#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২৪.
নিরব তল্লাশী চলছে শারাফের রুমজুড়ে। শায়েরী, মেহেরুন, মিসেস নাহিদ তিনজন মিলে নিশব্দে রুমটা ছেকে ওর ওয়ালেট খুজে চলেছে। আর শারাফ নির্বিঘ্নে বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। এতোক্ষন যাবত খুজেও কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছে তিনজনই। হাত পা ছুড়তে ছুড়তে খোজ চালিয়ে যাচ্ছে রীতিমতো। মুসকান দরজার পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মিসেস নাহিদ ওয়ালেট খুজছেন আর ওকে কড়াচোখে বোঝাচ্ছেন, ‘টু শব্দটা করলে তোমার আর রক্ষে নেই মুসু!’ অনেকক্ষণ খুজে ক্লান্ত হয়ে দাড়িয়ে গেলো মেহেরুন। শারাফের বেডসাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাস হাতে নিলো। কিন্তু পানি মুখে তোলার আগেই ফোন ভাইব্রেট হয় ওর। শায়েরীকে ইশারা করে মেহেরুন পা টিপে এগোলো বারান্দার দিকে। কলটা ওর বাবার। রিসিভ করে নিচুস্বরে বললো,
– হ্যাঁ ড্যাড, বলো। কেমন আছো?
– কেমন আছি? এই প্রশ্ন করার দরকার পরে তোর?
– কাম অন ড্যাড। নট এগেইন। মম কেমন আছে? নীলা?
– হ্যাঁ! এটা বল! নীলা! তোর বোন কোনোদিন ভালো থাকতে দিয়েছে আমাদের, যে বলবো আমরা ভালো আছি?
– কি হয়েছে ড্যাড? গতরাতে বাসায় ফেরেনি?
আগ্রহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে থেকেও প্রশ্ন করলে মেহেরুন। আর ওপাশ থেকে ওর বাবা গরগর করে আগেররাতের সব ঘটনা বর্ননা করতে লাগলো। ডাইনিং টেবিলে ঠিক সামনের চেয়ারটায় বসে বাবার বলা কথাগুলো শুনতে বেশ আহাজারির বলে মনে হচ্ছিলো। তবুও অগ্নিলা কোনোরুপ প্রতিক্রিয়া দেখালো না। নিজের মতো করে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। ওর স্বভাব সম্পর্কে সবটাই জানে মেহেরুন। তাই ওপর পাশের রিয়্যাকশনটাও বেশ বুঝতে পারছে ও। আগেররাতে সাইফ বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যাওয়ার পর অগ্নিলা দুটো কথা বলে নিজের ঘরে চলে যায়। ও জানে, তারপর আর দুচোখের পাতা এক করেনি ওর বাবা। মাকে বলেছে, ‘রাত পোহাতে ঘন্টাতিন বাকি মম। শুধু এইটুকুই সময়। ড্যাডকে আজ টেনশন করতে দাও ইচ্ছেমতো। এরপর আর টেনশন দেবো না। পাক্কা!’
এসব শুনে ওর মা-ও বাবা-মেয়ের মাঝে আসেনি আর। সকালে অগ্নিলা যখন ড্রয়িংরুমে আসলো, ততক্ষনে পাইচারী করতে করতে ওর বাবা টাইলসে দাগ ফেলে দিয়েছেন একপ্রকার। অগ্নিলা চুপচাপ রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে গেছে। ঠিক সেসময়ই মেহেরুনকে কল লাগায় ওর বাবা। জানায় সবটা। এদিকে বাবার কথা শুনে যেনো মাথায় বাজ পরলো মেহেরুনের। হাতে থাকা গ্লাসটা নাটকীয়ভাবে সশব্দে ফ্লোরে পরলো। শারাফ নড়েচড়ে ওপরপাশ হয়ে শুয়ে পরলো। ঘুমুঘুমু গলায় বললো,
– শব্দ না করে তল্লাশি চালাতে জানোনা মেহুভাবী? তোমার চেয়ে মুসুটা বেশি চুপ আছে আজ। পর্দার হ্যাঙ্গারের ওইটুক আওয়াজে ঘুম সেভাবেও ভাঙেনি আমার।
ওর কথা শুনে শায়েরী, মিসেস নাহিদ দুজনেই চোর ধরা পরার ভঙিমায় আটকে গেছে। টের পেলো, শারাফ আগেই জেগেছে। এতোক্ষণ ঘুমোনোর ভান করছিলো শুধু। শারাফ চোখ বন্ধ রেখে বললো,
– মুসু? আয়তো। দেখতো আমার হাতের কাটাদাগটা মিলিয়ে গেছে কিনা?
