তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ] #লেখিকা_আয়েশা #পর্ব_২+৩+৪

0
107

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_২+৩+৪



আহিল উঠে ঘরে আসতেই বিছানার দিকে তাকালো দেখলো সাদা চাদরে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ,,,এটা দেখেই আহিল হাত মুঠো করে চোখ বন্ধ করে নিলো,,,শুনতে পেল শাওয়ারের আওয়াজ আহিল ভাবলো অনেক্ষন ধরেই তো আয়েশা বাথরুমে তাহলে কি??? ভাবতে না ভাবতেই আহিল ছুটল ওয়াশরূমের দিকে,,,দরজা বন্ধ পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখলো আয়েশা ফ্লোরে সেন্সলেস হয়ে পরে আছে আর জলগুলো রক্ত বর্ন ধারণ করেছে সেই রক্তের উৎস হলো আয়েশার পা,,,আয়েশার পা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে তা জলের সাথে মিশে লাল বর্ন ধারণ করেছে,,,

আহিল আর কোনো কিছু না ভেবে শাওয়ার অফ করলো আর ওয়াশরূমে থাকা বার্থ টাওয়াল টা নিয়ে আয়েশার কাছে এসে আয়েশার গায়ে পেঁচিয়ে দিলো আর যেই ভিজে টাওয়াল টা ছিলো সেটা সরিয়ে দিলো আর কোলে তুলে নিলো আয়েশা কে,,,

ওয়াশরূম থেকে আয়েশা কে কোলে নিয়ে বেরিয়ে আসলো আহিল,,,আয়েশা কে নিয়ে বেডে শুয়ে দিলো আর আয়েশার ড্রেস চেঞ্জ করাতে হবে কথাটা ভেবে সার্ভেন্ট কে ডাকতে গেলে আহিলের চোখ গেলো আয়েশার গলার দিকে হাতের দিকে,,,এসব দেখে আহিলের কিছুক্ষণ আগের ঘটনার কথা মনে পরে গেলো আর হাত টা মুঠ করে ফার্স্ট আন্ড বক্স নিয়ে এলো আর যত্ন সহকারে আয়েশা কে যেখানে কামড়েছে সেই জায়াগায় ওষুধ লাগিয়ে দিতে লাগলো,,,আস্তে করে আহিল নীচে বসলো দেখলো পা এর নীচ টা বেশ ভালই গভীর হয়ে কেটেছে,,,জল পড়ায় রক্ত টা একটু বন্ধ হয়েছে তাই আহিল ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো,,,ব্যান্ডেজ করার সময় আহিলে চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ছিল আর আহিল নাক টানছিলো,,,পায়ে ওষুধ লাগানোর পর আহিল আয়েশার দিকে তাকিয়ে রইলো আর এক হাতে একটা ইঞ্জেকশন নিয়ে সেটা তে ওষুধ নিয়ে আস্তে করে আয়েশার হাতে পুশ করে দিলো,,,ইঞ্জেকশন পুশ করায় আয়েশা একটু কপাল কুঁচকালেও চোখ খুললো না

আহিল আয়েশার মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো

আয়েশা: তোর পরিবার আমার দিদির সাথে যা করেছে আমি সব মেনে নিয়েছি কিছু বলিনি শুধুমাত্র তোর মুখের দিকে তাকিয়ে কারণ আমি তোকে ভালোবাসি,,,নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি কিন্তু তুই কি করে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলি?? তোর পরিবার তোর দাদা যেমন আমার দিদিকে ঠকিয়েছিলো তেমনি তুই ও আমাকে ঠকালি?? আমি তো তোর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম ফার্স্ট অফ অল তারপরেও কি করে….আসলে আমারই ভুল আমার বোঝা উচিত ছিলো তোর গায়ে বিশ্বাসঘাতকের রক্ত বইছে তুই একটা বিশ্বাসঘাতকের বোন,,,তোর দাদা কে নিজের দাদা মনে করতাম ভালবাসতাম আর তোর দাদা কি করলো?? আমার দিদির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে শেষ করে দিয়েছে আমার দিদিটাকে,,,কিন্তু তারপরেও আমি তোকে ভালোবেসেছি ভেবেছি তুই আমাকে ঠকাতে পারিস না কিছুতেই না কিন্তু তুই তো আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিলি এতো জঘন্য অপরাধ করতে বাধ্য করলি আমায়,,,শাস্তি তোকে4পেতে হবে আশু শাস্তি তোকে পেতে হবে,,, — আহিল চোখের জল মুছতে মুছতে চলে গেলো উঠে আর অন্য ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো

🌞

সকালে………………..☀️☀️

আয়েশার চোখে সূর্যের আলো পড়ায় মিটমিট করে তাকালো আয়েশা কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো জায়গা টা কোথায়,,,রাতের কথা মনে পরতেই ধড়ফড় করে উঠে বসলো আর নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো গায়ে বাথটাওয়াল জড়ানো আর তার ওপর চাদর টানা ছিলো,,,আহিলের ব্যবহারের কথা মনে পরে গেলো আয়েশার আর চোখে জল চলে এলো আর নিজের গলায় কামড়ের জাগায় হাত দিতেই আয়েশা কিছুটা অবাক হলো

