#চোরাবালির_পিছুটানে (২৪)
#জেরিন_আক্তার
রাশেদ চৌধুরী দু পা পিছিয়ে গিয়ে নিজেকে সামলে সামনে এগিয়ে গেলো। রাদিফের মুখোমুখি হয়ে থমথমে গলায় বলে,
“রাদিফ তুমি এখানে?”
রাদিফ জবাবে বলে,
“হুম। আমিই। অবাক হচ্ছো? আর অবাকই হওয়ার কথা।”
রাশেদ চৌধুরী ধীর গলায় বলে উঠেন,
“এসব কি তোমার কাজ?”
“হুম। এগুলো আমারই কাজ!”
রাশেদ চৌধুরী গলার কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলেন,
“আমি তোমায় বলবো না যে এগুলো কেনো করেছো। তবে আমি আজ বলবো আমায় তুমি ক্ষমা করে দাও! আমার নিজের অহংকারের জন্য আজ এগুলো। আমি বুঝতে পেরেছি। আমার সেদিন তোমাকে আর তোমার বাবাকে ওসব বলা উচিত হয়নি।”
এই বলে রাশেদ চৌধুরী পাশ ফিরে রুবেল চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠেন। ছোট ভাইয়ের সামনে গিয়ে হাত জোর করে বলে উঠেন,
“রুবেল, আমি সেদিন বড্ড খারাপ কথা বলেছিলাম তোর ছেলেকে। যার জন্য ও চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। আমায় তু্ই মাফ করে দে ভাই! তু্ই জানিস না ভাই আমি কি বলেছি!”
রুবেল চৌধুরী বড় ভাইয়ের হাতে হাত রেখে বলেন,
“ভাই তুমি কেঁদো না। রাদিফের থেকে শুনেছি আমি। সারাজীবন টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে তুমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলে। আজ বুঝতে পারছো সেগুলো হারাতে যাচ্ছিলো।”
রাশেদ চৌধুরী হু হু করে কেঁদে উঠে বলেন,
“হুম। বুঝতে পেরেছি। আমাকে তুই মাফ করে দিস।”
এই বলে তিনি রাদিফের কাছে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ান। রাদিফ উঠে দাঁড়ায়। রাশেদ চৌধুরী নিচু হয়ে রাদিফের পায়ে হাত দিতেই রাদিফ দু-পা পিছিয়ে গিয়ে তাকে ধরে বলে উঠে,
“উঠো! কি করছো এগুলো? তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো পায়ে হাত দিবে? শোনো, রাগী হতে পারি কিন্তু বাবা-মা অমানুষ বানায়নি! মাফ চাইতে হবে না। তুমি যে নিজের ভুলটা উপলব্ধি করতে পেরেছো এটাই অনেক। আমরা এটাই চেয়েছিলাম যে তুমি নিজের ভুলটা উপলব্ধি করতে পারো।”
রাশেদ চৌধুরী মাথা নত করে রইলেন। রাদিফ তাকে ছেড়ে দিয়ে বলে,
“শোনো, অফিস বন্ধ হওয়ার কোনো কারন নেই। কালকে থেকে অফিস চলবে। তোমার সব বিজনেস পার্টনাররাও আসবে। সাময়িক সময়ের জন্য তাদের কাজ থেকে বিরতি নিতে বলেছিলো বাবা। আর মিথ্যেও বলতে বলেছিলো। একি সাথে বাবা পুলিশকেউ বাড়িতে যেতে বলেছিলো। ওসব ছাড়ো আর কালকে থেকে সব আবার চালু হবে।”
___________________
বিকেলের দিকে রাদিফ বাড়ি ফিরে এলো। রাশেদ চৌধুরী আর রুবেল চৌধুরী অফিসে রয়েছে। তারা পরে ফিরবেন। অফিসের সেই ঘটনার পরে রাদিফ মনে মনে খুব খুশি। এতদিনের সব প্রচেষ্টা আজ সফল। মানুষটাকে বোঝাতে চেয়েছিলো সে মিষ্টিকে লোভে পড়ে বিয়ে করতে চাইনি। আজ বোঝাতেও পেরেছে।
রাদিফ বাড়িতে ফিরে সোজা নিজের রুমে আসে। মিষ্টি বেলকনিতে বসে বসে মোবাইলে রিলস দেখছিলো।রাদিফকে দেখা মাত্রই ফোনটা সেখানেই রেখে রুমে চলে আসে। রাদিফ সুট খুলে, শার্টও খুলতে শুরু করে। মিষ্টি রাদিফকে বলে,
“তোমার কাজ শেষ!”
