তোমার_মাঝে_আমি🌸❤ [I_Am_In_You] #লেখিকা_আয়েশা (কোয়েল) #পর্ব_১৪,১৫,১৬ ।

0
81

#তোমার_মাঝে_আমি🌸❤ [I_Am_In_You]
#লেখিকা_আয়েশা (কোয়েল)
#পর্ব_১৪,১৫,১৬



আহিল বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে আর আয়েশা আহিলের বুকে মাথা দিয়ে রয়েছে,,,আহিল এক হাতে আয়েশা কে জড়িয়ে রেখেছে,,আহিল কিছুক্ষণ পর বলে উঠলো,,

আহিল: আ’ম সরি আয়ু!!

আয়েশা কিছু বললো না চুপ করেই রইলো সেটা দেখে আহিল বললো,,,

আহিল: আয়ু ট্রাস্ট মি আমি জানতাম না গত রাতে রিয়া আমার সাথে কি কি করেছে তাই জন্য তুমি যখন ওর সাথে মিসবিহেভ করলে এতটা রিয়াক্ট করেছি,,,ও আমার ড্রিংক এ ড্রাগস মিশিয়ে দিয়েছিল তাই আমার কিচ্ছু মনে নেই,,

আয়েশা: ড্রাগস??? (আহিলের বুক থেকে মাথা তুলে আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিল: হমম জ্যাক আমার ড্রিংক টা টেস্ট করাতে দিয়েছিল,,,রিপোর্টে এটাই এসেছে,,প্লিজ আ’ম সরি

আয়েশা: হমম,,আহিল আমিও আপনাকে কিছু ব…(আয়েশার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে দিলো)

আহিল: “তুমি” আপনি নয়,,,

আয়েশা: আহিল,,ঋক আম…(বলতে পারলো না)

আয়েশা কথা শেষ করবে তার আগেই আয়েশার ফোন বেজে উঠলো,,,আয়েশা ফোন টা হাতে নিতেই ভয়ে ভয়ে আহিলের দিকে তাকালো আর আহিল জিজ্ঞেস করলো,,

আহিল: কে ফোন করেছে??

আয়েশা: দ..দা..দা ভাই (ভয়ে ভয়ে)

আহিল: হম রিসিভ করো,,

আয়েশা: রিসিভ করবো??

আহিল: হমম রিসিভ করো নাহলে ফোন টা কেটে যাবে,,

আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে ফোন টা রিসিভ করে,,

আয়েশা: হ্যালো,,,

——

আয়েশা: কিহহহহহ????

——

আয়েশার হাত থেকে ফোন টা পরে যেতেই আহিল জিজ্ঞেস করলো

আহিল: কি হয়েছে?? কি বললো অঙ্কুর??

আয়েশা কিছু না বলেই কাঁদছে,,,আয়েশার চোখ মুখ দেখেই আহিল বুঝেছে কিছু একটা হয়েছে,,আহিল আবার জিজ্ঞেস করলো,,

আহিল: আয়ু কি হয়েছে বলবে তো আমায়?? (আয়েশা কে ঝাঁকিয়ে)

আয়েশা: দ..দা..দা ভ..ভাই

আহিল: কি হয়েছে অঙ্কুরের??

আয়েশা: গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে,,

আহিল: ওয়াট!!!???

আয়েশা কান্নায় ভেঙ্গে পরলো আর আহিল ও কিছুটা স্তব্ধ হয়ে রইলো পরক্ষণেই নিজেকে স্বাভাবিক করে আয়েশা কে বললো,,

আহিল: আয়ু!! আয়ু শক্ত হতে হবে তোমায়,,কিছু হবে না অঙ্কুরের তুমি বলো কোন নার্সিংহোমে আছে অঙ্কুর??

আয়েশা: ফো..ফোন টা ব..বাবা করেছ..ছিলো বা..বাবা বললো ****** নার্সিংহোমে রয়েছে

আহিল: রেডি হয়ে নাও আমরা এক্ষুনি বেড়াবো,,,

আহিল রেডি হতে চলে গেলো,,এদিকে আয়েশা ও নিজেকে শক্ত করে রেডি হয়ে নিলো,,,কিন্তু আয়েশার চোখের জল কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না,,আহিল রেডি হয়ে দেখলো আয়েশা এখন ও কাঁদছে,,

আহিল: আয়ু প্লিজ কেঁদো না,,,আমি তো বললাম কিচ্ছু হবে না অঙ্কুরের,,,সব ঠিক হয়ে যাবে,,আর এখন মা কে কিছু জানাতে হবে না নাহলে টেনশন করবে,,আরু কে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কল করে জানিয়ে দেবো,,

আয়েশা প্রতিউত্তরে শুধু মাথা নাড়ল আর আহিল আয়েশার চোখের জল টা মুছিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলো আয়েশা কে নিয়ে,,,

ইন নার্সিংহোম…………….

আয়েশা আর আহিল নার্সিংহোমে এসে রিসেপশনে গিয়ে অঙ্কুরের নাম বলতেই রিসেপশনিস্ট আই.সি.ইউ. তে যেতে বলে দেয় আর ওরা সেই ফ্লোরে চলে যায়,,,অঙ্কুরের আই.সি.ইউ. র সামনে যেতেই দেখে আয়েশার বাবা ডাক্তারের সাথে কথা বলছে আর আয়েশার মা চেয়ারে বসে কাঁদছে,,,আয়েশা গিয়ে ওর মায়ের পাশে বসলো আর আহিল ও হাঁটু গেড়ে বসলো আয়েশার মায়ের সামনে আর হাত দুটো ধরলো,,,

আয়েশার মা: আহিল,,আহিল বাবা দেখো না আমার অঙ্কুর,,(বলেই কাঁদতে লাগলেন)

আহিল: আমি আছি তো মাম,,,তুমি তোমার এই ছেলে কে বিশ্বাস করো তো?? কিচ্ছু হবে না অঙ্কুরের,,

আয়েশার মা: হমমম

ডাক্তার: দেখুন,,আপনার ছেলে তো মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছে তাই আমাদের অপারেশন করতে হবে,,,আর আপ্নাদের এর জন্য রিসেপশনে টাকা জমা করতে হবে,,

আয়েশার বাবা: কতো টাকা লাগবে??

