চাঁদের_হাসি #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ২৩

0
18

#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৩

রাতের আকাশে তারকারাজি উপস্থিত হয়ে মিটমিট করে জ্বলছে ৷ অনন্যা সেই মিটমিট করতে থাকা তারাগুলোর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ এমন সব সৌন্দর্য দেখলে আপনাআপনি মনের মধ্যে চলে আসে,,,

আল্লাহর সৃষ্টি বুঝি এতো সুন্দর! যার সৃষ্টি এতো সুন্দর সেই সৃষ্টিকর্তা দেখতে ঠিক কতটা সুন্দর হতে পারে!

এই প্রশ্নের উত্তর এই দুনিয়ার কেউ জানে না ৷ সেটা জানতে হলে অবশ্যই মৃ*ত্যুর পর জান্নাতে প্রবেশ করতেই হবে ৷ অন্তত আল্লাহকে দেখার লোভটার ওসিলায় যেন আমরা পাপ থেকে বিরত থাকতে পারি ৷ আকাশের দিকে তাকালেই অনন্যার মন ভালো হয়ে যায় ৷ ওর মনে হয় আল্লাহও ওকে দেখছে ৷ কি অপূর্ব অনুভূতি তাই না?

বিল্টু ওর পাশে এসে বসে পড়ল ৷ তারপর অনন্যার চোখ অনুসরণ করে নিজেও আকাশের দিকে তাকাল ৷ কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর ও বলে উঠল,,,

আপু তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসছো কেন?

অনন্যা আলতো করে চোখ ঘুরিয়ে বিল্টুর দিকে এক পলক তাকানোর পর বলল,,,

একটা কথা মনে পড়ায় হাসি পেল ৷

কি কথা?

আমাদের মুসা নবী অনেক জেদী ছিলেন ৷ একদিন উনার জেদ হয়েছিল যে উনি আল্লাহকে দেখেই ছাড়বেন ৷ তার সেই জেদ পূরণ করার জন্য আল্লাহ নিজের এক ঝলক দেখান ৷ কিন্তু তা দেখে মুসা নবীর চোখ ঝলসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ৷ তাহলে ভেবে দেখো আল্লাহর সৌন্দর্য ঠিক কতটুকু!

বিল্টু উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,,, আমিও দেখব ৷ ছোট বাচ্চার চোখ নিশ্চয়ই ঝলসে যাবে না ৷

অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,, নিশ্চয়ই দেখবে ৷ তবে সেটা জান্নাতে যাওয়ার পর ৷ এখন দুনিয়ায় একটু পরিশ্রম করে আল্লাহকে খুশি করতে থাকো তো বাপু ৷

বিল্টু মাথা উপর নিচ করে সম্মতি জানাল ৷ এরপর দুজনেই নিশ্চুপ হয়ে গেল ৷ হঠাৎ খোদেজা বেগমের গলা কানে আসতেই বিল্টু চমকে উঠল,,,

কি রে পটল তুই কি লিলির মতো জ্ঞান হারালি নাকি? কোনো সারাশব্দ নেই কেন?

অনন্যা হেসে ফেলে বলল,, পটল!

বিল্টু সে কথায় না গিয়ে কপালে হাত রেখে বলল,,, এই যাহ! যার জন্য এসেছি সেটাই ভুলে গেছি ৷ দেখেছো কান্ড?

অনন্যা হাসি সামান্য থামিয়ে বলল,,, কি কাজ?

তোমাকে ডাকতে এসেছি ৷ চলো যেতে হবে ৷

অনন্যা বসা থেকে উঠে বিল্টুর সাথে খাবার ঘরে চলে গেল ৷ আলমগীর প্রামানিক বড় একটা জায়গা দখল করে বাবু হয়ে বসে আছেন ৷ অলি খোদেজা বেগমকে খাবার পরিবেশন করতে সাহায্য করছে ৷ অনন্যা গিয়ে নিজের দাদুর পাশে বসে পড়ল ৷ তারপর কন্ঠটা খাটো করে বলল,,,

এই যে বুড়ো তোমার মোটা পা*ছা দিয়ে তো দেখছি ঘরের অর্ধেক জায়গা দখল করে ফেলেছো! ছোট হয়ে বসো ৷

