#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৩৩.
স্নিগ্ধতাকে লজ্জায় ফেলো, শুভ্রতায় প্রলয় হানো।
বেগুনীপাড় শাড়িতে জারুলফুলের চ্ছটা ছড়াও
চুলের বহরে মেঘমাল্যের ভীড় টানো।
চুড়ির আওয়াজে আনো কলকাকলির মুখরতা
আড় চাওনিতে ছোড়ো প্রেমবাণের তীক্ষ্ণতা।
উপস্থিতিতে আঁকো অনিমেষ আশ
ঠোঁটজোড়ায় আজ বুঝি রক্তজবার নির্যাস?
এ নুপুরের ছন্দ আমার হৃদস্পন্দনের কারন
ওই গাজরার সুবাসে আমার শ্বাস থামানো বারন।
উপমার তো ইতি হয়না,
অথবা হতে পারো তুমি একচ্ছত্র চন্দ্রনন্দিতা
তোমার মতে রুপকহীনার রুপের কি নাম হয়?
প্রেমকলঙ্কিনী? নাকি প্রেমাসক্তি? স্নিগ্ধতা…?
শক্তমুঠোর হাতবন্ধনীতে আটকা পরে থেমে আছে স্নিগ্ধতা। সামনের মানুষটাকে দেখা আতঙ্ক মিটলেও, অভিযোগ মিটলো না ওর। এই কবিতার অধিকারী সে, এ সন্দেহে আর কোনো ধোয়াশা রইলো না। দৃষ্টিচ্যুত করলো না স্নিগ্ধতা। মৃদ্যু শক্তিতে আবদ্ধতা কাটাতে চাইলো। কিন্তু হাতের মালিক আরো শক্তিতে জরিয়ে নিলো ওকে। স্নিগ্ধতা টের পেলো, ওর কোমড়ের পেছনে আটকে থাকা হাতজোড়ার একটা আলগা পরেছে, আরেকটায় চুড়ি পরানো হচ্ছে। স্নিগ্ধতা ডাগরডাগর চাওনিতে কেবল অভিমান রেখে বললো,
– ডানহাতে চুড়ি পরিনা আমি।
শারাফ ঠোট কামড়ে হাসলো। এই অভিমান যেনো ওর সকল তৃষ্ণার পানীয়। এই অভিমান খুজে, বুঝে এভাবেই একাকার হতে চেয়েছিলো ও। তাইতো দেখেও না দেখার অভিনয় করেছিলো, শুনেও না শোনা কালা সেজেছিলো, মুগ্ধতার চিড় শুষে লেখা একটাএকটা শব্দ বলতে গিয়েও থেমে রয়েছিলো। পুরোপুরিভাবে ডানহাত খোলা পেলো স্নিগ্ধতার। আর সে হাত ছুলো শারাফের বুকের বা পাশ। হয়তো সরিয়ে দেওয়ার মিথ্যে জোরটা খাটিয়েছে স্নিগ্ধতা। শারাফ একচুল নড়লো না। স্নিগ্ধতার কোমড়ের পেছনে বা হাতে চুড়ি পরাতে পরাতে বললো,
– চুড়িগুলো সেমিনারে কেনো ফেলে এসেছিলেন মিস স্নিগ্ধতা? কেউ যাতে এভাবে ভুল হাতে চুড়ি পরায়, সেজন্য?
– আমি কাউকে বলিনি চুড়ি পরাতে।
সে স্পষ্ট জবাবটা কানে তুললো না শারাফ। ঠিক বুকের বা পাশটায়, স্নিগ্ধতার ডানহাতে থাকা মুচড়ানো গাজরার ঘ্রাণ নাকে লাগছে ওর। নিজেরমতো ব্যস্ত থেকে বললো,
– গাজরাটা নষ্ট করেছেন কেনো? কেউ যাতে এর ঘ্রাণে পাগল হয়, সেজন্য?
– আমি কাউকে বলিনি গাজরার ঘ্রানে পাগল হতে।
– নুপুরটাও রেখে এসেছেন। কেনো? কেউ যাতে সেটার উপস্থিতিতে আপনিময় সময় কাটায়, সেজন্য?
