কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৩) #তুসিকা

0
1

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৩)
#তুসিকা
রাতটা কাটলো নিজ ভঙ্গিতে, তবে টুপটাপ করে হালকা বৃষ্টি হয়েছে রাতভর। চৈত্রের শেষে যে গরম পড়ে তাতে এমন ঠান্ডা ভাব ছিল বলে সবার ঘুম যেন ভালোই হলো। তবে ঘুম হলো না সাম্যের। সে মাঝরাতে একটা খুব বাজে একটা স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে সে দেখে সত্যি সত্যিই সাজেদা বেগমের জেদের কারণে ফারিশ আর অর্থির হয়ে যায়। এটা দেখে সাম্য তো ধরফড়িয়ে ওঠে আর হাঁপাতে হাঁপাতে বলে;

-“ভীতুরানী আমার অভ্যাস খারাপ দিল,, এখন আমিও নাকি ওর মতো ভয় পাওয়া শুরু করছি। আল্লাহ…. যে স্বপ্ন দেখাইছো তা যেন জিন্দেগিতে ও সত্যি না হয়… আমিন।

এরপর তো সারারাত বিছানায় শুয়ে ও চিন্তায় এপাশ ওপাশ করতে করতেই নিশি কাটলো। আর যা ভোরের দিকে চোখ লেগে আসলো। সাতটা নাগাদ মুসাবের ডাকে তার ঘুম ভেঙে গেল। মুসাব, সাম্য, সাম্যের মা ফাতেমা বেগম, ইমরান আজকেই তারা বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেবে। রাস্তায় যেন জ্যাম না পড়ে তাই তারা একটু সকালেই রওনা দেবে।

কিন্ত সাম্যের যেন এখান থেকে নড়তেই ইচ্ছা করছে না, তার মনে হচ্ছে সে যদি এখন থেকে যায় তবে স্বপ্নে যা দেখেছিল সাজেদা বেগম ধরে বেঁধে ফারিশের সাথে অর্থির বিয়ে দিয়ে দিবে। আর হালকা করে সে হা’র্ট এর্টা’ক করবে। তাই মুসাবের ডাকে ঘুম ভাঙলে ও বিছানা ছেড়ে উঠল না,, সেভাবেই শুয়ে রইল। এটা দেখে মুসাব একটু বিরক্ত হয়ে সাম্যের পাশে বসলো, আর বলল;
—” আরে কেন দেরী করছিস সাম্য,, দেখ তোর ব্যাপার টা আমি বুঝতে পারছি,, কিন্ত এখন এভাবে তো তুই থাকতে পারবি না,,, তাই কাল রাতে যে প্ল্যান করেছি তা যাওয়ার আগে ঠিক ভাবে কর,, আর এত টেনশন করিস না, পরে অন্য কিছুর সম্ভাবনা থাকলে আমি ফারিশের সাথে কথা বলব আর নাহলে তুলে নিয়ে আসবো।

মুসাবের কথা শুনে সাম্য উঠে বসলো, আর মুখ বাঁকিয়ে বলল;
—” বললেই হলো তুলে নিয়ে আসবে,, এখনো তো আমি নিজের মনের কথা ঠিক করে বলিনি, আর অর্থি যদি রাজিই না থাকে, তবে এত সব কিছু করে লাভ আছে বল!

মুসাব এবার সাম্যের কাঁধ জড়িয়ে ধরলো, তাকে বোঝালে তার মতো চঞ্চল, ডানপিটে, আর শয়’তানি যার র’ক্তে মিশে আছে, এই সামান্য বিষয়ে এমন নার্ভাস হলে চলে না। আর সাম্য তো কোনো কিছু নিয়ে তেমন একটা সিরিয়াস হয় না, তাহলে আজ এই কারনে ইতস্তত করছে এটা তো সাম্যের পার্সোনালিটির সাথে একদমই যায় না। তাই মুসাব সব চিন্তা পাশে রেখে তৈরি হয়ে নিতে বলল। এবার দেরী করলে বাসায় পৌছাতে পৌছাতে আরো দেরী হয়ে যাবে।

তাই সাম্য দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বিছানা ছাড়ল, ফ্রেশ হয়ে এসে তৈরি ও হয়ে নিল। শারমিন বেগম বললেন তারা সবাই যেন তাদের ঘরে নাস্তা করে যায়, কিন্ত তারা সবাই সাম্যের ফুফু মানে নাশিদা বেগম দের ঘরে ই নাস্তা করলো। আর নাস্তা শেষ করেই তারা বেরিয়ে পড়ল।