ডাক্তার: ৫ লাখ,,

আয়েশার বাবা: এতো টাকা!!

আহিল পাশ থেকে শুনতে পেলো আয়েশার বাবা কে ডাক্তার টাকার ব্যাপারে কিছু একটা বলছে,,,আহিল দ্রুত উঠে ডাক্তারের সামনে দাঁড়াতেই ডাক্তার বললো,,,

ডাক্তার: আরে স্যার আপনি?? আপনি এখানে কেনো আপনার কি কোনো পেশেন্ট এডমিট আছে নাকি তাহলে আমরা দ্রুত চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করবো,,,

আহিল: হমম,,এই কেবিনে যে আছে তার চিকিৎসায় জানো কোনো কমতি না থাকে,,

ডাক্তার: কে হয় ওনি আপনার??

আহিল: বেস্ট ফ্রেন্ড,,,আমার ভাইয়ের থেকে কোনো অংশে কম নয়,,,তাই টাকার কোনো চিন্তা আপনাদের করতে হবে না,,আমি ওকে সুস্থ দেখতে চাই,,

আয়েশা অবাক,,আহিল আয়েশাকে এতো কিছু বলেছিল ওর পরিবারের ব্যপারে আর এখন নিজেই ছুটে এসেছে,,,আয়েশা জানে বরাবরই ওর মা আহিল কে ভালোবাসে বিশ্বাস করে,,,কোনো খারাপ কিছু কখনো মানতে রাজি হয় না আহিলের ব্যাপারে,,,এখন যদি বিয়ের রাতের ঘটনা জানে বা আহিল কীভাবে ওকে বিয়ে করেছে এটা জানে তাহলে হয়তো অনেক কষ্ট পাবে,,,আয়েশা চুপ করেই রইলো,,কারণ আহিলের চরিত্র টা আয়েশার বোধগম্য হচ্ছে না,,,আহিল মাঝে মধ্যে ওকে কাছে টেনে নিচ্ছে আবার কিছু একটা কারণে পরক্ষণেই ওকে দুরে সরিয়ে দিচ্ছে,,এমন কি গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছে আহিল,,

আয়েশা: কিছু একটা কারণ তো আছেই যার কারণে আহিল এমন করছে,,,ঋক ও ওভাবে মিথ্যে বললো আর রিয়া ও সেই দিনেই আহিলের সাথে ওমন করলো,,,এগুলো কি নেহাতই কাকতালীয় নাকি এর ভিতরে কোনো সংযোগ আছে?? দা ভাই তো খুব ভালো ভাবে ড্রাইভ করে তাহলে আজ হঠাৎ করে কি করে অ্যাক্সিডেন্ট করলো?? কিছু বুঝতে পারছি না আমি,,,কিচ্ছু না (মনে মনে)

আরোহী আর জ্যাক ও এসে গেছে ইতিমধ্যে,,আরোহী আয়েশার মার অপর দিকে বসলো আর জ্যাক গিয়ে আহিলের পাশে দাঁড়ালো,,কিছুক্ষণ পরেই ডাক্তার বেরিয়ে এলো আর বললো,,,

ডাক্তার: চিন্তা বা ভয়ের কিছু নেই,,উনি এখন বিপদ মুক্ত,,আপনারা শুধু ওনার মেডিসিন গুলো এনে দেবেন যা আপনাদের নার্স দিয়ে দেবে,,

আহিল: আমরা ওকে দেখতে যেতে পারি??

ডাক্তার: হ্যাঁ আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই ওনাকে কেবিনে শিফ্ট করে দেবো,,আপনারা দেখে আসবেন,,

ডাক্তার চলে যেতেই নার্স এসে বললো

নার্স: পেশেন্টর জন্য এই ওষুধ গুলো এনে দেবেন প্লিজ,,

জ্যাক: হম আমি যাচ্ছি,,(প্রেসক্রিপশন টা নিয়ে)

আহিল: তুই কেনো যাবি তুই থাক আমি যাচ্ছি,,

জ্যাক: আরেহ না না এখন এখানে সবার তোকে প্রয়োজন তুই থাক আমি নিয়ে আসছি,,

জ্যাক বেরিয়ে গেলো আর আহিল গিয়ে আয়েশার পাশে বসলো,,,অন্যদিকে আয়েশার মা বাবার পাশে আরোহী বসে আছে,,আয়েশা একমনে কিছু একটা ভাবছে বসে বসে,,

আয়েশা: বাবা মা এতটা স্বাভাবিক কি করে রয়েছে আহিল কে দেখে,,,সেইদিন তো দা ভাই মারতে গেছিলো আহিল কে আর বাবা ও প্রচন্ড রেগে ছিল বলে মনে হয়েছে,,তাহলে আজ কেনো কোনো প্রতিক্রিয়া নেই বাবার মধ্যে?? (মনে মনে)

আয়েশার ভাবনায় ছেদ পরলো কাঁধে আহিলের স্পর্শে,,,আয়েশা নিজের চোখের জল মুছে নিলো আর আহিল বললো,,

আহিল: কি ভাবছো এতো?? অঙ্কুর তো সুস্থ হয়ে যাবে এবার,,বিপদমুক্ত ও এখন,,

আয়েশা: কিছু না,,

আরোহী: ভাইয়া!! বৌমনি বা তোর কাওর তো কিছু খাওয়া হয়নি সকাল থেকে,,আমি কিছু নিয়ে আসছি (আহিলদের কাছে এসে)

আহিল: একা যাবি কেনো?? আমি যাচ্ছি চল,,

আরোহী: আচ্ছা আয় আমি এগোচ্ছি,,

আরোহী এগিয়ে গেলো আর আহিল আয়েশা কে বলে আরোহীর পিছনে চলে গেলো,,আরোহী বাইরে বেরিয়ে দেখলো জ্যাক আসছে,,আর ওর দিকে তাকিয়ে ইশারা করছে যে

জ্যাক: তুমি বাইরে কেনো?? (ইশারায়)

আরোহী উত্তর দিতে যাবে তার আগেই আরোহীর মুখে আতঙ্কের একটা ছাঁপ পরে গেলো,,,আরোহী ছুটে গেলো জ্যাকের দিকে,,,আহিল বাইরে আসতেই দেখলো আরোহী ছুটে যাচ্ছে,,সামনে তাকাতে দেখলো জ্যাকের দিকে ছুটে যাচ্ছে আর এদিকে জ্যাক আরোহী কে নিজের দিকে ছুটে আসতে দেখে অবাক হয়ে পাশে তাকাতেই একটা গুলির আওয়াজ হলো,,,আহিল চিৎকার দিয়ে উঠলো,,,

আহিল: আরু!!!!!! জ্যাক!!!!!!

