#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৬.
অক্টোবরের ঘ্রাণ ছুটেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। শীতের আগমনী শহরের আনাচে কানাচে না পৌছালেও, নত তাপমাত্রা মাসের শুরুকে মনকাড়া করে তুলেছে। স্থির শান্ত পরিবেশে, পুবালী হাওয়া। বড়বড় অক্ষরের ‘মুক্তি ও গনতন্ত্র তোরণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ লেখাটা যেনো স্বপ্নের দুনিয়ায় প্রবেশপথ। যেখানে পথচারী হাজারো স্বপ্নবাজেরা। কার্জনের সামনের দাড়িয়ে আছে শার্লি আর রুমন। মুলত তাথৈ আসবে বলে অপেক্ষা করছিলো ওরা। শার্লি সাইকেলে বসে, রুমন পাশের নারকেল গাছটায় হেলান দিয়ে দাড়ানো। অনেকটা সময় পেরোলেও তাথৈয়ের খোজ নেই। অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একপর্যায়ে শার্লি সাইকেল থেকে নেমে দাড়ালো। সাইকেল ঘুরাতে ঘুরাতে রুমনকে বললো,
– তুই দাড়া আমি আরেকটু এগিয়ে…
সাইকেল ঘুরানোর আগেই কারো সাথে ধাক্কা লেগে থেমে যায় শার্লি। চোখ তুলে তাকাতেই দেখে মেরুন টিশার্ট পরিহিত তুল্য ওর সামনে দাড়ানো। কাধে ব্যাগ, জিন্স, সাদা কেডস্। ওকে দেখেই তুল্য চেচিয়ে বললো,
– চোখ কই নিয়ে হাটিস তুই? সবসময় আমার গায়েই কেনো পরতে হবে তোকে?
‘একই প্রশ্ন আমিও তোকে করতে পারি তুল্য! সবসময় আমার গায়েই কেনো পরিস তুই?’
জবাব দিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইলো শার্লি। কিন্তু জবাব না পেয়ে রাগ হলো তুল্যর। পা দিয়ে ওর সাইকেলের চেইন চারা মারলো। খুলে পরে গেলো চেইনটা। ওটা দেখে শার্লির হুশ হলো, ও বাস্তবে কোনোপ্রকার জবাব দেয়নি তুল্যকে। যা বলেছে, কল্পনায়। দিবাস্বপ্নে। চেইন পরা সাইকেলটা দেখে কল্পনায়ই কয়েকটা ঘুষি ছুড়লো ও তুল্যর মুখে। রুমন পেছন থেকে হেলতেদুলতে বললো,
– ধাক্কাধাক্কি শেষ হলে একটু এদিকেও তো চোখ তুলে দেখো তুল্যবাবু? তোমায় দর্শন দেবে বলে দিনেরবেলা কার্জনে চন্দ্রমুখী ঘুরঘুর করছে যে!
– তোকে দেখার পর চোখ খুলে শহিদুল্লাহ হলের পুকুরে ছুড়ে মারতে ইচ্ছে করছে। এই চেহারা নিয়ে আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করা বন্ধ কর। খবিশমুখী কোথাকার!
একমুহুর্ত না দাড়িয়ে ওদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলো তুল্য। রুমন মাথা আর একহাত মাথার গাছে ঠেকিয়ে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুর তুললো, ‘মিলন হবে কতো দিনে….’ শার্লি কিছুই বললো না। হাতঘড়িতে সময় দেখলো। সাইকেল আবারো দাড় করিয়ে, শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে বললো,
– শোন রুমন, অন্তু ভাইয়ের জন্য আজকেও যদি তাথৈ আমাদের ওপর রিয়্যাক্ট করে, আমি ঠিক করেছি আজ আমিও ওকে শুনিয়ে দেবো। ছাড় দেবো না! কি ভেবেছে টা কি ও? এক অন্তুর জন্য জীবনের সব সুখেরও অন্তিম সংস্কার করবে নাকি? হুদাই!
