#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#শেষ_পর্ব (প্রথমাংশ)
ইনায়া আর তানভীরের বাগদানের ঠিক এক মাস পরেই ধুমধাম করে বিয়ের সানাই বাজল। কিন্তু এই সব হট্টগোলের মাঝেও মন খারাপের মেঘ জমেছে রিমির মনে। ও কত কী ভেবে রেখেছিল ইনায়ার বিয়ে নিয়ে কিন্তু সেসবের কিছুই করতে পারলো না। বিয়ের স্টেজে তানভীরের পাশে বসা ছিল ইনায়া। লাল বেনারসিতে ওকে অপরূপা লাগছিল। কিন্তু ওর নজর বারবার যাচ্ছিল নিচে বসে থাকা ম্লান হাসির রিমির দিকে। বান্ধবীকে ও চেনে, রিমির ওই হাসির পেছনে যে একরাশ আক্ষেপ লুকিয়ে আছে, তা ইনায়ার বুঝতে বাকি নেই। আচমকাই লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে ইনায়া স্টেজ ছেড়ে নিচে নেমে এল। সোজা গিয়ে বসল রিমির পাশের খালি চেয়ারটায়। রিমি অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকালো।
“আরে! ইনায়া, তুই এখানে নেমে এলি কেন? দেখ তো সবাই কেমন অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! যা, গিয়ে স্টেজে বস”
“সবাই দেখছে তো কী হয়েছে? তুই এখানে এভাবে বসে থাকবি, আর আমি ওখানে থাকবো?”
“আমার মন খারাপ না রে। আমি তো অনেক খুশি! অবশেষে তুই তোর মনের মতো, ভালোবাসার মানুষকে আপন করে পাচ্ছিস। আমি তো শুধু এটা ভাবছিলাম যে তোর বিয়েতে আমি কিছুই করতে পারলাম না। সারাদিন শুধু বসেই রইলাম।”
ইনায়া আর দেরি করল না, রিমির গলা জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে মাথা রাখল। ওর দুচোখ ভিজে উঠল কৃতজ্ঞতায়। ধরা গলায় ইনায়া বলল — “শোন রিমি, তুই যে আমার পাশে আছিস, এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। আর তুই যে বলছিস কিছুই করিসনি তাতে আমার আপত্তি আছে। সবকিছুর পেছনে তোর কত বড় অবদান, সেটা কি তুই নিজেও জানিস না? তুই না থাকলে হয়তো আমি ওই স্বার্থপর শাফিনের গলায় জোর করে ঝুলে পড়তাম”
রিমি কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু ইনায়া ওকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল — “ইশ! এখন ওসব ভাবলে আমার নিজেরই খুব লজ্জা লাগে। কী বোকা ছিলাম আমি! ভুল মানুষকে ভালোবাসা ভেবে সারাদিন কান্নাকাটি করতাম।”
রিমির চোখেও এবার পানি চলে এল!
“পুরানো কথা বাদ দে। ধরে নে ওসব ছিল একটা দুঃস্বপ্ন ছিলো। এখন থেকে তুই অনেক সুখে থাকবি।”
___________________________________
রিমির ডেলিভারির সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ওর শরীরের ওপর দিয়ে যেন এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সেই ছিপছিপে গড়নের চঞ্চল মেয়েটা এখন আর নেই। শরীরের ওজন বেড়েছে, পা দুটো ফুলে ভারী হয়ে গেছে। ইদানীং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা তো দূর, ঠিকমতো পা ফেলতেও ওর কষ্ট হয়। আয়নায় নিজেকে দেখলে রিমি নিজেই মাঝেমধ্যে থমকে যায়। ফোলা গাল আর ক্লান্ত চোখের কোণে যে মাতৃত্বের ছাপ, তা যেমন ওকে অবাক করে, তেমনই এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আর ফোলা পায়ের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা অকারণে ডুকরে কেঁদে ওঠে।