LOVE❤ part:17+18+19

0
217

#LOVE❤
part:17+18+19
Writer:Suvhan Årag(ছদ্মনাম)
আবেগ ফোন রেখে দিল।আবেগ জানে নোভা কে বলে লাভ নেই।নোভা ওর মা কে বলবে।আর আবেগ আর যাই হোক নিজের মায়ের কথা ফেলতে পারে না
পরের দিন অফিসে
ম্যানেজার এসে আবেগকে কিছু ফাইল দিল
-স্যার আজি ডিলটা করতে হবে ।এম কে কোম্পানি না হলে অন্য কাউকে এই প্রজেক্ট দিয়ে দেবে সেটাই বললো
-ওহ।তাহলে তো এখনি বেরোতে হবে।এই সাইট টা কে সামলায়।তাকে তো সাথে নিতে হবে
-স্যার এটা তো মিসেস রিদিতা সামলান।আমি ওনাকে বলে দিচ্ছি আপনি বের হন ওনাকে নিয়ে
-আচ্ছা যান
ম্যানেজার চলে গেল।আবেগ বসে ভাবছে
-আবার রিদিতা ।যতোই একে দূরে রাখতে চাই ততোই আরো কাছে চলে যাই ওর।ধ্যাত ভাল লাগে না
আবেগ বেরিয়ে গেল
এইদিকে ম্যানেজার এসে রিদিতা কে সব বলেছে।রিদিতা ও আবেগের গাড়ি র উদ্দেশ্য এ গেল
-আল্লাহ্ আর কতো ।এই লোকটার সামনে আর যেতে চাচ্ছি না আর তুমি তার কাছেই খালি পাঠাও
রিদিতা কে দেখে আবেগ গাড়ি র হর্ন বাজালো ।রিদিতা গিয়ে গাড়ি র পেছনে র দরজা খুলতে গেল
-আমি কারোর ড্রাইভার না
রিদিতা বুঝতে পারছে আবেগ ওকেই বলছে।রিদিতা কথা না বাড়িয়ে আবেগের পাশের সিটে গিয়ে বসলো জানালার দিকে তাকিয়ে ।রিদিতা এক বারও আবেগের দিকে ফিরে দেখেনি।এদিকে আবেগ সব লক্ষ করছে
-সিট বেল্ট লাগাও
রিদিতা আবেগের কথায় কান না দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে
-এই তোকে কি একবার বললে কথা কানে যায় না।এতো ঘ্যাছড়া কেন তুই ।গাড়ি একটু জোরে ব্রেক করলে যদি সামনে গিয়ে মাথায় বারি খাস সে দায় কে নেবে শুনি
-চিন্তা করবেন না।আমার জন্য আপনাকে কোন দায় নিতে হবে না।আর মাথায় বারি লেগে যদি মরে যায় তাহলে ভালো হবে।অনেকে খুশি হবে অনেকের আমাকে সহ্য করতে হবে না
রিদিতা বেল্ট লাগিয়ে সিটের সাথে গা এলিয়ে চোখ বুজে রইলো।কিন্তু রিদিতা র বলা শেষ কথা শুনে আবেগের চোখে পানি এসে গেছে।আবেগ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে রিদিতা র দিকে।কারণ রিদিতা তাকে উদ্দেশ্য করেই কথা বলেছে তা বোঝাই যায়
-এতো ই খারাপ মনে হয় তোমার আমাকে।আমি তুমি মরলে খুশি হব।এই কথা টা বলতে পারলে তুমি ।তোমার জন্য তো আমার মরার কথা।প্রতি মূহুর্তে তোমার কষ্ট এ আমি মরি।থাক তোমাকে কিছু বলবো না।তোমাকে বিশ্বাস নেই।ইমোশন নিয়ে তুমি ভালোই খেলতে পারো—মনে মনে
আবেগ কিছু না বলে গাড়ি চালানো শুরু করলো।
ডিল কমপ্লিট করে দুপুরের দিকেই আবেগ রিদিতা কে নিয়ে রওনা হলো।রাস্তায় কেউ কারোর সাথে কথা বলেনি।রিদিতা তো সারা রাস্তা সিটে গা এলিয়ে চোখ বুজে পরেছিল।কিন্তু ও হয়তো চোখ খুললে ভালো করতো।তাহলে দেখতে পারতো পাশের দুটো চোখ বারবার ওকে দেখছে
এদিকে রিদিতা র তো খুব খিদে পেয়েছে ।আসার সময় শুধু ফোন আর ছোট একটা পার্স নিয়ে এসেছে।কোন খাবার সাথে আনেনি।বারোটা র দিকে রেস্টুরেন্ট এ আবেগ চাউমিন স্যুপ নিজে খেয়ে ছিল সাথে রিদিতা কে খাইয়ে ছিল।এখন সাড়ে তিনটা বাজে।এটুকু খাবারে রিদিতা র পেট ভরেনি
রিদিতা বারবার পেটে হাত বুলাচ্ছে ।আবেগ এসব লক্ষ্য করছে।হঠাত্ রিদিতা উঠে বসলো।আবেগের দিকে তাকালো।কারণ যে পরিমাণ খিদে পেয়েছে তাতে আবেগকে না বলে উপায় নেই