সাম্য শারমিন বেগমদের ঘরে তার ব্যাগ ফেলে এসেছিল, তা আনতে গেলে সে সেখানে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসে আর আসার আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ সম্পূর্ণ করে আসে।

কাজটি সাম্য করে আসে ঠিকই তবে সারাটা পথ সে কেমন নির্লিপ্ত ছিল,, তা দেখে ফাতেমা বেগম তাকে বলেন;
—” কি রে বাবা, তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন! শরীর খারাপ করছে নাকি।

বাসের সিটে হেলান দিয়ে সাম্য শুধু মাথা নাড়ল আর বলল রাতে ঘুম হয়নি হয়ত তাই। এটা শুনে ফাতেমা বেগম সাম্যের মাথা নিজের কাঁধে নিয়ে তাকে বলল;

—” এই কারনেই বলি রাত না জাগতে, শরীর খারাপ করবে, কিন্ত তোরা তো আমার কথা কানে ই তুলিস না,,, এখন ভালো ভালোই বাসায় পৌছালে হয়।
এরপর ফাতেমা বেগম কিছু একটা চিন্তা করে বলল;

—” ও সাম্য তোকে তো বলাই হয়নি,, তিথি মেয়েটা কাল ফোন করেছিল, তোকে ফোনে পায়নি, তোর খোঁজ করছিল।

সাম্য এই কথা শুনে তড়িৎ মাথা তুলল,, বলল;
–” আম্মু তুমি কি বলেছো আমি এখন ফেনীতে থাকি যে,,

—” হ্যাঁ,, কেন কি হয়েছে,,,

সাম্য মাথা নাড়ল কিছু হয়নি বলে। আর ফাতেমা বেগমের কাঁধে আবার মাথা দিয়ে বিরবির করলো;
—” আল্লাহ কি মহা পরীক্ষা নিচ্ছো, একদিকে এত সমস্যা! এখন আবার এই ঝামেলা কে কেন জীবনে আনছো। একটু তো তোমার বান্দার উপর রহমত করো।

এই বিরক্তিতে আপাতত সাম্য ফোন কাল বিকেলে তোলা কিছু ছবি দেখতে থাকে, যেখান থেকে কিছু ছবি সে তার ফেসবুকে ও পোস্ট করে। নিজের মন মতো ক্যাপশন দেয় আর উদাসীন ভাবে পুরো রাস্তা শেষ করার অপেক্ষায় থাকে।

______________

এদিকে সকাল গড়িয়ে দুপুর! সবারই গোসল সেরে এখন একটু বিশ্রাম করছে, সবাই আসলে একসাথে খাবে বলে।

অর্থিরা চেয়েছিল আজ বিকেলেই বাসায় চলে যেতে। ওদিকে জাবের সাহেব একা একা আছেন। আজ তিন দিন উনি নিজে রান্নাবান্না করে খাচ্ছে। রেবেকা বেগম যতই বলুক নিজের মনমতো কোথায় গিয়ে দুদিন থেকে আসবে, কিন্ত সংসারের মায়ায় তা আর হয়ে উঠে না। তাই সকালে যখন জাবের সাহেব ফোন করেছিলেন রেবেকা বেগম বলেছে তারা বিকেলে বাসায় চলে আসবে। এই কথা শুনে জাবের হাসলেন। আর জানালেন তিনি যাবেন তার শশুর বাড়ি মানে অর্থির নানা র বাড়িতে। সাজেদা বেগম নাকি তাদের সাথে কিছু বলতে চায়। তাই অর্থিদের আরো দুটোদিন থাকার সময় বেড়েছে।

তাই রেবেকা বেগম রা সবাই একসাথে বসে কথা বলছেন,, জুন, ফারিন মোবাইল দেখছে, আর অর্থ গেইম খেলছে। ফারিশ মনে হয় বাইরে গেছে। বলতে গেলে সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত। আর এই সুযোগে দুই বালিকা তাদের রুমে এসে দরজায় খিল দিয়েছে। একজন তো খুবই উৎসুক আর একজন প্রচন্ড বিস্ময় নিয়ে একটি কাগজ পর্যবেক্ষণ করছে।