– আসছে মোর শিং ছাড়া সিংহাম!
শার্লি যতোটুকো আত্মবিশ্বাসে বলেছিলো, পুরোটাকে পরোটা বানিয়ে চিবিয়ে নিলো রুমন। শার্লি ওর দিক ফিরে মুখের হাতিয়ার ছুড়লো। জোর গলায় বললো,
– মার খাবি? না চুপ থাকবি?
– তুই চুপ থাক! যতোই বলিস তুই ছেলেদের মতো অনেক সাহসী ব্লা ব্লা, তাথৈয়ের সামনে ঠিকই ভিজেবিড়াল হয়ে যাস। সো আমাকে এসব শুনাতে আসিস না! হুহ!
রুমনের বিরক্তিভর জবাব। বিরক্তই বটে ও। কেননা তুল্য চলে যাবার সেকেন্ড বিশেকের মধ্যে অন্য নজরানায় আটকেছে ওর চোখ। তখন উঁকিঝুঁকি দিয়ে অন্য কাউকে দেখছিলো ও। হালকা নীল শার্ট, কালো প্যান্ট পরিহিত এক সুঠামদেহী যুবক সবে পাশ কাটিয়ে গেছে ওদের। গলার পেছনে হাত বুলাতে বুলাতে, পেছন থেকে তার চলে যাওয়া দেখতে লাগলো রুমন। ওর গুরুত্বহীন জবাব শুনে শার্লি কঠোরচোখে তাকালো ওর দিকে। বললো,
– তুই আমাকে ভীতু বললি?
– তুই ওইটাই।
তেতে উঠে রুমনের পান্জাবীর কলার চেপে ধরে শার্লি। কম ওজনের বলে ওটুকেতেই পুরো শরীর ঝাকি দিয়ে ওঠে রুমনের। শার্লি ওর কলার ঝাঁকিয়ে, ঝাঝালো গলায় বললো,
– তোকে চুপ থাকতে বললে, চুপ থাকবি। বেশি বকবক করবি তো মুক্তিবেগে ছুড়ে একদম দুনিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেবো। আর তুইও জানিস, ছোড়াছুড়িতে আমি কেমন। শোরুম আল হাসানের বোলিংও আমার ধারেকাছে নাই!
রুমন ঢোক গিললো। টের পেলো সত্যি বলাটা উচিত হয়নি ওর। নমনীয় হয়ে শার্লির হাত থেকে কলারটা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো। সামাল দিতে জোরালো হেসে বললো,
– ত্ তুই যদি সাহসীই হবি, তাহলে ওই ফার্স্টইয়ারের ছেলেটা কেনো তোকে ভয় পেলোনা? কেনো তোকে সালাম না দিয়ে ওমন ডোন্ট কেয়ার ভাবে চলে গেলো? যা পারিস সব আমার সাথেই না? ওটাকে ধর?
শার্লি রুমনকে ছেড়ে দিলো। তারপর ওর বলা ছেলেটার দিকে তাকালো। সত্যিই সে আঙুলের ওপর বই ঘুরিয়ে, মনের সুখে শীষ বাজাতে বাজাতে যাচ্ছে। শার্লির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বললো, শীষ বাজিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার মতো এতো সুখ, ও কেবল ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেদেরই হয়। যেহেতু রুমন ওর সাহসের পরিচয় চাচ্ছে, সেটার জন্য ছেলেটাকে ডাক লাগাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো শার্লি। ফার্স্ট ইয়ার হয়েও ওদেরকে সালাম না দিয়ে পাশ কাটালো, সে দোষে ছেলেটাকে পাকড়াও করাই যায়। গলা উচিয়ে বললো,
– ওয় ফ্রেশার?