আলমগীর প্রামানিক থতমত খেয়ে গেলেন ৷ এ কেমন নাতনি হয়েছে উনার? কথায় কথায় অপমান করে ফেলে ৷ তার উপর এমন অপমান করে যে মুখ ফুটে সেই অপমানের কথা কাউকে বলাও যায় না ৷ আলমগীর প্রামানিক চাইলে আগের মতোই বসে থাকতে পারতেন কিন্তু উনি অল্প একটু জায়গা দখল করে বসলেন ৷ আসলে একমাত্র নাতনির কোনো কথা উনি অমান্য করতে পারেন না ৷ উনার অবস্থা দেখে অনন্যা মুচকি হাসল ৷

অন্যদিকে অলি খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি আড়চোখে বারবার অনন্যার দিকে তাকাচ্ছে ৷ ও নিজেকে এই কাজ করা থেকে নিষেধ করলেও মানতে পারছে না ৷ চোখ আজ ওর কোনো কথা শুনছে না ৷ তবে অনন্যা হুট করে একবার ওর দিকে তাকালে ওদের চোখাচোখি হয়ে গেল ৷ এতে করে অলি মা*রাত্মক লজ্জা পেয়ে ভুলেও আর অনন্যার দিকে তাকাল না ৷

খাবার খাওয়া শুরু করে দিল সবাই ৷ খোদেজা বেগম নিজের পটলের সাইজের ছেলেকে খুবই যত্নের সাথে ভাত মাখিয়ে মাখিয়ে খাইয়ে দিচ্ছেন ৷ এই দৃশ্যের দিকে কেন যেন অলি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷ ওর এই তাকিয়ে থাকার প্রাক্কালে ওর চোখ মুখগুলো করুন হয়ে গেল ৷

অনন্যা খেতে খেতে হঠাৎ সামনের দিকে তাকালেই অলির সেই অসহায় দৃষ্টি দেখতে পেল ৷ কেমন কাতর চোখে তাকিয়ে আছে মা ছেলের দৃশ্যের দিকে ৷ অলির অবস্থা দেখে অনন্যার খারাপ লাগল ৷ তাই ও আলমগীর প্রামানিকের পেটে গুতা মে*রে ফিসফিস করে বলল,,,

এই যে বুড়ো তোমার অলি বাবু দেখো খাবার সামনে রেখে চুপ করে বসে আছে ৷ এটা তো ভালো অভ্যাস নয় ৷

আলমগীর প্রামানিক তৎক্ষণাৎ অলির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,,,

অলি বাবু তুমি খাচ্ছ না কেন? রুপবতী কন্যার রান্না কি তোমার পছন্দ হয়নি?

উনার কথা শুনে অলি ধ্যান থেকে বেরিয়ে আসল ৷ ও চমকে উঠে বলল,,,

কি?

বললাম খাবার কি তোমার পছন্দ হয়নি?

খোদেজা বেগমও অলির দিকে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় বললেন,,, কি রে অলি খাবার পছন্দ হয়নি?

অলি জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,,, পছন্দ হবে না কেন? পছন্দ যদি নাই হয় তাহলে এলাকায় এতো মানুষ থাকতেও আমি তোমার বাড়িতে খাই কেন?

খোদেজা বেগম মিষ্টি করে হাসলেন ৷ তারপর অলির প্লেটে আরো খাবার দিয়ে বললেন,,,

নে বেশি করে খা ৷ দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছিস!

অলি ভ্রু কুঁচকে বলল,,, আমি আবার ভেজা কখন ছিলাম?

ওর কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল ৷ এমনকি অলিও হাসতে লাগল ৷ আবার খাবার খাওয়া আরম্ভ হয়ে গেল ৷ ওদিকে অনন্যা বারবার খাবার নিচ্ছে আর খাচ্ছে ৷ সবাই অবাক হয়ে ওর দিকে তাকানোর কারনে অনন্যা লজ্জিত ভঙ্গিতে হেসে বলল,,,

আপনার রান্না অসাধারণ তাই খুব খেতে ইচ্ছা করছে ৷

খোদেজা বেগম লাজুক হেসে বললেন,,, যত ইচ্ছা খাও ৷ দুপুরে তো খেলেই না ৷ এখন বেশি করে খাও দেখি বাপু!