আয়েশা: কি হলো রাতেই তো আমার গলায় সারা শরীরে (সারা শরীরে হাত ছুইয়ে) অসহ্য যন্ত্রণা করছিল তাহকে সকালে কি করে ঠিক হয়ে যেতে পারে,,,আমার তো এখন একটুও যন্ত্রণা করছে না বরং ঘুম টা ভালো হওয়ায় শরীর টা ভালো লাগছে,,,

আয়েশা বিছানা থেকে নামতেই মনে পরলো কালকে কাঁচ ফুটেছিল আয়েশার আর ও ওষুধ ও লাগায়নি তাই আয়েশা এক চোখ একটু বেশি চেপে বন্ধ করলো আর আরেক চোখ অল্প বন্ধ করে আস্তে করে পা টা মাটিতে রাখলো আর টুপ করে চোখ দুটো খুললো আর কপাল কুঁচকিয়ে অনেকবার চোখ গুলো পিটপিট করলো আর মুখটা বিস্ময়বোধক করে উঠে দাড়ালো,,,কোমরে হাত দিয়ে আয়েশা কিছুক্ষণ হাঁটল তারপর হুট করেই লাফাতে লাগলো আর বলতে লাগলো

আয়েশা: ইয়েয়েয়েয়ে আমার পায়ে ব্যাথা সেরে গেছে হু হু হু হু এএএএএএ কি মজা কি মজা কি মজা আমাকে কোনো ওষুধ ও খেতে হয়নি আর ব্যাথা ফুস (হঠাৎ করেই আয়েশা থেমে গেলো আর পায়ের দিকে তাকালো) ও তেরি আমার পায়ে ব্যান্ডেজ কে করলো?? ঐ বিলাতি হনুমান!! হুহ কালকে যা করেছে তারপর আবার ঢং করে ওষুধ লাগিয়েছে হুহ,,,বিলাতি হনুমান একটা,,,

এই বলে আয়েশা পিছন ফিরতেই আয়েশার মুখ টা শুকিয়ে আমসি হয়ে গেলো কারণ সামনে আহিল রাগী ফেস করে বতে হাত দিয়ে আয়েশার দিকে তাকিয়ে আছে,,,আয়েশা এই দেখে বিড়বিড় করতে লাগলো

আয়েশা: এই রে ব্যাথা ফুস হওয়ার সাথে সাথে তো এবার আমার হাওয়াও ফুস হয়ে গেলো আর বেশিক্ষণ এখানে থাকলে এই বিলাতি হনুমান আমাকেও ফুস করে দেবে,,,ভাগ আয়েশা ভাগ (বলেই দিলো ছুট আয়েশা ওয়াশরূমের দিকে)

আয়েশা ওয়াশরূম যেতেই আহিল হাসতে শুরু করলো মাঝপথে মুখ চেপে ধরলো আহিল যাতে আয়েশা শুনতে না পায় কিন্তু আয়েশা ঠিকই টুকি মেরে দেখেছে আহিল হাসছে তাই মুচকি হেসে আবার ফ্রেশ হতে ঢুকে পড়ল

আহিল হাসি থামিয়ে আস্তে করে বললো

আহিল: বাচ্চামি টা এখনো গেলো না মেয়েটার,,,

হুট করেই আহিলের মুখটা আবারও মলিন হয়ে গেলো মনে মনে ভাবলো

আহিল: তুই কি সত্যি আমায় ঠকিয়েছিস আশু,,তোর স্বভাব দেখ্লে কেউ বলবে না যে তুই কাওকে ঠকাতে পারিস,,আমার মন যে মানতে চাইছে না কিন্তু যা দেখেছি তারপর আর….

আয়েশা ওয়াশরূম থেকে বেরোতেই আহিল দেয়ালে চেপে ধরলো আয়েশা কে আর দেয়ালে দু-হাত ভর দিয়ে আয়েশার দিকে ঝুঁকে বললো

আহিল: জলদি রেডি হয়ে নীচে আয় নাহলে খুব খারাপ হবে,,,আর আমি যেভাবে বলবো তুই আজ থেকে ঠিক সেভাবেই চলবি আমার হাতের পুতুলের মতো

প্রতি উত্তরে আয়েশা শুধু হ্যাঁবোধক মাথা নাড়ল আর চুপচাপ রেডি হতে চলে গেলো
,
,
,
নীচে…………

আয়েশা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতেই আয়েশার মুখে হাসি ফুটে উঠলো আয়েশা দৌড়ীয়ে নীচে নেমে আসতেই আহিল পকেটে দু হাত দিয়ে মাথা কাট করে বাঁকা হাসলো আর আয়েশার হাসি মুখ নিমিশেই মিলিয়ে গেলো

আয়েশা!!!! মা আমার চলে আয়,,,আমি জানি আহিল তোকে জোর করে বিয়ে করেছে তুই ভালো নেই আহিলের সাথে (আয়েশার বাবা)

আশু!!! কাম হিয়ার,,,বাড়ি যাবি তুই আজ আমাদের সাথে,,,এই আহিল তোকে আটকাতে পারবে না,,,ভয় পাস না তুই আমরা জানি তোকে জোর করে বিয়ে করেছে এই জানোয়ার টা,,,(আহিলের দিকে উদ্দেশ্য করে) কি হলো চুপ করে আছিস কেনো বল কিছু?? (আয়েশার দাদা)

কি হলো মা তুই যাবি না আমাদের সাথে?? (আয়েশার বাবা)

