#প্রাচীর
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ১৫
সুবর্ণা মনের ক্লেশ মনে চেপে ছেলের বউকে বরণ করলো। ছেলে তার বউ এনেছে, বরণ না করে উপায় আছে। সে শান্ত মুখে বরণ করলো, মিষ্টি মুখ করালো। গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন পরালো। তারপর ভাইয়ের বউদের ইশারা দিলো ভেতরে নিয়ে যেতে।
তারাই নিশাতকে একেবারে ড্রইংরুমে এসে বসালো। তবে সুবর্ণার মা আফসানা হক একটু দূরেই রইলেন। না তিনি এগিয়ে গেলেন, না মিষ্টি মুখ করালেন। ওয়াহিদ দেখলো! চুপচাপ হওয়ার কারণে সবার সাথেই তার সখ্যতা কম। তবে নানুর সাথে ভালো। বড় মেয়ের প্রথম নাতি। তার কদর সবার কাছেই বেশি। তবুও সে আজ এগিয়ে গেল না। সব সময় যা করে তাই করল। সোজা নিজের রুমে এলো। সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। চাইলেই ফট করে কিছু ঠিক হয় না। এই বাড়ি, ঐ বাড়ির সবাই একটা অ্যাক্সিডেন্টে আটকে আছে। অথচ দোষ যাদের তারা কেউ’ই আর জীবিত নেই।
সে ফ্রেশ হয়ে কফি নিয়ে দ্বিতীয় ফ্লোরে এসে দাঁড়ালো। ডুপ্লেক্স বাড়ি, এখান থেকে নিচের পুরোটাই দেখা যায়। সে তাঁকিয়ে রইল তার নব্য বধুর দিকে। যে কিনা বসে বসে হাই তুলছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার কোন কিছুতেই কোন আগ্রহ নেই।
নিশাত হাই তুলে আশ পাশ দেখলো। নতুন কিছু নেই। টাকাওয়ালা মানুষের ড্রইংরুম। অভিজাত্যের ছোঁয়া তো থাকবেই। এই আর কি? বরং না থাকলেই অবাক হওয়ার বিষয় হতো।
সে হাই তুলেই আরাম করে বসলো! সারাদিন গেছে দৌড়াদৌড়ি তার মধ্যে আবার বিয়ের ঝামেলা। শরীর এখন বিছানা বিছানা করছে। তবে বেহুদা তাকে এখানে বসিয়ে রেখেছে কেন কে জানে? এমন তো না গ্রাম শুদ্ধ মানুষ এসে দেখে দেখে যাচ্ছে। যে ঢংয়ের বিয়ে তার আবার রিতি নীতি। একগাদা মিষ্টি ঠেলে খাওয়ালো। খাইয়ে হবে টা কি? জন্মের সময় মধুতে কাজ হয়নি আর হবে এই মিষ্টিতে।
তার পাশেই বসা নিতু পেঁচির ছেলে। নিতু পেঁচির ছেলে হলেও কিউটের ডাব্বা। মন ভালো নেই তা না হলে এতক্ষণে গালে দু- তিনটা মোচড় খেয়ে ফেলতো। কিউট বাচ্চাদের গাল হয় কি জন্য। এই মোচড়া মোচড়ি খাওয়ার জন্যই তো। তবে এমন ভদ্র বাচ্চা সে জীবনে কম’ই দেখেছে। সেই বিয়ের পর থেকে এই ছেলে তার আশে পাশে। গাড়িতেও ছিল তার পাশে। এমন না গায়ের উপরে উঠে আসছে বা দুষ্টামি করছে। চুপচাপ তার সাথে সাথে বসে আছে। এই যে বসে আছে সেও বসে আছে। চোখে মুখে ঘুম ঘুম ভাব। তার সাথে সেও হাই তুলছে।