-গাড়ি থামান
-কেন
-গাড়ি থামান আমি খাব
-কি
-আমার খিদে পেয়েছে ।আমি খাব
-মানেটাকি।একটু আগে চাউমিন স্যুপ কফি খেলে।তারপর খিদে পাই কি করে
-আমি জানিনা ।গাড়ি থামান
আবেগ সাইট করে গাড়ি থামিয়ে বিরক্তি নিয়ে রিদিতা র দিকে তাকালো ।কিন্তু রিদিতা কে দেখে আবেগের বিরক্তি উধাও।রিদিতা বাচ্চা দের মতো আবেগের দিকে তাকিয়ে আছে আর বায়না করছে
-আমি খাব।আমাকে খাওয়া র এনে দিন
-কিন্তু এখন কোথায় খাবার পাব
-জানিনা ।আমি খাব।আমাকে খেতে দিন না হলে আপনাকেই কামড়ে খেয়ে ফেলবো
রিদিতা র কথা শুনে আবেগ ভুত দেখার মতো তাকিয়ে আছে।উপায় না পেয়ে নেমে গেল
-তুমি বসো।দেখছি কি পাওয়া যায়
আবেগ দেখলো রাস্তার ওপারে দু একটা হোটেল কিছু দোকান আছে।আবেগ একটা হোটেল থেকে এক প্যাকেট বিরিয়ানি আর এক বোতল পানি এনে গাড়ি তে গেল
-নেও খেয়ে,,,,,
আবেগ বলার আগেই রিদিতা আবেগের হাত থেকে নিয়ে গপগপ করে খাওয়া শুরু করেছে।সামনে যে আবেগ আছে সেদিকে খেয়াল নেই।কারণ এই সময়ে আর যাই হোক খিদে সহ্য করা যায় না
আবেগ হা হয়ে তাকিয়ে আছে।এতো খানি বিরিয়ানি দেখতে দেখতে রিদিতা চেটে পুটে খেয়ে ফেলেছে।আবেগ কখনো এরকম খেতে দেখেনি রিদিতা কে
-আরেকটু খাবে
-খাবো।এনে দিন
আবেগ একবার অবাক হয়ে রিদিতা কে দেখে তারপর গিয়ে আরেক প্যাকেট বিরিয়ানি আনলো ।এটাও নিয়ে রিদিতা গপগপ করে খাওয়া শুরু করেছে।আবেগ পাশে বসে হা হয়ে দেখছে
-এই মেয়ে র হলো টাকি।এখন এরকম খাই খাই করে কেন(মনে মনে)
রিদিতা মন দিয়ে খাচ্ছে ।খাওয়া শেষ হলে রিদিতা প্যাকেট ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে পানি খেয়ে সিটের সাথে হেলান দেবে তার আগে পাশে তাকিয়ে দেখে আবেগ ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে
-কি দেখছেন আপনি
-দেখছি দুজন মানুষের খাবার একজন মানুষ কিভাবে খায়
-দেখুন খাওয়া নিয়ে কথা বলবেন না বলে দিলাম ।দুজন মানুষের খাবার কৈ একা খেয়েছি।আমরা তো দুজনেই খেয়ে ছি
-কিহ ।খাবার তুমি খেলে এর মধ্যে আরেকজন আসলো কোথা থেকে
এবার রিদিতা র হুস ফিরলো।ওর খেয়াল ছিল না যে ও আবেগকে কি বলছে।আর যাই হোক সন্তান এর কথা আবেগকে জানাবে না।কারণ যেখানে বিশ্বাস ভালোবাসা কিছু নেই সেখানে সন্তান এর দোহাই দিয়ে ও আবেগের কাছে গিয়ে দয়ার প্রার্থী হতে চায় না
-কি হলো বলো
রিদিতা কথা ঘুরিয়ে দিল
-আপনি আমাকে খাওয়া র খোঁটা দিচ্ছেন
-এই মেয়ে ফালতু কথা বলবে না।আমি তোমাকে কখন খোঁটা দিলাম
-তা নয় তো কি।আপনি এবার আমার বেতন থেকে এই খাবার এর বিলটি কেটে রেখেন ।এই বিলের জন্য ই তো খোঁটা দিচ্ছে ন
-এক থাপ্পড় মেরে তোমার দাঁত ফেলাবো।আমি কি বলেছি তোমাকে খাবার এর দাম দিতে।আর একটা কথা বলবে না।মেজাজ টাই খারাপ করে দিল।অসহ্য একটা
আবেগ গাড়ি চালানো শুরু করলো।রিদিতা গা এলিয়ে শুয়ে পরলো
-আমি কারোর দয়া চাই না।আমি নিজেই আমার সন্তান কে দেখবো ।আর দয়া না তোমাকে যদি বাচ্চা র কথা বলি তুমি তো বলবে আমি নাটক করছি।না হলে দুশ্চরিত্রা ।অন্য কারোর বাচ্চা কে তোমার বাচ্চা বলছি।দরকার কি।আল্লাহ্ যেভাবে রেখেছে তেমন ই ভালো আছি(মনে মনে)
