মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৭.২ ] #মেহুলিনা_প্রাপ্তি

0
1

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৭.২ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি

একটা বদ্ধ রুমে আহিয়ান আর শিবলী পিছনে দুই হাত বেঁধে, প্রশস্ত বুক টানটান করে দাড়িয়ে আছে মেজর. জেনারেল রাফতান রশিদের সামনে।রাফতান রশিদ বাড়িতে ফিরেই জরুরি আলাপ আছে বলে শিবলী আর আহিয়ানকে ডেকে পাঠিয়েছিল। আহিয়ান মুখটা গম্ভীর করে তাকিয়ে আছে শুণ‍্যে।রাফতান সামনে দাড়িয়ে থাকা দুই জনকে পরখ করে গলা খাঁকাড়ি দিয়ে প্রথমেই আহিয়ানকে বললো,
—- ” আমার উপর এখনও রাগ করে আছো? ”

আহিয়ান মুখটা আগের চেয়েও শক্ত করে রোবটের ন‍্যায় উত্তর করলো,
—- ” নোপ স‍্যার। ”

—- ” আমি তোমাকে আজকে কিছু কথা জানাতে এসেছি।তুমি চাকরি থেকে প্রায় এক মাসের মতো ছুটি কাটিয়েছো।এবার তোমাকে তোমার নিজ কর্মস্থলে ফিরতে হবে। ”

আহিয়ান রাফতান রশিদের মুখে সাসপেন্ড হওয়ার বদলে এক মাস ছুটি কাটানোর কথা শুনে বিষ্ময়ে চোখ কুঁচকে তাকালো। শিবলীকে দেখা গেল অযথায় ঠোঁট কেলিয়ে হাসতে।আহিয়ানের খটকা লাগতেই সে তড়িৎ গতিতে শিবলীর দিকে তাকিয়ে রাগে গজগজ করে উঠলো। আহিয়ান শিবলীকে এক রামধমক দিল,
—- ” সব সময় এই বত্রিশটা দাঁত না মেলালে ভালো লাগে না বুঝি? চুপচাপ দাড়া। তোর খবর তো পরে নিচ্ছি। এখন আসল কাহিনী বল। ”

আহিয়ানের কথায় শিবলী ঠোঁট টিপে হেসে মেজর. জেনারেল রাফতান রশিদের দিকে তাকালো। রাফতান শিবলীকে আর আহিয়ানকে হাতের ইশারায় বসতে বললো।শিবলী রুমের ছোফায় বসে ঠাস করে আহিয়ানের একটা হাত টেনেও আহিয়ানকে নিজের পাশে বসিয়ে দিল। আহিয়ান ধপ করে বসে কটমট করে তাকালো শিবলীর দিকে। শিবলী সেসব পাত্তা না দিয়ে ফিচেল শয়তানি হাসিতে ঠোঁট প্রসারিত করলো।রাফতান রশিদ এবার মুখ খুললনে আহিয়ানের উদ্দেশ‍্যে,
—– ” আমরা, বিশেষ করে শিবলী গোপন তথ‍্যে খবর পেয়েছিল যে তোমার দলে গুপ্তচর ঢুকে পরেছে। এমনকি শিবলীর নিজের দলেও ছিল গুপ্তচর। তারা তোমাদের বন্ডিং, ব‍্যবহার, সব রকম তথ‍্য পাঁচার করতো। গুপ্তচররা আমাদের আর্মির লোক হয়েও আমাদের সব তথ‍্য পাঁচার করতো প্রখ‍্যাত মাফিয়া কিং ইভান রেইন হার্টের কাছে। তাই এই অপরাধী বাংলাদেশে নিজের অবৈধ ব‍্যবসার ঘাটি গড়ার বেশ ভালো সুযোগ পেয়ে ছিল। গত মাসে তোমার সেদিন বিয়ে হয়,সেদিন তোমার যেই মিশনটা ছিল সেখানেও তোমাকে তোমার দলের দুই সৈনিক গুপ্তচর দিয়ে হত‍্যার চেষ্টা চলানো হয়েছিল। তবে ভাগ‍্য ভালো ছিল বলেই তুমি সে যাত্রায় বেঁচে ফিরেছো। আমরা দুই দলের কোথাও নির্দিষ্ট করে গুপ্তচর দের চিন্তে পারছিলাম না।বিধায় তখন সেনানিবাসে তোমার প্রাণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছিল।।কখন না কখন ওরা বিশ্বাস ঘাতকতা করে বসে। সেই ভয়েই শিবলীর সহযোগিতায় একটা নাটক সাজাই আমরা। সেই নাটকের মূল লক্ষ‍্যই ছিল তোমাকে সেফ করা এবং শত্রু পক্ষের চোখ ধুলো দিয়ে তাদের জন‍্য ফাঁদ পাতা। ”

