মেঘের মুলুকে চল’ আয়রা তাবাস্সুম পর্ব ১৮

0
2

‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ১৮
______________________________

রাদ সামনের মেয়েটাকে দেখল একপলক। মনস্থির করেছে আজ সে টুঁ শব্দটিও বলবে না। ঝাড়ি দিতে দিতে এই মেয়ে বোধহয় তার কথাকে এখন পাত্তা ই দেয় না৷ নাহলে রিপোর্টে বারবার একই ভুল গুলো করবে কেনো। তার কথা নিশ্চয় সিরিয়াসলি নেয় না মেয়েটা।
‘মিস অথৈ! আজ আপনি বলুন আমি আপনাকে কি কি বলতে পারি৷ এতদিনে নিশ্চয়ই শুনতে শুনতে আপনার মুখস্থ হয়ে গেছে কথাগুলো।’

অথৈ র বড় বিরক্ত লাগল। এমনে কয়েকদিন ধরে মনমেজাজ ঠিক নাই তার৷ সে সহজে কথাবার্তা চেপে যেতে পারে না। অথচ তিনদিন ধরে রীতিমত পেটে কিলবিল করছে কথাটা।
বিরক্ত লাগলেও চেহারা স্বাভাবিক রেখে খুব ফর্মাল টোনে বলল, ‘স্যার আপনি মিস্টেক গুলো পয়েন্ট আউট করে দিলে আমি ঠিক করে নেবো৷’

‘এটাই ত এতদিন করে আসছি, মিস অথৈ! মাঝেমধ্যে ত মনে হয় আপনাকে বসিয়ে রেখে আপনার কাজ আমিই করে ফেলি। এতে কাজটাও প্রপারলি হবে আর আপনার এসব ভুলচুকে আমার মেজাজও খারাপ হবে না।’
তারপর রাদ বড়সড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে যোগ করল, ‘রিপোর্টে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় আপনি স্রেফ ফিডব্যাক দিয়ে গেলেন অথচ অ্যাকশন প্ল্যানের একটা পয়েন্টও নেই! আমার যতদূর মনে পড়ে আমি আপনাকে বলেছি হাসান সাহেবের কাছ থেকে রিপোর্টের বিষয়টা আগাগোড়া শিখে নিতে। আপনি কি আমার সেই এডভাইস টাও মানেন নি?’

রাদ দেখল সামনের মেয়েটা কিছুটা ইতঃস্তত বোধ করছে এবার। সচরাচর সে এমন করে না। ফট করে উত্তর দেয়৷ রাদ আকাশসম ধৈর্য্য নিয়ে আবারও প্রশ্নটা করল, ‘মিস অথৈ! আই নিড অ্যান আনসার। হ্যা নাকি না।’

অথৈ এবার ঠোঁট ভিজিয়ে সাহস জড়ো করে কথাগুলো বলল। জানে এরপর হয়ত তাকে তীব্র প্রশ্নবাণের স্বীকার হতে হবে৷ কোনো কোম্পানি হেড নিশ্চয়ই চাবে না অফিসের আনাড়ি ইউজলেস একজন কর্মী র মুখের কথায় নিজেদের অভিজ্ঞ দক্ষ একজন কর্মীকে ছাঁটাই করতে। তবুও যেন কিসের ভরসায় সে বলে ফেলল কথাগুলো।

‘স্যার! আমি হাসান স্যারের সাথে রিপোর্টের বিষয়ে ডিসকাস করতে উনার কেবিনে গিয়েছিলাম গত পরশু। সেখানে স্যারের কথাবার্তা বিহেভিয়ারে আমার খুবই আনকম্ফোর্টেবল ফিল হয়েছে।’
তারপর থেমে থেমে দুনিয়ার জড়তা সংকোচ লজ্জা নিয়ে মেয়েটা বলল, ‘স্যার বারবার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। তাই পরবর্তী তে আর আমি স্যারের সাথে রিপোর্টের বিষয়ে কথা বলতে যাই নি।
আ’ম স্যরি স্যার। আমি আর কারো থেকে শিখে নেয়ার ট্রাই করব আই প্রমিস৷’
নিজের লজ্জার কথা এভাবে বলতে গিয়ে চোখ ভরে আসলেও মেয়েটা মাথা নিচু করে কথাগুলো বলে ফেলল।

