নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ২২.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

২২.

তারাবিহীন আকাশে আজ কেবল চাঁদটাই উঠেছে। রাত বারোটার বিপ শব্দ আসলো হাতঘড়ি থেকে। নিয়ন আলোতে ব্রীজের কালচে পিচ হলুদাভ দেখাচ্ছে। ফুটপাতের পাশে ল্যাম্পপোস্টের নিচে থমকে বসে আছে অগ্নিলা। একধ্যানে নিচদিক তাকিয়ে আছে। ঠোট কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে ওর। জনশুন্য ব্রীজটায় অনেকক্ষন পরপর দু একটা মালবাহী ট্রাক তীব্র গতিতে চলে যাচ্ছে। থেমে থাকার মধ্য আছে কেবল অগ্নিলা আর এক অবয়ব। সে ওর সামনে দাড় করানো গাড়িতে হেলান দিয়, বুকে হাত গুজে দাড়ানো। অনেকটা সময় নিয়ে সে ওর দিকে এগোলো। স্বগতিক স্বরে শুধালো,

– কারা ছিলো ওরা?

অগ্নিলা চোখ তুলে তাকালো। এতোটা সময় পর স্বস্তিময় কোনো কন্ঠ শুনে কি হলো ওর, ঝড়ের বেগে উঠে গিয়ে ও গলা জড়িয়ে ধরলো সে মানুষটার। মুখ দিয়ে লম্বা করে শ্বাস ছাড়লো একটা।
অকস্মাৎ অগ্নিলার এমন আলিঙ্গনে একপা পিছিয়ে গেছে সাইফ। লক্ষ্য করলো, অগ্নিলা হাপাচ্ছে। এতোক্ষনে ভয় নামক অনুভুতিটা ওর শরীরে কম্পন তুলে দিয়েছে। অথচ এই ভয়টা ওর মিনিটবিশেক আগে হওয়ার কথা ছিলো। সবুজের মৃত্যুর বিষয়ে জরুরি লিড পাওয়ার খবর জানিয়ে ওকে পুলিশস্টেশন যেতে বলা হয়। স্নিগ্ধতার ভার্সিটি থেকে সোজা পুলিশস্টেশনের উদ্দেশ্যেই বেরিয়ে পরেছিলো ও। ফেরার পথে হঠাইৎ অগ্নিলার কল। ড্রাইভ করা অবস্থায় ব্লুটুথে কলটা রিসিভ করে সাইফ। কিন্তু ওপাশ থেকে অস্ফুট আওয়াজ ছাড়া কিছুই কানে আসেনি ওর। বারবার হ্যালো বলেও লাভ হচ্ছিলো না। প্রতিত্তর করছিলো না অগ্নিলা। সাইফ চিন্তায় পরে যায়। চেনাজানা অফিসারকে কল করে অগ্নিলার নম্বরটা ট্র্যাক করতে বলে তৎক্ষনাৎ।

ব্রীজটায় আসতেই ট্র্যাকারে এক্সাক্ট লোকেশন মিলে যায় সাইফের। ওখানে কেবল একটা গাড়ি দাড় করানো ছিলো। আর বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলো একজন। গাড়ি থামিয়ে নেমে আসে সাইফ। ওকে দেখেই ভরকে যায় মুখবাধা লোকটা। তড়িঘড়ি করে গাড়িতে চরে বসে। তার ভীতগ্রস্থ অবস্থা দেখে সন্দেহ হয় সাইফেরও। দৌড়ে এসে গাড়ি আগলে দাড়ায় ও। গাড়ির ফ্রন্টসিটে দুজন ছিলো। পাশেরজনের ইশারায় সাইফ সামনে দাড়ানো অবস্থাতেই গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছিলো ড্রাইভার। উপায় ছিলো না সাইফের। কোমড়ে গোজা রিভলবার বের করে গুলি চালায় গাড়ির টায়ারে। গাড়ি আর এগোলো না। ড্রাইভারের পাশের ছেলেটাকে ফোন কানে তুলতে দেখলো সাইফ। মুখ রুমালে বাধা ছিলো বলে চেহারা বোঝার উপায় নেই একজনেরও। ও দুপা এগোতেই ওরা গাড়ি থেকে নেমে উল্টোপথে ছুট লাগায়। সাইফও পিছু নিতে যাচ্ছিলো ওদের। কিন্তু গাড়িটাকে পাশ কাটাতে গিয়ে পা থেমে যায় ওর। ব্যাকসিটে কেউ সেন্সলেস অবস্থায় পরে আছে। সেটা আর কেউ নয়, অগ্নিলা। ছেলেদুটো অগ্নিলাকেই কিডন্যাপ করার চেষ্টা করছিলো।

