#প্রেম_বর্ণহীন
#তোনিমা_খান
#পর্বঃ১২
রাস্তার ধুলো, গাড়ির শব্দ, মানুষের কোলাহল—আজ সবকিছু কেমন অচেনা, দূরের একটা জগৎ মনে হলো। এই সৌন্দর্যের পূজারী ধরণীতে কৃষ্ণ বর্ণের মেয়েটি যেন আঁছড়ে পড়া কোন অভিশাপ। যেই অভিশাপকে উচ্ছেদ করার জন্য ধরণীর প্রতিটা মানুষ সর্বস্ব শক্তি দিয়ে আঘাত করে। সৌন্দর্যহীন বরন যদি এতটাই অভিশপ্ত হয় তবে সৃষ্টিকর্তা কেন পাঠালেন এই বিদঘুটে চেহারার অধিকারী মেয়েটিকে?
কাঠের বেঞ্চিতে বসে থাকা ছিমছাম ভঙ্গুর শরীরটা এখন আর কাঁপছে না; শুধু মনটা ভেঙে গেছে। চোখ থেকে জল পড়ছে, কিন্তু জলও যেন তার বেদনার বোঝা হালকা করতে পারল না। সৌন্দর্যের পূজারী ধরণী থেকে নিজের এই কৃষ্ণবর্ণের বিদঘুটে মুখশ্রী লুকাতে পারলেই যে মন শান্তি পেত, আজ সেই মন নিজের অস্তিত্বকেই ঘৃণা করছে। নিজেকে অপরাধী, দোষী, অভিশপ্ত ভাবার এক চরম অনুভূতি তাকে গ্রাস করছে ক্রমশ। মন মস্তিষ্কে শুধু একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে —এমন বিদঘুটে সৌন্দর্যের মেয়েটির বেঁচে থাকা অপরাধ।
গভীর ভাবনায় বিভোর ইন্দুবালা একটা সময় স্থবিরতা ভাঙল। ঠিক শেষবারের মতো দুঃখ উজাড় করে দিতে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠল। পাশে বসা ছেলেটি তখনো মেজাজ সামলাতে ব্যস্ত। কিন্তু কান্নার ঐ নারীসুলভ মিঠি আর্তনাদ অচিরেই সব মেজাজ শুষে নেয়। তার এই নারীটির কণ্ঠ শুনতে ভালো লাগে। মনে হয় শহুরে এই ঝঞ্ঝাটময় কোলাহলে প্রশান্তি দেয়ার একটা কোকিল এখনো বিদ্যমান। মোত্তাকিন ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল। চোখ ঘুরিয়ে রাস্তার পাশের দোকানদারকে ইশারায় একটা ঠান্ডা পানি দিতে বলল।
ব্যস্ত সড়কে স্থির দৃষ্টি রেখে মোত্তাকিন পানির বোতলটা এগিয়ে দেয় মেয়েটির কাছে। ইন্দুবালা ফুপাতে ফুপাতে ছেলেটির পানে তাকায়। সৌন্দর্যের লড়াইয়ে হেরে যাওয়া এক নিঃশেষিত অবয়বের ন্যায় মিহি স্বরে বলল,
–“আমার মরে যাওয়া উচিত, তাই না?”
মোত্তাকিন সড়ক থেকে দৃষ্টি সরায়। চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে তাকায় মেয়েটির পানে। হিসহিসিয়ে বলে,
–“আমার হাতের যেই থাপ্পড় দু’টো পেন্ডিং আছে সেটা খাওয়ার জন্য কি গাল দুটো উত্তেজিত হয়ে আছে? মেজাজ খারাপ হয় এমন কথা বলবি না, ইন্দু। নয়ত থাপড়াতে থাপড়াতে এখানেই মেরে ফেলব।”
ইন্দুবালা নিস্তেজ বদনে ফের মাথা নুইয়ে নিলো। চুপটি করে বসে থাকে বলহীন বদনে। এই বদনে আর শক্তি নেই অনুভূতির সাথে লড়ার, পৃথিবীর সাথে লড়ার।
মোত্তাকিন ফের মেজাজ সামলাতে মগ্ন হয়। ঘাড়ে হাত ঘঁষতে ঘঁষতে বিড়বিড় করে,
–“বিয়ে বিয়ে বিয়ে!”