ফাহা প্রচুর আগ্রহ নিয়ে কাগজের লেখা গুলো বারবার বিরবির করে পড়ছে,, আর তার পাশে অর্থি বালিশ কোলে নিয়ে গালে একহাত দিয়ে ফাহার দিকে তাকিয়ে আছে। আগের দিনের মতো এবার ও জানালার পাশে জবা ফুলের পাশাপাশি একটা চিরকুট পেয়েছে ফাহা আর অর্থি। ফাহা ই প্রথম সেগুলো দেখে অর্থি কে জানায়। তবে ফারিনের মুখ পাতলা স্বভাবের জন্য লুকিয়ে এখন সুযোগ বুঝে বের করে।

চিরকুটি হয়ত বড় কাগজ ছিল, কিন্ত উপর থেকে অর্ধেক ছেড়া। তবু নিচের অংশে লেখা আছে;

~ আমি না হয় সস্তা এই সামান্য জবা ই তোমার কানে গুছে দেব আমার ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে,,, তারপর বড্ড নরম সুরে বলবো;
▪︎” তুমি শুধু আমার”
আর তুমি হেসে বলবে;
“তোমার না হলে আর কার!!

কিন্ত একটা কথা কি জানো প্রাপ্তি থেকে অপ্রাপ্তির ভার যখন বেশি তখন….. তখন

▪︎ প্রিয় মানুষটি নাকি স্মৃতিতে সুন্দর।
তাহলে একটা কথা জেনে রাখে–
পৃথিবীর যত সুখ যত ভালোবাসা,, সবই তোমায় দেব,, একটাই এই আশা,, তুমি ভুল যে ও না আমাকে… আমি ভালোবাসি তোমাকে….

নিচের অংশ টুকু শেষ ভাগে একটু নেই। কিন্ত এটা যে একটা প্রেম পত্র ফাহা অর্থির বুঝতে বাকি নেই। আর এটা যে অর্থির জন্যই কেউ রেখেছে এটা বুঝতেও ফাহার কোনো সন্দেহ হয়নি।

তবে ফাহা একটু কনফিউজড। এটা কে হতে পারে,, দুয়ে দুয়ে চার নানা ভাবে মেলাচ্ছে, আর সন্দেহ গিয়ে ঠেকছে প্রথমত সাম্য।……..

আর দ্বিতীয়ত সাম্য ই।

—” অর্থি আপু আমি বলছি এটা সাম্য ভাই ই হবে, মনে নেই পরশুদিন রাতে সাম্য ভাই গান গাইল। এবার ফাহা একটু দুষ্ট হেসে বলল;; গোলাপ ফুলের জায়গায় আমি দিলাম তোমায় জবা,, বলো তুমি এবার কি আমার প্রেমিকা হবা। আর কি বলেছো শুনোনি উনি এভাবে কাউকে প্রোপোজ করবে হ্যাঁ।

ফাহার কথায় অর্থি বলল;
—”এটা তো কারো মজা ও হতে পারে,, কেউ হয়ত শয়’তানি করে এমনটা করছে। আর সাম্য ভাই যে ঘাসফড়িং এর মতো তিড়িংবিড়িং করে উনি এটা করবে বলে তোমার মনে হয়! সারাদিন আমারে নোয়াখাইল্লা বলে ক্ষেপায় আর উনি নাকি এসব করবে।

—” ঘাসফড়িং,,, নট ব্যাড! কিন্ত আমার মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে এখন এটাকে মজা বলে উড়িয়ে দিবে… এটা কিন্তু হবে না। আমি ঠিকই বের করে নেব এটা কার কাজ হুমমম!

তারা দুজনেই আর কিছু বলতে যাবে তার আগে ফারিন জোরে দরজা ধাক্কায়, ফাহা অর্থি দুজনেই কিছুটা ভড়কে যায়, তাড়াতাড়ি করে কাগজটা ব্যাগে রেখে ফুল গুলো জানালার বাইরে ফেলে দেয়। দরজা খুলে দিলে ফারিন বলে তাদের খাবার খেতে ডাকছে,, তাড়াতাড়ি যেন খাবার টেবিলে আসে, আর অর্থি কে বলে ছোট ফুফা মানে অর্থির বাবা এসেছে।

