ভ্যাম্পায়ার সিটি-(পর্ব_৮)

0
63

#ভ্যাম্পায়ার_সিটি
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_৮

“ভ্যাম্পায়ার ক্রাউন হবে সম্প্রদায়ের রাজা এবং তার রানী হবে অবনী। কিন্তু ক্রাউনের কোনো আইডিয়াই নেই, যে সে যাকে নিজের রানী বানাতে চাচ্ছে সে একটা জলজ্যান্ত আগুনের গোলা। তাকে নিজের করে পেতে হলে আসমান-জমিন এক করে দিয়ে নতুন ইতিহাসের সূচনা করতে হবে। ক্রাউন সবাইকে মেরে অবনীকে নিজের করে পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান সাজানোর পর তার অনুসারীদেরকে বলে,

–এই তোরা সবাই আমার অনুসারী। আমি তোদেরকে বানিয়েছি। তোরা আমি বাদে কারোর কাছে নত স্বীকার করবি না। একমাত্র খালি আমার কাছেই তোরা নত স্বীকার করবি এবং আমার সমস্ত হুকুমকেই তোরা মেনে চলবি।
.
ক্রাউনের কথার প্রতিত্তোরে তার অনুসারীরা সবাই একজোট হয়ে বলে উঠে,

–জ্বি মালিক আমরা আপনার হুকুমেরই অনুসরণ অনুকরণ করবো। আপনি বাদে কারোর কাছেই নত স্বীকার করবো না।

–এই তো সাব্বাশ। যা এবার গিয়ে আমার জন্য সবাই আহারের খোঁজে লেগে পড়। এমনিতেই আমার মাথা গরম হয়ে আছে। তার উপরে আহার করতে না পারলে মাথা আরো খারাপ হয়ে যাবে।
.
ক্রাউনের কথার প্রতিত্তোরে এবার তার একজন অনুসারী বলে উঠে,

–মালিক গড অফ ভ্যাম্পায়ার তো দেখলাম এসবের বিরোধিতা করে। আমরা যদি মানুষকে ধরে আনি, আর গড অফ ভ্যাম্পায়ার যদি এসব জেনে যায় তাহলে তো ভয়ানক কান্ড ঘটবে।

–না কেউ জানবে না। গড অফ ভ্যাম্পায়াররা আমার উপরে দায়িত্ব চেপে দিয়ে ঘুমোতে চলে গেছে। তাই তাঁদের কান পর্যন্ত এই খবর পৌঁছাবে না। আর পৌঁছালেও সমস্যা নাই। আগামীকাল রাতে আমি নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবো। তারপর থেকে আমার কথার উপরে কেউ কথা বলবে বা আমার আদেশ কেউ অমান্য করবে এমন কেউ এই থাকবে না।

–ঠিক আছে মালিক তাহলে আমরা আপনার আহারের তালাশে বের হচ্ছি।
.
ক্রাউনের অনুসারী সবাই ক্রাউনের আদেশ মোতাবেক মানুষের উপরে হামলা করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। “অপরদিকে অবনী সবাইকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছে। অবনী, আকাশ,রাজ,মুজাহিদ সবাই খুশি ভ্যাম্পায়ারদেরকে দমন করে। কিন্তু তাঁদের ধারণা যে ক্রাউন ভুল প্রমানিত করতে বসে আছে সেই আইডিয়া কারোর এই নেই। সবাই মহাখুশি। কারন এতোদিন ভ্যাম্পায়ারদের কারনে দেশের মানুষ অনেক অত্যাচারীত হয়েছে। তবে অবনী এসে প্রথম যাত্রাতেই সব কিছুকে শান্ত করে দিয়েছে। সবাই বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে আকাশের বাংলোতে। বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ায় পর অবনী আর আকাশ রুমে চলে আসে। রুমে আসার পর অবনী আকাশকে বলে,

–আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।

–কি কথা অবনী?

–আমার স্বীকৃতি চাই।

–স্বীকৃতি চাই মানে বুঝলাম না।

–মানে অনেক তো হলো। এবার আমায় নিজের করে নিন। আর কতোদিন এভাবে চলবে?

–তুমি তো আমারই আছো। তোমাকে আর নতুন করে আপন কি করবো?

–প্রিয় বিয়ে ছাড়া পরনারী কখনোই আপন হতে পারে না।

–ওহ তুমি বিয়ের কথা বলছো?