আয়েশা হাসি দিলো এক গাল ভরা যা দেখে আহিল একটু কপাল কুঁচকাল আয়েশা বললো

আয়েশা: আমি তোমাদের সাথে………
,
,
,
[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 💮]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_৩



আয়েশা হাসি দিলো এক গাল ভরা যা দেখে আহিল একটু কপাল কুঁচকাল আয়েশা বললো

আয়েশা: আমি তোমাদের সাথে (একটু থেমে চোখ বন্ধ করে একটা নিশ্বাস নিয়ে) আমি তোমাদের সাথে যাবো না বাবা

আয়েশার দাদা: কিহ?? আমি জানি তুই এই জানোয়ারটার ভয়ে এমন বলছিস,,ও তোকে ভয় দেখিয়ে রেখেছে তাই না?? (আহিল কে উদ্দেশ্য করে)

আয়েশা: নাহ দা ভাই ও কিছু বলেনি আমাকে (আহিলের দিকে তাকিয়ে) আমি আহিলের সাথে এই বাড়িতেই থাকবো

আয়েশার দাদা: কি!!?? কি বলছিস তুই এসব??

আহিল: আরেহ শালা বাবু তুমি তো শুনলেই আয়েশা কি বললো তাহলে আবার ওকে দিয়ে এক কথা বলিয়ে কষ্ট দিচ্ছো কেনো,,,আমি চাই না আমার বউ কে কেউ কষ্ট দিক,,,ইস ইট ক্লিয়ার???

আয়েশার দাদা সঙ্গে সঙ্গে আহিলের কলার চেপে ধরলো আর আহিল আয়েশার দাদার হাতের দিকে তাকালো

আয়েশার দাদা: হাউ ডেয়ার ইউ!!?? তোর সাহস কি করে হলো আমার বোন কে বউ বলার?? কেউ না ও তোর বুঝলি,,,এই বিয়ে আমরা মানি না

আহিল আয়েশার দাদার হাতটা কলর থেকে ছাড়িয়ে নিলো আর বললো

আহিল: আরে শালা বাবু তোমরা মানলে কি মানলে না তাতে আমার কোনো যায় আসে না আমি আর আশু মানলেই হবে কি তাই তো বেবি??(আয়েশা কে চোখ মেরে) মিয়া বিবি রাজি তো ক্যায়া কারেগা কাজি,,,আর শ্বশুরজি (আয়েশার বাবা কে উদ্দেশ্য করে) শুনলেনই তো আপনার মেয়ে কি বললো এখন আপনারা আসতে পারেন,,অপস ব্রেকফাস্ট টা করে যান আমি আবার কাওকে খালি হাতে ফিরিয়ে দি না

আয়েশা: আহিল জাস্ট শাট আপ!!! বাবা তুমি চলে যাও ভাইয়া কে নিয়ে,,আমার বিয়ে যখন একবার হয়ে গেছে তখন আর আমি এ বাড়ি থেকে বেড়াবো না,,,মা বলতো মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি তে প্রবেশ করতে হয় দু-পায়ে আর বেরোতে হয় চার-পায়ে এক কাপড়ে,,,আমার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হবে না,,,তুমি প্লিজ চলে যাও (বাবা কে উদ্দেশ্য করে বললো)

আয়েশার দাদা কিছু একটা বলতে নিলেই আয়েশার বাবা চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করে আর আয়েশার দাদা আয়েশার মাথায় হাত বুলিয়ে আহিলের দিকে একবার তাকিয়ে বেরিয়ে যায়,,,আয়েশা তখন ও মাথা নীচু করে কাঁদছে আয়েশার বাবা আয়েশার মাথায় হাত দিলো আর বললো

আয়েশার বাবা: আমি তোমার খুশি দেখতে চাই মা,,,আর কিছু না তুমি যাতে ভালো থাকবে খুশি থাকবে তাতেই আমরা খুশি,,আসলাম (আয়েশার বাবা বেরিয়ে গেলেন)

আয়েশার বাবা বেরিয়ে যেতেই আয়েশা আহিলের দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালো কিন্তু আহিল তখন কিছু একটা ভাবছিলো,,আসলে আয়েশার বাবার করা ইশারা আর কাওর চোখে পড়ুক না পড়ুক আহিলের চোখে পরেছে,,আহিল সেটা নিয়েই ভাবছিলো তখনই আয়েশা আহিলের সামনে এসে দাড়ালো আর বললো

আয়েশা: এবার খুশি হয়েছিস তো তুই??

আয়েশার কথায় আহিলের ধ্যান ভাঙলে আহিল আয়েশার দিকে একটু ঝুঁকে বললো

আহিল: উমম খুশি হইনি,,,(একটু থেমে) খুব খুশি হয়েছি (পিছনে সরে এসে পকেটে হাত দিয়ে শয়তানি হাসি দিলো)

আয়েশা আর কিছু বললো না পিছন ফিরতেই দেখলো আহিলের মা দাড়িয়ে আছে কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আয়েশা দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে নিজের ঘরে চলে গেলো,,,এই দেখে আহিলের মা আহিলের কাছে এগিয়ে এসে বললো

আহিলের মা: আহিল!! কি এমন বলেছিস তুই আয়েশা মা কে যে ও এমন ভাবে কথা বললো বেয়ানদের সাথে আর তুই ও বা কি এভাবে কেউ কথা বলে?? দেখ তো মেয়েটা কি ভাবে চলে গেলো কি বলেছিস বলবি তো!!??