অনন্যা অনুমতি পেয়ে গপাগপ খেতে লাগল ৷ খোদেজা বেগমের মুখে হাসি ৷ উনার রান্নার কেউ প্রশংসা করলে উনি অত্যধিক খুশি হন ৷ বাকিরা ব্যাপার টা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও অলি আহাম্মক হয়ে অনন্যার গামলায় গামলায় খাওয়া দেখতেছে ৷ ও নিজের অজান্তেই মনে মনে বলে ফেলল,,,

উনাকে খাওয়াতেই আমি ফকির হয়ে যাব! বাড়ির সামনে সবজির বাগান করতে হবে আরো বেশি করে ৷ তাহলে হয়তো খরচ একটু বাঁচবে ৷

হঠাৎ হুঁশ হতেই নিজের মুখ চেপে ধরে চোখ বড় বড় করে অলি বলল,,,

আশ্চর্য উনাকে আমি কেন খাওয়াব? তওবা তওবা এসব কি বলছি আমি? ভাগ্যিস একজন মানুষ অন্য মানুষের মনের কথা শুনতে পায় না নয়তো আজ কে*লেঙ্কারি হয়ে যেত!

অলির দিকে কারো নজর না গেলেও বিল্টুর নজর চলে গেল ৷ ও কপাল কুঁচকে বলে উঠল,,,

অলি ভাইয়া তুমি এমন করে মুখ চেপে ধরে আছো কেন? নিজের রামছাগল দুটোর কোনো অকাম কুকামের কথা মনে পড়ে গেছে নাকি?

অলি তৎক্ষণাৎ মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল ৷ তারপর গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,

ওরা আপাতত ভালো হয়ে গেছে ৷ এখন আর মনজু চাচার ছাগলের দিকে নজর দেয় না ৷ তবে কতদিন এতো ভদ্র থাকবে সেটাই দেখার পালা ৷

ওর কথা শুনে সকলে সামান্য হাসল ৷ খাবার মুখে দিয়ে হাসার কারনে অনন্যার বিষম লেগে গেল ৷ এই ঘটনার এক সেকেন্ডের মধ্যেই অলি এক গ্লাস পানি ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে চিন্তিত গলায় বলল,,,

ঠিক আছেন আপনি? নিন পানি খান ৷

অনন্যা অবাক চোখে অলির দিকে তাকাল ৷ বাকিরাও খানিকটা তাকাল ৷ এতে করে অলি ভড়কে গেলেও স্বাভাবিক গলায় বলল,,,

আমার জন্য যেহেতু বিষম লেগেছে সেহেতু তাকে সুস্থ করাও আমার দায়িত্ব ৷ নয়তো মাফ চাওয়া লাগত ৷

এবার সবাই চোখ সরিয়ে নিল ৷ আসলেই ও মাফ চাইতে চাইতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলত ৷ কিন্তু শুধু অলি জানে এবার মাফের জন্য ও এমনটা করেনি, সম্পূর্ণ নতুন এক কারনে এই কাজটা করেছে ৷ সেই কারনটা না হয় অজানা থাক ৷

খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যখন প্লেট পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখতে যাবে ঠিক তখন অলি ভীত গলায় বলল,,,

কি স*র্বনাশ!

সবাই ভ্রু কুঁচকে ভয় পাওয়া গলায় বলল,,, কি হয়েছে?

আমি এটা কিভাবে ভুলে গেলাম?

কি?

অলি সরাসরি খোদেজা বেগমের দিকে তাকাল ৷ এতে করে খোদেজা বেগম ভড়কে গেলেন ৷ উনাকে বেশিক্ষণ ভড়কে থাকতে না দিয়ে অলি অত্যন্ত শীতল গলায় বলল,,,

চাচীজান ৷

খোদেজা বেগম ঢোক গিয়ে বললেন,,, কি বাবা?

অলি উনার হাতে হাত রেখে বলল,, একটা জিনিস চাব দিবে?

খোদেজা বেগম কপাল কুঁচকে বললেন,,, আবার কোন মহাপা*প করে ফেললি?

অলি মুখটা নরম করে বলল,,, তোমার রান্না করা খাবার সামনে রেখে আমি চুপচাপ বসে ছিলাম ৷ এর জন্য মাফ করে দাও চাচীজান ৷

খোদেজা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগলেন,,, হায় আল্লাহ তোকে নিয়ে কি করি?

কিছু করতে হবে না ৷ আপাতত শুধু মাফ করে দাও ৷

আচ্ছা যা মাফ করে দিলাম ৷

অলি অত্যধিক খুশি হয়ে বলল,,, তুমি কত ভালো!

