#তৃপ্তিতে_আসক্ত_নিদ্র🧡
#DcD_দীপ্ত
#পর্ব__________16
রাত ৩টা বাজে……….
সালমা কিচেনে রান্না করছেন । বজলুর নিজ রুমে এখনো ঘুমুচ্ছে । সজিবও নিজ রুমে ঘুমুচ্ছে । নিদ্র সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠছে । সালমা নিদ্র আর তৃপ্তিকে ডেকে গেছেন কিছুখন আগে । তৃপ্তি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাকি জামা কাপড় গুলো গুছিয়ে নিয়েছে । নিদ্র কাল রাতেই তার সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছিল । রুম থেকে বেরিয়ে নিজের বেগ গুলো গাড়িতে নিয়ে রাখলো নিদ্র । এরপর সালমা ডাক দিলো নিদ্র আর তৃপ্তিকে খাবার খাওয়ার জন্য । নিদ্র বারন করে ছিল সালমাকে । যাতে এতো রাতে তিনি কষ্ট করে কিছু না করেন, কিন্তু সালমা নিদ্রর কথা সুনলো না । নিচে এসে খাওয়ার টেবিলে বসলো নিদ্র আর তৃপ্তি । সালমা নিদ্রকে খাইয়ে দিচ্ছেন আর তৃপ্তি নিচের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে । সালমা নিদ্রকে খাওয়ানো শেষ করে কিচেনের দিকে চলে যান । নিদ্র চেয়ার ছেরে উঠে দারিয়ে তৃপ্তিকে বললো ।
:+হয়ে গেছে তোর সব গুছানো ।(নিদ্র)
নিদ্রর কথা সুনে মাথা তুলে তাকালো তৃপ্তি ।
:+হুম হয়ে গেছে ।(তৃপ্তি)
:+তাহলে বেগ গুলো নিয়ে যাই গাড়িতে ।(নিদ্র)
:+ঠিক আছে । নিয়ে যাও ।(তৃপ্তি)
:+ তুই তৈরি হয়ে নে যলদি ।(নিদ্র)
এই বলে নিদ্র তৃপ্তির রুমে এসে তার বেগ গুলো নিয়ে গাড়িতে রাখলো । এরপর নিজ রুমে এসে নীল কালারের ফুল হাতা ওয়ালা একটা শার্ট, আর কালো রং এর পেন্ট, কালো সু পরে নিলো । এরপর শার্টের হাতা হাতের কনুই প্রজন্ত ভাজ করে, চুল গুলো বাম পাসে সিতি করে তৈরি হয়ে নিলো নিদ্র ।তারপর নিচে চলে আসলো । বজলুর আর সজিব এতোখনে যেগে গেছে । তৃপ্তি তার মাথার চুল আচড়ে, চোখে আইলেনার আর মাশকারা দিয়ে নিলো । এরপর বেগুনি রঙের বোরখা, নীল রং এর হিজাব, কালো রং এর নিকাব পরে নিলো । পায়ে হিল জুতু পরে তৈরি হয়ে নিচে নামলো তৃপ্তি ।
এতপর বিদায়ের পালা ।
গাড়ির কাছে এসে দারালো সাবাই । চেয়ারম্যান বাড়ির দারোয়ান আলম রাত ৪টা বজলেই চলে যান । নিদ্র বজলুর আর সাজিব দারিয়ে আছে । সালমা তৃপ্তিকে বলছেন ।
:+ওখানে গিয়ে আবার এখনাকার মতো দুষ্টুমি করিস না কিন্তু ।(সালমা)
:+না আম্মু কিছু করবো না ।(তৃপ্তি)
:+আরে বোকা মেয়ে কাদে কেন ।(সালমা)
এই বলে তৃপ্তিকে নিজের কাছে এনে বুকের সাথে পরম জন্তে জরিয়ে নেয় সালমা ।
:+তাহলে তুমি কাদছো কেন আম্মু ।(তৃপ্তি)