রাদ একপলক দেখল তার চোখমুখ। তার নিজেরও খুব রাগ হচ্ছিল কেনো জানি। মেয়েটাকে যে এভাবে হেনস্তা হতে হবে সেটা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
‘আ’ম স্যরি, মিস অথৈ! আমার অফিসে আমার ই একজন এমপ্লয়ি র দ্বারা আপনার এমন অসম্মান হয়েছে৷’

অথৈ নামিয়ে রাখা মুখ তুলে বড় বড় চোখে সামনের সৌম্য সুদর্শন লোকটাকে দেখল৷ সে ভেবেছিল প্রথমেই তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে আসবে সে আদৌ সত্যি বলছে কিনা। অথচ লোকটা কি অবলীলায় তার কথা বিশ্বাস করে ফেলল! অথৈ র মত অকর্মা একজন এমপ্লয়ি র কথার এত দাম তার কাছে!

মাথায় যেটা চলছে সেটা মুখ ফসকে বলে বসল অজান্তেই।
‘স্যার আপনি আমার কথা এত ইজিলি বিশ্বাস করে নিলেন? আমি ভেবেছিলাম আপনি অজুহাত হিসেবে নিবেন কথাটা।’

রাদ সচরাচর বেশি কথা বলার মানুষ না৷ খুব প্রফেশনালিজম মেইনটেইন করে। তবুও আজ তার ইচ্ছে হলো মেয়েটাকে কিছু কথা বলতে।
‘অথৈ, আপনার ইন্টারভিউ বোর্ডে আমার আব্বু ছিলেন৷ আপনার আহামরি কোনো স্কিল না থাকলেও খুব সম্ভবত আপনি উতরে গেছেন আমার আব্বুর কল্যাণে৷ তিনি তখন আমায় বলেছিলেন আপনাকে তার অনেস্ট মনে হয়েছে। সাজানো গোছানো কথার বদলে নির্দ্বিধায় নিজের খামতি গুলো বলে ফেলেছিলেন।

তারপর বহুবার আমিও খেয়াল করলাম এত বকাঝকার পরও আপনি কখনো আমাকে মিথ্যে বাহানা দেননি৷ হয় মুখ হাসিহাসি বানিয়ে রাখতেন কিংবা সত্যি টা বলে ফেলতেন৷ কখনো অসুস্থতা এমার্জেন্সি এরকম কিছুর অজুহাত দেননি৷

তাই আপনাকে আমি এই এক বছরে যেটুকু চিনলাম তাতে আন্দাজ করেছি আপনি মিথ্যে বা বানোয়াট কিছু বলার মানুষ না৷ যা কিছু বলছেন সেসব আপনার সাথে হয়েছে বলেই বলছেন।
তবুও এই অফিসের এইচআর হওয়ায় আমার নিউট্রাল হতে হবে৷ নিজের অপিনিয়নের বেইসিসে ডিসিশন নিতে পারব না। এজন্য আমি অফিসের বাকি ফিমেল কলিগদের সাথে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করব। আর প্রয়োজনে হাসান সাহেবের কেবিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও চেক করব।
তারপর থেমে থেমে বলল, ব্যাপারটা আমি এত সহজে ছেড়ে দেব না৷
আ’ম সরি এগেইন যে আপনার এরকম বিশ্রী একটা অভিজ্ঞতার মধ্যে যেতে হয়েছে৷’

রাদ দেখল জল ছলছল চোখেও সামনের মেয়েটা স্মিত হাসছে। যেরকম হাসিহাসি মুখ সে কদিন আগেও বানিয়ে রাখত। রাদ বোধহয় এই হাসি টাকে মিস করছিল! নিজের ভাবনায় নিজেই বেশ অবাক হলো ছেলেটা৷ ভেবে কূল পেলো না সামনের মেয়েটার মনখারাপ দুঃখ হাসিমুখ সব তার উপর এতো এফেক্ট ফেলে কেনো! এই যেমন কিছুক্ষণ আগেও মেয়েটার আধারঁ চোখমুখ নিয়ে আড়ষ্ট গলায় বলা কথাগুলো শুনে রাদের নিজেরও যে কি কষ্ট হচ্ছিল!