আহিল কিছুটা এগিয়ে এসে সোফায় মাথা নীচু করে বসলো,,,

💫💫 কিছুক্ষণ আগে আহিলের ঘরে 💫💫

আয়েশা রেডি হয়ে এসে দেখলো আহিল পিছন ফিরে পকেটে হাত গুঁজে দাড়িয়ে আছে,,আয়েশা আহিলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আর ভাবছে,,

” আহিল তুই ছোটবেলায় যেমন টা ছিলিস এখন ও তেমন আছিস,,ওহ না না শুধু স্টাইল গুলোই এক আছে মানুষ হিসাবে তুই অনেক বদলে গেছিস আহিল,,,আমি আর দেখতে পাইনা তোর মধ্যে সেই আগের আহিল কে,,,যে আমার জন্য সব করতে পারতো সব সময় আমার সাথে হাসি মুখে কথা বলতো আর এখন!! আমাকে দেখলেই তোর মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কেনো আহিল কেনো!! কেনো করছিস তুই আমার সাথে এমন (আয়েশা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহিল কে ডাকলো)

আয়েশা: বল কি বলবি??

আহিল আয়েশার দিকে ঘুরলো আর আয়েশার কাছে এসে আয়েশা কে আপাদমস্তক দেখলো আর বললো

আহিল: আজকে তোর বাবা আর দাদা আসবে মে বি

আয়েশা: মানে!! তুই কি করে জানলি??

আহিল: হাহ!! তাদের একমাত্র মেয়েকে আমি তুলে নিয়ে এসে বিয়ে করেছি তাও আবার তাদের অজান্তে আর তারা আসবে না!! এটা কি কখনো সম্ভব?? আমার মনে হয় না,,তাই ওরা আসলে তোকে যদি বাড়িতে ফেরত যাওয়ার কথা বলে তাহলে তুই বলবি তু….

আয়েশা: যাবো না

আহিল: একদম ঠিক,,দেট’স গুড এই তো আস্তে আস্তে তুই নিজেই সব বুঝে যাচ্ছিস কি করতে হবে আর কি না এমন টাই চাই,,,(এই বলে আহিল চলে যেতে নিলো কিন্তু মাঝ পথে দাড়ালো আর বললো) বি কেয়ারফুল যদি কোনো চালাকির চেষ্টা করিস তাহলে কিন্তু….

আয়েশা: নাহ!!! আমি তোর কথা মতই চলবো

আহিল: গুড গার্ল (আহিল যেতে নিলেই আয়েশা ডাকলো আহিল কে আবার)

আয়েশা: আহিল!!!

আহিল: কিছু বলবি??

আয়েশা: তুই আজকে সকাল থেকে এমন হাইনেক গলার ফুল হাতা টি-শার্ট পরে ঘুরছিস কেনো!!?? আজ তো শীত ও নেই তেমন আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো তুই তো একদম ভালোবাসিস না এইরকম ড্রেস তাহলে!!??

আহিল একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেলো আয়েশার এমন প্রশ্ন তে কি উত্তর দেবে বুঝতে পারছে না আহিল,,,ভাবতেই পারেনি আয়েশা এই সামান্য জিনিস টা এতোটা তাড়াতাড়ি ধরে ফেলবে,,,আহিল পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার জন্য বললো

আহিল: আ..ব আব আমার পছন্দ কি চেঞ্জ হতে পারে না??

আয়েশা: ওহ তাহলে তোর মনুষত্বর সাথে সাথে তোর ভালো লাগা মন্দ লাগা ও বদলে গেছে!! সরি আমি বুঝতে পারিনি পারলে ক্ষমা করে দিস (আয়েশা মুখ ফিরিয়ে নিলো আর চোখের জল টা মুছে নিলো)

আহিল আয়েশার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মনে মনে ভাবলো

আহিল: সত্যি যদি তুই জানতে পারতিস আমার মনের অবস্থাটা,,,এই আহিল কে চেঞ্জ হতে তুই বাধ্য করেছিস আয়ু তুই,,,

💫💫 এখন 💫💫

আয়েশা নিজের ঘরে এসে কাঁদছে হাউমাউ করে,,পারছে না নিজেকে সামলাতে আয়েশার ইচ্ছে করছিলো ছুটে বাবার আর দাদার সাথে নিজের বাড়ি চলে যেতে কিন্তু এটা করলে যদি আহিল সত্যি কোনো ক্ষতি করে দেয় আয়েশার পরিবারের,,,সেই ভয়ে গ্রাস করে নিয়েছে আয়েশা কে আজকে এই বাড়িতে থাকার সাথে সাথে আয়েশা নিজেই নিজেকে কথা দিয়েছে আহিলের এমন ব্যবহারের কারণ খুজে বার করবেই,,,আয়েশা যখন কাঁদছিল তখন আয়েশা কে পিছন থেকে একজন ডাকলো

বৌমনি!!!

আয়েশা ঘুরে তাকাতেই দেখলো চুরিদার পরা একটি মেয়ে আয়েশার দিকে তাকিয়ে আছে,,,আয়েশা ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরলো আর হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো আর বললো

আয়েশা: আরোহী!! কোথায় ছিলে তুমি!!??