অনুপল ব্যবধানেই সে দড় আওয়াজে বলে ওঠে,
–“চল, বিয়ে করে নেই। সকল সমস্যার মূল তো এই বিয়ে, বিয়ে করলেই মামলা খতম। তখন আর কালো সাদা কেউ দেখতে আসবে না। চল, চল বিয়ে করে নেই।”
মোত্তাকিন মেয়েটিকে এমনভাবে তাড়া দিল যেন—বাল্যকালের বন্ধুকে ঝালমুড়ি খেতে যাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছে। ইন্দুবালার কান্না থেমে যায় আকস্মিক এহেন অসংলগ্ন কথায়। মোত্তাকিন খেকিয়ে উঠল তার স্থবিরতা দেখে।
–“কি হলো উঠছিস না কেন? এখানে দিন পার করে দেয়ার ইচ্ছা আছে?”
–“তুই এসব কি বলছিস? কোথায় যাব?”
–“বিয়ে করতে, ওঠ।”, মোত্তাকিনের ফের সোজাসাপ্টা কথায় ইন্দুবালার মন মস্তিষ্ক আরেকবার ভেঙে আসল। সে টলটলে নেত্রে চেয়ে বলে,
–“মজা করছিস তুই? তোর সবসময় সবকিছু মজা লাগে তাই না? কারোর মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করিস না তুই।”
মোত্তাকিন সরু চোখে তাকায়। মেজাজ ধপ করে চড়ে যাওয়ায় চাপা স্বরে তেতে উঠে বলল,
–“তোর কোনদিন থেকে মনে হলো আমি মজা করছি, বেকুব মেয়ে? তুই বোকার বোকাই থেকে যাবি সারাজীবন। আমি সিরিয়াসলি এবং সজ্ঞানে বলছি, বিয়ে করব এখুনি। তাড়াতাড়ি উঠবি, ঢং করবি না।”
ইন্দুবালার মুখশ্রী থমথমে হয়ে গেল। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে গমগমে স্বরে বলল,
–“দয়া দেখাচ্ছিস আমার উপর? দেখ আমি মরে যাব, তবুও কারোর দেয়া দয়ার জীবন যাপন করব না। আর বিয়ে? সেটা তোকে তো নাই।”
–“ইন্দুবালা কথা বাড়াস না। এই সব সমস্যা তো বিয়ে নিয়েই। আমি কোন দয়া দেখিয়ে বিয়ে করতে চাইছি না। আমার বিয়ের বয়স হয়েছে, এখন একটা বউ লাগে। সেটা মেয়ে হলেই হলো। তুই তো সাক্ষাৎ কোকিল! গালি দিলেও প্রশংসার মতো শোনায়।”, মোত্তাকিন ঘাড়ে হাত বুলাতে বুলাতে বলল। দৃষ্টি বড্ডো অস্থির। জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলছে তাও এত উদাসীনতার সাথে। জীবন নিয়ে উদাসীনতা ইন্দুবালার ভীষণ অপছন্দ। আর সেই উদাসীনতার অংশ যদি হয় নিজে তবে কথাই নেই। সে গমগমে স্বরে শুধায়,
–“বউ লাগে, তো বউকে খাওয়াবি কি?”
মোত্তাকিন নিরুদ্বেগ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
–“যা আমি খাই!”
–“তুই তো একটা সিগারেট ও খাস মায়ের হাত পা ধরে, তার থেকে টাকা নিয়ে। এখন কি মায়ের টাকায় বউ ও পালবি? না-কি আমায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত আমার চাকরির জন্য? এতদিন মায়ের টাকায় ফুর্তি করে বেরিয়েছিস, এখন বউয়ের টাকায় ফুর্তি করে বেড়াবি তাই তো?”
