মায়ার_যাতনা #পর্ব_৭ #অরুনিতা_আঁখি

0
255

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_৭
#অরুনিতা_আঁখি

রুদ্রের আজ কেন যেন কাজে মন বসছে না,,বিরক্ত হয়ে চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো।।হঠাৎ করেই চোখের সামনে এক জোড়া চোখ ভেসে উঠতেই রুদ্র ধর-পড়িয়ে উঠে বসলো!!
মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।।হাত দিয়ে টেবিলে আঘাত করে বললো,,
-Uff,,Damn it!!This is so irritating!!
-ওই মেয়েটা খুবই বিরক্তিকর,,আর তার চেয়েও বেশি বিরক্তিকর মেয়েটার চোখগুলো!!

নাক-মুখ কুঁচকে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো,,”ছলনাময়ী নারীদের চোখ কেন এত নিষ্পাপ হতে হবে??আশ্চর্য!!”
রুদ্রের ভাবনার মাঝেই হন্তদন্ত পায়ে এক নারীর আগমন ঘটলো তার কেবিনে।।মেয়েটির বয়স বেশি না,হয়তো 24-25 হবে!পোশাক-আশাক ও সাজ-সজ্জ্বায় আধুনিকতা লক্ষণীয়,,,বোঝাই যাচ্ছে অতি আধুনিকতা মেয়েটি তার মধ্যে বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছে!!
নিজের কেবিনে অনুমতি ছাড়া কারো প্রবেশে রুদ্র রেগে গেল,,,
~হোয়াট দ্যা……!!মিস লিজা,,তুমি কি ম্যানার্স ভুলে গেছো?
মেয়েটি কথার উত্তর দিলো না,, উল্টো কেমন ঊদভ্রান্তের মতো রুদ্রের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো,,”এটা আমি কি শুনছি রুদ্র??তুমি নাকি বিয়ে করেছো!!”
রুদ্রের ব্রু জোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকে এলো,সে বিয়ে করেছে এখনো এটা কেউই জানে না,,এই মেয়েটা কিভাবে জানলো??
ব্যবসায়ী মিস্টার আফতাব হোসেনের মেয়ে লিজা,,কয়েক মাস আগে রুদ্রদের R.K কোম্পানির সাথে একটা প্রজেক্ট নিয়ে ডিল হয়েছিল আফতাব হোসেনের কোম্পানির।।সেখান থেকেই লিজা রুদ্রকে দেখেছিলো,,আর প্রথম দেখাতেই লম্বা,চওড়া ও গম্ভীর ব্যক্তিত্বের সুদর্শন পুরুষ রুদ্রের প্রেমে পড়েছিল সে।।লিজার দেখা সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ রুদ্র,,এমন নিখুঁত সৌন্দর্যের অধিকারী পুরুষ সে আর কাউকে দেখেনি।।সেখান থেকে সে রুদ্রকে ফলো করা শুরু করলো,,মাঝে মাঝে ডিলের নাম করে রুদ্রের অফিসে আসতো,,বিভিন্নভাবে রুদ্রকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করেছে সে,,কিন্তু রুদ্রই যেন কেমন অন্যান্য ছেলেদের মতো নয়।।কোনদিন লিজার দিকে ভালোভাবে তাকিয়েও দেখেনি,,,আর তাকালে এমন ভাবে তাকাতো,,যেন লিজার গাঁয়ে নোংরা লেগে আছে!!লিজার ধ্যান কাটলো রুদ্রের কথা শুনে,,

~হ্যাঁ,করেছি।।বাই দ্যা ওয়্যে,,তুমি জানলে কিভাবে, আমাকে স্টক করছো??

রুদ্রের কথা শুনে লিজার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো,,এই প্রথম যাকে নিজের করে পাওয়ার জেদ চেঁপেছে,,তাকে নাকি কোথাকার কোন মেয়ে ছিনিয়ে নিলো!!সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না।।

~”তুমি আমাকে মিথ্যে বলছো,তাইনা রুদ্র??তুমি এভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারো না!”লিজার কান্না জড়িত কণ্ঠস্বর।।

~আমি কাকে বিয়ে করবো কি করবো না সেটা আমার ব্যাপার!মিস লিজা,কোনো কাজের কথা থাকলে বলো,,আর না থাকলে ইউ ক্যান গো নাও।।

~না রুদ্র,,তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারো না।। কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি রুদ্র!!তুমি এটা কিভাবে করতে পারো?