রুমন বাহাত বুকে গুজে ডানহাতে থুতনি চেপে ধরলো নিজের। বিরবিরিয়ে বললো, ‘পালাট!’ শার্লির উচ্চস্বরের পিছুডাক শুনে তাশদীদ থামলো। ঢাবিতে আজ ওর প্রথমদিন। ক্লাস শুরু আজ থেকেই। ভার্সিটির বাস থেকে শুরু করে কার্জন, পুরোটার জন্য এখনো মনপ্রাণ পুলকিত হয়ে আছে ওর। একদম অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের ফিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেছে ও। দেরিতেই সই, ওউ এখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী৷ পরক্ষনেই তাশদীদের মনে পরলো, ও ফ্রেশার না। ও আগের সেশনের, মাস্টার্স করতে এসেছে। সুতরাং ওকে কেউ ফ্রেশার বলবে না। তাই হাতের সরু বইটা ডানহাতের শাহাদত আঙুলে নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে, ঠোঁটে শীষ তুলে আবারো হাটা লাগালো তাশদীদ। ওর ওমন গা ছাড়া ভাব দেখে কপাল কুচকালো শার্লি। আরো জোরে চেচিয়ে বললো,
– ওয় নীল শার্ট? ডাক কানে যায় না?
তাশদীদ থামলো। নীল শার্ট মানে ওকেই ফ্রেশার বলা হচ্ছে। হেসে পেছন ফিরলো ও। তারপর সভ্য ছেলেটার মতো পা বাড়ালো শার্লি-রুমনের দিকে। ওকে দেখেই রুমন খপ করে শার্লির হাত ধরে ফেললো। জড়ানো কন্ঠে বললো,
– পোলা তো নয় যেনো আগুনের গোলা। একে কাছে ডাকিস না শার্লি। এই আগুন আমার থেকে দুরে রাখ। ঝলসে যাবো। পুড়ে যাবো। ছাই হয়ে যাবো।
শার্লি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ওর মাথায় ঠাস করে চড় লাগালো। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে রুমন কিছুটা দমে রইলো। শার্লি মারটা বেশ জোরে লাগিয়েছে। তাশদীদ এগিয়ে এসে খানিকটা নিচু হয়ে, অতি সুন্দরভাবে বললো,
– জ্বী আপু?
শার্লির কপাল শিথিল হলো। মানে তাশদীদের ভদ্রতা ওকে এটুক শান্তনা দিয়েছে যে, ওর কঠোরতায় যেকেউ ভয় পায়। রুমন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাশদীদের দিকে। শার্লি তাশদীদের হাত থেকে বইটা নিলো। গলা ঝেরে, ভাব নিয়ে বললো,
– এহেম। ক্ কি নাম তোমার?
– তাশদীদ ওয়াসীর।
– দেওয়ানা হলাম ওই কিউট হাসির।
মুগ্ধস্বরে রুমনের কথাটা স্পষ্ট শুনলো তাশদীদ। শার্লি তৎক্ষনাৎ ওর পায়ে পারা লাগালো। আউচ শব্দে পা চেপে ধরে রুমন। ব্যথা লুকোতে, মুখ চেপে ধরে কাশি দেয় দুটো। তাশদীদ হাসি বর্ধিত করে, ওর দিকে হাত বাড়িয়ে বললো,
– কি মিষ্টি আওয়াজ, আপনার কাশির।
তাশদীদ কি বললো না বললো, তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই রুমনের। মন্ত্রপূত মানবের মতো তাশদীদের হাতে হাত রাখে ও। শার্লি দ্রুততার সাথে হাত ছাড়িয়ে দেয় ওদের। তাশদীদকে বলে,
– এ্যাঁই, একদম অতিভক্তি দেখাবা না! ক্ কোন ডিপার্টমেন্ট তুমি?
– আব্ প্রাণরসায়ন আপু। সবে এডমিট হয়েছি।
তাশদীদের জবাব শুনে খুশি হয়ে গেলো শার্লি। বললো,
– ও! ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র। শুনো! আমি তোমার ডিপার্টমেন্টেই। দুইব্যাচ সিনিয়র বুঝছো?