তখনি নিতু এলো! নিতুর মেজাজ খারাপ। তবে সমস্যা হলো এতদিন ঝট করে মেজাজ দেখালোও, আজ কেন জানি দেখাতে পারছে না। এই জন্যই বলে বাপের বাড়ি সেই পর্যন্তই বাপের বাড়ি যেই পর্যন্ত ভাইয়ের বউ না আসে।
নিতু মেজাজ খারাপ করেই চেঁচিয়ে কনা নামের কাউকে ডাকলো। শুকনো কালো মতো এক মেয়ে দৌড়ে আসতেই বললো — বাবু এখনো এখানে বসা কেন? সব নিয়ম ভুলে গেছো না। থাপড়ে দাঁত ফেলে দেব। একটু খেয়াল না করলেই গা ছড়িয়ে বসে থাকা।
মেয়েটে ঝটপট এগিয়ে আস্তে করে বললো, — নিনিত বাবা চলো ঘুমাবে।
নিনিত একবার নিশাতের দিকে তাঁকালো। একটু হেসে বললো, — গুড নাইট মামি।
নিশাত তা বিখ্যাত হাসি হাসলো। নিনিতের জায়গায় সাবা থাকলে উল্টো দৌড় দিতো। তবে নিনিত দিলো না। সে তার মতোই একটু হেসে সেই কনা নামের মেয়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে চলে গেলো।
সে যেতেই নিশাতের যাওয়ার হুকুম হলো। সেই হুকুমেই নিশাত ঝট করে উঠল। উঠে সুবর্ণার দিকে তাঁকালো। সে বসে আছে তার মা, ভাবিদের মাঝে। সে এক পলক তাঁকিয়েই এগিয়ে গেল।
নিশাতকে ওয়াহিদের রুমে নিয়ে এলো নিতু আর তার মামি। এনে বিরক্ত মুখে বললো, — ভাইয়ার রুমে মতব্বরি কম করবে। এমনিতেও সে কাউকে এলাউ করে না। বউ তো অন্য রুমে রাখা যায় না। তাই সাবধান! মিডিলক্লাস ফ্যামিলির মেয়েদের আবার এক সমস্যা। এসেই আমার বাড়ি, আমার সংসার, আমার স্বামী বলে মরতে থাকে।
নিশাত আবারো হাই তুললো! বিয়ের না করতে করতেই জীবনডা তেনাতেনা। সে হাই তুলেই বললো, — বউ অন্য রুমে রাখা যায় না তোমাকে কে বললো। রুম তো যেমন তেমন কত মানুষের বাড়িই আলাদা থাকে। তাই এক কাজ করো। আমাকে অন্য রুম দিয়ে দাও। এতবড় ভিলায় রুমের তো অভাব হওয়ার কথা না। তার কমফোর্ট রইল, আমারও।
নিতু চোখ চড়কগাছ করে বললো, — বাড়ি আলাদা মানে কি? আর তুমি, আমাকে তুমি করে বলছো কেন?
— বাড়ি আলাদা মানে এই যে তোমার মতো শ্বশুর বাড়ি, বাপের বাড়ি। এখানে দোষ না হলে, আলাদা রুমে থাকলে হবে কেন? আর তাছাড়া তুমি, আমি তো বলতেই পারি। বড় ভাইয়ের বউ। তবে তুমি, কোন হিসেবে বলছো বুঝতে পারছি না। যতদূর মনে পড়ে আমি এক বছরের বড়।
— তুমি কি আমাকে খোঁটা দিচ্ছো?
— একদম না। সত্য বললাম। রুমে এলাউ না করলে জোর করে থাকার দরকার কি?
— আমি এটার কথা বলিনি।
— আমিও কোনটার কথা বললাম! শুধু বললাম বয়সে বড়, বড় ভাইয়ের বউ। তুমিতো বলা’ই যায়। তাছাড়া ছোট বেলায় কতো একসাথে পুতুল বউ খেলেছি।
— বড় বড় করছো কেন? বড় হয়েছো তো কি হয়েছে?
