#চোরাবালির_পিছুটানে (০৯)—স্পেশাল পার্ট
#জেরিন_আক্তার
রাজ বসা অবস্থায় ছিলো। রাদিফের মুখে রাহার কথা শুনতেই বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে একটু জোরেই বলে উঠে,
“কিহ! রাহা তোর কাছে?”
“হ্যা। রাহা আমার কাছে।”
রাজ অস্থির কণ্ঠে বলে,
“ভাই, দেখ, আমার সাথে মিথ্যে কিছু বলিস না। আমার ভালো লাগছে না।”
রাদিফ স্পষ্ট কণ্ঠে বলে,
“আমি মিথ্যে বলছি না। রাহা কোথায় আছে কেমন আছে আমি সবই জানি।”
রাজের চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগলো। তৎক্ষণাৎ রাদিফকে বলে উঠে,
“রাহা কোথায় আছে তু্ই জানিস? ও কোথায় আছে আমায় বলনা একটু। আমি যে ওকে ছাড়া থাকতে পারছি না। আমি ওর কাছে যেতে চাই। আমায় বল ও কোথায় আছে।”
রাজ কথাগুলো একনাগাড়ে বলে লম্বা একটা শ্বাস ছাড়লো। এই শুনে রাদিফ বলে,
“রাহাকে দেশে কোথাও খুঁজে পাবি না। ও আমার কাছে চলে এসেছে।”
এই শুনে রাজ ধপ করে আগের জায়গায় বসে পড়ে। কোনো কথা আসছে না নিঃস্বাস ভারী হয়ে আসছে। মনে মনে ভাবতে থাকে,, রাদিফ এখন অন্তত রাহাকে নিয়ে মিথ্যে বলবে না। কিন্তু রাহা ওর কাছে চলে গেলো কেনো?
রাজ প্রশ্ন করে,
“ভাই, রাহা তোর কাছে গেলো কি করে? না মানে ও দেশে নেই বলছিস আমি তো বুঝতে পারছি না।”
“আমি রাহার কাছে তোর প্রতিশোধের কথা শুনে ওকে দেশে রাখতে চাইনি। ওর পাসপোর্ট করা ছিলো এরপরে আমার বন্ধুকে দিয়ে ওর ভিসা জোগাড় করে জাপানে নিয়ে আসি। ও এখন আমার কাছেই।”
রাজ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। নিরেট গলায় বলে উঠে,
“ভাই, সত্যি বলছিস ও তোর কাছেই আছে।”
“হুম। ও আমার কাছেই।”
রাজ আকুতি সুরে বলে,
“ও কেমন আছে? আর আমার বাচ্চাটা!”
“তোর বউ-বাচ্চা দুজনেই ঠিক আছে।”
“ভাই ওকে একটু ফোনটা দে না। আমি একটু কথা বলবো ওর সাথে। ওর গলাটা একটু শুনবো।”
রাদিফ বলে,
“শোন, তোকে বললে হয়তো তু্ই বিশ্বাস করবি না। ও এখন তোর সাথে কথা বলতে চাইবে না। সকালে থেকে বেশ রেগে আছে। ওর সামনে কথা বলার চান্সই পাচ্ছি না। আর এখন যদি বলি আমি রাজকে জানিয়ে দিয়েছি যে তু্ই এখানে আছিস তাহলেও ও রেগে যাবে।”
“রেগে যাক। তবুও তু্ই একটু ওর কাছে ফোনটা নিয়ে দে না! আমি ওর কাছে মাফ চাইবো দেখবি ও আর আমার সাথে রেগে থাকতে পারবে না। আমি ওকে ফিরে আসতে বললে ও নিশ্চই ফিরে আসবে।”
রাদিফ গম্ভীর গলায় বলে,
“রাহা জানিয়ে দিয়েছে ও আর ফিরবে না। আমি ওকে বারবার বলছি যে তু্ই বাচ্চাটার কথা ভেবে ফিরে যা কিন্তু ও ফিরে যাবে না।”
রাজ থমথমে গলায় বলে,
“কিন্তু কেনো ও ফিরে আসতে চাইছে না? আমার উপরে রেগে আছে এখনও? বিশ্বাস কর, আমি ওকে সেদিন মন থেকে কথা গুলো বলিনি। আর না আমি কোনোদিন ওই কথাগুলো আর বলবো। আমি ওকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। আমার বউ করে।”
রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,
“বাড়িটা তো তোর নয়। তাহলে আমার বোনকে কোন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছিস?”
“কেনো আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবো।”
“আমি আমার বোনকে ওই বাড়িতে যেতে দিবো না।”
“কেনো?”