মায়ের থেকে খাওয়ার খোঁটা বহুবার শুনলেও কোনদিন মোত্তাকিনের এতো খারাপ লাগেনি। কিন্তু আজ যেন মেয়েটির মুখের এহেন কথা তার পুরুষত্ব বরাবর গিয়ে লাগলো। আত্মসম্মানে লোভীর ট্যাগ লেগে যাওয়ায় আঁখিদ্বয়ে ক্রোধের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটির দিকে ক্রুব্ধ দৃষ্টি ফেলে হিসহিসিয়ে বলে,
–“আমায় কাপুরুষ মনে হয়—যে তোকে বিয়ে করব তোর ঐ সো কল্ড সরকারি চাকরির পয়সায় চলার জন্য? ছিঃ, তোর চিন্তাভাবনা তো আমার চেয়েও খারাপ। তোর ভাবনায় আমি এতো নিচু আমি তা এতদিন বুঝতে পারিনি, ইন্দু।
পরপরই বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে নিজের ক্রোধকে সামলায়। অতঃপর কঠিন গলায় বলল,
–“তোকে আমি কোন দয়া কিংবা লোভের জায়গা থেকে বিয়ে করতে চাইনি। একটা বউয়ের এখন ভীষণ প্রয়োজন, আমার মনে হয়েছে এর জন্য তোর থেকে বেটার কেউ হতে পারে না। তাই বিয়ে করলে তোকেই করব আর সেটা নিজের দমেই করব।”
মোত্তাকিন ঘড়ি দেখে, সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে। আজান পড়ছে। সে চায়ের দোকান থেকে একটা লোকাল জুস কিনে মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দেয়। কোনরূপ বার্তা ব্যতীত পুনরায় কোলে তুলে নিয়ে রিকশার দিকে পা বাড়ায়। ইন্দুবালা অবুঝ নেত্রে ছেলেটির কার্যক্রম দেখছে। তাকে রিকশায় বসিয়ে দিয়ে মোত্তাকিন শানিত কণ্ঠে বলল,
–” তোর আমার নিজের ইনকাম চাই। চাকরি করলেই তুই আমায় বিয়ে করতে রাজি হবি, তাই তো? ঠিক আছে চাকরি নিয়েই তারপর তোকে বিয়ে করব। তখন কিন্তু তোর একচুল ঢং ও আমি বরদাস্ত করব না।”
আঙুল তুলে তুলে হুমকি দিতে থাকা গুন্ডা ছেলেটাকে ইন্দুবালা কপাল কুঁচকে দেখে। দাঁত খিচে বলে,
–“কখন বলেছি এই কথা?”
–“তুই বিয়ে না করার কারণ হিসেবে এটাই বলেছিস, আর কিছু বলিসনি। আমি মেনে নিয়েছি তোর কথা। এরপর আর একটা কথাও শুনব না, ইন্দু। আমি রাতের মধ্যে কাজী নিয়ে আসব, তখন যদি তিড়িং বিড়িং করিস তবে সোজা তুলে নিয়ে বিয়ে করব।”
মানসিকভাবে ভঙ্গুর ইন্দুবালা এবার রাগ দমাতে পারে না। তেড়ে গিয়ে ছেলেটার কলার চেপে ধরে বলল,
–“গুন্ডার বাচ্চা, অন্য জায়গায় গিয়ে গুন্ডামি কর, আমার সাথে করতে আসবি না। চাকরি কি মগের মুল্লুক যে রাতের মধ্যে তোকে মানুষ চাকরি দিয়ে দেবে? কোন উল্টাপাল্টা চাকরি কিংবা হারাম ইনকামের ভরসায় আমি তোকে বিয়ে করব না।”
–“একদম হালাল পয়সায় বউ ঘরে উঠাব, সুইটহার্ট! তুই নিশ্চিন্তে থাক। রাতের মধ্যে তোকে ঘরে তোলার দায়িত্ব আমার।”, দৃঢ় কণ্ঠে বলেই মোত্তাকিন নিজের কলার ছাড়িয়ে নেয় মেয়েটির থেকে। রিকশাওয়ালাকে ঠিকানা বলে দিয়ে তার হাতে ভাড়া ধরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
–“ঠিকঠাক বাড়িতে পৌঁছে দিয়েন, চাচা। বউ আমার! একমাত্র মূল্যবান খনিজ সম্পদ! কিছু হলে বিশাল লোকসান হবে। যান যান তাড়াতাড়ি! আর এই বেয়াদব মেয়ে! গিয়ে নিজের বেশভূষা একটু ঠিক করিস। এমন মরার মতো মুখ বানিয়ে থাকবি না।”
ইন্দুবালা নিরুত্তর শুধু তাকিয়ে থাকে ছেলেটির পানে। রিকশা চলে যায় নিজ গন্তব্যে, মোত্তাকিন সেদিকে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ছুটলো নিজের কথা রাখতে।
*****
নিন্দুক পড়শীকে নিয়ে অন্তঃস্থলে গড়া ছিল এক অতিরিক্ত দখলদারিত্বের মনোভাব। মেয়েটিকে সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতাকে নিছকই বিরক্তি বলে অ্যাখ্যায়িত করা রাগচটা ছেলেটি অনুভূতির ভাবভঙ্গি তখন বুঝলো, যখন দমবন্ধকর অনুভূতিতে ছটফট করছিল। দমবন্ধকর অনুভূতির কারণ খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে পেল সে ঐ নিন্দুক পড়শীর পাশে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারে না। তবে রাগচটা ছেলেটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো বিলম্ব করে না। তাই তো অনুভূতির কারণ বোঝা মাত্র কারণ উচ্ছেদ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
সমির নামক আগুন্তক এর নাড়ি নক্ষত্র সব একদিনের মধ্যে খুঁজে বের করে। সমির ছেলেটির জীবনবৃত্তান্ত দেখে মোত্তাকিন তব্দা খেলেও ইন্দুবালাকে বাস্তবতার সাথে পরিচয় করাতে চেয়েছিল। এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে সমিরের পদক্ষেপ দেখার জন্য। তবে বুঝতে পারেনি এই অপেক্ষায় মেয়েটির ভঙ্গুর মন এতে একেবারেই মরে যাবে।
রিকশাটা গেটের সামনে থামতেই দরজা সম্মুখে হাত পা ছেড়ে বসে থাকা সিদ্দিকী সাহেবের দেহ আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে উঠল। হারিয়ে যাওয়া জীবন ফিরে পাওয়ার মতো উন্মাদের মতো ছুটতে লাগলো মেয়ের কাছে।
–“আম্মা? ইন্দু, এসেছিস?”
বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠে ইন্দুবালা রিকশার হুডের সাথে ঠেকানো মাথা সোজা করে। ছুটে আসা বাবাকে দেখতেই হু হু করে কেঁদে উঠল। একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ল বাবার বুকে। সিদ্দিকী সাহেব শব্দ করে কেঁদে উঠলেন।
–“আম্মা, বাবা দুঃখিত। বাবা অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। এই দুনিয়া তোর জন্য নয়। তুই শুধু আমার ছায়াতলেই বাঁচবি, কোন বিয়ের প্রয়োজন নেই।আমি আর তোকে নিজের থেকে দূরে করব না আম্মা। কোন বিয়ের প্রয়োজন নেই।”
সেই বিকাল থেকে বারান্দায় বসে থাকা মধুমিতা এবার আর কান্না আটকাতে পারে না, বাবা মেয়ের কান্না দেখে সেও কেঁদে উঠল। এই মুখটি দেখার জন্য সে আজ কি পরিমাণে তরপেছে তা শুধু সে জানে। ইচ্ছে তো করছে মেয়েটাকে নিজের বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখতে। কিন্তু উপায় কি? নিজের ছেলেই নিজের সঙ্গ দেয় না! বাবা মেয়ের হাউমাউ করে কান্নার শব্দে তহমিনা, ইনসিয়া ছুটে বের হয়। তহমিনা অক্ষত ইন্দুবালার চারপাশে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো। খুঁটে খুঁটে দেখতে দেখতেই সে চিন্তিত কণ্ঠে শুধায়,
–“একি তুই এত ঠিকঠাক আছিস কি করে? অপহরণকারীরা তোর সাথে কিছু করেনি? ইজ্জত সব লুটিয়ে এসেছিস তাই না? একে তুমি আবার ঘরে তুলবে ইনসিয়ার বাবা? সমাজে মুখ দেখাবে কি করে? আর কোনদিন কেউ বিয়ে করবে না এই মেয়েকে।”
তহমিনার কথায় ইন্দুবালা থমকে গেল। থমকালো সিদ্দিকী সাহেব ও কিন্তু নিজের অনুভূতি প্রগাঢ় হওয়ার সুযোগ দেয় না সে। মেয়েকে ছেড়ে তৎক্ষণাৎ সপাটে এক চড় বসালো তহমিনার গাল বরাবর। প্রকান্ড আঘাতে তহমিনা মুখ থুবড়ে পড়ল মাটিতে। ইনসিয়া চিৎকার করে উঠল। সিদ্দিকী সাহেব গর্জে উঠলেন।
–“আর যদি ঐ মুখ থেকে একটা থেকে বের হয়েছে আমার মেয়ে নিয়ে তোমায় এই মুহূর্তে আমি তালাক দেব। আমার মেয়ে যেমন থাকুক না কেন সবসময় আমার বুকে থাকবে। কিন্তু তোমার মতো নিকৃষ্ট মানুষ আমি রাখবো না তহমিনা। আর একটুও যদি উঁচু নিচু করেছ আমার মেয়ের সাথে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব তোমায়।”
তহমিনার মাথা ঘুরছে, সে চোখে অন্ধকার দেখছে আঘাত সহ্য করতে না পেরে। ইনসিয়া দ্রুত মাকে আগলে নেয়। সিদ্দিকী সাহেব মেয়েকে আগলে নিয়ে বললেন,
–“তোর কোন চিন্তা নেই আম্মা। আব্বু যতদিন আছি ততদিন কেউ তোর কিছু করতে পারবে না। আব্বু আর কোনদিন তোকে কারোর হাতে ছাড়বো না, সবসময় আগলে রাখবো। ইন্দুবালা নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে বাবার বুকে। দেহ মন এখন একটু শান্তি চায়।
_______
–“বশির ভাই, একটা চাকরির প্রয়োজন আর্জেন্ট।”
বশির সরু চোখে তাকায় সম্মুখে বসা উদ্বিগ্ন ছেলেটির দিকে।