পুরো রাস্তা নির্জন হয়ে গেলো,,,গুলির আওয়াজে কয়েকটা পাখি উড়ে গেলো আর কিচির মিচির শব্দ পাওয়ার পর সব স্তব্ধ হয়ে গেছে,,,আহিল নিজের জায়গায় মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে,,

আহিল এগিয়ে যেতেই দেখলো আরোহী কে নিয়ে জ্যাক উঠে দাঁড়াচ্ছে,,আহিল ওদের দিকে তাকানোর পরই সেইদিকে তাকালো যেদিক থেকে গুলি টা করা হয়েছে,,,আহিল দেখলো একটা গাড়ি সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে গেলো,,গাড়ির কাঁচ কালো হওয়ায় কিছু দেখতে পেলো না আহিল কিন্তু এটা ঠিকই বুঝতে পেরেছে গুলি টা ওখান থেকেই করা হয়েছে,,

আহিল: জ্যাক ঠিক আছিস তুই??

জ্যাক: আমি তো ঠিক আছি বাট আরু,,

আরোহী: আরে আমি ঠিক আছি কিছু হয়নি আমার,,

জ্যাক: তোমার হাতে যে ছিলে গেছে সেটা আমি দেখতে পাচ্ছি,,

আহিল: ফেরত চল,,,ব্যান্ডেজ করতে হবে,,

আহিল আরোহী আর জ্যাক ফেরত চলে গেলো নার্সিংহোমে,,সেখানে একটা কেবিনে আরোহী জ্যাক আর আরোহী রয়েছে,,আয়েশা বা কাওকে এখনো কিছু জানায়নি আহিল,,,আরোহী কে আহিল জিজ্ঞেস করলো,,

আহিল: এবার বল কি করে হলো এগুলো,,কি দেখেছিলি তুই??

আরোহী: আমি জ্যাক কে দেখতেই ওর পাশের দিকে আমার চোখ যায় আর আমি দেখি একটা কালো গাড়ির জানলা থেকে একটা লোক বন্দুক তাক করে রেখেছে জ্যাকের দিকে,,,জ্যাক কে কিছু বলতে গেলে হয়তো লোক টা গুলি করে দিত তাই আমি নিজেই ছুটে যাই,,,

জ্যাক: তুই কি দেখেছিস গাড়ি টাকে (আহিল কে উদ্দেশ্য করে)

আহিল: হম গাড়ি টা পুরো কালো ছিলো আর গ্লাস টাও কালো,,আমি যখন তাকিয়েছি তখন গ্লাস টা উঠে যায় আর আমি ভিতরের কিছুই দেখতে পাইনা,,

জ্যাক: হমম,,

আরোহী: আমাদের এখন যাওয়া উচিত,,অঙ্কুর দার হয়তো জ্ঞান ফিরেছে,,

আহিল: হম আমি যাচ্ছি তুই এখানেই রেস্ট কর,,আর জ্যাক (জ্যাক কে উদ্দেশ্য করে) তুই আরুর সাথেই থাক,,আর আমি না আসা পর্যন্ত তুই কোথাও যাবি না,,

আহিল অঙ্কুরের কেবিনের সামনে চলে গেলো আর কেবিনে ঢুকে দেখলো………………

[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤[I_Am_In_You]
#লেখিকা_আয়েশা (কোয়েল)
#পর্ব_১৫



আহিল অঙ্কুরের কেবিনের সামনে চলে গেলো আর কেবিনে ঢুকে দেখলো…অঙ্কুরের জ্ঞান ফিরেছে,,অঙ্কুরের মাথায় ব্যান্ডেজ করা আর আধশোয়া হয়ে বসে আছে,,,এক পাশে আয়েশার মা ও আরেক পাশে আয়েশা বসে রয়েছে,,,আয়েশার মা এখন আর অতটা কাঁদছে না কিন্তু আয়েশা অঙ্কুরের হাত নিজের মুখের সামনে ধরে কাঁদছে,,,

অঙ্কুর: উফফ বোন অনেক তো কাঁদলি আর কতো কাঁদবি বল তো?? তুই তো এতো ছিঁচ কাদুনি ছিলিস না,,কবে হলি 🤔🤔

আয়েশা: একদম চুপ!! তুই ভীষণ বাজে,,কে বলেছে ওরমভাবে ড্রাইভ করতে,,,অন্ধ কোথাকার,,😤😤

অঙ্কুর: আমি মোটেও অন্ধ নই বুঝলি,,😒😒

আয়েশা: আমিও ছিঁচ কাদুনি নই বুঝলি,,😒😒

আহিল: ছিঁচ কাদুনি না ঝগড়ুটি হবে ওটা,,(পিছন থেকে)😏😏

অঙ্কুর আহিলের দিকে তাকিয়ে একবার নিজের বাবার দিকে তাকালো তারপর আবার আহিলের দিকে তাকালো আর বললো,,

অঙ্কুর: রাইট!😆😆

আয়েশা পিছনে ঘুরে আহিলের দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই আহিল রূমে ঢুকে এসে অঙ্কুরের পাশে দাঁড়ালো আর আয়েশার মা কে বললো,,

আহিল: দেখেছো মাম! কীভাবে শাঁকচুন্নির মতো তাকাচ্ছে আমার দিকে,,😬😬

আয়েশা: কিইইইইইই!?😡🤬

আহিল আর অঙ্কুর : কান টা গেলো রে (দুজনে একসাথে কানে হাত দিয়ে)😵😵

আয়েশা ওদের দুজনকে দেখে হেসে দিলো আর সঙ্গে সবাই,,,আহিল আর অঙ্কুর কান থেকে হাত নামিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো,,কিছুক্ষণ কথা বলার পর আহিল বললো,,

আহিল: এবার আমাদের যাওয়া উচিত,,অঙ্কুরের ও তো রেস্টের প্রয়োজন,,

আয়েশার বাবা: হম ঠিক কথা,,আমরা বরং আবার কালকে আসবো ওকে দেখতে,,

আয়েশা: দা ভাই কে ডিসচার্জ কবে করবে??

