চাঁদের_হাসি #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ২১

0
16

#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২১

পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ এসে মনের মধ্যে উৎফুল্ল ভাব তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছে ৷ অনন্যা রা এখনও অলির সেই পাহাড়ের বাড়িতেই আছে ৷ আসলে এতো সুন্দর একটা জায়গা থেকে যেতে ইচ্ছা করছে না ৷ তবে বিল্টুর দুই ঘন্টা সময় পার হয়ে আছে ৷ এখন ও কথা বলতে পারবে ৷

অলি ভেজা কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ ওর কটমট দৃষ্টি রামছাগল দুটোর দিকে নিবদ্ধ ৷ অবশ্য অনেকক্ষন থেকে ও ওভাবে তাকিয়ে আছে ৷ অবশেষে ও মুখ খুলে বলল,,,

তোদের মানুষ বানানো আমার জন্য ফরজ হয়ে আছে ৷ ছাগল হয়ে এতো ছাগলামো করলে চলে? আমরা মানুষ হয়ে ছাগলামি করি ৷ সে হিসেবে তোদের উচিত ছাগল হয়ে মানুষামি করা ৷ বুঝেছিস?

ওর কথা শুনে বিল্টু আর আলমগীর প্রামানিক হো হো করে হাসতে লাগল ৷ ওদিকে অনন্যা আহাম্মক হয়ে অলির কান্ডকারখানা দেখতে লাগল ৷ এই ছেলেটা পদে পদে ওকে হতভম্ভ করে দিচ্ছে ৷ এতোটাই হতভম্ভ করে দিচ্ছে যে বেচারী হাসতেই ভুলে যাচ্ছে ৷

ছাগলদের মানুষামি শিখিয়ে অলি ভিতরে চলে গেল পোশাক পরিবর্তন করার জন্য ৷ তবে ভিতরে প্রবেশ করার পর ও মাথার একটুখানি বের করে বলল,,,

খবরদার কেউ রুমে আসবে না ৷ এটা আমার মান সম্মানের ব্যাপার ৷

বিল্টু হাসি বাদ দিয়ে ব্যঙ্গ করে বলল,,, আমাদের কোনো ঠ্যাকা পড়েনি তোমার মান সম্মান হরণ করার ৷

তবুও সাবধানের মার নেই! আজকাল মানুষকে বিশ্বাস করা কঠিন যদিও আমি সবাইকে বিশ্বাস করি ৷ তবে পোশাক পাল্টানোর সময় আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না বাপু!

হ্যাঁ হ্যাঁ করতে হবে না ৷ দরজায় লোহার পেরেক মেরে দাও ৷

অলি ভ্রু কুঁচকে একপলক বিল্টুর দিকে তাকিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল ৷ সেদিক থেকে নজর সরিয়ে বিল্টু আলমগীর প্রামানিকের দিকে তাকাল ৷ উনি হো হো করে হাসছেন ৷ এই বুড়ো আজ সামান্য বিষয়েই খ্যাট খ্যাট করে হাসছে ৷ উনার অবস্থা দেখে অনন্যা কাটকাট গলায় বলল,,,

এই বুড়ো আস্তে হাসো ৷ তোমার ভিতরের সব কলকব্জা তো মনে হয় নাড়িয়ে দিয়েছো ৷ হাড্ডির সাথে হাড্ডির সং*ঘর্ষের শব্দ শুনতে পাচ্ছি আমি ৷

আলমগীর প্রামানিক আরো জোরে হাসলেন ৷ হাসতে হাসতে বললেন,,,

হাড্ডিরাও একটু ইনজয় করুক না লালকুমারী!

অনন্যা বুঝে উঠল না আজ কি ওর হতভম্ভ হওয়ার দিন? সবাই এতো অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলছে কেন? বারবার আহাম্মক হতে হতে ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ৷ ওর ক্লান্তির মাঝেই অলি বাবু নিজের মান সম্মানকে সাথে করে নিয়ে রুমের বাইরে বেরিয়ে আসল ৷

ওর মুখ হাসিহাসি ৷ ও হাসিহাসি মুখেই বিল্টুর দিকে এগিয়ে আসল ৷ অতঃপর ওর দিকে বেশ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷ এতে করে বিল্টু ভড়কে গেল ৷ ও ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগল,,,

তুমি আমার থেকে বদলা নেওয়ার কথা ভাবছো না তো?