আবেগ অফিসে আর গেলো না
-আমাকে নামিয়ে দিন
-কেন।তোমার বাড়ি রেখে তার অনেক পরেই তো আমার বাড়ি ।আমি নামিয়ে দিচ্ছি
-দরকার নেই।আমি এমনিতেই নষ্টা মেয়ে আপনাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া র নাটক করতে পারি।আপনি বরং আমাকে নামিয়েই দিন
রিদিতা র কথা শুনে আবেগ ব্রেক কষে রিদিতা র দিতে তাকালো।এই সুযোগে রিদিতা দ্রুত নেমে একটা অটো নিয়ে চলে গেল।আবেগ রিদিতা র যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে
আবেগ বাড়ি র উদ্দেশ্য এ রওনা দিল
রাতের বেলা
-আবেগ ডিনার করতে আয়
-মা কি রেধেছো
-বিরিয়ানি করেছি
বিরিয়ানি র কথা শুনে আবেগের দুপুরের কথা মনে পরলো।আর রিদিতা র খাওয়া র ব্যাপার টা
-আচ্ছা ও এখন এমন হয় এ গেছে কেন।আগে তো এরকম খেতো না।এখন দেখি নিজেই সারাদিন কিছু না কিছু খেতেই থাকে।হাঁটা চলাও করে খুব ধীরে।আগে তো সব কিছুতেই দ্রুত কাজ করতো।এখন এমন হয় এছে কেনো ও(মনে মনে)

#Part_18
👇
পরের দিন সন্ধ্যায়
আজ অফ ডে ছিল।অফিস বন্ধ ।আবেগ এর মনটা কেনো জানো ভালো নেই।রিদিতা কে দেখতে পারেনি আজ।না চাইতেও আবেগ রেডি হচ্ছে তার মায়ের আদেশ নোভা র পার্টিতে যেতেই হবে
ঠিক আট টায় আবেগ গিয়ে পার্টি তে পৌছালো।আবেগ কালো টি শার্ট আর জিন্স পরেছে।আবেগকে দেখে নোভা গদগদ হয়ে এগিয়ে এলো
-আবেগগ তুমি এসে গেছো।এতো দেরী করলে কেনো।জানো আমি কখন থেকে তোমার অপেক্ষা করছি
-ন্যাকামি বন্ধ করো।তাড়াতাড়ি আমাকে ছারবে।আমি এক ঘন্টা র বেশি থাকতে পারব না
নোভা আবেগের কথা শুনে কিছু বলছে না
-হাহ এক ঘন্টা আজ তো সারা রাত তোমাকে এখানে থাকতে হবে(মনে মনে)
নোভা তো শর্ট টপস জিন্স পরেছে।তাও স্লিভলেস টপস।আর গলাতে ভাব দিয়ে একটা স্কার্ফ ঝুলিয়ে ছে
নোভা সবার সাথে গিয়ে নাচছে।আর আবেগ একটা জায়গায় কোল্ড ড্রিঙ্কস সহ কিছু ড্রিঙ্কস রাখা আছে সেখানে গিয়ে বসেছে।হঠাত্ নোভা এসে আবেগের হাত টানা শুরু করলো
-আবেগ চলো আমরা ড্যান্স করি
-যাস্ট শাট আপ নোভা ।কি পরেছো এটা ।শুধু মা চায় তাই তোমাকে আমি,,,,,,না হলে তোমার মতো মেয়ে দেখলেই ঘৃনা লাগে
-শোন আবেগ ঐ কথা আমার সামনে বলবে না।আমি বাইরে যেমন থাকি আমি ভেতরে তেমন থাকি।তোমার ঐ রিদিতা র মতো বাইরে সাধু সেজে ভেতরে নোংরামী করিনা
-এইখানে রিদিতা কৈ কেনো টানছো ।অসহ্য আমার এখানে আসাই উচিত হয় নি।আমি চলে যাচ্ছি
নোভা তো চিন্তা তে শেষ
-নাহ ওকে যেতে দেওয়া যাবে না।আমার সব প্লান শেষ হয়ে যাবে(মনে মনে)
নোভা নাটক শুরু করলো
-আবেগ সরি প্লিজ রাগ করোনা।আচ্ছা চল তুমি একটু জুস খাও দেখবে ভালো লাগবে
নোভা ওয়েটার কে কি ইশারা করলো।ওয়েটার কি জুস এনে দিল
-আবেগ জুস খাও ভালো লাগবে
-আমি কিছু খাব না
-আবেগ প্লিজ ।আচ্ছা আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি
নোভা জোর করে আবেগকে জুস খাইয়ে দিল।জুস খেয়ে আবেগের যেন কেমন লাগছে।নোভা বুঝতে পারলো ওষুধ কাজ করছে
-আবেগ চলো আমরা ওপরে যাই
-কেনো
-আরে চলো না
নোভা আবেগকে ধরে এনে উপরে একটা রুম এ এনে দরজা লক করে দিল।আবেগ এর মাথা ঘোরানো বারছেই
-আবেগ কেমন লাগছে এখন
-নোভা আমার মাথা ঘুরছে কেন।আর তুমি দরজা কেন লাগিয়ে ছো।খোল বলছি