“যেখানে আমার আর আমার বাবার কোনো সম্মান নেই। সেখানে আমি আমার বোনকেও যেতে দিবো না। যদি তোর রাহাকে বউ করে ঘরে তুলতেই হয়, তাহলে নিজের বাড়িতে বউ করে নিয়ে যাবি।”
রাজ নাক-মুখ কুঁচকে উঠে বলে,
“তোর আর তোর বাবার সম্মান নেই মানে? ছোট আব্বু বা তোকে তো কেউ অসম্মান কিছু করেনি। তাহলে এমন কেনো বলছিস?”
রাদিফ মুখের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলে,
“তু্ই তো নিজেই বললি, তোর বাবার প্রতি তোর সন্দেহ হচ্ছে। আমাকে বাড়িতে থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তারই হাত রয়েছে। হ্যা.. তোর বাবারই হাত রয়েছে। উনি আমাকে আর আমার বাবাকে সেদিন অপমান করেছিলো। যার জন্য আমি বাড়ি থেকে চলে এসেছি। আর আজ আমার কোনো আফসোস নেই এর জন্য বা মিষ্টির জন্য। আর রাহাও চলে এসেছে। ও এগুলো শোনার পরে তোর কাছেও যেতে চাইছে না। আর ওই বাড়ির বউ হওয়ার কথা শুনলে ও কি করবে তা ও নিজেও জানে না।”
রাজ নিচু গলায় বলে,
“তাহলে কি রাহা আর আমার কাছে ফিরে আসবে না। আমার বাচ্চাটা নিয়ে এমন দূরেই থাকবে।”
রাদিফ হেসে বলে,
“ও আমার কাছে আছে। সেভ আছে। আর ও দূরে থাকতে চাইছে বলেই কি তু্ই ওর থেকে এখন দূরে থাকতে পারবি?”
রাজ বলে,
“ওর খবর জানার পরে আমার ওর থেকে দূরে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই। আমি ওর সাথে থাকতে চাই। কিন্তু তু্ই যে বললি রাহা আমার কাছে ফিরবে না। আমি ওকে ছাড়া থাকবো কি করে? আমার বাবার করা ভুলের জন্য আজ কত গুলো জীবন আলাদা আলাদা। আমি বাবাকে ছাড়বো না। উনার জন্যই আজ আমার, তোর, রাহার আর মিষ্টির জীবনে কোনো আনন্দ নেই।”
রাদিফ আয়েসি ভঙ্গিতে বলে,
“তাহলে এখন কি করবি? রাহা তো তোর কাছে ফিরতেই চাইছে না। আমিকে তো ওকে রাজি করাতে পারছি না।”
রাজ বলে,
“তু্ই কিছু একটা ব্যবস্থা করতে পারবি না।”
রাদিফ বলে,
“হুম দেখছি!”
রাদিফ রাজের সাথে কথা বলে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রাহার রুমের সামনে এসে বলে,
“রাহা, কি করছিস?”
“ভাইয়া কিছু করছি না। ভিতরে এসো!”
রাদিফ রুমের দরজার সাথে লাগানো পর্দা সরিয়ে রুমে ঢুকলো। রাহা বিছানায় বসে আছে। রাদিফ এগিয়ে গিয়ে বলে,
“তু্ই এখন রেডি হয়ে নে। হসপিটালে নিয়ে যাবো তোকে!”
রাহা মাথা নাড়িয়ে বলে,
“হুম। ভাইয়া, আমি রেডি হচ্ছি!”
রাহা বিছানায় থেকে উঠে এসে কাভার্ড খুলে ড্রেস বের করে। রাদিফও চলে যায় নিজের রুমে। রাহা একটা টুপিস এর সেট বের করে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। এসে দেখতে পায় মেইডও রেডি হয়ে বসে আছে। তিনি রাহাকে দেখে উঠে দাড়িয়ে বলেন,
“চলুন, স্যার বাহিরে অপেক্ষা করছে।”
রাহা বলে,
“আন্টি আপনিও সাথে যাবেন?”
“হুম। স্যার আমাকেও সাথে যেতে বলেছে। আর স্যার রেডি হয়ে গাড়ির কাছে অপেক্ষা করছেন আর আপনাকে সাথে নিয়ে যেতে বলেছেন।”
রাহা মাথা একটু নাড়িয়ে বলে উঠে,
“ঠিক আছে। চলুন!”
