#চোরাবালির_পিছুটানে (১৭)
#জেরিন_আক্তার
মিষ্টির কথা শুনে রাদিফ যা বোঝার বুঝেছে। মিষ্টি তাকে যেতে বলেছে এবং কিছু করতেও বলেছে। রাদিফ এর উত্তরে বলে,
“হুম, করবো! তু্ই কান্না থামা। আর কালকে কি করবি? দেখা করবি ওই ছেলের সাথে?”
“জানি না!”
“দেখা করার দরকার নেই। বলবি বাড়িতে কাজ আছে।”
“বাড়ির সবাই যদি পাঠায় তখন?”
“আমি দেখছি!”
“শোনো!”
“কি বল!”
মিষ্টি নরম হয়ে বলে,
“বিয়েটা এখনই না করে দেই!”
“কেনো?”
“দেখো, এখানে বিয়ে পর্যন্ত সবাই অনেক আশা নিয়ে থাকবে। বিশেষ করে তুহিন এখনই কত কিছু ভেবে বসে আছে। বিয়ে পর্যন্ত গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। এখনই না করে দেই!”
রাদিফ গম্ভীর গলায় বলে,
“তুহিন কে?”
“আরে ওই যে যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। সেই হচ্ছে তুহিন!”
রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,
“বাব্বাহ! এখনই কত চিন্তা ছেলেটার জন্য!”
এই শুনে মিষ্টি রেগে গিয়ে বলে,
“রাখছি ফোন! আমার ঘুম পাচ্ছে!”
রাদিফস্পষ্ট গলায় বলে,
“রাখ! না করেছে কে?”
মিষ্টি ফোন কানে নিয়ে বসে থাকে। রাদিফ ওপাশে থেকে বলে,
“শোন, আমি জানি সবাই সব কিছু গোছগাছ করছে তোর বিয়ে বলে। কিন্তু আমার কিছুই করার নেই। তাই যা হচ্ছে হতে দে!”
মিষ্টি অধীর আগ্রহ নিয়ে বলে,
“তুমি আসবে না?”
রাদিফ বলে,
“বলতে পারছি না।”
“তাহলে কি বিয়েটা হয়েই যাবে?”
রাদিফ দাঁত চেপে বলে,
“এই তোর কি ধৈর্য নেই। ধৈর্য ধরে থাক! ঠিক বাপটার মতোন হয়েছিস, মনে হয় এক বলাতেই সব সামনে এসে হাজির হবে।”
“সবসময় বাপ নিয়ে কথা বলো কেনো?”
“তাহলে কি বলবো আমাকে বলে দিন! এহ, আসছে!….বাপের কথা শুনতে পারে না। তোর ওই বাপ সেদিন তোকে আমার কাছে বিয়ে দিলে আজ সে আমার কাছে সম্মানীও ব্যাক্তিই থাকতো। কিন্তু তিনি তো তেমন কিছুই করেননি।”
মিষ্টি জানে এখন রাদিফের রাগ উঠবে। তাই কথার প্রসঙ্গ পাল্টালো।
“শোনো না, রাহা কেমন আছে?”
রাদিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
“কি দরদ রে,, বাপের কথা বলছি বলে কথা ঘোরাতে এখন আবার নিজের ভাবির খবর জানতে চাইছিস। একবার আমাকে বলেছিস আমি কেমন আছি?”
মিষ্টি নিজের কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে মনে মনে বলে,,, আল্লাহ কোনো কথা বলে শান্তি নেই। কি যে করতে মন চাইছে!
মিষ্টি বলে,
“কেমন আছো তুমি?”
“তু্ই না রাহার কথা জানতে চাইলি এখন আবার আমি কেমন আছি তা জানতে চাইছিস কেনো?”
“তোমার খবরও জানতে ইচ্ছে করলো।”
“আমার খবর দিয়ে কি করবি?”
“তাহলে রাহার খবরই দাও!”
“আমি বলেছি বলে আমার খবর জানতে চাইবি না?”
“বলো!”
“ও তোর জানতে হবে না।”
মিষ্টি পাগল হয়ে যাবে রাদিফের কথা শুনে। কোনো রকম টপিকটা বাদ দিতে বলে,
“ঠিক আছে নাই জানলাম।”
রাদিফ বলে,
“ওও এখন আর আমার কথা শুনতে ভালো লাগছে না তাইনা!”
