পর্ব~৪৬🌼]

0
36

[পর্ব~৪৬🌼]

____”ভুল হয়ে গেছে, আমার বড্ড ভুল হয়ে গেছে।”

প্রিয়ার বিরবির করে বলা কথাগুলো সম্ভবত অপু শুনতে পেলো না। আরও কিছু বলবে বা বলতো তার আগেই উঠে পরলো প্রিয়া। চলে গেলো সেখান থেকে। রিমিও অপেক্ষা করলো না এক সেকেন্ড। আর না তো অপুকে কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করতো।

প্রিয়া বাড়ির ভিতরে মা বাবা কে না পেয়ে বাইরে ছুটলো। প্রিয়ার বাবা মা সহ বাদবাকি সকলেই শিয়ার কাছে । ওখানে গেস্ট দের সাথে কথাবার্তা বলতে ব্যাস্ত। প্রিয়া এসে দাড়াতেই প্রিয়ার বাবা পরিচয় করিয়ে দিলেন মেয়েকে। প্রিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে শিয়ার পাশে দাড়ালো।
____”আমরা কখন যাবো আপু? রাত হয়ে যাবে যেতে যেতে।”

শিয়া বোনের মলিন মুখের দিকে তাকালো। মেয়েটার নাড়ি নক্ষত্র সব চেনা তার। কখন মন খারাপ আর কখন মন ভালো না বললেও টের পায় সে। বোনের হাত ধরে টেনে পাশে বসালো।
____”যাবো তো। সন্ধ্যের পর রওনা দেবে। কিছু হয়েছে?”

মাথা নাড়লো প্রিয়া। কিচ্ছু হয়নি বোঝালো। পাশে রিমি এসে দাড়াতেই ভ্রু জোড়া তুললো রিমির দিকে। রিমি ইশারা করলো প্রিয়াকে দেখিয়ে। মুখ নাড়িয়ে আকাশ এর নাম বললো। এবার খানিকটা সম্ভবত ধরতে পারলো শিয়া।
____”প্রিয়ু? “

____”বল।”

____”খেয়েছিস?”

____”হু। “

____”আকাশ খেয়েছে?”

____”ওনার বাড়ি। খেয়েছে নিশ্চয়। “

____”আমাদের সাথে বসেনি। খাওয়ার আয়োজন তো সব এখানেই। আমার এখান দেখে দেখা যাচ্ছে কে খেয়েছে বা খায়নি। আকাশ কে তো দেখলাম না বসতে। ওর সাথে দেখা হয়নি তোর?”

____”দেখা না হওয়ার কি আছে। দেখা হওয়ার ওপরেই তো আছে।”

শিয়া এদিকসেদিক তাকিয়ে খুজলো আকাশকে। দেখতে পেলো না। অয়নকেও দেখলো না। শুধু তাই নয় ওদেরও কেউই এদিকে নেই। অফিসের কি এক গোলমাল হয়েছে বলে সবকটা উধাও হলো। খুব আরজেন্ট না হলে আজকের দিনে এরকম করতো না কেউ-ই। বাবার ডাকে প্রিয়া আবার উঠে যেতেই গড়গড় করে এতক্ষণ ঘটা সব কথা বলে ফেললো রিমি। শিয়ার কপালে ভাজ পরলো। কই অয়ন তো অপুকে নিয়ে কিচ্ছু বলেনি! এরকম কিছু সত্যিই ঘটলে অয়ন কি তাকে জানাতো না? ভাবার মধ্যেই অয়ন উপস্থিত হলো। মৃদু হেসে সরে দাড়ালো রিমি। অয়ন পাশে বসতেই শিয়া জিজ্ঞেস করলো,
____”তোমার মামাতো বোন অপুর সাথে আকাশের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে?”

ভ্রু কুচকে তাকালো অয়ন। তাদের মায়ের রাগের মাথায় সেদিন হম্বিতম্বি ছিলো শুধু সেটা। শিয়াদের কান অবধি পৌছুলো কি করে!
____”মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং একটা। আর কিচ্ছু না। কেনো বলোতো?”

রিমির মুখে শোনা কথাগুলো আরেকদফা আউড়ালো শিয়া। অয়ন কপাল চাপড়ালো। এ কারণে রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এখন অযথা একটা মনোমালিন্য হবে দু পরিবার এর মধ্যে।
ফোন বের করে চটজলদি ফোন করলো আকাশকে।
____”কোথায় তুই?”

আকাশ সবে নিজের রুমে এসেছে। মাথা দপদপ করছে।
____”ঘরে।”

____”প্রিয়া?”

____”ভাবির কাছে না?”

____”তোর বউ তুই জানবি। আমরা জানবো কি করে? নাকি অপুকে পেয়ে ওকে ভুলে গেছিস! রুম দেখতো গোছানো না?”

ভাইয়ের হেয়ালিপনা কথাগুলোর মানে টের পেলো না আকাশ। বিছানার দিকে তাকালো। গোছানো। সকালে সে তাড়াহুড়োয় রুম এলোমেলো করেই বেরিয়েছিলো। ছোট্ট করে জবাব দিলো,
____”গোছানো।”

____”অপু গুছিয়েছে। তাহলে? অপুকে রুমের দায়িত্ব দিয়ে দিলি! আমার বোনটার জন্য আমি তাহলে অন্য জায়গায় সম্মন্ধ দেখতে পারি তো নাকি?”