রাফতান রশিদের কথা শুনে আহিয়ান ভ্রু জোড়া আরও কুঁচকে নিল। তারপর ডিরেক্ট বললো
—- ” খোলাসা করে বলুন। আপাতত এখন আর নাটকীয়তা করবেন না, আশা করি?।”

আহিয়ানের কথায় শিবলী আর রাফতান রশিদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। রাফতান আবার গম্ভীরতায় ফিরে গিয়ে আহিয়ানকে বললো,
—- ” তুমি এতো রাগী জেদি কেন বলো তো বাবা? সেদিন যখন আমি বললাম তোমাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে, তখন তুমি মুখটাকে ভোঁতা করে আত্নসম্মানের ঠেলায় গটগট করে বেরিয়ে গেলে। অথচ একবার ও নিজের সাসপেনশন অর্ডারটার এর নথি এসেছে কিনা, সেটা পর্যন্ত দেখলে না। তবে সেদিন তোমাকে বেশী ঘাটতে না দেখে ভালোই লেগেছিল। সেদিন সব কিছু এতো স্বাভাবিক ভাবে ঘটেছিল যে সবাই বিশ্বাস করে নিয়েছিল তুমি সাসপেন্ড হয়ে গিয়েছো সত‍্যি সত‍্যি। ”

আহিয়ান এবার ভ্রু কুঁচকে ঘাঢ় বাঁকিয়ে ঘাঢ়টা ডলে বলল,
—- ” তারমানে আপনি বলতে চাইছেন সেদিন আমাকে মিথ‍্যা মিথ‍্যা সাসপেন্ড করা হয়েছিল? ”

রাফতান রশিদ আর শিবলী হেসে উঠলো। শিবলী আহিয়ানের কাঁধে হাত রেখে, সুযোগ পেয়ে একটা দাবাং মার্কা চড় বসিয়ে বলল,
—-” অফকোর্স ব্রো। তোর বাল‍্য বিবাহ করাটা তো আমাদের জন‍্য তখন একটা আশির্বাদ হয়ে উঠেছিল। তোর বিয়ের খবর শুনে আমি স‍্যারকে প্ল‍্যান জানায়। স‍্যার তারপর আমার প্ল‍্যান মতো রাজি হয়ে যায়। ”

শিবলীর কথায় আহিয়ানের আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। আহিয়ান দাঁত কড়মড় করে শিবলীর পিঠে নিজেও একটা দাবাং মার্কা কিল বসিয়ে বলল,
—- ” এসব গু মার্কা প্ল‍্যান যে তোর মাথা থেকেই বের হবে সেটা আমি তুই না বললেও আগেই বুঝে নিয়েছি । ”

শিবলী মেয়েদের মতো মুখ মুচড়ে বললো,
—- ” একদম গু মার্কা বলবি না। যে অভিনয়টা করেছিলাম সেটার জন‍্য আমার হলিউড থেকে ডাক আসলো বলে। তোর মতো লোক অবশ‍্য আমার গুণ বুঝবে না। আমার গুণ বোঝার জন‍্যও একটা আলাদা লেভেলে ওঠা লাগে ব্রো। ”

