা এখন কিছুতেই যেতে পারবো না।বিশ্বাস করো আর একটু বোঝার চেষ্টা করো।প্লিজ।”

ওপাশ থেকে মা শুনলো,বা বুঝলো বলে মনে হলো না।উল্টো আরও বেশি করে একই কথা বলা শুরু করলো।
“আমারই ভুল,আমারই ভুল হয়েছে বলা।ঠিক আছে।দুটো ছেলে আমার।একটা ছেলের কাছেও আমার কোনো গুরুত্ব নেই।একটা ছেলেরও মায়ের কথা একবারও মনে পরে না।তাদের না দেখে তাদের মায়ের যে কি অবস্থা হয়,একজজন ও বুঝলো না।বলবো না আর আসতে।একদম বলবোনা।”

মায়ের ইমোশনাল ডায়লগে আকাশ হাসে।প্রায় আধ ঘন্টা ধরে তার মা একই কথা বলে যাচ্ছে।তাদের দু ভাইকে দেখে না এক মাস হলো,তাদের দেখার জন্য মন পাগল হয়ে গেছে,দম বন্ধ হয়ে আসছে আরও কত কি! সে বোঝাবার হাজার চেষ্টা করছে প্রজেক্ট এর এখন যে অবস্থা কোনো কিছুর মূল্যেই এখন বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার সময় নেই।কিন্তু মা সেটা বুঝলে তবে তো।তখন থেকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেই যাচ্ছে।

“মা শোনো।শোনো আমার কথা।”
“কিচ্ছু বলবি না তুই,আসতে হবে না তোদের দু ভাইয়ের যা। ”
আকাশ এবার শব্দ করো হেসে ফেলে মায়ের বাচ্চামো গলা শুনে।
“কখন বললাম আসবো না এবার?”

ওপাশের গলায় এবার উচ্ছ্বাস দেখা গেলো।যদিও পর মূহুর্তেই আবার পুরানো ইমোশনাল বয়েজে রুপান্তরিত হলো তার মায়ের গলা।
“আসবি। বাবা।সত্যি আসবি?থাক্ এসব মিথ্যা সান্ত্বনা দিতে হবে না।”
“আসবো বললাম তো।সামনে সপ্তাহে আসি?মা বোঝোই তো।তোমার একমাত্র জামাই আমাদের দু ভাইকে যে প্রেশার এ ফেলেছে,কিভাবে হুট করে সব ছেড়ে ছুড়ে যাই বলোতো!”

মা এবার শান্ত হলো বোধহয় খানিকটা।নরম গলায় বললো।

“অয়ন টার কি হয়েছে বুঝি না।ফোনই ধরতে চায়না।তুই ওর খেয়াল রাখবি।কত বলি এবার দু ভাই বিয়ে থা কর।বউমার মুখ দেখি,নাতি নাতনির মুখ দেখি।বুড়ো হয়েছি।আর কতদিন বা বাজবো।এখন বাচ্চাকাচ্চা না নিলে তাদের কোলেপিঠে মানুষ করবো কিভাবে।একজনও শুনিস না আমার কথা।না শুনলি।এবার ফিরলে দুটোরেই একটা গতি আমি করবো।করবোই।আর তাড়াতাড়ি চলে আসবি।তোদের না দেখা অবধি আমার বুকের ব্যাথা কমবে না।মনে থাকবে?”
আকাশ হাসে হাসে মায়ের কথা শুনে।নরম গলায় সেও বলে।
“আসবো মা।আর মন খারাপ করবে না।এখন ঘুমাও।অনেক রাত হলো তো।আমি ভাইয়ার খেয়াল রাখবো। চিন্তা করতে হবে না।আমার না হলেও তোমার বড় ছেলের বউ আনার ব্যাবস্থা এবার করেই দেবো যাও।কথা দিলাম।”

মায়ের ফোন রেখে বারান্দায় আসে আকাশ।অয়ন ভাই এখনো ফেরেনি।ফোন টাও তুলছে না।নিশ্চয়ই আবার বার এ গিয়েছে।আকাশ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।ভাইটা তার নেশা করতো না কোনো কালেই,ইদানীং রোজকার মাতাল প্রায়।ফোন হাতে কাউকে একটা কল করে।শিয়া আর অয়ন ভাইয়ের ম্যাটার টা যথাসম্ভব জলদি সলভ করতে হবে।না হলে ভাইটা তার নেশাখোর এর দলে নাম লেখাবে…

*****

শিয়া বারান্দায় এসে বসে আছে অনেক্ক্ষণ। ঘরে আজ দম আটকে আসছে।প্রিয়া পাশে এসে বসলো।ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। খুবই সামান্য। দমকা বাতাসে বৃষ্টি চোখেমুখে লাগছে।দারুণ লাগছে।প্রিয়াা খুব করে বুঝতে পারছে বোনটার মন আর কোনো কারণে একটু বেশিই খারাপ।জিজ্ঞেস করবে কি না বুঝে উঠতে পারছে না।বেশ কয়েকদিন আগের বাথরুম এর দরজা আটকে বোনের কাঁদার কথাটা তার মনে পরে গেলো।কি এমন হয়েছে তার সাথে যেটা মনের মধ্যে চেপে এতো কষ্ট পায় সবসময় মেয়েটা।