আরোহী: কেঁদো না বৌমনি (আয়েশা কে সোজা করে দাড় করিয়ে চোখের জল মুছিয়ে)

আয়েশা: একটা রাতের মধ্যে আমার জীবন টা পালটে গেলো আরু,,,আচ্ছা তুমি তো তোমার ভাই কে চেনো প্লিজ বলো আমায় কেনো করছে ও আমার সাথে এমন?? কি করেছি আমি,,জোর করে বিয়ে করেছে ঠিক আছে মেনে নিলাম কিন্তু এরম রূড বিহেভ কেনো করছে ঠিক মতো কথাই বলছে না,,,তুমি তো জানো আমি ওকে কতটা ভালোবাসি আমি ওর জন্য সব ছাড়তে পারি,,,কিন্তু ও তো আমার সাথে ঠিক করে কথাই বলছে না ও আমাকে বিয়ে করেছে এটা নিয়ে প্রথমে রাগ করলেও এখন ভালো লাগে কারণ আমার জীবনে ওর চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেউ নেই ওকে তো আমি নিজের পাশেই চেয়েছি সব সময়,,কিন্তু ও..ও!!(হিঁচকী উঠে যাওয়ায় আর বলতে পারছে না)

আরোহী: বৌমনি…বৌমনি শান্ত হউ এতো হাইপার হয়েও না তুমি শরীর খারাপ করবে (জড়িয়ে নিলো আয়েশা কে আর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো,,আয়েশা ও চুপ করে গেলো)

কিছুক্ষণ পর আয়েশা উঠে বললো,,

আয়েশা: আজকে যদি আনিকা দি থাকতো কতো ভালো হতো তাই না!!??

আরোহী: (আনিকার কথা শুনে মন টা খারাপ হয়ে গেলো) হমম

আয়েশা: কেনো যে আনিকা দি আমাদের ছেড়ে চলে গেলো (আয়েশা আবার চোখের জল ফেলতে লাগলো) জানো আরু আমি সারাদিন কত্ত গল্প করতাম আনিকা দির সাথে,,সারাক্ষণ জ্বালাতাম বৌদিভাই বৌদিভাই করে কিন্তু হঠাৎ করেই যে কি ভাবে!!??

আরোহী: তুমি কিছু জানো না!!??

আয়েশা: কি জানবো আরু!!

আরু!!!!! (আহিল পিছন থেকে ধমকিয়ে ডাকলো আরোহী কে)

আরোহী: হ্যাঁ ভাইয়া বল

আহিল: কলেজ যাবি না তুই!!?? যা গিয়ে রেডি হয়ে নীচে আয় আমি তোকে ড্রপ করে দেবো,,,গো!!!(ধমক দিয়ে)

আরোহী: আচ্ছা ভাইয়া

আরোহী চলে যেতেই আয়েশা আহিল কে বললো

আয়েশা: এমন বিহেভ কেনো করলি তুই আরুর সাথে?? কথাই তো বলছিল

আহিল: ওহ শাট আপ!! আমি এখন তোর কাছ থেকে শিখব নাকি কি করে নিজের বোনের সাথে বিহেভ করতে হয়?? নো ওয়ে,,,আর একটা ফ্রডের মেয়ের থেকে দুরে থাকাই ভালো

আয়েশা শেষ কথাটা শুনে আহিলের কলার চেপে ধরে বললো

আয়েশা: এতই যখন ঘৃণা করিস তাহলে আটকে কেনো রেখেছিস এভাবে?? বাঁচতে অন্তত দে শান্তি তে,,মুক্তি দে আমায়

আহিল: মুক্তি!! হা হা হা ভুলে যা মুক্তির কথা (আয়েশার হাত ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে) কোনদিন পাবি না তুই মুক্তি,,,শাস্তি পেতে হবে তোকে তোর পরিবারের করা একেকটা ভুলের শাস্তি তোকে পেতে হবে,,ইউ হ্যাভ টু পে ফর অল অফ দিস — বেরিয়ে গেলো আহিল,,আর আয়েশা মনে মনে ভাবতে লাগলো কেনো করছে আহিল এমন?? কি কারণ আছে এর পিছনে,,কারণ ছাড়া কোনো কিছু করার মতো ছেলে আহিল নয়,,আহিলের সাথে থেকেই আহিল কে বুঝতে হবে আয়েশাকে,,,এইসব ভাবতে ভাবতেই আয়েশার ভাবনায় ছেদ পড়ল

আহিলের মা: আয়েশা মা!!

আয়েশা: আন্টী!! সরি আন্টী আসলে তখন

আহিলের মা: থাক!! আর আদিক্ষেতা করতে হবে না সারাদিন কি ঘরেই বসে থাকবি নাকি!!??(অনেকটা গম্ভীর ভাবে বললো)

আয়েশা: নাহ আন্টী আসলে,,আমি নীচে যাচ্ছি বলুন কি কাজ করতে হবে??

আহিলের মা: আর একটা কথা বললে ঠাস করে থাপ্পড় লাগাবো!!(রেগে) আরে বিয়ে হয়ে গেছে তোর আহিলের সাথে এখন ও তুই আমায় আন্টী বলবি,,আপনি করে বলবি?? নাহ একদম চলবে না এসব,,আমাকে মা বলতে হবে আর তুমি বলতে হবে আমি কিছু জানি না (আয়েশার দিকে পিছন ফিরে)

আয়েশা: ওকে মা!! এবার থেকে নো আন্টী আন্ড নো আপনি অনলি মা এন্ড তুমি!! ওকে??(আহিলের মা কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে)

আহিলের মা: আচ্ছা হয়েছে চল এবার আহিল অফিস যাবে,,,ওকে ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ টা প্যাক করে দিতে হবে তো!!

