#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতেঃ মিথিলা মাশরেকা
১৩.
আরাফাতকে দেখে চেহারার সবটুকো উচ্ছ্বলতা হারিয়ে গেলো স্নিগ্ধতার। দৃষ্টি সরিয়ে, চাদরের মতো ওড়না মুড়িয়ে দাড়িয়ে রইলো চুপচাপ। ওকে ওভাবে দাড়াতে দেখে সাইফও দরজায় তাকালো। বন্ধুকে দেখে খুশি হয়ে গেলো ও। উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেলো আরাফাতের দিকে। ওকে জড়িয়ে ধরলো। আরাফাত স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়ে আলতোভাবে হাত রাখলো ওর পিঠে। সাইফ ওর পেটে গুঁ’তো মেরে বললো,
-তুই বললি আসবি না। তাই রান্নাটাও করি নি! এভাবে কেউ সারপ্রাইজ দেয় ব্যা’টা?
-সেদিন কথাই হলো না। আজকে তুই নিজে থেকে বললি ডিনার করতে আয়। না এসে পারি কি করে বল? ভালোবাসা ফিরিয়ে দেওয়ার স্বভাব আমার নেই।
স্নিগ্ধতা তাকালো আরাফাতের দিকে। ওর সেই মলিন চাওনি। সাইফ হেসে বললো,
-বাহ্! ইন্জিনিয়ারিং ছেড়ে সাহিত্য?
-আপাতত ভুক্ষার! খিদে পেয়েছে প্রচন্ড!
গলা স্বাভাবিক করে বললো আরাফাত। সাইফ ওর কাধে চড় মে’রে বললো,
-একটুও বদলালি না! এনিওয়েজ! তুই বস। আগে কথা বলি, দেন আধঘন্টার মধ্যে সব রেডি করে ফেলবো একদম!
মৃদ্যু হেসে এগোলো আরাফাত। সাইফ একটা সোফার কুশন নিয়ে ঢিল ছুড়লো স্নিগ্ধতাকে। স্নিগ্ধতা বুঝলো আরাফাতের সাথে কুশলবিনিময় করতে বলছে ও। ঠোটে কিঞ্চিৎ সৌজন্যের হাসি টেনে বললো,
-কেমন আছেন?
-যেমন দেখছো। তুমি?
-যথেষ্ট ভালো। ভাইয়া? তোমরা কথা বলো। আজ রান্নাটা আমি করছি।
আরাফাতকে স্নিগ্ধতা উপেক্ষা করে, এটা অনেক আগেই বুঝে গিয়েছে সাইফ। শুধু কারনটা বুঝে উঠতে পারে না। কোনোদিক দিয়েই আরাফাত ওর অযোগ্য নয়। বোনের জন্য যেকোনো ভাই এমন মানুষকেই চাইবে। সাইফও চেয়েছিলো। কিন্তু যখন থেকে বুঝেছে স্নিগ্ধতা আরাফাতকে উপেক্ষা করে, তখন থেকে নিজেকে বোঝাতে শুরু করেছে ও। ও জানে, যদি ও স্নিগ্ধতাকে বলে আরাফাতকে বিয়ে করতে, ওর কথা ভেবে বিনাবাক্যে রাজে হয়ে যাবে স্নিগ্ধতা। যেটা ও কখনোই চায়নি। ও চেয়েছিলো স্নিগ্ধতা প্রেমে পরুক। শুদ্ধতম কারো প্রেমে পরে প্রেমময় পৃথিবীকে উপভোগ করুক। নিজের পছন্দের মানুষটাকে নিয়ে বাচুক। তাই সাইফ ঠিক করেছে, নিজে থেকে না বলা অবদি, বিয়ে নিয়ে স্নিগ্ধতাকে কিছুই বলবে না ও। আর সাইফ এটাও জানে, আরাফাত যথেষ্ট স্পষ্টবাদী। স্নিগ্ধতাকে যদি ও পছন্দ করে, তবে সেটা ওকে জানাতে দ্বিধাবোধ করবে না। যেহেতু আরাফাতও সেভাবে কিছু বলেনি, তৃতীয়ব্যক্তি হয়ে ওর কিছু বলাটা উচিত হবেনা। তাই এসব নিয়ে আর এগোয়নি সাইফ। সময় আর স্নিগ্ধতার ওপর ছেড়েছে সবটা।
-বিরিয়ানি করবো?
