#বোকামন
#পর্ব_৩০
#Tahsin_Atoshi
পরন্ত বিকেল। একাই ঘরে বসে আছে স্মৃতি। একা থাকাটা খুব একটা বোরিং লাগে না তার। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু স্মৃতি মাথায় হানা দিলে ভয়ে চুপসে যায় সে। কাল সারাদিন কথা বলেনি আহানের সাথে। আহান যে খুব একটা কথা বলার চেষ্টা করেছে তাও না। মনটা খারাপ হয়ে আছে তার। রাগ হয় নিজের উপর। কীভাবে আহানের এক্টিং দেখে বিশ্বাস করে নিলো সে? কিন্তু চোখ? চোখ তো মিথ্যা বলে না। আহানের চোখও মিথ্যা বলেনি।
দ্বিধায় পরে যায় সে৷ বৃষ্টির মুহূর্ত মনে পরলে মনে হয় আহান সত্যিই সবটা নতুন ভাবে শুরু করতে চায়৷ কিন্তু আবার পরে বলা কথাটা..! বন্ধুদের সাথে বাজি ধরা। মাথা এলোমেলো হয়ে যায় স্মৃতির৷ রাগ হচ্ছে খুব। আজ জেনেই ছাড়বে সে সবটা। কিন্তু জানতে পারবে কীভাবে? আহান তো নেই। সকালে বলে গেল ফিরতে রাত হবে। বিকেল হতে চললো। অথচ এখনো আসার নাম নেই।
কোথায় যাবে সেটাও বলেনি। মন খারাপ করেই বসে থাকে কিছুক্ষণ। বাইরে আবারো বৃষ্টি পরছে। ভিজতে ইচ্ছে করছে তার। এবারও সে নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দেয়৷ দৌড়ে ছাদে চলে যায় সে। বৃষ্টিতে দারুণ লাগছে তার। কিন্তু মনের কোণে থাকা কিছু স্মৃতিও না চাইতেই আবার চোখের সামনে ভেসে আসছে। কিছু সময়, হাসি, কান্না মাঝে ছোট্ট একটা ঝড়। সবটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেল তার। এমনটা কি হওয়ার ছিল? ছিল না তো।
তবুও তো আজ তার বিয়ে হয়েছে, একটা সংসার আছে। কিন্তু সংসারটা আদেও তার নিজের কিনা জানে না। জানবে কীভাবে? তার বর তো এখনো মানতেই পারেনি তাকে। হাসি পায় তার নিজের ভাগ্যের ওপর। চোখের কোণ থেকে জলটুকু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে যায়। চারপাশে হাওয়া বইছে খুব। ঝড় হবে সিয়র।
আবারো ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। কিছুক্ষণ ভিজে ঘরে চলে আসে। নরমাল পানি দিয়ে গোসল না করলে আবার জ্বর বাবাজি হামলা করবে কিনা। গোসল শেষে এসে কাবার্ডের সামনে এসে দাড়ায়। চোখ পরে শাড়িগুলোর উপর৷ পরতে ইচ্ছে করে তার। মনের কথাই শোনে সে। খয়েরী রঙের শাড়িটা নিয়ে নেয় সে।
শাড়িটা দেখে মৌমিতার কথা মনে পরে। কখনো মনে করে কল করা হয়না তাকে। অথচ প্রতিদিন সে ঠিক সময় করে কল করবেই। এই তো কিছুক্ষণ আগেও কল করেছিল। তবে এবার হুমায়রার জন্য। একা একা কাঁদছে মেয়েটা। তার কাছে সামলানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতির যেতে ইচ্ছে করলেও যাওয়া হলো না। যদি আহান রাগ করে। তাই তো। আর উপায় না পেয়ে মৌমিতাকেই বলেছে কাছে থাকতে। আপাতত মেয়েটার মায়ের আদর প্রয়োজন কিনা৷ কিছু হলেই মামনি মামনি শুরু করে দেয়। বিষয়টা খুব একা খারাপ লাগে না তার। সে তো আর মাকে কাছে পেলো না। নতুন যাকে পেলো বেশিদিন কাছে থাকতে পারলো না।
মনে পরতেই হাসে স্মৃতি। আবারো শাড়ি পরার জন্য উদ্যত হয়। মৌমিতা একবার শাড়ি পরিয়ে দেয়ায় সেটা দেখেই সে শাড়ি পরা শিখে গেছে। খুব একটা সমস্যা হয়না তার। শাড়ি পরে আয়নার সামনে এসে দাড়ায়। খুব একটা খারাপ লাগছে না নিজের কাছে নিজেকে। সামনে চোখে পরে আলতা। পরবে কি পরবে না। আবারো দ্বিধায় পরে যায়৷