তাশদীদ ঠোঁট চেপে হাসি আটকালো। পরপরই অতি গম্ভীর মুখ বানিয়ে মাথা দুলালো। মানে ও সব বুঝেছে। তবে শার্লি ওর হাতের বইটা দেখে কিছুটা অবুঝের মতো তাকিয়ে রইলো। বললো,
– এইটা কোন সেমিস্টারের বই? ফার্স্ট সেমিস্টারে এসব ছিলো?
– পড়াশোনা করেছিস কিছু যে মনে থাকবে?
পেছন থেকে বিরবিরিয়ে বললো রুমন। তাশদীদ ঠোঁট চপে ধরে হাসি আটকাতে গিয়ে চোখও বন্ধ করে নিলো এবারে। শার্লি লক্ষ করলো, হাসি আটকানোর তীব্র চেষ্টারত সে। রাগী আওয়াজে বললো,
– হোই মহাশয়? তোমার সাহস তো কম না! একদিনে ক্যাম্পাসে এসেই সিনিয়রকে নিয়ে হাসছো?
তাশদীদ ভয় পাওয়ার মতো করে তৎক্ষনাৎ চুপ হয়ে যায়। শার্লি তীক্ষ্ম নজরে ওরদিক তাকিয়ে বললো,
– আপাতত যাও। তিনজন ফ্রেন্ড বানিয়ে, তাদের সাথে এসে বইটা নিয়ে যেও। বুঝেছো?
তাশদীদ মাথা ওপরনিচ করলো। নবীনদের স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়া ওর অজানা না। আগের ক্যাম্পাসে চার চারটে ব্যাচ সামলে এসেছে ও। এইযে শার্লি ওকে আরো তিনজন বন্ধু সমেত আসতে বললো, এরমানে আরো তিনচারজনের কাছ থেকে আনুগত্য আর সম্মাননা চাই ওর। সেটা বুঝতে বাকি রইলো না তাশদীদের। ছোট একটা দম নিলো ও। যে শার্লি ওকে দুইবছরের সিনিয়র বলে এমন ডাঁট সাট দেখাচ্ছে, তিনঘন্টা পর যখন ওর সামনে ওরই দুই বছরের সিনিয়র হয়ে তাশদীদ দাড়াবে, তখন কি হবে? মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝিয়ে তাশদীদ চলে গেলো ওখান থেকে। রুমন শার্লির কাছ থেকে বইটা নিয়ে বুকে চেপে ধরলো। বললো,
– ভালো করেছিস আসতে বলে। হ্যান্ডসামের সাথে আরো একবার দেখা হয়ে যাবে।
রাগে রুমনের গলা টিপে ধরতে যাচ্ছিলো শার্লি। তখনই পাশ থেকে আওয়াজ এলো,
– শার্ট জিন্সে তোকে অনেক মানায় শার্লি।
শার্লি পাশ ফিরলো। চার পাঁচটে ছেলে পাশ দিয়েই যাচ্ছিলো ওদের। সবার সামনের ছেলেটার নাম আফিফ। বিশ্রি হাসিসমেত কথাটা ওই বলেছে। ওর কথায় বাকিরাও হাসছে। কিন্তু দু সেকেন্ডের মধ্যে চুপ হয়ে গেলো সব। হাটতে হাটতেই আফিফ মুখ থুবড়ে পরে গেছে ইট বিছানো পথে। শার্লি অবাক হলো। ছেলেগুলো কিছুটা সরে দাড়াতেই ওর চোখ পরলো ওপরপাশে দাড়ানো তাথৈয়ের দিকে। পরনে হাটুর ওপর অবদি লম্বা লাল সাদা রঙের গোলাকার কুর্তি, জিন্স। উচুতে ঝুটি করা। বুকে হাত গুজে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে আফিফের দিকে তাকিয়ে আছে ও। বিশ্বজয়ের হাসি দিলো শার্লি। ওর বুঝতে বাকি নেই, ওকে বাজে কথা বলার দায়ে তাথৈ আফিফকে পা বাঝিয়ে ফেলে দিয়েছে। বড়বড় পা পেলে আফিফের সামনে গিয়ে দাড়ালো ও। রুমনও এগোলো। তাথৈ বুক থেকে হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