সাইফ গাড়ির চাবি ভুলে এসেছিলো। ছেলেদুটো ওরই গাড়ি নিয়েই পালায়। কানে গোজা ব্লুটুথে গাড়ির নম্বর বলে দিয়ে ওটাকে আটকানোর জন্য বলে দিলো সাইফ। অতঃপর গাড়িতে উঠে অগ্নিলাকে ডাকা শুরু করলো। সাড়া নেই অগ্নিলার। ঠোট কেটে গিয়েছে ওর। গালে আঙুলের দাগ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, চড় মারা হয়েছে ওকে। একটা বাটন ফোন সিটের নিচে পরে আছে। মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়লো সাইফ। যেভাবেই হোক, জ্ঞান হারানোর আগে অগ্নিলা ওকে কল করতে পেরেছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। গাড়িতে থাকা পানির বোতল নিয়ে অগ্নিলার চোখে ছিটে মারলো সাইফ। সময় নিয়ে চোখ মেললো অগ্নিলা। আশপাশ আস্তেধীরে দেখে নিয়ে ধরফরিয়ে উঠে বসলো ও। সাইফকে একটাশব্দও বললো না। গাড়ি থেকে নেমে, মাথার চুল উল্টে ধরে বসে রইলো ল্যাম্পপোস্টের নিচে।

– ছেলেদুটো কে ছিলো মিস অগ্নিলা? চেনেন আপনি ওদের?

দ্বিতীয়বার সাইফের কন্ঠ শুনে ওর গলা ছেড়ে তখনতখন পিছিয়ে দাড়ালো অগ্নিলা। সাইফ অবাক হলো না। বললো,

– ওরা কিডন্যাপ করতে চেয়েছিলো আপনাকে?

– হয়তো।

– কোথায় ছিলেন আপনি? কি করে ঘটলো এসব?

– ক্যাম্পাস থেকে বুকশপে গিয়েছিলাম। বই দেখতে দেখতে সন্ধ্যে গরায়। নামাজের সময় বলে লোকজন কম ছিলো তখন। দোকান থেকে বেরোতেই একটা গাড়ি আমার একদম সামনে এসে দাড়ায়। আর দুটো ছেলে মিলে জোর করে আমাকে গাড়িতে তুলে নেয়। স্মার্টফোন ওখানেই ফেলে দিয়েছে। বাটনফোনটা দিয়ে ডায়াললিস্টের প্রথম নম্বরটাতেই কল লাগাই। কখন জ্ঞান হারিয়েছি, জানিনা। লাকিলি কল রিসিভার আপনি ছিলেন। এন্ড ইউ আর হেয়ার।

অগ্নিলা একটানা কথাগুলো এমনভাবে বললো যেনো এগুলো ওর সাথে ঘটা নিত্যদিনের ঘটনা। সাইফ অবাকচোখে পরখ করলো ওর ভঙ্গিমা। একটু আগে ঘটতে চলা বিপদ নিয়ে এতোটুকোও ভয়ের রেশ নেই ওর চেহারায়। অগ্নিলা একটা শুকনো ঢোক গিলে নাক টানলো। হাতে চোখমুখ মুছে, চুলগুলো ঠিক করার ভঙ্গিতে বললো,

– এনিওয়েজ, সরি ফর ডিস্টার্বিং ইউ অন অল আ সাডেন। আমি ঠিক আছি এখন। আপনিও আসতে পারেন মিস্টার এহমাদ। এগেইন, থ্যাংকস ফর ইওর হেল্প।