“হুম।”
মিষ্টি রুমে থেকে বেরিয়ে যায়। রাদিফ টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখতে পায় মিষ্টি খাবার নিয়ে বসে আছে। রাদিফ এগিয়ে এসে কাভার্ড থেকে শার্ট বের করে পড়ে নেয়। এরপরে সোফায় গিয়ে বসে।
রাদিফ খাবার খেতে খেতে মিষ্টিকে বলে,
“তু্ই খেয়েছিস?”
“হুম!”
“কখন খেয়েছিস?”
“তুমি আসার আগ দিয়ে আম্মু আর ছোট আম্মুর সাথে বসে খেয়েছি!”
রাদিফ আর কিছু বলে না। খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। এর মিনিট দুই পরে মিষ্টি বলে,
“একটা ভালো খবর আছে!”
“কি?”
“তুমি বাড়িতে এসেছো সেইটা আম্মু দাদিজানকে বলেছিলো। কালকে দাদিজান আসবে এখানে তোমাকে দেখতে।”
রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,
“কালকে!”
“হুম!”
রাদিফ গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“আমাকে বললে তো আমি গিয়েই দেখা করতে যেতাম। এই শরীরে জার্নি করে আসতে হবে কেনো? আর অবশ্য এখনও স্ট্রংই আছে। বিশেষ করে তোর থেকেও স্ট্রং।”
মিষ্টি তালে তালে বলে,
“হ্যা!”
রাদিফ হাসতে থাকে। মিষ্টির মস্তিস্ক কথাগুলো ভালো ভাবে বুঝতেই সাথে সাথে বলে উঠে,
“এই কি বললে তুমি? আমার থেকে স্ট্রং মানে? তুমি আমায় অপমান করছো?”
“মোটেও না!”
“শোনো, যা বলতে চেয়েছিলাম, এবার দাদিজান আসলে আমার আর তোমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে আর গ্রামে না যায়।”
“ঠিক আছে। এখন কথা বন্ধ করে বসে থাক। আমাকে খেতে দে।”
মিষ্টি উঠে চলে যায় বিছানার দিকে। নিজের ফোন খুঁজতে থাকে। কিন্তু পায় না। মনে করে একটু আগে কিচেনে গিয়েছিলো সেখানেই হয়তো রেখে এসেছে। তাই রুমে থেকে বেরিয়ে যায়। কিচেনে এসে খুঁজতে থাকে। কিন্তু পায় না। হঠাৎ করে ভুলবসত তরকারির বাটিতে হাত লেগে পড়ে যেতে নিলে, মিষ্টি বাটিটা ধরে ঠিক জায়গায় রাখে। হাতে লেগে যায় তরকারি। মিষ্টি সাথে সাথে বেসিনে হাত ধুয়ে নেয়। শাড়িতেও তরকারি পড়েছে। এই শাড়ি পড়ে থাকা যাবে না এখন। মিষ্টি উপরে চলে আসে শাড়ি চেঞ্জ করতে।
রুমে আসতেই দেখে রাদিফের খাওয়া শেষ বিছানায় বসে আছে। মিষ্টি একটা শাড়ি বের করে ওয়াশরুমে ঢুকে। রাদিফ নিজের ফোন বের করে দেখতে থাকে।
এমন সময় মিষ্টির ফোন বেজে উঠে। রাদিফ এদিক-সেদিক তাকায় কিন্তু ফোন পায় না। বিছানায় থেকে উঠতেই বুঝতে পারে ফোনটা বেলকনির দিকে বাজছে।
রাদিফ বেলকনিতে এসে মিষ্টির ফোনটা পায়। হাতে নিয়ে দেখে তুহিন নামের নাম্বার থেকে কল এসেছে। যা দেখে রাদিফের মেজাজ তুঙ্গে উঠে গেলো।
রাদিফ রুমে এসে মিষ্টিকে বাজখাই গলায় ডেকে উঠে,
“এই মিষ্টি, তোর ফোনে কল এসেছে!”