মিষ্টি মাথা নাড়িয়ে বলে,
“ভালো লাগছে। তুমি না বেশি বেশি ভেবে বসে থাকো। কি করছো এখন?”
রাদিফ ঠোঁট কামড়ে বলে,
“বান্ধবীর সাথে বসে আছি।”
মিষ্টি খানিকটা রাগ নিয়ে বলে,
“বান্ধবীর সাথে বসে আছো মানে?”
রাদিফ তপ্ত গলায় বলে,
“তোর কি মনে হয় এই রাতের বেলায় তোকে ফোন দিয়ে কাজ করছি? আর কোনো কথা পাসনি? কি করছো এইটা কোনো প্রশ্ন!”
মিষ্টি একহাতে মাথার চুল খামচে বলে,
“ওহ। তাহলে রাতে খেয়েছো?”
রাদিফ ধমকে উঠে বলে,
“এই বেয়াদব ফোন রাখ! হবু বরের সাথে নানান কথা বলতে পারিস আর আমার সাথে কি করছো, রাতে খেয়েছো এইগুলো কথা আসে তাইনা!”
মিষ্টি থমথমে মুখে বলে,
“তাহলে কি কথা বলবো?”
রাদিফ দাঁত পিষে বলে,
“তু্ই শুধু একটু ওয়েট কর! তোকে নতুন করে কথা বলা শিখাবো।”
মিষ্টি হাফ ছেড়ে বলে,
“ঠিক আছে!”
“একটু পরে ফোন করছি। ঘুমিয়ে পড়িস না!”
“ঠিক আছে।”
রাদিফ ফোন কেটে দেয়। এরপরে ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে রুম থেকে বের হয়। নিচে নেমে এসে ড্রইং রুমে সোফায় বসে। মেইডকে ডেকে কফি চায়। মেইড কফি বানিয়ে দিয়ে যায়। সাইমন বাহিরে থেকে বাড়িতে ঢুকে। মেইন দরজা লাগিয়ে দিয়ে এগিয়ে আসে। রাদিফ বলে,
“কাজ হয়েছে আজ!”
“হুম আজকের মতো হয়েছে। তবে কালকে থেকে তোকে যেতে হবে। আমি একা একা যাবো না।”
“কেনো ভয় পাস?”
“পাই একটু!”
“ঠিক আছে। যাবো কালকে! এখন ফ্রেশ হয়ে আয়!”
“হুম।”
সাইমন চলে যায়। রাদিফ ল্যাপটপ খুলে। আর এক হাতে মিষ্টিকে কল দেয়। মিষ্টি রিসিভ করে বলে,
“হুম বলো!”
“কি করছিস এখন, ঘুম আসছে না?”
“আসছেই তো! অনেক রাত হয়েছে!”
“হুম। তাহলে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়! আর সকালে উঠে বাবাকে ফোনটা দিয়ে দিস।”
“ঠিক আছে।”
মিষ্টি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করে,
“তুমি কি করছো এখন?”
“বসে আছি। অফিসের কিছু কাজ করবো!”
“ওহ। খেয়েছো?”
“হুম।”
“আরেকটা প্রশ্ন করি!”
“হুম, কর!”
“রাহা কেমন আছে?”
“ভালো।”
“কোথায় আছে ও?”
“ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো।”
“ওহ আচ্ছা।”
“আরও প্রশ্ন থাকলে কর!”
“না আর প্রশ্ন নেই।”
“তাহলে ঘুমিয়ে পড়!”
“ঠিক আছে! আর শোনো,”
“কি!”
“যা করার একটু তাড়াতাড়ি করো!”
“ও নিয়ে তোর ভাবতে হবে না।”
“ঠিক আছে। ভাববো না।”
“ঘুমিয়ে পড়! রাখছি!”