আকাশ বিরক্ত হলো এবারে। সোজা কথা সোজা ভাবে না বলে পেচাচ্ছে এতো অযথা।
____”যা বলার সোজাসাপটা বলো।”

____”সারাদিন আমার বোনটাকে ইগনোর করছিলি কেনো? তারওপর তোর অপুউউউ বলেছে তোদের বিয়ে জলদিই। ভাবলাম বাড়ি বয়ে এনে অপমান এর মানে হয় আমার বোনটাকে। “

____”হোয়াট রাবিস! অপু আসছে কোত্থেকে বারেবারে।”

____”সেটাই তো কথা। প্রিয়ার সাথে সব সলভ করে নে। ঘন্টাদেড়েক এর মধ্যে আমরা রওনা দেবো আবার। মিটিয়ে নে কি হয়েছে। না হলে আমি কিছু জানিনা।”

ফোন রেখে আকাশ কপাল ঘষলো। মেয়েটার সাথে কথা না বলার কারণ সে নিজে। তাদের লন্ডন এর অফিসের একাশি কোটি টাকার গড়মিল হয়েছে। সেখান থেকে ডিলার রা প্রেশার দিচ্ছিলো। সারাদিন আজকে সেখানকার কর্মীদের বকাবকি করতে গিয়েছে। প্রিয়ার সামনে পরলেই নরম হয়ে আসে মন। তাছাড়া ওরকম রেগে যাওয়া রুপ প্রিয়া কখনো দেখেনি। আকাশ তার এই সাইট টা মেয়েটাকে দেখাতে চায়না। যতবার আজকের দিনে প্রিয়া সামনে পরেছে ততবারই কাউকে না কাউকে ঝারছিলো সে। মেজাজ তুঙ্গে ছিলো।

অয়নের কথা শুনে আধখোলা বোতাম গুলো আবার লাগিয়ে ছুটলো বাইরে। করিডরে আসতেই চোখে পরলো প্রিয়াকে। আরশির সাথে বাড়িতে ঢুকছে। সাথে রিমি,এরিন আর আয়াত ও আছে। সারাদিন পর এতক্ষণে ভালোমতো মেয়েটার দিকে তাকানোর সময় পেলো আকাশ। কি যে স্নিগ্ধ লাগছে তার পাখি টাকে। তবে সরু হয়ে এলো চোখজোড়া দ্রুতই। প্রিয়ার পায়ের দিকে তাকিয়ে। কয়েক ইঞ্চি উচু হাই হিল। ওটা পরে এতো দ্রুত হাটাহাটি কিভাবে করছে মেয়েটা আকাশ বুঝে পেলো না। প্রিয়া কে ডাকতে যাবে গলা উচিয়ে তার আগেই থামলো। বসার ঘরে অনেক আত্মীয় সজন। বাজে দেখায় বিষয়টা। প্রিয়া কে কল দিতে গিয়েও দিলো না। নিশ্চিত পাখিটা অভিমান করে আছে। ছোট্ট করে মেসেজ করে আরশি কে। ভাইয়ের মেসেজ পেয়ে মিটমিটে হাসলো আরশি। প্রিয়ার হাত ধরে টানলো ওপরের যাওয়ার জন্য।
____”নিচে অনেক ভিড় প্রিয়াপু। মাথা যন্ত্রণা করে। আমার রুমে বসবো চলো।”

প্রিয়া মানা করলো না। মাথা তারও ধরেছে। আকাশকে খুজছে কখন থেকে। আবার উধাও লোকটা। দোতলায় আরশির রুমে যেতে পা বারাতেই আচমকা টান পরলো প্রিয়ার বাহুতে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলো আকাশ দু হাতের বাঁধনে। দরজা আটকে দিয়েছে আকাশ। প্রিয়ার ছোট্ট শরীরটা সেই দরজায় লেপটে। আকাশ দু হাত দরজায় ঠেকিয়ে আটকে ফেলেছে প্রিয়াকে। আচমকা এমন হওয়া হতবিহ্বল হয়েছে প্রিয়া। কি ঘটলো বুঝতে বেশ সময় নিয়েছে। তবে ভালোমতো তাকাতেই খেয়াল করলো একজোড়া ঘোলা হয়ে আসা চোখ তার দিক অনিমেষ তাকিয়ে আছে।

হতবিহ্বলতা কাটতেই প্রিয়া নড়েচড়ে উঠলো আকাশকে সরিয়ে দিতে। আকাশ আরও ঝুকলো খানিকটা। দম আটকে মাথা নিচু করে দাড়ালো প্রিয়া। কন্ঠ কঠিন করার চেষ্টা করলো প্রিয়া।
____”এটা কি ধরনের ব্যবহার। বাইরের মানুষ কি ভাববে?”