নোভা অট্টহাসিতে ফেটে পরলো
-কি হলো হাসছো কেন
-দরজা তো সকালে র আগে আমি খুলব না
-মানে কি বলছো তুমি
নোভা গায়ে র স্কার্ফ টা খুলে ফেলে দিলো
-মানে আজ শুধু তুমি আর আমি।কি করবো বলো আমি তোমার স্পর্শ চাই আবেগ।তাই এই কাজ করতে হলো
-কিহ তুমি এতো খারাপ
-আবেগ চুপ করো তো ।তুমি জানো তোমার জুসে আমি ড্রাগ দিয়ে ছি।একটু পর তুমি নিজেই তোমার কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবে।তারপর নিজেই আমার সাথে,,,,,উহ আমিতো ভাবতে পারছি না।তুমি বসো আবেগ।আমি তোমার সাথে বাসর করবো বলে তিনদিন আগে ইন্ডিয়া থেকে একটা নাইটি এনেছি।আমি না হয় রেডি হয়ে আসি।তুমি বসো আবেগ
আবেগ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।আর নোভা নাইটি নিয়ে ওয়াশরুমে গেছে
-আল্লাহ্ আমাকে বাঁচাও ।কোথায় ফেঁসে গেলাম আমি।আমার চারপাশ যে ঝাপসা হয়ে আসছে।আমি কিছুতেই এই পাপ কাজ করতে পারব না।আল্লাহ্ রক্ষা করো।আমাকে কিছু করতে হবে
আবেগ আসতে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার লক খুলতে গেল।কি মনে করে আবেগ এসে নোভা র ওয়াশরুমে র বাইরে থেকে আসতে করে দরজা লক করে এলো।তারপর ঢলতে ঢলতে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে থেকে দরজা লক করে দিলো।
আবেগ যেই বেরোতে যাবে দুজন ছেলে ওর পথ আটকালো
-দাঁড়ান কোথায় যাচ্ছে ন।নোভা ম্যাডাম সকালের আগে আপনাকে যেতে নিষেধ করেছে
আবেগ বুঝতে পেরেছে নোভা কি প্লান করেছে আবেগকে ফাসানোর জন্য
-আল্লাহ্ তুমি শক্তি দেও।আমাকে যে করে হোক বাঁচতে হবে।এদের সাথে নাটক করতে হবে(মনে মনে)
-কি হলো যান ভেতরে যান
আবেগ নিজেকে একটু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললো
-নোভা তো আমাকে বলেছে এখানে আসতে।কিন্তু হঠাত্ ও নিচে চলে গেল।আর আমাকে ও যেতে বললো।আগে পার্টি করবো তারপর না হয়,,,,,,
ছেলে দুটো একে অপরের দিকে তাকালো
-কিন্তু আপনি তাহলে দরজা দিয়ে ই বা যাচ্ছে ন কোথায়
-দেখুন রুম খোলা থাকলে যে কেউ রেস্ট করতে ঢুকে পরবে তাই
-না আপনাকে বিশ্বাস হচ্ছে না।নোভা ম্যাম কে তো নিচে যেতে দেখিনি
-আচ্ছা আপনাদের চোখে নাও পরতে পারে।সন্দেহ হলে ডাক দিন।দেখুন সারা পান কি না
ছেলে দুটো ডাকা শুরু করলো ।এইদিকে ওয়াশরুমে নোভা চেঁচাচ্ছে ।কিন্তু ওয়াশরুম বন্ধ ।তারপর ঘরের দরজা জানলা সব বন্ধ ।নোভা র কোন কথায় বাইরে যাচ্ছে না
-দেখলেন বললাম না নোভা নিচে
-আসলেই ।আচ্ছা আপনি যান।আমরা পাহারা দিচ্ছি যাতে এই রুম এ কেউ আসতে না পারে।আপনাদের সময় হলে আসবেন
-আচ্ছা
আবেগ হাফ ছেড়ে আল্লাহ্ র নাম নিচ্ছে আর নিচে নামছে।নিচে নেমে আবেগ দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে গাড়ি তে গিয়ে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল
আবেগ এর চোখ আরো ঝাপসা হয়ে আসছে।চারদিকে কেমন ঘুলিয়ে যাচ্ছে ।গাড়ি ঠিকমতো চালাতে পারছে না
আবেগ ড্রাইভ করছে সামনে রিদিতা র বাড়ি।রিদিতা র বাসা রেখেই আরো দূরে আবেগের ম্যানসন ।কিন্তু গাড়ি চালানোর অবস্থায় আবেগ নেই।ড্রাগ এর ডোজ কাজ করছে
আবেগ রিদিতার বাড়ি র সামনে গিয়ে গাড়ি থামালো ।ঢুলতে ঢুলতে গিয়ে রিদিতা র দরজা র দিকে এগিয়ে গেল