মন চাচ্ছিল হাসান শু য়োরের বাচ্চাটাকে একটা চরম শিক্ষা দিতে তৎক্ষণাৎ। নিজেকে রাদ তেহযীব চৌধুরী নিখাদ জেন্টলম্যান হিসেবে জানে অথচ নিজের ই এমন রাগচটা পাগলপারা দিকটা তার অজানা ছিল। মেয়েটা কেবল ওয়াজিফা মেহনাজ অথৈ বলেই কি এই স্বভাব টা বেরিয়ে এসেছে তার! অবচেতন মন অবশ্য ধরে ফেলল এই রহস্য।

মন মস্তিষ্ক সবটা জুড়ে যে মেয়েটার রাজত্ব সেটা ত্রিশ ছুঁইছুইঁ দামড়া যুবকটি মানতে নারাজ হলেও তার মন ঠিকই জানে, যে মেয়েটাকে সে চোখে হারায় তাকে ছুঁয়ে দেয়া ত দূর, চোখ তুলে দেখার অধিকারও কারোর নেই!
রাদ তেহযীব চৌধুরী কাউকে অতটা বাড়াবাড়ি করার সাহস কিংবা অধিকার কোনোটাই দেয়নি! সেখানে হাসান সরোয়ার ত অফিসের বেতনভুক্ত চুনোপুঁটি এক কর্মচারী!

_______________

কদিনেই ভুইঁয়া ফ্যামিলির থমথমে পরিবেশ খানিকটা স্বাভাবিক হলো। রেহনুমা ভুইঁয়া আবারও কোনো কাহিনি করে না বসলেও একেবারে নীরবও থাকেননি৷ ছেলে এবং স্বামী বাড়িতে না থাকলেই বিষ দৃষ্টিতেই যেন নাজিয়ার প্রাণনাশ করতে চায়তেন৷ মাঝেমধ্যে ফোনকলের ছুতোয় ইচ্ছেকৃত ভাবে নাজিয়ার কথা তুলে ভাইয়ের বউদের বলে বেড়াতেন এটাসেটা কথা। নাজিয়ার প্রতি জমে থাকা একরাশ ক্ষোভ যেন তার কোনোমতে উগড়ে ফেলতে হচ্ছিল।

নাজিয়া টের পেলো বিষয়টা। এরকমও হলো কখনো কখনো তাকে সামনে দেখেও তার শাশুড়ি ফোনকলে এ ধরণের কথাবার্তা চালিয়ে গেলেন। নাজিয়া মনস্থির করল সে কিচ্ছুটি বলবে না! মহিলা এসব করে শান্তি পেলে এসব চালিয়ে যাক৷ এসব কূটনামি তে নাজিয়ার বিশেষ যায় আসে না। মহিলা নাজিয়াকে সুযোগসন্ধানী বললেই ত আর সে সেটা হয়ে যাচ্ছে না। অহেতুক সংসারে অশান্তি করে লাভ নেই। সেদিনের মতন বর্বর টা সবসময় নাজিয়ার পাশে থাকলেই সে এমন কত ঝামেলা অনায়াসে পাশ কাটিয়ে যাবে!

তবে ব্যাপারটা এটুকু তে শেষ হলো না। ইশিতার সুবাদে আরমান ভুঁইয়া র কানে উঠল কথাটা। ইশিতা মানতে পারছিল না তার মা নিজের ক্ষোভ মেটাতে নিজের পরিবার ছেড়ে আসা মেয়েটাকে বিয়ের সপ্তাহ না গড়াতেই টিপিক্যাল শাশুড়ি দের মতন এত হেনস্থা করবে! আরমান ভুঁইয়া নিজেও তার বউয়ের মতিগতি ঠাহর করলেন কদিন৷ পরে সিদ্ধান্ত নিলেন একটা চুড়ান্ত রফাদফা করবেন৷