–“তবে তুই কি করিস? আমার হয়ে তো তুই চাকরিই করিস।”
–“এটা চাকরি না ভাই, ভাড়াটে গুন্ডা রাখা। এমন কিছু না! একটা মানসম্মত চাকরি যেখানে খেটে টাকা ইনকাম করতে হবে। আমি জানি আপনার অনেক লিংক আছে, আপনি পারবেন।”, মোত্তাকিনের দৃঢ় কণ্ঠে বশির প্রসন্ন হয়। বুক ফুলিয়ে হাসিমুখে বলল,
–“তা তো ঠিক বলেছিস। এই বশির কত বেকারের রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তোকেও দেব চিন্তা করিস না। কিন্তু আমায় এটা বল হঠাৎ এই ভর সন্ধ্যায় তোর জরুরী ভিত্তিতে চাকরির কেন প্রয়োজন পড়ল?”
–“বিয়ে করব ভাই, মামনির বয়স হয়েছে একা একা আর পেরে ওঠে না।”
–“তুই তো কম ইনকাম করিস না তবে?”
–“এই পয়সায় মা, বউ খাওয়ালে জীবনে সুখ থাকবে না, ভাই।”
–“কেমন পয়সা?”
–“আপনার থেকে ভালো কেউ জানে না। মারামারি, গুন্ডামি করে টাকা ইনকাম করা তো সঠিক পথ না।”
–“তবে করছিস কেন?”, বশিরের সূচালো কণ্ঠ। মোত্তাকিন হেলান ছেড়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসল। চোখে চোখ রেখে বলল,
–“প্রথম বয়সে আপনার সাথে জড়িয়েছি ভাই, আমার জীবনে আপনার আলাদাই জায়গা। আমি নিজের সাথে গাদ্দারি করতে পারব কিন্তু আপনার সাথে না। আপনার সিটি মেয়র হওয়ার পথে কোন বাঁধা আসতে দেব না ওয়াদা যখন করেছি তা পূরণ করেই দম নেব। ততদিন হয়ত একটু কষ্ট হবে হয়ত—তবে মৃত্যু না আসা অবদি আপনার পিছু ছাড়ছি না।”
চোখে চোখ রেখে এতটা দৃঢ়ভাবে মিথ্যা বলা যায় না। তবুও বশিরের মাঝেমধ্যেই শঙ্কা অনুভব হয়। এর কারণ অবশ্য তপন। ছেলেটা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ মোত্তাকিনের নামে এটাসেটা বলে তার কান পাকিয়ে দেবে। সে সেই শঙ্কা থেকেই শুধায়,
–“কার মৃত্যু অবদি? তুই তো আমার মেয়র হওয়া অবদি এই পথে থাকবি! তবে মৃত্যুর কথা আসল কেন?”
মোত্তাকিন গা দুলিয়ে হেসে উঠল। থুতনি থেকে হাত সরিয়ে ডানে বামে মাথা নেড়ে বলল,
–“তপন ভালো মাথা খেয়েছে আপনার, ভাই। অথচ আমি প্রথম থেকেই কাজের মাধ্যমে নিজের সততা প্রকাশ করে আসছি। কাজে সন্দেহ থাকলে আগানো যায় না ভাই। আমার উপর আপনার সন্দেহ থাকলে আমি ইস্তফা নিয়ে নেব, সোজা কথা ভাই।”
বশির নিজের অভিব্যক্তি বদলে নিলো। সে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলল, টেবিল চাপড়ে বিগলিত কণ্ঠে বলল,
–“ধুর ব্যাটা! আমি শুধু তোকে যাচাই করছিলাম তুই তো সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছিস। চল তোর চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তুই আশা করে এই বশিরের কাছে ছুটে এসেছিস আমি খালি হাতে ফেরাতে পারিনা।”
গাড়ি থেকে নামতেই মোত্তাকিনের কপাল কুঁচকে একাকার হয়ে গেল কোম্পানির নামের নিচে ছোট ছোট অক্ষরে মিরসাদ ইরতেজার নাম দেখে। মোত্তাকিন বশিরের দিকে তাকায়।
–“এটা কি ভাই? এখানে কেন এসেছেন?”
