বৈরি_হাওয়া #পর্ব_৭

0
2

#বৈরি_হাওয়া
#পর্ব_৭
#ফারজানা_প্রণয়_চৌধুরী

“মাইয়া মানুষের সুখ বাপের বাড়ির জিনিসের উপরে, বুঝলেন আম্মা?”

ফাতেমা কথাটা বলল এমন ভঙ্গিতে, যেন এ কোনো অভিযোগ না । বরং বহুদিন আগেই মেনে নেওয়া এক নিষ্ঠুর সত্য। দুই বছর ধরে সে এই বাড়িতে। সঙ্গে ছয় বছরের মেয়েটা। পৃথিবীতে তার নিজের বলতে যা আছে, ওই এই মেয়েটাই।
সকালে রান্নাঘরে সে তরকারি কষছিল। ঠিক তখনই ঊর্মি এসে দাঁড়ায় । এক কাপ কড়া চায়ের জন্য। চা বসাতে বসাতে কথার স্রোতটা ধীরে ধীরে খুলে যায়। প্রথমে সাধারণ কথা, তারপর অজান্তেই ঢুকে পড়ে ফাতেমার জীবনের ভাঙা গলিপথে।
জানেন আম্মা, আমারও না স্বপ্ন আছিল। কিন্তু স্বপ্ন দেখার সাহস আছিল না।তার চোখ তখন বিষন্ন।
ছোটবেলায় দেখতাম সবাই স্কুলে যায়। আমারে কেউ নেয় নাই। আব্বায় পড়ায় নাই ।আমার ছোট ভাইডারে পড়াইতো। ওরে প্রাইভেট দিছে, বইখাতা দিছে। আর আমি দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া দেখতাম। এতিমের মতো।

“আচ্ছা, আমারে পড়াইলে কি অনেক টেহা নষ্ট হইতো?”

কথাগুলো তে ছিলো বিষণ্নতায় ঢাকা কিছু প্রশ্ন।
ফাতেমা একটু থামে, তারপর আবার বলে,

“আমারে দিয়া আম্মা ঘরের সব কাম করাইতো। আব্বায় মাঝে মাঝে খারাপ গালি দিত। হের মতে মাইয়া মানেই ঝামেলা আর বেহুদা টেহা খরচ।”

আমি ছিলাম ঘরের মানুষ না । ঘরের বোঝা। হঠাৎ একদিন মানষের বাইত কামের খবর আসে। আমারে পাঠনো হয় শহরে কাম করতে ।বাচ্চা রাখার কাজ। কথা হয়—খাওন, পিন্দন আর মাস শেষে চার হাজার টাকা।
কিন্তু হেরা শুধু বাচ্চা রাখায় নাই, আম্মা। ঘরের সব কাম আমারে দিয়া করাইতো। টাকা দিয়া খাওয়াইবো, পিন্দাইবো বসাইয়া খাওয়াইবো নাকি?
ভয়ের সঙ্গে দিন কাটতে থাকে।
সবসময় ডর লাগতো। একটু ভুল হইলেই মনে হইতো এইবার শেষ।

ভালো-মন্দ খাওয়া ভাগ্যে ছিল না।হেরা তো বড়লোক আছিল। আমারে একটু খাইতে দিলে কি কমে যাইতো?

এখানে এসে ঊর্মির বুকের ভেতর কিছু একটা চেপে ধরে। সে কথা বলে না। নীরবতাই তখন সবচেয়ে ভারী।

আল্লাহ যারে দেয়, ঢাইল্লা দেয়,

আমাগো গরিবগো দেহেই না। তাইলে আমাগো বানাইলো কেন? আমাগোও তো দেয়।তাগো দেয় সুখ আমাগো দেয় দুঃখ।

দিন যেতে থাকে। মাস শেষে টাকা পাই।ঐগুলো আবার নিজের কাছে রাখি না।আব্বারে পাঠাই ।আমার তো টাকা দরকার নাই।আব্বারে দিলে বাড়িতে ভালো মন্দ কিছু হইবো ।সেই টাকায় বাবার টিনের ঘর হয়, ফার্নিচার আসে।

বছরে একবার ছুটি দিত। বাড়ি গেলে আর ফিরতে মন চাইতো না। শহরে গেলে তো আবার মেশিনের মতো কাম।

আমার কামাইয়ে সংসার চলে, কিন্তু আমার জন্য একফোঁটা আদর জোটে না।

আচ্ছা আম্মা, আমারে কি একটু আদর করা যাইতো না?