ঐদিকে
দিশা রিদিতা কে নিয়ে চেকাপ করিয়ে কেবল বাড়ি এলো
-দিশা বাইরে তো খেয়ে এসেছি এখন ঘুমিয়ে পর
-দাঁড়া এই শো টা শুরু হবে এখন।দেখে ঘুমাবো ।তুই কি করছিস
-একটু গোসল করে আসলাম
-আচ্ছা
বাড়িতে দিশা ছাড়া কেউ নেই।তাই রিদিতা কোন রকম দরজা লাগিয়ে টাওয়েল পেঁচিয়ে বাইরে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছছে
হঠাত্ দরজায় কেউ ধাক্কা চ্ছে
দিশা তো বিরক্তি বোধ করলো
-এখন আবার কে।বাড়ি য়ালা না তো ।কিন্তু ঐ লোকের তো হাত পায়ে ব্যান্ডেজ ।ঐ লোক আসবে না।কলিং বেল ও বাজছে না।দেখি তো
দিশা গিয়ে দরজা খুলে দেখে আবেগ দাঁড়িয়ে আছে
-স্যার আআপনি
-রিদিতা কোথায়
-ও গোসলের,,,,,
দিশা র কথা শেষ হতে না হতেই আবেগ রিদিতার ঘরের দিকে গেলো
দিশা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে
-আচ্ছা স্যার কি ওর কাছে মাফ চাইতে এসেছে।তাহলে তো ভালো।রিদিতা আর স্যার এর ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাক।অনেক কষ্ট পাচ্ছে বোনটা ।আমি বরং আজ এই রুম এ ঘুমাই ।ওরা ওদের মতো আলোচনা করুক
দিশা দরজা লাগিয়ে দিল।তার পর বসার রুমে গিয়ে দরজা লক করে মাদুর বিছিয়ে শুয়ে টিভি দেখা শুরু করলো
ঐদিকে আবেগ আসতে করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো।ঢুকে দরজা লক করে দিল।রিদিতা চুল মুছছে।ও ভেবেছে দিশা এসেছে
-দিশা তুই বলে শো দেখবি এতো তাড়াতাড়ি শো শেষ।কি হলো।আর তোকে না বললাম গোসল করছি।তুই কেন এলি।তুই একটু বাইরে যা আমি ড্রেস পরে নি।তারপর ঘুমোতে আসিস
রিদিতা দিশার কোন রেসপন্স পাচ্ছে না।এদিকে আবেগ ঢলতে ঢলতে রিদিতা র পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো ।এমনিতেই আবেগ এর নেশা হয়ে ছে ড্রাগে ।তারপর আবার রিদিতা কে চকলেট কালারের টাওয়েল পেঁচিয়ে ভেজা চুলে দেখছে।আবেগের নেশা টা আরো বেড়ে গেল।রিদিতা দিশার কোন রেসপন্স না পেয়ে পেছনে ফিরলো
-দিশা তোকে,,,,,,আআআ আপনি এখানে
রিদিতা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।তাড়াতাড়ি চুলের টাওয়েল দিয়ে ওপর থেকে ঢেকে নিল
রিদিতা দৌড়ে ওয়াশরুমে যাবে তার আগে আবেগ হাত টেনে ধরল
-ছারুন আমাকে।আপনি এখানে কি করছেন।দিশা দিশা,,,,
ওদিকে দরজা লক করে দিশা ভলিউম বাড়ি এ টিভি দেখছে।ওর কানে কিছুই যাচ্ছে না
-ছারুন আমাকে ছারুন বলছি।কেনো এসেছেন এখানে বের হন বলছি দিশা,,,
-তোমাকে না পুরো মনে হচ্ছে কি জানো চকলেট আইসক্রিম ।পুরো চকবার ।আমি খাব
আবেগ এর এবার সত্যি কন্ট্রোল হারিয়ে গেছে।তাই ভুলভাল বকছে
-কি বাজে কথা বলছেন ছারুন আমাকে।দিশা কোথায় তুই
রিদিতা ছুটার চেষ্টা করছে।আবেগ শক্তি দিয়ে রিদিতা কে ধরছে।রিদিতা আবেগের হাতে কামড় দিচ্ছে ছাড়ানোর জন্য ।কিন্তু আবেগের ছাড়া র নাম নেই
-এই চকবার এতো লাফালাফি করছো কেনো।চলো আমি তোমাকে খাব
বলেই আবেগ হাত টানছে রিদিতা র।রিদিতা আবেগের কন্ঠ শুনে বুঝতে পারছে আবেগ নেশা করেছে।আবেগ বাচ্চা দের মতো করে কথা বলছে
-আপনি নেশা করেছেন।নেশা করে আমার কাছে এসেছেন।ছারুন বলছি।আগের দিন কিছু বলিনি বলে ভাববেন না আজ কিছু বলবো না।ছারুন আমাকে