____”কি ভাববে?”

____”আমি আপনার ভাইয়ের শালিকা। তাকে এমন টেনেহিঁচড়ে নিজের রুমে আনছেন। আক্কেল নেই কোনো?”

প্রিয়ার কন্ঠস্বরে আকাশের হাসি পেলো। নরমসরম কন্ঠের কেউ যদি হুট করে রেগে গিয়ে সে রাগ প্রকাশ করতে চায় তাহলে বোধহয় এরকমই শোনায়। প্রিয়ার কন্ঠ রাগে কাঁপছে নাকি ভয়ে বুুঝে ওঠা গেলো না।
আকাশ নিচু হয়ে খোলা চুলে মুখ গুজলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____”সরি।”

____”হঠাৎ! “

____”সারাদিন কাছে আসতে পারিনি।”

____”পারেননি! নাকি আসেননি? তাছাড়া আসার কিই বা অধিকার আছে আপনার! আর কাছে যে আসবেন কেই বা আমি।”

আকাশ এর বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না ম্যাডাম রেগে আছে ভীষন। তবে এই মেয়েকে সবদিক থেকে চেনে সে। এ রাগ নিছক অভিমান। অবিশ্বাস এর ছিটেফোঁটা তাতে নেই।
আকাশ মুখ তুললো। চিবুকে আঙ্গুল ছুয়িয়ে উচু করলো প্রিয়ার মুখ।
____” ইচ্ছে করে তোমার কাছে আসবো না এও সম্ভব আমার দ্বারা? তোমার বিশ্বাস এটা? হুম? আর
অধিকার আজ নেই কাল হবে। হতেই হবে। কোথায় যাবো তোমাকে ছাড়া। “

____”কোথায় যাবেন! যেখানে ইচ্ছে যান।”

আকাশ বাঁকা হাসলো। নাকে নাক ঘষলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____”কি যেনো গান টা গেয়েছিলো আমার পাখিটা? ইশশশ মনে তো পরছে না? ওইযে হসপিটালে। কি যেনো ছিলো? ওহ মনে পরেছে।
” তোমার ছেড়ে বহু দূরে যাবো কোথায়?
এক জীবনে এতো প্রেম পাবো কোথায়!”

কোথায় যাবো তোমাকে ছাড়া! সম্ভব না আর তোমাকে ছাড়া এক মূহুর্তে বাঁচা। এই বাচ্চা মেয়েটার প্রেমে ডুবেছি আমি। বহু আগে। আকাশ এহনাজ চৌধুরী কে প্রিয়ানিশা রহমান নামের একটা বাচ্চা পাখি জাদুর মায়ায় বেধে ফেলেছে। এ জীবনে তাকে ছেড়ে কোথাও যাওয়ার সাধ্যি আকাশ এহনাজ এর নেই। হবেও না।”

প্রিয়ার চোখজোড়া ছলছল করে ওঠে আচমকা। দু হাতে ঠেলে দেয় আকাশের শক্তপোক্ত বুক। অভিমানী গলায় বলে,
____”মিথ্যাবাদি। সব মিথ্যা। তাই তো অন্যের সাথে বিয়ে ঠিক করে এসে আমার সাথে আদিখ্যেতা করা হচ্ছে। “

____”তুমি বিশ্বাস করেছো অপুর সেসব কথা? “

নাক টানলো প্রিয়া। বিশ্বাস সে করেনি। অভিমান হলেও আকাশকে এতো সামান্য কিছুতে অবিশ্বাস সে করবে না। করতে পারবে না। অয়ন শিয়ার দুরত্ব তাদের সকলকেই অনেক শিক্ষা দিয়েছে। ভালোবাসলে সবার আগে বিশ্বাস করতে জানতে হয়। তবে আকাশকে সেসব মুখে সে থোরাই বলবে। সব কিছুর কৈফিয়ত সে নিজের মুখে শুনতে চায়। প্রিয়া গাল ফুলিয়ে বললো,
____”না করার কি আছে! মিথ্যা বলে তার লাভ কি!”