ফাতেমার কন্ঠ ভেজা।সে আবার বলতে শুরু করে,

–“তারপর বাবার দিন ঘুরে যায়।ভাইয়ের পড়াশোনা চললেও সে হয়ে ওঠে মস্তান। একবার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে আমি দেখি , ভাই সিগারেট খায়।বাড়িতে বলাতেই অস্বীকার করে সে।
তখন আম্মায় চুলার গরম চেলা দিয়া মারছে। এই দাগ এখনো আছে। তাদের দাবি আমি ভাইরে সহ্য করতে পারি না।
সেই দিনের পর থেকে আমার ভেতরের মানুষটা যেন পুড়ে গেছে।
যেই ঘররে আপন ভাবছিলাম, হেরা আমার আপন না ।
শেষমেষ কিছুদিন পরে কাজের বাড়ি থেকেও বের করে দেয়।ঐ বাড়িতে একটা জুয়ান ছেরা আছিলো।যদি কিছু হয় ।কলঙ্কের ভয়ে আবার চলে আসলাম বাড়িতে।তখন শুরু হলো আরো অপমান তুচ্ছতাচ্ছিল্য।
আমারে বোঝা মনে করতে লাগলো তারা। আমি যে এতদিন কামাই করে দিছি, সেই হিসাব তাদের কাছে নাই।
একদিন মুখ ফুটে প্রশ্ন করি। আমার সাথে এমন করো কেন।আমি কি কামাই করে টাকা দেই নাই ।জবাবে বাবার মুখ দিয়ে বের হয় নোংরা ভাষা। বলে উঠে তুই তো শহরে গিয়া লা*ঙ রাখছছ।টাকা কামাইলি কখন ?
সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়,এ আমি কাদের জন্য এতো কিছু করলাম এরা কি সত্যিই বাবা-মা?
নাকি শুধু রক্তের নামে কিছু অমানুষ? আমাকে আর তাদের সহ্য হলো না। শুরু হলো আমারে বিদায় করার পাঁয়তারা।বিয়ে দিবে আপদ বিদেয় করবে। আমিও আর না করি নাই।আমি বরং খুশি হলাম।আমার নিজের একটা সংসার হবে।এইখান থেকে মুক্তি অন্তত পাবো।তবে কথায় আছে না, অভাগী যেদিকে যায় সাগর সুখাইয়া যায়।তেমনি হলো।
এরপর হঠাৎ বিয়ে। রাতে দেখতে এসেই বিয়ে হলো।
টেম্পু ডেরাইভার আছিলো বেডায়। আমাকে বিদায় করলো একদম খালি হাতে ।কিছুই দিলো না সাথে। এগুলো নিয়ে শুরু হয় আবার খোঁটা।

শাশুড়ির খোঁটা, শ্বশুরের গালি। সহ্য করে নিতাম।কারন স্বামী ভালো ছিলো। মেয়েদের নাকি স্বামী ঠিক হলে দুনিয়ার সাথে লড়াই করতে পারে। আসলেই কি তাই?