– আমি কাউকে বলিনি আমিময় সময় কাটাতে।
শারাফের চুড়ি পরানো শেষ। কিন্তু স্নিগ্ধতার হাত ছাড়লো না ও। স্নিগ্ধতার চোখের দিকে তাকালো এবার। আজ সে চোখে অন্যকিছুর আভাস পাচ্ছে ও। নিস্পলক চাওনিতে শারাফের দিকে তাকিয়ে আছে স্নিগ্ধতা। এতোটা কাছে আসা, শারাফকে খুটিয়ে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে ওকে। উজ্জল বর্ণের মানুষটায় সাদা রঙের শার্টটা কতোটা মানানসই! জোর খাটাতে গিয়ে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে পরেছে শারাফের। সাথে একটা অদ্ভুত ঘ্রান। এটা ওর গাজরার না। হয়তো শারাফের পারফিউমের। ওর শার্টের নিচে থাকা ল্যাভেন্ডার টিশার্টটার গলার পাশটায় অতিক্ষুদ্রাক্ষরে লেখা, ‘Stigmatized’ হুশ ফিরলো স্নিগ্ধতার। নড়াচড়া করতেই শারাফ ওকে ছেড়ে দিয়ে একপা পিছিয়ে দাড়ালো। স্নিগ্ধতা কিঞ্চিৎ অবাক হলেও লক্ষ্য করলো, শারাফের ঠিক পেছন দিয়ে চার পাচজন চলে গেলো। ঠিক পাচঁটায় সেমিনার বন্ধ হয়। মানে শারাফ সময় আর ওদের আগমন টের পেয়েছে বলেই ওকে ছেড়েছে। ওরা পাশ কাটাতে আবারো স্নিগ্ধতার ডান হাত ধরলো ও। আলতোভাবে নিজের বুকের বা পাশটায় ধরে বললো,
– প্রতিনিয়ত এইখানটায় কেনো আঘাত হানছেন মিস স্নিগ্ধতা? ওর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার জন্য?
হাত সরিয়ে চলে আসছিলো স্নিগ্ধতা। কিন্তু আবারো বাধা পরেছে ও৷ পেছন থেকে ওর চুল আঙুলে পেচিয়েছে শারাফ। মৃদ্য ব্যথায় মাথায় একহাত রেখে, চোখ খিচে বন্ধ করে দাড়িয়ে গেলো ও। শারাফ একহাতে স্নিগ্ধতার চুলের ভাজ ঠিক করতে লাগলো। আরেকহাতে পাশের টবে থাকা গাছ থেকে দুটো সাদাগোলাপ ছিড়ে স্নিগ্ধতার পিঠে বুক ঠেকিয়ে দাড়ালো একদম। টের পেলো, স্নিগ্ধতার সর্বাঙ্গ কাপছে। শারাফ নিশব্দে গোলাপদুটো ওর চুলে গুজে দিলো। তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
– এতো অভিমান কেনো আপনার? আমি না বারন করেছি আপনাকে অভিমান করতে। তারপরও কেনো অভিমান দেখাচ্ছেন আপনি?