সাইফের বিস্ময় আকাশ ছুলো। কি বলছে কি এই মেয়ে? পাগলটাগল হয়ে গেছে নাকি? যেই ওর সাথে এতো ভয়ানক বিপদ ঘটতে যাচ্ছিলো, সেই ও এখন বলছে, ও ঠিক আছে। আবার ওকে থ্যাংকস দিয়ে বলছে, আপনি এখন আসতে পারেন! ওকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আশপাশ দেখলো অগ্নিলা। গলা স্বাভাবিক করে বললো,

– আব্…আপনি গাড়িতে আসেননি? কিভাবে ফিরবেন?

– হ্যাভ ইউ গন ম্যাড?

সাইফ উচ্চস্বরে বললো। অগ্নিলা চমকে উঠলো ওর ধমকে। শ্বাস ফেলে, ঠোট কামড়ে ধরে নিজেকে সংবরন করলো সাইফ। ধীরস্থির গলায় বললো,

– লিসেন! ওরা আপনাকে কিডন্যাপ করতে এসেছিলো। তারমানে ওদের সাথে নিশ্চয়ই আপনার কোনো শত্রুতা আছে। আর যদি এমনই হয়, দেন আবারো আপনার ওপর ওরা এটাক করতে পারে। ডোন্ট ইউ থিংক, ইটস আ সিরিয়াস ইস্যু?

– এটা আমার ওপর আসা চতুর্থ এটাক ছিলো মিস্টার এহমাদ।

– হোয়াট?

সাইফের প্রতিক্রিয়া দেখে অগ্নিলা হাসি দিলো একটা। কি ভেবে গাড়িতে চরে গেলো ও। ওখান থেকে বাটন ফোনটা বের করলো নিজের। নম্বর ডায়াল করতে করতে বললো,

– লিভ ইট। অনেক রাত হয়েছে। বাসায় প্রতিবারের মতো এবারো তান্ডব বইছে হয়তোবা। আগে কল করে জানাই এবারো মরিনি। নইলে মম ড্যাড বাসায় তুলবে না।

মজারছলে কথাগুলো বললো অগ্নিলা। সাইফ চুপচাপ শুধু দেখছিলে ওকে। অগ্নিলা ফোনে বলছে, ‘এক ব্যাচেমেটের সাথে ক্লাবে এসেছি মম। আসার সময় জানানোর কথা মনে ছিলো না। ঘন্টাখানেকের মধ্যে ফিরছি। ড্যাডকে বলে দিও এটুকো সময়ে বিপি যতোটুকো রাইজ করিয়েছে, তা এই একঘন্টার মধ্যে নামিয়ে ফেলতে। রাখছি’
সাইফ নির্বাক। ওর নিজের মোবাইলে কল এসেছে এবার। ব্লুটুথে কল রিসিভ করলে ওপরপাশের অফিসার বললো,

– গাড়িটা পাওয়া গেছে স্যার। বারো নম্বর চেকপোস্টের আগে ওটা থামানো ছিলো। উই গেইস, গাড়িতে যারা ছিলো, ওরা টের পেয়েছে চেকিং হচ্ছে। অনেকটা দুরেই গাড়ি থামিয়ে পালিয়েছে।

– ড্যাম!

পায়ের নিচে থাকা ইটের টুকরোতে লাথি মারলো সাইফ। কপাল চেপে ধরে, চোখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস ফেললো একটা। তখনই আঙুল বাজানোর আওয়াজ কানে আসলো ওর। চোখ মেলে দেখে, একটা ট্রাক থামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অগ্নিলা। ওকে তাকাতে দেখেই বললো,

– লিফ্ট দেবে। আপনি যাবেন? না গেলে আমাকে উপরে উঠতে হেল্প করুন প্লিজ!