সবসময় ভালো থাকলেও লড়াই করা যায় না।
স্বামী প্রথমে আদর করতো। বাড়ির সবার সাথে লড়াই করত। তবে আর পারলো না। সারাদিন কাজ শেষে বাড়িতে আসে।তারপর শুরু হয় শাশুড়ির বিচার দেওয়া। শশুর বাড়ির একটাই দাবি। তাদের ভালো মতো আপ্যায়ন করে নাই। তাদের ছেলে ঠকে গেছে।এতো বিচার, সবার কথা শুনতে শুনতে আর সহ্য করতে পারলেন না। শুরু করলেন মার।প্রথম যেদিন মারলেন।অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।সহ্য হচ্ছিল না।
মাইরের ব্যাথার থেকে মনের ব্যাথা ছিলো বেশি।

–“যেই মানুষটার কাছে এতো ভালোবাসা পাইছি, হের হাতের মাইর সহ্য হইতো না।”

একদিন হঠাৎ জামাই ডাইকা কইলো।বউ তুমারে আমি মারতে চাই না।

এক কাম করো বাপের বাড়ি থেইকা একটা আংটি আনো।দেখবা এহানের মানুষ ঠান্ডা হইয়া যাইবো।আমাগো একটু সুখ হইবো।সুখের আশায় গেলাম আবার বাপেড় বাড়ি।চাইলাম একটা আংটি। কিন্তু দিলো না।মাইরা বাইর কইরা দিলো।আবার ফিরে আসলাম।শুরু হলো অত্যাচার।মাইর খাওয়া যেনো হয়ে পড়লো প্রতিদিনের কাজ।
একসময় মাইর খাইতে খাইতে পাথর হয়ে যাই।
শরীরে ব্যথা লাগে না । না মারলে বরং অস্বস্তি লাগে।
তারপর মা হই জন্ম নেয় আমার মতো আরেক অভাগী।
কপালপুড়ির ঘরে আরেক কপালপুড়ি। একদম পুরাই মায়ের মতো ভাগ্য নিয়া জন্মাইছে।দাদী সহ্য করতে পারে না।তাগো বংশের লাডি আইলো না।এতো অবহেলা আমার মেয়েটা পাইছে। একবার সারাদিন মেয়েটার কাছে যাইতে পারি নাই।এতো কাজ দিছে আমারে।
এভাবেই অযত্নে মেয়েটার নিউমোনিয়া হয় । কেউ তাকায় না।

দাদি কইলো মইরা যাক। অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকাইয়া আছিলাম। আচ্ছা আমি কি ভুল করে কোনো নরকে চলে আসছি? যেখানেই যাই শুধু অমানুষ। সারাদিন পরে জামাই বাইত আইলো।একবার মেয়ের কপালে চুমা দিয়াই দায়িত্ব শেষ। ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই। এমনেই ঠিক হয়ে যাবে।
সেইদিন সিদ্ধান্ত নিলাম ।আর না ,অনেক হয়েছে এদের জন্য।আমার মতো আমার মেয়েটার ভাগ্য হতে দিমু না।
আমি নিজে যেগুলো না পাইছি ।সব আমার মাইয়ারে দিমু। ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম ।
তয় পালাতে গিয়ে ধরা পরি ।অপবাদ আসে।আমি লাং নিয়ে পালাইতে গেছিলাম।বিচার বসানো হয়।বাপের বাড়ির সবাই আইলো।
শশুর বাড়ির সবাই আছিলো।সবার সামনে আব্বায় কইলো,এইই খান*কি আমাগো কিছু না।ওরে যা ইচ্ছা করেন।আমরা কিছু কমু না। বাফের দিকে তাকাইয়া একটু হাসছিলাম।মন থেকে ঐদিন চাইছিলাম আল্লাহ যাতে এদের সঠিক বিচার করে। আমার কষ্টের কামাই এর টেহা যাতে ওদের শান্তি মিলে
শেষমেশ সবার সামনে তালাক।আবারো এক কাপড়ে মেয়ে নিয়ে বের হয় আসি। সাথে ছিলো আমার কোলের মাইয়াডা।
কই যামু যাওয়ার যায়গা নাই।শেষে এক চাচি আসার সময় কিছু টাকা দিছিলো।ঐটা দিয়া আগে যেইনো কাজ করতাম ঐখানে গেলাম।তারা ঠিকানা দিলো এই বাড়ির । তারপর থেকে আজ আমি এখানে।আমার মেয়েটার ভাগ্য অবশেষে আমার মতো হয় নাই।
কাজের বেডির মেয়ে হলে আমার মেয়েটা পড়ালেখা করে। হাসে , আদর পায়।এইটুকুতেই আমার শান্তি।ফাতেমার চোখ বেয়ে পানি নামে।