মিষ্টির শাড়ি পড়া হয়নি তখনও। নিজে নিজে শাড়ি পড়তে একটু সময় লাগে তার। তাই বলে উঠে,
“কে কল দিয়েছে?”
“আমি চিনি না! তু্ই এসে দেখ!”
মিষ্টি বলে,
“রিসিভ করে দেখো কে কল দিয়েছে!”
রাদিফ কল রিসিভ করে কানে নেয় ফোনটা। ওপাশে থেকে তুহিন বলে,
“অবশেষে ধরলে। আমি তো ভেবেছি ধরবেই না। তোমার স্বামী আমার কল ধরতেই দিবে না। তো ধরতে দিলো তোমার স্বামী?”
রাদিফ চোয়ালে শক্ত করে কথাগুলো শুনে যাচ্ছে। কথা গুলো শুনে কিছু বললো না। তুহিন ওপাশে থেকে বলে,
“কেমন করে পারলে আমার সাথে এমন করতে। ও ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি তো ঠিকই ছিলে। সব তো করেছে ওই যে কি যেনো নাম রা রাদিফ। ওকে তো আমি ছাড়বো না।”
রাদিফ নিজের নাম শুনে গর্জে উঠে বলে,
“এই চুপ! তু্ই কাকে হুমকি দিচ্ছিস। যদি সাহস থাকে সামনে এসে কথাগুলো বলে যা। দেখি তোর কত সাহস!”
তুহিন খিলখিলিয়ে হেসে বলে,
“ওহ তু্ই কলটা ধরেছিস। তাইতো বলি কথা বলে না কেনো! তু্ই বড় বুদ্ধিমান। তোর বুদ্ধি আছে বলাই যায়। তু্ই যদি বুদ্ধি খাটিয়ে ওকে বিয়ে না করতি তাহলে আজ মিষ্টি আমার হতো। আমার বাড়িতে বউ হয়ে আসতো।”
এই শুনে রাদিফের মাথায় রক্ত উঠে যায়। গর্জে উঠে বলে,
“তু্ই জানিস মিষ্টি এখন আমার হয়ে গিয়েছে। তু্ই যদি আর একটা কথা বাড়াস তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।”
“তোর কথায় আমি একটুও ভয় পাইনি!”
রাদিফ বলে,
“এই দেখ, তোর সাথে আমি কোনো ঝামেলা করতে চাচ্ছি না। এভাবে বিরক্ত করিস না। ফোন রাখ!”
তুহিন বাকা হেসে বলে,
“ভয় পেলি! ও তু্ই তো ভয় পাবিই! সাহস নেই।”
রাদিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“কি বলছিস ভেবে বলছিস তো!”
“এখানে ভাবার কি আছে? সেদিন যদি তোকে চিনতে পারতাম বিশ্বাস কর! একবারে জানে মেরে দিতাম।”
“তু্ই বড্ড ভুল করছিস। এখনও সময় আছে ফোন রাখ। তোর আইডিয়াও নেই কি করতে পারি তোর। তোর মারার আগে তোকেই মেরে দিবো।”
“ইশ, তাই আমি ভয় পাবো ভেবেছিস? আমি ভয় পাইনা তোকে। তু্ই আমার ভালোবাসা কেড়ে নিয়েছিস। তোকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবো না আমি।”
রাদিফ রেগে গিয়ে বলে,
“এই ফোন রাখ। তোর সাথে কোনো কথা বলার ইন্টারেস্ট নেই আমার। শুধু শুধু ঝামেলা করতে আসতে চাইছিস। তোকে কিছু বলেছি আমি, তাহলে কেনো পায়ে পারা দিচ্ছিস। নিজের মতো থাক!”