তিনি রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে ছেলেকে ডেকে পাঠালেন নিজের রুমে। তার গৃহিণী তখন কিচেনে। তাই ছেলেকে নির্ঝামেলায় কথাগুলো বলে ফেললেন তিনি।
‘আযান! আমি তোমাকে আর নাজিয়াকে তোমাদের বিয়ের উপহার হিসেবে একটা রেডি ফ্ল্যাট দিতে চাচ্ছি৷ আমি এটাও চাচ্ছি তোমরা কদিনের মধ্যেই সেটায় সেটেল হও। ধানমন্ডি ত তোমার অফিস থেকে বেশি দূরে না। আর নাজিয়ার ভার্সিটি থেকেও মোটামুটি কাছে৷ এমনিও গাড়িতেই আসা যাওয়া করবে। তাই তোমাদের অসুবিধা হবে না আশা করি।’

আযান বাপের থেকে আসা এমন আকস্মিক প্রস্তাব শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়ল৷ বিয়ে করে পরিবার ছেড়ে আলাদা থাকবে এমন পরিকল্পনা তার কোনোকালেই ছিল না। তাই আশ্চর্য হবার রেশ কাটিয়ে উঠে তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করে ফেলল, ‘আব্বু! আপনি আমাদের গিফট দিতে চাচ্ছেন সেটা ঠিকাছে তবে এত তাড়াহুড়ো করে সেটায় উঠে পড়ব কেন। আমি এটা ত বুঝতে পারছি না।’

আরমান ভুঁইয়ার এবার বড় অসহায় লাগল। ছেলেকে নিজের মায়ের বিষয়ে এ ধরণের কথাবার্তা বলা তার নিজের মনেও সায় দিচ্ছিল না৷ তবুও বলে ফেললেন, ‘আযান, তুমি আমি বাসার বাইরে থাকলে তোমার মা নাজিয়াকে এটাসেটা বলে। বিভিন্নভাবে হেনস্থা করতে চায়। আমি যেটুকু তোমার মাকে এতগুলো বছরে চিনেছি তাতে জানি সে নাজিয়াকে সহজে পছন্দ করবে না। অন্তত যতদিন ক্ষোভ টুকু জিইয়ে রাখছে। হয়ত তোমার প্রতি ও চাপা রাগ আছে তার।

তাই আমি চাচ্ছি সে নিজের ভুল বুঝুক। তোমাদের কদর বুঝুক৷ যেদিন স্নেহ আন্তরিকতা আর ভালো নিয়ত নিয়ে তোমার বউকে তোমার মা এই বাড়িতে নিয়ে আসবে বুঝব সে তার ভুল বুঝেছে।
আপাতত আমি চাচ্ছি না মেয়েটার এরকম অপমান অসম্মান হোক দিনদিন। ওর বাবাকে আমি ত ওর কষ্ট হতে দেবো না এমন কথা দিয়ে এসেছি!
আশা করি তুমি এখন বুঝলে আমি ঠিক কেন তোমাদের আপাতত ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠতে বলেছি।’
তিনি একটা বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো বললেন৷

আযান শুনল আগাগোড়া। মন সায় না দিলেও মেনে নিতে হলো বাপের প্রস্তাব৷ তবুও নিজের দুশ্চিন্তা টাও প্রকাশ করল, ‘আব্বু৷ ইশি ত এখনও ছোট। আমিও চলে গেলে বাসায় হঠাৎ কোনো ইমার্জেন্সি হলে কি হবে! আমার ত টেনশন থাকবে সেটা সবসময়। বাড়ি না ছেড়ে অন্য কোনো উপায়ে কি আম্মুর রাগটা আমরা হ্যান্ডেল করতে পারি না?’