____”লাভ-ক্ষতি! এইযে এটাই। আপনি আমাকে ভুল বুঝে দূরে চলে যাবেন। অপু সেই সুযোগ এ আমার গলায় ঝুলে পরবে। আমিও আপনার শোক ভুলতে বিয়ে টা করে নেবো। তারপর বাসর…

মুখ চেপে ধরলো প্রিয়া আকাশের। অগ্নিদৃষ্টি তে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ ভীষন এনজয় করলো এ দৃষ্টি। প্রিয়া অনেকভাবে তার দিকে এর আগে তাকালেও এতটা রেগে কখনো তাকায় নি। প্রিয়া দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
____”বাজে কথা বললে আপনার বাড়িতেই আপনাকে খুন করে রেখে যাবো। আমার হাতেই মরন আছে আপনার। “

মুখের ওপর থেকে নরম হাতে প্রিয়ার বাচ্চা বাচ্চা হাতটা সরিয়ে নিজের দু হাতের মুঠোয় নিলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____”খুন তো হয়েই আছি ম্যাডাম। আপনার হাতে মরণ লেখা হয়েছে অনেক আগেই। স্ব ইচ্ছেতে লিখিয়েছি সেটা।”

____”সিনেমার ডায়লগ বন্ধ করুন। যেতে দিন আমাকে। রওনা দেবো এখন আমরা। দেরি হয়ে যাবে।,”

____”হলে হবে।”

____”ইশশশ ছাড়ুন তো।”

____”তাকাও আমার দিকে। পাখি?”

প্রিয়া এই ডাকে কি আছে জানেনা। বুকের ভিতর উথাল-পাতাল করে তার। রাগ টাগ গলে পানি হয়ে যেতে চায়। আকাশ এক হাতে প্রিয়ার কোমড় চেপে শূন্যে তুলে ফেললো।
____”আরেহ্ নামান তো। কি হচ্ছে টা কি।”

আকাশ নামালো না। বিছানায় গিয়ো বসে নিজের উরুর ওপর বসালো প্রিয়াকে। খোলা চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিলো। প্রিয়া অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে।
____”রাতুল রা যে বলে তুমি আমার বেবিগার্ল ভুল কিন্তু বলে না। বাচ্চা মেয়ে একটা। কথায় কথায় গাল ফুলায়। বেবিদের মতো।”

_____”আপনি আমাকে বেবি বলবেন না। কি বলতে চান হুম? আমি বাচ্চাদের মতো আহ্লাদ করি? ন্যাকামি করি।”

আকাশ কপট আশ্চর্য হওয়ার ভাব করলো। চোখ বড় করে অবাক হওয়ার মতো করে বললো,
_____”আমার মনের কথা কি করে পড়ে ফেললে! তোমাকে যতটা বাচ্চা ভাবি ততটা নও। একটু বড় আছো।”

প্রিয়া কথায় জিততে না পেরে কান্না করে ফেলবে প্রায় এমন অবস্থা। আকাশ গাল টিপলো। নরম গলায় বললো,
____”লেট মি এক্সপ্লেইন। প্লিজ।”

আকাশের কন্ঠের আকুলতায় স্থির হলো প্রিয়া। মাথা নিচু করে ওড়নার পাথর খোটাচ্ছে। আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেললে বললো,
____”আগে অপুর বিষয়টা ক্লিয়ার করি। অপু আমার মামাতো বোন। জানোতো? আমার বড় মামার মেয়ে। আমার থেকে বছর পাঁচেক এর ছোট হয়তো। সিওর নই। মামা ছোটবেলা থেকে চাইতো আমার সাথে ওর বিয়েটা হোক। তবে আমার মধ্যে জানোই তো, সেরকম কোনো অনূভুতি আসেনি। ভুলেও গেছিলাম আমি সেসব। মামা হয়তো মাঝেমধ্যে মাকে মনে করিয়ে দিতো। মা আমাকে এসে ইশারা ইঙ্গিত করতো। কিন্তু জোর বা এ জাতীয় কিচ্ছু করতো না। আমার পরিবার ছেলেমেয়ের পছন্দে গুরুত্ব দিতো আজীবন। আমি যখন তোমার কথা বলি মা এক বাক্যে রাজি ছিলেন। তবে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। শিয়া আর ভাইয়া কে নিয়ে। যেহেতু একটা সময় ওদের মধ্যে এরকম ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। মা কে, কে বা কারা শিয়া সম্পর্কে আজেবাজে কিছু জানিয়েছিলো। আই মিন শিয়া ভাইয়াকে ছেড়ে গেছে টাইপের। তো তখন মা একটু রেগে যায়। আর হুট করে বড় মামা কে জানায় অপুর সাথে আমার বিয়ের কথা আর ভাইয়ার সাথে সৌমির সামথিং এমন…
আমি বা ভাইয়া কেউ-ই মা কে আশকারা দেইনি। তারপরের দিন ভাইয়ার অ্যাক্সিডেন্ট টা হয়। এবং মা শিয়ার অবস্থা দেখে বুঝতে পারে তার শোনা সব কথা আদতে ফেক। এবং তারপর তো এইযে দেখতেই পাচ্ছো। সব ঠিকঠাক।”