যাহ দুষ্টু! আমি কি বদলা নেওয়ার মতো লোক? এই না না লোক না আমি তো এখন যুবক ৷

না না যুবক কেন হবে? তুমি তো কচি খোকা ৷

অলির ভ্রু এক মুহূর্তের জন্য কুঁচকে গেলেও সেটা চট জলদি সরু হয়ে এলো ৷ এবং ও মুখটা পুনরায় হাসিহাসি করে বলল,,,

এই যে পিকুর স্বামী ৷

ওর কথা শুনে বিল্টু হকচকিয়ে গেল ৷ ওদিকে অনন্যা আর আলমগীর প্রামানিক হেসে ফেলল ৷ যদিও আলমগীর প্রামানিক আগে থেকেই হাসছিলেন ৷ বেশ কিছুক্ষণ এই হাসির পর্ব চলল ৷ তবে এই পর্বে বিল্টু অংশগ্রহণ করেনি ৷ সে ভীষণ বিরক্ত হয়ে এই হাসির পর্ব দেখেছে ৷

অলি গলা খাকারি দিয়ে বলল,,, না জানি তোর বউ কেমন আছে! তুই একটু খোঁজ নেওয়ারও প্রয়োজনবোধ করলি না ছ্যাহ! দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে স্বামীর পুরষ্কার তোকে দেওয়া হলো ৷

বিল্টু কয়েক মিনিট চুপ থেকে হুট করে অলিকে মা*রতে শুরু করল ৷ মা*রতে মা*রতে বলতে লাগল,,,

তোমার বদলা নেওয়ার ইচ্ছা হলে আমাকে পুকুরে ধা*ক্কা দিতে ৷ তা না করে এসব বলছো কেন?

অলি হাসতে হাসতে বলল,,, উহু বদলা নেওয়ার ইচ্ছা হলে আমি তোর পড়নের জামা কাপড় খুলে নিয়ে ভেগে যেতাম ৷

বিল্টু আরো জোরে জোরে অলিকে মা*রতে লাগল ৷ অলি হাসতে থাকা অবস্থাতেই বলল,,,

আরে থাম রে ৷ মা**রবি নাকি আমায়? এখনও বিয়ে হয়নি আমার ৷ অযথা আমার বউটাকে বিধবা বানাতে চাচ্ছিস কেন?

বিল্টু ক্ষ্যান্ত হলো যদিও রাগে এখনও ওর ছোট্ট মুখটা গজগজ করছে ৷ অলি ওর অবস্থা দেখে বহুকষ্টে হাসি আটকে রাখল ৷ আলমগীর প্রামানিক নিজের হাসিকে কয়েক মিনিটের জন্য পুকুরে ফেলে দিয়ে বলতে লাগলেন,,,

তোমার বউ দেখার অনেক ইচ্ছা জেগেছে আমার ৷

সেই ইচ্ছা তো আমারও জেগেছে আলু দাদু ৷ কিন্তু তাকে পাব কোথায়?

বিল্টু হুট করে বলে উঠল,,, আছে তো ৷ তোমার বউকে তো তুমি অলরেডি দেখেছো ৷ লিলি আপু তো তোমাকে অলরেডি স্বামী ভাবে ৷

অলির হাসিহাসি মুখটা কেমন অন্ধকার হয়ে গেল ৷ ও শান্ত গলায় বলল,,,

বিল্টু উল্টাপাল্টা কথা বলবি না ৷

বিল্টু কিছু বলার আগেই আলমগীর প্রামানিক উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠলেন,,,

লিলি কে অলি বাবু? কেন লুকানোর চেষ্টা করতেছো?পছন্দ তো থাকতেই পারে ৷ এতে লজ্জা পাওয়ার কি আছে?

অলি তৎক্ষণাৎ জবাব দিল,,, আসল কথা হচ্ছে আমি ওকে পছন্দ করি না ৷ ওকে আমি বোনের মতো স্নেহ করি ৷ তাই ওর সাথে আমার নাম জড়ালে আমার ভালো লাগে না ৷

তাহলে বিল্টু হঠাৎ ওর কথা বলল কেন?