সাইফ কোমড়ে দুহাত রেখে দাড়ালো। শাড়ি পরিহিত নারী ট্রাকের পেছনে ঝুলছে। চড়ার চেষ্টা করছে মুলত। এগিয়ে গিয়ে ট্রাকচালককে দেখে নিলো সাইফ। কথাবার্তা বলে জিজ্ঞাসাও করে নিলো কোনদিকে যাবে। যাত্রাপথে মিল থাকায় গিয়ে ওই ছেলেগুলোর রেখে যাওয়া গাড়িটার নম্বর নোট করে নিলো আগে। সাথে কয়েকটা ছবি তুলে নিলো ওটার। অগ্নিলাকে কোলে তুলে ট্রাকে চরিয়ে দিলো সাইফ। তারপর নিজেও উঠে বসলো। ট্রাক চলতে শুরু করলে সাইফ গম্ভীরস্বরে বললো,

– এবার বলুন ওরা কেনো কিডন্যাপ করতে চাইছিলো আপনাকে।

– এসব ছাড়ুন মিস্টার এহমাদ! আপনি ঠিক সময়ে চলে এসেছেন, আমার কিছু হয়নি, এটা এনাফ। আরকিছু ম্যাটার করে না। আমিতো…

সাইফ হুট করে হাত চেপে ধরলো অগ্নিলার। ওর চেহারায় রাগ স্পষ্ট। চোয়াল শক্ত রেখে বললো,

– আপনার নিরাপত্তা আপনার কাছে ম্যাটার না করলেও, আমার কাছে ম্যাটার করে। নাও এন্সার মি উইথআউট আ সিঙ্গেল স্ট্রেচ! কারা ওরা? আপনাকে কেনো কিডন্যাপ করতে এসেছিলো?

অগ্নিলা দমে গেলো। ওর হাত ছেড়ে নমনীয় হলো সাইফ। অগ্নিলা নতস্বরে বললো,

– ওদের সত্যিই চিনিনা আমি। অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারিনা বলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অনেকেরই টার্গেট হয়ে গিয়েছি। এর আগে তিনবারের মতো আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। একবার তো মরতে মরতে বেচেছি। হসপিটালাইজড ছিলাম ছ মাস। আমার ধারনা ছিলো যারই পাকা ধানে মই দেইনা কেনো, আগেরগুলোর মতোই হয়তো মারার চেষ্টাটাই করবে। কিন্তু আজ প্রথমবার কিডন্যাপ করার কথা ভেবেছে কেউ। আউট অফ দ্যা বক্স যাকে বলে। আমি ভেবে দেখিনি এমন কিছু ঘটাবে কেউ। এজন্যই খানিকটা ভয় পেয়ে তখন আপনাকে…

অগ্নিলা কথা শেষ করলো না। কিন্তু বাকিটুকো বুঝতে বাকি রইলো না সাইফের। বললো,

– এতোবার বিপদে পরেছেন, এরপরও পুলিশকে কিছু ইনফর্ম করার প্রয়োজনবোধ করেননি?

– ইনফর্ম করেছিলাম একবার। লাভ হয়নি। তারপর আর মনেও হয়নি লাভ হবে কোনোদিনও।

– কোন থানায় রিপোর্ট করেছিলেন?

অগ্নিলা জবাব দিলো না। সামনের ড্রাইভারকে উচুগলায় বললো,

– সামনে কি পরবে কাকা?

– ডাকশাল।

বাটনফোন দিয়ে বাসায় কল করতে যাচ্ছিলো অগ্নিলা। গাড়ি পাঠাতে বলবে বলে। সাইফ বুঝলো, পুলিশের কাছেই পুলিশের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আর একবর্ণও বলবে না অগ্নিলা। ফোন কেড়ে নিলো ওর হাত থেকে। ভ্রুকুচকে তাকালো অগ্নিলা। ওর চাওনিতে প্রশ্ন আর সাইফ নিরুত্তর। মিনিটখানেক পর ট্রাক থামলে সাইফ বললো,

– পুলিশই আজ আপনাকে বাচিয়েছে, আর পুলিশের গাড়ি করেই আজ বাসায় ফিরবেন আপনি। নামুন!