–জ্বি আমি বিয়ের কথাই বলছি।

–ঠিক আছে বিয়ে করে নিব আমরা। তবে বিয়ে করতে হলে আমারো একটা শর্ত পূরণ করতে হবে তোমাকে।

–কি শর্ত?

–তুমি আমাকে আর আপনি ডাকতে পারবে না। আমাকে তোমার তুমি করে বলতে হবে।

–ইশ এটা কেমন কথা বলছেন।

–যেমন এই হোক আমাকে তোমার তুমি করে ডাকতে হবে।

–প্রিয় আপনাকে আমার আপনি করে ডাকতেই মজা লাগে। আর তাছাড়া এতোদিনের পুরনো স্বভাব আমার কখনোই পাল্টাবে না।

–তাহলে বিয়েও করতে হবে না তোমাকে।

–এই না…না বিয়ে করবো।

–তাহলে শর্ত পালন করতে হবে।

–ঠিক আছে পালন করবো। তবে মাঝেমধ্যে ভুল করে তুমির জায়গায় আপনি বের হলে রাগতে পারবেন না।

–ঠিক আছে রাখবো না।

–তো বলেন কবে বিয়ে করবেন?
সরি বলো কবে বিয়ে করবে?

–শুক্রবার আসতে আর দুই চারদিন বাকি আছে। শুক্রবার আসলেই আমরা বিয়ে করে নিব।

–আচ্ছা। এই জানো আমার ভাবতেই অবাক লাগে আমি তোমার বউ হবো।

–অবাক তো আমারো লাগে। কারন আগ থেকে চেনা জানা ছিল না। হুট করেই ভালোবেসে ফেললাম। আগামী শুক্রবার আবার বিয়েও করতে যাচ্ছি।

–হুম। আমার জীবনের অনেক বড় পাওয়া হবে তোমাকে নিজের করে পেলে। কিন্তু…

–কিন্তু কি?

–আমার পরিবারকে যদি ফিরে পেতাম তাহলে আমার জীবনটা একদম পরিপূর্ণ হয়ে যেতো। আমার আর কোনো চাওয়া পাওয়াই অপূর্ণ থাকতো না। তবে আমি জানি আমার এই চাওয়াটা কখনোই পূর্ণ হবে না। কারন আমার পরিবারের লোকজন বেঁচে আছে কিনা সেটাই আমি জানিনা। আর বেঁচে থাকলেও তারা কোনোদিন আমি অব্দি পৌঁছাতে পারবে কিনা আল্লাহ ভালো জানেন।
.
আকাশ অবনীর কথা শুনে কোনো কথাবার্তা না বলে চুপচাপ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। যেটা দেখে অবনী তাকে জিজ্ঞাস করে,

–এই কি হলো কই যাচ্ছো?

–অবনী তুমি কিছুটা সময় একটু রুমে বসে কাটাও। আমি নিচে গিয়ে দুই মিনিটের একটা কাজ শেষ করে আবার তোমার কাছে ফিরে আসছি।

–ঠিক আছে জলদি আসবা।

–হুম…
.
তারপর আকাশ নিচে চলে যায়। নিচে গিয়ে মুজাহিদ আর রাজকে নিজের কাছে পার্সোনালি ডেকে বলে,

–রাজ আর মুজাহিদ তোরা দু’জন আমার হাসিখুশি চেহারা দেখে অবশ্যই বুঝতে পারছিস অবনীকে ফিরে পেয়ে আমি কতোটা আনন্দে আছি।
.
আকাশের কথার প্রতিত্তোরে রাজ বলে উঠে,

–ভাই সেই কথা কি আর নতুন করে আমাদের বলতে হবে।

–দেখ আমি আর অবনী আসতেছে শুক্রবারে বিয়ে করবো। কিন্তু বেচারির একটা জিনিসে অনেক মন খারাপ।

–কি জিনিস ভাই?