আহিল: সাত দিন তো এখানে থাকতে হবেই,,তারপর ডিসচার্জ করে দেবে

আয়েশার মা: আচ্ছা আহিল আরোহী আর তোমার ঐ ফ্রেন্ড টা কোথায়??

আহিল: আব,,ওরা কালকে আসবে দেখা করতে,,আসলে মম বাড়িতে একা আছে আর আমার সবাই এভাবে একসাথে বেরিয়ে এসেছি,,চিন্তা করবে বলে আরোহী আর জ্যাক কে আমি পাঠিয়ে দিয়েছি,,

আয়েশা: ভালোই করেছে মা,,আচ্ছা চলো এবার যাওয়া যাক (নিজের মা কে উদ্দেশ্য করে)

আয়েশা নিজের মা কে নিয়ে উঠে গেলো আর অঙ্কুর কে আসছি বলে বেরিয়ে যেতে লাগলো,,আয়েশার বাবা ও বেরিয়ে গেলো,,আহিল ও বেরতে যাবে ঠিক তখনই অঙ্কুর আহিলের হাত টা ধরলো,,অঙ্কুরের হাতে সেলাইন লাগানো যার জন্য অঙ্কুর হাত টা তুলতে পারেনি,,,হাত টা নীচে থাকা অবস্থাতেই আহিলের হাতের তালু স্পর্শ করেছে,,আহিল অঙ্কুরের দিকে ঘুরে তাকিয়ে অঙ্কুরের হাত টা শক্ত করে ধরলো আর অঙ্কুর আহিলের হাতের ওপর অন্য একটা হাত রাখতেই আহিল কিছুটা কপাল কুঁচকালো,,পরক্ষণেই আহিল চোখ বন্ধ করে অঙ্কুরের হাতের ওপর নিজের অপর হাত রেখে আশ্বাস দিয়ে বেরিয়ে গেলো,,,আর অঙ্কুর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো,,

আহিল আয়েশা বাড়ি ফিরে আহিলের মা কে সব খুলে বললো,,প্রথমে চিন্তিত হলেও পরে অঙ্কুরের সুস্থতার খবর পেয়ে কিছুটা হলে ও নিশ্চিন্ত হয়েছেন,,এরপর আহিল আয়েশা নিজের রূমে চলে যায়,,কিন্তু আহিল আরোহী আর জ্যাক সবার থেকে সকালের ঘটনাটা লুকিয়ে যায়,,এইভাবেই সেই দিন টা কেটে যায়,,

🍁🍁 কিছুদিন পর 🍁🍁

আয়েশা কলেজ যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে,,নিজে রেডি হওয়ার এর সাথে সাথে নিজের মন কেও রেডি করছে আয়েশা,,,এই কয়েকদিন আহিলের সাথে আয়েশার কোনো ভুল বোঝা বুঝি হয়নি বরং দিন গুলো মজা খুনসুটি এসব দিয়ে কেটেছে,,,কিন্তু এসবের মাঝে আয়েশার মাথায় ঋকের প্রসঙ্গ টা রয়েই গেছে,,আয়েশা শুধু মনে মনে চেয়েছে ওর দাদা জানো সুস্থ হয়ে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরুক,,,সেই বাসনা আয়েশার পুর্ণ হয়েছে গতকাল,,গতকাল অঙ্কুর বাড়ি ফিরেছে আর আয়েশা আজকে কলেজ থেকে সিধে নিজের বাড়ি যাবে বলে ঠিক করেছে,,তাই নিজেকে তৈরি করছে সত্যর মুখো মুখি হবার জন্য কারণ আয়েশা জানে এসবের পিছনে কিছু না কিছু তো লুকিয়ে আছেই,,এর মধ্যে আবার গতকাল থেকে আহিল কেও কেমন চিন্তিত লাগছে আয়েশার,,,তেমন কোনো কথা বলছে না সারাক্ষণ কিছু না কিছু ভেবে চলেছে,,

আয়েশা: আহিলের হঠাৎ কি হলো?? আহিল তো এ কয়েকদিন বেশ ভালোই ছিলো,,গতকাল অফিস থেকে ফিরেই কেমন জানো চুপ চাপ হয়ে গেলো,,আমি সামনে গেলেই আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে ঠিক করে তাকাচ্ছে পর্যন্ত না কথা তো দুরের কথা,,ধুর! আর ভালো লাগছে না আগে আজকে দা ভাই আর বাবার সাথে ঋকের ব্যাপারে তারপর আহিল কে ঋকের ব্যাপারে জানাবো,,,ওকে তো জানানোই হয়নি,, [মনে মনে]

আয়েশা রেডি হয়ে নীচে নেমে গেলো,,ড্রয়িং রূমে এসেই দেখলো কেউ কোথাও নেই রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে,,আয়েশা রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো আহিলের মা কাজ করছে,,আয়েশা জিজ্ঞেস করলো,,

আয়েশা: মা,,আহিল কোথায়??

আহিলের মা: ওমা সে কি আহিল তোকে বলে যায়নি?? আহিল তো অফিস চলে গেছে ওর নাকি একটা ইম্পরট্যান্ট কল এসেছিল তাই,,আমি তো ভাবলাম তোকে বলে গেছে [শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে]

আয়েশা: ও আর কি বলবে মা,,কে বা হই আমি ওর যে আমায় বলবে,,যখন ইচ্ছে হয় কথা বলে আর যখন ইচ্ছে হয় না বলে না [মনে মনে]

আহিলের মা আয়েশার উত্তর না পেয়ে ওকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,,

আহিলের মা: কি হলো চুপ করে রইলি যে??