আজ তার নিজেকে সাজাতে ইচ্ছে করছে খুব। কিন্তু কেন? এর উওর নেই তার কাছে। মনের কথা শোনে সে। চুপচাপ আলতা পরে নেয়৷ চুলটাও হালকা করে বেধে নেয়। ব্যাস এইটুকুই…। এরপর বসে টেবিলের সামনে। একটা বই নিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মনোযোগ আর আসে না পড়ার প্রতি। মাথা ঘোরে কিছু স্মৃতি..! আহানকে জানানো দরকার তার। শত হলেও তো আহান তার হাসবেন্ড। সবটা জানার অধিকার আছে তার। কিন্তু মুখে সে বলতে পারবে না কথাগুলো। বলতে গেলেই আবারো প্যানিক করবে। আবারো অর্ধেক বলেই থেমে যেতে হবে। তাই নিয়ে নেয় কাগজ-কলম। লিখতে থাকে মনে থাকা সকল কথা।
___
মৌমিতার কোলে ঘুমিয়ে আছে হুমায়রা। ভালো লাগছে না তার। ঘরে একা একা বিরক্ত লাগে খুব। তার মধ্যে সাঈমা কাহিনী তো আছেই৷ মামনিকে মনে পরছিল খুব। শুভও বাইরে গিয়েছে কোনো এক কাজে। তাই একা একাই কান্না করছিল চুপচাপ। মৌমিতা আর কান্না করতে দিলো কোথায়। নিয়ে এলেন নিজের কাছে। স্মৃতির সাথে কিছুক্ষণ কথাও বললো দুজন। কথা বলতে বলতেই ঘুমিয়ে গেছে সে। মাঝে শুভ বাসায় এসে উঁকি দিয়ে গেছে একবার। ঘুমিয়ে আছে দেখে আর জাগানোর প্রয়োজন মনে করেনি সে। কিন্তু ঘুমটাও বেশিক্ষণ টিকলো না। কিছুক্ষণের মাঝেই ভেঙে গেল। উঠে বসে কিছুক্ষণ ঝিমালো হুমায়রা। এক নজর মৌমিতাকেও দেখে নিলো। মৌমিতা কথা বাড়ালেন না। শুধু একটা মুচকি হাসি উপহার দিলেন। হুমায়রাও চুপচাপ ওয়াশরুমে গিয়ে চোখমুখে পানি দিয়ে আবারো মৌমিতার পাশে বসলো। কিছুক্ষণ নিরবতা কাটার পর এবার হুমায়রা জিজ্ঞেস করল,
-শুভ এখনো আসেনি আন্টি?
-হুম…? ওহ্ শুভ হ্যাঁ এসেছে তো। যাও ঘরেই আছে।
হুমায়রাও অপেক্ষা করলো না এবার। দ্রুত উঠে হাসি মুখে ঘরে চলে এলো। কিন্তু খুশিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না তার। ঘরের ভেতর চোখে পরতেই মুখটা মলিন হয়ে গেল।
সাঈমা শুভকে জড়িয়ে ধরে আছে। নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারলো না হুমায়রা৷ কিন্তু সত্যিটা তো চোখের সামনেই আছে। দ্রুত পায়ে গিয়ে এক ঝটকায় শুভর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিলো সাঈমাকে। সজোরে একটা থাপ্পড় মারলো সাঈমার গালে। রাগ দেখিয়ে বলতে লাগলো,
-ছেলে দেখলে সহ্য হয়না না? অন্যের হাসবেন্ডকে দেখলেই গায়ে পরতে ইচ্ছে করে। সমস্যা কি তোমার?
-হূর…!
হঠাৎ শুভর চিৎকারে চমকায় হুমায়রা৷ ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায় সে। শুভও গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-ওকে মারলে কেন তুমি?
-কেন কষ্ট হচ্ছে আপনার? প্রেম করতে বাধা দিয়ে দিলাম আমি। তাহলে.. তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিলেন কেন আপনি? এই ভালোবাসা আপনার। নাকি আপনারও ভালো লাগে খুব অন্য মেয়েকে জড়িয়ে ধরায়। আপনি.. আপনি একটা…
মুহূর্তেই ঘরটা স্তব্ধ হয়ে যায়। গালে হাত রেখে অবাক হয়ে তাকায় হুমায়রা৷ শুভ তাকে থাপ্পড় মেরেছে। বিশ্বাস হয়না তার। রাগে শরীর কাঁপছে । এরই মাঝে শুভ বলতে শুরু করে,
-সবটা না দেখে না বুঝে তুমি এভাবে বলার সাহস কোথায় পাও হ্যাঁ? তোমার সাহস কি করে হয় ওকে এসব বলার? আজ পর্যন্ত কেউ ওর গায়ে হাত তুলেনি। আর.. আর তুমি ওকে থাপ্পড় মারার সাহস কোথায় পাও?