–রাজ মেয়েটা তার হারিয়ে যাওয়া পরিবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। তাই আমি চাই আগামী শুক্রবার আমাদের বিয়ে হওয়ার আগেই তুই আর মুজাহিদ মিলে অবনীর মা-বাবাকে খুঁজে বের করবি যদি তারা জীবিত থাকে।

–ভাই আপনি একদম চাপ নিবেন না। আল্লাহ না করুক যদি তিনারা মরে না জান তাহলে পাতাল রাজ্য থাকলেও সেখান থেকে তিনাদেরকে খুঁজে বের করবো আমরা। আগামীকাল হলেই অবনী ভাবীর ছবি দিয়ে টিভি নিউজে হারানো বিজ্ঞপ্তি দিব।” ইনশা-আল্লাহ” আল্লাহ চায় তো ভাবীর পরিবার-পরিজনদের তিনি ফিরে পাবেন।

–হুম যা করার কর। তবে ছবির কারনে যেনো অবনীর কোনো ক্ষতি না হয়। আর সব চাইতে বড় কথা অবনীর কান পর্যন্ত যেনো এই খবর টা না পৌঁছায়।

–ভাই পৌঁছাবে না। এটা একদম গোপন থাকবে।

–এবার আমি রুমে গেলাম মেয়েটা রুমে একা একা মন খারাপ করে বসে আছে হয়তো।

–ঠিক আছে ভাই।

–রাজ,মুজাহিদের সাথে কথাবার্তা বলে রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে দেখি অবনী মনমরা হয়ে বসে আছে। তাই অবনীর মন ভালো করতে কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে নিজের বাহুতে আগলে নিলাম। মেয়েটাকে নিজের বাহুতে আঁকড়ে নিতেই মেয়েটা হু…হু করে কেঁদে উঠেছে। যেটা দেখে আমার পাষাণ অন্তরটা কাঁপতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়লো সামনের মানুষটাকে সামলাতে হলে আগে নিজেকে সামলানো প্রয়োজন। তাই প্রথমে নিজেকে সামলে নিলাম। তারপর অবনীকে বললাম, অবনী কাঁদে না। আমি তোমার কদমের সামনে ঐশ্বর্যের সমস্ত সুখ-শান্তি এনে স্তুপ করবো। তুমি দেখো তোমার জীবন থেকে সমস্ত কষ্ট মুছে যাবে।

–প্রিয় আমার না খুব কান্না পাচ্ছে কেন জানি।

–অবনী কাঁদে না। কারন কিছু মানুষকে কাঁদলে একদম সাজে না। আর তোমার মতন সাহসী নারীর চোখে যদি জ্বল আসে, তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে বলো?

–আচ্ছা আমি আর কাঁদবো না। কিন্তু তুই কখনো আমার থেকে দূরে সরবি না। তুই যেখানেই যাস না কেন আমায় সঙ্গে করে নিয়ে যাবি। আমায় একদম একা রেখে ঘর থেকে বের হবি না। কারন কখন তোকে আমার থেকে কে কেঁড়ে নিয়ে চলে যায় তা উপর ওয়ালা’ই ভালো জানেন।

–অবনীর মুখে তুই শব্দটা শুনে অন্তর কাঁপার সাথে সাথে এবার আমার পুরো শরীর কাঁপতে আরম্ভ করেছে। মনে হচ্ছে যেনো ইলেক্ট্রিক ইল আমার শরীরে তার বৈদ্যুতিক শরীরটা ছুঁইয়েছে। তবে এবারো হাইপার না হয়ে নিজেকে সামলে নিলাম। আর সামলে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারন কিছু সময় প্রিয় মানুষজন তার আপন মানুষটাকে তাচ্ছিল্যের ভাষায় সম্বোধন করে আরো কাছে পেতে চায়। কিছু সময় মানুষ নিজের প্রিয় মানুষটাকে কাছে পেলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। এছাড়াও কিছু মানুষ তো খুশিতে উন্মাদ হয়ে ব্যবহারিক সংজ্ঞাটাকেও ভুলে যায়। অবনীর বেলায় ও তেমনটা হয়েছে। মেয়েটা আমাকে আপনি থেকে তুমি ডাকতেই কতো বাহানা করেছে, সেখানে হুট করেই সে আমাকে তুই বলে ডাকছে।
নাহ আমার আরো ঘনিষ্ঠতা দরকার। মেয়েটা হয়তো আমাকে হারানোর ভয় পাচ্ছে। কিছু সময় মানুষ অতিরিক্ত খুশির পর্যায়েও আপসেট হয়ে যায়। কারন পর্যায়ক্রমে খুশির পর দুঃখ আসে। না হয়তো দুঃখের পর সুখ। অবনী আমায় নিজের করে পাবে বলে মাত্রাধিক খুশি হয়েছে। আর সেই খুশির রাজ্যেই হয়তো সুখের পর দুঃখ আসে সেই ক্রমাগত ভয়ভীতি অবনীর ভিতরে এসে হানা দিয়েছে। সেজন্যই হয়তো মেয়েটা এমন করছে। মেয়েটাকে শান্ত করতে এবার তার শরীরে স্পর্শ করতে আরম্ভ করলাম। মেয়েটার ঠোঁটে মুখে বেশ কয়েকটা চুমু একে দিয়েছি। আমার উষ্ণতা পেয়ে অবনী একদম শান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো অবনীকে স্পর্শ করে আমার ভিতরে এবার উন্মাদতার সৃষ্টি হয়েছে। হায়-আল্লাহ এবার নিজেকে সামলাবো কি করে! বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিছু সময় চিন্তা করার পরেও এর কোনো হাল বের করতে পারলাম না। যার কারনে অবনীকে ছেড়ে দিয়ে চট করে তার থেকে দূরে সরে আসলাম। অবনী আমার এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে বলতে লাগল,