বলে ও আবার প্লেট সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ বাকিরা হতভম্ভ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ বেশ কিছু সময় পর ওরা খাবারের ঘর থেকে বের হয়ে আসল ৷ কলপাড়ে খোদেজা বেগম বিল্টুকে নিয়ে গিয়ে জোর করে হাতমুখ ধুঁইয়ে দিতে লাগলেন ৷ অলি গাছের সাথে হেলান দিয়ে একদৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে ৷ এসবের লোভ ও কখনো করে না ৷ কিন্তু দেখলে মন টা হাহাকার করে উঠে ৷ বুকের মধ্যে চিনচিনে একটা ব্যাথা ওঠে যেটা সাড়ানোর সামর্থ্য অলির নেই ৷

অনন্যার কথা শুনে অলি নিজের কষ্টের দুনিয়া থেকে বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে আসল,,,

যে দৃশ্য কষ্ট দেয় সে দৃশ্য সবসময় ইগনোর করতে হয় ৷

অলি সচকিতে সোজা হয়ে দাঁড়াল ৷ অনন্যাকে দেখতেই ওর কেমন লজ্জা লজ্জা লাগছে ৷ কিন্তু ভিতরের সেই কষ্ট টা এখনও শেষ হয়নি ৷ তাই ও নিজেকে সান্ত্বনা দিতে আর অনন্যার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করতে গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,

আপনি ভুল ভাবছেন ৷ এই দৃশ্য কষ্ট দিতে যাবে কেন? মা ছেলের দৃশ্য অত্যন্ত মধুর ৷ সেখানে কষ্টের কিছু নেই ৷

অনন্যা ভ্রু কুঁচকে চাঁদের আলো এসে পড়া অলির কাতর মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ অতঃপর কাটকাট গলায় বলল,,,

এই যে আমাকে মিথ্যা কথা বললেন ৷ এর জন্য পরে মাফ চাইলে আমি মাফ করব না ৷

কথাটা বলেই অনন্যা জায়গা প্রস্থান করল ৷ ওর কান্ডে অলি হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ বেশ কিছুক্ষণ আহাম্মক হয়ে থাকার পর ও অস্ফুট স্বরে বলল,,,

কি আশ্চর্য! এই মেয়ে কিভাবে বুঝে গেল আমি মিথ্যা বলেছি? খুবই ডে*ঞ্জারাস! সারাজীবন তাহলে আর মিথ্যা বলা যাবে না ৷ প্রতিবারই উনি আমাকে ধরে ফেলবেন ৷

কথাটা বলার ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে অলির চোখ বড় বড় হয়ে গেল ৷ ক্ষণকাল বাদে ও নিজেই নিজের গালে চ*ড় মে*রে বলল,,

সারাজীবন মানে কি রে? উনি তোর সাথে সারাজীবন থাকবে নাকি রে ব*লদ?

অলি নিজের আচরণে ভীষণ হতাশ ৷ ও গাছটা জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে লাগল,,,

অলি রে তোর কি হয়েছে? তুই মনে হয় রামছাগল দুটোর মতো বেহায়া হয়ে যাচ্ছিস রে! এখন থেকে নিজেই নিজের কাছ থেকে দিনে একশবার মাফ চাইবি বুঝেছিস?

এভাবে আহাজারি করতে করতে অলি গাছ টাকে জরিয়ে ধরে থাকল ৷ দূর থেকে ওর কান্ড লক্ষ্য করে বিল্টু গুটিগুটি পায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসল ৷ ওর মনে হচ্ছে কোনো জ্বীন ট্বিন হয়তো অলির উপর ভর করেছে! তবে কাছাকাছি আসতেই বুঝল ওর ধারনা ভুল ৷ ও গম্ভীর গলায় বলে উঠল,,,

কি করছো?

অলি চমকে উঠে বলল,,, কি?

গাছ জড়িয়ে ধরে আছো কেন?

চমকে উঠার কারনে অলি গাছ থেকে আলাদা হয়েছিল ৷ বিল্টু আসল কথা শোনেনি দেখে ও আবার গাছকে জড়িয়ে ধরে বলল,,,

আমার ইচ্ছা করছে তাই ধরেছি ৷ তোর তাতে কি? গাছকে আমি ভালোবাসি ৷

বিল্টু এক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,,,,
অলি ভাইয়া চকমক চকমক করে
অলি ভাইয়ার লজ্জা নাই ঘরে
অলি ভাইয়া গাছকে জড়িয়ে ধরে ম*রে!

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here