আকাশপ্রিয়া #পর্ব_২৭

0
40

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২৭ (রোমান্টিইইইক)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ। সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য। অ্যাডাল্ট কথা বার্তা আছে।না ভালো লাগলে এড়িয়ে যাবেন]

রাত পোনে একটা।মিনিট দশেক হলো ঝড় কমেছে।আঁকাবাকা পাহাড়ি রাস্তার বুকে দ্রুত গতিতে চলছে একটি গাড়ি।অয়ন ড্রাইভিং করছে।ঝড়ের কবলে পরে টানা দু ঘন্টা রাস্তার কিনারায় দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে।কিছুক্ষণ আগেই মাত্র গাড়ি চলার মতো পরিবেশ হয়েছে খানিকটা।
অয়ন আড়চোখে তাকালো একবার শিয়ার দিকে।ঘুমিয়ে গেছে।ঝড় দেখে বার রেখেছিলো শুধু হাউমাউ করে কান্না করা।অয়ন নিঃশব্দ হাসলো।কি বাচ্চা বাচ্চা লাগছে মুখটা।শান্ত লাগছে।অথচ কে বলবে ঘুম ভাঙলেই এ মেয়ে রণচণ্ডী রুপ ধারন করবে।মেয়েটস বরাবরই একটু জোড়ে শব্দ হলেই ভয় পেতো।মনে পরে গেলো তাদের প্রেমজীবনের অনেক কথাই।বৃষ্টি তে কতশতবার ভিজেছে দুজন।ঝড়ে বুকে জাপটে ধরে রেখেছে।হারিয়ে গেছে সে সব,হারিয়ে গেছে।
ফোনটা সুইচ অফ হয়ে আছে তার।আকাশকে কে যে একটু কল করে জানাবে তার উপায় দেই।তার ওপর আজ সারাদিন মাকে একবার ও কল করতে পারেনি।মাতৃদেবী নিশ্চয়ই রেগে গেছেন।পৌছুতে আরও দেড় ঘন্টা লাগবে। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে তার। আশপাশে কোনো চা কফির দোকান এতো রাতে পাওয়া যাবে বলে তো মনে হচ্ছে না।অথচ এখন তাকাতেই অসুবিধা হচ্ছে তার।এ অবস্থা নিয়ে আরও এতক্ষণ ড্রাইভ করা রীতিমতো অসম্ভব।

আরও মিনিট বিশেক ড্রাইভ করার পর একটা টং ঘর দেখতে পাওয়া গেলো।এতো রাতে দোকান খোলা পাওয়া ভাগ্য বলা যেতে পারে।ধীরে সুস্থে গাড়িটা থামালো অয়ন।নেমে এগিয়ে গেলো দোকানটার দিকে।কড়া লিকারের চা দিতে বলে বসলো আধভেজা ব্রেন্চ টায়।জানতে পারলো ঝড় হওয়ায় দোকানি দেখতে এসেছিলো দোকান টা আছে নাকি ভেঙেচুরে গেছে।দোকান খোলার জন্য আসেনি তবে অয়ন অনুরোধ করায় চা বানাতে বসে গেলো দোকানি।

শিয়ার ঘুম ভেঙে গেছে।পিটপিট করে তাকালো।একমুহূর্ত কোথায় আছে নিজে সেটা বোঝার চেষ্টা করলো।গাড়িতে আবিষ্কার করলো নিজেকে।সাথে সাথে মনে পরলো সে অয়ন এর সাথে ফিরছিলো।মাঝরাস্তায় ঝড় হওয়ায় থামতে হয়েছিলো গাড়ি।বাইরে তাকালো যেখানটায় গাড়ি থেমেছিলো সেখান টা নয় এটা।সময় দেখলো সোয়া একটা বাজে।অয়ন এসময় গাড়ি থামিয়ে গেলো কোথায়।শিয়া আশেপাশে উকি দিলো গাড়ির কাচ নামিয়ে।একটু দূরেই একটা টং ঘরে আলোর দেখতে পাওয়া গেলে।সেখানটাতেই বসে আছে অয়ন।
কিছুক্ক্ষন বসে রইলো।নামবে কি না ভাবলো।তবে গাড়ি থেকে নামলো সেও।এগিয়ে গেলো টং এর দিকে।অয়ন শিয়ার পারফিউম এর ঘ্রান পেতেই পিছন ফিরলো।
“নেমে এলে যে।এইতো উঠছিলাম আমি।গিয়ে বসো গাড়িতে।আসছি আমি।”