বশির কিঞ্চিৎ হাসলো। হাসিতে লুকিয়ে থাকা চতুরতায় মোত্তাকিনের ভ্রু কুঁচকে যায়। বশির বলে,
–“মুহিত ইরতেজা আর তার ম্যানেজার তোর অনেক প্রশংসা করেছিল। তোর জন্য ই তো এই টেন্ডারটা আমরা পাইছি। এটা মুহিত ইরতেজার ছেলের কোম্পানি তোকে দেখলেই চাকরি দিয়ে দেবে আর এতে আমাদের লাভ হবে। আমি বাবাকে নিঃস্ব করব আর তুই ছেলেকে। অভ্যন্তরীণ খবরাখবর জানা আমাদের জন্য আরো সহজ হয়ে যাবে মোত্তাকিন। আশাকরি তুই ভাইকে নিরাশা করবি না।”
বলেই বশির তার কাঁধ আঁকড়ে ধরে হাঁটা ধরলো ভেতরের দিকে।
শীততপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে খানিক গাম্ভীর্যতা। মিরসাদ চশমার ফাঁক গলিয়ে চোখ রাখে পুরো ঘরময় অস্থির দৃষ্টি ফেলা ভারী ইনফর্মাল ওয়েতে পোশাক আশাকে আবৃত ছেলেটিকে। বারবার ঘাড় চুলকাচ্ছে আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। সে দড় আওয়াজে বলল,
–“সোজা হও।”
মোত্তাকিনের ঘাড় চুলকতে থাকা হাতটি থামে। প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায় মিরসাদের দিকে। মিরসাদ ফের বলল,
–“সোজা হয়ে ঠিকঠাক ভাবে স্থির হয়ে বসো।”
মোত্তাকিনকে তখনো কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বশির এবার নিজ দায়িত্বে ওর হাত ঘাড় থেকে নামিয়ে সোজা করে বসিয়ে দিল। তবুও মোত্তাকিন হেলান ছাড়লো না। বশির বিগলিত হেসে বলল,
–“একটু ত্যাড়া স্যার কিন্তু ছেলেটা এক এর। প্রচুর মেধাবী আর চতুর। আপনার কোম্পানীর প্রগতিতে অনেক কৃতিত্ব রাখবে এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি।
মিরসাদ দেখে ত্যাড়া ছেলেটিকে। অতঃপর গম্ভীর গলায় বলে,
–“বশির ভাই, আপনার সাথে পরিচয় ক্ষণকালের। পাপার থেকে আপনাকে চিনি। এক বলাতেই চাকরি দিয়ে দেব এমন কাজ আমার কাছে নেই। এখানে কাজ করতে হলে যোগ্যতা আর দক্ষতা লাগবে। তা ছাড়া আমি কাউকে হুটহাট কাজ দিতে পারব না।”
–“স্যার, বড় বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে পড়ে বের হইছে ও। অনেক যোগ্যতা আছে। আপনি পরীক্ষা করেই দেখেন একটু। চাকরিটার খুব প্রয়োজন স্যার। না দেখেই না করে দেবেন না।”
–“আচ্ছা, আপনি একটু বাইরে যান। আমি তবে ওর একটা ইন্টারভিউ নেই।”
বশির এক পায়ে রাজি হয়ে গেল। বশির যেতেই মিরসাদ নিজের গাম্ভীর্যতার খোলস থেকে বের হয়ে আসল। চশমা খুলে শান্ত দৃষ্টিতে তাকায়। শুধায়,
–“হঠাৎ চাকরির ভুত মাথায় ঢুকলো কেন?”
–“প্রয়োজন তাই।”, মোত্তাকিনের সোজাসাপ্টা কথায় মিরসাদ ফের শুধায়,
–“সেটাই কেন?”
–“বিয়ে করব।”
মিরসাদ স্মিত হাসলো গোমড়া মুখে বলা চমৎকার কথাটিতে। ফাইল বের করতে করতে বলল,
–“পাত্রী কে?”
–“আছে, প্রতিবেশী।”
–“প্রেমের সম্পর্ক ছিল?”