ফাতেমা আবার তাকালো ঊর্মির দিকে বললো,

তয় আফা হতাসা জিনিস না খুব খারাপ।এই দুনিয়াই কেউরে ঠকাইয়া কেউ সুখী হয় না।

আমি বিচার পাইছি জানেন। কিছুদিন আগে খবর পাইলাম ভাইডায় নাকি নেশা বেচতে গিয়া ধরা খাইছে। আব্বায় আমার কাছে ফোন দিয়া কি কান্না।মাফ চাইলো,ভাইরে ছুডানোর জন্য টাকা চাইলো। কিন্তু আমি দেই নাই।আনন্দই লাগতেছিলো। এখন তাদের লাডি নিয়া শুখে থাকুক।

শাশুড়িডাও নাকি এহন বিছানায়।ছেরারে টেহাওয়ালা ঘরে বিয়া দিছিলো।নগদ টেহা আনছিলো।ঐ ছেরি এহন তিনবেলা মরিচ দেয়।
এরেই বুঝি কয় আল্লার বিচার শেষ রাইতে।

ঊর্মি তাকিয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে।ঠিক তখন ছোট্ট মেয়েটা ধীরে এসে মায়ের পাশে বসে। ছোট হাতে মায়ের কাঁটা তরকারি ধুয়ে দিচ্ছে।
কে বলেছে ফাতেমা অভাগী?

তার অন্ধকার পৃথিবীতে এই শিশুটাইতো তার এক টুকরো আলো।মানুষের জীবন কতো বৈচিত্র্য।।আমরা কেউই আসলে সুখী না।সকলের জানা অজানা কতো দুঃখ আছে।হয়তো কারো টা প্রকাশিত।নয়তো ধূলাবালির আস্তরনে ঢাকা পড়া।সে ভাবতো তাকে তার বাবা ঠকিয়েছে। কিন্তু ফাতেমার বাবা-মা তাহলে কি?কি তাদের পরিচয়?এদেরকে কি কোনো ভাবে বাবা-মা বলা যায়? আমার তো মনে হয় না এরা বাবা মা।

“জীবনটা একটা বইএর মতো। বন্ধ থাকলে ভিতরে কি আছে জানা যায় না।রহস্যের গল্প নাকি বিষণ্নতার ।
তবে বইটা খুলে ফেললেই বেড়িয়ে আসে।একেকর পর এক বিষন্নতা।”

________________________

বিকেলের মৃদু রোদ চারপাশে ঢেলে দিয়েছে সোনালি স্তব্ধতা। শীতের এই বিকেলে রোদ যেন বন্দি জীবনের ফাঁক গলে পাওয়া এক টুকরো মুক্ত আকাশ। চারদিকে নিস্তব্ধতার ভার । কেউ দুপুরের ঘুমে তলিয়ে গেছে, কেউবা নীরবে বয়ে চলেছে নিজের নিত্যজীবন।
ঊর্মি ব্যালকনিতে বসে পড়ছে সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন। বইয়ের পাতার ভাঁজে ভাঁজে সে এমনভাবে ডুবে আছে, যেন চারপাশের পৃথিবী কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেছে। চোখের পাতা পর্যন্ত নড়ছে না।
হঠাৎ বাইরে থেকে ভেসে এলো বাচ্চাদের কোলাহল। আধো-আধো উচ্চারণে মিমির অস্পষ্ট বুলি ।