বলেই অয়ন উঠতে নিলো।শিয়া থামিয়ে দিলো তাকে।
“আমি চা খাবো।”

অয়ন তাকালো তার দিকে।তবে কিছু বললো না।দোকানির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো আরও দু টো চা দিতে।তার হাতের টা শেষ।শিয়া দুরত্ব রেখে বসলো পাশে।অয়নও খানিকটা সরে বসলো।শিয়া খেয়াল করলো সেটা।না চাইতেও বুকটা চিনচিন করে উঠলো।চুপচাপ চা খাচ্ছে দুজন।অদূরে পাহাড়ি বাড়িঘর গুলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।বেশিরভাগই অন্ধকার।তবে কিছু কিছু ঘর থেকে আলো দেখা যাচ্ছে।আশপাশটা যতটা শুনশান হওয়া দরকার ততটা লাগছে না কেনো জানি।
শিয়া বেশ কয়েকবার আড়চোখে দেখলো অয়নকে।সামনে উদাস চোখে তাকিয়ে উদাস ভাবেই চায়ে চুমুক দিচ্ছে।একবারের জন্যও তার দিকে তাকাচ্ছে না।বুকের ভিতর টা চিনচিন করছে।আহত হলো খানিকটা।মানুষ টার নিরব এড়িয়ে যাওয়া ভালো লাগছে না তার একদম।এমন টা হচ্ছে কেনো।সেই তো চাইতো এতদিন দূরে থাকুক মানুষ টা।কাছে আসতে চাইলে,কথা বলতে চাইলে রাগ করতো সে।সেদিন তো গায়ে হাত ও তুলেছে।তাহলে এখন যখন সত্যিই দূরে দূরে থাকছে তাহলে এতো জ্বলে যাচ্ছে কেনো বুকটা ।
অয়ন শিয়ার হাত থেকে খালি কাপ টা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দাম মেটালো।শিয়াও উঠে দাড়ালো।
অয়ন পকেট হাতড়ালো।শিয়ার দিকে তাকালো না।
“গাড়িতে গিয়ে বোসো।আমি আসছি।”
“আবার কি?”
“গিয়ে বোসো।১০ মিনিট আসছি আমি।”
শিয়া কথা বাড়ালো না আর।গিয়ে বসলো গাড়িতে। অয়ন নিজেও এসেছে গাড়ির কাছে।গাড়ির পিছনের সাইটে গেলো।হেলান দিয়ে দাড়িয়ে সিগারেট ধরালো একটা।শিয়া অয়নকে না দেখতে পেয়ে খোঁজার চেষ্টা করলো।গাড়ির কাচ নামাতেই নাকে সিগারেট এর উৎকট গন্ধ নাকে এসে লাগলো।চোখমুখ কুচকে ফেললো।তার মানে সিগারেট খাচ্ছে অয়ন।
মনটা মিয়িয়ে গেলো তার।অয়ন কখনো সিগারেট ছুতো না।ভুলেও না।এসব বাজে অভ্যাস তার কখনো ছিলো না।আর এখন।তাকে তো মাঝরাতে বেশ কয়েকবার ড্রিংক করে মাতাল হয়ে ফিরতে দেখেছে সেখানে সিগারেট আর এমন কি।
মিনিট দশেক এর মাথায় অয়ন আসলো।নির্বিকার ভাবে গাড়ি ছাড়লো।আবার পিনপতন নিস্তব্ধতা গাড়িতে।শিয়ার আজ অনেককিছু জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। জানতে চাইবে?উচিত? ভালো দেখাবে?যেখানে অয়ন এতদিন পাগলের মতো তার কাছে পাঁচটা মিনিট চেয়েছে কিছু বলতে,সেই তো সুযোগ দেয়নি।আজ কেনো তবে তারই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে সব।আর কেনো অয়নই বা এতো ইগনোর করছে তাকে।অবশ্য এত বাজে ব্যবহার এর পর আর কিই বা আশা করা যায়।গাড়ির কাচ নামিয়ে দিলো সে।হুড়মুড়িয়ে ঠান্ডা বাতাস এসে লাগলো।মাথার ওড়না টা নামিয়ে দিলো।চুলগুলো উঠছে।অয়ন দেখলো সবটাই।হাত কেঁপে কেঁপে উঠছে।কতদিন কাছে পাওয়া হয়না প্রিয় মানুষ টিকে।দু হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরার সুযোগ টা টাকে দেওয়া হয়না।আজ ইচ্ছে করছে,বড্ড ইচ্ছে করছে।