সালমা ডান হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে । তৃপ্তির কপালে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে বললেন ।
:+আমার আম্মু’টা যে আমার থেকে দুরে যাচ্ছে তাই একটু কষ্ট হচ্ছে ।(সালমা)
নিদ্র হাতের ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে আবার সালমার দিকে তাকিয়ে বললো ।
:+চাচি আম্মা ৪.৪৫ বেজে গেছে । তারাতাড়ি বেরোতে হবে তাহলে দিনের বালায়ই পৌঁছাতে পারবো । রাত হবে না আর ।(নিদ্র)
:+নিদ্র,,,,,, মেয়ে টাকে দেখে রাখিস । দেখলিই তো কেমেন বাচ্চা বাচ্চা সভাব ।(বজলুর)
:+চাচু,,,,,,,।(নিদ্র)
নিদ্র কিছু বলার আগে সাজিব নিদ্রর হাত ধরে বললো ।
:+ভাইয়া আবার কবে আসবে তোমরা ।(সজিব)
নিদ্র সজিবের মাথার চুল গুলো নারা চারা দিয়ে বললো ।
:+দেখি সময় পেলে খুব তারাতাড়ি আবার আসবো ।(নিদ্র)
এরপর সজিব তৃপ্তির কাছে আসলো ।
তৃপ্তি সালমাকে ছেরে দিয়ে সজিবের জরিয়ে ধরল ।
:+আসি ভাই । আব্বু আম্মুর কথা সুনবি । ঠিক মতো পড়া লেখা করবি ।(তৃপ্তি)
:+আচ্ছা । আপু তুমি কবে আসবে আবার ।(সজিব)
:+ খুব তারাতাড়ি আসবো ।(তৃপ্তি)
এতপর সালমা আর বজলুরকে সালাম করে গাড়িতে উঠে বসলো তৃপ্তি আর নিদ্র । নিদ্র গাড়ি ড্রাইভ করে চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো । বজলুর বাড়ির গেট লাগিয়ে দিলেন । এরপর সালমা বজলুর সজিব আবার বাড়ির ভিতরে চলে গেল ।
★
চেয়ারম্যান বাড়ির ডান দিকের রাস্তা দিয়ে এই ভোর বেলায় একটা মেয়ে দৌড়ে আসছে চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে । ঠিক চেয়ারম্যান বাড়ির গেটের সামনে এসে দারালো মেয়েটি । বুকের বা পাসে ডান হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বাম দিকের রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়া গাড়ির পিছনের হেড লাইটের লাল আলোর দিকে তাকিয়ে রইলো মেয়েটি । চোখে আসা পানি আর মুখে হাসি নিয়ে বললো ।
:+শেষ দেখা’টা দেখতে পারলাম না তোমায় । একটু দেরি হয়ে গেল । আমি তোমাকে পেলাম না । দোয়া করি আল্লার কাছে । তুমি যাকে চাও তাকে যেন পাও । কিন্তু তার নাম বা তার কিছুই আমাকে বললে না তুমি । আফসোস’টা আমার এখানেই রয়ে গেল । আমি তোমার যোগ্য হলাম না এই জন্মে । আল্লার কাছে এখন সুধু একটাই চাওয়া পর জন্মে যেন তিনি তোমাকে আমার করে পাঠান ।(মিম)
হুম এই মেয়ে আর কেও নয় এ হলো মিম । তৃপ্তির ফ্রেন্ড ।
————————————-