লিজার কথায় রুদ্রের কোনো ভাবাবেগ হলো না,, উল্টো দায় সারা কন্ঠে বলল,,”সো হোয়াট?? তুমি ভালোবাসো,,তাতে আমার কি!!”
-লিসেন লিজা,,ইউ শুড গো নাও।।আমি এখন ইরিটেট হচ্ছি।।

~তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারো না, রুদ্র!!ভুলে যেও না তুমি,,আমার বাবার সাথে কিন্তু তোমাদের কোম্পানি ড্যিল করেছে!!

লিজার কথা শুনে রুদ্র উচ্চস্বরে হো হো করে হেসে ফেললো,,বলল, “ওহহ রিয়্যেলি লিজা??তোমার বাবার সাত কপালের ভাগ্য R.K কোম্পানির সাথে ড্যিল করতে পেরেছে!!ওই ড্যিল চাইলে আমি যেকোনো মুহূর্তে ক্যানসেল করতে দিতে পারি,,, এতে আমার খুব একটা লস না হলেও,,তোমাদের কোম্পানি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে!!

লিজা একটু দমে গেলো, নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে,, সে জানে রুদ্রর সাথে রাগ দেখানো রিস্কি ব্যাপার।। লিজার খুব কান্না পাচ্ছে,,রুদ্রকে সে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছে।।কিন্তু এখন শান্তভাবে রুদ্রের সাথে কথা বলতে হবে, ওকে বোঝাতে হবে,, রুদ্রের পাশে শুধু লিজাকে’ই মানায়।।

লিজা রুদ্রের খুব কাছে এগিয়ে আসলো,,বললো-“লুক অ্যাট মি, রুদ্র!তাকাও আমার দিকে,দেখো আমাকে!
আমার মতো হট,সেক্সি আর রূপবতী মেয়ে তুমি আর কোথায় পাবে??কি নেই আমার??এডুকেশন, ফ্যামিলি,স্ট্যাটাস,লুকস,,এভরিথিং সবকিছুতেই আমি পারফেক্ট।।তোমার বউ অবশ্যই আমার থেকে বেশি আট্রাক্টিভ হবে না!!
আমি একদম তোমার টাইপ!ইউ অনলি বিলংস টু মি! তুমি শুধু আমাকে ডিজার্ভ করো,রুদ্র।।

লিজার কথা শেষ হতেই,রুদ্র কপাল কুঁচকে লিজাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার পরোখ করে দেখলো!
গালে হাত বুলিয়ে বাঁকা হেসে বললো,,
-তুমি আসলেই আমার টাইপ!বাট ইটস ভেরি স্যাড দ্যাট,,আমি সেকেন্ড হ্যান্ড মাল ইউজ করিনা!!

লিজা স্বভাবতই উগ্রমেজাজি,,একমাত্র রুদ্র ছাড়া জীবনে আর কারো সামনেই তাকে এভাবে মেজাজ শান্ত রাখার প্রয়োজন পড়েনি।।কিন্তু রুদ্রের করা বিদ্রুপ শুনে,নিজের রাগকে আর কন্ট্রোল করতে পারলো না সে,,,রেগে রুদ্রের শার্টের কলার টেনে ধরে বললো,,
“আমি লিজা,আজ পর্যন্ত যা চেয়েছি তাই পেয়েছি!!তোমাকেও আমার হতেই হবে,, তাই বলছি,, যাকে বিয়ে করেছো তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডিভোর্স দিয়ে দাও,রুদ্র!!”