আহিয়ান মনে মনে বলল,
—- ” কি বা*লের লেভেল রে আমার। ”

রাফতান রশিদ দুই অবাধ‍্য পুরুষের তর্কাতর্কি দেখে গেলে চুপচাপ। এদের বলে কয়ে বিশেষ লাভ নেই। রাফতানের ধার এরা কবে ধেরে ছিল যে আজ শুনবে। যা একটু সম্মান করে স‍্যার হিসাবে। মামা হিসাবে আর সম্মান জিবনে পেল না এদের থেকে। রাফতান রশিদের পুরোনো দিনের কথা মনে পরে গেল। তখন তার নতুন নতুন চাকরি হয়েছিল। জয়াকে এই বাড়িতে বিয়ে দেওয়ার পর বেড়াতে আসলেই সারাদিন এই দুই ছেলে তার পিছু পিছু ঘুরতো। এমনকি এদের জ্বালায় রাফতানকে মৌমাছির চাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌমাছির হুলের গোত্তাও খেতে হয়েছে।কত মানুষের গাছ থেকে এদের জন‍্য ফলও চুরি করতে হয়েছে এসব ভাবতেই রাফতানের বেশ লজ্জা লাগলো। ছোট বেলায় আহিয়ান আর শিবলী অনেক দুষ্ট ছিল। এখন অবশ‍্য বয়স হওয়ার সাথে সাথে আহিয়ানের দুষ্টমি উধাও হয়েছে। তবে সঙ্গো দোষে লোহা ভাসে বলে একটা কথা আছে না। এই শিবলী আশেপাশে থাকলেও আহিয়ানও কেমন বদলে ব্রিটিশ হয়ে যায়।

রাফতান পুরুনো স্মৃতি থেকে বেরিয়ে ডুবে গেল আবার অন‍্য চিন্তায়। মেয়ের পছন্দ তার অজানা ছিল না। রামিশা আহিয়ানের কাছাকাছি থাকার জন‍্য আর্মিতে জয়েন করেছিল। রাফতান মেয়ের ইচ্ছাকে শাই দিয়ে আহিয়ানকেই নিজের জামাতা করতে চেয়েছিল। সেদিন যখন শিবলীর মুখে আহিয়ানের বিয়ের খবর শুনে ছিলেন তিনি। তার কি বাবা হিসাবে কষ্ট হয়নি? খব কষ্ট হয়েছিল। মেয়ের মুখটা তার চোখে বারবার ভাসছিল। তবে পেশাদারিত্বের খাতিরে সেদিন খুব সুন্দর করে অভিনয় করে গিয়েছিল। তবে সেই অভিনয় এর মাঝেও এক পর্যায়ে কোথাও বাবা হয়ে উঠেছিলেন যেন তিন। বলে ফেলেছিলেন,আহিয়ানকে নিজের মেয়ের বিয়ের কথা ।

___

আহিয়ান এবার সিরিয়াস হয়ে জানতে চাইলো,
—- ” তা ওই গুপ্তচরদের খোঁজ পেয়েছেন? ”

আহিয়ানের কথায় রাফতান নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলেন। রাফতানের উদাস মুখ আহিয়ানের চোখ এড়ায়নি। শিবলীর সাথে আহিয়ানের চোখাচোখি হলো। তবে কেউ কিছু বলল না। রাফতান গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললো,
—– ” গপ্তচররা ধরা পরেছে। এবং তাদের চাকরী থেকে ছাটাই করা হয়েছে। তোমার প্লাটু এ দলের ইব্রাহিম আর জুলফিকার এতে শামিল ছিল। আর শিবলীর দলের নয়ন আর জোবান ছিল গুপ্তচর। সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ খবর এই যে, এরা চাকরি থেকে বের হওয়ার পর ইভান রেইনহার্টের দলের হয়ে সরাসরি কাজ কারবার করছে। তোমাদের উপর সেদিন ট্রাকে অ‍্যাটাক করা ব‍্যক্তিও ইব্রাহিম আর জুলফিকার ছিল। অর্ডার ছিল তোমাকে একবারের জন‍্য শেষ করে দেওয়া।

