প্রেম_অপ্রেম_অধ্যায় |৮| #আফরিন_সুলতানা 🖤

0
457

#প্রেম_অপ্রেম_অধ্যায় |৮|
#আফরিন_সুলতানা 🖤

_
অসহ্য ব্যথা আর যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছে মৌনি। তার গোঙানির শব্দ অতি মৃদু, তার বিছানাতেই আবদ্ধ। বিছানায় টানটান হয়ে পড়ে আছে সে, নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও তার নেই। শুধু চোখ দিয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে মৌনির। মার খেয়ে এমন বি”ষব্যথায় অসহ্যবার রাতের আধারে বিছানায় কাতরিয়েছে মৌনি৷ কেউ তাকে দেখতে আসেনি, সে মরল কি বাঁচল কেউ খোজ নিতে আসেনি৷ কেউ তার ব্যথায় মলম লাগাতে আসেনি, কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে বলেনি-‘ মৌনি তুমি ভালো আছো? ’ এ বাড়িতে কেউ এমনটা করবে এমনটা মৌনির আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নেই। মার খেয়ে সারারাত ব্যথায় কাতরিয়ে সকালে উঠে আবার যথারিতি দৈনন্দিন কাজ করেছে৷ এসব ব্যথায় কখনো মলম লাগায়নি, কখনো ওষুধ খায়নি৷ দীর্ঘদিন ব্যথায় ভুগে আপনাআপনি-ই সেরেছে। তবে আজ ব্যথায় কেউ মলম লাগিয়ে দিয়েছে, সেজন্য ব্যথার সাথে আঘাতের জায়গাগুলোও জ্ব”লছেও খুব। মৌনি বুঝতে পারছেনা তার ব্যথায় মলম লাগালো কে? কে তাকে য”ন্ত্রণার ওষুধ খাওয়ালো৷ তখন তো সিড়ির কাছে জ্ঞান হারিয়ে পড়েছিল। জ্ঞান হারানোর আগে কাকে যেন একটা দেখেছিল। কাকে দেখেছিল..কাকে.. একটা পুরুষমানুষ ছিল৷ ওহ হ্যাঁ, কল্প ছিল বোধহয়৷ ওই ছেলেটা কি তাকে ওষুধ দিল? কিন্তু ওই ছেলেটা ওষুধ দিতে যাবে কেন? আমাকে কি সে আরো ঋণী করতে চায়? আমার থেকে আরো সাহায্য পেতে চাই? ধুর, আমি কি যে ভাবিনা, ছেলেটা বোধহয় আমার সাহায্যের জন্য থোরাই বসে আছে। এসব ভাবতে ভাবতে মৌনির হাতটা মাথায় চলে যায়, মাথা সাদা ব্যান্ডেজের আভাস পেতেই চমকায় সে। কেউ তার মাথায় ব্যান্ডেজও করে দিয়েছে?
জ্ঞান ফিরতেই মৌনি হাত এদিক ওদিক করতে টের পেয়েছিল তার ক্ষততে মলমের অস্তিত্ব। পাশের টেবিলে রাখা ওষুধগুলো দেখে বুঝেছিল এগুলো হয়তো তারই। তবে মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে সে খেয়াল পায়নি মৌনি৷ কপালে ব্যান্ডেজের অস্তিত্ব টের পেতেই মৌনি বুঝতে পারে তার খুব ভালো মতোই চিকিৎসা করা হয়েছে। কি আশ্চর্য! মার খেয়ে দিনের পর দিন অসুস্থ থেকে সে, তীব্র জ্বরে ভুগেছে, কাটা জায়গায় ঘা ‘ও বেধেছে কিন্তু কেউ তার চিকিৎসা করায় নি। আর আজ কি এমন হলো যার জন্য এতো ঘটা করে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে? মৌনি দারুণ বিস্মিত হলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে সে বিস্ময় সীমা ছাড়ালো। নিজের অজান্তেই কলের পুতুলের ন্যায় উঠে বসল সে৷ এতোক্ষণ এসব খেয়াল না করে য”ন্ত্রণায় কাঁদছিল সে। এখন যখন ভালো করে এদিকওদিক তাকালো খুব ভালো করেই বুঝলো এটা তো তাদের ড্রয়িংরুম নয়। আর সে-ও ড্রয়িংরুমের ওই চৌকিতে শুয়ে নেই। এটা সাজানো গোছানো সুন্দর একটা ঘর। যে ঘর আর আগে মৌনি কখনো দেখেনি। ঘুমের ঘোরে এটা কোথায় সে পড়লো সে?