~কলার ছাড়! ছাড় বলছি!!
রুদ্রের হুংকার শুনে লিজা কেঁপে উঠে সঙ্গে সঙ্গে কলার ছেড়ে দিলো।
রুদ্রকে দেখতে ভয়ঙ্কর লাগছে!হাত ও মুখের সবগুলো রগ যেন ফুলে উঠেছে,,চোখ মুখ ভয়ংকর লালছে।।রুদ্রের চেহারার দিকে তাকিয়ে ভয়ে লিজা আরো কয়েক কদম দূরে সরে দাঁড়ালো!লিজা ভয়ে ভয়ে বললো,,”কু’ল রুদ্র!! ওকে, অ্যা’ম সরি!শান্ত হও তুমি,, আমরা শান্তভাবে বিষয়টা নিয়ে ডিসকাস করি?
রুদ্রকে শান্ত হতে দেখা গেল না,,সে ফোন করে কাউকে তার অফিস রুমে ডাকলো!কিছুক্ষণের মধ্যেই কেবিনে রুদ্রের P.A কে আসতে দেখা গেলো৷। রুদ্র একবার লিজার দিকে তাকিয়ে,,তার P.A কে ধারালো কন্ঠে বললো,

-আসিফ!এই মেকাপের ড্রাম টাকে বাইরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আয়! এটাকে যেন ভুলেও এই অফিসে আর না দেখি।।

বসের উত্তাল কণ্ঠ শুনে আসিফ বুঝলো পরিস্থিতি প্রতিকূলে,, তার স্যার ভীষণ ক্ষেপে আছে।।তাই সে লিজা’র কাছে গিয়ে নরম কন্ঠে বলল,,

-ম্যাম,,চলুন এখান থেকে।।স্যার,রেগে আছে।।

কিন্তু লিজার কোনো হেল-দোল হলো না,,সে এখনো রুদ্রকে অসহায় চোখে দেখছে!!লিজাকে নড়তে না দেখে আসিফ আবার বললো,,

-ম্যাম স্যার আরো রেগে গেলে আপনার বা আমার কারো জন্যই ভালো হবে না,,তাই বলছি এখান থেকে চলুন,,পরে না’হয় আপনারা শান্তভাবে কথা বলে সব মিটমাট করে নিবেন!!

এবার রুদ্র হুংকার ছেড়ে বললো,,”আসিফ,,আর এক সেকেন্ড যদি এটাকে আমার সামনে দেখি তাহলে তোর এই মাসের স্যালারি কেটে তোর এক্স কে দিবো,,আর নতুন যেটাকে ফটিয়েছিস সেটাকে অন্য ছেলের হাতে তুলে দিবো।।”

আসিফ পরেছে বিপাকে,,যেখানে যেই সমস্যাই হোক না কেন,,তার স্যার সবসময় সব বিপদ আসিফের গলায় ঝুলিয়ে দেয়,,এজন্য রুদ্রকে সে মনে মনে কত যে গালি-গালাজ করে,,সেসব যদি একবার রুদ্র শুনতো,,তাহলে নির্ঘাত আসিফের গর্দান যেত!!
আসিফ আর রিস্ক নিলোনা,,”রুদ্র সবসময় যা বলে তাই করে,,দেখা গেল সত্যি সত্যিই স্যালারি আর গার্লফ্রেন্ড দুটোকেই হারাতে হবে তাকে।”তাই সে লিজার হাত ধরে তাকে নিয়ে যেতে থাকলো।।

লিজা চলে যাওয়ার আগে রুদ্র হাত দিয়ে তুঁড়ি মেরে লিজা কে ইঙ্গিত করে বললো,,”তোর ভাগ্য ভালো মেয়ে বলে বেঁচে গিয়েছিস! না হলে যেই হাত দিয়ে ‘রুদ্র কায়নাথ মির্জার’ কলার ধরেছিস সেই হাত গুড়িয়ে দিতাম।।”
লিজা যেতে চাচ্ছিল না,কিন্তু আসিফ তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে,,,”তুমি আমার ভালোবাসা বুঝলে না রুদ্র!তুমি আমাকে অপমান করেছো।।তুমিও তোমার ভালোবাসাকে পাবে না,,,আজ আমি যেভাবে তঁড়পাচ্ছি,,একদিন সেভাবে তুমিও তড়পাবে,,,রুদ্র!!

