ত্যাগের সংসার – পর্ব ১০-১২

0
230

#ত্যাগের_সংসার
লেখিকা সুরিয়া মিম
part : 10+11+12
!
তোমার চরিএের দোষ আছে সেটা ঠিক করো বাবাই,
!
ছেলের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন খান সাহেব,
!
আর ছেলে তার মুখের ওপরে দরজা লাগিয়ে রুমে চলে যায় এবং সারারাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়,
!
পরেরদিন সকালে নাস্তা না করেই খান সাহেব অফিসে চলে যায়,
তারপর ইশা কে নিয়ে ঘুরতে চলে যায়,
!
কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজে মন বসেনা সে তাই সে ইশা কে মিথ্যে বলে বাড়ি ফিরে যায়,
!
সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে করতে খান সাহেব শুনতে পান ফুলি কাকে যেন বলছে,
!
বড় ভাইয়া বাসায় কেউ নেই,
বেগম সাহেবা রান্না করছেন আপনি চিন্তে করবেননা আমি তাকে চোখেচোখে রাখবো,
!
খান সাহেব বুঝলেন বড় ছেলে ইয়াদের ফোন আর ভাবলেন এই তো সুযোগ বেগমের শরীরের হালচাল জানার,
তাই তিনি তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে ছুটে জান আর গিয়ে দেখেন যে তার বেগম খুবি মনোযোগ সহকারে রান্নাবাড়া করছেন,
তাই বেশ ভড়কে দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে জিজ্ঞেস করেন,
!
কি হয়েছে তোমার?
ডক্টর কি বলেছে?
কিছুই তো বলনি আমায়?
!
তেমন কিছুনা শুধু রেস্ট নিলে ভালো হয়ে যাবে,
!
তুমি আমাকে ইগনোর করছ?
!
বালাই ষাট আপনাকে ইগনোর করার আমি কে?
অতো ক্ষমতা আছে নাকি আমার?
!
কালকে তুমি বমি করেছ সেটা আমার নজর এড়ায়নি,
!
আমাকে ছাড়ুন বলছি,
!
কেন?
!
আমার এসব ভালো লাগছেনা,
আর তখনি আমি ওনার গায়ে বমি করে দেই,
সাথেসাথে উনি আমাকে ফেলে ঘৃণায় দূরে যায়,
!
ফুলি এসে তখন আমাকে ধরাধরি করে রুমে নিয়ে যায়,
আর আমার গা হাত পা মুছে সাড়ি পড়িয়ে দেয়,
তারপর ওনাকে দুপুরের খাবার সার্ফ করার সময় বলেন,
!
ছিছিছি তুমি আমার কাছে এসোনা প্লিজ, কয়েক বার গোসল করার পরে ও বমির গন্ধ মনে হয় যেন আমার গা থেকে এখনি যায়নি,
!
তোমার কি আক্কেল বলতো?
আগে বলবে তো?
এমন কেউ করে?
!
আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দিন
তারপর আমি রুমে চলে আসি,
কেমন মানুষ একবার ও নিজে থেকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলল না?
উনি কি কখনো আমাকে বুঝবে না?
উনি না আমার স্বামী?
!
তোমাদের বেগম সাহেবা খেয়েছে ফুলি?
!
না সাহেব,
খেতে আর পেলো কোই?
আপনি খাবেন তারপরে তো খাবে,
!
কথাটা শুনে খান সাহেব নিজে থেকেই খাবার নিয়ে ছেলের কক্ষে যায় গিয়ে গিয়ে দেখে বেগম অপর পাশে ফিরে খাচ্ছে,
!
কি হলো একাএকা খাচ্ছো কেন?
আমার সাথে বসে খেতে পারতে?
!
সাথে সাথে বেগম সাহেবা তার চোখেরজল মুছে বলে,
আপনার অসুবিধে হচ্ছিলো তো,
আপনি খান আমার খাওয়া হয়ে গেছে,
!
চলো ডাক্তারের কাছে যাবে?
শরীর টা বোধ হয় বেশি ভালো নেই তোমার,
!
সেটা আপনার মনের ভুল

