চাঁদের_হাসি #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ২৯

0
17

#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৯

শুনশান নিরবতার মাঝে সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো ৷ অলি এখনও আহাম্মক হয়ে বসে আছে ৷ এতোকিছু মেনে নিতে পারছে না ও ৷ ওর খুশি হওয়া উচিত কিন্তু ও চুপচাপ বসে আছে ৷ অনন্যার দিকে মাঝে মাঝে এক পলক তাকিয়েছে আর বাকিটা সময় নিজের ভাবনায় মশগুল থেকেছে ৷

ইতোমধ্যে এলাকায় অলির খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে ৷ সকলে অত্যধিক খুশি হয়েছে বলা চলে ৷ এলাকার প্রায় সব মানুষ অলির বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে ৷ বলতে গেলে কয়েকটা পোষা প্রাণীও এসেছে ৷ গাছপালা হাঁটতে পারলে হয়তো ওরাও আসত ৷ সকলে আলমগীর প্রামানিকের সাথে কথা বলতে লাগল ৷ অন্যদিকে পোষা প্রাণীগুলো অলির ছাগল তিনটার সাথে নিজেদের ভাষায় কথা বলতে লাগল ৷

পোষা প্রাণীগুলোর মধ্যে মনজু চাচার ছাগল দুইটাও ছিল ৷ সেই ছাগল দুটোর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছে অলির রামছাগল দুটো ৷ সেটা নজরে পড়তেই অলি চট জলদি বসা থেকে উঠে সেদিকে ছুটে গেল ৷ অতঃপর নিজের রামছাগল দুটোকে একটু দূরে সরিয়ে এনে ওদের দুজনের গালে দুটো চ*ড় মে*রে বলল,,,

ভেবেছিস আমি দেখব না? তোদের পিঠের ছাল তুলে দিব বে’য়াদব কোথাকার!

অনন্যার চোখ হুট করে অলির দিকে গিয়েছিল তাই ও এমন ঐতিহাসিক ঘটনা দেখার সুযোগ পেল ৷ ভীষণ হাসি পাচ্ছে ওর কিন্তু এতো মানুষের সামনে হাসা ঠিক হবে না ভেবে চুপ থাকল ৷ রামছাগল দুটোকে আরও কিছুক্ষণ বকাঝকা করে অলি ওদের দুজনকে বেঁধে রাখল ৷

একটু পর অলি কি মনে করে আবার ওদের দুজনের কাছে চলে গেল ৷ তারপর ইতস্তত করে বলতে লাগল,,

আ-আসলে তখনকার ব্যবহারের জন্য দুঃখিত ৷ আমাকে মাফ করে দিস তোরা ৷

ছাগল দুটো চুপ করে থাকল ৷ কি আর বলবে? ওরা তো কথা বলতে পারে না ৷ অলি ওদের জবাব পাওয়ার অপেক্ষাও করল না ৷ নিজেই পুনরায় বলতে লাগল,,,

বেশি ভাব নেওয়ার দরকার নেই ৷ দোষ কিন্তু তোদেরই ছিল ৷ সো ওমন ব্যবহারের যোগ্য ছিলি তোরা ৷ তবুও মাফ করে দিস ৷

হঠাৎ কানে একটা মিষ্টি হাসি ভেসে আসলেই অলি চকিতে সেই হাসির শব্দের উৎসের দিকে তাকাল ৷ অনন্যা এবার আর হাসি থামাতে পারেনি যদিও বাকিরা কেউ খেয়াল করেনি ৷ অলি বিব্রত মুখে ছাগল দুটোর থেকে দূরে সরে গেল ৷ অনন্যা ওর দিকে খানিকটা এগিয়ে এসে বলল,,,

আপনার তুলনা নেই আরাফাত ভাইয়া!

কথাটা বলে ও আলমগীর প্রামানিকের দিকে এগিয়ে গেল ৷ এদিকে অলির মুখটা এতোই করুন হয়ে গেল যে মনে হচ্ছে যেকোন মুহুর্তে কেঁদে ফেলতে পারে ৷ ও নিজের এই ভাঙাচোরা মুখমন্ডল নিয়ে মাহির দিকে তাকাল ৷ মাহি আগে থেকেই ওর দিকে তাকিয়ে ছিল ৷ অলির সাথে চোখাচোখি হতেই মাহি হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল,,,

তুই শেষ!