গত মাস থেকেই আরশান রিমির ভার্সিটি যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। রিমি এবার আর প্রতিবাদ করেনি, কারণ ওর নিজের শরীরও আর ধকল সইতে পারছিল না। আরশানের স্বভাবে এই ক’মাসে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সেই গম্ভীর আর কঠোর মানুষটা এখন ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে দেখে শিখছে কীভাবে ম্যাসাজ করলে রিমির পায়ের ফোলা কমবে কিংবা কোন অবস্থানে শুলে ওর শ্বাস নিতে সুবিধা হবে। ইদানীং আরশান অফিসের চেয়ে বাড়িতেই বেশি সময় কাটায়। ওর ল্যাপটপ আর ফাইলগুলো এখন ড্রয়িং রুমের বদলে রিমির বিছানার পাশে জায়গা করে নিয়েছে। অফিসের কাজগুলো ও বেশিরভাগ ঘরে বসেই সেরে নেওয়ার চেষ্টা করে, ওর পুরো জগতটা এখন যেনো রিমির আশেপাশেই আটকে গেছে।
সেদিন বিকেলে রিমি অনেকক্ষণ শুয়ে থাকার পর পিঠে ব্যথা অনুভব করায় একটু কঁকিয়ে উঠে বসল। আরশান পাশেই ল্যাপটপ খুলে কাজ করছিল, রিমির সামান্য একটু শব্দ হতেই ও দ্রুত ল্যাপটপ সরিয়ে রাখল। আলতো করে রিমির পেছনে কয়েকটা নরম কুশন গুঁজে দিয়ে ও রান্নাঘর থেকে এক প্লেট কাটা ফল নিয়ে এল। আপেল, আঙুর আর বেদানাগুলো সুন্দরভাবে প্লেটে সাজানো আছে। রিমি ফলগুলো মুখে দিতে শুরু করতেই আরশান ওর পায়ের কাছে বসল। রিমির ফোলা পা দুটো খুব সাবধানে নিজের কোলের ওপর তুলে নিয়ে ও ম্যাসাজ করতে শুরু করল। আরশানের হাতের বলিষ্ঠ অথচ কোমল স্পর্শে রিমি এক পরম আরাম অনুভব করল। আরশান রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল…
“কোনোরকম অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলে লুকাবে না রিমি। সাথে সাথে আমাকে জানাবে, We’ll head to the hospital immediately”
রিমি একটা আঙুর চিবুতে চিবুতে মৃদু হাসল।
“হুম, জানাব। কিন্তু মনে আছে? গত সপ্তাহে একবার এমনই হয়েছিল, ফলস পেইন ছিল বলে আমি বুঝতেই পারিনি। শুধু শুধু মাঝরাতে অত হুলুস্থুল হলো, সবার ঘুমটাও নষ্ট হলো”
আরশান হাত থামিয়ে রিমির দিকে তাকালো। ও রিমির পায়ের পাতায় হালকা চাপ দিয়ে বলল…
“তোমার জন্য আমাদের শতবার যদি মাঝরাতে ডাক্তারের কাছে দৌড়াতেও হয়, তাতেও বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই। কিন্তু আমি চাই না এক সেকেন্ডের জন্যও তোমার কোনো কষ্ট হোক”
আরশানের এই নরম কথাগুলো রিমির বুকের ভেতর গিয়ে যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো লাগল। পুরো প্রেগনেন্সি জুড়ে রিমির মারাত্মক মুড সুইং গেছে। কত দিন ও অকারণে আরশানের ওপর চিৎকার করেছে, আবার একটু পরেই ফুঁপিয়ে কেঁদেছে। রিমি নিজেও জানত ওর আচরণ অস্বাভাবিক, নিজের ওপর নিজেরই রাগ হতো। ও ভেবেছিল আরশানের মতো শর্ট টেম্পার্ড স্বভাবের মানুষ নিশ্চয়ই এসব ফালতু নাটক ভেবে ওকে বকাঝকা করবে। কিন্তু আরশান যে এতটা ধৈর্য্য ধরে ওর সব আবদার সব অভিমান মেনে নেবে সেটা ও ভাবতেই পারেনি। রিমি আঙ্গুর চিবানো থামিয়ে এক মুহূর্ত আরশানের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। তারপর খুব মৃদু স্বরে বলল — “একটু এদিকে এগিয়ে আসুন তো।”
“কি হয়েছে?”
আরশান সন্দিহান হয়ে রিমির মুখের কাছে একটু ঝুঁকতেই রিমি ওর দু-কাঁধ জড়িয়ে ধরল। আরশানের প্রশস্ত কপালে রিমির ঠোঁট দুটো খুব আলতোভাবে ছোঁয়া পেল। রিমির পক্ষ থেকে আসা এই হুটহাট আদরে আরশান মনে মনে বেশ খুশি হয় কিন্তু সহজে প্রকাশ করেনা। না করলেই বা কি? ওর আনন্দ, রাগ সবকিছু সম্পর্কে এখন রিমি রীতিমত PHD করে ফেলেছে!