তুহিন বলে,
“আমিও তো তোকে কিছু বলিনি তাহলে তু্ই আমার বিয়েটা ভেঙে দিলি কেনো?”
রাদিফ আর কোনো কথা বলে না। কল কেটে দেয়। এরপরে ফোনের ওয়ালপেপারে মিষ্টির ছবি ভেসে উঠে। রাদিফ কিছুক্ষণ ছবির দিকে তাকিয়ে বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপরে যখন তুহিন নাম থেকে আবার কল আসে ঠিক তখনই চোখ বন্ধ করে ফোনটা ফ্লোরে ছুড়ে মারে। ফোনটা সাথে সাথে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এরপরে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পরেই মিষ্টি ওয়াশরুম থেকে বের হয়। বেরিয়ে রাদিফকে দেখতে না পেয়ে বলে,
“এখানেই না কথা বললো কোথায় চলে গেলো!”
মিষ্টি হেটে বিছানার কাছে আসতেই পায়ে কিছু একটার সাথে ব্যাথা পায়। মিষ্টি সাথে সাথে ফ্লোরে তাকিয়ে দেখে তার ফোনটা ভেঙে পড়ে আছে। মিষ্টি সাথে সাথে ভাঙা ফোনটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। কি করে হলো এসব কিচ্ছু মাথা ঢুকছে না। একটু আগে রাদিফ বলছিলো কল এসেছে। তাহলে রাদিফই কি রাগের মাথায় ফোনটা ভেঙে ফেলেছে।
মিষ্টি মনটা খারাপ করে বিছানায় এসে বসে। কালকে দুপুরের দিকে তার ছোট আব্বু তার ফোনটা দিয়েছে। আর এর মাঝে আজ ভেঙে ফেলেছে।
মিষ্টি ভাঙা ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষন বসে রইলো। এরপরে রেগে গিয়ে সেইটা রুমের ডাস্টবিনে ফেলে দিলো। কি হবে এই ফোনটা দিয়ে।
সন্ধ্যায় রাদিফ এলো রুমে। মিষ্টি মনমরা হয়ে বসে ছিলো রুমে। রাদিফকে দেখা মাত্রই মিষ্টি বলে উঠে,
“আচ্ছা তুমি কি আমার ফোনটা ভেঙেছো?”
রাদিফ গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দেয়,
“হুম। কেনো কি হয়েছে?”
মিষ্টি রেগে গিয়ে বলে,
“তুমি আমার ফোন ভেঙে এখন আবার বলছো কেনো কি হয়েছে?”
রাদিফ মিষ্টির কথা শুনেও না শোনার ভান করে বলে,
“ফোন দিয়ে কি দরকার তোর?”
মিষ্টি সাথে সাথে বলে,
“মানুষের ফোনের দরকার থাকে না?”
“না!”
“অবশ্যই থাকে!”
রাদিফ মিষ্টির দিকে এগোতে থাকে। মিষ্টি পিছিয়ে যেতে যেতে বলে উঠে,
“কথা বলছো না কেনো হ্যা! মানুষের ফোনের দরকার থাকে না। তুমিও তো ফোন রাখো তাহলে আমারটা ভেঙে ফেললে কেনো?”
রাদিফ মিষ্টির চোয়ালে চেপে ধরে বলে,
“কিসের ফোনের দরকার তোর? তোর স্বামী বিদেশে থাকে নাকি কাজে থাকে যে কল দিবি। তাহলে ফোন দিয়ে কি করবি বল?”