অলির এই অসহায় অবস্থার মাঝে লিলি ওর কাছে চলে আসল ৷ লিলির দিকে চোখ যেতেই অলি সামান্য হাসল ৷ লিলিও প্রতি উত্তরে হেসে বলল,,,

অবশেষে তুমি তোমার পরিবারকে খুঁজে পেলে অলি ভাইয়া ৷ আমার খুব ভালো লাগছে ৷

জাযাকিল্লাহ রে ৷

লিলি খানিক সময় চুপ থেকে বলল,,, যতদূর শুনলাম তাতে মনে হলো অনন্যা তোমার মামাতো বোন ৷

অলির আবারও কাঁদতে ইচ্ছা করল ৷ কিন্তু উপরে সেটা বুঝতে দিল না ৷ লিলি আবারও বলতে লাগল,,,

এখন তো তোমরা ভাই বোন তাই না?

অলি ধীরে অথচ জোড়ালো গলায় বলল,,, ঠিক ভাই বোন না আমরা কাজিন ৷

কাজিন মানেই তো ভাই বোন ৷ সে যাই হোক এখন তো আর তুমি অনন্যাকে বিয়ে করতে পারবে না ৷ তাহলে আমাকে কি একটা সুযোগ দেওয়া যায় না?

অলি হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,,, দেখ লিলি তোর সাথে এ বিষয়ে আমার অলরেডি কথা হয়েছে ৷ দুনিয়া উল্টে পাল্টে গেলেও সেই কথাগুলোর কোনোরুপ পরিবর্তন হবে না ৷

লিলি কাতর গলায় বলল,,, এমন করছো কেন অলি ভাইয়া? তুমি নিজেও অনন্যাকে না পেয়ে কষ্ট পাবে আর আমাকে নিজের সাথে না জড়িয়ে কষ্ট দিবে! অন্তত একজনকে তো সুখে থাকতে দাও ৷

আমি অনন্যাকে নিয়েই দুঃখে থাকতে চাই ৷ তোকে পেয়ে দুঃখে থাকতে চাই না ৷ প্লিজ বোঝ ৷

কথাটা শুনে লিলির চোখ ছলছল করে উঠল ৷ কেউ দেখার আগে ও সেগুলো সন্তর্পণে মুছে আরো কয়েক পলক অলির দিকে তাকিয়ে থেকে অন্যদিকে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই অলি বিরবির করে বলল,,,

অনন্যার সাথে বিয়ে হবে না মানে? আমার বাবা করেনি? দরকার পড়লে আমিও লুঙ্গি দিয়ে ফাঁস দেওয়ার হুমকি দিব! তারপর বিয়ের পর পায়ে ঝুলে পড়ে মাফ চেয়ে নিব ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

খাগড়াছড়ি থেকে এবার ঢাকা যাওয়ার পালা ৷ অলি সকলের থেকে বিদায় নিয়ে নতুন গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল ৷ সকলে এসেছে ওকে বিদায় জানাতে ৷ অলি ওদের সবচেয়ে পছন্দের মানুষ ৷ তাই ওর পরিবার খুঁজে পাওয়াতে ওরা ভীষণ খুশি হয়েছে ৷

তবে অলি যে চিরদিনের জন্য চলে যাবে সেটা কিন্তু না ৷ ও এই পাহাড় , নিজের বাড়ি আর এই এলাকা ছাড়া থাকতেই পারবে না ৷ ওকে এখন ঢাকা টু খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি টু ঢাকা করতে হবে ৷ নিজস্ব একটা হেলিকপ্টার কিনতে পারলে সুবিধা হতো ৷ কিন্তু টাকা নেই ৷ তবে একটা কিডনি বিক্রি করতে পারলে কেনার কথা ভাবা যেত ৷

বিল্টু ওর কাছে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল ৷ তা দেখে অলি মুচকি হেসে ওর গাল টেনে বলতে লাগল,,

কি রে? এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

বিল্টু ঠোঁট উল্টে ওর দিকে তাকাল ৷ অলি ওকে কোলে তুলে নিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,,,

মন খারাপ করছিস কেন? আমি কি সারাজীবনের জন্য চলে যাচ্ছি নাকি? দেখছিস না ছাগল তিনটাকে রেখে যাচ্ছি?