মুসকান নাচতে নাচতে রুমে ঢুকে সোজা বিছানায় উঠে গেলো। শারাফের টিশার্ট গুটিয়ে কবজি দেখে বললো,
– দাগটা যায়নি তো শারাফ ভাইয়া! তুমি নিয়ম করে ঔষুধ লাগাও না?
– লাগিয়েছি। তবুও যাচ্ছে না রে। ও বউয়ের আদর ছাড়া যাবেও না মনেহয়।
মিসেস নাহিদ এবার এগিয়ে গেলেন। মুসকানের হাত ধরে বিছানা থেকে নামিয়ে দিলেন ওকে। শারাফকে বললেন,
– এসব মুসুকে শুনিয়ে লাভ আছে শারাফ? তোমার বিয়ের জন্য কতোকি বাদ রয়ে গেছে জানো? ‘ছোটভাইয়ের বিয়ে ঠিক’ এই সুখবরটা পাচ্ছে না বলে বেচারা শাওন দেশে ফিরছে না, এদিকে মেহুটা একাএকা মন খারাপ করে থাকে। তুমি তো জানোই সবটা।
আড়মোড়া ছেড়ে এবার উঠে বসলো শারাফ। বালিশ কোলে নিয়ে ঘাড় কাৎ করে তাকালো মেহেরুনের দিকে। বললো,
– তাই নাকি? মেহুভাবী? যায় দিন, যায় একাকী….?
সুর তুলে বলে, শারাফ হুইস্টলিং করলো। মেহেরুন কিছু বললো না। থমকে দাঁড়িয়েই আছে ও। মিসেস নাহিদ শারাফের কাধে চড় লাগালেন। হেসে দিলো শারাফ। শায়েরী হ্যাঙ্গারে ঝুলানো ওর শার্টের পকেটে হাত পুরতে পুরতে বললো,
– তোর ওয়ালেট কই রে ভাইয়া? ভাবীকে আর কতোদিন পকেটে পুরে রাখবি বল?
– ওকে বুকপকেটে রেখেছি গাধী। তোর চোখে পরবে না।
শায়েরী গাল ফুলিয়ে হাত আবদ্ধ করে নিলো। মিসেস নাহিদ অধৈর্য্য স্বরে বললেন,
– ব্যস! অনেক তো হলো শারাফ! এখন তুমি নিজে থেকেই তোমার পছন্দের মেয়ের খোজ দেবে? নাকি অগ্নিলার সাথেই বিয়েটা দিয়ে দেবো তোমার? কোনটা?
শারাফ ঘাড় চুলকালো। বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুমের ঢুকে গেলো ও। বেরিয়ে কাবার্ড থেকে জ্যাকেট পরে, ওয়্যারড্রোবের ওপরে থাকা রুমালটার নিচ থেকে ওয়ালেট বের করলো নিজের। হা করে সেদিকে তাকিয়ে রইলো শায়েরী আর মিসেস নাহিদ। আড়ালে আবডালে খুজতে গিয়ে সামনের জায়গাগুলোর খোজ করাই ভুলে গেছে তারা। অবশ্য রুমালটাও খানিকটা অদ্ভুতভাবে আড়াল করেছিলো ওয়ালেটটাকে। আর শারাফের স্বাভাবিক ভঙ্গি বলে দিচ্ছে, ও জানতো ওরা সবখানে খুজবে আর চোখের সামনেরটাকেই উপেক্ষা করবে। শারাফ আয়নার সামনে গিয়ে চুল উল্টাতে উল্টাতে বললো,
– তুমি এখনো চুপ করে আছো কেনো মেহুভাবী? মিস হটিকে তাহলে বলেই ফেলো আমাকে বিয়ে করতে রাজী হয়ে যেতে? বিয়েটা তাকেই করি ফেলি তবে?