-আমিই নেশা।ইশ ।পচা কথা ওগুলো বলে না।আমার তো চকবার দেখে নেশা লাগছে।আমি চকবার খাব।এই চকবার চলো আমার সাথে
রিদিতা জোরে কামড় দিল আবেগের হাতে।গিয়ে দরজা খুলতে যাবে তার আগে আবেগ এসে ওকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে গেলো।রিদিতা হাত পা ছুরছে
-এই চকবার এরকম নড়ছো কেন চুপ করে থাকবে তো
আবেগ রিদিতা কে শুইয়ে দিয়ে রিদিতা র হাত দুটো নিজের মুঠোতে নিয়ে নিল
-আল্লাহ্ এ কোন মুছিবতে পরলাম আমি।ছারুন আমাকে
আবেগগ রিদিতা র কোন কথা না শুনে রিদিতা চুলে মুখ গুঁজে দিল
এদিকে নোভাকে ঐ লোক দুটো বের করেছে।ওদের সন্দেহ হয়ে ছিল।তাই দরজা খুলে ওরা নোভাকে বের করেছে।বের হয়ে নোভা আবেগের ফোনে কল দিচ্ছে
আবেগ ফোনের শব্দ পেয়ে ফোনটা পকেট থেকে নিয়ে খাটের এক কোনে ছুড়ে মারলো।রিদিতা র ঠোট দখল করে নিলো
আবেগ এর টাচে ফোন রিসিভ হয়ে গেছে।নোভা তো হ্যালো বলছে
-হ্যালো আবেগ তুমি,,,,,,,,
নোভা থেমে গেল।নোভা কান পেতে শুনছে ওপাশের আওয়াজ ।নোভা র চোখ দিয়ে যেমন লাল আভা বেরোচ্ছে সাথে পানি।নোভা কান থেকে ফোন সরিয়ে ফোনটা ছুড়ে মারলো
-রিদিতা আআআ ।তোকে ছারবো না আমি ছারবো না,,,তুই আমার আবেগকে নিয়ে গেছিস,,তোকে ছারব না
মাঝরাতে আবেগ রিদিতার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমোচ্ছে আর বিড়বিড় করছে
-আমাকে কেন এতো কষ্ট দিলে রিদি।আমার যে ভেতর জলে যায় ।কেন এমন করলে কেন
আবেগ এর কথা রিদিতা র কানে যাচ্ছে না।বেচারির চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে।আবেগ এমন ভাবে রিদিতা কে জাপটে ধরেছে ও উঠতে ও পারছে না
-আল্লাহ্ আমি কি করব এখন।কি করবো।নিজে আসবে আমার কাছে ভোরের আলো ফুটলেই আমাকে আর চিনবে না।আমাকে আবার শুনতে হবে অপবাদ ।আর কতো আর কতো সইবো আমি

#Part_19
👇
পরের দিন সকালে
রিদিতা দিশার সামনে গিয়ে বসে আছে।আর অঝোরে চোখের পানি ফেলছে।আবেগ অন্য রুমে তখনো ঘুমে
-এতো নোংরা একটা মানুষ কিভাবে হতে পারে
-জানিনা।তুই কেনো কাল ওকে ভেতরে ঢুকতে দিলি।তাও নেশা করা অবস্থায়
-আমি এটা বুঝতে পারিনি যে স্যার নেশাগ্রস্ত ছিল।আমিতো ভেবেছিলাম তোর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছে
-আমার সব শেষ করে দিয়ে আবার নতুন করে আমাকে শেষ করতে বসেছে ও
ঐদিকে আবেগের ঘুম ভাঙলো।আবেগ উঠে বসলো।মাথাটা এখনো ঝিমঝিম করছে
-একি আমি আবার এখানে কি করছি ।কাল তো,,,,
আবেগের রাতের কথা মনে পড়ে যায় ।চারপাশে তাকিয়ে দেখে আবেগের বুঝতে বাকি নেই যে কাল ও আবার রিদিতা র সাথে,,,,,,
-ওহ নো।আমি আবার,,,,,,এইবার তো রিদিতা র কোন দোষ নেই ।এখনো বেশি সকাল হয় নি।তার মানে রিদিতা বাড়িতে আছে।আমাকে কথা বলতে হবে ওর সাথে
আবেগ জামা কাপড় পরে নিয়ে রুমে র বাইরে এসে ঐ বসার রুমে চলে গেল।গিয়ে দেখলো রিদিতা শাড়ি পরে ভেজা চুল এলোমেলো অবস্থায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে।চোখ মুখ ফোলা এখনো কাঁদছে ।পাশে দিশা দাঁড়ানো
-রিদিতা
আবেগকে দেখে দিশা বেরিয়ে এলো।কারণ ওদের কথার মাঝে থাকাটা ঠিক হবে না।রিদিতা আবেগের দিকে ফিরে ও তাকাচ্ছে না
-রিদিতা
-বেরিয়ে যান
-রিদিতা শোন আমার কথা