আরমান ভুঁইয়া বুঝলেন ছেলের মনের অবস্থা। ছেলেটাকে ছোট থেকে সবাই গোঁয়ার রগচটা ডাকলেও তিনি জানেন তার তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে নরম মন এই ছেলের। যাদের ভালবাসে তাদের প্রাণ উজাড় করে ভালবাসে৷ বাপমায়ের জন্য তার চোখেমুখে এই দুশ্চিন্তা মিছিমিছি না৷ তাই তিনি ভীষণ স্নেহে ছেলেকে আশ্বস্ত করলেন।

‘আযান! ইশি এতটাও ছোট না যে কোনো ইমার্জেন্সি হলে তোমাকে তৎক্ষনাৎ কল করে জানাতে অপারগ। তবুও তোমার আমাদের জন্য চিন্তা হলে তিন চারদিন পরপর অফিস থেকে ফেরার পথে এদিকে এসে দেখে যাবা৷ আর মনে আক্ষেপ রেখো না। আমি যেটা করছি সেটা তোমরা তোমাদের আম্মু সবার কথা ভেবেই করছি। এবার বাকিটা আল্লাহ পাকের হাতে। তিনি যদি তোমাদের মা কে ঠিক ভুল বুঝতে পারার বিচক্ষণতা দেন!’

আযান শুনে গেল বাপের কথা। দুঃখে ক্লিষ্ট মনে নিজের রুমে ফিরে বিছানায় সটান শুয়ে পড়ল। মনে শান্তি ছিল না তার। যদিও চোখ বুজেও মনে হচ্ছিল দুটো চোখ তাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখছে। ফট করে চোখ খুলতেই দেখল পাশের বেকুবটা কবে শোয়া থেকে উঠে বসে গালে হাত দিয়ে তাকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে।
‘আপনার মন খারাপ? আব্বু বকা দিয়েছে আপনাকে?’ মেয়েটা চোখমুখ খুব গম্ভীর বানিয়ে প্রশ্নটা করল যেন আযান হ্যা জবাব দিলেই সে গিয়ে শশুর কে একটা চরম শিক্ষা দিয়ে আসবে।

এমন মনখারাপেও আযানের হাসি পেল। তবুও সে ও পাল্টা চোখমুখ গম্ভীর বানিয়ে বানোয়াট কিছু জবাব দিলো, ‘হ্যা! আব্বু বকা দিয়েছে। বলেছে অপরিষ্কার খবিশ একটা মেয়েকে রাতে জড়িয়ে ধরে ঘুমোতে তোমার লজ্জা করে না!
তারপর আমি ভীষণ রেগে বললাম লজ্জা কেন করবে! অপরিষ্কার খবিশ হলেও মেয়েটা ত আমার বউ!’

নাজিয়া এ ধরণের জবাব শুনে বাকরূদ্ধ। কি ভালো ভাবে সে বদটার মনখারাপের কথা জানতে চেয়েছে অথচ লোকটা কিনা বরাবরের মতন আরেকটা নিম্নমানের মজা করল তাকে নিয়ে! কি খারাপ লোক! নাজিয়া খুব রেগে গেলেও রাগ দেখানোর সুযোগ পেলো না আযানের পরবর্তী কাজটায়। আযান ফট করে উঠে বসে তার ফুলিয়ে রাখা গাল দুটোর ডান পাশের টা য় প্রগাড় একটা চুমু খেয়ে বসল। মেয়েটা গাল ফুলিয়ে রাখলে গাল দুটোতে চুমু খাওয়ার এত লোভ হয় তার। আজ লোভ সংবরণ করল না আর। মনখারাপ তার। মনখারাপ থাকলে মন ভালো হওয়ার মতন কাজ করা উচিত। এই যেমন এইমাত্র তেমন একটা কাজ করে ফেলল সে!

[ আমি আন্ডারওয়েইট হওয়ায় অসুখবিসুখ একটু দৌড়ঝাপঁও সহজে কাবু করে ফেলে৷ প্রজেক্ট সাবমিশনের এ কদিনের দৌড়াদৌড়ি তে মেন্টালি ফিজিক্যালি ভীষণ অসুস্থ বোধ করছি৷ আপনারা আশা করি জানেন আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে গল্প ঝুলিয়ে রাখার মানুষ না। এ কদিন একটু রেস্টে থাকতে চাচ্ছি। গল্পের পরবর্তী পর্ব শুক্র বা শনিবার দিই প্লিজ!]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here