ছোট সাহেবের অত্যাচার – পর্ব ১৪

0
1624

ছোট সাহেবের অত্যাচার
Writer:Bushratuzzaman Shoya
Part:14
.
—— দ্যাখ তোরা যা ভাবছিস তা মোটেও না।এই বিয়েটা পরিবার থেকে দেওয়া হচ্ছে।আমাদের কোন রিলেশন ছিল না।
—— আর কত মিথ্যে বলবি রে প্রান্তিক???মিথ্যে বলে সবাইকে বোকা বানাতে পারিস কিন্তু আমাদেরকে বোকা বানাতে পারবি না।আমরা তোর ছোটবেলার বন্ধু।আমাদের কাছ থেকে কিছুই লুকিয়ে রাখতে পারবি না।
—— আমি কোন মিথ্যে কথা বলছি না।আমি তো একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারলাম না ড্যাড ছোঁয়ার মাঝে এমন কি দেখল যে আমার সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছে।ওর মধ্যে আছেই বা টা কি যেইটা আমি দেখতে পাচ্ছি না।
.
.
ছোট সাহেবের এই কথাটা আমি শুনে ফেললাম।আমি আস্তে করে উনাকে বলছি,,,,,,,,,
.
—— বলেছি না আমার চেনার চেষ্টা করিয়েন না আর আমার মাঝে কি আছে তা জানার বা দেখার চেষ্টা করিয়েন না নইতো পরে যাবেন।
.
এই কথা বলার পর মুখে একটা হাসি দিলাম।আর উনি একটা ভেংচি দিলেন।আমিও দিলাম একটা ভেংচি।পাশে দাঁড়িয়ে উনার বন্ধুরা হাসছেন।উনার মুখটা দেখে আমারও খুব হাসি পাচ্ছে।কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল করে নিলাম।
.
.
বাবা বের হয়ে চলে গেলেন।উনি আমাকে ইশারা দিয়ে বলছেন___একবার তুই উপরে আই তারপর তোর দেখাচ্ছি মজা।
আমিও কম কিসে আমি একটা ভেংচি দেখিয়ে দিলাম।উনি সেই পরিমানের রেগে গিয়েছেন।
.
খালাআম্মা উনার বন্ধুদেরকে বলছেন,,,,,,,
.
—— কালকে তো সঙ্গীত তোমরা এস কিন্তু।আর তোমাদের গুলোকেও নিয়ে এস।
—— কি যে বলেন আন্টি???ঠিক আছে আন্টি আনব ওদেরকে।প্রান্তিক তুই একটু বাইরে আই তো।জরুরি কথা আছে।
—— চল।
.
.
ছোট সাহেব আর উনার বন্ধুরা বাইরে চলে গেলেন।বাইরে যেয়ে ছোট সাহবে ওদেরকে জিজ্ঞাসা করছেন,,,,,
.
—— বল কি বলবি???
—— দোস্ত তাহফিফ কিন্তু বেশি বার বেরে গেছে।
—— কেন ও আবার কি করল???
—— সেই যে পার্টিতে ছোঁয়ার উপর কুনজর দিয়েছিল না আর বারবার ওকে ছোঁয়াকে টাচ করার চেষ্টা করেছিল সেই জেদটা এখনও রয়েছে।ও কিন্তু সুযোগ বুঝে ছোঁয়ার বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।প্লিজ তুই একটু ছোঁয়ার খেয়াল রাখিস।
—— এই তাহফিফ টা কে নিয়ে যে কি করব???ছোঁয়া ওকে এত মারল এত লাথি দিল তাও কোন শিক্ষা পেল না।বুঝতে পেরেছি আমাকেই কিছু একটা করতে হবে।
—— যা করার তাড়াতাড়ি কর।
—— হুম।তোরা এখন যা আমি রেডি হয়ে আসছি।
—— ওকে দোস্ত।
.
.
ছোট সাহেব ভিতরে ঢুকলেন।সবার সামনে আমাকে বলছেন,,,,
.