***

আকাশ পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে সামনে ঘুমন্ত প্রেয়সীর দিকে।বিগত তিন ঘন্টা যাবৎ দেখে যাচ্ছে।গুটিসুটি মেরে বসে ছিলো সোফার ওপর।গান শুনছিলো আকাশের।কখন ঘুমিয়ে পরেছে টেরই পায়নি।আকাশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে,খোলা চুলগুলো ছড়িয়ে আছে সোফার জুড়ে,বাইরের মেঝে অবধি ছুঁয়ে আছে।বাতাসে ক্রমাগত উড়ছে।দমকা বাতাসে হাত পা আরেকটু চেপে গায়ের ওড়না টা হাতড়ে খুঁজতে চাইলো।ঘুমের ঘোরে পেলো না খুঁজে। আকাশ বুঝলো প্রিয়ার শীত লেগেছে।থেমে যাওয়া ঝড় আবার উঠবে বোধহয়। উঠে গিয়ে বারান্দায় থাই গ্লাস আটকে দিলে।একনজর দেখতে প্রিয়াকে।সোফায় শোয়ার কারণে হাত পা মেলতে পারছে না।স্কার্ট অনেকটাই উচুতে উঠে আছে।ফর্শা পা দুটো দৃশ্যমান হয়ে আছে।বিরক্ত ফুটে উঠছে একটু পরপর মুখে।কপাল কুচকাচ্ছে।

আকাশ এগিয়ে গিয়ে ঝুকলো প্রিয়ার মুখের ওপর।আলতো হাতে মুখের ওপর ছোট এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিলো।পাজাকোলে তুলে নিলো।শুয়িয়ে দিলো বিছানায়।নরম বিছানার ওম পেয়ে মুখে সস্তির ছাপ দেখা গেলো।ঘুমের ঘোরেই মিষ্টি মিষ্টি হাসলো।আকাশ গায়ের ওপর কাঁথা টেনে দিয়ে পাশে বসলো।খোলা চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে ফেললো।
কেমন একটা অস্থির অস্থির লাগছে তার।ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে।হেলান দিয়ে বসলো প্রিয়ার সিওরে।হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ঘন চুলে।মাথা নিচু করে মুখ ডুবিয়ে দিলো চুলে।ঘ্রান টেনে নিলে।মাতাল মাতালই লাগছে।প্রিয়া হঠাৎ নড়ে উঠলো।আকাশ দ্রুত সরে যেতে নিলে টান লাগলো প্রিয়ার চুলে।ঘুমের মধ্যেও মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো প্রিয়া।
“আহ্”।
ঘুমন্ত প্রেয়সীর মাতাল করা কন্ঠ,আকাশের মস্তিষ্ক শূন্য করে দিতে চাইলো এবার।অসহায় চোখে দেখলো প্রিয়াকে।ঠোঁট উল্টে, কপাল কুচকে আছে।স্বাভাবিক হলো কিছুক্ষণ এর মধ্যেই।আকাশের গলাটা শুকিয়ে আসছে।সরতে হবো এ মেয়ের থেকে।উঠতে গিয়ে খেয়াল করলো,প্রিয়া তার শার্টের কলার চেপে ধরে আছে।ওপরের বোতাম দুটো খোলা।ছাড়াতে চেষ্টা করলে,প্রিয়া ছাড়লো না।বরং উল্টো আরও শক্ত করে চেপে ধরলো।এলোমেলো ভঙ্গিতে টেনে আনলো কাছে।আকাশের দিনদুনিয়া এলোমেলো ঠেকছে,মাথা ফাঁকা হয়ে আসছে।এ মেয়ে করছে কি।মারবে তাকে,খুন করে ফেলবে আজকে।এতদিন যা পাগলামি করার,বোকামি করার করেছে। কিন্তু এখন,এই আবহাওয়ায়,এই অবস্থায় এতো কাছে টানলে সে কিভাবে সামলে রাখবে নিজেকে।
আবার হাত টেনে ধরলো প্রিয়ার,এবার আরেক কান্ড করে বসলো মেয়েটা।আকাশের বারবার হাত ছাড়ানোর চেষ্টায় সে ঘুমের ঘোরেই প্রচন্ড বিরক্ত, হেঁচকা টানে আরও কাছে এনে ফেললো আকাশকে।কাত হয়ে তাকায়।বেকায়দায় নিজেকে সামলাতে পারলো না সে।একদম ঘেষে শুয়ে পরলো প্রিয়ার পাশে।প্রিয়া ভালোমতো কাত হয়ে মুখ গুজলো আকাশের খোলা প্রশস্ত বুকে।আকাশের পুরুষালী শরীরের ঘ্রানে বোধহয় টান খুঁজে পেলো প্রিয়া।নাক ঘষলো লোমহীন বুকে।চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো আকাশ।শরীর ঝিম ধরে গেছে এবার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো বিদ্রোহ করছে।খুব করে অন্য কিছু চাইছে এখন।আকাশ হাত মুঠো করে ফেললো। প্রিয়া সুন্দর করে কোমড় জাপটে ধরে বুকের ভিতর মুখ লুকিয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলো আবার।