____”সেটা তো ভাইয়া আর আপুর মধ্যে। আমাদের কি! করে নিন বিয়ে অপু কে।”

____”আর ইউ জেলাস পাখি?”

____”নোপ।”

শব্দ করে হাসলো আকাশ। বেবি হেয়ার গুলো প্রিয়ার কানে গুজে দিয়ে বললো,
____”ভাইয়ার বিয়ে উপলক্ষে ওদের দাওয়ার দিতেই হতেো। মা বাবার প্ল্যান, আসলে সামনাসামনি তোমার আর আমার ব্যাপার টা জানিয়ে ক্ষমা চাইবেন ওদের কাছে। কিন্তু বিয়ের ব্যাস্ততায় সেটা হয়ে ওঠেনি এখনো। এসব নিয়ে তোমার চিন্তার কোনো কারণ নেই।”

প্রিয়া মুখ বাঁকালো। গম্ভীর গলায় বললো,
____”কিসের চিন্তা! আমি কোনো চিন্তাটিন্তা করছি না। “

____”তাই বুঝি মন খারাপ করে ঘুরছিলে!”

____”মোটেই মন খারাপ করিনি আমি। আপনি কে! আপনার কথা না বললে আমার কি? কিচ্ছু না।”

____”কথা না বললে কিচ্ছু সেটা কখনো বললাম।”

প্রিয়ার ইচ্ছে করলো আকাশকে কামড়ে দিতে। ফাজিল লোক। আকাশ হাসলো আরেকদফা। তার কথা প্যাচে মেয়েটা দারুন জব্দ হয়ে যায়।
____”আমি আমার সবথেকে ভালো দিক টা তোমাকে দেখাতে চাই প্রিয়া। আজীবন। আমার কোনো কাজ ব্যবহারে দেখে পরের বেলা আমার কাছে আসতে যেনো তুমি ইতস্তত না করো আমি সেটা চাই। আমাদের লন্ডন এর অফিসে একটা বড় স্ক্যাম হয়ে গিয়েছে। সেটা নিয়ে কাল রাত থেকে ডিসটার্ব। আমি চাচ্ছিলাম না আমার আসেপাশে থেকে আমাকে তুমি ওভাবে রাগ বা চেচামেচি করতে দেখো বা শোনো। তোমার মনে এটা আসুক যে কখনো আমাদের সম্পর্কে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া হলে তোমার সাথে আমি ওই ব্যবহার করতে পারি। আমি এটা চাইনি।”

প্রিয়া এ যাত্রায় মুখ তুললো। নরম তুলতুলে হাতটা ছোয়ালো আকাশের গালে। ছলছল চোখে তাকালো আকাশের পানে।
____”আপনার সব সিচুয়েশনে, সব রুপে একমাত্র আমিই যেনো সামলাতে পারি এ অধিকার আমার চাই।”

প্রিয়ার এহেন কথায় আকাশ থমকায়। পুলকিত হয়ে আসে মন। মেয়েটা কতটা ম্যাচুয়র একটা কথা বললো জানেকি নিজেও! আকাশ দু হাতে প্রিয়াকে জড়িয়ে নিজের মাথা রাখলো প্রিয়ার বুকে।
____”এই বুকে মাথা রাখার অধিকার ও তবে দিতে হবে।”

____”দেইনি? না দিলে রাখতে পারতেন?”

____”জোর করে হলেও তুমি আমার পাখি।”

____”আমার ওপর জোর চলবেনা।”

____”আর কারোর জোর চলুক আর না চলুক। আকাশ এহনাজ এর জোর চলতে বাধ্য। “

প্রিয়া ঠোঁট টিপে হাসলো। মোচড়ামুচড়ি করে নেমে এলো উরুর ওপর থেকে।
____”আমি নিচে যাবো। আটকাবেন না আর। আমার কসম।”

আকাশ ভ্রু কুচকে তাকায়। প্রিয়া বাঁকা হেসে ঘুরতেই উচু জুতোয় ব্যালেন্স হারালো। তবে পরলো না। বুকে হাত দিয়ে শ্বাস নিতেই আকাশের হাতের টান পরলো আবার। আবার একই ভঙ্গিতে বসিয়ে পায়ের জুতো এরইমধ্যে খুলে ফেলেছে আকাশ। জুতোর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে বললো,
____”এতো উচু জুতো পরে বকের মতো লম্বা হওয়ার মানে কি পাখি?”

এত সুন্দর জুতো তার। তাকে কতটা প্রিটিই লাগছিলো সেটা একবারও না বলে শেষমেশ বকের সাথে তুলনা করা হলো! ক্ষেপে গেলো প্রিয়া।
____”আচ্ছা বক পশু নাকি পাখি?”