বিল্টু নাক টানতে লাগল ৷ অলি শুকনো হেসে ওর পিঠে হাত বোলোনো অব্যহত রাখল ৷ একটু পর ও বিল্টুকে হাসানোর জন্য কন্ঠটা ইচ্ছাপূর্বক গম্ভীর করে বলল,,,

তোকে একটা গুরু দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি বিল্টু ৷ আমার রামছাগল দুটোকে একটু দেখে রাখিস ৷ মনজু চাচার ছাগলের আশেপাশেও যেন ওদের দু ভাইকে দেখা না যায় ৷

বিল্টু মাথা কাত করে ক্ষীণ গলায় বলল,,, আচ্ছা ৷

আরো অনেকক্ষন বিল্টুকে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখল অলি ৷ বিল্টু তখন থেকেই কান্না করে চলেছে ৷ কান্না করা অব্যাহত রেখে ও বলতে লাগল,,,

রোবট আপুর বোরকা কালো
অলি ভাইয়া বিদায় হলো
মারো তালি;

পিকুর হৃদয় ভীষণ সাচ্চা
অলি ভাইয়ার রামছাগল লু*চ্চা
মারো তালি;

ওর ছন্দ শুনে অলি জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ হাসতে হাসতে বলল,,,

তোর মাথায় কি শুধু ছন্দ ঘোরে? আর আমরা কি এমনি এমনি পিকুর কথা বলে তোকে জ্বালাই?

বিল্টু জবাব দিল না ৷ অলি হাস্যজ্জ্বল মুখে ওকে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখল ৷ হঠাৎ পাশে তাকাতেই অলির হাসি বন্ধ হয়ে গেল ৷ লিলি ছলছল চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ মেয়েটার জন্য ওর ভীষণ খারাপ লাগতে লাগল ৷ ওই বা কি করতে পারে? ও নিজেও নিজের ভালোবাসাকে পাবে কিনা সন্দেহ!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ঢাকায় পৌঁছে গেছে ওরা ৷ বলতে গেলে নির্দিষ্ট বাড়ির সম্মুখে চলে এসেছে ৷ মাহিও অলির সাথে ঢাকায় ফিরে এসেছে ৷ ওর ছুটি ফুরিয়ে এসেছিল ৷ ভাগ্যক্রমে ও যে বাড়িতে ভাড়া থাকে সেখান থেকে অলির নতুন বাড়ির দুরত্ব খুবই কম ৷ এতে করে অলি আর মাহি দুজনেই বেশ খুশি ৷ অনন্যা ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,,,

মাহি ভাইয়া এক কাপ চা খেয়ে যান ৷

না বোন আজ আমার অনেক কাজ আছে ৷ তবে অন্য একদিন এসে খেয়ে যাব ৷ বলতে গেলে আমি রোজ রোজ চলে আসব বিরক্ত করার জন্য ৷

অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,, ব্যাপার না ৷ বিরক্ত নয় বরং খুশিই হবো ৷

প্রতি উত্তরে মাহি মিষ্টি করে হাসল ৷ অনন্যা মাহির থেকে চোখ সরিয়ে অলির দিকে তাকিয়ে বলল,,,

আরাফাত ভাইয়া নিজের বাড়িতে প্রবেশ করুন ৷ ফুফামশাই কে বিরাট একটা সারপ্রাইজ দিতে হবে তো ৷

মাহি ফিক করে হেসে ফেলল ৷ অনন্যা কথাটা বলেই ভিতরে চলে গেছে বিধায় সেটা দেখতে পেল না ৷ মাহি হাসির শব্দ কমানোর জন্য মুখ চেপে ধরল ৷ তবুও হাসির ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজ খানিকটা কানে বাজছে ৷ অলি ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়ে আছে ৷ ওর এবার সত্যি কান্না করতে ইচ্ছা করছে ৷ মাহি ওর অবস্থা দেখে বহু কষ্টে হাসি থামাল ৷ তারপর গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,,,

মাঝি যায় ভাওয়াইয়া গান গাইয়া
কেমন আছো অনন্যা আপুর ভাইয়া?