স্নিগ্ধতার কথায় ধ্যান ভাঙলো সাইফের। মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো ও। আগে আরাফাতের সাথে কেইসগুলো নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার ওর। মা’র্ডা’রে’র ট্র্যাকিং-ট্রেসিং-টাইমিংসহ সিসিক্যাম ফুটেজ এডিট, ভিডিও ক্লিপ গায়েব এ সবকিছু খু’নি যথেষ্ট পটুহাতে করেছে। সেগুলোর ফল্ট ধরার জন্য সেরকমই তুখোড় কাউকে প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে সবার আগে আরাফাতের কথাই মাথায় এসেছে সাইফের। এজন্যই ডেকেছে ও আরাফাতকে। স্নিগ্ধতা রান্নাঘরে চলে গেলে ওকে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো সাইফ।
টেবিলে খাবার সার্ভ করে ভাইকে ডাক লাগালো স্নিগ্ধতা। সাইফ-আরাফাত বেরিয়ে দেখে টেবিলে বিরিয়ানি সাজানো। একসাথে খেতে বসলো তিনজনে। স্নিগ্ধতা আরাফাত মুখোমুখি বসেছে। খাওয়া শেষে সাইফ হাত ধোয়ার জন্য বেসিনে চলে গেলো। আরাফাত চামচে খাবার মাখাতে মাখাতে বললো,
-সবুজের মা’র্ডা’র হওয়ার পর চঞ্চল কিছু বলেছে তোমাকে?
চোখ তুলে তাকালো স্নিগ্ধতা। আরাফাতও এবার মাথা তুললো। স্নিগ্ধতার কানে গোজা কয়েকটা চুল সামনে চলে এসেছে। ওর দিকে শীতলদৃষ্টি স্থির রেখে, বাহাত বাড়িয়ে অকস্মাৎ সে চুলগুলো ধরে কানে গুজে দিলো আরাফাত। বললো,
-তুমি আমার পরিনতি না হওয়া অবদি আমি চুপ থাকতে পারবো স্নিগ্ধতা। কিন্তু তোমার পারিপার্শ্বিককে চুপ রাখার দায়িত্বে ছাড় দিতে পারছি না।
স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো স্নিগ্ধতা। আরাফাত হাত সরিয়ে নিলো। খাওয়ায় মনোযোগ দিয়ে বললো,
-ক্যাম্পাসের কোনো সমস্যায় সাইফকে জড়াতে চাওনা তুমি জানি। তাই কিছু হলে, ওকে না বললেও, আমাকে বলো প্লিজ। প্লিজ!