চুপচাপ নেমে আসলো অগ্নিলা। সত্যিই ট্রাকের সামনে পুলিশি গাড়ি দাড় করানো। একজন সিভিল পোশাকের লোক সাইফকে চাবি দিয়ে অন্য বাইকে চলে গেলো। ট্রাকচলককে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করে গাড়িতে চরে বসলো সাইফ। কথা বাড়ায় নি অগ্নিলাও। বাসার ঠিকানা বলে দিয়ে পুরো পথ চুপ রইলো ও। ওর বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালো সাইফ। অগ্নিলা গাড়ি থেকে নেমে দেখে ওর বাবা গেইটে দাড়িয়ে। জোরপুর্বক হেসে বললো,

– ড্ ড্যাড? তুমি গেইটে কেনো?

– তুমি পুলিশের গাড়িতে কেনো?

ক্ষুদ্রশ্বাস ফেললো অগ্নিলা। সাইফ ততোক্ষণে গাড়ি থেকে নেমেছে। ভদ্রলোককে দেখে অগ্নিলাকে জিজ্ঞেস করলো,

– আপনার বাবা?

মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বুঝালো অগ্নিলা। সাইফ প্রথমে সালাম দিলো ভদ্রলোককে। জবাব দিলো সে। সাইফ সৌজন্য দেখিয়ে বললো,

– কেমন আছেন স্যার?

– রাত দুটোর সময় যার মেয়ে পুলিশের গাড়ি করে বাসায় ফেরে, সে কেমন থাকতে পারে বলুন?

তার থেকে সেকেন্ডদুই দৃষ্টিচ্যুত করলো সাইফ। তারপর প্যান্টের পকেট থেকে কার্ড বের করলো নিজের। কার্ডটা ভদ্রলোকের দিকে এগিয়ে দিলো। ভদ্রলোক কিঞ্চিৎ বিস্ময়ে তাকালো। সাইফ দৃঢ়গলায় বললো,

– আপনার কথায় মনে হলো এমন দৃশ্য দেখে আপনি খারাপই আছেন। এনিওয়েজ! পুলিশের গাড়িচালকও একজন দায়িত্ববান পুলিশ। এরপর থেকে এমন দৃশ্যে আপনাকে যেনো আর খারাপ না থাকতে হয়, সে দায়িত্বও আমি নিতে চাই। তো মেয়ে পুলিশের গাড়ির পরিবর্তে বরের গাড়িতে করে মাঝরাতে বাসায় ফিরলে, অবশ্যই আপনি খারাপ থাকবেন না রাইট?

নিরবতা। যেনো সাইফের বলা একবর্ণও বুঝতে আগ্রহী নয় দুজনের কেউ। সাইফ আবারো দম নিয়ে বললো,

– মিস অগ্নিলাকে বিয়ে করতে চাই আমি।

বলা শেষে সাইফ লক্ষ করলো, বাবা-মেয়ে জমাট বাধা বরফের মতো থমকে আছে। পলক অবদি ফেলছে না কেউ। যা বলেছে, ভেবেচিন্তেই বলেছে সাইফ। তাই বলার সময় কিছু মনে না হলেও এবার ওর অস্বস্তি হচ্ছে। তবুও অগ্নিলার দিকে তাকিয়ে বললো,

– এখনই হ্যাঁ, না যেকোনাটা বলার সম্পুর্ন অধিকার আছে আপনার। আপনাকে ভালো লাগে এটা আপনাকে বলার আগে আপনার গার্ডিয়ানকে বলা আমার কাছে বেশি গ্রহনীয় মনে হয়েছে। তাই ওনাকেই এভাবে বলা। আই হোপ আমি আমার সীমাবহিস্থ কিছু বলিনি বা করিনি। বাকিটা আপনাদের বিবেচ্য। আসছি।

বলা শেষ করে আর দাড়ালো না সাইফ। গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। ও চোখের আড়াল হলে স্তব্ধতা ছেড়ে বাস্তবে ফিরলো অগ্নিলা। সাইফ কি বলে গেলো এগুলো? সত্যিই কি তা শুধুমাত্র ভালোলাগার স্বীকারোক্তি ছিলো? নাকি অন্যকিছু???

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here