প্রিয়ার বাঁকা কন্ঠে আকাশ মুখ তুলে তাকালো। ভ্রু জোরার মাঝে ভাজ ফেলে বললো,
____”খেপে আছো কেনো পাখি! ভালোর জন্যই তো বললাম। করিডর থেকে দেখছিলাম। যে ছোটাছুটি করছিলে। এই জুতো পরে মুখ থুবরে এখনো পরোনি কিভাবে হিসেব মিলছে না।”

প্রিয়া দু পা তুলে দিলো আকাশের পায়ের ওপর। লম্বা করে পা রাখলো আকাশের উরুর ওপর।
বাঁকা গলায় বললো,
____”আমার যা ইচ্ছে করবো আমি। আমার পা আমার সিদ্ধান্ত। “

আকাশ তার ওপরে তুলে দেওয়া প্রিয়ার পায়ের দিকে খেয়াল করলো। অদেখা হাসলো। তবে মুখ যথেষ্ট সিরিয়াস করে বললো,
____”হবু শশুর বাড়ি এসে এতো উড়াউড়ি করলে ভালো দেখায় না পাখি। লোকে খারাপ বলবে। তাছাড়া আকাশ এহনাজ এর হবু বউ জনসম্মুখে মুখ থুবরে পরলে… একটা মানসম্মান এর ব্যাপার আছে না?”

প্রিয়া ভ্রু নাচালো।
____”পাখি বলে ডাকবেন আর পাখি ওড়াউড়ি করলেই দোষ? কমনসেন্স কোথায় আকাশ এহনাজ এর? “

____”পয়েন্ট।”

____”এবার আমাকে যেতে দেওয়া হোক। “

____”আজ যেনো কি বার?”

____”শনি।”

____”সামনে শুক্রবার আসতে কতদিন যেনো?”

____”বয়েই গেছে। সরুন তো।”

আকাশ শব্দ করে হেসে নাক ঘষলো প্রিয়ার কন্ঠদেশে। হাস্কিস্বরে বললো,
____”কিছু একটা করে ফেলি? তুমি আছো, বেড আছে, মুড আছে।”

প্রিয়ার বুজে আসা চোখ ঝট করে খুলে ফেললো। ভয়ার্ত চোখে বিছানার দিকে তাকাতেই লজ্জার বদলে রাগ হলো। বিছানা টা বড্ড সুন্দর করে গোছানো। মনে পরলো তখন অপু গুছিয়েছিলো বিছানাটা। আকাশের দিকে ফিরে গাল ফুলিয়ে বললো,
____”বিছানাটা এলোমেলো করতে চাই আমি।”

আকাশ তাকালো ঘাড় বাকিয়ে বিছানার দিকে।
____”তোমাকে নিয়ে বিছানায় গেলো এমনিতেও এলোমেলোই হবে।”

____”মজা করছি না আমি।”

____”আমিও না।”

____”আপনার অপু গুছিয়েছে বেড টা। সাহস হয় কিভাবে এই বেড গোছানাোর।”

____”তাইতো। এলোমেলো করে ফেলো তো জলদি।”

প্রিয়া লাফিয়ে নামলো আকাশের কোল থেকে। সত্যিই সত্যিই চোখের পলকে এলোমেলো করে ফেললো বিছানাটা। আকাশ হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। বাচ্চার সাথে প্রেম করার এই ঝামেলা। অল্পতে মান অভিমান করে বসে থাকে। সেটাও তো আবার বলা যাবে না। ম্যাডাম রেগে আবার কথাটথা বন্ধ করে ফেলবে। গোছানো বিছানা এক নিমিষে লন্ডভন্ড করে থামলো প্রিয়া। বালিশ টা আকাশের দিকে ছুড়ে দিয়ে দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে। আকাশ এক নজর রুমের অবস্থা দেখে কপালে আঙুল চেপে শব্দ করে হেসে ফেললো।
উঠে দাড়ালো, খালি পায়ে বেরিয়ে গেছে মেয়েটা। জুতো জোরা হাতে নিয়ে রুম লক করে নিজেও নামলো নিচে।

আকাশের হাতে মেয়েদের জুতো দেখে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। প্রিয়া যে জুতো পরে আসেনি তা সে নিজে খেয়াল করেছে বহু পরে। তবে আকাশের রুম এলোমেলো করেছে এই ভয়ে জুতো নিতে যেতে পারছে না। রিমি বা আরশি কাউকেই দেখছে না। শিয়ার পাশে গিয়ে দাড়াতেই কানাঘুষা শুনতে পাওয়া গেলো সকলের। আকাশদের অফিসের স্টাফ রা এখানে বেশির ভাগ। আত্মীয় সজন রা সকলেই আশেপাশেই। প্রিয়া ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকাতেই দেখলো তার জুতো হাতে আকাশ এগিয়ে আসছে এদিকে। দাতে জিব কাটলো সে। লোকটা কারোর হাতে পাঠিয়ে দিলেই পারতো। আকাশ বিনাবাক্য জুতোজোড়া নিচু হয়ে রাখলো প্রিয়ার পায়ের কাছে। স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”পরতে পারবে? নাকি পরিয়ে দেবো?”

উপস্থিত সকলের মাথায় যেনো বাজ পরলো এ যাত্রায়। আকাশ এহনাজ কাউকে জুতো পরিয়ে দেওয়ার অফার দিচ্ছে! আকাশের মামার বাড়ি সকলেই এখানে ছিলো। কপালে ভাজ পরলো তাদের সকলের। অপুর চোখজোড়া বিস্ফরিত হলো হতভম্বতায়।

প্রিয়া এদিক ওদিক তাকিয়ে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে চাপা গলায় বললো,
____”কি হচ্ছে টা কি। লোকে লোকারণ্য। এখানে লজ্জায় না ফেললে হচ্ছে না?”

