ভ্যাম্পয়ার সিটি -(পর্ব_৬)

0
81

#ভ্যাম্পয়ার_সিটি
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_৬

“আকাশ কোমরের ব্যথায় কোকাতে আরম্ভ করে। এমন সময় হুট করে কেউ একজন আকাশের বিছানায় শুয়ে পিছন থেকে আকাশকে জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে চুমু খেতে আরম্ভ করে। যার ফলে আকাশ কোকানো বন্ধ করে দিয়ে একদম চুপচাপ হয়ে যায়। এতোটা সময় সে কোমরের ব্যথায় কোকালেও এখন সে কেমন যেনো এক ধরনের ভালোলাগা অনুভব করছে। কেউ তাকে পরম স্পর্শ দিয়ে তার কোমরের ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা কমিয়ে দিয়েছে। এর থেকেও বড় কথা হচ্ছে তাকে যে স্পর্শ করেছে সেই ব্যক্তিটার শরীরের ঘ্রাণ তার খুব পরিচিত। আকাশ প্রথমে নিরবতায় স্পর্শ অনুভব করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পেরোতেই তার মাথার টনক নড়ে উঠে। এতোটা সময় সে নিজের মধ্যে ছিল না। কারোর স্পর্শ পেয়ে আকাশ সেই স্পর্শের মাদকতায় হারিয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে আকাশ মাদকতার রাজ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। তাই সে আশেপাশে নজর বুলাতে থাকে দেখার জন্য কে তাকে স্পর্শ করছে। এমন সময় আকাশ দেখতে পায় অবনী তার পাশে শুয়ে পিছন থেকে তাকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে স্পর্শ করছে। মাঝরাতে অদ্ভুত ভাবে অবনীকে দেখতে পেয়ে আকাশ পুরো চমকে উঠে। ড্যাবড্যাব করে অবনীর দিকে তাকিয়ে আছে। এমন সময় অবনী আকাশকে বলে উঠে,

–প্রিয় কেমন আছেন?
.
আজ দুই বছর পর অবনী নামক প্রিয় মানুষটার গলার আওয়াজ শুনেছে আকাশ। তার প্রিয় মানুষটা তাকে জিজ্ঞাস করছে কেমন আছে সে। কিন্তু আকাশের খুব অভিমান জমে অবনীর উপরে। কারন সে এতোদিন অবনীকে মৃত ভেবে কতো রাত চোখের পানি ফেলে কাটিয়েছে। কিন্তু তার এই চিন্তা-ভাবনাটাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে অবনী ফিরে এসেছে। অবনীর যদি ফিরে আসার এই হতো, তাহলে সে এই দুই বছর কেন আকাশ থেকে দূরে ছিল। কেন সে এই দুই বছর তার স্মৃতিচারণ করে আকাশকে কাঁদিয়েছে। এসবের কারনে আকাশের বেশ অভিমান জমে অবনীর উপরে। যদিও বা অবনীকে দেখে আকাশের খুশি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে খুশি হওয়ার বদলে তিক্ত অভিমান নিয়ে বসে আছে অবনীর উপরে। যেটা দেখে অবনী আবার আকাশকে বলে,

–আচ্ছা আপনি আমায় দেখে কি খুশি হন নি?

–অবনী ফিরে আসার হলে আজ দু’বছর পরে কেন ফিরে এসেছো? অবনী যদি ফিরে আসার এই হয়, তাহলে আগে ফিরে না এসে আজ দু’টো বছর কেন আমায় কাঁদিয়েছ? আগে ফিরে এলেই তো আমার এতোটা কষ্ট হতো না।

–ও আচ্ছা এই জন্য অভিমান করে আছেন বুঝি আপনি আমার উপরে?

–হুম।

–দেখুন প্রিয় আমিও চাইনি আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে। কিন্তু ভাগ্য আমাকে জোরপূর্বক আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিলে আমার কি করার আছে বলুন?

–ভাগ্য তোমাকে আমার থেকে দূরে সরিয়েছে মানে কি?