আয়েশা: আব,,ন..না কিছু না,,আমি আসছি মা আমার লেট হয়ে যাবে কলেজে,,

আহিলের মা: টিফিন তো নিয়ে যা

আয়েশা: ক্যান্টিনে খেয়ে নেবো [বলতে বলতেই বেরিয়ে গেলো]

আহিলের মা: যাহ! চলে গেলো,,কিসের যে এতো তাড়া এদের কে জানে,,

আয়েশা কলেজ চলে এলো নিজের ইম্পরট্যান্ট ক্লাস গুলো করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে ভাবলো

আয়েশা: যাক! ম্যাম আসেনি তাই পরের ক্লাস টা হবে না,,আমি বরং এক্ষুনি বেরিয়ে যাই তাহলে তারাতাড়ি ফিরতেও পারবো,,

এটা ভাবতে না ভাবতেই আয়েশার ফোনে কল এলো,,আয়েশা ব্যাগ থেকে ফোন টা বের করে দেখলো আননোন নাম্বার,,আয়েশা রিসিভ করতেই বললো,,

আয়েশা: হ্যালো??

অপর প্রান্ত: আপনি আহিলের ওয়াইফ?? [ছেলে কন্ঠ]

আয়েশা: হ্যাঁ কিন্তু আপনি কে??

অপর প্রান্ত: আমি কে সেটা না জানলেও চলবে,,স্বামী সুস্থ দেখতে চাইলে আহিলের অফিসে চলে যান,,রাইট নাও

আয়েশা: কিন্তু কে….

টুট টুট টুট…..

আয়েশা: কে ফোন করেছিল এটা,,গলার কণ্ঠ টাও তো চেনা চেনা লাগলো,,,আহিল!! আহিকের কি কোনো ক্ষতি হতে চলেছে?? নাহ!!

আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ থেকে বেরিয়ে একটা ট্যাক্সি ডাকলো আর আহিলের অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো,,,

আয়েশা ট্যাক্সি থেকে নেমে কোনমতে টাকা দিয়ে আহিলের অফিসের ভিতরে ছুটে ঢুকে পরলো,,,ওখানে গিয়ে আহিলের কেবিন কোনটা জিজ্ঞেস করতেই আয়েশা কে ওখানকার স্টাফরা বলে দিলো,,,কিন্তু আয়েশা আহিলের কেবিনের সামনে আসতেই গার্ড বাধা দিলো আয়েশা কে,,

গার্ড: স্যার ভিতরে জরুরি মিটিংয়ে আছেন,,আপনি এখন যেতে পারবেন না

আয়েশা: আমি ওনার ওয়াইফ,,যেতে দিন আমায়

গার্ড: কিন্তু স্যার কাওকে ঢুকতে দিতে বারণ করেছেন,,,

আয়েশা: আমি তো বললাম আমি ওনার ওয়াইফ,,আমাকে ভিতরে যেতে দিন

আয়েশা ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকতেই যা দেখলো তাতে অবাক হয়ে গেলো,,নিজের অজান্তেই আয়েশার চোখে জল চলে আসলো,,,আসবে নাই বা কেনো যেই দৃশ্য আয়েশা দেখছে এবং কথা গুলো আয়েশা শুনছে তাতে তো এমনটাই হবে,,,আয়েশা নিজের চোখ ও কান দুটোকেই বিশ্বাস করতে পারছে না কারণ সামনে,,,

আহিল আর রিয়া একে অপরের অনেক ক্লোস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,রিয়া তো পুরো আহিলের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে আছে আর আহিলের শার্ট এর বোতাম নাড়া চাড়া করছে এবং হাসছে,,আর আহিল রিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে রয়েছে এবং মুচকি হেসে কথা বলছে,,

আহিল: রিয়া প্লিজ য়ার তুই ও না,,ঐ মিডল ক্লাস আয়েশার কথায় রেগে যাচ্ছিস,,তোর মনে হয় আমি আই মিন এই আহিল ওর মতো একটা মিডল ক্লাস মেয়েকে ভালোবাসবে?? হাহ! কোথায় আমেরিকার ফার্স্ট ক্লাস মেয়েরা,,আর কোথায় ও?? ইভেন তোর মতো একটা মডেল,,বিউটিফুল,,স্মার্ট মেয়েকে ছেড়ে আমি ঐ ওল্ড ফ্যাশন,,ব্যাকডিডেড আয়েশা কে ভালোবাসবো,,নো ওয়ে,,বউয়ের মতই থাকুক ওকে নিয়ে নাহ ওকে নিয়ে তো আর আমি রাস্তায় বেরোচ্ছি না,,,

রিয়া: ওহ রিয়েলি তুই ওকে ভালোবাসিস না??

আহিল: নট এট অল,,ঐ সব মেয়েরা আমার যোগ্য নয়,,

আয়েশা: বাহ! আহিল বাহ! [পিছন থেকে হাত তালি দিতে দিতে]

আয়েশার কন্ঠ স্বর শুনে আহিল আর রিয়া দুজনেই ওর দিকে তাকালো,,এতক্ষণ আহিল আর রিয়া এতটাই নিজেদের মধ্যে মত্ত ছিলো যে আয়েশার উপস্থিতি টের পায়নি,,

আয়েশা: এতটাই যখন অপছন্দ তখন আগেই বলে দিতে,,অন্তত মিথ্যে আশা নিয়ে বাঁচতাম না যে তুমি আমাকে ভালোবাসো,,,এতদিন তো আমায় ফ্রড বলে ছিলে আজ তো নিজেই ফ্রড হয়ে গেলে,,

আহিল: জাস্ট শাট আপ!! তোর কোনো অকাদ নেই আমার মুখের উপর কথা বলার,,ঐ তো মিডল ক্লাস ফ্যামিলি বিলং করিস তার আবার এতো বড়ো কথা,,,আরে তোর দাদার ট্রিটমেন্টহতো না যদি না আমি টাকা দিতাম,,,সেই তো আমার দয়ায় তোর দাদা বাঁচল আর তুইও আমার দয়াতেই খাচ্ছিস পড়ছিস ঘুরে বেড়াচ্ছিস,,,