– নীলা বিয়েতে রাজি…
শায়েরী, মিসেস নাহিদ এবার বিস্ফোরিত চোখে মেহেরুনের দিকে তাকালো। গ্লাসখানা ভাঙার পর থেকে এ অবদি সে নিজেই যেনো পাথর হয়ে দাড়িয়ে ছিলো। কিছুই বলেনি। হঠাৎ করে এমন কথা বলায় চমকে উঠেছে সবাই। শারাফ কিঞ্চিৎ ভ্রুকুচকে তাকালো ওর দিকে। বললো,
– তুমি তো শাইয়ের মতো লেইম জোক মারো না ভাবী। কি হলো আজ তোমার?
– তুই তো চুপই থাক! তুমি কি বলছিলে মেহুভাবী? নীলাপু শারাফ ভাইয়াকে বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেছে?
– হু। নীলা নাকি বিয়েতে রাজি…
শায়েরীকে জবাব দিয়ে মেহেরুন থমথমে পায়ে এগিয়ে শারাফের বিছানায় বসলো। শারাফ জ্যাকেটের হাতা টান মেরে এগোলো ওর দিকে। কপালে হাত রেখে তাপমাত্রা পরখ করার ভঙিতে বললো,
– কি হয়েছে ভাবী? শাওন ভাইয়া কল করেনি সকালে? এজন্য শরীর খারাপ করছে?
নিরস দৃষ্টিতে তাকালো মেহেরুন। উপস্থিত সবার প্রশ্নসুচক চাওনি। একটা দম নিয়ে বলতে লাগলো,
– গতরাত দুটোর সময় কোন এক পুলিশ নাকি নীলাকে বাসায় পৌছে দিয়ে গেছে। আর যাবার সময় বাবার কাছে নাকি ওকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে গেছে।
বিস্ময় বাড়লো শায়েরী, মিসেস নাহিদের। শারাফ হেসে দিয়ে বললো,
– আর সে পুলিশের সাহসীকতায় মুগ্ধ হয়ে মিস হটি বিয়েতে রাজি হয়ে গেছে! তাইতো?
– শুধু রাজি? সে চলে যাওয়ার পর নীলা নাকি ড্যাডকে বলেছে ‘বিয়ে করলে একেই করবো। দিনতারিখ ঠিক করো ড্যাড’
– বাহ! ভালো তো! ফাইনালী মিস হটি’রও বিয়ে হতে চলেছে! তা রাত দুটো অবদি তোমার বোন কি এমন দেখলো ওই পুলিশে? যা আমার মাঝে দেখেনি? হুম?
ভ্রু নাচিয়ে বললো শারাফ। ওর কথা শুনে মুসকানের কানে নখ গুজে দিলেন মিসেস নাহিদ। মেহেরুন উঠে দাড়ালো। শারাফের কান ধরে বললো,
– কবে শুধরাবে তুমি শারাফ?
– ভেবেছিলাম তোমার বোনকে বিয়ে করে শুধরে যাবো। তোমার বোন তো সে সুযোগ দিলো না। হয়তো আমার আর শুধরানো হলো না মেহুভাবী!
আরো জোরে কান চেপে ধরলো মেহেরুন। শারাফ ব্যথাতুর গলায় বললো,
– আহ! কান ছাড়ো ভাবী! আমি না তোমার একমাত্র দেবর?