আসলে লিলি হয়তো আমাকে একটু আকটু পছন্দ করে ৷

ওর কথা টেনে নিয়ে বিল্টু বলতে লাগল,,, একটু আকটু না অনেকখানি পছন্দ করে ৷ অলি ভাইয়া বলতে পাগল লিলি আপু ৷

আহ বিল্টু চুপ কর তো ৷

বিল্টু চুপ হয়ে গেল ৷ অলির গলার স্বরে রাগের আভা খুঁজে পেয়েছে ও ৷ অলির মনের মধ্যে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি হয়ে গেছে ৷ ও অনন্যার দিকে তাকিয়ে বলল,,,

কিন্তু আমি পছন্দ করি না সত্যি বলছি ৷

অনন্যা অন্যদিকে তাকিয়ে ছিল তাই অলির সেই অস্থিরতা দেখতে পেল না ৷ তবে অলি নিজের কান্ডে বেশ অবাক হলো ৷ ও অনন্যার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল কেন? ওকে কৈফিয়ত দেওয়ার এতো প্রয়োজনবোধ করল কেন? কি চলছে ওর মনের মধ্যে? মনের সাথে যেন অলির সম্পর্ক কম তাই ও বুঝতে পারছে না ৷ আলমগীর প্রামানিকের কথা শুনে ওর হুঁশ ফিরল ৷

আলমগীর প্রামানিক হতাশ শ্বাস ফেলে বললেন,, যাহ ভাবলাম একটা বিয়ে খেতে পারব ৷ কিন্তু তা আর হলো কোথায়?

অলি গলা খাকারি দিয়ে বলল,,, আলু দাদু টপিক টা বাদ দিন তো ৷ আমার ভালো লাগছে না ৷

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মিনিট লাগল ৷ অলি ছাগলগুলোকে কিছু লতা পাতা দিয়ে আবারও হাস্যজ্জ্বল মুখে এগিয়ে আসল ৷ এসেই ৩২ পাটি দাঁত বের করে বিল্টুর সামনে দাঁড়াল এবং উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,,,

সান্ত্বনা বানান কর ৷

বিল্টু হতবাক হয়ে গেল ৷ ও ভেবেছিল বানানের চ্যাপ্টার হয়তো ওর দুই ঘন্টা কথা না বলার প্রতিজ্ঞা করার পরই চাপা পড়ে যাবে ৷ কিন্তু ঘটনা তো দেখা যাচ্ছে পুরো বিপরীত ৷ ওকে কথা বলতে না দেখে অলি তাড়া দিয়ে বলল,,,

কি রে জবাব দিচ্ছিস না কেন?

বিল্টু গলা খাকারি দিয়ে নিজেকে সামলালো ৷ অতঃপর বলল,,,

এটা খুবই সহজ একটা বানান ৷ তাই আমি বলব না ৷

অলি অস্পষ্ট হাসল ৷ তারপর বলল,,, আচ্ছা সহজ বানান বলতে হবে না ৷ তোকে আমি কঠিন বানান ধরছি ৷ বল সান্ত্বনা বানানে দন্ত্য ‘স’ না তালব্য ‘শ’ না মূর্ধন্য ‘ষ’?

বিল্টু গভীর চিন্তায় পড়ে গেল ৷ ওর তো মনে হচ্ছে তিনটা দিয়েই সান্ত্বনা বানান করা যায় ৷ তিনটাই ওর কাছে ঠিক মনে হচ্ছে ৷ অপশনগুলো বেশি বেশি জমজ হয়ে গেল না? যাক সে কথা, বিল্টু অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আর পর্যালোচনা করে উত্তর খুঁজে পেল ৷ ও অলির দিকে তাকিয়ে দাঁত কপাটি বের করে বলল,,,

‘ষ’ ৷

অলি এক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,,, বাহ! তোকে তো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এতো কম বয়সে ভিসা করা যাবে না ৷ তোর আর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে একটা ভিসা বাধা হয়ে দাঁড়াবে সেটা ভাবতে পারিনি! একটা ভিসার জন্য দুনিয়া তোর মতো নতুন একটা নিউটনকে হারাতে বসেছে ছ্যাহ!

ওর কথা শুনে না চাইতেও অনন্যা হেসে ফেলল ৷ ওদের কথোপকথনে আহাম্মক হয়ে গেলেও হাসতে ভুলে গেল না ও ৷ অন্যদিকে আলমগীর প্রামানিক তো হাসার জন্য সদা প্রস্তুত ৷ কিন্তু বেচারা বিল্টু কিছু বুঝতে পারছে না ৷ তবে ওর যতদূর মনে হচ্ছে অলি অন্তত ভালো কথা বলেনি ৷ তাই বিল্টু দ্বিধান্বিত গলায় বলল,,,

আমার উত্তর কি ভুল হয়েছে?