এই বলে রাদিফ মিষ্টিকে ছেড়ে দিয়ে কাঠকাঠ গলায় বলে উঠে,
“কোনো ফোনের দরকার নেই তোর! যখন দরকার হবে তখন আমি নিজেই ফোন কিনে দিবো। এর আগে যেনো তোর মুখ দিয়ে ফোন শব্দটা না বের হয়!”
মিষ্টি মুখ ঘুরিয়ে বকতে বকতে থাকে বিড়বিড় করে। মনে মনে বলে,,, তোমাকে শায়েস্তা করতে আমার একার ধারা হবে না। দাদিজান আসুক। তাকে সাথে নিয়েই তোমার মেজাজ ঠান্ডা করবো।
রাদিফ বিছানায় হেলান দিয়ে বসে মিষ্টিকে বলে,
“মনে মনে বকে কি লাভ সামনে এসে বল!”
মিষ্টি রাগে গটগট করে চলে যায় রুম থেকে। রাদিফ ওর দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে ফোন বের করে রাজকে কল দেয়। দুবার রিং হতেই রাজ কল রিসিভ করে।
“হ্যালো, রাদিফ কেমন আছিস ভাই?”
“ভালো। তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো।”
“রাহা কেমন আছে?”
“ভালো। কি করছিস?”
“বসে আছি। তু্ই?”
“আমিও বসে আছি।”
রাদিফ ভালো মন্দ কথা বলার পরে বলে,
“একটু ঝামেলায় ছিলাম তাই তোদের আসতে বলিনি। সাইমন মেসেজ দিয়েছিলো যে তোদের আসতে বলবো কিনা। তু্ইও দিয়েছিলি। এখন ফ্রি হয়ে দেখলাম। তোদের যদি ইচ্ছে হয় তাহলে তোরা চলে আয়। আর যদি মনে চায় আসবি না ওখানেই থাকবি তাহলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। তোদের হাতেই সব।”
রাজ খানিকটা খুশি হয়েই উঠলো। যাক মুখ দিয়ে অন্তত বের করেছে এই অনেক। রাজ চট করে বলে উঠে,
“হুম আসবো। তোর বলার অপেক্ষাতেই রয়েছি।”
রাদিফ হেসে বলে উঠে,
“তাহলে চলে আয়!”
রাজ হেসে বলে,
“ভাই তু্ই জানলে খুশি হবি, আমাদের দুজনের টিকিট কাটা শেষ। কালকে সন্ধ্যা ৫ টায় বাংলাদেশে নামবো।”
রাদিফ সোজা হয়ে বসে বলে,
“ওয়েট ওয়েট তু্ই না বললি আমার বলার অপেক্ষাতেই রয়েছিস। তাহলে আগেই টিকিট কেটে রেখেছিস কেনো?”
রাজ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
“ভাই ওই হলো। ছাড় ওসব। কালকে আসছি জানিয়ে দিস। আমি আবার তোর মতো না জানিয়ে যেতে পারবো না। আমার আবার বউ আছে। বউ নিয়ে প্রথম বার বাড়িতে ঢুকবো। আবার সাথে বাচ্চাও আছে।”
রাদিফ হেসে হেসে বলে,
“আয় তাহলে বউ নিয়ে। আমি জানিয়ে দিবো বাড়িতে।”
“ঠিক আছে। আর আম্মুকে বলবি তার ছেলে বউ নিয়ে আসছে।”
“আচ্ছা, ঠিক আছে! রাজ শোন, আরেকটা সারপ্রাইস আছে!”
“কি!”
রাদিফ ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
“কালকে আমার বউ আসছে!”
“যা কি বলিস? মজা করিস না ভাই! বিয়ে করেছিস তো আমার বোনকেই। ও তো বাড়িতেই আছে। আবার কোন বউ আসবে?”
“গ্রামেরটা!”
“ওরে ভাই বুঝতেই পারিনি। তো আসতে রাজি হলো তোর বউ?”