আয়েশা: দয়ার কোনো দরকার ছিলো না আমার,,ভেবেছিলাম তুমি ভালোবেসে সাহায্য করেছিলাম কিন্তু আমি ভুল ছিলাম,,আর কোনদিন দয়া দেখাতে হবে না তোমায়,,কারণ তোমার লাইফে আর আমি থাকবো না,,

আহিল: বেঁচে যাবো আমি,,,

আহিলের শেষের কথাটা শুনে আয়েশা আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না ছুটে বেরিয়ে গেলো কাঁদতে কাঁদতে,,আর আহিল বললো,,

আহিল: আপদ বিদায় হলো এতদিনে,,,

আয়েশা রাস্তা দিয়ে হেঁটেই নিজেদের বাড়ি চলে গেলো,,,আহিলের বাড়ি তে কোন পরিচয়ে যাবে?? স্ত্রী পরিচয়ে?? হাহ! আহিল তো ওকে স্ত্রী হিসাবে মানেই না,,,যেখানে আহিলের উপর অধিকার নেই সেখানে ওর বাড়িতে কি করে থাকবে,,আয়েশা এসব ভাবতে ভাবতেই উপস্থিত হলো নিজের বাড়িতে,,,অবাক হলো কিছুটা কারণ সদর দরজা খোলা,,,আয়েশা ভিতরে প্রবেশ করতেই আতকে উঠলো কারণ সামনে………………….

,
[ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [I_Am_In_You]
#লেখিকা_আয়েশা (কোয়েল)
#পর্ব_১৬



আয়েশা রাস্তা দিয়ে হেঁটেই নিজেদের বাড়ি চলে গেলো,,,আহিলের বাড়ি তে কোন পরিচয়ে যাবে?? স্ত্রী পরিচয়ে?? হাহ! আহিল তো ওকে স্ত্রী হিসাবে মানেই না,,,যেখানে আহিলের উপর অধিকার নেই সেখানে ওর বাড়িতে কি করে থাকবে,,আয়েশা এসব ভাবতে ভাবতেই উপস্থিত হলো নিজের বাড়িতে,,,অবাক হলো কিছুটা কারণ সদর দরজা খোলা,,,আয়েশা ভিতরে প্রবেশ করতেই আতকে উঠলো কারণ সামনে,,,,

কালো জামা পরিহিত কিছু লোক অচৈতন্য অবস্থায় পরে আছে,,আয়েশা ভয়ে ভয়ে এক ঢোঁক গিলে এগিয়ে যেতেই দেখলো আয়েশার বাবা আর দাদা সোফায় বসে আছে,,আয়েশা কে দেখেই বললো,,

অঙ্কুর: তুই এসে পড়েছিস??

আয়েশা: এমন ভাবে বলছিস জানো আমারই অপেক্ষা করছিলিস??

আয়েশার বাবা: হম আমরা তোর অপেক্ষাই করছিলাম,,

অঙ্কুর গিয়ে আয়েশা কে ভিতরে নিয়ে এলো আর দরজা টা বন্ধ করে দিলো,,,আয়েশা বললো,,

আয়েশা: কি হচ্ছে এসব?? দরজা কেনো বন্ধ করছিস আর এরা কারা??

অঙ্কুর: ঋকের লোক,,

আয়েশা: কিহহ??

আয়েশার বাবা: হম,,এখনো অনেক কিছু এমন আছে যা তোর জানা বাকি,,

অঙ্কুর: আগের দিন আহিল জেনেছে আজ তুই জানবি,,

আয়েশা: আহিলের নাম আমি আর শুনতে চাই না ও আমায় না ও রি..

অঙ্কুর: রিয়া কে ভালোবাসে,,

আয়েশা: তুই জানিস সেটা?? কিন্তু কি করে??

অঙ্কুর: শুরু থেকে শোন,,আজ পর্যন্ত যা যা প্রশ্ন তোর মনে আছে সব কিছুর উত্তর পেয়ে যাবি,,

— আমি যখন নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলাম তখন তোরা দেখা করতে গেছিলি,,প্রথম দিন যেদিন তোরা কথা বলা শেষে বেরিয়ে গেলি তখন আমি আহিলের হাত ধরি আর ওর হাতে একটা কাগজ দি যেটা বাবা আমাকে আহিল আসা মাত্রই দিয়েছিল,,,ঐ কাগজ টা আহিল পরে দেখে,,সেখানে লেখা ছিলো

” আমি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে দেখা করবি আমার সাথে,,আমি ফোন করবো,,এখন কাওকে কিচ্ছু জানাবি না,,আয়েশা কেও না ”

— আমি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলাম আর তারপর,,,

💫💫 ফ্লাশব্যাক 💫💫

আহিল অঙ্কুরের ফোন পেয়ে আয়েশা দের বাড়ি যেতেই দেখলো সদর দরজা খোলা,,আহিল ভিতরে ঢুকে দেখলো এদিক ওদিকে অনেক লোক অজ্ঞান হয়ে পরে আছে,,আহিল জিজ্ঞে করলো,,

আহিল: এরা কারা?? কি করছেন আপনারা এখানে??

অঙ্কুর: এরা আমাদের পাহারাদার আর তোকে সব সত্যি জানানোর চেষ্টা করছি,,

আহিল: পাহারাদার মানে?? আর কিসের সত্যি??

অঙ্কুর: শুরু থেকে সবটা বলার জন্যই তো তোকে ডেকে পাঠানো,,যেই সত্যি টা তুই এতদিন ধরে জানিস না,,

— তুই মনে করিস আয়েশা তোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে,,তোকে ঠকাচ্ছে তাই তো?? আর তার কারণ টা হলো তুই যখন আমেরিকা চলে যাস তখন তোর কাছে কিছু ছবি পাঠানো হয় যাতে দেখা যাচ্ছিল আয়েশা একটা ছেলের সাথে অনেক ঘনিষ্ট হয়ে রয়েছে আর কিছু ভয়েজ যেখানে আয়েশা একটা ছেলেকে আই লাভ ইউ বলেছে,,কি ঠিক বললাম তো??