–মানে টা বলছি। আশা করি আমি মানেটা বললে আপনার সব অভিমান দূর হয়ে যাবে। কিন্তু তার আগে আপনি আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন।

–কি প্রশ্ন?

–আমি ফিরে আসায় কি আপনি খুশি হন নি?

–অবনী অভিমান টা অভিমানের জায়গায় আর খুশিটা খুশির জায়গায়। আর তাছাড়া তুমি ফিরে এসেছো সেখানে আমি খুশি হবো না এটা কি কীে হতে পারে। যেখানে তোমার ভালোবাসায় এখনো আমি কাউকে আপন করতে পারিনি। যেখানে তোমায় হারিয়ে আমি দিনের পর দিন চোখের পানি ঝরিয়ে কান্না করেছি, সেখানে তুমি ফিরে আসায় আমি খুশি হবো না?

–হুম খুশি হয়েছেন আমি জানি। তবে এবার আপনার খুশির অগোচরে যেই সামান্যটুকু অভিমান হয়েছে সেটা আমি দূর করছি। প্রিয় আপনাকে যে ধাতুর কথা বলেছিলাম মনে আছে?

–হুম মনে আছে। যেই ধাতুর সাহায্যে তুমি তিনটা ইচ্ছা পোষণ করতে পারবে? এবং সেই ধাতুর সাহায্যে তুমি আমায় একবার বাঁচিয়েও ছিলে।

–হুম।
প্রিয় আমি কিন্তু সেই ধাতুর মাধ্যমেই বেঁচে গিয়েছি।

–বেঁচে গেলে আজ দু’বছর কেন তুমি আমার থেকে দূরে ছিলে?

–কারন সেই ধাতুটা নিজের ইচ্ছাকেই শুধু পূর্ণ করে না, সেই ধাতুটা ইচ্ছাকারীর ইচ্ছা পূরণ করে তার থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস ছিনিয়েও নেয়। যেমনটা আমার থেকে নিয়েছে। ডেভিল রিপার যখন আমার গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করে, তখন আমি নিজের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ার জন্য সেই ধাতুর ব্যবহার করেছিলাম। যার কারনে আমি দু’বছরের জন্য অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলাম। আমার আকৃতি অদৃশ্যর সাথে মিশে গেছে। আমার ভিতরে জানপ্রাণ ছিল ঠিকই কিন্তু আমি নিজের সঠিক আকৃতি নিয়ে কারোর সামনে আসতে পারছিলাম না। যেটা কিনা আজ রাতে ঠিক হয়েছে। আর আজ রাতে ঠিক হওয়ার পরেই আমি আপনার কাছে ফিরে এসেছি। অবশ্য আমি এই দুই বছরে বহুবার আপনার কাছে ফিরে আসতে চেয়েছি, কিন্তু আমি পারিনি। আমি দ্বিতীয়বার ধাতু ব্যবহার করে অদৃশ্যের মায়াজালে আঁটকে পড়েছিলাম। যেই অদৃশ্য মায়াজাল থেকে মুক্তি পেতে আমার দু’বছর সময় লেগে গেছে।

–তার মানে তুমি ইচ্ছা করে এমনটা করোনি?

–প্রিয় আপনি যেমন আমায় ভালোবাসেন, আমিও তো আপনাকে ঠিক তেমনটাই ভালোবাসি। আপনার জন্য ড্রয়িড ছাড়লাম। আপনার জন্য ড্রয়িডের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে তাঁদের সাথে লড়াই করলাম। তাহলে আপনিই বলুন আমি ইচ্ছা করে কেন এমনটা করতে যাবো?