“হুম। আমি এসেছি বলে আসবে।”
রাজ রসিকতা করে বলে উঠে,
“প্রিয় মানুষের ভালোবাসার টানে গ্রামে থেকে এক যুবতী শহরে আসছে।”
রাদিফ আর রাজ দুজনেই হেসে উঠে। এই কথার টপিক শেষ হতেই বলে,
“রাজ তু্ই আগে আয় একটা কাজ আছে!”
“কি!”
“আর বলিস না ভাই, মিষ্টির যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। সেই ছেলে এখন পেছনে পড়ে আছে। শালাকে বোঝাচ্ছি যে আমি কোনো ঝামেলা করতে চাই না কিন্তু শুনছে না।”
“ঠিক আছে এসে ওর ব্যবস্থা আমি নিজেই করে ফেলবো। তোমার ওকে নিয়ে ভাবতে হবে না।”
______________
পরদিন বিকেলে আনোয়ারা বেগম চৌধুরী বাড়িতে এলেন। রাশেদ চৌধুরী সাথে বাড়ির সদর দরজার দিকে এগিয়ে এলেন। বাড়ির ভিতরে না ঢুকেই রাদিফকে ডাকতে থাকেন,
“রাদিফ দাদুভাই!…. দাদুভাই….!”
এই দেখে মিষ্টি মনে মনে বলে,,, যেই বজ্জাতের এতো রাগ তাকেই আগে আগে ডাকছে মনে হচ্ছে জামাই লাগে।
সায়মা চৌধুরী আর রুমানা চৌধুরী এগিয়ে গেলেন। রুমানা চৌধুরী বলেন,
“মা রাদিফ বাড়িতে নেই। এতক্ষন আপনার অপেক্ষাতেই ছিলো। মাত্র দশ মিনিট হলো বেরিয়ে গেলো।”
আনোয়ারা বেগম ধীর গলায় বলেন,
“কই গেছে? ফিরবো কহন?”
“মা, রাজ আর রাহা আসছে জাপানে থেকে। ওদের আনতে গিয়েছে। ফিরতে একটু দেরি হবে।”
মিষ্টি আনোয়ারা বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
“এসেই একজনের কথা বলছো আমাদের চোখে পড়ে না!”
আনোয়ারা বেগম হেসে মিষ্টির থুতনিতে হাত রেখে বলে উঠেন,
“বাব্বাহ, মাইয়া দেহি রাগ করে!”
মিষ্টি অভিমানী স্বরে বলে উঠে,
“রাগ তো করবোই। তুমি জানো তোমার ওই বজ্জাত নাতি কথায় কথায় রাগ করে।”
আনোয়ারা বেগম মিষ্টির সাথে ড্রইং রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলেন,
“কি কইতাছো দাদুভাই?”
রাশেদ চৌধুরী হেসে মিষ্টিকে বলেন,
“মাকে রুমে নিয়ে যাও! অনেকটা জার্নি করে এসেছে। রুমে গিয়ে আস্তে ধীরে যত নালিশ দেওয়ার দাও!”
মিষ্টি আনোয়ারা বেগমকে নিচেই ড্রইং রুমের পাশাপাশি ঘরগুলোর মধ্যে একটাতে নিয়ে যায়। মিষ্টি তাকে বিছানায় বসিয়ে শুধানো গলায় বলে,
“জানো দাদিজান আমি না মনে মনে তোমাকেই চেয়েছি যে তুমি যদি আসতে।”
“কেন দাদুভাই কিছু হইছে!”
“দাদিজান তুমি জানো রাদিফের না খুব রাগ। এসেছে থেকে রেগে থাকে। আজ আমার ফোন ভেঙে দিয়েছে। তার পছন্দের মানুষ তো তুমি। তাই তোমাকে সাথে নিয়েই ওর রাগ শেষ করতে চেয়েছি।”
আনোয়ারা বেগম হেসে হেসে বলেন,
“দাদুভাই, পোলা মাইনষের অমন রাগ থাকেই। পোলা মাইনষের রাগ কমে পোলাপানের মুখ দেহার পরে।”
চলবে….
পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যার পরে আসবে। এর আগে আসবে না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