স্নিগ্ধতা হয়তো জবাব দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু সাইফ চলে আসায় কিছু বলা হলো না ওর। খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে গেলো আরাফাত। ভাইকে গুডনাইট বলে ঘরে চলে আসলো স্নিগ্ধতা। ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাড়িয়ে জলভরা চোখে নিজের দিকে তাকিয়ে রইলো কয়েকদন্ড। তারপর কাচি হাতে নিলো। ঠিক যতোটুকো চুল আরাফাত স্পর্শ করেছে, তা কেটে ফেললো স্নিগ্ধতা। টপটপ করে কয়েকফোটা পানি পরলো ওর চোখ থেকে।
•
শরৎশুভ্রতায় সজ্জিত সকাল। স্নিগ্ধতার ক্লাস নেই আজ। কিন্তু সাইফ সিভিলে রেডি হয়ে আজও ডাক লাগালো স্নিগ্ধতাকে। ইন্সপেক্টর আফজালের বলা সেই ইয়াকীন শারাফের সাথে দেখা করতে যাবে ও। লোকেশন বিখ্যাত এক শপিং কমপ্লেক্সের কোনো এক রেস্টুরেন্ট। সাইফ ঠিক করেছে, স্নিগ্ধতাকে নিয়েই বেরোবে। ওর এমনিতেও সাদা শাড়ী খুব পছন্দের। তাছাড়া ক্যাম্পাসের শরৎউৎসব নিয়ে ধারনা আছে ওর নিজেরও। তাই ঠিক করলো, স্নিগ্ধতা বলার আগে ওই শাড়ীর কথা মনে করিয়ে দেবে ওকে। বোনের চেহারার অনাকাঙ্ক্ষিত হাসিগুলো ওর ভীষন প্রিয়। স্নিগ্ধতা টলতে টলতে দরজা খুলে দরজাতেই মাথা ঠেকালো। চোখ বন্ধ রেখে ঘুমুঘুমু চোখে বললো,
-আজকে আমার ক্লাস নেই ভাইয়া।
-জানি। এটা বল, শরৎউৎসবে সাদা শাড়ী পরবি নাকি নীল? আমি একা গেলে কিন্তু নীলটাই আনবো। তোর কাবার্ডে কোন ডিজাইনের সাদা শাড়ী নেই, মনে থাকবে না আমার।
হচকানো চোখে তাকালো স্নিগ্ধতা। সাইফ হাতঘড়ি দেখালো নিজের। স্নিগ্ধতা উচ্ছাসিতভাবে ‘দু মিনিট দাও!’ বলে তৎক্ষনাৎ দরজা লাগিয়ে দিলো। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দরজা খুলে গেলো আবারো। স্নিগ্ধতাকে রেডি দেখে সাইফ হাসলো। তারপর দু ভাইবোন মিলে বেরিয়ে পরলো একসাথে।
শপিংমলে পৌছে স্নিগ্ধতা সবে গাড়ি থেকে নেমেছে, কেউ বিদ্যুৎবেগে পাশ কাটিয়ে গেলো ওকে। যাওয়ার সময় ডানহাতে ছুড়ির আঁচড়ও দিয়েছে। মৃদ্যু আর্তনাত করে বাহাতে ডানহাত চেপে ধরলো স্নিগ্ধতা। আর সেই সুযোগে ওর সাইডব্যাগটা কেড়ে নিয়ে দৌড় লাগালো ছুরিধারী। সাইফ সিটবেল্ট খুলতে ব্যস্ত ছিলো। আর্তনাত শুনে ড্রাইভিং সিট থেকে পাশে তাকিয়ে দেখে স্নিগ্ধতা হাত চেপে ধরে দাড়িয়ে। আর ওর সামনেই সাইডব্যাগ নিয়ে ছুট লাগিয়েছে ছিনতাইকারী। অগ্নিশর্ম রাগ নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসবে, আরেকবার আওয়াজে সামনে তাকালো সাইফ। আশেপাশের সবার দৃষ্টিও সেদিকেই স্থির।