রাহা আর মেইড দুজনে বাহিরে এসে রাদিফের গাড়ির কাছে আসে। রাদিফ গাড়িতেই বসে ছিলো। দুজনে গাড়িতে উঠতেই রাদিফ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ির গেট পেরিয়ে চলে যায়।
_________________
বাড়িতে কেউ নেই। সাইমন শুধু একা। আজ অফিসও বন্ধ। একা একা নিজে নিজেই বোর হয়ে যাচ্ছিলো। রাদিফ রাহাকে আর মেইডকে সাথে নিয়ে হসপিটালে গিয়েছে। কিসের জন্য হসপিটালে নিয়ে গিয়েছে সেটাও সাইমন জানে না। সাইমন আনমনে বসে রাহার কথা ভাবতে লাগলো। ইচ্ছে করছে, রাহার সাথে কথা বলতে, রাহাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে। কিন্তু রাহার সাথে সেই সময়টাই হয়ে উঠছে না। ভাবতে ভাবতে ঠিক করলো আজ রাহা বাড়িতে এলে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলবে।
রাদিফ রাহাকে ডক্টর দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য রওনা হয়। ডক্টর বলেছে বাচ্চা সুস্থই আছে। আর বাচ্চার মাকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে এবং আরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলেছে। রাদিফ বাড়িতে আসার পথে একটা শপিং মলের সামনে গাড়ি পার্ক করে। এরপরে রাহাকে নিয়ে শপিং মলের ভিতরে ঢুকে। রাহাকে বলে তোর যা যা দরকারি জিনিস লাগবে তাই নিয়ে যেতে। রাহাও টুকিটাকি কিছু জিনিস নিয়ে নিলো।
শপিং মলে থেকে বেরিয়ে রাদিফ রাহাকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে।
বাড়িতে এসে রাহা ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসে। মেইড রাহার জন্য খাবার রেডি করছে। রাহা খাবার খেয়ে রেস্ট নিতে সোফায় বসলো। সাইমন মাত্র ঘুমে থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। রাহাকে দেখতে দেখতে খাবার টেবিলের কাছে এগিয়ে গিয়ে নিজেই পানি ভরে খেলো।
এরপরে এগিয়ে এসে বলে,
“রাহা হসপিটালে গিয়েছিলে ডক্টর কি বলেছে? তোমার শরীর ঠিক আছে?”
“হুম। শরীর ঠিক আছে।”
“ওহ। আচ্ছা রাহা, তোমাকে একটা কথা বলবো?”
“হুম বলুন!”
“সন্ধ্যার দিকে ঘুরতে যাবে আজকে?”
রাহা হাসার চেষ্টা করে বলে,
“আজ না ভাইয়া, অন্য একদিন ঘুরতে যাই!”
“কালকে চলো!”
রাহা মাথা নাড়িয়ে বলে,
“ঠিক আছে!”
রাজ বাড়িতে থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে সবাই কেমন একটা গুমোট বেধে আছে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই যে রাজ এমন করে চলে যাবে কারো কল্পনাই ছিলো না। সবাই ভেবে ছিলো রাজ হয়তো রাগ করে চলে গিয়েছে আবার চলেও আসবে। কিন্তু একদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও যখন রাজ ফিরে এলোনা তখন সবার মাঝেই চিন্তা ধরে গেলো।
বিকেলের দিকে সায়মা চৌধুরী নিজের রুমে শুয়ে ছিলেন। মিষ্টি তার মায়ের রুমে ঢুকলো। অসময়ে মাকে শুয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে তার পাশে বসে বলে,
“আম্মু, কি হয়েছে এই অসময়ে শুয়ে আছো?”
সায়মা চৌধুরী চোখের পানি মুছে বলেন,
“এমনেই ভালো লাগছিলো না।”
এই বলে তিনি উঠে বসলেন। মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলেন,
“রাজকে ফোনে পেয়েছিলি?”
“না, ভাইয়া ফোন ধরছে না। অনেক বার কল দিয়েছি। ফোন বন্ধ বলছে।”
এই শুনে সায়মা চৌধুরী দুকরে কেঁদে উঠেন। জড়ানো গলায় বলে উঠেন,
“কি থেকে কি হয়ে গেলো। রাগ করে এভাবে চলে যেতে হবে কেনো? একে তো রাহা চলে গিয়েছে। এখন মেয়েটা বাচ্চা পেটে নিয়ে কি করছে আল্লাহ জানে। আর এই ছেলে, বাবার সাথে রাগারাগি করে চলে গেলো। আমার আর ভালো লাগছে না রে। কি করলে দুজনকে আবার বাড়িতে দেখতে পাবো। আমি আর এতো চিন্তা নিতে পারছি না।”
মিষ্টি তার মাকে ধরে শুধানো গলায় বলে,
“আম্মু তুমি এতো চিন্তা করোনা। দেখবে রাহা আর ভাইয়া ফিরে আসবে। ভাইয়াও রাহাকে হারিয়ে কেমন পাগল হয়ে গিয়েছে। এখন ভাইয়া যা ভালো বুঝে তাই করুক।”