অলি কটমট দৃষ্টিতে মাহির দিকে তাকাল ৷ তা দেখে মাহি জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ কিছুক্ষণ পর ও হাসি থামিয়ে বলল,,,

যা আর হাসব না ৷ ভিতরে যা ৷

অলি শান্ত হলো ৷ ভিতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল ৷ এমন সময় মাহি বলতে লাগল,,,

অনন্যার ভাইয়া দ্রুত ভিতরে যান ৷

অলি তৎক্ষণাৎ পিছু ঘুরে নিজের পায়ের জুতো খুলতে ধরলে মাহি দৌঁড় লাগাল ৷ দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বলল,,,

বেস্ট অফ লাক ব্রো ৷

মাহি চলে গেল ৷ অলি ওর গমনপথের থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাল ৷ বাড়ির উপরে বড় করে লেখা ‘প্রামানিক ভবন’ ৷ এই বাড়ি আজ থেকে ওরও ভাবা যায়? অলি বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ ভিতরে প্রবেশ করার সাথেই কয়েকটা অপরিচিত মুখ দেখতে পেল ও ৷ একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা আর পুরুষ ওর দিকে মমতাময়ী চোখে তাকিয়ে আছে আর আলমগীর প্রামানিকের সাথে ফিসফিস করে কিছু কথা বলছে ৷

অলি সকলের দিকে এক এক করে তাকাতে লাগল ৷ একটু পর আলমগীর প্রামানিক ওর হাত ধরে বললেন,,,

চলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটার সাথে তোমার দেখা করাই ৷

বলে উনি ওকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠে গেলেন ৷ সেখানে চারটা রুম ৷ সবচেয়ে শেষের রুমটার দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন ৷ রুমটার সামনে গিয়ে আলমগীর প্রামানিক থেমে গেলেন ৷ অতঃপর একটা টোকা দিলেন ৷ সাথে সাথে ভিতর থেকে একটা কর্কশ কন্ঠস্বর ভেসে আসল,,,,

চলে যাও এখান থেকে! আমি মানা করেছি তো আমাকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে!

আলমগীর প্রামানিক অত্যন্ত শীতল গলায় বলল,,, ইয়াসির বাবা দরজা টা খুলে দাও ৷ দেখো কে এসেছে ৷

কাউকে দেখতে চাই না আমি!

আরাফাতকেও দেখতে চাও না?

ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ এলো না ৷ পুরো নিস্তব্ধতায় ছেঁয়ে গেল দোতলা টা ৷ মাঝে মাঝে শুধু শ্বাস প্রশ্বাসের আওয়াজ আসতে লাগল ৷ একটু পর খট করে দরজা খুলে গেল ৷ দরজা খোলার সাথেই একটা বিদঘুটে গন্ধ নাকে আসল ৷ পুরো রুমটা অন্ধকারে ছেঁয়ে আছে ৷

অলি একদৃষ্টিতে মাঝবয়সী পুরুষটার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ ইয়াসির প্রামানিক চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকাল ৷ বেশ কিছু সময় দেখার পর উনি অলির দু গাল আলতো করে চেপে ধরলেন ৷ উনি মৃদু গলায় বলতে লাগলেন,,,

আ-আরাফাত, ত-তুমি আমার আরাফাত?

অলি মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বোঝাল ৷ আলমগীর প্রামানিক হাতের ছবিটা ইয়াসির প্রামানিককে দেখাতেই উনি অলিকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন ৷ খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে উনি ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন ৷ অলি রাখবে না রাখবে না করেও নিজের বাবার কাঁধে হাত রাখল ৷ ও নিজেও ইয়াসির প্রামানিককে জড়িয়ে ধরল ৷ ওর চোখ থেকে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল ৷

আলমগীর প্রামানিক মুগ্ধ হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছেন ৷ উনার চোখেও পানি চলে আসল ৷ উনি সেটা মুছে বিরবির করে বললেন,,,

এই লুঙ্গিম্যানকে আমার মেয়ে কি দেখে পছন্দ করেছিল? কিভাবে ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদছে দেখো! এক নাম্বারের আহাম্মক!

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here