আয়েশা: হম মা চলো

এই বলে ওরা দুজন নীচে চলে গেলো,,,নীচে নামতেই দেখলো আহিল বসে আছে সোফায় আর আহিলের গা ঘেষে বসে আছে একটি মেয়ে যার পরনে একটা লেডিস শার্ট যার উপরের বোতাম দুটো খুলে রাখা আর একটা ব্ল্যাক শর্ট স্কার্ট,,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে গায়ে পড়া স্বভাবের আয়েশার ভীষণ রাগ হলো এটা দেখে আহিল ও কফি মাগে চুমুক দিতে দিতে আড় চোখে আয়েশার দিকে তাকালো আর আয়েশা ভেংচি কেটে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো,,,আহিল এসব দেখে শুধু মুচকি হাসলো

এদিকে আয়েশা রাগে গজগজ করছে রান্নাঘরে গিয়ে আয়েশার ইচ্ছে করছে হাতের সামনে থাকা বেলনি দিয়ে ঐ মেয়েটার মাথা ফাটিয়ে দিতে কিন্তু পারছে না,,,আহিলের মা এসে বললো আয়েশা কে,,আহিল এর জন্য কফি নিয়ে যেতে

আহিলের মা: আয়েশা মা!! তুই তো জানিস আহিল কফি খেতে কতো ভালোবাসে আর তার মধ্যে আজকে ও বাড়ি থাকবে অফিসে যাবে না,,যা না মা একটু কফি টা দিয়ে আয়

আয়েশা: আচ্ছা মা

আয়েশা কফি নিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় আয়েশা কোনো কিছুর সাথে পা বেজে গেলো আর হাতের কফি টা………….



[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹]

#তোমার_মাঝে_আমি 🌸❤ [ I_Am_In_You ]
#লেখিকা_আয়েশা
#পর্ব_৪



আয়েশা কফি নিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় আয়েশা কোনো কিছুর সাথে পা বেজে গেলো আর হাতের কফি টা…আহিলের গায়ে পরতেই আহিল “আহ!!” শব্দ করে উঠে দাঁড়ালো আর হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে নিলো,,,

আহিলের উঠে দাঁড়ানোতে আয়েশা দেখলো পুরো গরম কফিটা আহিলের গায়ে পরে গেছে,,সেই দেখে আয়েশা আহিলের কাছে এগোতেই আহিলের সাথে থাকা মেয়েটি আয়েশা কে টেনে দুরে সরিয়ে দেয় আর আয়েশা কে আরোহী ধরে নেয়,,,মেয়েটি আহিলের কাছে গিয়ে আহিল কে দেখতে লাগে আর বলতে লাগে

মেয়েটি: আহিল তুই ঠিক আছিস?? কেমন মেইড রেখেছিস তুই যে ঠিক করে কফি টা পর্যন্ত সার্ভ করতে পারে না??

আয়েশা আহিলের দিকে করুন চোখে তাকালো,,মেয়েটির কথাটা বলার সাথে সাথে আহিল চোখ খুললো এতক্ষণ চোখ বুজে ছিলো যন্ত্রণায়,,,চোখ খুলতেই মেয়েটি ভয় পেয়ে গেলো সঙ্গে বাকি সবাই কারণ আহিলের চোখ লাল হয়ে গেছে,,,আহিল দাঁতে দাঁত চেপে বললো

আহিল: হাউ ডেয়ার ইউ টু কল হার মেইড?? ইউ ডোন্ট নো হু ইস সি?? রিয়া প্লিজ ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিট ওকেই??

রিয়া: বাট আহিল

আহিল: জাস্ট শাট আপ!! নো মোর ওয়ার্ডস,,,আন্ড ইউ (আয়েশা কে উদ্দেশ্য করে) যেই কাজ টা পারো না সেটা করো কেনো?? কেউ কি বলেছে করতে?? অকাজ করে লোকের কষ্ট বাড়িও না এটলিস্ট,,,ব্লাডি হেল (বলেই আহিল চলে গেলো)

রিয়া: আন্টী ও কে?? যেই হোক না কেনো ওয়াট এভার আমি জানো ওকে আহিলের কাছে না দেখি,,,যত্তসব গাইঁয়া আপনাদের বাড়িতে এটলিস্ট এর মতো একটা মিডল ক্লাস মেয়ে ডিসর্ভ করে না (বলে রিয়াও চলে গেলো)

আয়েশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে,,কিছু বলছে না এই দেখে আরোহী বললো

আরোহী: বৌমনি ভাইয়া বিদেশে থাকাকালীন তোমায় বলতাম না ভাইয়ার একটা ফ্রেন্ড আছে আমেরিকায়,,এই সেই ফ্রেন্ড রিয়া,,একসাথে পড়াশোনা করেছে ভাইয়া আর রিয়া আর দেশেও ফিরেছে একসঙ্গে,,এখন ভাইয়ার কোম্পানি তে পি.এ,,সব সময় ভাইয়ার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছে আর এখন তাই করছে,,,যে করেই হোক তোমাকে এই ডাইনির হাত থেকে ভাইয়া কে বাঁচাতে হবে,,,তুমি এখন যেও না ভাইয়ার কাছে ভাইয়ার রাগ সম্পর্কে তো তুমি জানো,,,ঐ ডাইনি গেছে দেখি আমি ও যাই,,,