— কিছু না। আল্লাহ তালায়া আমাকে এক বছর আগে পাঠিয়েছে। এতো তো তোমার বা আমার হাত নেই। তাই তুমি তুমিতে কাটাকাটি।
নিতু টাসকি খেয়ে কিছুক্ষণ তাঁকিয়ে রইল। কোন দিকের কথা কোন দিকে গেলো সে ধরতে পারছে না। সারা জীবন চটাং চটাং তো সে বলে এলো। আজ কথা খুঁজে পাচ্ছে না কেন? তাছাড়া এমন চটং চটং কথা তো শ্বশুর বাড়ি গিয়ে সে নিজেও কখনো বলেনি। অথচ এই মেয়ে কতো অবলীলায় বলছে। কিসের দেমাগ এই মেয়ের। সে আবার কিছু বলতে যাচ্ছিলো। নিতুর মামি পরিস্থিতি সামলালেন। তিনি মাঝে কথা বলে বললেন। আচ্ছা ঠিক আছে। রাত তো কম হলো না। তুমি বরং ফ্রেশ হয়ে নাও। তাছাড়া ওয়াহিদ রুম থেকে খুব একটা বের হয় না। আমাদের জন্যই হয়তো আসতে পারছে না। নিতু আসো। বলেই তিনি নিতুকে টেনে নিয়ে গেলেন। তার মনে খুশির লাড্ডু ফুটছে। বিয়ে হয়েছে পর থেকে এই ননাসের যন্ত্রনায় ওষ্টাগত। সব কিছুতে মাতব্বরি। আর তাদের শাশুড়ি। মেয়ে যা বলবে সেটাই ঠিক। এর কোন ডান বাম নেই। এখন নিজের বউকে পারলে সামলাও। এই মেয়েকে বাগে আনা চাট্টি খানি কথা হবে না।
নিশাত রুমে এসে অবাক তো মামুলি ব্যাপার স্যাপার। বলতে গেলে ঝটকাই খেলো। না রুম দেখে না। রুম আর এমন কি? টাকাওয়ালা মানুষ। এমন বেড রুম হবে না কেমন হবে। তারা সিম্পল জিনিসও করে লাখ টাকার সিম্পল জিনিস দিয়ে। তাই রুম যেমন খুশি তেমন হোক! তারা মামা বাড়ি নিয়ে যেমন মাথা ব্যথা নেই, তেমন এ বাড়ি নিয়েও নেই। সে তো ঝটকা খেলো, একটা ছবি দেখে।
বেডরুমটা তিন অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে বেডরুম, মাঝে ওয়াশরুম,চেঞ্জিংরুম। বাকিটুকু সুন্দর কাচ ঘেরা একটা খোলা জায়গা। যাকে রুমও বলা যায় আবার বিশাল একটা বারান্দাও বলা যায়। কাচগুলোর দেওয়ার ঘেঁষে বড় বড় লম্বা সাদা পর্দা। কোন ফার্নিচার নেই। তবে সুন্দর সুন্দর বসার ফ্লোর কুশন আছে। কাচের দেয়ালের ওপাশে রেলিং ঘেঁষে কুঞ্জলতা ফুটে আছে। আর এই কাচ ঘেরা রুমের ইট, পাথরের দেয়ালে সুন্দর একটা ফ্রেমে বাঁধাই করা একটা ছবি। ছবিটা তাদের ছোট বেলার বিয়ের ছবি। মাথায় জরিওয়ালা বিয়ের ঘোমটা, পুরো চোখ জুড়ে কাজল, ঠোঁটে টুকটুকে লাল লিপস্টিক। মুখ ফুলিয়ে বসে আছে নিশাত। যেন কোন কিছু নিয়ে খুব রাগ। তার পাশেই ওয়াহিদ। এগারো বারো বছরের ওয়াহিদ। শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। পুরো মুখে সে রুমাল চেপে বসে আছে।
নিশাত শান্ত চোখে এই ছবির দিকে তাঁকিয়ে রইলো। তখনি ওয়াহিদ তার পাশে এসে দাঁড়ালো। দাঁড়াতেই নিশাত বললো, — এমন ফাজলামি কারো সাথে না হোক।
— কেন?