“হুম।”
রাদিফ কল কেটে দিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে পাশেই ফোনটা রেখে দিলো। মিষ্টি ফোনটার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলো। অনেক দিন পরে রাদিফের সাথে কথা বলতে পেরে তার ভালোই লাগছে। করুক না একটু রাগ তবুও মিষ্টির ভালো লাগে। মিষ্টি শুয়ে শুয়ে রাদিফের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।
পরদিন সকালে রাদিফ আর সাইমন অফিসে চলে গেলো। বাড়িতে রইলো রাহা আর রাজ। মেইড তার সব কাজ শেষ দিয়ে আজ তার বাড়িতে চলে গিয়েছে। তার ছেলের সাথে দেখা করতে। রাতে আসবে।
রাহা আর রাজ বাড়িতে থেকে দুজনেই বোরিং ফিল করছিলো। কোনো কাজ নেই, কোথায় চিনেও না যে ঘুরতে যাবে। তাই বাড়িতেই বসে গল্প করছে, নয় টিভি দেখছে, আর নয়তো বাগানে ঘোরাঘুরি করছে।
এদিকে রাশেদ চৌধুরী কপালে হাত দিয়ে ড্রইং রুমে বসেছিলেন। অফিসেও যাননি। একদিকে অফিসের চিন্তা আরেকদিকে মেয়ের বিয়ে। বিয়েটা ঘরোয়া ভাবেই হচ্ছে তবুও তার কেমন একটা চিন্তা হচ্ছে।
রুবেল চৌধুরী নিচে নেমে আসেন। তিনিও কেমন একটা রাশেদ চৌধুরীর থেকে ছাড়া ছাড়া হয়ে ঘুরছেন। তার কোনো চিন্তাই হচ্ছে না ব্যাবসা নিয়ে। নিজের মতোই ঘোরাফেরা করছেন। রাশেদ চৌধুরীর পাশেও তেমন একটা বসেন না। বসলেও খুব কম কথা বলেন।
________________
জাপানে,,
সাইমন আর রাদিফ একসাথে বাড়ি ফিরছে। এখন বাজে রাত আটটার মতো। রাদিফ গাড়ি ড্রাইভ করে সাইমন পাশের সিটে বসে আছে। রাদিফ হঠাৎ গাড়ি থামালো। এই দেখে সাইমন বলে,
“কিরে এখানে গাড়ি থামালি কেনো?”
“তু্ই গাড়িটা নিয়ে চলে যা! আমি কিছু শপিং করবো।”
সাইমন রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“শপিং করবি কর! তু্ই গাড়ি রাখ। আমি অন্য গাড়ি ম্যানেজ করে চলে যাচ্ছি।”
“না তু্ই গাড়িটা নিয়ে যা। আমিই অন্য গাড়ি ম্যানেজ করে চলে আসবো।”
সাইমন অনীহা নিয়ে বলে,
“না না, সেদিন আমি তোর কথায় গাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছিলাম। এরপরে তু্ই ওই মেয়ের উপকার করার গিয়ে নিজে এক্সিডেন্ট হলি। আজ আর গাড়ি নিবো না। তু্ই তোর কাছেই রাখ। এই একটু রাস্তা আমি অন্য একটা গাড়ি করে যাবো।”
সাইমন গাড়ি থেকে নেমে গেলো। যাওয়ার আগে রাদিফের জানালের কাছে এসে বলে,
“ভাই, তাড়াতাড়ি চলে আসিস। আর আমার জন্য কিছু পেলে নিয়ে আসিস।”
“হুম যা!”
রাদিফ চলে যায় গাড়ি নিয়ে। সাইমন কয়েক কদম সামনে একটা গাড়ি দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলো। বাড়ি পর্যন্ত এই গাড়িতে করে যাবে। ড্রাইভারের সাথে কথা বলে যেই গাড়িতে উঠতে যাবে ঠিক তখন একটা মেয়ে পেছনে একটু দূরে থেকে সাইমনকে ডেকে উঠে। মেয়েটা জারা। সাইমন গাড়িতে উঠলো না। ড্রাইভারকে সরি বলে গাড়ির কাছে থেকে চলে এলো।
সাইমনের সামনে এসে দাঁড়ায় জারা। সাইমন জারাকে দেখে বলে,
“হাই, কেমন আছেন?”
“ভালো। আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো।”
“কই যাচ্ছিলেন এখন?”
“অফিসে থেকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম।”
“ওহ। গাড়ি কই আপনার? নিয়ে আসেননি?”
“আসলে আমি আর আমার বন্ধু রাদিফ দুজনে একটা গাড়িতেই ফিরছিলাম। রাদিফ একটু শপিংয়ে গিয়েছে। আমার কোনো দরকার নেই তাই ওকে বললাম এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে যেতে।”
রাদিফও এসেছিলো আর জারা তাকে দেখার আগেই চলে গিয়েছে। জারার আফসোস হচ্ছে। কণ্ঠে খানিকটা আফসোস নিয়ে বলে,
“ইশ, আর একটু আগে এখানে আসলে হয়তো আপনার বন্ধুর সাথে দেখা হতো।”
এই শুনে সাইমন বলে,
“রাদিফের সাথে দেখা হওয়াটা কি খুব জরুরি?”