:+ভাই আমি কিন্তু তোকে এখন পিটামু ।(রনি)
:+কেন ।(আরিয়ান)
:+তুই মিমরে ওভার লাভ ইস্টুরির ভিতরে ঢুকাইয়া এখন কষ্ট দিছস । আমি আগেই বলছি এই মিম সেড ইস্টুরির এন্ট্রি দিতে পারে ।(রনি)
:+আরে বেটা,,,,,,,,,,,(আরিয়ান)
জানে মেরি জানে মান,,,, বাচ পান কা পেয়ার মেরি ভুল নেহি যানা হে ।
জানে মেরি জানে মান,,,, বাচ পান কা পেয়ার মেরি ভুল নেহি যানা হে ।
:+এই দারা দারা কথা বলিস না । জান্নাত কল করছে ।(আরিয়ান)
:+হ্যা,,,, হ্যা কথা বল । সালা বউ পাগলা ।(রনি)
:+হ্যালো জানু ।(আরিয়ান)
:+কোথায় তুমি ।(জান্নাত)
:+এই তো চো’রাস্তার মোরে ফ্রেন্ডের সাথে বসে আছি ।(আরিয়ান)
:+বাসায় আসবা কখন ।(জান্নাত)
:+একটু দেরি হবে জানু । কেন কোন কি দরকার ছিল ।(আরিয়ান)
:+আমি সুধু দরকারেই কল দেই । এমনি এমনিও কি কল করতে পারি না ।(জান্নাত)
:+আরে জানু রাগ করছো কেন ।(আরিয়ান)
:+তুমি এখুনি বাসায় আসবা । তা নাহলে তোমাকে আজ বুঝবো এই জান্নাতের কথা না সুনার ফল কি ।আমি কল কাটলাম ।(জান্নাত)
:+আরে সুনো তো ।(আরিয়ান)
:+আমি কিছু সুনতে চাই না । তুমি এখনি বাসায় আসবে মানে আসবে । নাহলে বুঝতেই পারছো।(জান্নাত)
:+জানু,,,,,,,,,,,।(আরিয়ান)
টু টু টু টু
:+যা কল কেটে দিলো ।(আরিয়ান)
:+কি হলো বউ পাগল । বউ বাসায় যেতে বলছে ।(রনি)
:+হুমরে ভাই । আর পারছি না এই পাগলি টাকে নিয়ে ।(আরিয়ান)
:+এখন কি করবি ।(রনি)
:+ধুর বাদ দে ।(আরিয়ান)
:+পরে আবার কিছু,,,,,,,।(রনি)
:+মেনেচ করে নেবো । শত চেস্টা করলেও । আমাকে ছরে কখনো যাবে না পাগলি’টা ।(আরিয়ান)
:+তাহলে বাকি ইস্টুরি’টা সুরু কর ।(রনি)
:+কোথায় যেন ছিলাম ।(আরিয়ান)
:+মিম চেয়ারম্যান বাড়ির গেটের সামনে এসে নিদ্র আর তৃপ্তির যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে ছিল ।(রনি)
:+ও হ্যাঁ ।(আরিয়ান)
————————————
গাড়ির পিছনের লাল আলো যাতখন প্রজন্ত দেখা গেছে ততখন প্রজন্ত চেয়ারম্যান বাড়ির গেটের সামনে দারিয়ে ছিল মিম । এরপর চোখের পানি মুছতে মুছতে আবার নিজ বাড়ির দিকে হাটা ধরলো সে । বাগানের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু একটার সাথে লেগে পা কেটে যায় তার । কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া করলো না সে । কারন এই কাটার চেয়ে তার মন আরো বড় কাটা গেছে । এতপর নিজ বাড়িতে এসে আবার নিজের রুমে গিয়ে বালিশে মুখ গুজে কান্না করতে থাকলো । জীবনে প্রথম কাওকে মন থেকে ভালোবাসে ফেলেছিল সে । কষ্ট তো একটু হবেই । কিন্তু নিদ্রকে ভুলতে হবে তার । হুম ভুলতে হবে এই জন্মের জন্য । একে বারে ভুলতে হবে ।