— এটা অন্যায়।
— দুনিয়াতে সব ঠিক হতে নেই।
— কি জানি বাপু। যাদের জীবনে সব কিছু ঠিক। তারা ঠিক বেঠিকের বুঝবে কি? বলেই নিশাত চেঞ্জিং রুমের দিকে এগুলো। চেঞ্জ করা দরকার।
ওয়াহিদ পেছন থেকে ডাকলো, — নিশাত।
নিশাত ঘুরে দাঁড়িয়ে গেলো। ওয়াহিদ একটু থামলো। তারপর বললো, — কফি!
নিশাতও তার মতো কিছুক্ষণ থেমে তাঁকিয়ে রইলো। তারপর সোজা বললো, — না।
— কেন?
— কেন আবার কি? না খেলে এখন জোর করে খাওয়াবেন?
— খাওয়াতেও পারি। হক আছে আমার।
— হকগিরি অন্য কোথাও গিয়ে দেখান। তাছাড়া আবার সামনে এলে ঘুষি মেরে নাকের মানচিত্র চেঞ্জ করার কথা ছিল। ভাগ্য ভালো সেটা করছি না।
— করে ফেলো! তোমার উপরে কেন জানি ঠিক ঠাক রাগ করতে উঠতে পারছি না। করলে যদি পারি।
— পেরে কি করবেন?
— রাগ উঠলে ওয়াহিদ সব পারে। বিয়ে করেছি, যা এখন করতে পারছি না, সেটাও করে ফেলতে পারি ।
নিশাত হাসলো! হেসে বললো — চেষ্টা করে দেখতে পারেন। পরে খুন টুন হলে এর দায় নিশাতের না।
— হলেও, হেডলাইন খারাপ হবে না। বাসর রাতে নব বধুর হাতে স্বামী খুন।
নিশাত আর উত্তর দিলো না। সময় নষ্ট! বলেই ব্যাগ থেকে কাপড় বের করলো। করে সোজা চলে গেলো। বেরিয়ে দেখলো ওয়াহিদ বেডরুমের ডিভানে বসা। হাতে কফি! এই রুমেই কফির ব্যবস্থা আছে। বড় লোকদের বড় বড় কারবার। তা না হলে এমন তিতকুটে বিষ কে শখ করে খায়। নিশাত এবারো আর কথা বাড়ালো না। কমফোর্টার জড়িয়ে শুতে গেলো। পুরো দমে এসি ছাড়া। তার শীত শীত করছে।
তখনি ওয়াহিদ বললো, — বিয়েটা কেন করেছো নিশাত?
নিশাত গলা পর্যন্ত কমফোর্টার টেনে শুয়ে বললো, — আমি একটা শান্তির জীবন চাই তাই।
ওয়াহিদ নিশাতের দিকে তাঁকালো । সে পুরো প্যাকেট হয়ে গেছে। এসির রিমোট নিয়ে কমিয়ে দিলো। দিয়ে বলল, — সেই জীবনটাতে কি আমার কোন অংশ আছে?
— না।
— আমি যদি করে নিতে পারি?
— পারবেন না!
— কেন?