আহিয়ান আর শিবলীর চোখাচোগি হলো। আহিয়ান শিবলীকে বলল,
—- “তুই সব আগে থেকেই জানতি তাই তো? ”

শিবলী আহিয়নের লাল চোখের দিকে তাকিয়ে কাচুমুচু করে বলল,
—– ” জানতাম। তবে সেদিন যে ওরা অ‍্যাটাক করবে তা জানলে আগেই ওদের রুহু কেড়ে নিতাম। ”

আহিয়ান আর কিছু বললো না।মুখ দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো কেবল। তার আবার নিজের কর্ম স্থলে খুব শিগ্রই ফিরতে হবে। আর তার পিছনের শত্রুকেও বুঝিয়ে দিতে হবে আহিয়ান কি জিনিস।

_________

আহিয়ান রাত বারোটায় নিজের রুমে আসলো।আহিয়ান সোজা এগিয়ে এলো বউের কাছাকাছি। রোদেলা জরোসরো হয়ে পা দুইটা ভেঙে গুটিয়ে শুয়ে আছে। আহিয়ান নিজের পকেট হাতরে লাইটারটা বের করে তাতে আগুন জ্বেলে রোদেলার মুখের কাছাকাছি ধরলো। তারপর রোদেলার পেলব কোমল শিশু সুলভ মায়া মায়া মুখটার দিকে ঘোর লা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আজকাল আহিয়ান এই কিশোরী বউ এর কাছাকাছি আসলে উন্মাদ হয়ে উঠে। নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলেও আহিয়ান এই মেয়ের অস্তিত্বের কাছাকাছি আসলেই যেন সব ভুলে যায়।

আগুনের হলদেটে শিখা রোদেলার হলুদাভাব ফর্সা ত্বকে পরতেই রোদেলার মুখটা কেমন জ্বলজ্বল করে উউলো। আহিয়ান চোখের পলক না ফেলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেই মায়াবিনীর দিকে।রোদেলার চিকন গোলাপের ন‍্যায় ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আহিয়ানের পিপাসায় গলা পর্যন্ত শুকিয়ে এলো যেন। আহিয়ান ঢোক গিলে নিজের গলা ভিঁজিয়ে নিল। ঘোরের মাঝেই সে রোদেলার মুখের উপর ঝুঁকে এলো। তারপর পরম যত্নে নিজের ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিল রোদেলার ললাটে।

কপালে ঠোঁটের পরশ পেয়ে রোদেলা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকিয়ে তার সামনে আহিয়ানকে বসে থাকতে দেখে ভীষণ চমকে গেল। রোদেলা বিষ্ময়ে হতভাগ হয়ে তাড়াতাড়ি উঠে বসে বিছানা হাতরে ওড়না নিয়ে নিজের গায়ে জড়ালো। আহিয়ান ততোক্ষণে নিজেকে সামলে খাটের অপর পাশে চলে এলো।রোদেলা গায়ে ওড়না জড়িয়ে আহিয়ানকে প্রশ্ন করলো,
—- ” আপনি কি মাত্রই এসেছেন।? ”

আহিয়ান রোদেলার কথার উত্তর দিলনা।সে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে নিজের ফোন স্ক্রোল করতে লাগলো ।আহিয়ান নিজের ফোন স্ক্রোল করতে করতে উপরের এক কোণায় সময় দেখলো এখন রাত দুইটা বাজে।আহিয়ানের মনে পড়ে গেল সে রুমে বারোটা নাগাত ফিরে এসেছিল। আর এখন সময় রাত দুইটা। আহিয়ান নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরল। তারপর বিড়বিড় করে বলল,
—-” মানে আমি গর্দভের মতো এই পিচ্চি মেয়ের দিকে দুই ঘন্টা হা করে তাকিয়ে ছিলাম।আই কান্ট বিলিভ মাইসেল্ফ। কি হচ্ছে আমার সাথে?”