– আমি কাউকে বলিনি আমার অভিমানের প্রেমে পরতে।
কথাটা বলে যেনো নিজেই চমকে উঠলো স্নিগ্ধতা। প্রেম শব্দটা কোথা থেকে আসছে? কেনোই বা আসছে? শারাফ তো আজ একবারো বলেনি। তাহলে? শারাফ মুচকি হেসে ওর সামনে এসে দাড়ালো। একটুখানি ঝুকে, ঘোরলাগা এক চাওনি স্থির করলো স্নিগ্ধতার ঠোঁটের দিকে। অকস্মাৎ একআঙুলের আলতো স্পর্শ ছোয়ালো সে রাঙা ঠোঁটে। পুরো শরীর ঝাকি দিয়ে উঠলো স্নিগ্ধতার। শারাফ তৎক্ষনাৎ হাত সরিয়ে নিয়ে, সোজা হয়ে দাড়ালো। বললো,
– হুম। আপনি বলেননি। ওরা বলেছে।
…
– আমিও ভেবে রেখেছিলাম, আপনার অনুভূতি না জেনে, আমিও কিছু বলবো না। কিন্তু আজ নিজেকে সংবরন করা দায় হয়েছে আমার মিস স্নিগ্ধতা। তাই সরাসরিই বলছি, আপনাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ।
স্নিগ্ধতা অনুভূতিশুন্যর মতো তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। আর শারাফ অতি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। ওর প্রতিক্রিয়ায় ও উত্তরের অপেক্ষা করছে কি না, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে স্নিগ্ধতাকে কোনো ঘোরের মধ্য আছে বলে মনে হচ্ছে। শারাফের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। তখনই,
– ও মামারা? বাইর হন! কেচিগেইটে তালা দিমু।
বাস্তবে ফিরতেই, শাড়ি ধরে একছুটে চলে আসলো স্নিগ্ধতা। ভাবখানা এমন, এই লোকটা বশীকরন জানে। এই লোকটার সামনে আর আর একমুহুর্ত নয়। আর এক মুহুর্তও থাকলে, দম বন্ধ হয়ে মারা পরবে ও। ওর চলে যাওয়ায় বাধা দিলোনা শারাফ। ধীরপায়ে এগোলো অডিটোরিয়ামের দিকে। জানে সেখানেই পাওয়া যাবে স্নিগ্ধতাকে। সাথে ওর উত্তরও।
•
হাপাতে হাপাতে অডিটোরিয়াম চলে আসলো স্নিগ্ধতা। বন্ধুমহলের প্রশ্নবহরের একটারও জবাব দিলো না। মুহিব কেবল দুর থেকে দেখছিলে ওকে। নাম এনাউন্স হলে ব্যাকস্টেজ থেকে একটা তানপুরাসমেত স্টেজে উঠে গেলো স্নিগ্ধতা। সুবিশাল স্টেজটার ঠিক মাঝখানটায় শুভ্রশাড়ির আঁচল বিছিয়ে বসলো। দুহাতের মাঝে তানপুরাটাকে অতিযত্নে আলিঙ্গন করে, চোখজোড়া বন্ধ রেখে অনুভব করার চেষ্টা করলো সেটাকে। কিন্তু চোখ বন্ধ করতেই কয়েকমুহুর্ত আগের ঘটনা ভেসে উঠলো ওর চোখের সামনে। চোখ মেললো স্নিগ্ধতা। আর একদম শেষের কোনে এক আবছা অবয়ব চোখে পরলো ওর। চিনতে পেরে তৎক্ষনাৎ দৃষ্টিনত করে নিলো ও। শারাফের পরনে থাকা ল্যাভেন্ডার-হোয়াইটের মিশ্রনটা ওর শাড়ির সাথে অমায়িকভাবে মানানসই। চিনতে সময় লাগেনি তাই। শারাফ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। চারপাশের মোলায়েম আলোতে, স্টেজের মাঝখানে বসা শুভ্রতায় মোড়ানো স্নিগ্ধতা যেনো ফুটন্ত পদ্ম। স্নিগ্ধতা এর আগেও পারফর্ম করেছে। তারপর আজ কেমন যেনো ক্রমশ গলা শুকিয়ে আসছে ওর। শুকনো ঢোক গিলে গলা ভেজানোর চেষ্টা করলো আগে। একটু সময় নিয়ে তানপুরায় সুর তুলে গাইলো,
‘ আজ, ঠোঁটের কোলাজ, থামালো কাজ
মন তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম
নাম, বুকের বোতাম, হারানো খাম
আজ কেন যে খুঁজে পেলাম…
দিন, এখনও রঙিন
এই দিন, এখনও রঙিন
তাকে আদরে তুলে রাখলাম…
ওওও, আজ, ঠোঁটে কোলাজ…খুজে পেলাম…
মন, রাখা আছে কোন, ঈশানকোণে, বিষন্নতায়
চোখ, কাটাকুটি হোক,
সহজ খেলার, সময় কোথায়?