আয়েশা দৌঁড়ে নিজের রূমে চলে গেলো সেই সময় আহিলের মা আসছিল ড্রয়িং রুমে,,উনি এসে দেখলেন আয়েশা চলে গেলো আর কেউ নেই ড্রয়িং রূমে শুধু মেঝেতে কফির গ্লাস আর কফি পরে আছে,,এই দেখে উনিও আয়েশার ঘরের দিকে চলে গেলেন,,,এদিকে আরোহী দুর থেকে দেখলো আহিলের দরজা বন্ধ তাই আরোহী ও আয়েশার রূমের দিকে চলে গেলো,,,এদিকে বেচারি রিয়া আহিলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে কি করে আহিলের কাছে যাওয়া যায়,,,

আয়েশা নিজের রূমে এসে দরজা দিতে নিলেই আহিলের মা চলে আসে আর আয়েশা দরজা দিতে গিয়েও দিতে পারেনা,,আয়েশা পিছন ফিরে নিজের চোখের জল লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পরে সেই সময় আহিলের মা আয়েশা কে নিয়ে সোফায় বসায় আর বলে

আহিলের মা: জানিস মা যখন আমার আনিকা (আহিলের বড়ো দিদি) তোদের বাড়ির বউ হয়ে গিয়েছিলো মানে তোর দাদা অঙ্কুরের বউ হয়ে গিয়েছিলো তখন ভয় হচ্ছিল,,,না জানি আমার মেয়েটা নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না তারপর যখন ও বাড়ি তে তোকে দেখলাম তখন মনে হলো যে বাড়ি তে তোর মতো একটা ননদ আছে সেখানে আমার মেয়ের কোনো কষ্ট হবে না,,,ঠিক করেছিলাম তোকে নিজের বাড়ির বউ করে আনবো আর দেখ সেটাই সত্যি হলো,,,কিন্তু আমি ভাবিনি তুই এত কষ্ট পাবি এখানে থেকে,,আমি জানি না আজ কি হয়েছে ড্রয়িং রূমে কিন্তু যতটুকু বুঝেছি আহিল তোকে কিছু একটা বলেছে কিঙবা ঐ রিয়া,,,তুই তো জানিস আহিলের রাগ সম্পর্কে রেগে গেলে কি করে কি বলে কিচ্ছু ঠিক থাকে না তাই ওর কথায় মন খারাপ করিস না মাবিশ্বাস কর আমার আহিল তোকে উন্মাদের মতো ভালোবাসে,,,(পিছন থেকে আরোহী বকে উঠলো)

আরোহী: তার প্রমান আজ বউদি পাবে,,,আমি দেবো সেটা

আহিলের মা: আরু!! এমন টা করিস না তুই তোর ভাইয়ার রাগ তুই জানিস না??

আরোহী: যা হবার হবে মা আমি এভাবে দুজনকে কষ্টের মধ্যে দেখতে পারবো না (এই বলে আয়েশার হাত ধরলো আর উঠে দাঁড় করালো) চলো বউদি আমার সাথে

এদিকে আয়েশা তো কিছুই বুঝতে পারছে না আরোহী কি বলতে চাইছে নীরব ভাবে আরোহীর সাথে যেতে লাগল আয়েশা

আরোহী আর আয়েশা আহিলের রূমে ঢুকতেই দেখলো আহিল দাঁড়িয়ে আছে পিছন ফিরে রূমের ব্যালকনি তে যাওয়ার দরজার সামনে,,,আর থাই গ্লাস ভেদ করে সূর্যের আলো এসে ঘর টাকে ঝলমল করে তুলেছে,,,আহিলের পিছনে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে রিয়া

রিয়া: আ’ম সরি আহিল আসলে আমি চিনতে পারিনি ওটা আয়েশা,,বাট আহিল ও যদি আয়েশা হয় তাহলে আমি বলবো সি ডোন্ট ডিসার্ভ ইউ,,,সি ডোন্ট ডিসার্ভ ইউর ফ্যামিলি,,এটা কেমন মেয়ে যে তোকে ঠিক করে একটা কফি দিতে পারে না?? এই মেয়ে তো তোর ঠিক করে কেয়ার পর্যন্ত করতে পারবে না,,তুই কি করে এমন একটা মিডল ক্লাস মে…(কথাটা শুনতেই আয়েশা চলে যেতে চাইল কিন্তু আরোহী আটকে দিলো আর ইশারায় পুরো টা শুনতে বললো)

আহিল: জাস্ট শাট ইউর মাউথ ড্যাম ইট!! তোকে আমি নীচে ও বললাম এখন ও বলছি আয়েশার নামে কোনো কথা তুই বলবি না,,কেনো জানিস?? কারণ তুই ওর নখের যোগ্য নস,,বিদেশে থেকে বিদেশিদের মতো ব্যবহার করলে শুধু স্মার্ট হওয়া যায় একজন বাঙালি নারী হওয়া যায় না,,আমার আয়েশা #সম্পূর্ণা ও যেমন বাঙালি মেয়েদের মতো শাড়ি পরতে জানে বাঙালি আদবকায়দা জানে,,,কি করে বড়োদের সন্মাণ করতে হয় শ্রদ্ধা করতে হয়,,কি করে বাচ্চাদের স্নেহ করতে হয় শাসন করতে হয় এসব জানে,,,ঠিক তেমনই তোদের মতো বিদেশি ড্রেস পরতে জানে বিদেশিদের আদবকায়দা জানে কিন্তু তোর মতো রাত-বিরেতে পার্টি করতে যায় না,,মোট কথা আমার আয়েশা নারী জাতি কে সন্মান দিতে জানে তোর মতো…আর বললাম না সো প্লিজ আয়েশার নাম টা জানো আমি তোর মুখে না শুনি বৌদি বলবি এবার থেকে ওকে,,,তোর কথা শেষ হয়ে গেলে আসতে পারিস,,প্লিজ লিভ মি আলোন (রিয়া এসব শুনে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলো)