— এই প্রাচীর ভেদ করা এতো সোজা না।
ওয়াহিদ আর উত্তর দিলো না। কফিতে চমুক দিলো। নিশাত হাসলো! চোখ বন্ধ করে গুনগুন করে গাইলো, — আমার বাড়ি আইসো ভোমর, বসতে দেবো পিঁড়ে, জলপানও করিতে দেবো, শালি ধানের চিঁড়ে।
লাইন গুলো কবিতার ! নিশাত এতো সুন্দর করে সুর তুলে গাইলো। ওয়াহিদ মুগ্ধ হয়ে নিশাতের গান শুনলো। তার মনে হলো। এর চেয়ে সুন্দর কোন গান সে আর কখনো শুনেনি।
_______
বিবাহিত জীবনের প্রথম সকাল শুরু হলো নিশাতের মিষ্টি সুবাসে! সুবাসটা কিসের সে ধরতে পারল না। তবে চেনা কোন ফুলের। সে নড়ে চড়ে এ পাশ থেকে ওপাশে ফিরলো। কেউ খুটখাট শব্দ করছে। কে রে ভাই! এতো সাত সকালে কোন কাজের তেল উঠেছে। সে বিরক্ত হলো! বিরক্ত হয়ে চোখ খুলতেই দেখলো ওয়াহিদ তার ঠিক সামনে বসা। পুরো রেডি টেডি হয়ে। ঠকঠক সে জুতো দিয়ে করছে। আর সুবাস তার থেকেই আসছে।
সে উঠে বসলো! বিরক্ত মুখে বললো, — আমার সারাদিনটা খারাপ না করলে হতো না? এই থোবড়াটা তো আমাকে না দেখিয়েই যেতে পারতেন। নাকি টিপক্যাল বউ চান। অফিসে যাওয়ার সময় পিছু পিছু ঘুরবে, টাই বেঁধে দেবে, যাওয়ার পরও রাস্তার দিকে ঘন্টা খানেক তাঁকিয়ে থাকবে।
— এটাকে টিপিক্যাল বউ বলে না, একে বলে ভালোবাসা।
— এতো ভালোবাসার দরকার তো বসে ছিলেন কেন? মেয়ের তো অভাব হওয়ার কথা না।
— মেয়ের অভাব এখনো নেই। তবে বউয়ের অভাব আছে ।
— সেটা সারা জীবন’ই থাকবে। এখন জানতো ঘুমের দফারফা করছেন কেন? আমি আপনাকে জ্বালাচ্ছি? তো আমাকে জ্বালাচ্ছেন কেন? নিজের মতো থাকুন না।
— জ্বালাচ্ছো না?
নিশাত উত্তর দিলো না। ধুর! বলেই আবার শুয়ে পড়ল। ওয়াহিদও উঠল! কালকের অনেক কাজ পেন্ডিংয়ে রয়েছে। তাই সকাল সকাল’ই বেরুতে হবে। সে বেশ কয়েকটা ফাইল নিশাতের সামনে রাখলো। রেখে বললো, — প্রপার্টির দলিল। সিগনেচার করে রেখো। বাকি কাজ আমি কমপ্লিট করে দেবো। ক্যাশ কোথায় ট্রান্সফার করবো, সেই ডকুমেন্ট দিও। আর বলেই একটা চেকবুক নিশাতের সামনে রাখলো। রেখে বললো তোমার কাবিনের টাকা।
নিশাতের তেমন ভাবান্তর হলো না। ওয়াহিদ এগিয়ে নিশাতের সামনে বসলো। নিশাত কিছু বলবে তার আগেই কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো। নিশাত কোন রিয়্যাক্ট দেখালো না। তবে তার পুরো মুখে কাঠিন্যতা যে ছেয়ে গেছে ওয়াহিদ তা ঠিক দেখলো। দেখে বললো, — যেভাবেই হোক আমরা একটা সম্পর্কে বেঁধেছি নিশাত। পবিত্র, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক। এই সম্পর্ক টা রাখার আমার তরফ থেকে কোন কমতি থাকবে না। তবে কোন কিছুই এক তরফ থেকে কিছু হয় না। দু- জনকেই এগুতে হয়। তুমি কি একটু এগুবে নিশাত?
— যদি বলি না ! হাল ছেড়ে দেবেন?
— না।
— তাহলে আর বলে লাভ কি? যা খুশি করুন।
— ভালোবাসা হলো ছোঁয়াচে রোগের মত। এক ঘরে, এক রুমে, এক খাটে থাকবো। একজনের অনুভূতি আরেকজনে ছোঁবে না। এটা কখনো হবে না। হবেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
— দেখা যাক।
— হ্যাঁ অবশ্যই বলেই ওয়াহিদ উঠল। পার্স মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে গেলো। নিশাত সেই যাওয়ার দিক থেকে সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিলো। বিয়ে হতে না হতেই ভালোবাসা উপচে পড়ছে। হুহ্!
চলবে…..