এই নরম অসুখ, হাওয়ায় হাওয়ায়, সেরে যাক
ফের সন্ধ্যে নামুক, ব্যথা তোমায়, ছেড়ে যাক।
চুপ, মূহুর্ত চুপ, ঠোঁটের তুরুপ
এই তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম
নাম, বুকের বোতাম, হারানো খাম
আজ কেন যে খুঁজে পেলাম…
ঠোঁট, লুকিয়েছে চোট,
যে রাস্তা যায়, তোমার মনে
চুল, বুনেছে আঙ্গুল, রাতের পিঠে, তারা গোনে।
কেউ, জানেনা দিন, ফিরবে কি না, কোনও দিন?
নীল কুয়াশা ঘর, ভুলে যাওয়াই সমীচিন…
চুপ মূহুর্ত চুপ…খুঁজে পেলাম
দিন এখনও রঙিন…খুজে পেলাম…’
গান শেষে করতালির রোল পরে গেলো অডিটোরিয়ামে। স্নিগ্ধতা চোখ মেলে তাকালো। আলোহীন কোনাটায় বুকে হাত গুজে দাড়ানো অবয়বের চেহারা এখনো অস্পষ্ট। কিন্তু কতোটা সুস্পষ্ট ছিলো তার স্বীকারোক্তি সেটা ও ভালোমতোই জানে। গাওয়া শেষে স্নিগ্ধতা স্টেজ থেকে নেমে এলো। অনুষ্ঠানের পুরোটা সময়, সবাইকে সময় দিয়ে, খুজেছে ও শারাফকে। পায়নি। নিরব মন আর চঞ্চল চোখে কেটেছে ওর সময়। কেনো, তা ও নিজেও জানেনা। প্রায় সন্ধ্যের পর শেষ হয় নবীনবরন অনুষ্ঠান। সাইফকে কল করে, সবার সাথে স্নিগ্ধতাও মাঠে বসে যায় বন্ধুদের আড্ডায়। অনেকটাসময় আড্ডার পর একেএকে বিদায় নেয় সবাই। কিন্তু সাইফ আসেনি বলে স্নিগ্ধতা এগোচ্ছিলো না। ওর সাথে তাই মুহিব, অনু আর নাইম রয়ে গেলো। চারজন মিলে কথা বলতে বলতে হঠাৎই কেউ বলে উঠলো,
– বাহ! ফোরটির আগমন উপলক্ষে থার্টিনাইন বেশ জাঁকজমক নবীনবরন করলো দেখছি। কতো সুখ থার্টিনাইনের মনে তাইনা?
বিস্ময়ে তাকালো সবাই। কিন্তু এবার ওদের চেহারায় কমবেশী ভয়ও আছে। কথাটা আর কেউ না, মোহিনী বলেছে । ওর চোখে কালো বড়সর একটা সানগ্লাস। চেহারার বা পাশের উপরের অংশ হুডিতে ঢাকা। এসিডের ক্ষয়ক্ষতি বা চোখের ওপর দিয়ে গেছে সব। চেহারাটা সার্জারীতে প্রায় ঠিক হয়ে এসেছে। মোহিনী চায়নি ওর অসুস্থতার মাঝে নবীনবরনের কোনো অনুষ্ঠান হোক। সবটা জানার পরও যখন বাধা দেয়নি, তখন মোহিনী আর কিছুই বলবে না এমনটা ভেবে খুশি ছিলো প্রত্যেকে। কিন্তু আজ অনুষ্ঠান শেষে এভাবে চলে আসবে, ধারনা করেনি কেউই। আলিশা পাশ থেকে এগিয়ে এসে বললো,
– এন্ড গেইস হোয়াট মোহিনী আপু? এবারের প্রোগ্রামে সবচেয়ে আমেজিং ঘটনা কি? এই প্রোগ্রামে আমাদের সিআররা কিন্তু লিড দেয়নি।
– আলিশা থাম! ভুলে যাসনা তুইও ফাইনআর্টস্ থার্টি নাইনের।
নাইম জোরালো গলায় বললো। কথাটা গায়ে লাগলো না আলিশার। তাচ্ছিল্য করে বললো,
– তুই তো চুপই থাক! লেঙ্গুর কোথাকার! ও হ্যাঁ মোহিনী আপু জানেন? লিড কে দিয়েছে? লিড দিয়েছে আমাদের সুন্দরীশর্মা। স্নিগ্ধতা এহমাদ।
মোহিনী কালো চশমার আড়াল থেকে স্নিগ্ধতার দিকে তাকালো। শহরের বুকে রাত নেমেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরের নমনীয় আলোগুলোতে বাকিসবার চেহারা সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু ফর্সা গরনের এ মেয়েটার চেহারা যেনো উল্টে মোহনীয় দেখাচ্ছে। স্নিগ্ধতা মিষ্টি গলায় বললো,
– এখন কেমন আছেন আপু?