__________________________________
বিকেলের তপ্ত রোদটা তখন ম্লান হয়ে এসেছে। সাধারণত এই সময়ে আরশান রিমিকে বিছানা থেকে এক পা-ও নড়তে দেয় না। কিন্তু আজ দৃশ্যটা ভিন্ন! শপিং মলে এসেছে রিমি, আরশান প্রথমে কোনোভাবেই রাজি ছিল না। এই অবস্থায় রিমিকে নিয়ে জনাকীর্ণ মলে আসা মানেই ঝুঁকির ব্যাপার। কিন্তু রিমির যখন করুণ কণ্ঠে বললো যে — “আরশান, সারাটা দিন চার দেয়ালের মাঝে দম বন্ধ লাগে, একটু নিয়ে চলুন না!”
ইনায়াও শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে, রিমির এখন একা বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয় ভেবে শেষ পর্যন্ত আরশান ওকে আনতে রাজি হয়। তাছাড়া ডাক্তারও বলেছেন, এখন রিমিকে একদম স্থবির রাখা ঠিক হবে না, হালকা হাঁটাহাঁটি আর মন ভালো থাকাটা ওর শরীরের জন্য জরুরি। ওরা যখন বেবি সেকশনে পৌঁছাল, রিমির চোখেমুখে সে কি আনন্দ। সেখানে ছিলো বাচ্চাদের ছোট ছোট পোশাক আর নরম জুতো! আরশান এক হাত দিয়ে রিমির কোমর আগলে রেখে খুব সন্তর্পণে এগোচ্ছে। আশেপাশে কেউ একটু দ্রুত হাঁটলে বা ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা দেখা দিলেই আরশানের চোখের দৃষ্টি বাজের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছে। ওর এই ওভার প্রোটেক্টিভ স্বভাব দেখে রিমি মনে মনে হাসলেও কিছু বলল না। পোশাকের র্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে রিমি একটা ছোট্ট সাদা ফ্রক হাতে নিল, আবার পাশেই থাকা নীল রঙের একটা ছোট্ট শার্টের দিকেও তাকালো। আরশান ভ্রু কুঁচকে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। ও একটা ধূসর রঙের ছোট্ট হুডি হাতে নিয়ে রিমির দিকে ফিরে তাকালো — “White or blue? কোনটা নেবে?”
আরশানের স্বরে এক অদ্ভুত দ্বিধা। যে মানুষটা কয়েক বিজনেস ডিল এক নিমেষে ফাইনাল করে ফেলে, সে আজ একটা বাচ্চার পোশাকের রঙ ঠিক করতে গিয়ে এতটা ভাবছে? রিমি হেসে ফেলে বলল — “সাদাটাই নিই? ওটা সুন্দর লাগছে। দেখুন না, কত্ত ছোট!”
আরশান পোশাকটা হাতে নিয়ে আলতো করে স্পর্শ করল। ওর বলিষ্ঠ হাতের তালুতে ওই খুদে কাপড়টা এক রত্তি দেখাচ্ছে। ও শান্ত গলায় বলল — “তুমি কি কনফার্ম যে এটা কোনো মেয়ের ড্রেস? নাকি ছেলের জন্য কিনছ?”
রিমি আরশানের দিকে চেয়ে মাথা নাড়ল।
“আমাদের তো জানা নেই যে রাজপুত্র আসছে না রাজকন্যা। আপনি কি এখন আফসোস করছেন যে কেন আগে থেকে জেনে নিলাম না?”
আরশান রিমির কপালে জমে থাকা সূক্ষ্ম ঘামটা নিজের রুমাল দিয়ে মুছে দিল। ওর চোখে তখন এক গভীর প্রশান্তি। ও রিমির কাঁধে হাত রেখে খুব ধীরলয়ে বলল…
“যেই আসুক যে আমাদের ভালোবাসার অংশ হিসেবে আসছে, সে আমাদের কাছ থেকে সমান আদরই পাবে”
রিমি তৃপ্তির হাসি হাসল। ডাক্তার কয়েকবার আল্ট্রাসোনোগ্রাফির সময় জিজ্ঞেস করেছিলেন তারা বাচ্চার জেন্ডার জানতে চায় কি না, কিন্তু রিমি আর আরশান দুজনেই একবাক্যে মানা করে দিয়েছিল। ওরা চায় এইটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সারপ্রাইজ হিসেবেই থাকুক। রিমি আরেকটা হালকা হলুদ রঙের ড্রেস সেট পছন্দ করল যেটা ছেলে বা মেয়ে উভয়কেই মানাবে। কেনাকাটার ফাঁকে আরশান বারবার রিমির দিকে খেয়াল রাখছে। ওর পা কি আবার ফুলে উঠছে? ও কি হাঁপিয়ে যাচ্ছে?