আজকের মতো অসহায় নিজেকে এর আগে কখনো মনে হয়েছে কী না সন্দেহ। ঠিক এই অনূভুতি হয় জন্য মেয়েটাকে দূরে দূরে রাখে সে।বোকা মেয়েটা টের তো পায়ই না।বরং আরও এমন এমন ঘটনা ঘটায় আকাশ এহনাজ চৌধুরীর মতো শক্তপোক্ত চরিত্রের মানুষ নিমিষে টলে যায় এর সমানে।
আকাশ চোখ বুঝে মাথা ঠেকালো প্রিয়ার কপালে।মেয়েটা যদি জানতো আজকে কোন লেভেলের টর্চার করছে সে আকাশকে, স্বইচ্ছায় ধরা দিয়ে দিতো।
“খুন করে ফেলছো তুমি আমাকে,জাস্ট খুন।মাথা থেকে পায়ের নখ অবধি আন্দোলন করছে তোমাকে কাছে পাওয়ার।দুনিয়ার সব আদর তোমাকে করতে ইচ্ছে হচ্ছে আমার।নিঃশ্বাস নিতে পারছি না তো আমি।কেনো করছো এমন।”
“উমমমম্।”
আকাশের শরীর ঝাঁকি দিয়ে দিয়ে উঠছে বারবার। প্রিয়া পা ঘষছে আকাশের পাশে।আরও গুটিশুটি মেরে বিড়াল ছানার মতো ঢুকে যেতে চাইছে আকাশের ভিতরে।আকাশ আলতো হাতে জড়িয়ে ধরলো প্রিয়াকে। প্রিয়াও একই ভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে।আকাশ দীর্ঘশ্বাস শ্বাস নিলো।চুলের ঘ্রান নিলো প্রিয়ার।মুখ তুললো।আবছা আলোয় ঘুমন্ত পরীর মতো মুখটা দেখলো।ঝট করে চুমো খেয়ে বসলো কপাল টায়।আবার একনজর দেখলো,স্থির দৃষ্টিতে তাকালো। পুনরায় ঠান্ডা ঠোঁট জোড়া ছোয়ালো কপালে।এবার দীর্ঘ সময় আর ঠোঁট সরালো না।
এই বুকটা জ্বলে যাচ্ছে তার।শরীর কাছে টানছে প্রিয়াকে।আর এক মিনিট এখানে থাকা যাবে না।না হলে সেটাই হয়ে যাবে যেটা একদম হওয়া উচিত নয়।এই অবস্থায়, এখন তো আরও নয়।
আকাশ এবার অনেকটা জোর করেই ছাড়িয়ে নিলো নিজেকে।উঠে গেলো বিছানা থেকে।হঠাৎ করে জরিয়ে ধরার উষ্ণ বুকটা সরে যেতেই কাঁদো কাঁদো মুখ করে হাতড়ালো আসেপাশে। খুজলো সে উষ্ণটার উৎস। আকাশ নেশাক্ত দৃষ্টিতে দেখলো সবটাই,আহত হাসলো।
“সময় হোক ম্যাডাম।এ বুকেই জাপটে ধরে রাখবো প্রতিটা মূহুর্ত।আর রইলো বাকি আপনার এই শান্তির ঘুম।ওটা হচ্ছে না তখন।আমাকে সময় অসময় পাগল বানানোর,বুকের অস্থিরতা না থামিয়ে উল্টো ঝড় তুলে দেওয়া। আমারই বিছানায় আমাকে বন্দি বানানো সবকিছুর শোধ তুলবো একদিন ছটফট করবে আদর পেতে,আদর পেয়ে মিষ্টি যন্ত্রণায় আবার ছটফট করবে,তারপরও আদরই চাইবে। কথা দিলাম তোমার ওই আমাকে কাছে চাওয়ার,আমার তীব্র আদর পাওয়ার আকুল আবেদন করাবো আমি।সবদিনের হিসেব তোলা রইলো ম্যাডাম।”