অবাক হয় হুমায়রা। এই মেয়ের জন্য শুভ তার গায়ে হাত তুলেছে। হজম হয়না তার। না চাইতেও চোখ দিয়ে পানি পরতে শুরু করে । কান্না মাখা কন্ঠে বলে,
-ওহ্ এতো দরদ আপনার ওর প্রতি..!! ঠিক আছে থাকুন ওকে নিয়ে। আমি আর এক মুহূর্ত থাকবো না এখানে। পারলে ওকে বিয়ে করে নিবেন। খুব একটা সমস্যা হবে না অবশ্য। এমনিতেও আমি কে? মোহ্ ছিলাম আপনার।
বলেই ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য উদ্যত হয়। শুভও রাগ দেখিয়ে বলে,
-আমারই ভুল হয়েছে তোমাকে বিয়ে করা৷ এতো রাগ, জেদ কে সহ্য করবে। যাও চলে যাও।
শুভর কথায় পা থামে হুমায়রার। অবাক হয় খুব। কিন্তু কিছু বলে না। সাঈমার সামনে এসে দাড়িয়ে বলে,
-যা চেয়েছিল হলো তো। সফল হয়েছ তুমি। যাও শুভ তোমার। বিয়ে করে নেও। ঠিকই বলেছিলে। আমার না আছে রূপ না আছে গুণ। আর শুভর কাছে আমি সত্যিই মোহ ছিলাম। মিলে গেল তোমার কথা। তুমি পারফেক্ট শুভর জন্য। বিয়ে করে নেও। কংগ্রাচুলেশনস।
চোখে পানি নিয়েই হাসে হুমায়রা। শুভর দিকে তাকিয়ে বলে,
-ডিভোর্স চাই আমি। সময় মতো পাঠিয়ে দিবেন।
আর দাড়ায় না হুমায়রা। এক কাপড়েই বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সামনে পরে মৌমিতা। কিন্তু তাকে বলার কিছুই নেই হুমায়রার। সবার আদরের না সাঈমা। কি বলবে? দিন শেষে সে নিজেই খারাপ হবে কিনা।
_
আহান মাএই ঘরে ঢুকেছে। বাইরে ঝড় বৃষ্টি থামার নামই নিচ্ছে না৷ কি যে একটা অবস্থা হয়ে আছে সবকিছুর। মুখটাও ভার হয়ে আছে। ধীরে ধীরে রুমে ঢুকতেই স্মৃতিকে দেখে মেজাজটা আরো বিগড়ে গেল তার। আহানকে দেখে খুশিই হয় স্মৃতি। মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
-এখন নাস্তা করবেন নাকি পরে?
-সে নিয়ে তোমার না ভাবলেও চলবে।
আহানের কথা বলার ধরণ খুব একটা পছন্দ হয়না স্মৃতির। এমন না যে আহান খুব একটা ভালো ব্যবহার করে। কিন্তু আজকের কথা বলার ধরণটা একটু অন্যরকম। রেগে আছে কোনো কারণে? মনের কৌতুহল মনেই থেকে যায়। নরমালি জিজ্ঞেস করে,
-আচ্ছা আপনি রেস্ট নিন কিছুক্ষণ। কিছু কথা আছে আপনার সাথে।
-কি কথা?
-পরে বলি? আপনি ক্লান্ত।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহান। হাত মুঠো করে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে সে। স্মৃতি আবারো প্রশ্ন করে,
-কোথায় গিয়েছিলেন? আ..আপনি কি কোনো বিষয়ে রেগে আছেন?
স্মৃতির এমন প্রশ্নে নিয়ন্ত্রণ হারায় আহান। হাতের পাশে থাকা ফুলদানিটা ছুড়ে ফেলে স্মৃতির পায়ের কাছে৷ ভয়ে দূরে সরে যায় এবার। কেন যেন এবার ভয় করছে তার আহানকে দেখে। কিছু বলবে তার আগেই আহান বলে,
-হ্যাঁ গিয়েছিলেম। তোমার গ্রামে গিয়েছিলাম তোমার কুকর্মের কথা জানতেই। ভালো ভালো কথাই জেনে এলাম। এর জন্যই হয়তো তোমার বাসার মানুষ তোমাকে ওই বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। আচ্ছা একটা কথা বলো তোমরা সব মেয়েরাই কি এমন? হ্যাঁ?