#ত্যাগের সংসার
লেখিকা সুরিয়া মিম
part : 11
!
সেটা আপনার মনের ভু্ল,
!
হয়তো খান সাহেব আরো কিছু বেগম সাহেবা কে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলেন,
!
তখনি ছোটো ছেলে একহাড়ি রসগোল্লা নিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে আমি না খুবখুশি মা,
!
আমার ও ভাইয়ের তো মনে হয়ে ছিলো এমন কিছু একটা হবে,
!
ছেলের কথার মাথামুন্ডু কিছু বুঝতে না পেরে খান সাহেব ফিক করে হেসে দিয়ে বলে,
!
কি হয়েছে বাবা?
!
নাথিং বাবাই,তোমার কাজ হয়ে গেলে তুমি এখন আসতে পারো আমার কিছু কাজ আছে,
!
আচ্ছা বাবা ঠিক আছে,
জানিনা ওদের খুশির কারন আমি ও ওদের খুশিতে সামিল হতে চাই,
খুশির কারন হতে চাই
!
তাই খান সাহেব তখন দরজার আড়ালে উকি মেরে দেখেন,
!
বেগম সাহেবা ছেলেকে আদর করছেন আর মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন,
!
বাবা উনি তোর বাবা তোরা দুই ভাই কেন বাবার সাথে পক্ষপাতিত্ব করিস এটা তো ঠিক না উনি তোদের বাবা,
!
মা বাবাইয়ের কথা বাদদেও না আমি আর ভাই তো সেই লেভেলের খুশি হঠাৎ তখন কিছু একটা পরে যাওয়ার শব্দ হয় আর খান সাহেবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মিয়াদ কথার প্রসঙ্গ পালটে দেয়,
!
রাতে যখন সবাই খাবার খাচ্ছিল তখন ইয়ানা বলে,
পাপাই কলেজে প্যারেন্ট টিচার মিটিং আছে কাল,
!
তাহলে আমি ও পাপাই মিলে যাই?
!
তুমি না মা প্লিজ পাপাই ও ইশা আন্টি যাবে,
আমি ইশা আন্টি কে বলে দিয়েছি,
!
আর ওখানে তোমার কোনো কাজ নেই সো সং সেজে বসে থাকার তো কোনো মানে হয় না তাই না পাপাই?
!
হ্যা অবশ্যই,
তোমাকে যেতে হবেনা কেমন?
!
আচ্ছা ঠিক আছে,
পরেরদিন সকালে উনি মেয়ের কলেজের মিটিং এ ইশা কে নিয়ে যোগদান করেন,
!
তারপর অফিসে গিয়ে সমস্ত কাজকর্ম সামলে সন্ধায় বাসায় ফিরে এসে আমাকে বলেন
!
শোনো আমি আমার এক বাল্যবন্ধুর বিবাহবার্ষিকীর পার্টি তে যাবো তাই আমাকে একটা পাঞ্জাবি বেড় করে দাও তো,
!
দেখুন তো এটা পছন্দ হয় কিনা?
আমি এটা আপনার জন্যে বানিয়েছি হাতের কাজ ও করেছি কেমন হয়েছে?
!
তুমি ভাবলে কি করে যে আমি এই দুই টাকার পাঞ্জাবি পরে আমার বন্ধুর পার্টিতে যাবো?
!
আমার তো একটা ক্লাস আছে নাকি?
!
আসলে আমি বুঝতে পারিনি,
!
তাহলে ইশার দেওয়া পাঞ্জাবিটা দাও,
!
নিন ধরুন,
!
তারপর আমি ইশার দেওয়া পাঞ্জাবি পরে ওকে সাথে করে বন্ধুর পার্টি তে যাই,সেখানে গিয়ে বন্ধুর সাথে আলাপ করতে করতে খেয়াল করে দেখি,
!
ও আকিবুকি করা পাঞ্জাবি পরে আছে,কথার ছলে এটা পড়ার কারন জানতে চাইলে ও আমাকে বেশ গর্ভ করে বলে,
!
ভাই তোর ভাবি এটা আমার জন্যে ভালোবেসে নিজের হাতে,
!
হাতের কাজ করে বানিয়েছে তোর ভাবি মোটামুটি হাতের কাজ জানে,
!
তাই সে এটা আমাকে আমার বার্থডে তে গিফট করেছে,
আর এটাই আমার জন্মদিনের বেষ্ট গিফট,
!
কেন জানিনা বেগমের জন্যে এখন আমার খারাপ লাগছে খুব,
ওকে এভাবে ডিসিপয়েন্ট করা উচিৎ হয়নি আমার