– শার্লির পায়ের নিচে তোকেও বেশ মানাচ্ছে আফিফ।
আফিফ ঠোঁটে আঙুল ছুইয়ে দেখে সেখানে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। মাটিতে পরে দাঁতের আঘাতে কেটে গেছে বোধহয়। রাগ নিয়ে উঠে দাড়ালো ও। উচ্চতায় বেশ বড় মানুষটাকে ওভাবে দাড়াতে দেখে রুমন শার্লির কিছুটা পেছনে গিয়ে দাড়ালো। আফিফ তাথৈয়ের দিকে আঙুল উচিয়ে বললো,
– তুই দিনকেদিন সীমাপার করছিস তাথৈ! এর জন্য একদিন প্রচুর পস্তাতে হবে তোকে। তোর…
আফিফের বলা শেষ করার আগেই ওর পাশেরজনের হাতের সিগারেটটা কেড়ে নিলো তাথৈ। আফিফের তাক করে রাখা আঙুলে ছোঁয়ালো সিগারেটের জ্বলন্ত ডগাটা। তৎক্ষনাৎ আঙুল নামিয়ে নিতে বাধ্য হলো আফিফ। তাথৈ একহাত বুকে বাঝিয়ে, তাতে সিগারেট ধরে রাখা হাতের কনুই ঠেকিয়ে, শান্তশিষ্টভাবে বললো,
– ডোন্ট ইউ ডেয়ার আফিফ। আমাকে তাক করা ভালো কথাকেও আমি ছাড় দেইনা। আর সেখানে তোর আঙুল তো…
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কিছুক্ষণ তাথৈয়ের দিকে চেয়ে রইলো আফিফ। তাথৈ বিন্দুমাত্র পাত্তা দিলোনা৷ ঘাড় কাৎ করে, আগ্রহভরে তাকিয়ে রইলো আফিফের দিকে। আফিফ ওর দলবল নিয়ে চলে গেলো ওখান থেকে। শার্লি বললো,
– এই ছয় ফুটের দানবটাকে একদিন বেধরক পেটাতে পারলে প্রচুর শান্তি লাগতো। শয়তান একটা!
রুমন হেসে বললো,
– ও তোর দ্বারা হবেনা। কিন্তু তুই একদম উচিত জবাব দিয়েছিস তাথৈ! তোর জবাবও তোর মতো! পার্ফেক্ট!
ওর কথা তাথৈয়ের কানে গেলো না। ও ওর হাতের সিগারেটটার দিকে তাকিয়ে। কি সুন্দর ফোমের নলের মতো বস্তুটার ওপরিভাগ জ্বলছে। খালিচোখে দেখা যায় সেটা। যেখানে যাই কিছু জ্বলুক, তা সবার চোখে পরে। কিন্তু মনের ভেতর জ্বলা তুষের অনল, হৃদয়ের রক্তক্ষরন, বিষাক্ত জীবনে জ্বলা অঙ্গার, তা কারো চোখে পরে না। কেউ দেখে না সে দহন। কেউনা!
বই ফেরত নিতে এসে, কিছুটা দুরেই থেমে গেলো তাশদীদ। প্রথমসেকেন্ডে ও অবাক হয়েছিলো ক্যাম্পাসে তাথৈকে দেখে। কিন্তু পরেরমুহুর্তে আটকে যায় তাথৈয়ের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট দেখে। একদৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাথৈকে দেখে নিয়ে, পিছন ফিরলো তাশদীদ। জোরপূর্বক হাসলো ও। একপলক সাদামেঘের আকাশের দিকে তাকিয়ে, হাটা লাগালো নিজের ক্লাসের উদ্দেশ্যে। ওর আনমনা মনটা হয়তো বলে উঠলো, ‘শি ইজ নট ইওর টাইপ তাশদীদ। শি ইজন নট ইওর টাইপ এট অল!’
#চলবে…