★
নিদ্র আপন মনে ড্রাইভ করে যাচ্ছে । আর তৃপ্তি চুপচাপ বসে আছে । নিরো বতা ভেঙ্গে নিদ্র বললো ।
:+এ ভাবে বসে আছিস কেন । খারাপ লাকছে ।(নিদ্র)
:+হুম ।(তৃপ্তি)
:+ কি খারাপ লাকছে । শরীর না মন ।(নিদ্র)
:+মন ।(তৃপ্তি)
:+কি জন্য ।(নিদ্র)
:+আব্বু /আম্মু /ছোট ভাই আর ফ্রেন্ডদের ছেরে চলে যাচ্ছি যে তাই ।(তৃপ্তি)
:+ওওওও । তাহলে থেকে যা ।(নিদ্র)
:+ ধুর ।(তৃপ্তি)
এই বলে ওন্য দিকে ঘুরে গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে নিলো তৃপ্তি । নিদ্র আর কিছু বললো না । ঘন্টা খানিক পথ ড্রাইভ করার পর গাড়ি ব্রেক করলো নিদ্র । তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখলো তৃপ্তি ঘুমিয়ে গেছে । এরপর নিদ্র তৃপ্তির দিকে একটু ঝুকে সিট বেল বেধে দিলো । মুখের উপর থেকে নিকাব সরিয়ে কিছুখন তাকিয়ে রইলো তৃপ্তির দিকে নিদ্র । ডান হাত দিয়ে তৃপ্তির গোলাপি রাংঙ্গা ঠোট দু’টোকে একটু টাচ করলো । তারপর নিজের মাথায় নিজে আসতে করে একটা থাপ্পড় দিলো নিদ্র । মুখের উপর আবার নিকাবটা ঠিক করে দিয়ে আবার ঠিক হয়ে বসলো সে । এতপর গাড়ি ড্রাইভ করায় মন দিলো ।
———————————–
সকাল ৯টা বাজে………….
পূর্ব দিক দিয়ে সূর্য উঠেছে অনেক খন হয়ে গেছে । গাড়ির আয়না ভেট করে সূর্যের আলো এসে পরছে তৃপ্তির মুখে । পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালো তৃপ্তি । গাড়ির আয়না দিয়ে বাহিরে তাকাতেই দেখলো । প্রকৃতির সব গাছ পালা পিছনে সরে যাচ্ছে । নিদ্রর দিকে তাকালো তৃপ্তি । দেখলো নিদ্র আপন মনে গাড়ি ড্রাইভ করে যাচ্ছে । এরপর ঠিক হয়ে বসলো সে । কিন্তু নরতে চরতে পারছে না দেখে বিরক্ত লাগছে খুব । নরা চরা করতে না পারার কারন নিদ্র তৃপ্তিকে সিট বেল বেধে রেখেছে । তৃপ্তি অনেক বার চেস্টা করছে সিট বেল খোলার কিন্তু পরলো না । অবশেষে হাল ছেরে দিয়ে চুপচাপ বসে রইলো । নিদ্র আর চোখে তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দেখলো । এরপর নিদ্র সামনে তাকিয়েই তৃপ্তিকে বলল ।
:+কিরে ঘুম শেষ ।(নিদ্র)
নিদ্রর কথা সুনে নিদ্রর দিকে তাকালো তৃপ্তি । বিরক্তি নিয়ে বললো ।
:+একটা কেচি হবে ।(তৃপ্তি)
নিদ্র তৃপ্তির দিকে এক বার তাকালো । এরপর সামনের দিকে তাকিয়ে আবার বললো ।
:+কেন । কেচি দিয়ে কি করবি ।(নিদ্র)
:+এই যে এটা কাটবো ।(তৃপ্তি)