জাবের সাহেব এসেছে শুনে অর্থি কিছুক্ষণ আগে কথা গুলো সম্পূর্ন ভুলে চলে যায় সামনে তার বাবার কাছে। বাবার আল্লাদী বলে কথা। গিয়েই কোনোকিছু না দেখে অর্থি বাবার পাশটায় গিয়ে বসে, মেয়েকে পেয়ে জাবের সাহেব ও তাকে বুকে জড়িয়ে নেন। সবার সাথে কুশল বিনিময় ও করেন। তবে জাবের সাহেব হয়ত বেড়াতে নয়,, তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কাজটির জন্যই এখানে এসেছেন।

____________________

সুখের দিন হয়ত তাড়াতাড়ি ই ফুরিয়ে যায়। যা মনে থাকে তা হলো সুন্দর কিছু মুহূর্ত আর সুন্দর কিছু স্মৃতি। অর্থির এবার কার নানুর বাড়ি সবথেকে ভালো কেটেছে। তারা তো দুদিন পরেই নিজেদের বাসায় ফিরে এসেছিল। তবে কিছু কিছু জিনিস সে ভুলতে পারেনি। তাই তো এখন সর্বদা নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখার প্রয়াস করে। রেবেকা বেগম অবসর সময়ে এখন অর্থি কে টুকটাক রান্না শেখায়, আর অর্থি নতুন কুশিকাটা র কাজ শিখেছে, সেগুলোই করে।

আর এর মাঝেই কেটে গেল দিন পাঁচেক।

তবে আমাদের জীবনে ভালো সময় ভালো মুহুর্ত যেমন আসে বলে কয়ে তেমনি টেনশন, আর বিপদ আসে হুট করে। অর্থির জীবনেও এই বাধা বিপত্তি আসে মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যেই বৃষ্টির মতো।
যেমন আজ সকালেই ফারিশ অর্থি কে ফোন করে জানায় সে নাকি আজ তাদের বাসায় আসবে, কারণ ফারিশ যে কারনে আসবে তা তো অর্থির আগে থেকেই জানা। কিন্ত নাস্তা খাওয়ার সময় যখন তার মা রেবেকা বেগম বলে আজ নাকি তার খালামনি সাজেদা বেগম রা ও আসবে তখনই অর্থির হাত পা ঠান্ডা হতে শুরু করে।

চায়ের চুমুক দিতে তার মা আবার বলে তার খালু হাশেম সাহেব ও নাকি আসবে আজকে। কথাটা শোনা মাত্র অর্থির নাকে মুখে খাবার উঠে যায়। কাঁশতে কাঁশতে মাথায় হালকা চাপড় দিয়ে নিজেকে শান্ত করায়। আর জিজ্ঞেস করে এখন খালামনিরা সবাই কেন আসবে। উওরে রেবেকা বেগম বলেন;

—” তোর খালামনির কিছু কাজ আছে,, তাই আসবে,,, আর ফারিশ ও তো দিন পনেরো পরে বিদেশ চলে যাবে তাই আসছে বড় একটা দাওয়াত দেবে মনে হয়।

মায়ের কথায় অর্থি কিছু বলে না,, তবে ফারিশ যে কান্ড ঘটাবে তাতে তার খালামনি আর খালু কিভাবে রিয়েক্ট করবে তা চিন্তা করে অর্থির এবার ভয় হতে লাগলো। তাই নাস্তা শেষে রুমে গিয়ে ফারিশের ফোনে কল দেয়, কিন্ত তার ফোন বন্ধ দেখায়। এতে ফারিশের উপর ভীষণ রাগ হয় অর্থির।

তাই তো চিন্তায় তার সব কাজই এলোমেলো হতে থাকে। আর খালামনিরা সবাই আসে বারো টা নাগাদ। সবার সাথেই তারা ভালো করে কথা বলে,, কিন্ত ফারিশ সামনে আসলে অর্থি ভীষণ রাগ দেখায় ফারিশের উপর।

—” আরে এমন রাগছিস কেন, বলতো,,, আম্মু আব্বু, ভাবী সবাই আছে কাজটা করলে আমার আরো সুবিধাই হবে,,,, এখন আমার উপর রাগ না করে একটু দোয়া কর বোন…. জ’ল্লাদ এর খাঁচা থেকে যেন পাখিটা আনতে পারি।

ফারিশের এমন কথা শুনে অর্থি বলল;
—” ভাই যা করবি বুঝে শুনে করিস, না হলে আমাদের খবর আছে। আর খালামনি কে আমি বোঝাতে পারতাম,, কিন্ত খালুকে কিভাবে বোঝাবো সেটা ভাব।