_________________
এর মাঝে কেটে গেলো বেশ কিছু দিন। রাদিফ অনেক বলেও রাহার মত পাল্টাতে পারেনি। রাহা নিজেও রাজের জন্য কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু প্রকাশ করছে না। ভিতরে থেকে আরও শক্ত হয়ে উঠছে রাহা।
রাজও আর বাড়িতে ফিরে যায়নি। ফ্ল্যাটেই রয়েছে। এর মাঝে রাদিফের সাথে কন্টাক্ট করে জাপানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাদিফই মূলত এই আইডিয়া টা দিয়েছে। পরিবারের এই ভাঙ্গন আর একেক জনের জীবন স্বাভাবিক করতে রাজেরই রাহার কাছে যেতে হবে। শুধু একবার রাহার কাছে যেতে পারলেই হয়। এরপরে রাহার জেদ ভাঙা রাজের কাছে সহজই হবে।
রাজের ভিসা পেতেও কয়েকটা দিন দেরি হয়ে যায়। বাড়িতে কাউকেই জানায়নি সে জাপানে চলে যাচ্ছে। শুধু মিষ্টিকে জানিয়েছে। আর মিষ্টিকে বলেছে কাউকে না জানাতে।
রাজের কালকে ফ্লাইট। এর মাঝে মিষ্টি এসেছিলো রাজের ফ্ল্যাটে দেখা করতে। রাজ মিষ্টিকে বলেছে, এই কয়েকটা দিন সেভ হয়ে থাকতে। আর সে যে জাপানে যাচ্ছে এটা কাউকেই না বলতে।
রাদিফ জানে কালকে রাজ আসছে। কিন্তু রাহাকে জানায়নি। রাদিফ চায় রাজ নিজে এসেই রাহার সামনে দাঁড়াক।
রাদিফ আর সাইমন রাত দশটার দিকে নিজেদের কাজে থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। দুজনে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে রাতের খাবার খেতে। রাহাও ভাইয়ের অপেক্ষায়ই বসে ছিলো। সেও খেতে আসে। সাইমন সবার আগে খেয়ে উপরে চলে যায়। এখন শুধু রাদিফ আর রাহা বসে খাচ্ছে।
রাদিফ খেতে খেতে হেয়ালি করে রাহাকে বলে,
“রাহা, তু্ই কি সত্যিই আর রাজের কাছে যাবি না?”
রাহা রেগে গিয়ে বলে,
“ভাইয়া, সবসময় রাজ রাজ করো না তো! আমি যাবো না বলেছি যাবো না।”
রাদিফ নিরেট গলায় বলে,
“যদি রাজ নিজে তোর কাছে চলে আসে তাহলেও কি যাবি না?”
রাহা খাওয়া রেখে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ও এখানে আসতে যাবে কেনো? আর এলেও তো আমি ওর সাথে যাবো না।”
এই বলে রাহা খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। রাদিফ মনে মনে হেসে বলে,,, দেখ, না কালকে কি হয়!
পরদিন, রাদিফ এয়ারপোর্টে এসে দাড়িয়ে আছে। সাথে সাইমন ও সিফাত আছে। রাদিফ এখনও সাইমনকে জানায়নি রাহার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এমনকি আজকে কে রাহার স্বামীই আসছে সেটাও জানায়নি। তবে রাজ চলে আসলেই সবাইকে জানিয়ে দিবে এই ঠিক করলো রাদিফ।
জাপানে রাত এগারোটা। রাজের এয়ারপোর্টে থেকে বেরোনোর কথা ছিলো সাড়ে দশটার দিকে। কিন্তু এখনও বের হচ্ছে না বলে রাদিফ একটু চিন্তায়ই আছে। অবশেষে রাদিফ রাজকে দেখতে পেয়ে হাত উঁচিয়ে হাই তুলে ডেকে উঠে। রাজ রাদিফকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে।
রাদিফ রাজকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসতে আসতে রাত বারোটা বেজে যায়। সাইমন ওদের সাথে ফিরে এসে নিজের রুমে চলে যায়। এখানে দুই চাচাতো ভাইয়ের মাঝে সেই বা কি করবে।
রাজ বাড়িতে ঢুকেই আশেপাশে অস্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে। রাদিফ বুঝতে পারছে রাজ রাহাকেই খুঁজছে। রাদিফ রাজকে বলে,
“রাহা ঘুমিয়ে গিয়েছে, এখন ওকে খুঁজলেও পাবি না। তু্ই বরং ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে! ”
রাজ উদাসীন হয়ে বলে,
“যার জন্য ছুটে এসেছি তাকে না দেখে গলা দিয়ে খাবার নামবে না। ফ্রেশ-ট্রেশ ছাড় ও কোথায় আছে বলনা!”
রাদিফ হেসে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,
“উপরে আছে!”
রাজ সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো। রাদিফ রাজের যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলে,
“প্রথম রুমে পাবি না। পরের রুমে ও আছে।”
চলবে….
কেমন হয়েছে জানাবেন।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