জারা মাথা নাড়িয়ে বলে,
“হুম, খুব জরুরি! সেদিনের পরে থেকে আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য অনেক ঘুরছি। কিন্তু দেখা পাচ্ছিই না।”
“কি দরকার আমায় বলতে পারেন! আজ বাড়ি ফিরে ওকে বলে দিবো।”
জারা মিনিট দুই চুপচাপ থেকে বলে উঠে,
“আসলে বললে হয়তো বুঝতে পারবেন না। তবুও বলি, উনার সাথে কথা বলতে কেনো যেনো ভালো লাগে। মনে হয় উনার সাথে সবসময় কথা বলি।”
সাইমন মনে মনে বলে,,, এবার বুঝতে পারলাম এই মেয়ে রাদিফকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু রাদিফকে পছন্দ করতে হলো কেনো ওর? ভাই আমার মতো ছেলেদের কি চোখে পড়ে না। আমরা একটা পাই না। আর রাদিফের একজন আছে আবার এই মেয়ে চান্স খুঁজছে। দাড়া চান্স খোজা বের করছি!
সাইমন মুখে খানিকটা হাসি নিয়ে বলে,
“কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো?”
“হুম, বলুন!”
“আমার যদি ভুল না হয়,,আপনি মনে হয় রাদিফকে ভালোবেসে ফেলেছেন তাইনা?”
জারা তৎক্ষণাৎ মুচকি হেসে বলে,
“হুম, ভালোবেসে ফেলেছি। এটাই আমি উনাকে বলতে চাচ্ছি!”
সাইমন সাথে সাথে গম্ভীর গলায় বলে উঠে,
“কিন্তু আপনি ওকে এটা বললেও তো কোনো কাজ হবে না।”
এই শুনে জারার মুখের হাসি উবে গেলো। সাইমনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসু সুরে বলে উঠে,
“কাজ হবে না কেনো? উনি কি আমায় রিজেক্ট করে দেবেন নাকি?”
সাইমন আশেপাশে তাকিয়ে বলে,
“ওই যে ওই বেঞ্চে বসে কথা বলি!”
“হুম, চলুন।”
সাইমন পাশেই বেঞ্চে বসলো। জারার থেকে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে বসে। জারা খানিকটা মন খারাপ নিয়ে বলে,
“এখন বলুন!”
সাইমন বলে,
“আপনি হয়তো জানেন না ওর দেশে বউ আছে!”
“কিন্তু ভাইয়া আমি যতদূর জানি উনি তো বিয়ে করেননি! আমি হসপিটালে উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনার ফ্যামিলির কেউ এখানে আছে? উনি আমায় শুধু আপনার কথা বলেন। উনার বউ থাকলে তো উনি আসতো হসপিটালে। আর উনার বাসায়ও তো দুইদিন গেলাম কই দেখলাম না তো!”
সাইমন বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে উঠে,
“আপনাকে কি বলেছি আপনি হয়তো ভালো করে শোনেননি! আমি বলেছি দেশে ওর বউ আছে এখানে নেই।”
জারা তৎক্ষণাৎ সাইমনের কথাটা ভাবলো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তবুও আবার বলে উঠে,
“ভাইয়া আপনি মিথ্যে বলছেন। উনি বিয়ে করেননি।”
“আপনাকে মিথ্যে বলে আমার কি লাভ বলুন! আপনি ওকে ভালোবাসেন তাই শুনে কথাগুলো জানালাম। আর না জানালে আপনি ওকে ভালোবেসে শুধু শুধু কষ্টই পাবেন।”
“তবুও কেমন একটা লাগছে। মনে হচ্ছে বিয়ে করেননি। কিন্তু আপনিও তো মিথ্যে বলছেন না।”
সাইমন ফোন বের করে রাদিফকে মেসেজ দিলো—-তোর আর কতক্ষন লাগবে?