থামে আহান। আবারো বলতে শুরু করে,
– ইউ নো হোয়াট তোমার মতো চরিএহীন মেয়ে আমি আর একটাও দেখিনি। শুভর উপর জেদ করেই বিয়ে করেছিলাম তোমায়। ভেবেছিলাম অত্যাচার করে প্রতিশোধ নিবো। কিন্তু পারিনি। আবার ভাবলাম যা হওয়ার হয়েছে। নতুনভাবে সবটা তো শুরু করাই যায় তাই না। তাই তোমার সম্পর্কে জানতে গিয়েছিলাম তোমার গ্রামে। বেশ ভালো নাম তো তোমার৷ কিন্তু ভালোর দিক দিয়ে না সবই খারাপের। সেদিন রোদের বিষয়টা মায়রা বলার পর বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু তুমি? তুমি তো দেখছি খুবই জঘন্য মেয়ে। কীভাবে আমি তোমাকে… উফ বেঁচে গেছি সত্যি বলতে। সত্যটা না জানলে কি হতো..! আমি এটাই ভেবে পাইনা মায়রা তোমার ফ্রেন্ড হয় কীভাবে?
থামে আহান। স্মৃতি থমকে দাঁড়ায়। এই ভয়টা পাচ্ছিলো সে। কিন্তু আহান? সে কি আদেও জানে সত্যিটা৷ কোন ব্যাপারে সে জেনে এসেছে। কি বলেছে সকলে? আর কার কাছ থেকে জেনেছে? ওর পরিবারের কাছ থেকে? ভেবে পায়না। শুধু চোখ থেকে অঝোরে জল পরতে থাকে।
-আ্..আহান আপনাকে কে কি বলেছে? আপনি ভুল বুঝছেন আমাকে। আ্.. আমার কথা শুনুন আগে। আমি..
-কি বলবে আমায় বলো? নিজের চরিত্র হীনতার কথা? কীভাবে অন্য পুরুষের ঘরে থেকেছ সেই কথা? নাকি বারো বছর বয়সে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে চরিত্রহীন মেয়ে হয়ে ওঠার কথা? কি বলতে চাও?
-আহান কি সব বলছেন আপনি? আপনি সবটা জানেন না৷ আ্ আমার কথা তো শুনুন আগে।
-কিছু শুনতে চাইনা। চলে যাও আমার সামনে থেকে। যাস্ট গেট আউট। একা থাকতে চাই আমি। যাও প্লিজ।
চুপ হয়ে দাড়ায় স্মৃতি। আহানের চোখে নিজের জন্য ঘৃণাটা ঠিক সহ্য হয়না৷ এক পলক দেখে নেয় ছোট ডায়রিটার উড়ে যাওয়া পাতাগুলোর দিকে। খুব ইচ্ছে করে আহানকে দিতে। কিন্তু আহানের চোখে ঘৃণা দেখার পর আর দিতে ইচ্ছে হয়না। এতোটা ঘৃণা..!
মানুষের কথাই বিশ্বাস করলো আহান! একবারও কি সত্যিটা জানতে ইচ্ছে হলো না তার? আর দাড়ায় না সে। বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। বাইরে বাতাস দেখে আবারো পা থেমে যায়৷ ঝড় বৃষ্টি শুরু হবে একটু পরই। কীভাবে যাবে সে। কিন্তু জেদের কাছে এগুলোও হার মানে। চুপচাপ বেরিয়ে যায়। কোথায় যাবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। নিজের বাবার কাছে যাবে? যাওয়া কি উচিত? কিন্তু এছাড়া যাওয়ারও তো জায়গা নেই তার। তাই আর ভাবলো না । সেই উদ্দেশ্যেই রওনা হলো আবার। ঝরের মাঝে গাড়ি পাওয়াটাও খুবই মুশকিল বললেই চলে। ধীরে ধীরে নিজেই পা বাড়ালো। হেঁটে যতদূর যাওয়া যায়।
আহান তখনও ঘরে একা বসে আছে। সে জানে এখন রাগের স্মৃতি সামনে থাকলে আবোলতাবোল বলতে থাকবে। কিন্তু তার এখনো এটাই বোধগম্য হয়নি স্মৃতি যে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। চুল মুঠো করে বিছানায় বসে রয় সে। সে এটা ভেবেই পায়না তার সব সিদ্ধান্ত সব সময় ভুল কেন হয়।হুট করেই তার চোখ পরে টেবিলের উপরে থাকা ডায়রিটার উপর। স্মৃতি আহানকে নিয়েই কিনেছিল ডায়রিটা৷ একা একা বোরিং লাগলে সে নাকি ডায়রি লিখে। আহানও বারণ করেনি। আহান আসার আগে ডায়রিটা নিয়েই ছিল স্মৃতি। তাই ধীরে ধীরে ডায়রিটা হাতে নিয়ে নেয়। পড়তে থাকে লেখাগুলো। তারিখটা আজকের দেয়া৷ তারমানে আজই প্রথম লেখা শুরু করেছে স্মৃতি! দৃষ্টি গিয়ে আটকায় ডায়রির প্রথমে লেখা আহানের নামটা দেখে।
#চলবে….
(কেউ কিছু বইলো না 👀)