আহিল: তুই এসব জানলি কি করে??

আয়েশার বাবা: কারণ এই একই জিনিস আমরাও দেখেছি,,

আহিল: মানে??

আয়েশার বাবা: তুমি ছবিতে যে ছেলেটাকে দেখেছো এবং যেই ছেলেটির কন্ঠ শুনেছ সে আমার আপন ভাইয়ের ছেলে,,সম্পর্কে ৬ মাসের বড়ো আয়েশার দাদা,,

আহিল: ওয়াট!!

আয়েশার বাবা: হমম,,আমার ভাইকে আমার বাবা ত্যজপুত্র করেছিলেন ওর কু-কাজ কর্মের জন্য কিন্তু আমি পারিনি ওর সঙ্গে সম্পর্ক ভাংতে তাই আমি ওর সাথে লুকিয়ে সম্পর্ক রাখি,,ওর ছেলেই ঋক,,ছোটবেলায় অঙ্কুর আর আয়েশার সাথে বড়ো হয়েছে,,অঙ্কুর আর আয়েশা কেউই জানতো না ঋকের আসল পরিচয় সম্পর্কে,,,অঙ্কুর ওদের থেকে বড়ো ছিলো তাই ঋকের সাথে অতটা বন্ধুত্ব হয়নি কিন্তু আয়েশা আর ঋকের মধ্যে মাত্র ৬ মাসের গ্যাপ থাকায় ওরা এক ক্লাসে পরে আর আস্তে আস্তে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে ওঠে,,,পরে বড়ো হয়ে যাওয়ার পর সত্যি জানলেও আমি আর ঋক দুজনেই বলি যে ঋক কে দাদা না বলে বেস্ট ফ্রেন্ড বলেই পরিচয় দিতে,,

আহিল: তার মানে সেদিন ঐ ছেলেটা ঋক ছিলো আর এই কথা গুলোই আয়েশা আমাকে বলতে চাইছিল আর আমি শুনলাম না,,

অঙ্কুর: এখানেই শেষ নয় আহিল,,এই যে লোক গুলো কে তুই পরে থাকতে দেখছিস এরা সবাই ঋকের লোক,,,আমরা যাতে তোকে সত্যি টা না বলতে পারি সেই জন্য ওদের কে রেখেছে,,,আজকে মা ওদের চায়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ায় এভাবে পরে আছে,,,আসলে আমি তোকে অনেক আগেই সত্যি টা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি আমার এই অ্যাক্সিডেন্ট টা ঋক প্লান করেই করিয়েছে,,,ঋক খুব ভালো ভাবেই জানতো তুই ওকে চিনিস না তাই তুই আমেরিকা থাকাকালীন ও আয়েশার পিছনে গুন্ডা লাগায়,,,আর ভালো সাজার জন্য নিজেই গিয়ে আয়েশা কে বাঁচায় আর ঐ ছবি গুলো তোলে,,,আয়েশা কে বার বার করে ফোন করে ঋক বলতো ওকে আই লাভ ইউ বলতে যা আমি নিজে শুনেছি,,আয়েশা খালি বলতো কেনো এমন বলছিস,,,ঋকের জোরাজুরি তে বাধ্য হয়ে আয়েশা আই লাভ ইউ বললেও অ্যাস আ বেস্ট ফ্রেন্ড বলতো যেটা ঋক এডিট করে তোকে শুনিয়েছে,,,

আহিল: তুই কি করে জানলি,,,ঋক বলেছে তোকে এগুলো??

অঙ্কুর: হমম তুই আমেরিকা থেকে ফিরে এসে যে এইভাবে আয়েশা কে বিয়ে করে নিবি এটা ঋক ভাবতে পারেনি তাই সেইদিন এসে আমাদের কে এসব বলে দেয় রাগের মাথায়,,

আয়েশার বাবা: বিয়ের পরেরদিন যে আমি আর অঙ্কুর তোমার বাড়ি গেছিলাম সেটাও ঋকের কথায়,,ও বলেছিল আয়েশা কে ফেরত নিয়ে আসতে কিন্তু আমি জানতাম তুমি এতো সহজে আয়েশা কে ছাড়বে না তাই বেশি জোর ও করিনি আমরা,,ঋক প্রচুর রেগে ও গিয়েছিল এই জন্যে,,

অঙ্কুর: ঋক চালাকি করে আমাদের সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছে আহিল,,,সেটা তুই আমেরিকা যাওয়ার পরই,,আমি আনিকার চলে যাওয়ায় ভেঙে পরে ছিলাম আর সেই সময় ও চালাকি টা করে,,

আহিল: ঐ ঋক কে তো আমি দেখে নেবো 😡😡

অঙ্কুর: তুই যে সব জেনে গেছিস এটা জানো কেউ না জানে আহিল,,আয়েশা ও না,,ওকে পরে সব জানাবো,,

আহিল: এখনো অনেক কিছুর হিসাব বাকি অঙ্কুর,,,যা আস্তে আস্তে আমাকে মেলাতে হবে তুই চিন্তা করিস না,,

আহিলের চোখ আয়েশার মায়ের দিকে আর বাবার দিকে গেলো,,,আহিল ধীর পায়ে আয়েশার মায়ের কাছে গিয়ে দু-হাত ধরতেই আয়েশার মা আহিল কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো,,

আহিল: মাম!! প্লিজ মাম তুমি তো জানো তুমি কাঁদলে আমার ভালো লাগে না,,,আমি আছি তো মাম সব ঠিক হয়ে যাবে,,

আয়েশার মা: ঐ ঋক তোকে আমাদের ব্যাপারে ও ভুল বুঝিয়েছে তাই না?? তাই তুই আমাদের সাথে এসে কথা বলিসনি,,,আয়েশা কে ওভাবে বিয়ে করেছিস,,

আহিল কি বা উত্তর দেবে আয়েশার মায়ের প্রশ্নের,,,সত্যি তো আহিল ভুল বুঝেছে,,এমন কি ভুল বুঝে আয়েশার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছে,,একটা কথা শোনেনি আয়েশার,,বিয়ের দিন রাতে ওরম একটা জঘন্য অপরাধ করেছে,,আয়েশার মা কে সামাল দেওয়ার জন্য বললো,,,

আহিল: মাম ওসব কথা বাদ দাও এখন তো আমি সব টা জানি তাই না?? তাহলে তুমি কেনো এতো চিন্তা করছো?? বিশ্বাস করো না আমায়??