“ কিরে মেয়ে, ওমন করে কি দেখিস? এটা আমার ঘর রে পা”গলী। ”

মৌনি চমকে খাটের ডান দিকে তাকালো। কেউ মেঝেতে বসে খাটের পায়ায় মাথা হেলান দিয়ে বসেছে। তার মাথাটাই শুধু দেখা যাচ্ছে। তবে তার মাথা দেখেই তাকে ঢেড় চিনল মৌনি। সে আরো অবাক হলো। বিস্মিত কন্ঠে আওড়াল, “ রুপা! ”

রুপা ফিরে তাকায়৷ চোখের পলকেই খাটে উঠে হাটু ভাজ করে বসে।

“ কিরে, ভ”য় পাইছি? ”

“ তুই এখানে কি করছিস? ”

“ বারে, আমার ঘরে আমি থাকবো না তো কি তুই থাকবি নাকি? ”

“ আমি এখন তোর ঘরে আছি! আমি এ ঘরে আসলাম কীভাবে? ”

“ কেন? পরীর মতো উইড়া উইড়া আইছিস? ”

“ মজা করিস না রুপা। বল না ভাই এখানে আমি এলাম কীভাবে? আমি তো ওই সিড়ির মুখে বসে ছিলাম, তাহলে এখানে এলাম কি ভাবে? আর আমার গায়ে এসব ব্যান্ডেজ ফ্যান্ডেজ লাগালো কে? এই ওষুধ গুলো। প্লিজ বল রুপ এসব কে করেছে? ”

“ বললে কি দিবি? ”

“ যা চাইবি তাই দেব। যদি আমার দেওয়ার মতো সামর্থ্য থাকে। ‘

“ সত্যি তো? ”

“ হুম সত্যি। ”

“ আমার না অনেকদিন ধরে বেড়াতে যেতে মন চাচ্ছে। তুই আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবি। কাল আমি পার্কে যাবো। অনেক মজা করব। কি নিয়ে যাবি তো? ”

“ আচ্ছা নিয়ে যাবোনি, এবার তো বল৷ ”

“ ওই যে সুন্দর দেখে, একেবারে রসমালাইয়ের মতো দেখতে কালো…ঊম নীল..না না ঘোড়া কালারের শার্ট পড়ে এসেছিল ওই ছেলেটা। জানিস ছেলেটাকে কত্তো সুন্দর দেখতে…

“ ছেলেটার পায়ে কালো রঙের জুতো ছিল? ”

“ হ্যাঁ হ্যাঁ ওটাই। ”

“ নাম কি বলেছিল, কল্প? ”

“ কি জানি, এই মন জানিস ছেলেটা তোর ওই পচা রাজপুত্রের থেকে সুন্দর দেখতে। ”

রুপা প্রথম কথাগুলো উৎফুল্লতা প্রকাশ না পেলেও ছেলেটার রুপের উপমা দিতে গিয়ে দারুণ উচ্ছ্বলতা প্রকাশ পেল তার মধ্যে।
পচা রাজপুত্রর বলতে যে নিষাদকে বুঝিয়েছে সেটা বুঝতেই বিদ্যুৎ গতিতে এক ঝলক মনে পড়ে গেল নিষাদের কথা, ক্যান্টিনে ঘটা ওই ঘটনাগুলোর কথা। তখন নিষাদের মুখের উপর ওই উচ্ছিষ্টযুক্ত প্লেটটা ছুড়ে ফেলার কথা। তবে মূহুর্তেই সে ভাবনা ছাপিয়ে কল্পর চিন্তা মাথায় এসে উঁকি দিল। কল্প তাকে এখানে নিয়ে এসেছে তার চিকিৎসা করিয়েছি ভাবতেই গলা শুকিয়ে এলো মৌনির। তার বাড়ির লোকেরা কল্পকে আর তাকে নিয়ে ভুল বুঝেছে। এখন কল্পর তাকে এভাবে চিকিৎসা করতে দেখে আরো হয়তো ভুল বুঝেছে ওরা। সেজন্য মৌনিকে আর ঘরে তুলেনি তারা। মৌনির মনে অজানা আশংকার উঁকি দেয়।

“ রুপা? মনি কিছু বলছিল? যে আমাকে আর ঘরে তুলবে না বা এরকম কিছু। ”

রুপা নিরুত্তর।

“ এই রুপা, বলনা মনি কি কিছু বলছিল। রুপা…

পিছু ফিরে মৌনি বিস্মিত হয়। রুপা গুটিসুটি মেরে গালে আঙুল ঢুকিয়ে ঘুমাচ্ছে। এতো তাড়াতাড়ি একটা মানুষ ঘুমাতে পারে কীভাবে সেটা ভেবেই বিস্মিত হলো মৌনি। বিস্ময় ছাপিয়ে নিজের চিন্তাটুকুই মাথার মধ্যে বেশি উঁকি দিল। না জানি কাল সকালে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে..