লিজাকে নিয়ে আসিফ চলে গেলো,,যাওয়ার আগে লিজার কথা শুনে রুদ্র তাচ্ছিল্য হাসলো,,
“রুদ্র কায়নাথ মির্জা’ কখনো নারীর মতো নোংরা বস্তুকে ভালবাসবে না।।এরা শুধু ইউজ এন্ড থ্রো করার জিনিস,,এরা ভালোবাসার যোগ্য নয়!!’ভালোবাসা’ বলতে কিছু এক্সিস্ট’ই করেনা!!”
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
“সময় চির বহমান”, সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না,,সে এগিয়ে চলে নিজের মতো।।তেমনি দেখতে দেখতে রুদ্র-মায়ার বিবাহিত জীবনের আরও কয়েকটা দিন কেটে গেল।।
মায়ার এই দিনগুলো বেশ ভালো না কাটলেও, খুব একটা খারাপ কাটেনি!!কারণ সে বাবার মতো একজন শ্বশুর পেয়েছে।। রায়হান মির্জাকে দেখলে সে যেন সকল কষ্ট ভুলে যায়,,মায়া অনুভব করতে পারে একজন বাবার পিতৃস্নেহ!!এটা হচ্ছে মায়ার খারাপ দিন না কাটানোর প্রথম কারণ।।
দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে,,এ কয়েকদিন রুদ্র তার সাথে খুব একটা খারাপ ব্যবহার করেনি।।আবার এও বলা যায় রুদ্র সেই সুযোগটাই পায়নি!!মায়া রুদ্রের কাছ থেকে অনেকটা পালিয়ে পালিয়ে’ই বেড়িয়েছে।।

প্রতিদিন রুদ্র অফিস থেকে আসার আগে লেবুর শরবত, নিয়ম করে ব্লাক কপি দেওয়া,,,অফিসে যাওয়ার আগে তার ড্রেস আইরন করে গুছিয়ে রাখা,রুদ্রের রুম গুছানো এগুলো এখন মায়ার নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।। এই সবগুলো কাজই মায়া করে রুদ্রের অগোচরে!!রুদ্রের আড়ালে-আবডালে যতটুকু সেবা করা যায়,মায়া ঠিক ততটুকুই করার চেষ্টা করে!!

এগুলো করার জন্যই মায়াকে রুদ্রের থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়,,কারণ রুদ্রের সামনে পড়লে তার নিস্তার নেই!!আবার অপমান আর শাস্তি পেতে হবে!

মায়া যতই চেষ্টা করুক রুদ্রের সামনে না পরার তবুও মাঝে মাঝেই রুদ্রের কাছে তাকে ধরা দিতেই হয়,,,মায়া ভাবে,”এই বুঝি রুদ্র তাকে আবার অপমান করবে অথবা মারধর করবে,,,কিন্তু মায়াকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে রুদ্র কিছুই করেনা,,,শুধু কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে মায়াকে দেখে উপেক্ষা করে চলে যায়,,যেন মায়া কি করছে না করছে তাতে তার কিছুই যায় আসে না!!

মায়ার কাছে মনে হয়,,”অপমান হওয়ার চেয়ে ইগনোর হওয়া ঢের ভালো,,রুদ্র যদি মায়াকে অপমান না করে সারা জীবন এমন ভাবেই উপেক্ষা করে যায় তাহলেও মায়া খুশি থাকবে!”
কিন্তু তবুও কেন যেন মায়া খুশি হতে চেয়েও হতে পারেনা!!মায়া কেন রুদ্রের সেই শান্ত দৃষ্টির মধ্যে জ্বলন্ত আগুন দেখতে পায়?
মায়ার রুদ্রের আশেপাশে থাকতে ভয় হয়।।সে নিজেকে কত বুঝিয়েছে,,”তার এখন সহজ হওয়া প্রয়োজন!এভাবে লুকিয়ে চুরিয়ে আর কতদিনই বা থাকা যায়?” কিন্তু তবুও সে পারছে না!!
~~~~~~~~~~~~~
স্যার আজকে আপনার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে,,,লোকটা বাইরে অপেক্ষা করছে।।~আসিফ

-ক্যান্সেল করে দে। বল আমি ব্যস্ত আছি ।। ~রুদ্র।।

~”ওকে স্যার” বলে আসিফ চলে গেলো।

কিছুক্ষণ পর আসিফকে আবার ফিরে আসতে দেখে রুদ্র জিজ্ঞাসা করলো,,”কি হয়েছে? ফিরে আসলি কেন?”
~স্যার,লোকটা বলছে খুব জরুরী কথা আছে।।বলেছে আপনার ফ্যামিলি সম্পর্কে কিছু বলবে!সিরিয়াস কিছু!!

রুদ্রের কপালে কিঞ্চিৎ ভাজ পড়লো,,বলল,,”ঠিক আছে,,আসতে বল।।……..