–তুমি আস্তো একটা খচ্চর।

–কেন অবনী কি করেছি আমি?

–তুমি খালি দল বল গ্যাং নিয়ে মারামারিই করতে জানো। এছাড়া তোমার মধ্যে অন্য কোনো জ্ঞান বুদ্ধি নেই।

–অন্য কোনো জ্ঞান বুদ্ধি নেই মানে?

–বুদ্ধি করে যদি আমায় আরো আগে বিয়ে করে নিতে, তাহলে ব্যাঙ এর মতন লাফিয়ে আমার থেকে এখন দূরে যেতে হতো না। তাছাড়া এখন নিজের উন্মাদতাকেও আঁটকে রাখতে হতো না। আহারে বেচারা কি কষ্ট পাচ্ছে রে বিয়ে না করে। এতোটা সময় কিছু একটা ভেবে চরম মন খারাপ লাগছিল। কিন্তু বর্তমানে আমার থেকে তুমি ব্যাঙ এর মতন লাফিয়ে দূরে সরে যাওয়া দেখে চরম হাসি পাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেনো ব্যাঙ এর সার্কাস দেখলাম একটু আগে।

–অবনীর কথা শুনে রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। কারন মেয়েটা আমার দূর্বলতা নিয়ে মজা করছে। এমনিতেই বিয়ে নামক সম্পর্কে আবদ্ধ না হওয়ায় তাকে নিজের কাছে টানতে পারছি না। তার উপরে অবনী আমার সাথে ফাজলামো করছে। রাগে চোখ-মুখ লালবর্ণ ধারণ করেছে। এমন সময় অবনী আবার আমায় বলে উঠলো,

–আমি বিয়ের কথা না বললে হয়তো তুমি এই বিষয়টা কখনো নিজ থেকে তুলতেই না। এবার ঠেলা সামলাও। আর পারলে একটা কাজ করিও। আসছে শুক্রবারেও বিয়ে করতে হবে না। তুমি আরো কয়েকমাস সময় নাও। এভাবে আরো কয়েকমাস কাটিয়ে তারপর কোনো এক শুক্রবার ঠিক করে আমায় বিয়ে করে নিও।

–এমনিতেই তাকে আমার কাছে পাবার নেশায় ভর করেছে। সেখানে সে আমার উপরে মজা নিচ্ছে।
দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি মজা। আর কিছু সময়ের মাঝেই তোমার ভিতর থেকে সমস্ত শয়তান পালিয়ে যাবে। মুহূর্তের মধ্যেই নিজের চেহারায় ডেভিল মার্কা এক্সপ্রেশন এনে অবনীর দিকে এগোতে শুরু করলাম। এগোনোর এক পর্যায়ে শরীর থেকে শার্ট খুলে ফ্লোরের উপরে ফিক্কা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছি। যেটা দেখে অবনী ভয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলেছে। অবনীর ভয় পাওয়া চেহারা দেখে মনে মনে বললাম, জানু এখন আর ভয় পেয়ে কাজ হবে না। কারন পাগলের মাথায় কোনো ধরনের সিট থাকে না। আর তুমি সেটা জানা সত্বেও পাগলের উপরে মজা নিয়েছো। এবার ঠেলা সামলাও। পাগল এবার বিয়ের আগেই ইতিহাস রচিত করবে….

চলবে….

ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here