______

ঘড়ির কাটা টিকটক করে দশের ঘরে এসে পৌছাতেই ক্যাচক্যাচ শব্দ তুলে খুলে যায় দরজাটা। ঘরের মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকার। অন্ধকারে নিজের হাতটাও দেখা দায়। বিলু ঘরের মধ্যে এমন অন্ধকার দেখে চমকে উঠল। পকেট হাতড়ে মোবাইল বের করল মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বা”লাতেই নজরে এলো খাটের হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে থাকা ভাইয়ের দিকে৷ ভাইয়া এক পা লম্বা করে আর এক পায়ের হাটু ভাজ করে বসে আছে। হাতে থাকা চকচকে ছুড়িটা নিয়ে দারুণ একটা খেলা খেলছে। সেটাকে ঊর্ধ্বে তুলে আবার ধরে নিচ্ছে৷ তবে আশ্চর্যজনক ভাবে সে এই অন্ধকারের মাঝে শুধু হাতলটা ধরে নিচ্ছে। ছুড়ি তার গায়েও টাচ করছে না।

ভাইয়ের এমন বিপজ্জনক খেলা দেখে আঁতকে ওঠে বিলু।এই অন্ধকারের মাঝে এমন খেলা করার কি দরকার। বাই এনি চান্স যদি লেগে যায়। তাহলে তো শেষ! বিলু আঁতকে উঠে বলে৷

“ ভাইয়া কি করো? হাতে লেগে যাবে। ”

তার নির্লিপ্ত ভঙ্গি দেখে বিলু নিজেই গিয়ে তার হাত থেকে ছুড়িটা কেড়ে নেয়। সে তার রক্তিম চোখ মেলে তাকায় বিলুর দিকে। বিলু চমকে ওঠে। চোখের চারিধার রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। অতি সূক্ষ্ম রক্ত শিরা ভেসে উঠেছে চোখের মধ্যে। ফর্সা মুখে যেন র”ক্ত জমেছে। বিলু আরো একটি চমকায় যখন তার আরো একটা এরকম মুখের কথা মনে পড়ে। সে যখন মৌনিকে প্রথম দিন অডিটোরিয়াম রুমে কাঁদতে মৌনির চোখমুখের অবস্থাও এমন ছিল। শ্যামলাটে মুখে লাল টুকটকে দুটো চোখ। সে তো কান্না করেছিল, ভাইও কি কেঁদেছে নাকি?

“ ভাই! ”

ধীরুসুস্থে উত্তর দিল সে।
“ বল। ”

“ তুমি কি কেঁদেছ? ”

“ আমাকে কাঁদতে দেখেছিস কখনো? ”

“ না কিন্তু তোমার চোখ দুটো এমন লাল কীভাবে? মৌনি সেদিন কান্না করছিল বলে ওর চোখও এমন লাল হয়েছিল। ”

“ আমি কি মৌনি যে ওর মতো কান্না করে চোখ লাল করব? ”

“ তোমার চোখমুখের অবস্থা দেখে তাই মনে হচ্ছে। তুমি কি রেগে আছ ভাই? ”

“ না। ”

ভাইয়ের কথার তেজ শুনেই বিলু বুঝলো কিছু একটা নিশ্চয়ই হয়েছে। বিলু এতটুকু শিউর, ভাই কান্না না করলেও রেগে আছে। রেগে থাকলেই ভাইয়ের চোখমুখ এমন লাল হয়ে যায়। বিলু এটাও খুব ভালো করে ভাইয়ের রাগ মারাত্মক। ভাইকে বাইরে থেকে দেখে যতোটা শান্ত মনে হচ্ছে সে ভেতরে ভেতরে তার থেকে বেশি অশান্ত। ভাই তো মৌনির ওখানে গিয়েছিল, ওখানে কি কিছু হয়েছে? নাকি মৌনির সাথে আজ ভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা নিয়ে রেগে। ভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার রাগ ভাই পূর্বেই প্রকাশ করেছে, তাহলে? মৌনির ওখানে গিয়ে কি কিছু হলো?

“ ভাই, মৌনির সাথে কথা হয়েছে তোমার? ওর বাড়িতে যেতে পেরেছিলে? ও কেমন আছে? ”

বিলুর প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করতে দেরি কিন্তু তার উঠে ড্রেসিনটেবিল ভর্তি জিনিসগুলো নিচে ফেলতে সময় লাগে না৷ বিলু আঁতকে ওঠে৷ সে কিছু বলার সুজোগও পেল না তার আগেই তার শক্ত হাতের ঘুষিতে ঝড়ঝড় করে ভেঙে পড়ল আয়নার কাচগুলো৷ হাতের মধ্যে কাচ ঢুকে র”ক্ত বের হচ্ছে তবুও সে যে জায়গাটায় ঘুষি মেরেছিল সে জায়গাটা চেপে ধরে রাখে। বিলু তার কাছে ছুটে গিয়ে আতংকিত কন্ঠে বলে, “ এটা তুমি কি করলে ভাই? তোমার হাত কেটে র”ক্ত বের হচ্ছে। ”