ঊর্মি ধীরে ব্যালকনির রেলিংয়ে এগিয়ে গেল। সেখান থেকে মেইন গেইট স্পষ্ট দেখা যায়।অথচ সেখানে দারোয়ান চাচা নেই। মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা শক্ত হয়ে এল। বাড়িতে ছোট তিনটে বাচ্চা। যদি কেউ বাইরে বেরিয়ে পড়ে!
বইটাকে রেখে বেরিয়ে এল ঊর্মি। পা আপনাতেই চলে গেল বাগানের দিকে।
বাগানটা খুব সাধারণ । কিন্তু সেই সাধারণত্বেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত নীরব মাধূর্য। চারপাশে সবুজের ছায়া, ভেজা মাটির গন্ধ, পাতার ফাঁক গলে পড়া রোদের ভাঙা আলো । সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, এই জায়গাটা নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রাজকীয় ফুল নেই, নেই কোনো বাহারি সাজ; আছে পরিচিত ফলের গাছ, কিছু শাকসবজি আর ছায়া দেওয়া বট আর আমগাছ।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে মিমি, নিঝুম আর মর্জিনা।
পাশে বুড়ো বাচ্চা আয়াশ দেওয়ান। ফোন হাতে সে দুলছে।

হঠাৎ চোখ আটকে গেল মর্জিনার দিকে।

এ কী! ওর জামার এমন হাল কেন?

একটু দূরে দারোয়ান চাচা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। কী হয়েছে জানতে চাইতেই ভাঙা গলায় সে বলল—

—-“চা খেতে একটু বাইরে গিয়েছিলাম আফা। সেই ফাঁকেই বাচ্চাগুলো গেট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন মর্জিনা চলন্ত রিকশার পেছনে ধরে ঝুলে পড়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রিকশার চাকায় জামার একাংশ ঢুকে পড়ে। রিকশা চলে যায় সঙ্গে নিয়ে যায় জামার অর্ধেক।”

শুনে ঊর্মির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। একটুর জন্য কী ভয়ংকর বিপদ হতে যাচ্ছিল!বুকের ভেতরে শীতল স্রোত বয়ে গেল।

কিন্তু পরমুহূর্তেই দৃশ্যটা বদলে গেল। বিপদের ছায়ার ভেতর জন্ম নিল এক অবিশ্বাস্য কৌতুক। মর্জিনার দুই পাশে মিমি এবং নিঝুম।জামার অর্ধেক নেই। দুই পাশের দুই ফিতা ঝুলছে । ব্লাউজের মতো অদ্ভুত অবস্থা। আর সেই দুই ফিতা দুই দিক থেকে টানাটানি চলছে।
মিমি এক পাশ থেকে প্রাণপণে টানতে টানতে অদ্ভুত ভঙ্গিতেফ বলছে,

–“দুরচে বলো, হেইয়ো!”

নিঝুম তাল মিলিয়ে গলা ফাটিয়ে বলছে—

–“আরো জোরসে, হেইয়ো!”

এই নাটকীয় দৃশ্য ভিডিও করতে করতেই আয়াশ নাচছে, কোমর দোলাচ্ছে আর ঘোষণা দিচ্ছে—

–“বলো রে বলো, হেইয়ো!”

পেছন থেকে ভেসে এলো বাড়ির সবার একযোগে ফেটে পড়া হাসি। এমন হাসিতে পরিবেশটা যেনো জমজমাট হয়ে গেলো।পেটের খিল ধরা হাসিতে বিকেলের রোদ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
এক মুহূর্ত আগের বিপদ ধুয়ে গেল। রয়ে গেল কেবল জীবনের সেই অদ্ভুত সৌন্দর্য । যেখানে কান্নার একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাসি।

চলবে,,,,,

( আমার কিউট কিছু পাঠিকা আছে।যারা গল্প পড়ার শেষে।নিজেদের কিউট কিউট মন্তব্য রেখে যায়।তুলে ধরে ভালো মন্দ উভয় দিক । তাদের মন থেকে ভালোবাসা। আপনাদের এই একটা দুইটা কথায়,আমি লিখার জন্য আগ্রহ পাই। চেষ্টা করি প্রতিদিন গল্পটা দেওয়ার।
আবারো বলছি ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং সুধরে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এবং যারা নতুন তারা অবশ্যই পেজটিকে ফলো দিয়ে রাখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে 🌸)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here