—— ছোঁয়া তুই আমার খাবার উপরে নিয়ে আই।
.
ওরে আল্লাহ বিয়ের আগে হুকুম চালাচ্ছে আমার উপর।আর হুকুম দেওয়াটাই স্বাভাবিক।কারন উনি আগে থেকেই আমার উপর হুকুম চালান।আমি বাধ্য হয়েই উনার খাবার উপরে নিয়ে যাচ্ছি।
.
আল্লাহ গো এখন তো আমার খুব ভয় করছে উনি তো ইশারা করে বলে দিয়েছেন উপরে গেলে আমার নাকি খবর আছে।তবুও একটা সাহস নিয়ে উপরে গেলাম।উনার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি,,,,,,
.
—— আসব ছোট সাহেব।
—— আই তুই।
.
আমি ভিতরে ঢুকলাম।উনি খাবারটা টেবিলের উপর রাখতে বললেন।আমি খাবারটা টেবিলের উপর রেখে যেই চলে যাব তখনই উনি আমার সামনে এসে দরজাটা আটকিয়ে দিলেন।
.
.
তখনই আমার ভয়টা আরও বেড়ে গেল।ভয়ে আমার শরীর দিয়ে ঘাম ঝড়ছে।উনি দরজাটা কেন বন্ধ করলেন‌ উনি কি করতে চাচ্ছেন আমার সাথে।আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম,,,,,,
.
—— আপনি দরজা বন্ধ কেন করলেন ছোট সাহেব???
.
আমার কথার কোন জবাব না দিয়ে উনি আমার দিকেই এগিয়ে আসছেন।আমি বারবার পিছনেই যাচ্ছি।আমি দেয়ালের সাথে ঠেকে গেলাম।আর উনি সাথে সাথে আমাকে দেয়ালের সাথে আটকে দিলেন।আমি উনাকে বলছি,,,,,,
.
—— এ কি করছেন ছোট সাহেব???আমাকে যেতে দিন।
.
.
.
উনি আমার হাত শক্ত করে ধরলেন আর দেয়ালের সাথে আটকিয়ে দিলেন।আমার খুব ভয় করছে।আমি ভয়ে ভয়ে উনাকে জিজ্ঞাসা করছি,,,,
.
—— ছোট সাহেব আপনার মনে কি চলছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।আমায় ছাড়ুন ছোট সাহেব।আমার খুব লাগছে।আমার হাতটা ছেড়ে দিন।আমার খুব ব্যথা করছে।
—— ব্যথা করলে করুক আমার কিছুই যাই আসে না।আমি আজকে দেখেই ছাড়ব তোর মাঝে আছে টাকি???
.
এই বলে উনি উনার মুখটা আমার মুখের কাছে নিয়ে আসলেন।ধীরে ধীরে আমার ঘাড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।আমি আমার চোখটা বন্ধ করে ফেললাম।
.
.
আমার ঘাড়ে উনার ঠোঁটের হালকা একটু ছোঁয়া দিয়ে আমায় ছেড়ে দিলেন।আমায় ছেড়ে দিয়ে বলছেন,,,,,
.
—— তুই চিন্তা করিস না আমি তোর সাথে এইসব করব না।তোকে জানার জন্য।আমি ওইসব ছেলেদের মত না।আমার এইসব করার কোন ইচ্ছা ছিল না।যদিই থাকত তাহলে তোকে যে একা পেয়েছিলাম ওইদিনই করতাম।তুইও আমাকে ওইরকম ভাবতি।
—— আমি আপনাকে কোনদিনই খারাপ ভাবতাম না ছোট সাহেব।যদি খারাপই ভাবতাম তাহলে আমি আপনাকে,,,,,
—— কি আমাকে???
—— কিছু না আমি নিচে যাচ্ছি।
.
.
.
আমি চোখের পানি মুছতে মুছতে উনার ঘর থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।আমি নিচে চলে যাচ্ছিলাম ঠিক তখন আপু আর পুষ্পিতা আমার পথ আটকে দিয়ে বলছে,,,,,
.