চড় পরেছে ছিনতাইকারীর গালে। ল্যাম্পপোস্টের সাথে বারি খেয়ে কপালটা কিঞ্চিৎ কেটেও গেছে। টলোমলো পা দেখে বোঝাই যাচ্ছে দিনদুনিয়া ঘুরছে ওর কাছে। অদ্ভুতভাবে আশেপাশে সবার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে, যেনো বুঝে উঠতে পারছে না কোথায় ও, কি ঘটছে এখানে। ওর সামনেই দুহাত মুঠো করে দাড়িয়ে বলিষ্ঠদেহী এক যুবক। পরনে অফ হোয়াইট শার্ট, কালো জিন্স। শার্টের বা হাতা কনুই অবদি গুটানো। কিন্তু ডানহাতা নেমে এসেছে কিছুটা। কপালে সুক্ষ্মভাজ, কিঞ্চিৎ শক্ত চোয়াল আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে আছে ছিনতাইকারীর দিকে। একপলক স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়ে যুবক মাথা নাড়িয়ে ছিনতাইকারীকে কিছু বুঝালো। ছেলেটা কিছুই বুঝে উঠলো না বোধহয়। ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কেবল।
চোখ সরিয়ে অন্যদিক তাকিয়ে দুটো বড়বড় শ্বাস ফেললো যুবক। আপাতদৃষ্টিতে সেটা রাগ সংবরন করলো বলে মনে হলো বাকিসবার। কিন্তু সংবরনের পরিবর্তে অকস্মাৎ ছেলেটাকে চড় লাগিয়ে দিয়ে রাগ বেড়েছে এমনটার প্রমান দিলো যুবক। দ্বিতীয় চড়টার তীব্রতাও কম ছিলো না। ছিনতাইকারী হুমড়ি খেয়ে স্নিগ্ধতার সামনে এসে পরেছে একদম। ওর মাথার স্নায়ুতন্ত্র এবারে ঠিকঠাকমতো জানান দিলো, কি ঘটছে ওর সাথে। হাতে থাকা সাইডব্যাগটা স্নিগ্ধতার পায়ের কাছে রেখে হাতজোড় করে বললো,
-মাফ চাই বোন! দয়া করো! ভুল হয়ে গেছে!
স্নিগ্ধতা হাত চেপে ধরে গুটিয়ে দাড়িয়েছে। ওর দৃষ্টি সামনের সেই যুবকের চেহারার দিকে। ওকে নিরব দেখে ছেলেটা উঠে একদৌড়ে ফুটপাতের জনস্রোতে মিশে গেলো। সাইফ গাড়ি থেকে নামলো এবার। স্নিগ্ধতা ভয় পেয়েছে, সেটা বেশ বুঝলো ও। গাড়ি ঘুরে এসে বোনের দিক এগিয়ে বললো,
-টুকি এদিকে…
স্নিগ্ধতা ভাইয়ের দিকে ফিরছিলো। আচমকা হাতে স্পর্শ অনুভব করে কেপে উঠলো ও। পাশ ফিরে দেখে ওর সাইডব্যাগটা একহাতে নিয়ে, আরেকহাতে ওর ডানহাতটা ধরেছে শারাফ। সাইফের পা থেমে গেলো আবারো। আশেপাশে অনেকেই ছিলো। কিন্তু কেউই এগোয় নি স্নিগ্ধতার দিকে। শারাফই ছিনতাইকারীকে ধরেছিলো। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় চুপ রইলো সাইফ। শারাফ স্নিগ্ধতাকে শপিংমলের সামনের বেঞ্চটা দেখিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বললো,
-এদিকে বসুন।
বড়বড় চোখে একবার শারাফের দিকে, আরেকবার ভাইয়ের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। ওর জন্য ছিনতাইকারীকে থামানো, এমনকি ওভাবে মার লাগানো অবদিও ঠিক ছিলো। কিন্তু সবার সামনে, ওর ভাইয়ের সামনে ওকে ছুঁয়ে যত্ম দেখানোর মতো ঘটনা। স্নিগ্ধতা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য প্রস্তুত ছিলো না। শারাফ আবারো বললো,
-বাংলা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে?