প্রিয়ার গায়ের ওপর ভালো করে কাথা টেনে।বাথরুমে ঢুকে গেলো।ঘেমে শরীর ভিজে উঠেছে।জ্বলছে শরীরের ভিতরে,বাইরে।লম্বা শাওয়ার নিলো ঠান্ডা পানিতে।বেরিয়ে দেখলো প্রিয়ার এলোমেলো হয়ে শোয়া।হাসলো নিঃশব্দ।বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।
রাতুল এর ঘরের সামনে এসে ঠকঠক করলো দরজা।রাতুল ঘুমায়নি।মুভি দেখছিলো।এতো রাতে দরজায় শব্দে চমকে এসে দরজা খুললে।খুলে অবশ্য আরও চমকালো।আকাশ এতো রাতে তার ঘরে।আকাশ রাতুলের হা হওয়া চেহারা উপেক্ষা করে ঠেলে ঢুকলো ঘরে।রাতুল দরজা লক করে পিছন পিছন আসলে।ভেজা চুলগুলো হাত দিয়ে এলোমেলো করলো,পানি ঝড়ানোর চেষ্টা আরকি।তারপর গিয়ে গা এলিয়ে দিলো বিছানায়।রাতুল হতবুদ্ধি হয়ে আছে।নিজেও গিয়ে উপুড় হয়ে শুলো বিছানায়।ল্যাপটপে চলন্ত মুভিটা টস পজ করলো।
অবাক গলায় বললো,”ঝড়ের রাতে ভূতের ভয় পাওয়ার মানুষ তো তুই না।কাহিনি কি?”
আকাশ চিৎ হয়ে শুলো।দু হাতে কপাল ঘষলো।
“প্রিয়া।”
রাতুল বুঝলো না কিছু।প্রিয়ার কথা উঠলো কেনো।
“বুঝলাম না।”
“প্রিয়া ঘুমোচ্ছে।”.
” কোথায়”
“আমার রুমে।”.
রাতুল লাফিয়ে উঠলো।নজর গেলো আকাশের ভেজা চুলে।হা করে ফেললো,চোয়াল ঝুলে পরলো তার।একপ্রকার চিৎকার করে বসলো।
“ আকাআআশ…তুই..মানে..ভাই..কি করলি এটা।বাচ্চা মেয়ে একটা। ও গড্।এই ভয় টাই হতো আমার।ও ঠিক আছে?”

আকাশ বোকা হয়ে তাকিয়ে রইলো।রাতুল মাথায় চুল খামচে ধরে হা হুতাশ করছে।

“হা হুতাশ করছিস কেনো আজব।তুই যেটা…

আকাশের কথা শেষ করতে দিলো না রাতুল।উচ্চ গলায় আর্তনাদ করে উঠলো।
“হা হুতাশ করবো না মানে।বাচ্চা মেয়ে ও।তোদের বিয়ে…গড।তোদের বিয়ে হয়নি আকাআআশ।আগে চলে আসতি আমার রুমে।মেয়েটা…”

আকাশ এবার স্পষ্ট হলো রাতুল কি বাঝাতে চাইছে।পা দিয়ে সজোরে লাথি মারলো রাতুলের পায়ে।রাতুল বাঁকা হয়ে গেলো।
“ননসেন্স এর মতো আজেবাজে বকিস না রাতুল।”

“তো কি বলবো।এতো রাতে প্রিয়া তোর রুমে,তুই শাওয়ার নিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে শুচ্ছিস।কি বুঝবো আমি?”

“গাধা।”

“হ্যা আমি এখন গাধা।কি করেছিস ভাই মেয়েটার সাথে। “

আকাশ চোখ ভয়ংকর গরম করে তাকালো।
“তোর আমাকে এরকম মনে হয়?”