–অবনীর কথা শুনে নিজের ভিতর থেকে সমস্ত অভিমান মুহূর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে গেছে। খপ করে মেয়েটাকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতন চুমু খেতে আরম্ভ করলাম। এতোটা সময় মেয়েটা আমায় জড়িয়ে ধরেছিল। কিন্তু এবার আমিও তাকে জড়িয়ে ধরেছি। মনের ভিতরে খুশির নহর বইছে। ইচ্ছে করছে অবনীকে কোলে তুলে নিয়ে সারা বাড়িতে লাফিয়ে বেড়ায়। আজ আমার খুশির সীমা নাই। অগণিত চুমু দিলাম অবনীর শরীরে। মেয়েটা আমার প্রতিটা স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে। আজ এতোদিন পর সে আমায় ফিরে পেয়ে নিজেকে একদম পুরোপুরি আমার হাতে শপে দিয়েছে। আমার কোনো আচরণেই সে আমাকে বাঁধা দেয়নি। সে নিজেকে আজ উন্মুক্ত করে দিয়েছে আমার জন্য। মেয়েটাকে অগণিত চুমু একে দিয়ে তাকে কোলে তুলে নিলাম। কারন তাকে নিয়ে এখন পুরো বাংলোতে ঘুরে বেড়াবো আর সঙ্গে সবার ঘুম হারাম করে দিব। কারন আমার প্রিয় মানুষ ফিরে এসেছে সেটার সেলিব্রেশন আমার সাথে সাথে সবাই করবে। অবনীকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বিছানা ছেড়ে নিচে নেমে আসলাম, এমন সময় আমার কোমরের ব্যথাটা আবার জাগ্রত হয়ে উঠলো। আমার খুশির রাজ্যে কষ্ট এসে হানা দিয়েছে। বেশিক্ষণ আর অবনীকে কোলে তুলে নিয়ে থাকতে পারলাম না। অবনীকে বিছানায় নামিয়ে দিয়ে আমিও তার পাশে শুয়ে ব্যথায় কোকাতে আরম্ভ করলাম। তখনি সে আমার বলে উঠলো,

–প্রিয় খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না আপনার?

–অবনী মরন যন্ত্রণা হচ্ছে।

–আপনি একটু অপেক্ষা করুন আমি এখুনি আসছি।

–কেন কই যাবে তুমি?

–ফিরে আসলেই দেখতে পাবেন। আপনি প্লিজ শুয়ে থাকুন। আমি যাবো আর আসবো।

–ঠিক আছে।
.
অবনী আকাশকে রেখে একটা পোর্টাল খুলে সেটার ভিতরে চলে যায়। মিনিট দুয়েক যেতেই অবনী কিছু পাতা সহ ঢাল হাতে করে নিয়ে ফিরে আসে। যেটা দেখে আকাশ বুঝে যায় যে অবনী তার জন্য কোনো ঔষধিও গাছ আনতে গিয়েছিল। এদিকে অবনী ফিরে এসে ঢাল থেকে গাছের পাতা ছিঁড়ে নিজের শক্তির সাহায্যে সেই পাতা গুলো গরম করে সেগুলোকে আকাশের কোমরে লাগিয়ে দেয়। এতে করে আকাশের কোমরের যন্ত্রণা কমতে আরম্ভ করে। মিনিট দশেক যেতেই আকাশের কোমর থেকে ব্যথা-বেদনা সব গায়েব হয়ে গেছে।
আকাশ পুরোপুরি সুস্থতা অনুভব করছে এখন। তখনি অবনী আকাশকে জিজ্ঞাস করে,

–আপনি কোমরে ব্যথা পেয়েছেন কি করে?

–অবনী শহরে ভ্যাম্পায়াররা নিজেদের ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা ধরে ধরে মানুষকে মেরে ভ্যাম্পায়ার বানিয়ে দিচ্ছে। যার কারনে শহরের মানুষজন অনেক আতঙ্কিত হয়ে আছে। তাই আমি ভ্যাম্পায়ারের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করতে লোকজন নিয়ে একটা জায়গায় গিয়েছিলাম, তখন ভ্যাম্পায়ার আমাদের উপরে হামলা করেছে। যার কারনে আমি তোমার শক্তির ব্যবহার করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তারা আমায় ছিটকে ফেলে দিয়েছে।

–তার মানে ভ্যাম্পায়ারদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে আপনি কোমরে ব্যথা পেয়েছেন?