আহিয়ান কথাটা বলে আড় চোখে তাকালো রোদেলার দিকে। রোদেলা সবে ঘুম থেকে উঠায় তার নাক, ফুলো ফুলো হয়ে আছে।রোদেলার এই ফুলো ফুলো টসটসে গালে আহিয়ানের চোখ পড়তেই আহিয়ান চোখ সরিয়ে নিল। রোদেলা আহিয়ানকে কথা বলতে না দেখে অভিমান করে উল্টো ঘুরে শুয়ে পরলো।আহিয়ান সেটা দেখে ভ্রু কুঁচকে বিড়বিড় করলো,
—- ” ওমা খরগোসের ছানার রাগও আছে দেখছি। ”

আহিয়াপ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ফোন রেখে নিজেও ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল।

_________

অনন‍্যা,অন্ত আর জয় শিবলীর রুমে এলো সকাল সকাল। জয়কে অন্ত বিছানায় উঠিয়ে দিতেই সে ধপ করে বসলো শিবলীর বুকের উপর। শিবলী ঘুমের মাঝে বুকে ভারী কিছু অনুভব করে লাফ দিয়ে উঠতে নিচ্ছিল, তারপর বুকের উপর জয়কে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো।জয় তার বিপরীতে ফিচেল হাসি দিল। অন্ত আর অনন‍্যাও এসে শিবলীর দুই পাশে বসলো।অনন‍্যা বললো,
—- ” সেজো মামু তুমি ব‍্যাড বয়ের মতো এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমুচ্ছো কেন? তাড়াতাড়ি ওঠো বলছি। ”

শিবলী বাঁকা হেসে অনন‍্যাকে বললো,
—- ” ওরে বুড়ি মাতাজান আমার। আপনি বুঝবেন না এই বৎসের দুঃখ। আমার মাথায় আপনার কোমল হাত বুলিয়ে দিয়ে,আমাকে একটু সান্ত্বনা দেন তো দেখি। ”

অনন‍্যা তার মামুর কথায় খিলখিল করে শিবলীর কথা মতো সান্ত্বনা দিতে তাই করতে লাগলো। অনন‍্যাকে একটা ওর্ডার দিয়ে সে এবার অন্তকে বলল,
—-” আর এই যে তুই। তুই আমার আমার হাত পা টিপে দে। শরীর চাঙ্গা হলে তোদের দোকানে নিয়ে যাবো। যা চাইবি তাই পাবি। ”

কিপটা মামুর মুখে এহেন কথা শুনে অন্তও হাত পা টিপে দিতে লাগলো শিবলীর।জয় তার বাঁদর মামুর পেটের উপর বসে আছে। অনন‍্যা শিবলীর কথা মতো তার মাথার চুল টেনে দিচ্ছে।অন্ত তার মামুর কথা মতো হাত পা টিপে দিচ্ছে।তারা সবাই নিজেদের কাজ করতে করতে মামুর কাছে একটা কবিতা শোনার আবদার করলো।অনন‍্যা,অন্ত আর ছোট জয়ের আবদারে শিবলী গলা খাঁকাড়ি দিয়ে কবিতা আবৃত্তি শুরু করলো –
আতা গাছে তোতা পাখি
ডালিম গাছের মৌ।
রাতের বেলা উঠে দেখি,
পাশে নাই বউ।
এত রাতে কোথায় গেল,
কোথায় তাকে পাই।
তারপরেই মনে পরলো,
আমিতো এখনও বিয়ে করি নাই।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here