স্নিগ্ধতা সাইফের দিকে তাকালো। সে স্বাভাবিকভাবে মাথা নেড়ে এগোতে বললো। কিন্তু স্নিগ্ধতা স্বাভাবিক হতে পারলোনা। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আস্তেধীরে শারাফের হাতটা সরিয়ে দেবার চেষ্টা করলো। শারাফ ওর কাটা জায়গাটা দেখে বললো,
-আমি হাত সরালে আরো ব্লাডলস হতে পারে।
-হাত সরানোর দরকার নেই। ওকে নিয়ে এগোন আপনি।
এতোক্ষনে সাইফের দিকে তাকালো শারাফ। ওকে খেয়ালই করা হয়ে ওঠেনি ওর। প্রথমদিনে স্নিগ্ধতার সাথে সাইফকে দেখেছিলো বলে চিনতে কষ্ট হলো না শারাফের। ইন্সপেক্টর আফজালের কথায় এর সাথেই তো দেখা করতে এসেছে ও। তবে সাইফের সাথে স্নিগ্ধতাকে আশা করেনি। পুলিশের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে, এসব বাসায় জানাতে বারণ করেছে ইন্সপেক্টর আফজাল। বাসায় বলে এসেছে, আগেরদিন মুসকানের জন্মদিনে যে ড্রেসটা দিয়েছে, সেটা পাল্টাতে এসেছে। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে মুসকানকে দিয়ে পছন্দ হয়নি বলিয়েছে ও। সাইফ আবারো বললো,
-ওদিকে বস টুকি।
স্নিগ্ধতা ভাইয়ের দিকে অবাকচোখে তাকিয়ে। ওকে নড়তে না দেখে শারাফ ওর সামনে এসে দাড়ালো একেবারে। বললো,
-চলুন এবার। ভাইয়া অনুমতি দিয়েছে।
ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে শারাফের সাথে পা বাড়ালো স্নিগ্ধতা। শারাফ হাটতে হাটতে সামনে তাকিয়েই বিরবিরিয়ে বললো,
-এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেনো আমার সাথে কাজি অফিস যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে তার ভাইয়া। আর তাকে নিয়ে কাজি অফিসের দিকে রওনা হয়েছি আমি!
এমন কথার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না স্নিগ্ধতা। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো ও। শারাফ স্নিগ্ধতাকে এনে বেঞ্চে বসিয়ে নিজেও ওর সামনে বসলো। সাইফ ততোক্ষনে পাশের ফার্মেসি থেকে ফাস্ট এইড নিয়ে এসেছে। বক্সটা শারাফের হাতে দিয়ে স্নিগ্ধতাকে নিজের দিকে ফেরালো ও। একহাতে ভাইয়ের কোমড় জরিয়ে মুখ গুজে রইলো স্নিগ্ধতা। কাটা জায়গাটা থেকে শারাফ হাত সরালো নিজের। স্নিগ্ধতার পরনেও অফ হোয়াইট গাউন। কবজি অবদি হাতাটার ছুড়ির আঁচড়ের অংশ ছিড়ে গেছে। রক্তাক্ত জায়গাটা দেখে ভেতরটা খচ করে উঠলো ওর। জিভ দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে পরিষ্কার করতে করতে লাগলো জায়গাটা। সাইফ বললো,
-কতোটা ছড়েছে?
-খুব বেশি না। তবে ডিপলি লেগেছে।
সাইফ উঁকি দিলো একবার। শারাফও একবার ওকে দেখে নিলো। তারপর ব্যান্ডেজ করতে করতে বললো,
-ওনার রক্তে ফোবিয়া আছে?
-হুম।
শারাফ আর কিছু বললো না। ব্যান্ডেজ করা শেষে উঠে দাড়ালো। নিজের হাতের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ মৃদ্যু হেসে বললো,
-একফোঁটা রক্তও লেগে নেই আর। বাসায় গিয়ে এভাবে তাকিয়ে থেকে থেকে দিনভর খুজতে পারেন।
সরু চোখে তাকালো স্নিগ্ধতা। সাইফ শারাফের দিকে হাত বাড়িয়ে বললো,
-থ্যাংকস্। মিস্টার…?
শারাফ হাত মিলিয়ে বড়সর একটা হাসি দিয়ে বললো,
-ইয়াকীন শারাফ। আর থ্যাংকসের কোনো প্রয়োজন নেই। আপনার বোনকে বলে দেবেন, আমার আরো একটা স্কেচ করে দিতে। তাতেই হবে।
#চলবে…
[ বড় পর্ব! আজকে কিন্তু একটু বড়বড় মন্তব্য চাই পাঠকমহল। 🥺]