–হুম।

–আমি ফিরে আসতে আসতে ভেবেছি সমস্ত দাঙ্গাফাসাদ শেষ। আপনি আর আমি সুখে শান্তিতে দিন কাটাবো। কিন্তু এখন ফিরে এসে দেখি ভ্যাম্পায়ার নামক বিকৃত প্রজাতিদের উৎপত্তি হয়েছে। আর তারা আপনার উপরে হামলা করে আপনার শরীরে চোট পৌঁছিয়েছে। এবার তো তারা শেষ। সব কয়টাকে জবাই করে বড় একটা গর্ত খুঁড়ে সেটার ভিতরে দাফন করবো। আমিও দেখবো ওদের কতো বড় সাহস। ওরা আমার ভালোবাসার গায়ে আঘাত করে।

–অবনী তুমি যতোটা সহজ ভাবছো ততোটা কিন্তু সহজ না। কারন ভ্যাম্পায়াররাও অলৌকিক শক্তির ব্যবহার করতে পারে। তাছাড়া তাঁদের লোকজন সংখ্যায় ড্রয়িডের লোকজনের চাইতেও অনেক বেশি। তাঁদেরকে পরাজয় করা এতোটা সহজ হবে না।

–আচ্ছা আমিও দেখতে চাই কার কতো ক্ষমতা। শোনেন একটা কথা বলি, একটা নারী যতোটাই দূর্বল হোক না কেন, সে কিন্তু তার প্রিয় মানুষ টাকে বাঁচাত বীরবল যোদ্ধার রূপ ধারণ করতে পারে। কোনো নারীই তার প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করে না। সেখানে ভ্যাম্পায়াররা শহরের অনিষ্ট করছে, তার উপরে আপনার উপরেও হামলা করেছে, ওদেরকে তো আমি ছাড়ছি না। আপনি একটু সুস্থ হয়ে উঠুন। তারপর ওদেরকে আমি দেখছি।

–আমি এখন সুস্থতা অনুভব করছি। আগামীকাল তুমি সহ না হয় ভ্যাম্পায়ারের তালাশ করতে বের হবো।

–ঠিক আছে।

–এবার চলো ঘুমোতে যাবো।

–হুম চলুন।

–অবনীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে অবনী আর আমি দু’জন মিলে নিচে চলে গেলাম। সবাই অবনীকে দেখে বেশ অবাক। আমাদের দিকে মুজাহিদ রাজ বাকি সবাই অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেটা দেখে সবাইকে অবনীর রহস্য খুলে বললাম। অবনীর আসল রহস্য জানার পর সবাই এবার খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছে। কারন অবনী থাকা মানে এক্সট্রা একটা পাওয়ার। সবাই অবনীর সাথে হাসিমুখে কথাবার্তা বলছে। অবনীও সেম ভাবে তাঁদের সাথে কথাবার্তা বলছে। কথাবার্তায় এক পর্যায়ে রাজ আমায় বলে উঠলো,

–ভাই ভাবী তো চলে এসেছে। এবার ভ্যাম্পায়ারদের কিছু একটা করা উচিৎ।

–হুম আজ রাতে সবাই মিলে আবার ভাম্পায়ারের তালাশে বের হবো। বিশেষ করে গতরাতের ভ্যাম্পায়ার গুলোর। কারন ওদের হাবভাব দেখে যা বুঝলাম ওরা শহরকে কয়েক দিনের মধ্যেই নড়ক বানিয়ে দিবে।

–ভাই ঠিক বলেছেন। তবে খালি গতরাতের ওদেরকে একা নয়, ক্রাউন এবং সবাইকেই শেষ করা দরকার। কারন ওরা শহরের নকশা অলরেডি পরিবর্তন করে দিয়েছে।