—— তুই তো এই বাড়ির বউ হবি তাই নিচে থাকাটা ভালো দেখায় না।বিয়ে হওয়ার আগ পর্যন্ত তুই পুষ্পিতার সাথে থাকবি।
—— কি???
—— হুম ভাবি তুমি আস আমার ঘরে।
.
.
পুষ্পিতা আমাকে জোর করেই ওর ঘরে নিয়ে গেল।এ মা এরা দেখি আমার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে এসেছে।পুষ্পিতা আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিল।আমাকে জিজ্ঞাসা করছে,,,,,
.
—— তুমি এতখন ছোট ভাইয়ার ঘরে কি করছিলে???
—— কিছু না।
—— ভাইয়ার ঘর ভিতর থেকে আটকান ছিল।এইবার বল কি করছিলে???
—— কিছুই করছিলাম না পুষ্পিতা।
.
.
খালাআম্মা আসলেন পুষ্পিতার ঘরে।কালকে সঙ্গীতের জন্য কিছু লেহেঙ্গা আর কিছু জুয়েলারি নিয়ে আসলেন।এইগুলো আমাকে দেখাচ্ছেন আর বলছেন,,,,,
.
—— কি রে মা এইগুলোর মধ্যে কোনটা পছন্দ হয় তোর???
.
আমি তো চুসই করতে পারছি না কোনটা পড়লে আমাকে মানাবে।ছোট সাহেব দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল তাও আবার আড়ালে।সেইটা আবার পুষ্পিতা খেয়াল করল।পুষ্পিতা ইশারা দিয়ে বলছে____ ছোট ভাইয়া চুস করে দে না কোনটা পড়লে মানাবে।
.
ছোট সাহেব মাথা দিয়ে না দেখালেন।পুষ্পিতা আবার ইশারা দিয়ে প্লিজ প্লিজ।ছোট সাহেব রাজি হয়ে গেলেন।পুষ্পিতা বলতে লাগল,,,,
.
—— আমি চুস করে দিচ্ছি।
.
.
.
পুষ্পিতা একে একে আমার সামনে ধরছে।আর ছোট সাহেবকে ইশারা দিয়ে জিজ্ঞাসা করছে কেমন??ছোট সাহেবও ইশারা দিয়ে বলছেন ভালো না।
.
একে একে অনেক গুলো দেখালো।একটাও ভালো লাগলো না উনার।এর পরেরটা উনার ভালো লাগল।পুষ্পিতাকে ইশারা দিয়ে বলল এইটা মানাবে।তখনই পুষ্পিতা বলে উঠল,,,,,,,
.
—— এইটা ছোট ভাবিকে বেশ মানাবে কালকের জন্য।
—— থেংকস পুষ্পিতা তুমি আমার প্লবলেম সল্ভ করে দিয়েছ।
—— আমায় থেংকস না বলে ছোট ভাইয়াকে বল।(বিড়বিড়িয়ে)
—— কিছু কি বললে পুষ্পিতা???
—— না না কিছু না।ওয়েলকাম।
—— এইগুলো যত্ন করে রেখে দাও।আমি এখন যাই নিচে।
—— আমিও নিচে গেলাম কাজ আছে আমার একটা।
.
.
আমি পুষ্পিতার ঘর থেকে বের হলাম।নিচে নামতে যাব ঠিক ওইসময় ছোট সাহেব বলে উঠলেন,,,,,
.
—— ঘরে ওইটার জন্য রাগ করিস না রে??আমি ইচ্ছে করে করতে চাইনি।আমায় খারাপ ভাবিস না।
—— আমি আপনাকে কোনদিনই খারাপ ভাবি না ছোট সাহেব।কেন না আমি আপনাকে,,,,,
—— তুই আমাকে কি???
—— আমি বলতে পারব না।
.
আমি একটা দৌড় দিলাম।আমি যে উনাকে ভালোবাসি এই কথাটা বলার সাহস নেই আমার।
.
.
.
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here