তার রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জিনিস ভাঙাই বোধহয় মুখ্য নয়, তার কাজের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজেকে আঘাত দেওয়াটাই মুখ্য। তাইতো ভেঙে পড়ে যাওয়া কাচের টুকরো গুলো থেকে একটা মোটা টুকরো তুলে নিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল নিজের হাতের মুঠোয়৷ ফলস্বরূপ হাতের তালুর নরম চামড়া ভেদ করে গলগল করে র”ক্ত বেরোতে থাকল তার হাত বেয়ে। বিলু তার হাত চেপে ধরল। কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল,
“ আল্লাহর দোহাই লাগে তুমি থামো ভাই। তোমার কি হয়েছে প্লিজ বলো। ভাই এভাবে নিজেকে আঘাত করো না, আমার কসম ভাই, তুমি থামো। ভাই! ”

“ আমাকে ছাড় বিলু, ছাড় আমাকে! এটা আমার প্রাপ্য৷ আমার জন্য আজ ও আমার থেকে শতগুনে বেশি কষ্ট ভোগ করছে। শুধু মাত্র আমার জন্য৷ আমি ভেবেছিলাম ও ভালো আছে, কিন্তু ও ভালো নেই বিলু৷ একটুও ভালো নেই। আমি ওর মাকে কথা দিয়েছিলাম আমি ওর খেয়াল রাখব। আমি সেটাও পারেনি৷ আমি একবারও ওর খোজটুকুও নিই নি। ও বেচে আছে কি মরে গেছে আমি সে খোজ নিই নি৷ আজ যদি আমি ওখানে না যেতাম তাহলে তো আমি বুঝতেও পারতাম না ও কেমন আছে। ওর গায়ের শত শত আঘাত আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। নিজের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে নিষাদ মাজহার ইউ আর এ ফেইলার গাই। রাগে আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে বিলু। সর তুই, আমার রাগ কমাতে দে। নয়তো নিজের সাথে খুব খারাপ কিছু করে ফেলব আমি। বিলু! সর তুই! ”

তার চিৎকার যেন বদ্ধ ঘরের প্রতিটা কোনায় প্রতিধ্বনিত হলো। তার রাগের প্রখরতায় তার হাত ধরে তাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারলো না বিলু। ভাইয়ের এই অশান্ত রুপ অচেনা বিলুর। বিলু মূহুর্তেই উপলদ্ধি করতে পারল শান্ত মানুষ রেগে গেলে মূহুর্তেই ছোটখাটো একটা কিয়ামত হয়ে যায়। বদ্ধ ঘরটা মূহুর্তেই যেন ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হলো। বিলুর শুধু এককোণায় দাঁড়িয়ে তার ধ্বংসযজ্ঞ দেখা ছাড়া আর কোনো কিছুই করার রইল না৷

ঘরের প্রতিটা জিনিস এক এক করে ভেঙেই ক্ষ্যান্ত হলো সে। অগোছালো, এলোমেলো বেডে এসে বসল সে। মাথায় দুই হাত ঠেকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে শান্ত হয়ে গেল। শান্ত মানে একেবারেই শান্ত। এমনভাবে বিলুর সাথে কথা বলল যেন একটু আগে কিছুই হয়নি। সেভাবেই মাথায় হাত ঠেকিয়ে বলল,
“ তোর ওই বাপ আমার পরিবার, ক্যারিয়ার, নাম, চেহারা সব নষ্ট করেছে। এখন যদি আমার আর আমার বউয়ের মাঝে ঢুকে ওর ক্ষতি করতে চাই তাহলে আমি মরার আগেই জাহান্নাম দেখিয়ে ছাড়বো আমি ওকে। আমাকে আমার মতো থাকতে দিতে বলবি, যদি আমার নষ্ট জীবনকে আরো নষ্ট করতে চায় তাহলে আমি সম্পর্ক ভুলে যাবো। ভুলে যাবো যে তাকে একসময় আমি বাবা বলে ডেকেছিলাম। হয় মরবো নয়তো মারবো। ডু অর ডাই। বলে দিস তোর ওই বাপকে। সাথে ওই চা চাটা কুকুরটাকে।”

— চলবে.

[ আজ সারাদিনে লিখতেই পারিনি, এখন এতটুক লিখেই দিয়ে দিলাম। সকল পাঠককে চাঁদরাতের শুভেচ্ছা ও অগ্রিম ঈদ মোবারক। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here