“রিমি, টায়ার্ড লাগলে বলো। we can pause this”
“না, আরশান। আমি ঠিক আছি। আরেকটু দেখি চলুন, আরো কিছু পছন্দ হয়ে যেতে পারে”
কেনাকাটার আনন্দটা নিমেষেই এক অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ নিল। পেটের ভেতর থেকে একটা মোচড় দেওয়া ব্যথা কোমরের হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। রিমি আরশানের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। ওর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, কপালে জমছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। রিমি ধীর গলায় কোনোমতে বলল — “আরশান… চলুন, আর ভালো লাগছে না। খুব অস্থির লাগছে,”
আরশান এক মুহূর্ত দেরি করল না। ও বুঝতে পারল পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। রিমিকে আগলে ধরে দ্রুত পার্কিং লটে এল ও। গাড়িতে বসার পর এসি-র ঠান্ডা বাতাসও রিমির অস্বস্তি কমাতে পারল না। আরশান লক্ষ্য করল, রিমির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে আর ওর মুখটা যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাচ্ছে। আরশান গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে গিয়েও থমকে গেল। রিমির দিকে ঝুঁকে এসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “Rimi, look at me! Are you okay?বেশি খারাপ লাগছে?”
রিমি সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইল। একটা তীব্র ব্যথার ঢেউ ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ও বিড়বিড় করে বলল — “খারাপ লাগছে অনেকটা। পেটে একটা টান ধরা ব্যথা হচ্ছে… গত সপ্তাহের মতো কি আবারও ফলস পেইন? বুঝতে পারছি না।”
আরশান ঘড়ির দিকে তাকালো। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, কিন্তু রিমির সামনে ও নিজেকে শান্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ও রিমির হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে শান্ত কিন্তু বলিষ্ঠ গলায় জিজ্ঞেস করল—
“How often is the pain coming?”
রিমি ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রথম ব্যথার ঢেউটা চলে যাওয়ার ঠিক দশ মিনিট পর আবারও সেই একই তীব্রতার একটা মোচড়। ডাক্তার বলেছিলেন, যদি ব্যথা নিয়মিত ব্যবধানে আসে এবং সময়ের সাথে সাথে ব্যবধান কমতে থাকে, তবে সেটাই আসল লেবার পেইন। রিমি লক্ষ্য করল, পরবর্তী ব্যথাটা সাত মিনিটের মাথায় এল। ব্যথার তীব্রতা আগের চেয়েও বেশি। ও আরশানের দিকে চেয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে বলল — “দশ মিনিট ছিল, এখন সাত মিনিটের মাথায় আসছে। ডাক্তার যা বলেছিল… একদম তেমনটাই হচ্ছে। ফলস পেইন মনে হচ্ছে না এটা।”
আরশানের দ্রুত হসপিটালে ফোন করে প্রস্তুতি নিতে বললো, আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ও যেন বাতাসের গতিতে রাস্তার জট কাটিয়ে এগোতে লাগল। আরশানের এক হাত স্টিয়ারিংয়ে, অন্য হাত রিমির হাত আঁকড়ে ধরে আছে — “ভয় পেয়ো না রিমি, আমি আছি তো। Just breathe… আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি”
কিন্তু হাসপাতালের গেটে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে রিমি একটা আর্তনাদ করে উঠল। ওর মনে হলো শরীরের ভেতর কিছু একটা ফেটে গেল। একটা উষ্ণ স্রোত ওর পা বেয়ে সিট ভিজিয়ে দিচ্ছে। রিমি আতঙ্কিত চোখে আরশানের দিকে তাকালো — “আরশান! আমার… আমার ওয়াটার ব্রোক হয়ে গেছে!”
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1a4UMdACQt/?mibextid=oFDknk