সিট বেল দিখিয়ে বললো তৃপ্তি । নিদ্র গাড়ি ব্রেক করলো ।
:+এটা কাটবি কেন ।(নিদ্র)
তৃপ্তি চোখ গমর করে নিদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ।
:+এটা আমাকে বেধে দিলে কেন । বিরক্তি লাকছে খুব । নরতে চরতে পারছি না ।(তৃপ্তি)
:+ওও । এই বেপার এটা আগে বলবি না ।(নিদ্র)
নিদ্র তৃপ্তির সিট বেল খুলে দিলো । তৃপ্তি যেন হাফ ছেরে বাচলো । এরপর নরে চরে বসলো সে । নিদ্র আবার গাড়ি ড্রাইভ করতে সুরু করলো । তৃপ্তি নিদ্রর উদ্দেশ্য করে বললো ।
:+ভাইয়া আমরা এখন কতো দুর প্রজন্ত এসেছি ।আর কত সময় লাকবে পৌঁছাতে ।(তৃপ্তি)
:+আরো অনেক সময় লাগবে । খিদে পেয়েছে তোর তাই না ।(নিদ্র)
তৃপ্তি ঠোট উল্টো করে নিদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ।
:+হুমমমম ।(তৃপ্তি)
:+ঠিক আছে সামনে একটা রেস্টুরেন্টে পরবে ওখানে আমরা সকালের নাশতা করবো ।(নিদ্র)
:+ওকে ।(তৃপ্তি)
এরপর তৃপ্তি গাড়ির আয়না দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে প্রকৃতি দেখতে লাগলো । কত রকমের গাছপালা পিছনে সরে যাচ্ছে । এই প্রথম নিজ বাড়ি থেকে এতো দুরে কোথাও যাচ্ছে সে । এর আগে কখনো এতো দুরে কোথাও যায়নি তৃপ্তি । কত রমকমের পোষাক পরা মানুষ পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তারা । নিদ্র তার ফোন বাম হাতে নিয়ে তৃপ্তির দিকে বারিয়ে বললো ।
:+নে তোর বড় আব্বুকে কল কর ।(নিদ্র)
তৃপ্তি বাহির থেকে চোখ ফিরিয়ে নিদ্রর হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো । এরপর লক খুলে ফরহাদ কে কল করলো তৃপ্তি ।
:+কল করছি এবার কি করবো ।(তৃপ্তি)
:+কথা বল ।(নিদ্র)
তৃপ্তি ফোন কানে ধরলো । রিং হচ্ছে কিন্তু কেও কল রিসিপ করছে না । কিছুখন রিং হওয়ার পর কলটা কেটে গেল ।
:+ধরছে না তো কেও ।(তৃপ্তি)
:+আবার কল কর ।(নিদ্র)
তৃপ্তি আবার কল করে কানে ধরলো । এবার রিং হতেই কল রিসিপ করলো ফরহাদ আহমেদ ।
:+কিরে রওনা দিয়েছিস । আমি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিলাম তাই কল রিসিপ করতে পারিনি ।(ফরহাদ)
:+বড় আব্বু আমি তৃপ্তি ।(তৃপ্তি)
:+ ওহ । মামুনি কেমন আছো তুমি ।(ফরহাদ)
:+এই তো ভালো তুমি কেমন আছো ।(তৃপ্তি)
:+আমিও ভালো আছি । তোমার নিদ্র ভাইয়া কৈ ।(ফরহাদ)
:+গাড়ি ড্রাইভ করছে ।(তৃপ্তি)
:+ওহ । তারমানে তোমরা রওনা দিয়ে দিয়েছো ।(ফরহাদ)
:+হুম । বাড়ি থেকে তো বেরোলাম ৪.৫৬ বাজে ।(তৃপ্তি)
:+এতো ভোরে রওনা দিয়েছো তোমরা । তাহলে তো এতোখনে অধের পথে চলে আসছো ।(ফরহাদ)