মোত্তাকিন বার চোখ তুলে তাকায়, বলে,
–“নাহ।”
–“প্রেমের সম্পর্ক নেই? তবে পাত্রী রাজী হলো কি দেখে? হুমকি ধমকি দিয়েছ নাকি?”
ইন্টারভিউ এর নামে যে এই লোক ওর মজা উড়াচ্ছে তা বেশ বুঝলো মোত্তাকিন। তাই শিরদাঁড়া সোজা করে গমগমে স্বরে বলল,
–“আপনার কাজ রিলেটেড কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে করুন নয়তো সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন। আমি চলে যাচ্ছি, হাতে সময় নেই।”
–“এতো তাড়া কেন? তুলে নিয়ে বিয়ে করছ?”
বলেই মিরসাদ একটা ফাইল এগিয়ে দিলো। আর পিন্টার থেকে সদ্য বের হওয়া একটা লেটার। মোত্তাকিন নিরুত্তর ফাইল আর লেটারটি নেড়েচেড়ে দেখে। চাকরিতে জয়েনিং লেটার আর ওয়েলকামিং কিট সেখানে।
মিরসাদ বলল,
–“এখানে যা যা রিকোয়্যারমেন্ট আর কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে তা নিয়ে কাল অফিসে আসবে”
মোত্তাকিন কোনরূপ অভিব্যক্তি ব্যক্ত না করে গম্ভীর গলায় বলল,
–“ধন্যবাদ, কিন্তু আমার কিছু এডভান্স লাগবে।”
মিরসাদ হাসলো তার সোজাসাপ্টা আবদারে। যেন বাবার বাড়ির আবদার। ওষ্ঠকোনে আলতো হাসি নিয়েই সে বাবার বাড়ির আবদার পূরণ করে। ড্রয়ার থেকে দু’টো এক হাজার নোটের বান্ডিল এগিয়ে দিয়ে শুধায়,
–“আর লাগবে?”
মোত্তাকিন নেড়েচেড়ে দেখে বলে,
–“নাহ, আমি এইগুলো কাজ করে মিটিয়ে দেব।”
–“আচ্ছা।”
–“আসছি।”
–“দাঁড়াও।”, মিরসাদের ডাকে মোত্তাকিন ফিরে তাকায়। মিরসাদ ড্রয়ার থেকে আরেকটা বান্ডিল বের করে এগিয়ে আসে, তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বলল,
–“বিয়ের জন্য শুভকামনা। এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার বউকে কিছু কিনে দিও।”
মোত্তাকিন দ্বিরুক্তি করে না। নিরুত্তর টাকাগুলো নিয়ে বেরিয়ে আসে, উদ্দেশ্য শপিং করা। বশিরের থেকে বিদায় নিয়ে মোত্তাকিন তূর্যকে নিয়ে ছুটলো শপিং মলে।
ছড়িয়ে রাখা অজশ্র লাল বেনারসীর মাঝে মোত্তাকিন খুঁজছে একটা বেবি পিংক কালারের বিয়ের শাড়ি। দোকানদারের কাছে সেই রঙের বিয়ের শাড়ি নেই।তাই সে বেশ অসন্তোষের সাথে বলল,
–“বিয়েতে কে গোলাপী শাড়ি পড়ে ভাই?”
–“পড়ে, আমার বউ পড়ে। আমার বউকে কিসে বেশি ভালো লাগবে তা আমি বুঝব, আপনি না। আপনার কছে আছে কি-না সেটা বলুন।”, মোত্তাকিনের রুক্ষ কণ্ঠে দোকানদার না বোধক মাথা নাড়লো। ফলস্বরূপ মোত্তাকিন ক্ষেপে গেল।
–“না থাকলে এতক্ষণ সময় নষ্ট করলেন কেন?”
সে ক্ষেপেটেপে সেখান থেকে বের হয়ে অন্য দোকানে গেল। সেখানে যেতেই সে পছন্দসই হালকা মিষ্টি রঙের একটি কারুকার্য খচিত শাড়ি পেল। সেটি দেখতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে জানে মেয়েটির এই অভিশপ্ত জীবনে বিয়ে এক ভীষণ বিশেষ দিন। সারাজীবন যেই বিয়ে নিয়ে খোঁটা শুনতে হয়েছে সেই দিনটাকে সে কল্পনাতীত সুন্দর করে পেশ করবে মেয়েটির জীবনে। এইদিনে অন্তত মেয়েটির গায়ের রঙকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেবে না বরং বধূসাজে সে জ্বলজ্বল করবে এক অনন্য সৌন্দর্যে। সে শাড়িটা নিয়ে নিলো, অতঃপর সোনার দোকানে গেল। বধূসাজে কোনদিক থেকে কোন কমতি না রাখতে হাতে কানে গলায় সবকিছুর জন্য মানানসই সামার্থ্য অনুযায়ী গহনা কিনল এমনকি এক জোড়া নুপুর আর মাঙটিকাও কিনেছে।
তূর্য সব দেখে বলল,
–“ভাই, মেয়েদের তো মেকআপের প্রয়োজন হয় তা নিলেন না?”