-কি শুনবো আপনার কথা।কি শোনার বাকি রেখেছেন আপনি।এতো ই যখন চাহিদা মেটানোর শখ আপনার হবু স্ত্রী র কাছে যেতে পারেন নি।এখানে আমাকে শেষ করতে কেন এসেছেন
-রিদিতা আমি সত্যি,,,,,
-বেরিয়ে যান আমার সামনে থেকে।চলে যান আপনি।প্লিজ আর সইতে পারছি না আপনি।মুক্তি দিন আমাকে।বেরিয়ে যান
বলে রিদিতা জোরে কান্না শুরু করে দিলো।আবেগ আর কিছু না বলে রিদিতা র বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেল
-রিদি তুই কিছু বললি না কেন ওনাকে।আমার তো মনে হয় তোর ওনার নামে পুলিশ কমপ্লেন করা উচিত
-কি কমপ্লেন করবো।এটা বলবো যে আমার প্রাক্তন স্বামী তিনি আমার বাড়ি তে এসে দুদিন আমার ওপর জোর জবরদস্তি করেছে।আমাকে ধরষন করেছে।আরে মানুষ তো এটা শুনলে হাসবে।আর কতো হাসির পাত্র হবো আমি বলতে পারিস
দিশা আর কিছু বললো না
আবেগ বাড়ি তে গিয়ে দেখে নোভা হাজির।নোভা র চোখমুখ ফোলা।আবেগ কিছু না বলে ওপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দেখে নোভা ওর রুমে বসে আছে
-এখানে কোন মুখে এসেছো তুমি
-আবেগ সত্যি কথা বলবে বলোতো
-বের হও।তোমার মানসিকতা এতো নোংরা জানা ছিল না
-তার আগে বলো কাল রাতে তুমি কোথায় ছিলে
-জানিনা
-সত্যি কথা বলো আবেগ।তুমি ঐ রিদিতা র কাছে গেছিলে তাই না
-,,,,,,,,
-কি হলো উওর দাও
-,,,,,,,,,
-আবেগ উওর দাওও
-হ্যাঁ হ্যাঁ আমি রিদিতা র কাছেই গেছিলাম
নোভা কিছু বললো না।কান্না শুরু করে দিলো
-আবেগ আমি তাও তোমাকে কিছু বলবো না।কারণ কাল আমিও একটা অপরাধ করেছি তোমার সাথে।আর তুমি ও আমার সাথে।সত্যি করো বলো না আবেগ কাল পার্টি থেকে বেরিয়ে তুমি কি কি করেছো ঐ মেয়ে র সাথে
-,,,,,,,,,
-আবেগ প্লিজ বলো।না হলে আমি শান্তি পাচ্ছি না
-আমি কাল ওখান থেকে বেরিয়ে রিদিতা র কাছে যাই।মাথা এমনিতেই ঘুরছিল।আরো যেয়ে দেখি ও টাওয়েল পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছছে আর তারপর,,,,,,
নোভা আবেগের কলার ধরে বসলো
-আর তারপর ঐ মেয়ে টার সাথে তুমি সারা রাত,,,,,ছিহহ।এই শেষ কথা শুনে নাও আমাকে বিয়ে করতে তুমি নিজেই রাজী হয়ে ছিলে।খুব শিগগিরই আমাদের বিয়ে হবে।সেই ব্যবস্থা করছি।কাল আমিও একটা দোষ করেছি তাই তোমাকে ছেড়ে দিলাম
নোভা বেরিয়ে গেল।আবেগ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে
নোভা গিয়ে আবেগের মা মানে ওর মার কাছে গেল
-মা
-তুই কি করবি এখন
-মা সেই কাজ।যা কয়েক মাস আগে রিদিতা র সাথে ঘটিয়ে ছিলাম সেটাই
-মানে
-মানে তুমি শুধু দেখ।আজ অফিসে সবার সামনে আমি ঐ রিদিতা র কি অবস্থা করি।বেচারী হাহ
আবেগ রেডি হয়ে অফিসে যাচ্ছে ।এই সময় আবেগের মা এলো
-আবেগ
-বলো
-আজ আমি একটু তোর অফিসটা দেখবো।তোর বাবা তো ঢাকায় ।আর এখানে এসে তেমন কিছু দেখাও হয় নি।তাই তোর সাথে বেরোবে।অফিস দেখে নোভা কে নিয়ে একটু শপিং করে আসবো
-আচ্ছা চলো
আবেগ মা আর নোভাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো
সকাল সাড়ে দশটা
রিদিতা আর দিশা অফিসে ঢুকছে।দেখে তেমন কেউ নেই অফিসে।ওরা রিসেপশনে যায়
-আচ্ছা অফিসে র সব স্টাফ,,,,
-ম্যাম ওনারা স্যার এর রুমে আছেন।আপনিও যান
রিদিতা দিশাকে নিয়ে চলে গেল
-দিশা কি হলো বলতো
-জানিনা রে