আকাশ প্রিয়ার কথায় কান দিলো না। হাটু ভেঙ্গে বসে পায়ে হাত দিয়ে উঁচু করতেই প্রিয়া খামচে ধরলো আকাশের চুল। আকাশ দু পায়ে জুতো পরিয়ে উঠে দাড়ালো। প্রিয়ার পাচ আঙুলের ভিতর গলিয়ে দিলো নিজের খড়খড়ে আঙুলগুলো।
উপস্থিত সকলেই হা করো তাকিয়ে তাদের দিকে। আকাশ প্রিয়া দুজনের বাবা মা, পরিবার, সকলেই এখানে। রিমি, আরশিরাও সবে এসেছে নিচে। শিয়া অয়ন পাশাপাশি বসা। রাকা,তুষি,রাতুল,রাকিব,রেদোয়ান এমনকি খানিকক্ষণ আগে আসা রিয়ান ও এখানেই। সব্বাই কে অবাক করে দিয়ে শোনা গেলো আকাশের গমগমে কন্ঠস্বর।
_____”লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান। অ্যাটেনশন প্লিজ। সি ইজ মাই উডবি। প্রিয়ানিশা রহমান। “

হাতেগোনা কয়েকজন এর বিষয়টা জানা থাকলেও বেশরিভাগেরই অজানা এটা। চোখাচোখি শুরু হলো এরই মধ্যে। অপু যেনো আকাশ থেকে পরেছে। আকাশ গলা পরিষ্কার করে আবার মনোযোগ চাইলো সকলের।
____”হ্যা আপনারা অনেকেই জানেননা যদিও। প্রিয়া আমার বড় ভাই অয়ন মেহনাজ চৌধুরীর শালিকা। আমার ভাবি মিসেস ইনশিয়া মেহনাজ চৌধুরীর একমাত্র ছোট বোন। অ্যান্ড অ্যাম ডিপলি ফল ইন লাভ উইথ দিস প্রিটিইই গার্ল। ওর পড়াশোনা এখনো শেষ হয়নি, সাথে আমার হবু শশুর শাশুড়ী দেশে থাকবেন না বছর দুয়েক । সো উই টেক সাম টাইম। আজকে আমার ভাই ভাবির এই বিশেষ দিনে আমি চাচ্ছিলাম আমার আর প্রিয়ার বিষয়টাও অ্যানাউন্স করে রাখতে। দু বছর পর আমরা আইনত বিয়ে করছি। আই হোপ ইউ গায়েজ কিপ আস ইন ইও্যার প্রেয়ারস। এনজয় প্লিজ।”

হতভম্বতা কেটে গেলো জলদিই। রাতুল সবার আগে শিষ বাজিয়ে উঠলো। উপস্থিত সকলের করতালির শব্দে মুখরিত হলো আশপাশ। আনিসুল রহমান, রেণুকা রহমান অবাক হয়েছে বেশ। তবে আকাশের এত সুন্দর বর্ণনায় খুশি হলেন তারাও। আকাশের বাবা মা খুশি হলেও আড়চোখে দেখছেন অপুদের।
রাতুল ছুটে এলো সবার আগে।
____” হোয়াট আ সারপ্রাইজ বাডি। কি ছিলো এটা হুম?”

আকাশ কিচ্ছু বললো না। প্রিয়ার হাত ধরে শিয়া র পাশে বসিয়ে দিলো। গেস্ট দের সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলো হতবিহ্বল প্রিয়া কে রেখে।

*
রিয়ান হাতের মুঠো শক্ত করে দাড়িয়ে আছে মঞ্চের নিচেই। একটু আগে কি ঘটে গেলো মাথায় ঢুকছে না তার। এতো বড় একটা ধাক্কা এক্সপেক্ট করেনি সে। একদম করেনি। হন্তদন্ত হয়ে ঘুরে চলে যেতেই সেটা স্পষ্ট চোখে পরলো রাতুল এর। ভ্রু জোড়া কুচকে এলো। তার বেশ ধারনা ছিলো রিয়ান নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। প্রিয়াকে ভুলে গিয়েছে। তবে আকাশের কথাগুলোর পর থেকে শক্ত মুখে দাড়িয়ে থাকা রিয়ান কে দেখে সে ধারনায় একটু হলেও চিড় ধরলো রাতুলের। পাশে দাড়িয়ে থাকা রাকিব আর রেদোয়ান এরও সেটা চোখে পরেছে। আচমকা রিয়ানের পিছু ছুটলো রাতুল। সেদিন রাতের কথা মনে পরতেই রাকিব,রেদোয়ান ও ছুটলো।

রিয়ান প্যান্ডেলের পিছন দিকে দাড়িয়ে। রক্তলাল চোখ। রাতুল এসে দারাতেই দু হাতে কলার চেপে ধরলো রাতুলের। এই ভয়টাই পাচ্ছিলো রাকিব রা। দুজন চেপে ধরে সরাতে চাইলো রিয়ানকে। রিয়ান চিৎকার করে উঠলো একপ্রকার।
____”আই ওয়ান্ট হার। সি ইজ মাইন। আকাশের হয় কি করে ও হু?”