:+আমি যানি না তো এখন আমরা কোথায় ।(তৃপ্তি)
:+আচ্ছা মামুনি তুমি নিদ্রকে ফোনটা দাও ।(ফরহাদ)
তৃপ্তি কান থেকে ফোন সরিয়ে নিদ্রর দিকে বারিয়ে দিলো ।
:+ভাইয়া বড় আব্বু তোমার সাথে কথা বলবে ।(তৃপ্তি)
নিদ্র গাড়ি স্লো করে বাম হাত দিয়ে তৃপ্তির কাছ থেকে ফোন নিলো ।
:+হ্যাঁ পাপা বলো ।(নিদ্র)
:+কোথায় আছিস এখন ।(ফরহাদ)
:+এই তো বিশ্বরোডে উঠতে আরো ১ ঘন্টা সময় লাকবে ।(নিদ্র)
:+ঠিক আছে সাবধানে আয় । কিছু খেয়েছিস এখনো ।(ফরহাদ)
:+চাচি আম্মা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে খাইয়ে দিয়ে ছিল ।(নিদ্র)
:+সেটা তো ৪/৫ ঘন্টা হয়ে গেছে । গাড়ি কোন রেস্টুরেন্টে পার্ক করে খেয়েনে । এরপর ধিরে সুস্থে আয় এতো তারা নেই কোন।(ফরহাদ)
:+ঠিক আছে ।(বিদ্র)
নিদ্র কল কেটে দিয়ে ফোনটা গারির সামনের ছোট একটা বক্স এ রেখে দিলো । তৃপ্তি নিদ্রর দিকে চোখ বড় বড় করে একবার তাকিয়ে আবার বাহিরের দিকে তাকিয়ে রইলো । নিদ্র এসব কিছু লক্ষ করেনি । কিছুখন ড্রাইভ করে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে গাড়ি পার্ক করলো নিদ্র ।
:+নাম গাড়ি থেকে । এখান থেকে কিছু খেয়ে নেই ।(নিদ্র)
তৃপ্তি মুখ ভার করে বললো ।
:+না আমি নামবো না ।(তৃপ্তি)
:+নামবি না মানে । এই না বললি তোর খিদে পেয়েছে ।(নিদ্র)
:+ফোনটা আমার হাতে দিলে কি হতো ।(তৃপ্তি)
:+ওরে আমার কিউটিরে । এটা আগে বললেই তো হতো ।(নিদ্র)
:+না আমি নামো না । খাবো না আমি ।(তৃপ্তি)
নিদ্র তৃপ্তিকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো । এরপর নিজের বুকের সাথে পরম জনতন্ত্রে জরিয়ে ধরে বলল ।
:+আগে খেয়ে নেই । তারপর যতখন খুশি তোর কাছে ফোন রাখবি । আমি কিছু বলবো না ।(নিদ্র)
:+সত্যি তো ।(তৃপ্তি)
:+হুম সত্যি । এবার নাম ।(নিদ্র)
এরপর দু’জনে গাড়ি থেকে নেমে দারালো । তৃপ্তি নিদ্রর হাত ধরে রেস্টুরেন্টের ভিতরে আসলো । একটা টেবিলে বসলো দু’জনে ।
:+ভাইয়া আমার একটু ফ্রেশ হবার দরকার ছিল ।(তৃপ্তি)
এমন সময় ওয়েটার ও আসলো ।
:+কি খাবেন স্যার ।(ওয়েটার)
:+আগে একটু হেল্প লাগবে ।(নিদ্র)
:+কি হেল্প স্যার ।(ওয়েটার)
:+আপনাদের এখানে ওয়াসরুম কোথায় একটু দেখিয়ে দিতেন যদি ।(নিদ্র)
:+ওই যে ওদিকে ।(ওয়েটার)
:+ছেলেদের’টা না,,,,,,,,,, মেয়েদের’টা ।(নিদ্র)
:+ওর পাসেই মেয়েদের ওয়াসরুম ।(ওয়েটার)
:+থ্যাংস ।(নিদ্র)
এরপর নিদ্র তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বললো ।