রিয়া বেরিয়ে আসতেই আরোহী আয়েশা কে বললো একটা সত্যির মুখোমুখি হলে তো যে আমার ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে?? এবার প্রমাণ পাবে (বলেই গড়গড় করে রিয়া কে একটা ধাক্কা দিয়ে রূমে ঢুকে গেলো)

রিয়া বেরিয়ে এসে আয়েশা কে বললো

রিয়া: কি মনে করো তুমি নিজেকে,,আহিলের থেকে দুরে থেকেও আহিল কে নিজের মুঠোয় করে রেখেছিলে আর এখন ও,,,চুপ চাপ আহিলের জীবন থেকে সরে যাও কারণ তোমার মতো মেয়ে আহিলের যোগ্য না,,আহিলের জন্য যদি কেউ পারফেক্ট হয়ে থাকে তাহলে সেটা আমি,,ওনলি মি সো সরে যাও আহিলের জীবন থেকে ইটস গুড ফর ইউ,,,(রিয়া গজগজ করতে করতে চলে গেলো)

আয়েশা চলে যাচ্ছিল কিন্তু তখনই আরোহী আর আহিলের কথা শুনতে পেলো আর দাঁড়িয়ে গেলো কারণ আরোহী কিছু একটা প্রমাণ দেবে বলেছিল,,,

আহিল: আরু প্লিজ!! আমায় একা ছেড়ে দে লাগবে না আমার কোনো ওষুধ,,,ঠিক আছি আমি যা তুই এখান থেকে,,

আরোহী: ভাইয়া প্লিজ জেদ করিস না,,,আর কেউ না জানুক আমি জানি সত্যি টা কি আর তাই জন্য আমি তোর চিন্তা করছি,,

আহিল: ওরে আমার বোনি রে তুই যা তোর ভাইয়া ঠিক আছে একদম বুঝলি?? তোর ভাইয়া সইতে জানে আর যে এই যন্ত্রণা টা দিয়েছে,,,তার কথা মনে করলেই আমার সব যন্ত্রণা দুর হয়ে যায়,,,ওর দেওয়া যন্ত্রণা ও আমার কাছে তোফা,,,যা তুই গিয়ে পরতে বস

আরোহী: ভাইয়া!! এতো ভালোবাসো বউদি কে,,শরীরে এতটা ব্যাথা থাকার পরেও গরম কফি টা বউদি তোমার গায়ে ফেলে দিলো আর এখন বলছো ওর দেওয়া যন্ত্রণা তোমার কাছে তোফা,,,কালকে রাতে তুমি যেভাবে নিজের গায়ে বেল্টের আঘাত করেছ তার পরেও তুমি বলেছো তুমি ঠিক আছো আর এখন সেই শরীরের ওপর গরম কফি পরে গেলো তাও বলছো তুমি ঠিক আছো?? তুমি মানুষ ভাইয়া??

আহিল: উফফ বড্ড বেশি কথা বলিস জানিস তো আরু!! আমি ভুল করেছি তাই নিজের ভুলের শাস্তি নিজেই নিজেকে দিয়েছি দেট সেট আর এই সামান্য বেল্টের আঘাত তোর বডি বিল্ডার ভাইয়ার কিচ্ছু করতে পারবে না বুঝলি পাগলি মেয়ে!!?? (আরুর গাল টা টেনে)

আরোহী: যা খুশি করো আমি জানি না কিছু (আরোহী এই বলেই বেরিয়ে গেলো)

আয়েশা স্তব্ধ হয়ে গেছে কি করবে,,কি করবে না কিছুই বুঝতে পারছে না এর মধ্যেই আরোহী এসে আয়েশার হাত ধরে স্টোর রূমে নিয়ে গেলো আর আয়েশা কে দাঁড় করিয়ে কিছু একটা আনতে গেলো,,আয়েশা মনে মনে ভাবছে,,আহিল কি চায়?? আয়েশা কে কাছে ও টেনে নিচ্ছে না সব সময় দুরে সরিয়ে দিচ্ছে বাজে ব্যাবহার করছে যাতে আয়েশার মনে হচ্ছে আহিল আয়েশা কে এখন আর ভালোবাসে না আবার আয়েশা কে কষ্ট দিয়েছে বলে আহিল নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে ভালো না বাসলে এটা তো আহিল করতো না আর জোর করে নিজের কাছে বিয়ে করে আটকেও রাখত না,,,আয়েশার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এসব ভাবতে ভাবতে,,ভাবনায় ছেদ পরলো আরোহীর ডাকে,,আয়েশা আরোহীর দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো,,,,,,
,
,
,
[ ফিরে আসবো আগামী পর্বে 🌹]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here