সাইমন ফোনটা হাতে রেখে দিয়ে জারার দিকে তাকিয়ে বলে,
“হুম। মিথ্যে নয় কথাগুলো। রাদিফ যে মেয়েকে বিয়ে করেছে। ওকে আর কিছুদিন পরেই এখানে নিয়ে আসবে। আরও আগেই নিয়ে আসতো তবে কাগজপত্র ঠিক হয়নি তাই দেরি হচ্ছে। আর আপনাকে কথাগুলো না জানালে আপনি তো না জেনে ওকে ভালোবেসেই যেতেন।”
“হুম। ঠিক বলেছেন। জানানোর জন্য থ্যাংকস।”
সাইমনের ফোনে মেসেজ আসার শব্দ হয়। রাদিফ দিয়েছে মেসেজ—-পনেরো মিনিটের মতো লাগবে। কেনো?
সাইমন লিখে—-তু্ই যেখানে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিলি সেখানেই আছি আমি। যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে যাস!
সাথে সাথে রাদিফ লিখে—-ঠিক আছে। থাক ওইখানেই।
জারা সাইমনকে বলে,
“আচ্ছা, আপনাকে একটা কথা বলবো!”
সাইমন ফোন রেখে বলে,
“হুম বলুন!”
“আপনার বন্ধুর ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে!”
সাইমন বলে,
“আমি ওর পারমিশন ছাড়া নাম্বার কি করে দেবো! যতই হোক একজনের পারমিশন ছাড়া নাম্বার দেওয়ার আমার কোনো অধিকার নেই।”
জারার মনটা আরও খারাপ হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়তে নিলে সাইমন দেখার আগেই তা মুছে ফেলে। জারার ফোনে কল আসে। তার বাবা কল দিয়েছে। জারা উঠে দাড়িয়ে সাইমনকে বলে,
“আমাকে যেতে হবে বাবা কল দিচ্ছে। ভালো থাকবেন আবার দেখা হবে!”
“হুম ঠিক আছে।”
জারা চলে যায়। এর কিছুক্ষন পরে রাদিফ আসে। সাইমন গাড়িতে উঠে বসে। রাদিফ বলে,
“কিরে, তু্ই যাসনি? এখানে বসে কি করছিলি?”
“ও কিছুনা। চল!”
সাইমনের দিকে তাকিয়ে রাদিফের কেমন একটা সন্দেহ হলো। যাই হোক পরে জেনে নিবে।
রাদিফ আর সাইমন বাড়িতে চলে এলো। সাইমন বাড়িতে ঢুকে রাহাকে খুঁজছে। রাদিফ সাইমনের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। সাইমন উপরে উঠে নিজের রুমে না গিয়ে সোজা রাহার রুমের দিকে এলো। রাহার রুমে নক না করে ঢুকে দেখতে পায় রাজ আর রাহা কাছাকাছি বসে আছে। দুজনে সাইমনকে দেখে দূরত্ব নিয়ে দাড়িয়ে পড়ে।
রাজ সাইমনকে দেখে বলে,
“কিছু বলবেন?”
“হুম!”
সাইমন একে একে জারার সাথে হওয়া কথাগুলো জানালো দুজনকেই। এরপরে সাইমন ঠিক করলো এই নিয়ে পরে কথা বলবে।
__________
রাদিফ নিজের রুমে এসে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার নিয়ে বের হয়। এরপরে কাভার্ড থেকে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট বের করে পড়ে নেয়। চুলগুলো ঠিক করে রুমের দরজা খুলে বের হয়ে নিচে নেমে আসে।
বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে,,
রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী রাতের খাবার খেয়ে বসে আছেন। সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরীও পাশে বসে আছেন। তারা তাদের কিছু কাছের আত্মীয়দের ফোন করে বিয়েতে আসার জন্য বলছেন।
মিষ্টি নিচে নেমে আসে। এরপরে সেও বসে। রাশেদ চৌধুরী মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলেন,
“মিষ্টি বিয়েতে তোমার বান্ধবীদের আসতে বলেছো?”
“হুম, বাবা বলেছি।”
“ভালোই করেছো।”
“আচ্ছা বাবা, ফুপ্পির আসার কথা ছিলো আসলো না কেনো? ফুপ্পি কি আসবে না?”
“কালকে সকালেই আসবে।”
“ওহ। ভালোই হবে।”
মিনিট পাঁচেক পরে,,বাড়ির কলিং বেল বাজিয়ে, বাড়ির ভিতরে তিনজন পুলিশ ঢুকলো। আকস্মিক বাড়িতে পুলিশ দেখে সবাই উঠে দাড়ালো।
চলবে….
পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যায়ই আসবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