:+যা ওখানে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে ।(নিদ্র)
:+আমার ভয় করছে । তুমিও চলো না ।(তৃপ্তি)
:+ওকে চল ।(নিদ্র)
নিদ্র তৃপ্তিকে এখন একা ছারতে চায় না । তাই তৃপ্তির এক কথায় রাজি হয়ে গেল নিদ্র । তৃপ্তি ওয়াসরুমে চলে গেল । আর নিদ্র লেডি ওয়াসরুমের বাহিরে দারিয়ে রইলো ।
★
দু’জনে ফ্রেশ হয়ে রেস্টুরেন্টে খেয়ে বিল দিয়ে গাড়িতে এসে বসলো আবার ।
:+ভাইয়া এবার ফোনটা দাও ।(তৃপ্তি)
:+তোর সামনেই তো বক্সে ফোন । হাত বারিয়ে ফোনটাও নিতে পারিস না ।(নিদ্র)
:+না পারি না । তুমি দাও ।(তৃপ্তি)
নিদ্র আর কথা বারালো না । বক্স থেকে ফোন বের করে তৃপ্তির হাতে দিলো । এরপর আবার গাড়ি ড্রাইভ করা সুরু করলো । তৃপ্তি ফোন পেয়ে সোজা গেম অপেন করলো । এরপর আপন মনে গেম খেলতে লাগলো তৃপ্তি । আর নিদ্র আপন মনে গাড়ি ড্রাইভ করছে । হুট করে নিদ্রর ফোনে সালমা কল করে ।
:+কে কল করছে তৃপ্তি ।(নিদ্র)
:+আম্মু কল করছে ।(তৃপ্তি)
:+তো রিসিপ করে কথা বল ।(নিদ্র)
তৃপ্তি কল রিসিপ করে কানে ধরলো ।
:+হ্যালো । কত দুর প্রজন্ত পৌঁছাতে পারছো তোমরা বাবা ।(সালমা)
:+আম্মু আমি ।(তৃপ্তি)
:+ওহ,,তৃপ্তি । কত দুর প্রজন্ত পৌঁছাতে পরছিস মা । (সালমা)
:+আমি তো যানি না আম্মু । আচ্ছা ভাইয়াকে জিগ্যেস করে নেই ।(তৃপ্তি)
তৃপ্তি কান থেকে ফোন সরিয়ে নিদ্রকে বললো ।
:+আমরা এখন কোথায় আছি ।(তৃপ্তি)
:+বল বিশ্বরোডে উঠে পরছি । আরো ৩/৪ ঘন্টা লাকবে পৌঁছাতে ।(নিদ্র)
:+হ্যালো আম্মু । আমরা বিস্বরোডে উঠে পরছি আরো ৩/৪ ঘন্টা লাকবে ।(তৃপ্তি)
:+আচ্ছা বাসায় গিয়ে আবার কল করিস । আর কিছু খেয়েছিস এখনো ।(সালমা)
:+হুম আম্মু সবে মাত্র একটা রেস্টুরেন্টে থেকে খেয়ে আবার গাড়িতে উঠলাম আমরা ।(তৃপ্তি)
:+ঠিক আছে বাসায় গিয়ে কল করিস ।(সালমা)
এই বলে সালমা কল কেটে দিলো । তৃপ্তি আবার গেম খেলতে লাগলো ।
এতপর হাতিরঝিল এসে যেমে পরলো তারা । এতোখন তৃপ্তি গেম খেলছিল । হঠাৎ নিদ্র গাড়ি দার করানোর করনে ফোন থেকে মাথা তুলে চার পাসে তাকালো তৃপ্তি । চার পাসে তাকিয়ে তৃপ্তির মুখ হা হয়ে গেল । এতো বড় বড় ব্রিলিং (বাড়ি)সে জন্মের পর থেকে এখনো দেখেনি ।
:+ভাইয়া আমরা এখন কোথায় ।(তৃপ্তি)
:+হাতিরঝিল । যেমে আটকে গেছি ।(নিদ্র)
:+ওহ । আমার মনে হচ্ছে আমি বিদেশ চলে এসছি ।(তৃপ্তি)
নিদ্র তৃপ্তির মাথায় আসতে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল ।
:+ধুর বোকা ।(নিদ্র)