আহিলের এ কথা বলতেই আয়েশার বাবা আহিলের কাঁধে হাত রাখলো আর আয়েশার মা বলে উঠলো,,

আয়েশার মা: তোকে বিশ্বাস করবো না এটা হতে পারে?? নিজের থেকে ও বেশি বিশ্বাস করি তোকে,,,তুই ও তো আমার একটা ছেলে,,,

আহিল এসে অঙ্কুর কে জড়িয়ে ধরলো,,,অনেকদিন পর দুই বন্ধু একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো,,,আহিলের ইচ্ছা করছে অঙ্কুর কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে,,আহিলের বুকের ভিতরটা যে ফাত ফাত করে জ্বলে যাচ্ছে,,,আহিল নিজেকে সামলে বললো,,

আহিল: নিজেদের খেয়াল রাখবি,,কালকের মধ্যেই আমি ব্যবস্থা করবো,,চিন্তা করিস না,,

আহিল বেরিয়ে গেলো,,আর চলে এলো বাড়িতে কিন্তু বাড়ি এসে আয়েশার মুখোমুখি হওয়ার সাহস করতে পারেনি,,,বিবেকে বাঁধছে আহিলের তাই আয়েশা সামনে এলেই ওকে এড়িয়ে যাচ্ছে,,রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে আহিল সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াচ্ছে,,,

আহিলের ভিতর টা অনুশোচনার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে,,,আহিল ভাবছে এ কেমন ভালো বেসেছে ও আয়েশা কে যেখানে কোনো বিশ্বাসই নেই,,ভালোবাসায় তো বিশ্বাস শব্দ টাই আসা উচিত না সেখানে আহিল তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে,,একদিকে আহিল নিজের ভালোবাসা কে বিশ্বাস করবে নাকি অবিশ্বাস করবে এই দোটানায় ভুগেছে আর একদিকে আয়েশা এতো কিছুর পর ও আহিল কে ভালোবেসে গেছে,,,এক বাড়িতে রয়ে গেছে বিনা কোনো কথা বলে,,আহিলের মনে প্রশ্ন আসছে,,,সত্যি কি ও আয়েশা কে ভালোবাসে?? ভালোবাসলে এমনটা কি করে করল ও,,,কই আয়েশা তো এমন করেনি,,তার মানে কি আহিল আয়েশা কে কোনদিন ভালোইবাসেনি?? আয়েশা একাই ভালোবেসে এসেছে?? আহিলের ইচ্ছে করছে নিজেকে শেষ করে দিতে কিন্তু ওকে যে এখনো অনেক কিছুর হিসাব মেলাতে হবে,,আয়েশাকে আর আয়েশার ফ্যামিলি কে রক্ষা করতে হবে,,,

এভাবেই কেটে গেলো রাত টা আহিলের,,

☀️☀️ পরেরদিন সকালে ☀️☀️

অঙ্কুর বসেছিল সোফায় আর চারিদিকে গার্ড গুলো ঘোরা ফেরা করছে,,,সে সময় ওর ফোনে আহিলের কল আসে,,,ফোন সাইলেন্ট থাকায় গার্ডরা শুনতে পায়নি,,,অঙ্কুর সঙ্গে সঙ্গে কানে থাকা ব্লুটুথ এ কল টা রিসিভ করলো ” হম ” বলতেই আহিল বলতে শুরু করলো,,,

আহিল: অঙ্কুর!! লিসেন কেয়ারফুলি,,এখন আমি যা যা বলবো তাতে তুই কোনো রিয়াক্ট করবি না জাস্ট চুপচাপ শুনে যাবি,,,

— আমার পি.এ. রিয়া আজকে আমাকে মিথ্যে বলে তারাতাড়ি অফিসে নিয়ে এসেছে,,আসার পর থেকেই আমার সাথে ক্লোস হওয়ার চেষ্টা করছে,,,রিয়া ঋকের সাথে কোনো ভাবে যুক্ত আছে,,,ও প্লান করে আমার ক্লোস হবে আয়েশা কে দেখানোর জন্য,,,আমি ওকে আভয়ড করার জন্য কফি আনতে পাঠিয়েছিলাম তখন দেখলাম কফি না নিয়ে ফোন করে কাওকে একটা বললো এই প্লান টার ব্যাপারে,,,ও এখন কফি আনতে গেছে তাই তোকে সবটা জানলাম,,,আয়েশা এসব দেখে নিশ্চই তোর বাড়িতেই যাবে তুই চিন্তা করিস না গার্ড দের ব্যাপার টা আমি বুঝে নেবো,,,তুই জাস্ট ওকে সব সত্যি টা বলে দিস,,,আমি রাখছি,,,

আহিল কল টা কেটেই ওর গার্ড দের মেসেজ করে দিলো,,,আর রিয়া আসতেই ফোন টা রেখে দিলো,,,

💫💫 ইন প্রেসেন্ট 💫💫

আয়েশা সবটা শুনে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে,,,মনে মনে আয়েশার যা যা প্রশ্ন ছিলো সব কিছুর উত্তর পেয়ে গেছে আয়েশা,,,আয়েশা এবার বুঝতে পারছে যে কেনো ঋক আহিলের থেকে লুকিয়ে বেরিয়েছে,,,

অঙ্কুর: আহিল সবটা নাটক করেছে বোন,,,তুই ওর কথায় রাগ করিস না,,,

আয়েশা: তা বলে ও এভাবে….

আয়েশা কথা শেষ করার আগেই ওর পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে একটা মেয়ে পরলো,,,আয়েশা সেই দেখে পিছিয়ে আসতেই যাকে দেখলো তাকে দেখে বলে উঠলো,,,

আয়েশা: রিয়া!!

[ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🍁]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here