– তাই না একমাত্র দেবারজি? নিজে ওয়ালেটে প্রেমিকার ছবি নিয়ে ঘুরবে। আর আমার বোন তোমার আশায় চিরকুমারী থাকবে? আগে ওয়ালেট বের করো। তারপর কান ছাড়ছি! শাই? তোমার ভাইয়ের পকেটে হাত দাও!
শারাফ মুহুর্তে ওর হাতের নিচ থেকে বেরিয়ে আসলো। মিনিটেবিলে থাকা গাড়ির চাবিটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলো স্বপ্নীল থেকে। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আরেকবার তাকালো বাড়িটার দিকে। ওর সব সুখ এখানেই। কেবল প্রেমের জায়গাটা খালি পরে আছে। সেটাও খুব বেশিদিন অপূর্ণ রাখবে না ও। স্বপ্নীল ওর স্বর্গ। অভাব যে সেখানে বড্ড বেমানান। বড্ড বেমানান!
•
সাইফ আগেরদিন বেরিয়েছিলো আরাফাতের সাথে দেখা করবে বলে। ফেরার পর স্নিগ্ধতার সাথে জোরপুর্বক হাসি রেখে দু চারটে কথা বলেছে কেবল। তারপরই নিজের কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে রুমে চলে গেছে। স্নিগ্ধতার পুরো দিনটা কেটেছে নিরব আত্মযুদ্ধে। এমন কেনো করছে সাইফ? বন্ধুর বিদেশযাত্রায় এমন ব্যবহার কি স্বাভাবিক? নাকি যাওয়ার আগে আরাফাত কি ওকে নিয়ে সাইফের কাছে বলেছে? কিছুক্ষন বসেবসে ড্রয়িংয়ে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু হাত চলছে না ওর আজ। সবকিছু অসহ্য লাগছে। হাত মুছে চুলগুলো ঠিক করে নিলো স্নিগ্ধতা। তারপর কফি বানিয়ে, সাইফের রুমের সামনে গিয়ে নক করলো। ভেতর থেকে জবাব এলো,
– দশ সেকেন্ড দে টুকি।
ঠিক দশসেকেন্ড পরেই সাইফ দরজা খুলে দিলো। চোখমুখ বসে গেছে ওর। যেনো সারারাত ঘুমোয়নি। স্নিগ্ধতা বললো,
– রাতে ঘুমোওনি তুমি?
– না রে! কাজ ছিলো। ভেতরে আয়।
সাইফ কফির মগ হাতে নিলো। ভেতরে ঢুকলো স্নিগ্ধতা। সত্যিই অনেক কাগজপত্র টেবিলে রাখা, ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ দিয়ে হুলস্থুল অবস্থা যাকে বলে। সাইফ এগিয়ে ল্যাপটপে হাত দিলো। ডানহাতে ধরে রাখা কফির মগে চুমুক দিয়ে বললো,
– তুই কিছু বলবি?
– আসলে ভাইয়া…
– হুম?
– আমি একটু শপিং পয়েন্টের পাশের আর্ট গ্যালারী যেতে চাই। কয়েকটা ড্রয়িং বিক্রি করার ছিলো।
সাইফ থামলো। বোনের দিক ফিরে বললো,
– কিন্তু আমার তো আজ পুলিশস্টেশন যেতে হবে।
– আমি একাই যেতে পারবো ভাইয়া।
– ওটা তো ভালোই দুরে টুকি। তুই একা…অনলাইনে সেল করা যাচ্ছে না?
– যাবে। কিন্তু কম পাবো। আর তুমিতো জানোই ওগুলোর টাকা ওল্ড এজ হোমে যাবে।
– বাকিটা আমি পুষিয়ে দেবো। আর বৃদ্ধাশ্রমের ফান্ডে অনলাইন পেমেন্ট করে দিস না হয়?