শিয়ার ঘড়ির দিকে তাকায়।রাত্র ১২ টা বেজে ১৯ মিনিট।এখনো অয়ন ফেরেনি।কোথায় গিয়েছে মানুষ টা।রোজ রাতেই কি এতো দেরি করে ফেরে?অফিসের কাজ তো এতো রাত অবধি থাকে না।তাহলে?কোনো বন্ধু বান্ধব এর সাথে আড্ডা!না না এখানে তাদের তেমন বন্ধু বান্ধবই বা কারা।তাছাড়া আকাশ,রিয়ান সবাই বাসাতেই আছে।অয়ন একা ফিরছে না কেনো।পর মূহুর্তেই নিজের ওপর দারুণ রাগ হয় তার।মানুষ টার জন্য তার কেনো এতো চিন্তা।কোনো মানেই হয় না।কে হয় তসর।কেউ না।কেউ না।কেউ ছিলো না।সত্যি কি ছিলো না!ছিলো বোধহয় কিছু একটা,আর ছিলো বলেই এখন পুড়ছে বুকটা।শিয়া চোখ বন্ধ করে বৃষ্টি পরতে দেয় মুখের ওপর।চাপা শ্বাস বেড়িয়ে আসে বুক চিড়ে তার।কত হিসেব মিললো না তার জীবনে!অযাচিত মন ব্যঙ্গ করে উঠলো তাকে।
“হেহ্ মিললো না বলছিস! না কি মেলালি না।”
“আমি মেলাই নি?”
“তুই তো মিলতে দিলি না।”
“সে চায় নি আমাকে।”
“না চাইলে এখব এসেছে কেনো বোঝাতে।”
“অপরাধ বোধ থেকে।”
“অপরাধবোধ?এমনি এমনিই?ভালোবাসা ছিলো বলেই ধরে নে অপরাধবোধও কাজ করে।”
“হাহ্ ভালোবাসা!বড়লোক ছেলেদের এসব ভালোবাসা হয়না।”
“সত্যি তো!নিজে ভুল করছিস না তো?নিজে না হিসেব মেলাচ্ছিস।আর না সে মিলিয়ে দিতে চাইছে সেটা হতে দিচ্ছিস।পরে আফসোস হবো না তো আবার?তখন না আবার দেরি হয়ে যায়!”

শিয়া ফট করে চোখ খুলে নেয়।নিজের অবচেতন মন তাকে যা বলছে ঠিক একই ধরনের কথা আজ সন্ধ্যায় অয়ন বললো না তাকে!সত্যিই কি তার বুঝতে ভুল হচ্ছে। নতুন করে আর কি ভুল হবে।এতো বছর পর এসে আর কি ঠিক হবে!শিয়া ভেবে পায় না…

আরও আধঘন্টা পর গাড়ির আওয়াজ আসে সামনের রাস্তা থেকে।তাদের কটেজের রাস্তায় গাড়ি ঢুকছে একটা।নিচে এসে থামতেই স্পষ্ট বুঝতে পারে এটা অয়নের গাড়ি।যাক ফিরলো অবশেষে।শিয়া তাড়াহুড়ো করে পিছিয়ে রুমে চলে আসতে চায়।তখনি নিচ থেকে অন্য রকম কন্ঠের আওয়াজে থমকে দাড়িয়ে যায় সে।এগিয়ে আসে রেলিং এর কাছে।নিচের দিকে তাকিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় সে।
অয়ন হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে একপ্রকার। আর হাসান সাহেব জড়িয়ে ধরে নিয়ে আসছে ভিতরে।স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মানুষ টা স্বাভাবিক নেই।তসর বুঝতে অসুবিধা হলো না অয়ন ড্রিং করেছে।রাগ হলো তার অসম্ভব। তখনই মাতাল কন্ঠ শোনা গেলো অয়নের।
“ছাড়ো বলছি।হাসাআআন।বলছি ছাড়ো।আমি একাই হাঁটতে পারবো বললাম না?আমি কি বাচ্চা। শিয়ার কাছে নিয়ে চলো।বেয়াদব ও একটা।পাষান মেয়েমানুষ। আমসর কথা শোনেনা,আমাকে বোঝেনা,ভালোবাসলো না আমাকে।বিশ্বাস তো করলোই না।”

ঢোলে পরলো হাসানের গায়ের ওপর।হাসান সাহেব যথাসম্ভব শক্ত করে ধরে আছে অয়নকে।সেও সান্ত্বনা দেওয়ার গলায় বললো।

“ঠিক আছে স্যার।আমরা বোঝাবো ম্যাডাম কে।শুনবে আপনার কথা।এবার তো রুমে চলুন।”

অয়ন আবার বাচ্চাদের মতো হাত নেড়ে মাতাল গলায় কি সব বলতে থাকে।হাসান তাকে ততক্ষণে ভিতরে নিয়ে এসেছে।
শিয়া আর দাড়ায় না।চোখ জ্বালা করছে তসর,বুকের ভেতর টা ছটফট করছে।মানুষ টার এমন অবস্থা সহ্য হচ্ছেনা কেনো তার।দৌড়ে নিজের রুমে চলে এলো সে।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here