:+আর কতো সময় লাকবে । ভালো লাকছে না আর ।(তৃপ্তি)
:+আরো ঘন্টা খানিক লাকবে ।(বিদ্র)
তৃপ্তি আবার মাথা নিচু করে ফোনে গেম খেলতে লাগলো । গেম খেলতে ভালো লাকছে না আর তৃপ্তির । তাই ফোনটা গাড়ির সামনের বক্সে রেখে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে নিলো তৃপ্তি ।
:+তৃপ্তি,,,,,,, ঘুম আসছে ।(নিদ্র)
তৃপ্তি নিদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ।
:+হুমমমমম ।(তৃপ্তি)
নিদ্র এসিটা একটু বারিয়ে দিলো ।
:+সিট বেল বেধে দেই ।(নিদ্র)
:+ওকে দাও ।(তৃপ্তি)
নিদ্র তৃপ্তির দিকে একটু ঝুকে সিট বেল বেধে দিলো।
:+শরীর খারাপ লাকছে না তো ।(নিদ্র)
:+এতো দুরে যানিং করলে একটু তো খারাপ লাকবেই ।(তৃপ্তি)
:+আচ্ছা চোখ বুঝে চুপচাপ ঘুমা তাহলে।(নিদ্র)
তৃপ্তি আর কোন কথা বললো না । চুপচাপ ঘুমিয়ে পরলো । যেম ছুটতেই গাড়ি ছুটালো নিদ্র ।
এতপর দুপুর ২টা বাজে নিজ বাড়িতে আসলো নিদ্র । পাচ তোলা বাড়ির গেটের ভিতর দিয়ে গাড়ি ঢুকিয়ে পার্ক করল । নিদ্রদের বাড়িটা পাচ তোলা । নিচ তলা আর দোতলায় সুধু তারা থাকে । ৩/৪/৫ তলার প্লাট গুলো ভারা দেওয়া ।
★
গাড়ির হন এর শব্দ সুনে বাড়ির ভিতর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন আমেনা বেগম । তিনি বেরিয়ে দেখেন নিদ্র তৃপ্তিকে গাড়ি থেকে কোলে তুলে নিচ্ছে । এটা দেখে তিনি আরো তারাতাড়ি নিদ্রর কাছে ছুটে যান ।
:+কি হয়েছে মেয়েটার নিদ্র । ওকে এভাবে কোলে তুলে নিচ্ছিস কেন ।(আমেনা)
:+ওহ mom আসতে কথা বলো । ও ঘুমিয়ে পরছে । কিছু হয়নি ওর । মনে হয় শরীরটা একটু খারাপ লাকছে ।(নিদ্র)
:+ও ও । আমি তো আবার অন্য কিছু মনে করে ছিলাম । আচ্ছা তুই ওকে বাসার ভিতরে নিয়ে যা । দোতলায় তোর রুমের সামনে যেই রুমটা আছে ওটা আমি ওর জন্য গুছিয়ে রেখেছি । আর দারোয়ানকে বলে বেগ গুলো বাসার ভিতরে নেওয়ার বেবস্তা করছি ।(আমেনা)
:+ঠিক আছে ।(নিদ্র)
এই বলে নিদ্র তৃপ্তিকে কোলে তুলে নিলো । এরপর বাড়ির ভিতরে এসে সোজা দোতলায় নিয়ে আসলো । তৃপ্তির জন্য যেই রুমটা গুছিয়ে রেখে ছিল আমেনা নিদ্র সেই রুমে গিয়ে তৃপ্তিকে খাটে সুয়িয়ে দিলো ।
এরপর রুমের এসি ছেরে দিলো । মুখের উপর থেকে নিকাব সরিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো নিদ্র ।
#চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
((কপি করা নিষেধ))
[বি.দ্র: ভুল ত্রুটি ক্ষমার দিষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ]