~~~~~~~~~~~~~~~~
রাত দশটা বাজে,,রুদ্র এখনো অফিস থেকে আসছে না!!মায়া রুদ্রের জন্য অপেক্ষা করছে,,, দুশ্চিন্তা হচ্ছে তার।”কই অন্যান্য দিন তো আসতে এত দেরি করে না?? আজ এত দেরি হচ্ছে কেন?” শশুর বাবাকে খাইয়ে রেস্ট নিতে দিয়ে আসলো,,,মায়া খেলো না কিছু।।রাতের খাবারটা সে রুদ্র খাওয়ার পরেই খায়।। সে রুদ্রের জন্য আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো,,রুদ্র আসছে না দেখে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো।।ভয় করছে,,রাত্রি বেলাটা সে একা থাকতে পারেনা,,তবুও বারান্দা দিয়ে নিচে তাকিয়ে রইলো।আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রুদ্রের গাড়ি আসতে দেখা গেল।।

মায়া তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ থেকে লেবুর শরবত নিয়ে এসে প্রতিবারের মতোই রুদ্রের বিছানার পাশে মিনি টেবিলটার উপর রেখেছে।।তবে গত দিনগুলোর মতো আজকে আর পালিয়ে যায়নি,,সাহস করে সোফায় বসে রুদ্রের অপেক্ষা করতে লাগলো।।ভাবলো,,”রুদ্র তো এখন আর তাকে কিছু বলে না,, শুধু শুধু এমন লুকোচুরি করে লাভ কি?”

“কিছুক্ষণের মধ্যেই গটগট পায়ে রুদ্র রুমে আসলো।।”

মায়া সোফায় বসে বই পড়ছে,,,আসলে ঠিক পড়ছে না!রুদ্রের নজর এড়াতে পড়ার ভান করছে।।কিছুক্ষণ পর মুখ থেকে বই নামিয়ে রুদ্রকে দেখার চেষ্টা করতেই হৃদপিণ্ড ছলকে উঠলো,,,রুদ্র ওর দিকেই তাকিয়ে আছে!!
“রুদ্রের চোখ-মুখ এমন লাগছে কেন!!কিছু কি হয়েছে ওনার??” মায়া রুদ্রের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো,,,ওর কেন জানি হাত-পা কাঁপছে!রুদ্র যে এখনো ওর দিকে তাকিয়ে আছে সেটা ও বুঝতে পারছে।।

রুদ্র ধীর পায়ে মায়ার দিকে এগিয়ে আসছে,,, মায়া ভয়ে শ্বাস নিতে পারছে না যেন,,,”শুধু মনে হচ্ছে আজকে এখানে থেকে গিয়ে মনে হয় ভুল করেছে সে!!
রুদ্র মায়ার থেকে গুনে গুনে ঠিক দু’ কদম দূরে এসে দাঁড়িয়েছে!!মায়া এখনো বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে,,মনে হচ্ছে যেন তার সব ধ্যান ঘ্যান বইয়ের দিকেই!!
রুদ্র কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে মায়ার দিকে একটুখানি ঝুঁকে অদ্ভুত শান্ত কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠে বললো,,,

“মিসেস মায়া!! হোয়্যার ইজ মাই লেমন জুসস্?”
অর,বাই দ্যা ওয়্যে,, আপনি কি উল্টো বই পড়তে খুব পছন্দ করেন??”
……………….
…..চলবে??

(দেশের এমন পরিস্থিতিতে কি গল্প লেখার মানসিকতা থাকে??😢লিখতে গিয়ে যেন কোন শব্দ খুঁজে পাই না,, অনুভূতি আসে না!!চোখের সামনে সারাক্ষণ ওই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর দগ্ধ চেহারা ভাসতেছে।।আমার মনে হচ্ছে, কানে শুধু মানুষের হাহাকার-আহাজারি আসতেছে!!😢)

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here