– একচোখে অন্ধকার দেখছি। আরেকচোখে তোর রুপ-আনন্দের আলোচ্ছটা আমার সহ্য হচ্ছে না স্নিগ্ধতা।
অবুঝের মতো অনুর দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। আবারো মোহিনীর দিকে তাকিয়ে জোরপুর্বক হেসে বললো,
– ম্ মানে? ঠিক বুঝলাম না আপু।
– বুঝিস নি। তাইতো? কিন্তু আমার কষ্টটা তো তোর বোঝা উচিত। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি দাড়া।
শান্তভাবে বললো মোহিনী। আলিশা এ অবদি স্নিগ্ধতার কাজের যতো বর্ণনা করেছে, সবের ফল নিজচোখে দেখেছে ও। হসপিটালে ও দৃষ্টিহীনতার যন্ত্রণা ভোগ করেছে, আর এদিকে স্নিগ্ধতা অনুষ্ঠান সাজিয়েছে। ওর এই রুপের জন্য আলিশাকেও অপমানিত হতে হয়েছে। মোহিনী ওর পাশের আরেকটা মেয়ের দিকে হাত বাড়ালো। ভ্রু কুচকে সেদিক তাকালো স্নিগ্ধতা। কিন্তু যা দেখলো, তাতে মৃত্যুসম ভয় হানা দিলো ওর চেহারায়। আঁতকে উঠেছে মুহিব-নাইমও। অনু চেচিয়ে বলে উঠলো,
– স্নিগ্ধতা, এসিড!
স্নিগ্ধতার বিস্ফোরিত চাওনি। মোহিনী বোতলের মুখ খুলছে দেখে, শাড়ির কুচি ধরে দৌড়ানোর উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো ও। কিন্তু একপা এগোতেই বাধা। কারো বুকে ধাক্কা লেগেছে ওর। চোখ তুলে, পরিচিত মানুষটাকে দেখে সর্বশক্তিতে তাকে জরিয়ে ধরলো স্নিগ্ধতা। যেনো এই মুহুর্তে ওই বুকের মধ্যিখানেই পৃথিবীর সব নিরাপত্তা অনুভব হয়েছে ওর। বাকিসব মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। স্নিগ্ধতা অস্থিরভাবে বড়বড় শ্বাস ফেলতে লাগলো কেবল। সামনের ব্যক্তিকে দেখে থামলো মোহিনী। এমন বাকানো ভ্রু, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, শক্ত চোয়াল আর দৃঢ় মুষ্টির ব্যক্তিত্ব জীবনে ওকে কমই দেখতে হয়েছে। তবে কেনো যেনো, এই ব্যক্তিত্ব ওর দেখা সবচেয়ে ভয়ানক বলে মনে হলো ওর। এক হাত তুলে সে মানুষটা আঙুল দিয়ে প্রথমে স্নিগ্ধতাকে বুঝালো, পরে নিজেকে নির্দেশ করলো। সহজাত ভঙিমায় বোতলের ছিপি আটকালো মোহিনী। ওর বুঝতে সময় লাগেনি সে আঙুলের ইশারা কি বুঝিয়েছে। যে প্রশ্বস্ত বুকের মাঝে স্নিগ্ধতা আশ্রয় খুজেছে, তার অধিকারী ওকে শুধু আশ্রয় দেয়নি, ওকে নিজের বলে দাবী করেছে। সর্বমাত্রায় স্বীকার করছে, স্নিগ্ধতা তার! স্নিগ্ধতা, ইয়াকীন শারাফের!
#চলবে…