“মনে তো হতো না।টলে টলে তো তুমি টেম্পু না হেলিকপ্টার চালাও।আগে তো বুঝিনি।”

“রাবিশ।”

“ওই রাবিশই।আগে বল কি হয়েছে।

আকাশ হতাশ চোখে দেখলো গাধা বন্ধু টাকে।তিল কে তাল বানাতে সর্বদা রেডি থাকে।মাথায় ভর্তি উল্টাপাল্টা চিন্তা এদের শুধু।খুলে বললো সবটা।রাতুল হাফ ছাড়লো।নিজেও ঠাস করে শুয়ে পরলো আকাশের পাশে।
“ বাঁচালি ভাই।আমি তো টেনশনে পরে গেছিলাম।কতই বা বয়স আমার বল।এখনই কেউ চাচ্চু চাচ্চু করে ডাকবে।দশ বছর যেতে না যেতেই পার্টনার খুজে এনে চাচাশ্বশুর বানিয়ে দেবে,তার পরের দশ বছরের দাদা ডাকা শুনতে হবে।ভাবতে পারিস?এখনো আমার বিয়ের বয়স হয়নি ওদিকে তোর নাতিনাতনির দাদা ডাক শুনে ফেললে মানসম্মান কি থাকে বল।”

আকাশ পেটে ঘুষি দিলো রাতুল এর।রাতুল হো হো করে হেসে উঠলো।
“ওদিকে অয়ন ভাই বোধহয় আসল ম্যাচ খেলছে ভাই দেখ গিয়ে। “

“সবাই তোর মতো নেগেটিভ চিন্তাভাবনা সবসময় মাথায় নিয়ে চলে না।”

“তোমরা সব গোল দিয়ে ফেলছো,আর আমি সেটা বললেই আমি খারাপ। বাহ বাহ্”

“শাট আপ রাতুল।অয়ন ভাইকে কল করেছিলি।আমার ফোন চার্জ দেয়া হয়নি। “

“করেছিলাম। আসছে।ঝড়ে আটকে ছিলো।আসছে।ঘন্টাখানেক লাগবে আরও”
মাথা নেড়ে এক হাত কপালে রেখে চোখ বুঝলো আকাশ।

“কি রে শাওয়ার নিয়ে ক্লান্ত লাগছে তোর?কি করেছিস?ক্লান্ত কেনো?”
আকাশ রাতুলের বাঁকা কথার মানে বুঝলো।রাতুল হাসছে। দাতে দাত চেপে তাকালো আকাশ।”ঘুমাতে দে।মাথা খারাপ করিস না।”
রাতুল হো হো করে হাসলো।সে খুব ভালো করে জানে বিয়ের আগে আকাশ এমন কিছু করবে না যাতে প্রিয়ার অসম্মান হয়।আর যদি হয়ে যায় কোনো ভুল সেটাও সে সম্মান এর সাথেই সামলে নেবে।বন্ধু কে সে হাড়ে হাড়ে চেনে।এ ছেলের মতো শক্তপোক্ত চরিত্রে,আত্মসংযমী পুরুষ সে কম দেখেছে।
কলেজ লাইফ থেকে শুরু করে কতশত মেয়ে পাগলামি করেছে।সৌমি নামে তাদের এক ক্লাসমেট রীতিমতো আদাজল খেয়ে নেমে আছে বিগত কয়েক বছর।যা যা করা প্রয়োজন একজন পুরুষকে কাছে আনতে সব করেছে।তবুও আকাশ চোখ তুলে দেখেনি।নারী চেনে সে।কে সত্যিকার অর্থে সম্মান পাওয়ার যোগ্য জানে সে।প্রিয়া কেও সে সম্মান টা আকাশ তাই করে।মেয়েটা চটপটে,চঞ্চল। কিন্তু প্রানবন্ত,সাধাসিধা, একটা মেয়ে।এমন মেয়েকে পাওয়া যেকোনো পুরুষ এর ভাগ্য। আকাশ টা ভাগ্যবান,তেমন প্রিয়াও ভাগ্যবান।হালকা হেসে চোখ বুঝলো সেও।

চলবে ইনশাআল্লাহ… 🌼🍂

[রোজা,পড়াশোনা, ফ্যামিলি প্রেশার,শরীর স্বাস্থ, মানসিক অবস্থা সব মিলিয়ে লেখা অনিয়মিত আরকি।ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে।আশা করি বুঝবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here