আরে না না ৷ এতো বেশি সঠিক উত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি ৷ ভেবে দেখলাম তোর উত্তর টাই ঠিক ‘ষান্ত্বনা’ আহা!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অলির বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আলমগীর প্রামানিক আর অনন্যা বিল্টুর সাথে এলাকায় প্রবেশ করল ৷ অলির ছাগলের সাথে কিছু কাজ আছে তাই ও আসতে পারল না ৷ তবে কিছুক্ষণ পর চলে আসবে ৷ ইতোমধ্যে কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয়েছে আলমগীর প্রামানিকদের ৷ বাকিদের সাথে না হয় অলি পরিচয় করিয়ে দিবে ৷

বিল্টু অপমান গায়ে না মেখে অনন্যার সাথে হাসি ঠাট্টা করতে করতে এগোচ্ছে ৷ হঠাৎ সামনে একজনের দিকে তাকিয়ে অনন্যা থেমে গেল ৷ লিলি হাস্যজ্জ্বল মুখে ওদের সামনে এসে দাঁড়াল ৷ অতঃপর অনন্যা আর আলমগীর প্রামানিকের দিকে কয়েক পলক তাকিয়ে থাকার পর বিল্টুকে বলতে লাগল,,,

হ্যাঁ রে বিল্টু এরাই তাহলে অলি ভাইয়ার আত্মীয়?

হু ৷

লিলি বিল্টুর সাথে আরও দু একটা কথা বলে আলমগীর প্রামানিকের সাথে আলাপ জুড়ে দিল ৷ অন্যদিকে অনন্যা একদৃষ্টিতে লিলির দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ এমন রুপবতী মেয়ের দিকে না তাকালে ব্যাপার টা ভালো দেখায় না ৷ তাই তো অনন্যা লিলির দিকে তাকিয়ে আছে ৷ মুখের মধ্যে এতো মায়া মেয়েটার? অনন্যা ওর রুপের প্রশংসা করার মতো পর্যাপ্ত ভাষা খুঁজে পেল না ৷

লিলির কথায় ওর ধ্যান ভাঙল,,, তোমার নাম কি?

অনন্যা অস্ফুট স্বরে বলল,, ওয়াসিফা প্রামানিক অনন্যা ৷

বেশ মিষ্টি নাম ৷

ধন্যবাদ ৷ তোমার নাম তো লিলি ৷

হু ৷

তুমি তোমার নামের মতোই একটা ফুল ৷

লিলি লজ্জা পেয়ে গেল ৷ এতোই লজ্জা পেল যে ধন্যবাদ দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকল না ৷ আলমগীর প্রামানিক অন্য একজনের সাথে কথা বলতে চলে গেছেন ৷ তাই বিল্টু অনন্যাকে ফিসফিস করে বলল,,,

একটা ম্যাজিক দেখবে?

অনন্যা ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকাল ৷ বিল্টু ইশারায় চুপ থাকতে বলল ৷ তারপর লজ্জা পাওয়া লিলিকে বলল,,,

লিলি আপু শোনো ৷

কি?

অলি ভাইয়া তার বাড়িতে লিলি ফুলের গাছ লাগিয়েছে ৷

লিলি ক্ষণকাল চুপ করে থাকল ৷ অতঃপর উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,,,

ওহ মাই অলি ৷

বলেই লিলি জ্ঞান হারিয়ে ফেলল ৷ তা দেখে অনন্যা হকচকিয়ে গেল ৷ ও ব্যস্ত হয়ে লিলির গালে হাত রেখে ওর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে লাগল ৷ বিল্টু হাসতে হাসতে বলল,,,

কেমন লাগল ম্যাজিক? অলি ভাইয়া একটু মিষ্টি করে লিলি আপুর সাথে কথা বললেই ও খুশিতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ৷ আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে ‘ওহ মাই অলি’ বলেই প্রতিবার জ্ঞান হারায় ৷

ওর কথা শুনে অনন্যা হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ ও কপাল কুঁচকে মনে মনে বলল,,,

আশ্চর্য! আজ কি হতভম্ভ দিবস নাকি?

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here