রিদিতা দিশা আবেগের কেবিনে ঢুকে দেখে কেবিনে র এক টা সোফাতে নোভা আবেগের মা বসা।পাশে সব স্টাফ ।আর আবেগ রক্ত চক্ষু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আবেগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক্সপোর্ট এর ম্যানেজার রাশেদ সাহেব ।রিদিতা কে দেখে আবেগ বলে উঠলো
-এই যে মি, রাশেদ আপনার ক্লাইন্ট হাজির।মিসেস রিদিতা ওখানে কেন এখানে আসুন।সবাই দেখবে তো আপনার কুকীর্তি
রিদিতা র মাথায় কিছু ঢুকছে না।ও দিশা র দিকে তাকালো দিশা সামনে যেতে ইশারা করলো
-স্যার আমার কি কুকীর্তি মানে
-মানে টা মি,রাশেদ ই বলুন
মি,রাশেদ মুখ খুলল
-স্যার মিসেস রিদিতা একজন ডিভোর্সি সেটা আমি জানতাম ।কিন্তু ওনার ঐ অসহায় ত্ব দেখে আমি ওনার এই চাকরির ব্যবস্থা করে সবচেয়ে বড় ভুল করি।হ্যাঁ দোষ কিছুটা আমার ও ছিল।কিন্তু উনি নিজেই আমাকে আগে ইশারা দিয়ে ছেন।কাজের ফাঁকে উনি ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে অনেক কিছু ই দেখাতেন।অবশেষে আমিও রাজি হয়ে যায় ।মাঝেমধ্যে ওনার বাড়ি তে আসা যাওয়া মানে ইয়ে শুরু করি ।কিন্তু তার জন্য ওনাকে অনেক পেমেন্ট দিতে হতো আমার ।কিন্তু আমি আর পারছি না।ওনার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।কাল বিকেলে উনি আমাকে ওনার বাড়ি তে আবার ডাকেন।তারপর সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি ওনার সাথে কাটাই।ফিরে আসার সময় উনি আমাকে ব্লাকমেইল করে ন যে পেমেন্ট না বাড়িয়ে দিলে উনি সবাইকে সব বলে দেবেন।তিনি এর আগেও ব্লাকমেইল করেন আমাকে।আমি আর না পেরে আজ আপনাকে জানাতে বাধ্য হলাম
ঐদিকে সবাই বলাবলি শুরু করে দিয়েছে
-ইশ মিসেস রিদিতা কে কি ভালোই ভাবতাম আর উনি ছি ছি
রিদিতা র যেন পা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ।দিশা ও অবাক পুরো
নোভা এসে আবেগের কাছে দাঁড়িয়ে পরে
-আবেগ একটু সাইডে এসো
-কেনো
-এসো
আবেগ কে সাইডে নিয়ে নোভা বলা শুরু করে
-আবেগ ঐ ম্যানেজার কি বললো কাল সন্ধ্যা তে উনি রিদিতা র সাথে ছিল।এটা তো সত্যি ।এর প্রমাণ তো তুমি নিজেই
-আমি কিভাবে
-আবেগ তুমি তো ওকে কাল গোসল করে এসেছে এই অবস্থায় দেখেছো।তুমি ই তো বললে।রাত নয়টা র সময় তাও একটা মেয়ে কেনো গোসল করবে বলতে পারো
আবেগ এর এমনিতেই রাগে শরীর মন জলছে তারপর নোভা র কথা আবেগ এর রিদিতা র প্রতি আরো ঘৃনা হচ্ছে
আবেগ গিয়ে ম্যানেজার কে পাশে সরিয়ে রিদিতা র কাছে গিয়ে আসতে বলা শুরু করলো
-ম্যানেজার এর কথা তো সত্যি ।তুই এতো নিচে নেমেছিস
-আবেগ উনি মিথ্যা বলছে।কাল তো তুমি নিজেই আমার সাথে ছিলে
-সেটাই তো।রাত নয়টা র সময় গোসল করে কি করছিলির তুই।এটা আগে বল।নাকি নিজে ম্যানেজার এর সাথে নষ্টামি করে তারপর গোসল করেছিলি ।শেষ মেষ দেহ ব্যবসা শুরু করেছিস।বেশ্যা হয়ে ই গেছিস
আবেগ এর কথা শুনে রিদিতা র চোখ দিয়ে আজ আর পানি ঝরছে না।আবেগ তাকে এতোটা নিচে নামাবে ভাবতে পারেনি।রিদিতা আবেগের কোন কথার উওর দিল না
রিদিতা একবার দিশার দিকে তাকালো
তারপর রিদিতা যে কাজ করলো তা সবার ভাবনার বাইরে
চলবে——

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here