#ত্যাগের_সংসার
লেখিকা সুরিয়া মিম
part : 12
!
ওকে এভাবে ডিসিপয়েন্ট করা উচিৎ হয়নি আমার,
ওর দেওয়া পাঞ্জাবি টা পরে আসলে আমি ও গর্ব করে বলতে পারতাম যে দেখ আমার বৌয়ের কাজ,
!
পার্ট শেষে বাসায় ফিরে ছেলের রুমে গিয়ে দেখি,
!
যে ও ছেলের গায়ে বমি করে দিয়েছে,
আর ছেলে তবুও মায়ের মাথা বুকের সাথে চেপে ধরে বসে আছে,
হঠাৎ দিশা আমার বোনের মেয়ে আমার পাশ কাটিয়ে গিয়ে বেগম কে জড়িয়ে ধরে বলে,
!
ভাই আমি মাম্মাম কে দেখছি,
তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো,
!
আরে মা তুই তো বেড়াতে এসেছিস যা গিয়ে রেস্ট কর ভাই তো আছে ও সামলে নিবে,
!
তুমি চুপ করো তো মাম্মাম,
তুমি জানো প্রতিবছর কয়েকবার করে আমি শুধু তোমার কাছেই আসি আদর খাবো বলে,
তার ওপরে মা আসার আগে বলেছে
তুমি একদম সুস্থ হলে যেন আমি বাড়িতে ফিরি তাই এমন করে বলো না প্লিজ,
!
দিশার কথা শুনে খেয়াল করে দেখি,
আমার ছেলে ওর মায়ের বমি পরিষ্কার করছে,
আশ্চর্য আমার তো এসব ঘৃণা করে ওর কি করেনা?
!
তারপর ওকে ধরাধরি করে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ইশা ওর সাড়ি চেইঞ্জ করে দেয়,
!
হঠাৎ আমার বন্ধু ডক্টর ইফাদ এসে,
আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে ছেলের রুমে ঢুকে যায়,
তারপর ওর চেকাপ করে ঔষধ লিখে দিয়ে আমাকে ইগনোর করে চলে যায়,
!
দিশা ওকে শুইয়ে রুমের বাহিরে আসতেই আমি ওকে জিজ্ঞেস করি,
!
কেমন আছিস মা,
তোর মাম্মাম কেমন আছে?
!
সেটা তোমার না জানলে ও চলবে মামু পার্টি করতে গেছিলে তো পার্টি করো কেমন?
!
আমি বুঝিনা ওরা সবাই কেন আমাকে ইগনোর করে?
আমার কি তোমার শরীরের খবর জানতে ইচ্ছে করেনা?
!
আমি বুঝিনা একটা মানুষ এতো বাজে কি করে হয়?
তোমাকে তো আমি সম্মান করতাম মামু?
!
কিন্তু ফুলবানুর থেকে সব শোনার পর, তোমার প্রতি আমার সম্মান ও ভালোবাসা কর্পূরের মতো উবে গেছে,
আর ইয়ানা তো বেয়াদবের হাড্ডি শুনে মনে হলে গিয়ে থাবড়িয়ে আসি কতক্ষণ,
!
পরেরদিন দুপুরে শাওয়ার নিয়ে বেগমের বানানো পাঞ্জাবি টা খুজছিলাম,
জুমার নামাজে পড়ে যাবে বলে,
কিন্তু কোথাও খুজে পেলাম না আমি,
!
তখন দেখলাম মিয়াদের গায়ে ওই পাঞ্জাবি তাই ওকে বললাম,
বাবা তুই আমার টা পরেছিস কেন?
!
কি?
আমার বয়ে গেছে তোমার পাঞ্জাবি পড়তে,
এটা আমার পাঞ্জাবি জানো মা নিজের হাতে বানিয়েছে?
!
তোমার টা কোই?
আমি জানিনা মা কে গিয়ে জিজ্ঞেস করো,
!
তখন আমি বেগমের রুমে গিয়ে দেখি ও আমার পাঞ্জাবি দিয়ে ঘর মুছছে,
!
কি কিছু লাগবে আপনার?
!
তুমি ওটা দিয়ে ঘর মুছচ্ছ কেন?
!
আপনি তো পরবেন না তাই ঘর মোছার জিনিশ বানিয়েছি,
!
তাহলে আমি ওই পাঞ্জাবি টা পরি?
!
কি?
ওটা আমার বড় ছেলের পাঞ্জাবি আপনি পরবেন কেন?
!
জান গিয়ে নিজের পাঞ্জাবি পরুন,
দুই টাকার জিনিস আপনার গায়ে সইবে না,
আপনার একটা ক্লাস আছে তো?
তাই আমি আপনাকে অপমান করতে চাই না

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here