–টেনশন করিস না রাত হতে দে। তারপর সবাই মিলে বের হবো।
.
আকাশ এবং সবাই রাত হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। “অপরদিকে গড অফ ভ্যাম্পায়াররা রুস্তমের হত্যাকারীকে খুঁজে তাকে মারার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। তারা পাগলের মতন রুস্তমের হত্যাকারীকে খুঁজতে আরম্ভ করে। তারা রুস্তমের হত্যাকারীকে খুঁজতে খুঁজতে ক্রাউনের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। কারন গড অফ ভ্যাম্পায়ারে পর ক্রাউনের অবস্থান। লিঙ্কন ক্রাউনকে রুস্তমের হত্যাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলে সে নিজের দোষকে লুকিরে রেখে বানিয়ে বানিয়ে কিছু মিথ্যা কথা আকাশের সম্পর্কে বলে মানুষের প্রতি গড অফ ভ্যাম্পায়ারকে আরো ক্ষিপ্ত করে দেয়। সে বলে মানবজাতিই নাকি আধুনিক কোনো অস্ত্র দ্বারা রুস্তমকে মেরেছে। গড অফ ভ্যাম্পায়ার লিঙ্কন এবং বাকি আরেকজন ক্রাউনের মিথ্যা কথাটাকে সত্যি বলে মেনে নেয়। কারন আকাশ তাঁদের উপরে দলবল নিয়ে হামলা করতে চেয়েছিল। তাই গড অফ ভ্যাম্পায়ার সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,

–আজ রাতে সমস্ত ভ্যাম্পায়াররা তৈরী থাকবে। আজ পুরো শহরকে তসনস করে দিব। বিশেষ করে রুস্তমের হত্যাকারীদেরকে খুঁজে খুঁজে মারবো। কেউ আজকে আমাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তি পাবে না। প্লাটিনাম থেকে আমি স্পেশাল একটা ফোর্সকে মোতায়েন করেছি। সেই স্পেশাল ফোর্স সহ সমস্ত ভ্যাম্পায়াররা মিলে আজ রাতে মানুষদের উপরে হামলা করবো।
.
লিঙ্কনের কথায় সবাই সম্মতি জানায়। ক্রাউন গড অফ ভ্যাম্পায়ারের এমন কথায় ভিতরে ভিতরে বেশ খুশি। কারন একে তো সে নিজের দোষ মানবজাতির উপরে চাপিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত তার রাস্তা পরিষ্কার হতে চলেছে। তারপর সে পুরো জমিনে নিজের সৈন্য সেনা নিয়ে রাজত্ব করতে পারবে। ভ্যাম্পায়াররা রাত হবার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু তাঁদের কল্পনাতেও নেই যে মানবজাতি দূর্বল নয়। তাঁদের সাথে বর্তমানে অবনী নামক কেউ একজন রয়েছে। তারা প্লাটিনাম থেকে যতোই শক্তিশালী ভ্যাম্পায়ার আনুক না কেন অবনী সবার মোকাবেলা একাই করবে। “ঐ দিকে আকাশরাও রেডি দলবল নিয়ে। মাগরিব হওয়ার আগেই আকাশ ডেমন হান্টার সহ তার লোকজনকে নিয়ে ভ্যাম্পায়ারদেরকে খোঁজার উদ্দেশ্যে বাংলো ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। তাঁদের সাথে সাথে অবনীও রয়েছে। আকাশ এবং বাকি সবাই মিলে মাগরিব হওয়ার আগেই গতাকল যেই জায়গায় আকাশ থেকে আলোকরশ্মি জমিনের সাথে সংযোগ করেছিল সেখানে চলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা ভ্যাম্পায়ারদের অপেক্ষা করতে থাকে। দেখতে দেখতে মাগরিবের ওয়াক্ত পেরিয়ে দিন দুনিয়া অন্ধকার হয়ে এসেছে। তার মানে ভ্যাম্পায়াররা এখন খোলা মাঠে বেরিয়ে আসবে। আর খোলা মাঠে বেরিয়ে আসার পরেই হয়তো ভয়ানক এক লড়াই শুরু হবে ভ্যাম্পায়ার আর মানুষের….

চলবে….

ভুল ত্রুটি গুলে ক্ষমার নজরে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here