তূর্যর কথায় মোত্তাকিন স্মিত হাসলো। সে জানে কোন বাহ্যিক মেকআপের প্রয়োজন নেই ইন্দুবালার। সে দৃঢ় গলায় বলল,
–“এই কৃত্রিম দুনিয়ায় ও এক অকৃত্রিম মানুষ। এসব কৃত্রিম সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই ওর। একটা ফুল-ই যথেষ্ট ওকে সুন্দর লাগার জন্য।”
সে গিয়ে এক বুকে সাদা ফুল কিনল। সব কেনা শেষে বাড়ির পথ ধরলে তূর্য বলল,
–“ভাই, আজ তো আপনার ও বিয়ে। আপনি একটা পাঞ্জাবী কিনবেন না? গোলাপী পাঞ্জাবী?”
এহেন কথায় মোত্তাকিন রেগে গেল। সে খেকিয়ে বলল,
–“গোলাপী পাঞ্জাবী? আমায় মহিলা পেয়েছিস? গোলাপী তো মেয়েদের কালার।”
–“তবে ছেলেদের কালারের কিছু নেন ভাই। নয়তো বিয়ে বিয়ে লাগছে না।”
সব ভেবেচিন্তে মোত্তাকিন একটা অফ হোয়াইট কালারের পাঞ্জাবী কিনল, তূর্যর দু’হাত ভরতি মিষ্টি কিনলো আর পথিমধ্যে কাজীকে তুলে নিয়ে ছুটলো নিজ গন্তব্যে।
তখন রাত নয়টা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে কাজী তখন ঘরে ঢুকে কেবল বিছানায় পিঠ এলিয়েছিল কিন্তু তৎক্ষণাৎ তাকে দুইজন বগলদাবা করে নিয়ে গাড়িতে তোলে।
কাজী আ’ত’ঙ্কে চেঁচিয়ে উঠে বলে,
–“আমার কোন মেয়ে নেই তো আমায় কেন তুলে নিয়ে যাচ্ছ তোমরা?”
তূর্য দাঁত কেলিয়ে বলল,
–“তোমার মেয়ে দিয়ে আমাদের কোন কাজ নেই তো, আমার কাজ তোমায় নিয়ে কাকু!”
কাজীর মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল এহেন কথায়। সে বিবর্ণ মুখে বলল,
–“তবে কি তোমরা সমকামীর দল? আমায় ছেড়ে দাও বাবারা আমি বুড়ো মানুষ।”
নিজ মনে গুনগুন করতে থাকা মোত্তাকিনের মাথায় আগুন ধরে গেল এহেন কথায়। সে চেঁচিয়ে উঠে বলল,
–“এই তূর্য ওটার মুখ বন্ধ কর।”
কাজীর মুখ বন্দ হলো স্কচটেপের সাহায্যে। পুরোটা রাস্তা মুখ বাঁধা অবস্থায় কাজী ছিল। চোখেমুখে ছিল শুধুই আতঙ্ক!
মোত্তকিন তার দলবল নিয়ে যখন পৌঁছাল তখন প্রায় সাড়ে নয়টা। ইন্দুবালাদের দরজা খুলতেই ভেসে উঠল মায়ের মুখটি সহ, পাড়ার আরো অনেক মুখ। মধুমিতা ছেলে আর ছেলের দলবলকে বহু সরঞ্জামসহ দেখে কপাল কুঁচকে শুধায়,
–“কি হলো বাবু? এত তোরজোর করে কেন এসেছিস?”
মোত্তাকিন প্রগাঢ় হেসে বলল,
–“বিয়ে করতে, মামনি।”
এমন গুরুগম্ভীর মুহুর্তে মধুমিতা এমন অসংলগ্ন কথা নিতে পারল না। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
–“রাতবিরাতে মজা করছিস বাবু? কোন মেয়ে তোকে বিয়ে করবে? নিয়ে আয় আমার কাছে, দু’টো কানের নিচে দিয়ে আক্কেল ঠিক জায়গায় নিয়ে আসব।”
~চলবে~