রাতুল দু হাতে ধাক্কা দিয়ে সরে গেলো। ঠিক করলো নিজের শার্টের কলার।
____”ও যদি কারোর থাকে সেটা আকাশেরই। তোর না। কবে ছিলো তোর? কোন দিনের হিসেবে দাবি করিস ওকে তুই?”

____”আমার ওকে চাই ব্যাস।”

এবার রিয়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো রাকিব। কটমট করে বললো,
____”খেয়ে পরে বেচে আছিস তাও আকাশেরই জন্য। ভেসে যেতো তোর গোটা পরিবার। পথে বসতি।ওর মতো বন্ধু পেয়েছিলিস বলে তোর ওইটুকু যোগ্যতায়ও এত বড় একটা পদ পেয়েছিস। চব্বিশ ঘন্টা আকাশের ছায়া সঙ্গি হয়ে চলতে পারছিস। আর ওর পিঠে ছুড়ি মারার চিন্তা ভাবনা করিস? ইজন্ট ইট সো লেম?”

____”কি লেম? কোনটা লেম? ভালোবাসা লেম? খেয়ে পরে বেচে আছি মানে! নিজের যোগ্যতায় আমি এখানে।”

বিদ্রুপের হাসি হাসলো রাতুল।
____”আকাশ এহনাজ এর নিশ্চয় তোর মতো একটা এমপ্লয়ি না থাকলে সব ভেসে যাবে না।”

রিয়ানের মুখ অপমানে থমথমে হয়ে আছে। রেদোয়ান এগিয়ে এলো। রাগে তার মুখও লাল হয়ে আছে।
____”আমরা তিনজনই তোর এই পাগলামির দিকটা প্রানপনে চেষ্টা করছি আকাশের থেকে লুকিয়ে রাখতে। আকাশ আর যাই হোক বিট্রে পছন্দ করে না। ওর ভালোবাসা কে তুই ওর বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে বাজে নজর দিস এটা আকাশ জানলে কি হবে জানিস? বন্ধুত্বের পরোয়া তুই না করতে পারিস। আমরা করি। আকাশের কানে কথাটা গেলে তোর কি অবস্থা হবে ভাবতে পারিস? বন্ধুত্বর কথা বাদ দে। তোর চাকরি,তোর প্রান রাখবে কি না সেটার হিসেব কর। “

_____”মিথ্যা নাটক করবি না। সবকটা তোরা ওর ইশারায় চলিস। ওর চামচা তোরা। আর না। আমার দ্বারা আর সম্ভব না ওর চামচামি করা। আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে এক পা ও নড়বো না। বলিস তোদের আকাশ এহনাজ চৌধুরী কে। প্রিয়াকে আমি নিজের করে নিয়ে যাবো। যাবোই। আই ডোন্ড ফাকিং কেয়ার এবাউট দোউজ ফাকিং ফ্রেন্ডশিপ। “

রিয়ান চলে যেতেই অসহায় দৃষ্টি মিললো তিন বন্ধুর। রাতুল দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
_____”তোদের অনুরোধ এ আমি আকাশকে জানাইনি এত কথা। সেদিন রাতের পর সবটা জানিয়ে দেওয়া ফরজ হয়ে গিয়েছিলো। আমার দ্বারা আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আমি জানাবো আকাশকে। আজই,এক্ষুনি। রিয়ান আর কোনো ঝামেলা করার আগেই। পরে বসে বসে আফসোস করা আমার দ্বারা হবে না।”

রাকিব রেদোয়ান ও আজ আর না করলো না। রিয়ান এর মতিগতি দেখো ভয় ওদের মনেও ঢুকেছে। ছেলেটা আগে থেকেই এমন। কোনো ঝামেলা করলে আকাশ তাদের সহ ভুল বুঝবে। রাতুল ঘুরে হাঁটা ধরবে। পিছন ফিরতেই আৎকে উঠলো একপ্রকার। আকাশ ভ্রু কুচকে দাড়িয়ে।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🌹

[ দেরি হাওয়ার জন্য দুঃখিত। ৪ টের সময়ই দিতাম। ইলেকট্রিসিটি বারবার চলে যাওয়ার ওয়াইফাই সমস্যা করতেছিলো প্রচুর। যাই হোক পড়ে ফেলুন।]

আর রেসপন্স করবেন কেমন? লম্বাআআআ লম্বাআআআ কমেন্ট করবেন। শরীরটা ঠিক হয়ে গেলে বড় বড় পর্ব দেবো।🌼]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here