– আমি এই অজুহাতেই ওনাদের সাথে দেখা করে আসি। তুমিতো জানো ভাইয়া! আর আমি পারবো একা যেতে! মানা করো না প্লিজ!
সাইফ দমলো। স্নিগ্ধতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
– আচ্ছা। সাবধানে যাস। আর জলদি ফিরিস। আমার ফিরতে লেইট হতে পারে। লান্চ, ডিনার করে নিস কেমন?
ঘাড় নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো স্নিগ্ধতা। একটা হাসি দিয়ে আরেকবার পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নেরিয়ে আসলো ও। সাতটার মতো ড্রয়িং সাথে নিয়ে, রিকশা নিয়ে পৌছালো গ্যালারীতে। ওখানে গিয়ে গ্যালারীর মালিকের কাছে ড্রয়িংগুলোর দাম ঠিক করছিলো ও। সে ভদ্রলোক অনেকটা কমে ড্রয়িংগুলো কেনার উদ্দেশ্য কথা বাড়িয়ে চলেছেন। স্নিগ্ধতা একপর্যায়ে বলে উঠলো,
– শুধুশুধু বার্গেইনিং কেনো করছেন বলুনতো? আপনিও জানেন ফাইভ বাই এইটের রিয়েল ওয়েলপেস্টের এই ড্রয়িংগুলো বেশ দামী হয়। তারপরও…
– তুমি ঠিকই বলেছো স্নিগ্ধতা। আসলেই ওগুলো অনেক দামী।
পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে স্নিগ্ধতা আটকে গেলো। শ্বাস আটকে পাশ ফিরতেই ইনড অফ হোয়াইট শার্ট পরিহিত আরাফাত দাড়িয়ে। ওর ডানহাতে কোট ঝুলানো, বাহাতে ট্রলি। স্নিগ্ধতার বুঝতে সময় লাগলো না, আজকেই ফ্লাইট আরাফাতের আর এই পথেই এয়ারপোর্ট যাচ্ছিলো ও। কিন্তু গ্যালারীতে ওর কি কাজ? নাকি কাচের দেয়ালের ওপার থেকে ওকে দেখেই থেমেছে। ওড়না মুঠো করে নিলো স্নিগ্ধতা। আরাফাত আরো দুপা এগিয়ে এসে, তাচ্ছিল্যে হেসে বললো,
– আর এগুলোর সৃষ্টা হিসেবে তুমিও অনেক দামী স্নিগ্ধতা। দেখোনা, তোমায় পেয়ে গেলে হয়তো সব সুখই আমার হতো। আজ তোমায় পাইনি বলেই সুখের খোজে বিদেশ পাড়ি জমাতে হচ্ছে। সত্যিই তুমি অনেক দামী!
স্নিগ্ধতা মাথা নামিয়ে নিলো। কিছুই বলার নেই ওর। আরাফাত ঠোট কামড়ে অন্যদিক তাকালো। হয়তো সংবরন করলো নিজেকে। আড়াল করলো চোখের জলকে। দেশ ছাড়ার আগে এই মেয়েটার সামনাসামনি হওয়ার ওর ইচ্ছাটা অপুর্ণ রইলো না। আবারো স্নিগ্ধতার দিকে ফিরলো ও। বললো,
– তবে একটা কথা কি জানোতো? নিজেকে নিস্কলঙ্ক দাবী করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারো নেই। ওই আকাশের স্নিগ্ধতম চাঁদের গায়েও কলঙ্ক থাকে। তাই তুমি স্নিগ্ধতা যদি চাঁদ হও, তোমার এই দামই হবে তোমার কলঙ্ক। এটা ঠিক যে, যে এই দাম চুকাতে পারবে সে নিসন্দেহে খুশনসিব। কিন্তু এ কলঙ্ক? তার কি নাম হবে স্নিগ্ধতা? নন্দিনীর কলঙ্ক? নাকি নন্দিত চন্দ্রকলঙ্ক? কোনটা বলোতো? কোনটা?
#চলবে…