ফারিশ.তখন হেসে বলল;
—” চিন্তা করিস না,, ইনশাল্লাহ সব ঠিক হবে।

—” আচ্ছা…

ফারিশ এসেছে ঠিকই কিন্ত অর্থির বাসায় হয়ত মিনিট দশেক ছিল,, এরপর সবাই কে বলে বেরিয়ে পড়ে। সাজেদা বেগম তো প্রথমে মানা করে, আজ যেন সে বাইরে না যায়।

কিন্ত ফারিশ বলল;
–’ আম্মু দরকারি একটা কাজ আছে, শেষ হলেই চলে আসবো।

কিন্ত সাজেদা বেগম অনেক করে বলে যেখানে যাচ্ছে যাক দুপুরে খাবার আগে যেন চলে আসে। তার সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আলোচনা করবে।

ফারিশ মাথা নাড়ে চলে আসবে বলে, কিন্ত দুপুরে খাবার সময় পেরিয়ে বিকাল চার টা বাজতে চলল কিন্ত এদিকে ফারিশের কোনো দেখা নেই। আর তার ফোন ও বাসায় রেখে গেছে তাই যোগাযোগ ও করতে পারছে না ।

ফারিশের বাবা হাশেম সাহেব তো তার উপর রেগে গেছে ভীষণ,,, একটা দরকারি কাজে ই তো তারা এসেছিল, কিন্ত ফারিশ নিজেই নেই।

কিন্ত এদিকে ভয়ে তো অর্থির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। দুপুরে ঠিক করে খেতে ও পারেনি ফারিশের চিন্তায়। তাই বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা হয় তখন সবার জন্য চা করা হলে অর্থি মাত্রই এককাপ চা আর বিস্কিট নিয়ে বসে সোফার উপর।

কিন্ত খাওয়ার আগে দরজায় কলিং বেলের শব্দ হলে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। আর দরজার ওপাশে থাকা মানুষদের দেখে অর্থি তব্দা খেয়ে সেখানেই দাড়িয়ে আছে। আর তাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার মা রেবেকা বেগম বলেন;

—” কি অর্থি কে এসেছে, দরজার সামনে এভাবে দাড়িয়ে আছিস কেন।

অর্থি কোনো কথা না বলে শুধু বড় সড়ো একটা ঢোক গিলে। আর তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে আসে মুসাব, সাম্য, নাঈম। আর তাদের পেছনে আসে ফারিশ আর আরশিয়া।

সাম্য, মুসাব, নাঈম এদের দেখে সকলে খুশি হলেও ফারিশের সাথে এই অচেনা মেয়েটিকে দেখে সাজেদা বেগম বলেন;

—” কি ফারিশ এই মেয়েটা কে,, তুই ওর হাত ধরে আছিস কোন কারণে। এত ক্ষণ ই বা কোথায় ছিলি।

ফারিশ প্রথমে আরশিয়া দিকে তাকায়,, আর সকলের উদ্দেশ্য বলে;
—” আম্মু ওর নাম আরশিয়া,,,,
আমি… আমি ওকে বিয়ে করছি।

চলবে।

যারা হা’র্ট এর্টা’ক এ কমেন্ট করেছেন তারা এই কিডনি টাচিং পর্বে অবশ্য কমেন্ট করে যাবেন। না হলে কষ্ট পাবো কিন্তু।

আর যদি রেসপন্স এমন ই চলতে থাকে তবে গল্প দেরী করে দেব,, হয়ত তিন চার দিন না ও দিতে পারি,,, তাই একটু বড় করে কমেন্ট করবেন,,, আর গল্প পড়লে একটি করে লাইক দিয়ে যাবেন।

আর বলি…

আপনারা মনে করেছেন সাম্য যে এত কিছু করলো,, অর্থি মোটেও বুঝতে পারি নি তাদের বলি আমার অর্থি আমার মতো ইনট্রোভার্ট হলেও অনেক ভাবুক, সব জিনিস কে গভীর ভাবে চিন্তা করে,,, আর অর্থি অনেক আগেই হয়ত বুঝেছিল,,, কিন্ত তা আমি গল্পে একপাক্ষিক রেখেছি। তা জানাবেন কেমন হয়েছে। আর গল্প পড়ে ও যদি রেসপন্স না করেন,, তা সামনে লিভার এর্টা’ক দিয়ে ফেলে রাখবো,, কিন্ত গল্প দেব না। 🙃

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here